12/10/2025
কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানে দেশনা প্রদান কালে ভিক্ষুদের সংযত হওয়ার আহ্বান
ভিক্ষুরা বুদ্ধের পুত্র — তারা বৌদ্ধ সমাজের শ্রদ্ধার ও ভক্তির পাত্র। তাঁদের মুখ থেকে সর্বদা এমন বাণীই উচ্চারিত হওয়া উচিত, যা নিজের, অপরের এবং সমগ্র বৌদ্ধ সমাজের কল্যাণে সহায়ক হয়। কারণ তাঁদের বাণীই সাধারণ মানুষের নৈতিক দিশা ও মানসিক শান্তির উৎস।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান একটি পুণ্য অনুষ্ঠান। পূর্ণার্থীরা সংসারের অশান্তি, কষ্ট ও জটিলতা থেকে কিছুক্ষণ মুক্তি পেতে এবং ভান্তেদের মুখে সুখ ও শান্তির বাণী শুনতে বিহারে আসেন। কিন্তু যদি সেই পবিত্র আসরেই ভিক্ষুদের মুখ থেকে নিন্দা, সমালোচনা, কাঁধা ছোড়াছুড়ি বা কটূবাক্য উচ্চারিত হয় — তবে সাধারণ মানুষ কোথায় শান্তি খুঁজবে?
এই কারণে, কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানসহ সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভান্তেদের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ —
তাঁরা যেন দেশনা প্রদানের সময় সংযতভাবে কথা বলেন এবং এমন কোনো বক্তব্য প্রদান না করেন যা বৌদ্ধ সমাজে অশান্তি বা বিভাজনের সৃষ্টি করে।
দেশনা প্রদানের পূর্বে সংঘের উচিত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করে নেওয়া —
কে দেশনা করবেন এবং কোন কোন বিষয়ে দেশনা করা হবে।
কারণ, গত কয়েক মাসে কিছু ভিক্ষুর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও সমালোচনামূলক কথাবার্তার ফলে বৌদ্ধ সমাজে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা কোনো সচেতন বৌদ্ধ সমাজ মেনে নিতে পারেনি।
অতএব, বুদ্ধের অহিংসা, মৈত্রী ও সংযমমূলক ধর্মদেশনার পথে থেকে —
ভান্তে সংঘ যেন সংযতভাবে দেশনা প্রদান করেন, এই আমাদের বিনীত আবেদন।
তবেই বৌদ্ধ সমাজে ঐক্য, মর্যাদা ও শৃঙ্খলা অটুট থাকবে।