29/08/2024
ইতিহাস পরিবর্তন করা যায় কিন্তু মুছে ফেলা যায় না।
রাজধানীতে যিনি সুন্নীয়তের বাগান সাজিয়েছেন,রাষ্ট্রীয়ভাবে জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপনের জন্য যিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন এমনকি নিজের জীবনের পড়োয়া করেননি তিনি আহলা দরবার শরীফের অন্যতম ওলীয়ে কামেল,মোনাজেরে আহলে সুন্নাত সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-ক্বাদেরী,আল-চিশতী (রহঃ)।
শুধু আজকের দিনে নয় বিগত ৮০-৯০ দশক থেকে যখন ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) জুলুস করলে বোমা ফোটানো হতো,ঠিক তখনই ঐ বাতেলপন্থীদের বাড়ির সামনে দিয়ে যিনি দয়াল নবীর জুলুস পরিচালনা করেছিলেন তিনি মুরশীদ সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ)।
রাজধানীতে সমস্ত বাতেলপন্থী এক হয়ে যখন হযরত সেহাব বাবা (রহঃ) কে বারংবার দমানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় তখন অপার হয়ে হযরত সেহাব বাবা (রহঃ) কে বেনামী চিঠির মাধ্যমে জুলুস,ওরশ উড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দেওয়ার পর ও যিনি সেদিকে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত না করে ভক্ত মুরীদান,আশেক রাসূল (দঃ) দের নিয়ে দিন দিন আরো ব্যাপকভাবে জশনে জুলুস আয়োজন করেছিলেন তিনি বাতেলের আতংক সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ)।
জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপনের আগের দিন জাতীয় প্রেসক্লাবে জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপনের পক্ষে কোরআন,হাদীসের আলোকে আঞ্জুমানে আসাদীয়া নূরীয়া সেহাবীয়ার পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাতেলপন্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাদের অপযুক্তি খন্ডন করা হয়।উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা সহ সুন্নী সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকতেন। এছাড়াও ঢাকা সহ সারা দেশে সেমিনারের মাধ্যমে তিনি ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপনের তাৎপর্য তুলে ধরতেন।
২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ইবনে আবদুল জলিল নামধারী এক কুলাঙ্গার পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ) কে ব্যাঙ্গ করে “এই কোন ঈদ” নাম দিয়ে পোস্টার বের করে। কওমী নামধারী ওহাবী লাহাবীদের তৎপরতায় সারা দেশে এই পোস্টার ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সুন্নী মুসলমানদের মনে আগুন জ্বলে উঠে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের তৎকালীন চেয়ারম্যান আল্লামা আবদুল জলিল সাহেব সহ চট্টগ্রামে আলেম ওলামাদের বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়।আল্লামা হাফেজ আবদুল জলিল সাহেব ঈমামে আহলে সুন্নত আল্লামা নূরুল ইসলাম হাশেমী সাহেব (রহঃ), আল্লামা মুফতী ওবাঈদুল হক নঈমী সাহেব (রহঃ) সহ দেশের শীর্ষ স্থানীয় বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম কৌশল নির্ধারনের জন্য আল্লামা এ,জেড সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ)'র অনুরোধে সাড়া দিয়ে আহলা দরবার শরীফ গেলেন।সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা অবধি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হল। ঐদিন সন্ধ্যায় বন্দর নগরী চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদের কর্ণফুলী হলে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ওলামায়ে কেরামের পরামর্শ সভা ছিল।সেই পরামর্শ সভায় ওহাবীদের এই অপতৎপরতার প্রতিরোধ সিদ্ধান্ত গৃহীত হল।প্রতিষ্টা হল জাতীয় ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ) উদযাপন কমিটি পুস্তক-পুস্তিকা, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ) উদযাপনের
কার্যক্রম পরিচালিত হল। ইবনে আব্দুল জলিলদের মত “গর্তের ঈদুর গর্তে ডুকে গেল”। ঈমানদার,দ্বীনদার সুন্নী মুসলমানদের বিজয় হল।এই সব কিছুতেও আহলা দরবার শরীফের পীরে কামেল,মোনাজেরে আহলে সুন্নাত হযরতুল আল্লামা শাহসূফী সৈয়দ এ,জেড,এম সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-ক্বাদেরী, আল-চিশতী (রহঃ)'র ব্যাপক ভূমিকা ছিল।
এইভাবে বলতে গেলে এদেশের সুন্নীয়তের সকল কার্যক্রমে তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও ভূমিক ছিল এবং আছে, যা অল্প পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তিনি পরামর্শ, অর্থ, প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সুন্নীয়তের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যেতেন। নিজের ব্যাক্তিত্ব জাহির না করে নৈপথ্যে থাকতে ভালোবাসতেন। তিনি নিজের পুরো জাহেরী জীবনে সুন্নীয়ত ও ত্বরীকতের প্রচার- প্রাসারে এক দূর্জেয় মুজাহীদরূপে কান্ডারীর ভূমিকা পালন করছেন।
তত্ত্বাবধারক সরকারের আমলে রাজধানী সহ সারা দেশে সকল প্রকার সভা-সমাবেশ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে যখন সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয় তখন সারাদেশের নবী প্রেমিক,অলী প্রেমিক মানুষের অন্তরে আগুন জ্বলতে থাকে কারণ ইতোমধ্যে সকল জশনে জুলুস এবং প্রত্যেক এলাকায় এলাকায় ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) এর পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে ঠিক সেই মুহুর্তে যখন জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) সহ সকল প্রকার সভা-সমাবেশ বন্ধের ঘোষনা আসে তখন সুন্নী মুসলমানদের হৃদয়ে ররক্তক্ষরণ হওয়াটাই স্বাভাবিক কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান করেছিলেন আহলা দরবার শরীফের অন্যতম অলীয়ে কামেল,হযরত শাহসূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-ক্বাদেরী, আল-চিশতী (রহঃ)।
সেনা সমর্থিত সরকারের উচ্চমহলে সরাসরি বলেছিলেন,"হুজুর পূরনূর সারকারে দো’আলম (দঃ),যার আগমন না হলে আরশ কুরছী,জান্নাত,জাহান্নাম,দুনিয়া কিছুই হতো না,এই মহান দিনে,এই মহান মাসে সুন্নীজনতা জশনে জলুস এবং ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপন করতে পারবে না সেটা আমি (সেহাবউদ্দীন খালেদ) মেনে নিতে পারি না। পরবর্তীতে উনার এই বক্তব্য সরকারের উচ্চমহলে আলোচনা করে উনার মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সাথে সাথে টেলিভিশনে হেডলাইন প্রচার করা হয় ’সভা-সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত আছে কিন্তু জশনে জুলুস এবং ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) মাহফিল আওতামুক্ত থাকবে।
এই নিউজ পাওয়ার সাথে সাথে সারাদেশের সুন্নীজনতার মনে আনন্দের জোয়ারে ভেসেছিলো। সুন্নীজনতা শুধু জুলুস নয় মাসব্যাপী ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) মাহফিল করেছিলো এবং সুন্নী আলেম ওলামা মাশায়েখ মাসব্যাপী ওয়াজ করেছিলেন কিন্তু নৈপথ্যে থেকে যিনি এই মহান কাজ করেছিলেন তিনি হযরত সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ) এইজন্যই দেশের সর্বস্তরের আলেম ওলামা সুন্নী নেতৃবৃন্দ যাকে সামনে এসে নিজেকে জাহের করার চেয়েও নৈপথ্যে থেকে সুন্নীয়তকে এগিয়ে নেওয়ার একজন নৈপথ্যচারী একজন যুগের খালিদ বিন ওয়ালিদ খেতাবে ভূষিত করেছেন।
সেই ধারা এখনো অব্যাহত আছে,
মোনাজেরে আহলে সুন্নাত শাহসূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-ক্বাদেরী,আল-চিশতী (রহঃ)’র সাহেবজাদা আহলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহসূফী সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-ক্বাদেরী,আল-চিশতী (মা,জ্বি,আ)’র পরিচালনায় ঐতিহাসিক এই জশনে জুলুস বর্তমানে আরো ব্যাপক পরিস্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।(sn)
কিন্তু সম্প্রতি ২০১৫ সালে এই জুলুস বন্ধ করার জন্য ১১ রবিউল আউয়াল মিরপুর হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহঃ)’র মাজার সম্মূখে বোমাবাজি করে যার দরুন একজন নিহত এবং বেশকিছু পথচারী আহত হয়।বোমাবাজির উদ্দেশ্য ছিলো একটাই যাতে বোমাবাজির মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করার পরের দিন জশনে জুলুস আর বের হবে না কারণ এখনো পর্যন্ত ঢাকা শহরে যতগুলো জশনে জুলুস হয় তারমধ্যে পুরো ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করে একটাই জুলুস যেটা আহলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহসূফী সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-ক্বাদেরী,আল- চিশতী (মা,জ্বি,আ)'র ছদারতে অনুষ্ঠিত হয়।কিন্তু তারা বোমাবাজি করেও উক্ত জুলুস বন্ধ করতে পারে নাই পরের দিন ১২ রবিউল আউয়াল ঠিকই শাহ আলী বোগদাদী (রহঃ)’র মাজার শরীফ থেকে উক্ত জুলস সাজ্জাদানশীন ক্বেবলার নির্দেশে এবং ছদারতে বের হয়েছে।
সর্বশেষ বিগত ২০১৭ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট'র আগমণ উপলক্ষে সরকার ১২ রবিউল আউয়াল ঢাকা শহরে সকল প্রকার জুলস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে সকল দরবার এবং সংগঠন ১৩ রবিউল আউয়াল জশনে জুলুস করার সিদ্ধান্ত নেই কিন্তু আঞ্জুমানে আসাদীয়া নূরীয়া সেহাবীয়া সংগঠনের মাধ্যমে সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে একমাত্র আহলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহসূফী সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-ক্বাদেরী,আল-চিশতী (মা,জ্বি,আ) ক্বেবলার ছদারতে ১২ রবিউল আউয়াল মূল দিবসে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে।(sn)
আলহামদুলিল্লাহ্,
বর্তমানে ঢাকা শহরে অনেক দরবার এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে জশনে জলুস বের করা হয়,আগামীতে সকল সুন্নী জনতা,হক্ব ত্বরীকার শায়খগণের ছদারতে সমগ্র ঢাকা শহর দয়াল নবীর আগমণে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হবে এবং হযরত সেহাব বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।
ইনশাল্লাহ,
আসন্ন ১২ রবিউল আউয়াল আঞ্জুমানে আসাদীয়া নূরীয়া সেহাবীয়ার ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী বোগদাদী (রহঃ)’র মাজার শরীফ সংলগ্ন আহলা দরবার শরীফের খানকাহ শরীফ অর্থাৎ খানকাহ-এ- ক্বাদেরীয়া চিশতীয়া নূরীয়া সেহাবীয়া থেকে আহলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহসূফী সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-ক্বাদেরী,আল-চিশতী (মা,জ্বি,আ)’র ছদারতে জশনে জুলুস এবং ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) অনুষ্ঠিত হবে।
উক্ত বরকতময় জুলুসে সকলে হাজির হয়ে রাসূলে করীম (দঃ) এর রুহানী ফয়েজ হাসিল করুন।
প্রচারেঃ
আঞ্জুমানে আসাদীয়া নূরীয়া সেহাবীয়া
আহলা দরবার শরীফ,বোয়ালখালী,চট্টগ্রাম।