গোপীনাথপুর ইউনিয়ন কুরআন-সুন্নাহ্ ফাউন্ডেশন

  • Home
  • Bangladesh
  • Kasba
  • গোপীনাথপুর ইউনিয়ন কুরআন-সুন্নাহ্ ফাউন্ডেশন

গোপীনাথপুর ইউনিয়ন কুরআন-সুন্নাহ্ ফাউন্ডেশন সালফে সালেহীনের মানহাজ এর উপর অটল

20/05/2026

এই ছেলে..!

তুমি সাবধান থেকো।

🎙️শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ হাফি:

❎পেশাবের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা। ⚠️আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 🔴 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, বেশির ভাগ কবর...
15/05/2026

❎পেশাবের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা। ⚠️

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন,
🔴 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
বেশির ভাগ কবরে আযাব পেশাব থেকে অসতর্কতার কারণেই হয়ে থাকে।

সুনান ইবনে মাজাহ (তাওহীদ), হাদিস নং ৩৪৮
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
সোর্সঃ বাংলা হাদিস।

📌স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতা — সুখী দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠি........🟥আল্লাহ তাআলা দাম্পত্য জীবনকে করেছেন শ...
14/05/2026

📌স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতা — সুখী দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠি........

🟥আল্লাহ তাআলা দাম্পত্য জীবনকে করেছেন শান্তি, ভালোবাসা ও রহমতের এক মহান নিদর্শন। একজন স্বামী যদি তার স্ত্রীর ভুলত্রুটি খোঁজার পরিবর্তে তাকে সহযোগিতা করে, উৎসাহ দেয়, ভালোবাসা ও সম্মান করে— তাহলে সেই পরিবার ধীরে ধীরে জান্নাতের বাগানের মতো শান্তিময় হয়ে ওঠে, ইনশাআল্লাহ।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

> ﴿ وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً ﴾
“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে— তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মাঝে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া।”
— সূরা আর-রূম : ২১

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেবল দুনিয়াবী সম্পর্ক নয়; এটি ইবাদতেরও একটি অংশ। একজন স্বামী যখন স্ত্রীর কাজে সাহায্য করে, তাকে সম্মান করে, তার ক্লান্তি বুঝতে চেষ্টা করে— তখন তা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল হয়ে যায়।

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবজাতির সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি কখনো স্ত্রীদের ছোট করতেন না, তাদের কাজের দোষ ধরতেন না; বরং নিজ হাতে পরিবারের কাজে সাহায্য করতেন।

হযরত আয়েশা (রা.) বলেনঃ

> “রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘরের কাজে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা করতেন।”
— সহিহ বুখারি : ৬৭৬

আরেকটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ

> “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।”
— জামে তিরমিজি : ৩৮৯৫

কত সুন্দর শিক্ষা! আজ অনেক মানুষ সামান্য ভুলের জন্য স্ত্রীকে কষ্ট দেয়, রান্নায় দোষ ধরে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। অথচ একজন ক্লান্ত স্ত্রী সারাদিন পরিবারের জন্য পরিশ্রম করে। তার ভুল হলে তাকে অপমান নয়— বরং ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেওয়া উচিত।

রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। হাদিসে এসেছে—

> “রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো কোনো খাবারের দোষ ধরেননি। পছন্দ হলে খেতেন, না হলে চুপ থাকতেন।”
— সহিহ বুখারি : ৫৪০৯

🟥সুতরাং একজন মুমিন স্বামীর উচিত—

▪️স্ত্রীর কাজের প্রশংসা করা

▪️ভুল হলে নম্রভাবে বুঝিয়ে বলা

▪️রান্না বা ঘরের কাজে সহযোগিতা করা

▪️তার ক্লান্তি ও কষ্ট বোঝা

▪️তাকে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া

▪️সবসময় উৎসাহ ও ভালোবাসা দিয়ে পাশে থাকা

কারণ ভালোবাসা দিয়ে গড়া পরিবারে রহমত নাযিল হয়।

হযরত উমর (রা.) বলেছেনঃ

> “নারীদের সাথে উত্তম আচরণ করো; কারণ তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর আমানত।”

একজন জ্ঞানী মানুষ বলেছেনঃ

> “যে ঘরে সম্মান, ধৈর্য ও ভালোবাসা থাকে— সে ঘরই পৃথিবীর বুকে জান্নাতের ছায়া।”

আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে সম্মান করেন, তার কাজে সাহায্য করেন, তাকে উৎসাহ দেন— তাহলে দেখবেন আপনার সংসারে শান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, সন্তানরা উত্তম চরিত্র শিখছে, এবং পরিবারে বরকত নেমে আসছে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দাম্পত্য জীবনে নববী আদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন।
আমীন। 🌿

📌মুমিনের জীবন — সংগ্রাম থেকে সাফল্যের গল্প,আল্লাহর পথে চলা কঠিন, তবু এই পথেই শান্তি---আমরা এমন একটি যুগে বাস করছি, যেখান...
08/05/2026

📌মুমিনের জীবন — সংগ্রাম থেকে সাফল্যের গল্প,আল্লাহর পথে চলা কঠিন, তবু এই পথেই শান্তি

---

আমরা এমন একটি যুগে বাস করছি, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে একজন মুমিনের ঈমান পরীক্ষার সম্মুখীন। সোশ্যাল মিডিয়ার অবাধ প্রবাহ, পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসন, হালাল-হারামের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যাওয়া — এই পরিবেশে একজন প্রকৃত মুমিন হয়ে বেঁচে থাকা সত্যিই এক অসাধারণ কঠিন চ্যালেঞ্জ।

---

🟥 দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার

রাসূলুল্লাহ ﷺ চquatorze শতাব্দী আগেই এই সত্য ঘোষণা করে গেছেন।

> "الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ"
> "দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার আর কাফিরের জন্য জান্নাত।"*
> — (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৫৬)

এই হাদিসের গভীরে একটু ভাবুন। কারাগারে থাকা মানুষটি যা ইচ্ছা তাই করতে পারে না। তার চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা আছে, তার আনন্দে নিয়ন্ত্রণ আছে। ঠিক তেমনি একজন সত্যিকারের মুমিনও এই দুনিয়ায় তার প্রতিটি কাজে আল্লাহর বিধানের কাছে আবদ্ধ। মন চাইলেই সুদের ব্যবসায় যেতে পারেন না, মন চাইলেই হারাম সম্পর্কে জড়াতে পারেন না, মন চাইলেই মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারেন না।

বর্তমান বাস্তবতায় এই সীমাবদ্ধতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। চারদিকে যখন সবাই সুদভিত্তিক লোন নিয়ে গাড়ি-বাড়ি করছে, তখন একজন মুমিনকে সেই পথ এড়িয়ে চলতে হয়। যখন অফিসে মিথ্যা বললে প্রমোশন মেলে, তখন মুমিনকে সত্যের উপর অবিচল থাকতে হয়।

---

🟥জলন্ত কয়লার মতো ঈমান ধরে রাখা

রাসূলুল্লাহ ﷺ শেষ যুগের মুমিনদের পরীক্ষার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন —

> **"يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ فِيهِمْ عَلَى دِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ"**
> *"মানুষের উপর এমন একটি সময় আসবে, যখন দ্বীনের উপর ধৈর্য ধরে থাকা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে ধরে রাখার মতো কঠিন হবে।"*
> — **(সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ২২৬০; হাসান সহিহ)**

আজকের যুগে এই হাদিসের প্রতিফলন দেখুন। একজন তরুণ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, চারদিকে মিশ্র পরিবেশ, নেটফ্লিক্স-ইউটিউবের অবাধ ফিতনা, বন্ধুদের আড্ডায় গান-বাজনা — এই পরিবেশে নামাজ ঠিক রাখা, দৃষ্টি সংযত রাখা, হালাল-হারামের খেয়াল রাখা — এটি কি সত্যিই জ্বলন্ত কয়লা হাতে ধরে রাখার চেয়ে কম কঠিন?

---

🟥দুনিয়া আরামের জায়গা নয় — কুরআনের দিকনির্দেশনা

আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারিমে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন —

> "وَمَا هَٰذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَهْوٌ وَلَعِبٌ ۚ وَإِنَّ الدَّارَ الْآخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُ"
> "এই পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা আর তামাশা। আর আখিরাতের আবাসই হলো প্রকৃত জীবন।
> — (সূরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৪)

আরও বলেছেন —

> "زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ"
> "মানুষের কাছে প্রবৃত্তির ভোগ-বিলাসকে সুশোভিত করে দেওয়া হয়েছে।"
> — (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৪)

এই আয়াতদ্বয় বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আজকের বিজ্ঞাপন জগৎ, বিনোদন শিল্প এবং ভোগবাদী সংস্কৃতি — সবকিছুই মানুষকে দুনিয়ার রঙিন ফাঁদে আটকে রাখতে কাজ করছে। একজন মুমিনকে এই চাকচিক্যের মাঝে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিতে হয় — এটা আমার আসল ঘর নয়।

---

🟥 মুমিনের জীবন একটি কর্মক্ষেত্র

দুনিয়া কারাগার মানে এই নয় যে মুমিন হতাশ হয়ে বসে থাকবে। বরং এই সীমিত সময়টাই তার আমলের মৌসুম।

> فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ"
> যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে।"
> — (সূরা যিলযাল, আয়াত: ৭)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —

> "اِغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ..."
> "পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি আসার আগে গনিমত মনে করো: বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্বাস্থ্য, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতা, ব্যস্ততার আগে অবসর এবং মৃত্যুর আগে জীবন।"
> — (মুস্তাদরাক হাকিম, হাদিস: ৭৮৪৬; সহিহ)

একজন মুমিনের প্রতিটি দিন হওয়া উচিত আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের দিন। সৎভাবে উপার্জন করা, পরিবারের হক আদায় করা, সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা — এই সবকিছুই তার কর্মক্ষেত্রের অংশ।

---

🟥 বর্তমান যুগের ফিতনা এবং করণীয়

রাসূলুল্লাহ ﷺ ফিতনার যুগে মুমিনদের জন্য পথ দেখিয়েছেন —

> "تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ"
> "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতদিন তোমরা এই দুটি আঁকড়ে ধরবে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না — আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।"
> — (মুওয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস: ৩৩৩৮)

এই হাদিসই আমাদের মুক্তির পথ। কুরআন ও সুন্নাহর বাইরে যত পথ আছে, সব পথ বিভ্রান্তির পথ। আজকের যুগে নিজের মতবাদ, দলীয় রাজনীতি বা পীরের অন্ধ অনুসরণ নয় — বরং কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোয় জীবন পরিচালনাই হলো মুমিনের একমাত্র পথ।

---

দুনিয়া মুমিনের জন্য কঠিন — এটা কোনো অভিযোগ নয়, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুসংবাদ। কারণ যে কারাগারে ধৈর্য ধরেছে, তার জন্য অপেক্ষা করছে চিরন্তন মুক্তির আবাস — জান্নাত। আল্লাহ তা'আলা বলেন —

> "إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ"
> *"নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের পুরস্কার দেওয়া হবে অগণিতভাবে।"*
> — (সূরা যুমার, আয়াত: ১০)

তাই হে মুমিন ভাই ও বোন — দুনিয়ার ঝলমলে চাকচিক্যে ধোঁকা খাবেন না। কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরুন, প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিন। এই ক্ষণিকের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই মিলবে চিরসুখের আবাস।

আল্লাহ আমাদের সকলকে ঈমানের উপর অবিচল রাখুন। আমিন।

🌙 জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের আমলসমূহ১. ✂️ কুরবানির নিয়ত থাকলে চুল ও নখ না কাটাযারা কুরবানি করবেন, তারা জিলহজ্জের চাঁদ উঠার...
03/05/2026

🌙 জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের আমলসমূহ

১. ✂️ কুরবানির নিয়ত থাকলে চুল ও নখ না কাটা

যারা কুরবানি করবেন, তারা জিলহজ্জের চাঁদ উঠার পর থেকে কুরবানি করা পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটবেন।
📖 রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম: ১৯৭৭

---

২. 🚫 গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা

এই পবিত্র সময়টিতে সকল ধরনের পাপ থেকে নিজেকে বিরত রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
📖 রেফারেন্স: সূরা আল-হাজ্জ ২২:৩০

---

৩. 🕌 রোজা রাখা (বিশেষত আরাফার দিন)

জিলহজ্জের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব। বিশেষ করে ৯ই জিলহজ্জ (আরাফার দিন) রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
📖 রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম: ১১৬২

---

৪. 🐐 কুরবানি করা

সামর্থ্যবান মুসলিমদের জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব (কিছু মাজহাব মতে)।
📖 রেফারেন্স: সূরা আল-কাওসার ১০৮:২

---

৫. 🕋 বেশি বেশি নফল ইবাদত করা

নামাজ, কুরআন তিলাওয়াতসহ অন্যান্য নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা।
📖 রেফারেন্স: সহিহ বুখারি: ৯৬৯

---

৬. 📿 বেশি বেশি যিকির করা

তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) বেশি বেশি পড়া।
📖 রেফারেন্স: সহিহ বুখারি: ৯৭০

---

৭. 🤲 তাওবা করা

আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ও গুনাহ থেকে ফিরে আসা।
📖 রেফারেন্স: সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৮

---

৮. 🕋 হজ আদায় করা

সামর্থ্য থাকলে এই মাসে হজ পালন করা ইসলামের একটি ফরজ ইবাদত।
📖 রেফারেন্স: সূরা আলে ইমরান ৩:৯৭

---

৯. 🔊 তাকবির পাঠ করা

জিলহজ্জের এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাকবির বলা—
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার..."
📖 রেফারেন্স: মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা

---

১০. 💰 দান-সাদাকাহ করা

গরীব-দুঃখীদের সাহায্য করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করা।
📖 রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারাহ ২:২৬১

---

✨জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন বছরের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ সময়গুলোর একটি। এই সময়ের প্রতিটি আমল আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তাই আমরা যেন এই দিনগুলোকে ইবাদত, তওবা এবং ভালো কাজের মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারি।

📌জীবনের ঝড়ে আল্লাহর আশ্রয় — একজন মুমিনের বাস্তব গল্প........---ফজরের আজান হয়ে গেছে। কিন্তু আবু বকর সাহেব এখনো বিছানায...
26/04/2026

📌জীবনের ঝড়ে আল্লাহর আশ্রয় — একজন মুমিনের বাস্তব গল্প........

---

ফজরের আজান হয়ে গেছে। কিন্তু আবু বকর সাহেব এখনো বিছানায় শুয়ে আছেন। চোখে ঘুম নেই। মাথায় হাজারো চিন্তা। মাসের শেষ, বেতন হয়নি। বড় ছেলে খারাপ সঙ্গে মিশছে। স্ত্রীর সাথে সংসারে অশান্তি। পাড়ার মানুষ আর আগের মতো সালাম দেয় না — কারণ হাতে টাকা নেই। ঘরে বরকত নেই। মসজিদে গেলে মনে শান্তি আসে, কিন্তু বাইরে পা দিলেই আবার সেই একই জীবন।

এই মানুষটি কি আপনি? অথবা আপনার পাশের কেউ?

এই লেখাটি সেই মানুষের জন্য, যার জীবনের ভার অনেক ভারী — কিন্তু যে এখনো হাল ছাড়েনি।

---

🟦এক. কষ্ট মানেই ব্যর্থতা নয়

আমরা ভাবি — যার জীবনে কষ্ট আছে, সে হয়তো আল্লাহর অপছন্দের বান্দা। এটি ভুল ধারণা।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন,

> "আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি এবং ফল-ফসলের হ্রাস দিয়ে। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।"
> — সূরা আল-বাকারাহ, ২:১৫৫

এই আয়াতে আল্লাহ নিজেই বলছেন — দারিদ্র্য, ভয়, ক্ষতি — এগুলো পরীক্ষা। শাস্তি নয়। বরং যে ধৈর্য ধরে, তার জন্য আছে সুসংবাদ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

> "মুমিনের বিষয়টি অবাক করার মতো। তার সব অবস্থাই কল্যাণকর। সুখে থাকলে শুকরিয়া আদায় করে — এটি তার জন্য কল্যাণ। দুঃখে পড়লে ধৈর্য ধরে — এটিও তার জন্য কল্যাণ।"
> — সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯

তাহলে বুঝুন — আপনার কষ্টটাই আপনার উন্নতির সিঁড়ি হতে পারে, যদি আপনি সঠিকভাবে পার করতে পারেন।

---
🟦 দুই. রিযিকে বরকত কেন নেই?

অনেকে বলেন — "ভাই, সারাদিন খেটে মরি, তবু টাকা থাকে না। বরকত নাই কেন?"

এই প্রশ্নের উত্তর কুরআনেই আছে।

আল্লাহ বলেন,

> "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য পথ করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দেন যা সে কল্পনাও করেনি।"
> — সূরা আত-তালাক, ৬৫:২-৩

রিযিকের বরকত আসে তাকওয়া থেকে। আর তাকওয়া মানে শুধু নামাজ পড়া নয় — তাকওয়া মানে হালাল উপায়ে উপার্জন করা, হারাম থেকে দূরে থাকা, পরিবারের হক আদায় করা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

> "হে মানুষ! আল্লাহকে ভয় করো এবং উপার্জনে সুন্দর পন্থা অবলম্বন করো। কেননা কোনো আত্মা তার রিযিক সম্পূর্ণ না নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে না, যদিও তা দেরিতে আসে।"
> — সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১৪৪ (সহিহ)

এই হাদিসটি পড়ুন আবার। আল্লাহ আপনার রিযিক লিখে রেখেছেন। সেটা আসবেই। তাড়াহুড়ো করে হারামে যাওয়ার দরকার নেই। বরং তাওয়াক্কুল করুন এবং চেষ্টা চালিয়ে যান।

---

🟦 তিন. সন্তান বিপথে যাচ্ছে — কী করব?

এটি একজন বাবার সবচেয়ে বড় কষ্ট। রাতে ঘুম আসে না। ছেলে কোথায় গেছে জানা নেই। খারাপ বন্ধু, স্মার্টফোনের আসক্তি, পড়াশোনায় মনোযোগ নেই — এই চিত্র আজ অসংখ্য পরিবারে।

কিন্তু মনে রাখুন — নবী ইয়াকুব আলাইহিস সালামের ছেলেরা তাঁর সাথে কী করেছিল? ইউসুফ আলাইহিস সালামকে কূপে ফেলে দিয়েছিল। তবু ইয়াকুব আলাইহিস সালাম আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হননি।

আল্লাহ বলেন,

> "হে আমার সন্তানরা! যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইকে খোঁজো। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই কাফিররাই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়।"
> — সূরা ইউসুফ, ১২:৮৭

সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় কাজ হলো দুআ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

> "তিন ধরনের দুআ কবুল হয় — তার মধ্যে একটি হলো সন্তানের জন্য পিতার দুআ।"
> — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৩৬ (হাসান)

প্রতিটি তাহাজ্জুদে, প্রতিটি সিজদায়, আপনার সন্তানের নাম নিয়ে কাঁদুন। আল্লাহর কাছে চান। এই দুআ কখনো ব্যর্থ হয় না।

---

🟦 চার. সমাজ দাম দিচ্ছে না — মন ভাঙছে?

টাকা নেই বলে আত্মীয়রা দূরে সরে গেছে। পাড়ায় কেউ সালামের জবাব দেয় না ভালো করে। বিয়েতে, অনুষ্ঠানে ডাক পড়ে না। এই অপমান সহ্য করা খুবই কঠিন।

কিন্তু আল্লাহ তাআলা বলেন,

> "নিশ্চয়ই সম্মান আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের।"
> — সূরা আল-মুনাফিকুন, ৬৩:৮

মানুষের কাছে সম্মান চাইবেন না। আল্লাহর কাছে সম্মান চান। যে আল্লাহর কাছে সম্মানিত, দুনিয়ার মানুষও একদিন তাকে সম্মান করতে বাধ্য হয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

> "যে ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তার বিরুদ্ধে মানুষকে লাগিয়ে দেন। আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের অসন্তুষ্টিকে মেনে নেয়, আল্লাহ তার পক্ষে মানুষকে করে দেন।"
> — সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ২৪১৪ (সহিহ)

---

🟦 পাঁচ. পারিবারিক অশান্তি — ঘর যেন জাহান্নাম মনে হয়

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, শ্বশুর-শাশুড়ির সমস্যা, ভাই-ভাইয়ের বিরোধ — এই পারিবারিক ক্যান্সার মানুষকে ভেতর থেকে শেষ করে দেয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

> "তোমাদের মধ্যে যদি দুই পক্ষের বিরোধ দেখা দেয়, তাহলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।"
> — সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:৯

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

> "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।"
> — সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ৩৮৯৫ (সহিহ)

পরিবারে শান্তি আনতে হলে প্রথমে নিজেকে ঠিক করুন। নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন। বাড়িতে ঢুকলে সালাম দিন। ছোটদের আদর করুন। বড়দের সম্মান করুন। এই সুন্নাহগুলো পালন করলে ঘরে রহমত নামে।

---

🟦 ছয়. তাহলে কী করব? — বাস্তব সমাধান

◼️১. ইস্তিগফার বাড়ান
আল্লাহ বলেন,

> "তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি তোমাদের উপর বৃষ্টি পাঠাবেন, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদী তৈরি করবেন।"
> — সূরা নূহ, ৭১:১০-১২

রিযিক বন্ধ মনে হলে ইস্তিগফার করুন — أَسْتَغْفِرُ اللهَ — দিনে কমপক্ষে ১০০ বার।

◼️ ২. ফজর নামাজ রক্ষা করুন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

> "যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়ে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে।"
> — সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৫৭

আল্লাহর জিম্মায় থাকা মানে — সে দিনটা আল্লাহ নিজেই সামলাবেন।

◼️৩. সকাল-সন্ধ্যার দুআ পড়ুন
বিশেষত এই দুআটি —

> **"اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن، وأعوذ بك من العجز والكسل..."**
> "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে চিন্তা ও দুঃখ থেকে আশ্রয় চাই, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় চাই..."
> — সহিহ বুখারী, হাদিস: ২৮৯৩

◼️৪. হালালে সন্তুষ্ট থাকুন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

> "যে ব্যক্তি হালালকে নিজের জন্য যথেষ্ট মনে করে এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
> — সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ২৫২০

---

🟦— আঁধার শেষেই ভোর আসে

প্রিয় ভাই, জীবন কঠিন — এটা সত্য। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

> "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।"
> — সূরা আল-ইনশিরাহ, ৯৪:৫-৬

এই আয়াতে "কষ্ট" শব্দটি একবার এসেছে। কিন্তু "স্বস্তি" দুইবার এসেছে। আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী — একটি "কষ্ট" দুটি "স্বস্তির" মুখোমুখি। অর্থাৎ আপনার একটি কষ্টের বিপরীতে দুটি সুখ অপেক্ষা করছে।

শুধু ধরে রাখুন।
আল্লাহকে ধরে রাখুন।
নামাজকে ধরে রাখুন।
পরিবারকে ধরে রাখুন।

ইনশাআল্লাহ — ভোর আসবেই।

---

লেখাটি যদি আপনার কোনো উপকারে আসে, তাহলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। হয়তো কেউ আছেন যে আজ রাতে কাঁদছেন একা — এই কথাগুলো তার কাজে লাগতে পারে।

আসসালামু আলাইকুম, ইসলামিক পাবলিক লাইব্রেরি  এর উদ্যোগে আয়োজিত আজকের ইসলামিক সেমিনার এর বক্তব্যের উপর কুইজে বিজয়ীদের পুরষ...
24/04/2026

আসসালামু আলাইকুম,

ইসলামিক পাবলিক লাইব্রেরি এর উদ্যোগে আয়োজিত আজকের ইসলামিক সেমিনার এর বক্তব্যের উপর কুইজে বিজয়ীদের পুরষ্কার তুলে দিচ্ছেন শায়েখ আতাউল্লাহ বিন জামশেদ হাফি সহ ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীল দ্বীনি ভাইদেরা।

প্রতি সেমিনারেই এমন আয়োজন ধারাবাহিক ভাবে চলমান থাকবে, ইনশা আল্লাহ

24/04/2026

আসসালামু আলাইকুম,
ইসলামিক পাবলিক লাইব্রেরি এর উদ্যোগে ইসলামিক সেমিনার
🌎স্থান: ইসলামিক পাবলিক লাইব্রেরি, জয়নগর বাজার, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

✅সার্বিক ব্যবস্থাপনায়: গোপীনাথপুর ইউনিয়ন কোরআন সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

📌স্বামীর হায়াত বাড়াতে চাও? তাহলে এই কথাগুলো মনে রেখো.....▪️পুত্রবধূর প্রতি হৃদয়ের কথা — বিস্তারিত ও বাস্তবধর্মী আলোচন...
21/04/2026

📌স্বামীর হায়াত বাড়াতে চাও? তাহলে এই কথাগুলো মনে রেখো.....

▪️পুত্রবধূর প্রতি হৃদয়ের কথা — বিস্তারিত ও বাস্তবধর্মী আলোচনা....

▪️প্রিয় পুত্রবধূ বোন আমার, একটু থামুন, একটু ভাবুন...

বিয়ের দিনটির কথা মনে আছে? সাদা-লাল শাড়িতে সাজানো সেই মুহূর্তে, চোখে স্বপ্ন, বুকে আশা নিয়ে আপনি একটি নতুন পরিবারে প্রবেশ করেছিলেন। সেদিন আপনি শুধু একজন স্বামীকে পাননি — পেয়েছিলেন একটি পুরো পরিবার। একজন নতুন বাবা, একজন নতুন মা, নতুন ভাই-বোন, নতুন আত্মীয়-স্বজন।

কিন্তু আজকের বাস্তবতায় প্রশ্ন হলো — সেই পরিবারের সাথে আপনার সম্পর্কটা কেমন?

---

📖 কুরআনের আলোয় পারিবারিক সম্পর্ক

আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলেছেন —

> তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না। আর পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো, নিকটাত্মীয়, ইয়াতিম, মিসকিন, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সঙ্গী এবং মুসাফিরের সাথেও।"
> (সূরা আন-নিসা: ৩৬)

লক্ষ্য করুন — আল্লাহ এখানে শুধু নিজের পিতামাতার কথা বলেননি, বলেছেন
নিকটাত্মীয়দের কথাও। স্বামীর পিতামাতা আপনার নিকটাত্মীয়দের মধ্যেই পড়েন।

আরেকটি আয়াতে আল্লাহ বলেন —

> "আর তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।"
> (সূরা আন-নিসা: ১)

---

🕌 হাদিসের আলোকে —

◼️হাদিস ১ — হায়াত ও রিজিকের চাবিকাঠি:**

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
> "যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।"
> (সহিহ বুখারি: ৫৯৮৫, সহিহ মুসলিম: ২৫৫৭)

প্রিয় বোন! আপনি কি চান আপনার স্বামীর হায়াত বাড়ুক? আপনার সংসারে বরকত আসুক? তাহলে এই হাদিসটি আপনার জন্য।

◼️হাদিস ২ — জান্নাতের সুসংবাদ:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
> যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে — তাকে বলা হবে, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করো।"
> (মুসনাদে আহমাদ, সহিহ ইবনে হিব্বান)

◼️হাদিস ৩ — আত্মীয়তা ছিন্নকারীর পরিণতি:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
> "আত্মীয়তা ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"
>(সহিহ বুখারি: ৫৯৮৪)

---

🏠 আজকের বাস্তবতা — যা আমরা সবাই দেখছি

আসুন একটু সৎভাবে কথা বলি। আজকের সমাজের পারিবারিক চিত্রটা কেমন?

❌ যে বাস্তবতা আমরা প্রায়ই দেখি —

🔴 শ্বশুর-শাশুড়ি একা ঘরে বসে আছেন — ছেলে অফিসে, বউ মোবাইলে ব্যস্ত, কেউ একটু কথা বলার নেই

🔴 অসুস্থ শাশুড়িকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কেউ নেই — ছেলে দূরে চাকরি করেন, বউ "ব্যস্ত"

🔴 শ্বশুরের ওষুধ কিনে দেওয়ার কথা মনে নেই — কিন্তু নিজের পার্লার অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস হয় না

🔴 স্বামীর বোনকে "শত্রু" মনে করা — যেন পরিবারের সদস্য নয়

🔴 আত্মীয়-স্বজনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ার নানা অজুহাত — কিন্তু বন্ধুদের সাথে বাইরে যেতে সমস্যা নেই

🔴 শাশুড়িকে "বুড়ি" বলে পেছনে কথা বলা — সামনে মিষ্টি হাসি

🔴 স্বামীকে পরিবার থেকে আলাদা করার চেষ্টা — "তুমি আমাকে ভালোবাসলে ওদের সাথে যোগাযোগ কমাও"

✅ অথচ যে বাস্তবতা হওয়া উচিত —

🟢 শাশুড়ি অসুস্থ হলে নিজেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া

🟢 স্বামীর অনুপস্থিতিতে শ্বশুর-শাশুড়ির খোঁজ নেওয়া

🟢 পরিবারের ছোট-বড় অনুষ্ঠানে সানন্দে অংশ নেওয়া

🟢 শাশুড়ির রান্নার প্রশংসা করা, কিছু শেখার চেষ্টা করা

🟢 দেবর-ননদকে আপন ভাই-বোনের মতো মনে করা

---

💔 যে ভুলগুলো আমরা করি এবং পরে কাঁদি

🟦বাস্তব গল্প ১:
একজন মা আছেন যিনি তাঁর পুত্রবধূর কাছ থেকে কখনো এক গ্লাস পানি পাননি। বছরের পর বছর কষ্ট পেয়েছেন। একদিন সেই বউয়ের নিজের ছেলের বিয়ে হলো। তার পুত্রবধূ হুবহু একই আচরণ করল। তখন সে কাঁদতে কাঁদতে বলল — "আমি কি এটাই পাওয়ার যোগ্য ছিলাম?"

▪️হ্যাঁ, বোন — এটাই আল্লাহর বিধান। যা বপন করবেন, তাই ঘরে তুলবেন।

🟦বাস্তব গল্প ২:
একজন মহিলা সারাজীবন শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করেছেন। স্বামীর সাথে মতের মিল না হলেও, শাশুড়িকে কখনো কষ্ট দেননি। আজ তাঁর বাড়িতে শান্তি, ছেলেমেয়েরা মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করে, সংসারে বরকত।

এটাও আল্লাহর বিধান।

---

💡 আজকের ব্যস্ত জীবনে কীভাবে সম্পর্ক রক্ষা করবেন?

অনেকে বলেন — "আপু, আমি তো সংসার করি, চাকরি করি, বাচ্চা সামলাই — এত কিছুর পর শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা কীভাবে করব?"

এই প্রশ্নটা স্বাভাবিক। কিন্তু উত্তরটাও সহজ —

⏰ ছোট ছোট কাজেই বড় ভালোবাসা —

✨ সকালে ঘুম থেকে উঠে একটু সালাম দিন — মাত্র ৩০ সেকেন্ড, কিন্তু শাশুড়ির দিনটা সুন্দর হয়ে যায়

✨ রান্না করার সময় শ্বশুর-শাশুড়ির পছন্দের কথা মনে রাখুন — মাঝেমধ্যে তাঁদের পছন্দের রান্না করুন

✨ অসুস্থ হলে একটু বেশি যত্ন নিন — ওষুধ এগিয়ে দিন, একটু খোঁজ নিন

✨ তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন — বয়স্করা কথা বলতে চান, তাঁদের কথার মূল্য দিন

✨ সপ্তাহে একবার হলেও একসাথে খাওয়ার চেষ্টা করুন — পারিবারিক বন্ধন মজবুত হয়

✨ স্বামীর আত্মীয়দের অনুষ্ঠানে সানন্দে অংশ নিন — বাধ্য হয়ে নয়, আন্তরিকভাবে

✨ শাশুড়িকে "আম্মু" বলে ডাকুন — এই একটি শব্দ অনেক দূরত্ব কমিয়ে দেয়

---

🤝 শাশুড়ির প্রতি শ্রদ্ধা মানে নিজেকে ছোট করা নয়

অনেকে মনে করেন — শাশুড়ির সাথে ভালো ব্যবহার করলে নিজের মর্যাদা কমে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

আসলে —
- যে নারী বড়দের সম্মান করেন, তিনি নিজেই সম্মানিত হন

- যে পরিবারে বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক ভালো, সেই পরিবারেই প্রকৃত সুখ থাকে।

- স্বামী সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন সেই স্ত্রীকে, যে তার মাকে মা মনে করে

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
> "বড়দের সম্মান করা আল্লাহকে সম্মান করারই অংশ।"
> (সুনানে আবু দাউদ)

---

⚠️ সতর্কতা — যে ভুল করবেন না

❗শ্বশুর-শাশুড়ির সামনে স্বামীকে ছোট করবেন না

❗শাশুড়ির রান্না বা কাজের সমালোচনা করবেন না

❗ স্বামীকে বাধ্য করবেন না পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে

❗ আত্মীয়দের সম্পর্কে স্বামীর কানে বিষ ঢালবেন না

❗ শাশুড়িকে "বোঝা" মনে করবেন না — তিনি আপনার স্বামীকে গড়েছেন

❗ ছোটখাটো বিষয়ে অহংকার দেখাবেন না — শিক্ষা, চাকরি বা সৌন্দর্য দিয়ে বড় হওয়া যায় না, আখলাক দিয়ে বড় হতে হয়

---

🌺 স্বামীর হায়াত ও সংসারের বরকতের দোয়া

প্রতিদিন ফজরের পর এই দোয়াটি পড়ুন —

> رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

> "হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের চোখ জুড়িয়ে দাও এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দাও।"
> (সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)

---

💎 আজ যা করবেন, কাল তাই পাবেন

> আজ আপনি পুত্রবধূ — কাল আপনি শাশুড়ি।
> আজ আপনি মেয়ে — কাল আপনি মা।
> আজ আপনি ছোট — কাল আপনি বড়।

আল্লাহর এই অটল নিয়ম কখনো বদলায় না।

যে বীজ আপনি আজ বপন করবেন, আপনার সন্তান সেই ফলই একদিন আপনার সামনে রাখবে।

---

🤲 সবশেষে একটি দোয়া

> হে আল্লাহ! আমাদের পরিবারগুলোকে জান্নাতি পরিবার বানিয়ে দাও।
> আমাদের বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক সুন্দর করে দাও।
> স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও সম্মান বাড়িয়ে দাও।
> আমাদের সন্তানদের নেক ও সৎ বানাও।
> আমাদের পরিবারে শান্তি, বরকত ও আলো দাও।
> আমিন। ইয়া রাব্বাল আলামিন। 🤲

---

> প্রিয় বোন ও ভাই, পোস্টটি পড়ে যদি একটুও উপকৃত হন — শেয়ার করুন। হয়তো আপনার একটি শেয়ার কোনো একটি পরিবারকে সুন্দর করে দেবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সুন্দর আখলাক দান করুন।

---

আল্লাহুম্মা আমিন।

📌 সন্তান গড়ার দায়িত্ব — ডিগ্রি নয়, দ্বীনই হোক সন্তানের সত্যিকারের পরিচয়.....---পৃথিবীতে একজন পিতামাতার জীবনে সবচেয়ে...
20/04/2026

📌 সন্তান গড়ার দায়িত্ব — ডিগ্রি নয়, দ্বীনই হোক সন্তানের সত্যিকারের পরিচয়.....

---

পৃথিবীতে একজন পিতামাতার জীবনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এবং একই সাথে সবচেয়ে বড় সাফল্যের ক্ষেত্র হলো তার সন্তানকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। শুধু পার্থিব শিক্ষা, সম্পদ বা ডিগ্রি দিয়ে সন্তানের জীবন পরিপূর্ণ হয় না। যদি সন্তানের হৃদয়ে পবিত্র কুরআনের আলো এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ না থাকে, তাহলে সেই জীবন প্রকৃত অর্থে সফল নয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে আজকের আলোচনায় আমরা কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সন্তান গড়ার দায়িত্ব ও গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলব।

---

🟦এক. সন্তান — আমানত, পরীক্ষা ও উপহার

সন্তান কেবল আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পিতামাতার কাছে একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের সঠিক হেফাজত করাই পিতামাতার প্রধান দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন —

> "হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।"
> — (সূরা আত-তাহরীম, ৬৬ : ৬)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সরাসরি পিতামাতাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, শুধু নিজে জান্নাতের পথে চললে চলবে না — পরিবার এবং সন্তানকেও সেই পথে পরিচালিত করতে হবে। এটি একটি ফরজ দায়িত্ব।

আল্লাহ আরও বলেন —

> "সম্পদ ও সন্তান হলো পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য।"
> — (সূরা আল-কাহফ, ১৮ : ৪৬)

কিন্তু এই সৌন্দর্যকে যদি সঠিকভাবে পরিচালনা না করা হয়, তাহলে এই সৌন্দর্যই আখিরাতে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

---

🟦দুই. সন্তানকে দীনি শিক্ষা দেওয়া — পিতামাতার সর্বোচ্চ কর্তব্য

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানের দীনি তরবিয়তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন —

> "প্রতিটি সন্তান ফিতরাতের (ইসলামি স্বভাব) উপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান বা অগ্নিপূজক বানিয়ে দেয়।"
> — (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৩৮৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৫৮)

এই হাদিসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, একটি শিশু ইসলামের স্বভাব নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু পিতামাতার অমনোযোগিতা ও ভুল পরিচালনার কারণে সে সঠিক পথ থেকে সরে যেতে পারে। সুতরাং দায়িত্বটি সম্পূর্ণরূপে পিতামাতার।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন —

> "পিতার পক্ষ থেকে সন্তানকে দেওয়া সর্বোত্তম উপহার হলো উত্তম আদব-আখলাক।"
> — (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ১৯৫২; শায়খ আলবানি এটিকে হাসান বলেছেন)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সম্পদ বা ডিগ্রি নয় — উত্তম চরিত্রই সন্তানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার।

---

🟦 তিন. কুরআনের আলো ছাড়া জীবন অন্ধকার

অনেক পিতামাতা সন্তানকে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান, লক্ষ টাকা খরচ করেন, কিন্তু কুরআন শেখানোর সময় করে উঠতে পারেন না। এটি একটি ভয়াবহ ভুল।

আল্লাহ তাআলা বলেন —

> "নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথ দেখায় যা সবচেয়ে সঠিক।"
> — (সূরা আল-ইসরা, ১৭ : ৯)

কুরআন শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, এটি একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। কুরআনের শিক্ষা থেকে দূরে থাকা মানে জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী আলো থেকে সন্তানকে বঞ্চিত করা।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।"
> — (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫০২৭)

সন্তানকে কুরআন শেখানো মানে তাকে সর্বোত্তম মানুষদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা। এর চেয়ে বড় পাওনা একজন পিতামাতার জন্য আর কী হতে পারে?

---

🟦চার. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ — সন্তানের জন্য পথের আলো

শুধু কুরআন নয়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহও সন্তানের জীবনের পাথেয় হওয়া প্রয়োজন। কারণ কুরআন ও সুন্নাহ একে অপরের পরিপূরক।

আল্লাহ তাআলা বলেন —

> "নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।"
> — (সূরা আল-আহযাব, ৩৩ : ২১)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও আদর্শই হলো মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম মডেল। সন্তানের সামনে সেই আদর্শ তুলে ধরা পিতামাতার একটি পবিত্র দায়িত্ব।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এই দুটো আঁকড়ে ধরবে, ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না — আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।"
> — (মুওয়াত্তা মালিক, হাদিস নং ১৬৬১; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদিস নং ৩১৮)

এই হাদিসই প্রমাণ করে, কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা ছাড়া জীবনে সত্যিকারের সফলতা আসে না।

---

🟦 পাঁচ. সন্তানের জন্য সময় দেওয়া — একটি ইবাদত

আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে পিতামাতা সন্তানকে সময় দিতে ভুলে যাচ্ছেন। টাকা, গাড়ি, বাড়ি সবই দিচ্ছেন, কিন্তু নিজের উপস্থিতি দিচ্ছেন না। অথচ সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো পিতামাতার সান্নিধ্য, ভালোবাসা এবং সঠিক পথনির্দেশনা।

হযরত লুকমান আলাইহিস সালাম তার পুত্রকে যেভাবে নসিহত করেছিলেন, আল্লাহ তাআলা তা কুরআনে উল্লেখ করেছেন —

> "স্মরণ করো, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে দিতে বলেছিল — হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম।"
> — (সূরা লুকমান, ৩১ : ১৩)

লুকমান আলাইহিস সালামের সন্তানকে দেওয়া উপদেশগুলো কুরআনে সংরক্ষিত হয়েছে। কারণ সেগুলো ছিল প্রজ্ঞাপূর্ণ ও চিরন্তন। প্রতিটি পিতামাতাকে তার সন্তানের সাথে এভাবেই কথা বলতে হবে — ভালোবাসার সাথে, প্রজ্ঞার সাথে।

---

🟦 ছয়. সন্তান ভালো হলে পিতামাতাও উপকৃত হন মৃত্যুর পরেও

এখানে একটি অসাধারণ বাস্তবতা রয়েছে। একজন পিতামাতা সন্তানকে দীনদার করে গড়ে তুললে, মৃত্যুর পরেও সেই সুফল পেতে থাকবেন।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি জিনিস ছাড়া — সাদাকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা উপকার পাওয়া যায়, এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।"
> — (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬৩১)

এই হাদিসটি স্পষ্ট করে দেয় — নেক সন্তান শুধু দুনিয়ায় নয়, আখিরাতেও পিতামাতার সম্পদ। সন্তানকে দীনদার করে গড়ে তোলা মানে আখিরাতের জন্য বিনিয়োগ করা।

---

🟦 সাত. ডিগ্রি বনাম দীন — ভারসাম্যই আদর্শ পথ

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার — ইসলাম কখনো পার্থিব শিক্ষার বিরোধী নয়। ইসলাম জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।"
> — (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২২৪; শায়খ আলবানি সহিহ বলেছেন)

কিন্তু পার্থিব জ্ঞানের সাথে দীনি জ্ঞানের সমন্বয় না থাকলে সেই শিক্ষা মানুষকে কখনো প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়তে পারে না। ডিগ্রিধারী মানুষ হওয়া এবং প্রকৃত মানুষ হওয়া — এই দুটো এক কথা নয়। প্রকৃত মানুষ হতে হলে দীনের আলো অপরিহার্য।

---

🟦 আট. পিতামাতার ব্যর্থতার পরিণতি

যে পিতামাতা সন্তানকে শুধু পার্থিব সুখ-সম্পদের দিকে ধাবিত করেন এবং দীনি শিক্ষা থেকে দূরে রাখেন, তাদের জন্য কুরআনে সতর্কবাণী রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন —

> "হে মুমিনগণ! তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এই কারণে গাফেল হয়, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।"
> — (সূরা আল-মুনাফিকুন, ৬৩ : ৯)

সন্তানের পেছনে সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে গিয়ে যদি দীনের দিকটি উপেক্ষিত হয়, তবে এই সন্তানই হবে পরকালে ক্ষতির কারণ।

---

🟦নয়. কীভাবে সন্তানকে গড়বেন — ব্যবহারিক পদক্ষেপ

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সন্তান গড়ার কিছু ব্যবহারিক পথ —

◼️প্রথমত, শৈশব থেকেই সন্তানকে কালিমা, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া শেখান। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "সাত বছর বয়সে সন্তানকে নামাজের আদেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে না পড়লে তাকে প্রহার করো এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।"
> — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৯৫; শায়খ আলবানি সহিহ বলেছেন)

◼️দ্বিতীয়ত, নিজে আদর্শ হোন। সন্তান বাবার মুখের কথা নয়, বাবার জীবন দেখে শেখে।

◼️তৃতীয়ত, প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় সন্তানকে দিন। তার কথা শুনুন, তার প্রশ্নের উত্তর দিন, তার সাথে দীনি বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন।

◼️চতুর্থত, ভালো সঙ্গ নিশ্চিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে। অতএব, তোমরা লক্ষ্য করো কার সাথে বন্ধুত্ব করছ।"
> — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৮৩৩; সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২৩৭৮; শায়খ আলবানি হাসান বলেছেন)

◼️পঞ্চমত, সন্তানের জন্য নিয়মিত দোয়া করুন। ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তার সন্তানের জন্য দোয়া করতেন —

> "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী করো এবং আমার বংশধরদেরও। হে আমাদের প্রতিপালক! আমার দোয়া কবুল করো।"
> — (সূরা ইব্রাহিম, ১৪ : ৪০)

---

একটি সন্তান পৃথিবীর সমস্ত ডিগ্রি ও সম্পদ অর্জন করতে পারে, কিন্তু যদি তার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় না থাকে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ না থাকে, কুরআনের আলো না থাকে — তাহলে সেই সন্তান প্রকৃত অর্থে মানুষ হয়নি। আর এই ব্যর্থতার দায় বহন করতে হবে তার পিতামাতাকেও।

তাই আজই সংকল্প নিন — সন্তানকে সময় দিন, তার সাথে কুরআন পড়ুন, রাসুলের গল্প বলুন, নামাজে পাশে দাঁড় করান, দোয়া করুন। পার্থিব সাফল্যের পাশাপাশি তাকে আখিরাতের সাফল্যের দিকে পরিচালিত করুন।

তখনই আপনার জীবন সফল হবে, তখনই আপনি একজন সত্যিকারের পিতামাতা হিসেবে আল্লাহর দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে আদর্শ পিতামাতা হওয়ার এবং সন্তানদের কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

📌 শাশুড়ি ও পুত্রবধূর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং শাশুড়ির দুর্ব্যবহারে পুত্রের করণীয়.......___________________পরিবা...
19/04/2026

📌 শাশুড়ি ও পুত্রবধূর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং শাশুড়ির দুর্ব্যবহারে পুত্রের করণীয়.......
___________________

পরিবার হলো ইসলামের দৃষ্টিতে সমাজের মূল ভিত্তি। একটি সুখী পরিবার গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের উপর ভিত্তি করে। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর সম্পর্ক পারিবারিক জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সম্পর্কটি যখন সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়, তখন পুরো পরিবারে শান্তি বিরাজ করে। আর যখন এই সম্পর্কে বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে, তখন পুরো পরিবার ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

---

🟦 প্রথম অধ্যায়: ইসলামে পারিবারিক সম্পর্কের মূলনীতি

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:

> "وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ"
> তোমরা তাদের সাথে সদাচরণ করো।
> (সূরা আন-নিসা: ১৯)

এই আয়াতে শুধু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কই নয়, বরং পারিবারিক সকল সদস্যের সাথে সদাচরণের নির্দেশ রয়েছে। ইসলাম সকল মানুষের সাথে "মারুফ" অর্থাৎ ন্যায়সঙ্গত ও সদয় আচরণের নির্দেশ দেয়।

আল্লাহ আরও বলেন:

> "وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ"
> "আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না। পিতামাতার সাথে সদাচরণ করো এবং আত্মীয়স্বজনের সাথেও।"
> (সূরা আন-নিসা: ৩৬)

---

◼️ দ্বিতীয় অধ্যায়: শাশুড়ি ও পুত্রবধূর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য

🟦 ক) শাশুড়ির প্রতি পুত্রবধূর দায়িত্ব

ইসলামে পুত্রবধূ শাশুড়ির নিজের সন্তানের মতো নন, তবে শাশুড়ি একজন বড় মানুষ হিসেবে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের সাধারণ নৈতিক শিক্ষার অংশ।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

> "لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا وَيَرْحَمْ صَغِيرَنَا"
> "সে আমাদের দলভুক্ত নয় যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের প্রতি দয়া করে না।"
> (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৪৩, তিরমিযি: ১৯২০)

সুতরাং শাশুড়ি বড় মানুষ হিসেবে পুত্রবধূর কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার যোগ্য — এটি ইসলামের সাধারণ আদব।

🟦 খ) পুত্রবধূর প্রতি শাশুড়ির দায়িত্ব

শাশুড়িরও দায়িত্ব রয়েছে পুত্রবধূর সাথে সদাচরণ করার। আল্লাহ তাআলা বলেন:

> "وَلَا تَنسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ"
> "তোমরা নিজেদের মধ্যে সদয় ব্যবহার ভুলে যেও না।"
> (সূরা আল-বাকারা: ২৩৭)

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

> "خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ"
> "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।"
> (সুনানে তিরমিযি: ৩৮৯৫, ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭)

পুত্রবধূ পরিবারের অংশ। তাই পরিবারের সাথে সদাচরণের নির্দেশ শাশুড়ির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

---

🟦 তৃতীয় অধ্যায়: শাশুড়ির দুর্ব্যবহারে পুত্রের করণীয়

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। অনেকে মনে করেন, মায়ের কথাই চূড়ান্ত এবং স্ত্রীর প্রতি অবিচার হলেও ছেলের চুপ থাকা উচিত। কিন্তু ইসলাম এই ধারণাকে সমর্থন করে না।

🟦ক) স্ত্রীর অধিকার রক্ষা করা স্বামীর দায়িত্ব

আল্লাহ বলেন:

> "الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ"
> "পুরুষেরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক।"
> (সূরা আন-নিসা: ৩৪)

"কাওয়ামুন" শব্দের অর্থ শুধু কর্তৃত্ব নয়, বরং দায়িত্বশীল রক্ষক। সুতরাং স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীকে যেকোনো অন্যায় থেকে রক্ষা করা — সেই অন্যায় মায়ের পক্ষ থেকে হলেও।

🟦খ) মায়ের আনুগত্যের সীমা

ইসলামে মায়ের আনুগত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই আনুগত্যের একটি সুনির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।

আল্লাহ বলেন:

> "وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا"
> "যদি তারা তোমাকে আমার সাথে কাউকে শরিক করতে চাপ দেয়, তাহলে তাদের আনুগত্য করো না, তবে দুনিয়ায় তাদের সাথে সদাচরণ করো।"
> (সূরা লুকমান: ১৫)

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

> "لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ"
> "স্রষ্টার অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই।"
> (মুসনাদে আহমাদ: ১০৯৮, সহীহ ইবনে হিব্বান)

কাউকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া আল্লাহর নাফরমানি। তাই মা যদি পুত্রবধূকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেন, তাহলে সেই অন্যায়ে পুত্রের নীরব সমর্থন থাকা জায়েয নয়।

🟦গ) পুত্রের করণীয়: ইসলামি পদ্ধতি

ইসলামি পণ্ডিতদের মতামত অনুযায়ী পুত্রের করণীয় হলো:

▪️১. হিকমাহ ও কৌশলের সাথে মাকে বোঝানো:
রাসুল ﷺ বলেছেন: "দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা।" (সহীহ মুসলিম: ৫৫) — নিকটজনদের কল্যাণ কামনা করা এবং ভুল ধরিয়ে দেওয়া দ্বীনের অংশ।

▪️২. স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা:

রাসুল ﷺ বলেছেন: "তোমার স্ত্রীর উপর তোমার অধিকার আছে এবং তোমার উপরও তার অধিকার আছে।" (সুনানে আবু দাউদ: ২১৪২)

▪️৩. উভয়ের মধ্যে ইনসাফপূর্ণ মধ্যস্থতা করা:
আল্লাহ বলেন:

"এবং তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো।"* (সূরা আন-নিসা: ৩)

◾৪. প্রয়োজনে আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থা করা:

ইসলামি ফিকাহ অনুযায়ী স্ত্রীর জন্য আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর ওয়াজিব। বিখ্যাত ফকিহ ইবনু কুদামাহ তাঁর আল-মুগনি গ্রন্থে বলেছেন: "স্বামীর উপর ওয়াজিব যে, সে স্ত্রীকে এমন বাসস্থান দেবে যেখানে শাশুড়ি বা অন্য কেউ তাকে কষ্ট দিতে না পারে।"

◼️ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহও বলেছেন: "স্ত্রীর জন্য আলাদা ঘর প্রাপ্য যেখানে সে নিরাপদ থাকবে।" (মাজমুউল ফাতাওয়া: ৩২/২৮০)

---

◼️ চতুর্থ অধ্যায়: পুত্রবধূ কি শাশুড়ির সেবা করতে বাধ্য?

এটি ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা যা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।

🟦 ক) ফিকাহর স্পষ্ট অবস্থান

◾বিখ্যাত হানাফি ফকিহ ইমাম কাসানি তাঁর বাদাইউস সানাই গ্রন্থে বলেছেন:

> "স্ত্রীর উপর স্বামীর পিতামাতার সেবা করা শরীয়তের দিক থেকে বাধ্যতামূলক নয়।"

◾শাফেঈ মাযহাবের ইমাম নববী তাঁর রওযাতুত তালিবিন গ্রন্থে বলেছেন:

> "স্ত্রীর উপর ঘরের কাজ করা ওয়াজিব নয়, এমনকি নিজের সন্তান লালন-পালনও তার উপর বাধ্যতামূলক নয় বরং এটি স্বামীর দায়িত্ব।"

🟦 খ) স্বেচ্ছায় সেবা করলে মহৎ পুরস্কার

তবে যদি পুত্রবধূ স্বেচ্ছায় ও আন্তরিকতার সাথে শাশুড়ির সেবা করেন, তাহলে ইসলাম এটিকে অত্যন্ত মহৎ কাজ হিসেবে দেখে। রাসুল ﷺ বলেছেন:

> "إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ"
> "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে ইহসান (সুন্দর আচরণ) করার নির্দেশ দিয়েছেন।"
> (সহীহ মুসলিম: ১৯৫৫)

🟦 গ) সারসংক্ষেপ

| বিষয় | .... ইসলামের অবস্থান |

| শাশুড়ির সেবা বাধ্যতামূলক? | না, এটি শরীয়তে ওয়াজিব নয় |

| স্বেচ্ছায় সেবা করলে? | অত্যন্ত সওয়াবের কাজ |

| শাশুড়িকে সম্মান করা? | ইসলামি আদব হিসেবে উচিত |

| জোরপূর্বক চাপানো হলে? | স্বামীর দায়িত্ব প্রতিরোধ করা |

---

◼️পঞ্চম অধ্যায়: কুরআন ও সহীহ হাদিসের সমন্বিত দিকনির্দেশনা

কুরআনের নির্দেশনা

◾১."হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে একটি আত্মা থেকে সৃষ্টি করেছেন।"* — (সূরা নিসা: ১) — এই আয়াত সকল মানুষের সমান মর্যাদার কথা বলে।

◾২."নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন।"— (সূরা আন-নাহল: ৯০)

◾৩."যে কেউ অন্যায় করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে।"— (সূরা আন-নিসা: ১২৩)

🟦সহীহ হাদিসের নির্দেশনা

◾১. রাসুল ﷺ বলেছেন: "মুসলমান সেই ব্যক্তি যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ।" (সহীহ বুখারি: ১০)

◾২.রাসুল ﷺ বলেছেন: তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, একে অপরকে ঘৃণা করো না, একে অপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করো না।" (সহীহ বুখারি: ৬০৬৫, মুসলিম: ২৫৫৯)

◾৩. হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন: *"এক ব্যক্তি রাসুল ﷺ-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন: 'ইয়া রাসুলাল্লাহ! পরিবারের সাথে আমার আচরণ কেমন হওয়া উচিত?' রাসুল ﷺ বললেন: 'তাদের প্রতি সদয় হও।'"* (মুসনাদে আহমাদ)

---

◼️ষষ্ঠ অধ্যায়: বর্তমান প্রেক্ষাপটে বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক

🟦 বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র

আজকের সমাজে বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক প্রায়ই একটি জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজে এই সমস্যা ব্যাপকভাবে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে:

➤- শাশুড়ি পুত্রবধূকে সেবাদাসী মনে করেন
➤- পুত্রবধূর প্রতি মানসিক নির্যাতন চলে
➤- পুত্র মায়ের ভয়ে স্ত্রীর প্রতি অবিচার করেন
➤- পুত্রবধূকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়

◼️এগুলো সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী আচরণ।

🟦সমস্যার মূল কারণ

◾১. সাংস্কৃতিক ভুল ধারণা:

অনেকে মনে করেন পুত্রবধূ মানেই ঘরের দাসী — এটি ইসলামের শিক্ষা নয়, বরং সমাজের কুসংস্কার।

◾২. ইসলামি জ্ঞানের অভাব:

শাশুড়ি-পুত্রবধূ উভয়েই অনেক সময় নিজেদের ইসলামি অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ।

◾৩. পুত্রের দায়িত্বহীনতা:

অনেক ছেলে মায়ের সামনে কথা বলতে ভয় পান, ফলে স্ত্রীর উপর অবিচার চলতে থাকে।

◾৪. যোগাযোগের অভাব:

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খোলামেলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার অভাব।

🟦 ইসলামি সমাধান

◼️শাশুড়ির জন্য:
➤- পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসুন
➤- তার প্রতি ন্যায়বিচার করুন
➤- মনে রাখুন — আপনার মেয়েও অন্য কারো বাড়িতে পুত্রবধূ

◼️পুত্রবধূর জন্য:
▪️- শাশুড়িকে সম্মান করুন, বড়জন হিসেবে
▪️- ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহর সাহায্য চান
▪️- নিজের অধিকার জানুন এবং সুষ্ঠুভাবে দাবি করুন

◼️পুত্রের জন্য:
➤- উভয়ের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করুন
➤- ইনসাফ করুন — কারো পক্ষ নয়, সত্যের পক্ষ নিন
➤- স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করুন
➤- মাকে ভালোবাসুন কিন্তু তার অন্যায়কে সমর্থন করবেন না

---

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এটি শুধু নামাজ-রোজার কথা বলে না, বরং মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের প্রতিটি দিক সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেয়। শাশুড়ি-পুত্রবধূর সম্পর্কও এর ব্যতিক্রম নয়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

> "اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ"
> "তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো।"
> (সুনানে তিরমিযি: ২৪৫৮)

একটি পরিবারে যদি প্রতিটি সদস্য আল্লাহর ভয় রেখে পরস্পরের সাথে আচরণ করেন, তাহলে কোনো দ্বন্দ্ব, কোনো অবিচার টিকতে পারে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর নির্দেশ মেনে সুন্দর পারিবারিক জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Address

Joynagar Bazar
Kasba
3462

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when গোপীনাথপুর ইউনিয়ন কুরআন-সুন্নাহ্ ফাউন্ডেশন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share