19/04/2026
অক্ষয় তৃতীয়া (Akṣaya Tṛtīyā)—হিন্দু ধর্মে এক অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ তিথি, যা প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালিত হয়। “অক্ষয়” শব্দের অর্থ—যা কখনো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না; অর্থাৎ এই দিনে সম্পাদিত সৎকর্ম, দান, জপ, তপস্যা, পূজা ইত্যাদি অনন্ত ফলদায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
📅 ২০ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার
🕰️ দিবা ১১:২২:১৩ পর্যন্ত তৃতীয়া তিথি (বাংলাদেশ সময়)
অক্ষয় তৃতীয়ার মাহাত্ম্য:
১. চিরস্থায়ী পুণ্যের দিন
এই দিনে করা যেকোনো ধর্মীয় কাজ—দান, যজ্ঞ, ব্রত, পূজা—অক্ষয় ফল প্রদান করে বলে শাস্ত্রে বর্ণিত।
👉 অর্থাৎ, এর পুণ্য কখনো নষ্ট হয় না।
📖 রেফারেন্স:
স্কন্দ পুরাণ (Skanda Purāṇa):
“अक्षय तृतीया नाम तिथिः सर्वफलप्रदा”
(অক্ষয় তৃতীয়া সকল ফল প্রদানকারী তিথি)
২. ত্রেতা যুগের সূচনা
অনেক পুরাণ মতে, এই দিনেই ত্রেতা যুগ শুরু হয়েছিল।
📖 রেফারেন্স:
ব্রহ্ম পুরাণ (Brahma Purāṇa)
৩. ভগবান বিষ্ণুর অবতার-সংযোগ
এই তিথিতে ভগবান বিষ্ণু-এর একাধিক অবতার সম্পর্কিত ঘটনা ঘটেছে বলে বিশ্বাস—
পরশুরাম-এর আবির্ভাব (পরশুরাম জয়ন্তী)
বামন অবতারের স্মরণ
📖 রেফারেন্স:
ভবিষ্য পুরাণ
৪. মহাভারতের রচনা শুরু
এই দিনেই ব্যাসদেব মহাভারত রচনা শুরু করেন, এবং শ্রী গণেশ তা লিখতে সম্মত হন।
📖 রেফারেন্স:
মহাভারত (আদি পর্বের উল্লেখ)
৫. গঙ্গা অবতরণ
কিছু মতে, এই দিনে মা গঙ্গা স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।
📖 রেফারেন্স:
রামায়ণ (বালকাণ্ডে গঙ্গা অবতরণ প্রসঙ্গ)
৬. অন্ন ও দানের বিশেষ মাহাত্ম্য
এই দিনে অন্নদান, জলদান, বস্ত্রদান অত্যন্ত পুণ্যময় বলে ধরা হয়।
📖 রেফারেন্স:
পদ্ম পুরাণ
“अन्नदानं परं दानं” — অন্নদান সর্বশ্রেষ্ঠ দান
🌿 আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
নতুন কাজ শুরু করার জন্য সর্বোত্তম শুভ দিন
কোনো “মুহূর্ত” দেখার প্রয়োজন নেই
ধন-সম্পদ বৃদ্ধি, সৌভাগ্য ও শান্তি লাভের আশীর্বাদ পাওয়া যায়
**উপসংহার:
অক্ষয় তৃতীয়া শুধু একটি তিথি নয়—এটি অনন্ত কল্যাণ ও শুভ শক্তির দ্বার উন্মোচনের দিন। এই দিনে ভক্তি, দান ও সৎকর্মের মাধ্যমে জীবনে আধ্যাত্মিক উন্নতি ও স্থায়ী শুভফল অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।