স্বধর্ম-self religion

স্বধর্ম-self religion Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from স্বধর্ম-self religion, Religious Center, Kaliganj.
(2)

🕉️ সনাতন ধর্মের শক্তি আবিষ্কার করুন
📚 আধুনিক জীবনের জন্য প্রাচীন জ্ঞান
🌿 আধ্যাত্মিক উন্নতি | ইতিবাচক মানসিকতা | অন্তরের শান্তি
🙏 শিখুন • অনুশীলন করুন • বিকশিত হোন
✨ প্রতিদিনের অনুপ্রেরণার জন্য অনুসরণ করুন
🌼 সত্য ও শান্তির পথে আমাদের সাথে যোগ দিন

আজ যদি কেউ পদ্মিনী একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য পাঠ করে তার একাদশীর পূর্ণফল অর্জন হবে:-✸ স্মার্তগণ পুরুষোত্তম মাস বা অধিমাসকে ...
27/05/2026

আজ যদি কেউ পদ্মিনী একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য পাঠ করে তার একাদশীর পূর্ণফল অর্জন হবে:-

✸ স্মার্তগণ পুরুষোত্তম মাস বা অধিমাসকে ‘মলমাস’ বলে এই মাসে সমস্ত শুভকার্য পরিত্যাগ করে থাকেন। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই মাসকে পারমার্থিক মঙ্গলের জন্য অন্য সকল মাস থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে নির্ণয় করেছেন। তিনি নিজের নামানুসারে এই মাসের নাম ‘পুরুষোত্তম’ মাস রেখেছেন।

✸একদিন মহারাজ যুধিষ্ঠির ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করলেন– “হে কৃষ্ণ! হে জনার্দন! আমি বহুধর্ম ও ব্রতের কথা শুনেছি। এখন পুরুষোত্তম মাসের সর্বপাপবিনাশিনী ও পুণ্যদায়িনী শুক্লপক্ষীয়া একাদশীর নাম কী? এবং এই একাদশী পালনের বিধিনিয়মই বা কি? আপনি সেই কথা আমার কাছে বর্ণনা করুন। যা শ্রবন করলে পরমপদ প্রাপ্ত হওয়া যায়।”

✸ শ্রী ভগবান বললেন, “হে অজাতশত্রু! অধিমাসের শুক্লপক্ষে একাদশী হল পদ্মিনী একাদশী। প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ২৪টি একাদশী হয়। কিন্তু যখন অধিমাস বা মলমাস আসে, তখন আরও ২টি একাদশী বেড়ে একাদশীর সংখ্যা হয় ২৬।

অধিমাসে ২টি একাদশী হল — পদ্মিনী একাদশী (শুক্লপক্ষ) এবং পরমা একাদশী (কৃষ্ণপক্ষ)।

✸ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যুধিষ্ঠির মহারাজকে বললেন, “এই পদ্মিনী একাদশী পালন করলে ভগবৎ পাদপদ্মে স্থান লাভ হয়। এটি ভক্তি প্রদায়িনী এবং সর্ব পাপনাশিনী একাদশী। দশমীর দিন থেকেই এই ব্রতের শুরু হয়। কাঁসার পাত্রে ভোজন, মুসুর, ছোলা, শাক এবং অপরের অন্ন ও আমিষ দশমীর দিন বর্জন করতে হয়। পরের দিন প্রাতঃকৃত্যের পর সুগন্ধী ধূপ, দীপ, চন্দনাদি দিয়ে ভগবানের পূজা করতে হয়। রাত্রিতে জাগ্রত থেকে ভগবানের নাম,গুণ কীর্তন করতে হয়। এখন এই ব্রতের পরিপেক্ষিতে একটি সুন্দর ঘটনা বর্ণন করছি, যা পূর্বে পুলস্ত মুনি দেবর্ষি নারদকে এই ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন।”

❖ রাজা কৃতবীর্যের কাহিনী ❖
✸ হে রাজেন্দ্র! ত্রেতাযুগে হৈহয় বংশের অধিপতি ক্ষত্রিয়রাজা কৃতবীর্য লঙ্কাপতি রাক্ষসরাজ রাবনকে পরাজিত করে তার কারাগারে বন্দী করে রাখেন। লঙ্কাপতি রাবণ হলেন মহামুনি পুলস্ত্য এর পৌত্র (নাতি)। এই পরাজয়ের খবর পেয়ে স্বর্গ থেকে তড়িগড়ি মহীষ্মতীপুর নগরে পৌঁছালেন। অমন তেজস্বী ওজস্বী পুলস্ত্য মুনিকে প্রণতি নিবেদন করে যথোপযুক্ত অভ্যর্থনা করলেন এবং মহর্ষির আগমনের কারণ জানতে চাইলেন। রাজার কাছে তিনি রাবনের মুক্তি প্রার্থনা করেন।

✸ মুনির আজ্ঞায় রাজা কৃতবীর্য রাবনকে মুক্ত করেন। এই আশ্চর্যজনক কথা শুনে নারদ পুলস্ত মুনিকে জিজ্ঞাসা করেন, “হে মুনিবর! ইন্দ্রসহ সকল দেবতা যখন রাবনের কাছে পরাজিত হল, রাজা কার্তবীর্য কীভাবে রাবনকে পরাজিত করলেন?” পুলস্ত্য মুনি তখন নারদের কাছে কার্তবীর্যের জন্মরহস্য বর্ণনা শুরু করলেন।

✸ ত্রেতাযুগে হৈহয় বংশে কৃতবীর্য নামে এক রাজা পুরীতে রাজত্ব করতেন। মহীষ্মতীপুরে তার রাজধানী ছিল। রাজার এক হাজার পত্নী ছিল। কিন্তু রাজ্যভার গ্রহন করার মত কোনো পুত্রলাভ তার ভাগ্যে হয়নি। অনেক চিকিৎসকের তত্বাবধানে থেকে পুত্র লাভের অনেক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। দেবতাদের আরাধনা করে সুফল মেলেনি তার। অবশেষে সাধুদের আজ্ঞানুসারে বিভিন্ন ব্রত পালন করলেন, তবুও তিনি রইলেন অপুত্রক।

✸ তখন মন্ত্রীর ওপর রাজ্যভার অর্পণ করে তপস্যা করার সিদ্ধান্ত নেন রাজা কৃতবীর্য। রাণীদের মধ্যে রাণী পদ্মিনী ছিলেন মহারাজ হরিশ্চন্দ্রের কন্যা, ইক্ষ্বাকু রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, রাজার সাথে বনে যেতে রাজি হন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পতিব্রতা। স্বামীর সাথে তিনিও তপস্যার জন্য মন্দার পর্বতে যাত্রা করেন। সেখানে তারা ১০ হাজার বছর ধরে কঠোর তপস্যা করেও পুত্রলাভ থেকে বঞ্চিতই রইলেন।

✸ এতে রাণী পদ্মিনী তিনি অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে গেলেন। তখন রাণী ভাবলেন – “এখন আমার কিছু একটা করা উচিত! পরম সতী নারী অনুসূয়ার কাছে আমি যাব।” সাক্ষাৎ হলে তিনি মহাসাধ্বী (অর্থাৎ পরম সতী) অনুসূয়াকে উপায় বিধানের আর্তি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে সাধ্বী! পুত্রলাভের জন্য আমার স্বামী দশ হাজার বছর তপস্যা করেও বিফল হয়েছে। যে ব্রত পালনে ভগবান সন্তুষ্ট হন এবং অতিশ্রেষ্ঠ পুত্রলাভ হয়, এমন কোনো উপায় বিধান করুন।”

✸ পদ্মিনীর আকুল প্রার্থনায় অনুসূয়া প্রসন্ন হয়ে বললেন, “বত্রিশ মাস অন্তর এক অধিমাস বা পুরুষোত্তম মাস আসে। এই মাসে পদ্মিনী ও পরমা দুই একাদশী। পদ্মিনী ব্রত পালন করলে পুত্রদাতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শীঘ্রই প্রসন্ন হবেন।”

✸ অনুসূয়ার নির্দেশে পদ্মিনী পরম শ্রদ্ধায় এই একাদশী ব্রত পালন করলেন। সেই ব্রতে সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গরুড় বাহনে আরোহন করে পদ্মিনীর সম্মুখে উপস্থিত হলেন। ভগবান বললেন, “হে ভদ্রে! আমি প্রসন্ন হয়েছি। পুরুষোত্তম মাসের একাদশী আমার পরম প্রিয়। তুমি সেই ব্রত যথাযথ পালন করেছ। তাই আমি তোমার ইচ্ছানুরূপ বর প্রদান করব।”

✸ ভগবানের স্তব করে রাণী বললেন, “হে ভগবান! আমার বদলে আমার স্বামীকে আপনি বর দান করুন।”

ভগবান রাণীর ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে তৎক্ষণাৎ রাজার সম্মুখে উপস্থিত হয়ে বললেন, “হে রাজেন্দ্র! আপনার অভিলষিত বর প্রার্থনা করুন।”

মহানন্দে রাজা বললেন, “হে জগত্ পতি! হে মধুসূদন! দেবতা, মানুষ, নাগ, দৈত্য, রাক্ষস আদি কেউ তাকে পরাজিত করতে পারবে না, এমন পুত্র আমি প্রার্থনা করি।”

রাজার প্রার্থনা অনুসারে বরদান করে ভগবান অন্তর্হিত হলেন। রাজা পত্নী সহ রাজ্যে ফিরে এলেন। যথা সময়ে রানী পদ্মিনীর গর্ভে মহা বলশালী এক পুত্রের জন্ম হয়। মহারাজ কৃতবীর্য পুত্রের নাম রাখেন কার্তবীর্য। ত্রিলোকে তার সমান কোনো বীর ছিল না, কেবল হরি ছাড়া আর কারো দ্বারা পরাজিত হবে না। তাই দশানন রাবন যুদ্ধে তাঁর কাছে পরাজিত হয়ে বন্দী হয়েছিল। পরবর্তীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অবতার পরশুরাম কর্তৃক নিহত হয়।

✸ শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “হে মহারাজ! এই ব্রত যিনি পালন করবেন, তিনি ভগবান শ্রীহরির শ্রীপাদপদ্মে অহৈতুকী ভক্তি লাভ করবেন।”

✸ শ্রীকৃষ্ণের উপদেশে ধর্মরাজ সপরিবারে এই একাদশী ব্রত পালন করেন। যিনি এই ব্রত মাহাত্ম্য পাঠ ও শ্রবন করেন, তিনি বহু পুণ্যলাভ করেন।

🌸 জয় পদ্মিনী একাদশী 🌸

রাধে_রাধে 🌿

26/05/2026

#হরে_কৃষ্ণ 🙏

হরেকৃষ্ণ  #একাদশীবার্তা 🌹 আগামী ২৭-০৫-২০২৬ ইং তারিখ রোজ বুধবার পবিত্র পদ্মিনী একাদশীর উপবাস ব্রত। পারন পরেরদিন সকাল(বাংল...
26/05/2026

হরেকৃষ্ণ #একাদশীবার্তা 🌹 আগামী ২৭-০৫-২০২৬ ইং তারিখ রোজ বুধবার পবিত্র পদ্মিনী একাদশীর উপবাস ব্রত। পারন পরেরদিন সকাল
(বাংলাদেশ) ০৫:১১-০৮:২৯
(পশ্চিমবঙ্গ) ০৪:৫২-০৭:৫৯
🙏একাদশী ব্রত পালন করুন ও অন্যকে একাদশী ব্রত পালনের জন্য উৎসাহিত করুন ।।
🙏❤️❤️ পদ্মিনী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য ❤️❤️🙏
স্মার্তগণ পুরুষোত্তম মাস বা অধিমাসকে `মলমাস' বলে এই মাসে সমস্ত শুভকার্য পরিত্যাগ করে থাকেন। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই মাসকে পারমার্থিক মঙ্গলের জন্য অন্য সকল মাস থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে নির্ণয় করেছেন।তিনি নিজের নামানুসারে এই মাসের নাম `পুরুষোত্তম' মাস রেখেছেন।
যুধিষ্ঠির বললেন, হে জনার্দন! আমি বহুধর্ম ও ব্রতের কথা শুনেছি। এখন পুরুষোত্তম মাসের সর্বপাপবিনাশিনী ও পুণ্যদায়িনী শুক্লপক্ষীয়া `পদ্মিনী' একাদশীর কথা আমার কাছে বর্ণনা করুন।যা শ্রবন করলে পরমপদ প্রাপ্ত হওয়া যায়।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, দশমীর দিন থেকেই এই ব্রতের শুরু হয়। কাঁসার পাত্রে ভোজন, মুসুর, ছোলা, শাক এবং অপরের অন্ন ও আমিষ দশমীর দিন বর্জন করতে হয়। পরের দিন প্রাতঃকৃত্যের পর সুগন্ধী ধূপ, দীপ, চন্দনাদি দিয়ে ভগবানের পূজা করতে হয়। রাত্রিতে জাগ্রত থেকে ভগবানের নাম,গুণ কীর্তন করতে হয়। এখন এই ব্রতের একটি ইতিহাস আপনার মনোরঞ্জনের জন্য বলছি। পূর্বে পুলস্ত মুনি দেবর্ষি নারদকে এই ইতিহাস বর্ণনা করেছিলেন।
একসময় রাজা কার্তবীর্য লঙ্কাপতি রাবনকে পরাজিত করে তাঁর কারাগারে বন্দী করে রাখে। পুলস্ত মুনি রাজার কাছে রাবনের মুক্তি প্রার্থনা করেন। মুনির আজ্ঞায় রাজা রাবনকে মুক্ত করেন। এই অাশ্চর্যজনক কথা শুনে নারদ পুলস্ত মুনিকে জিজ্ঞাসা করেন, হে মুনিবর! ইন্দ্রসহ সকল দেবতা যখন রাবনের কাছে পরাজিত হল, রাজা কার্তবীর্য কীভাবে রাবনকে পরাজিত করলেন? পুলস্ত মুনি তখন নারদের কাছে কার্তবীর্যের জন্মরহস্য বর্ণনা করেন।
ত্রেতাযুগে হৈহয় বংশে কৃতবীর্য নামে এক রাজা ছিলেন। মহীস্মতীপুরে তার রাজধানী ছিল। রাজার এক হাজার পত্নী ছিল। কিন্তু রাজ্যভার গ্রহন করার মত কোনো পুত্রলাভ তার ভাগ্যে হয়নি। দেবতাদের আরাধনাতেও সুফল মেলেনি তার। অবশেষে সাধুদের আজ্ঞানুসারে বিভিন্ন ব্রত পালন করলেন।তথাপি রাজা ছিলেন অপুত্রক। মন্ত্রীর ওপর রাজ্যভার অর্পণ করে তপস্যায় যাবেন বলে স্থির করলেন রাজা। রাণী মহারাজ হরিশ্চন্দ্রের কন্যা পদ্মিনী ছিলেন অত্যন্ত পতিব্রতা। স্বামীর সাথে তিনিও তপস্যার জন্য মন্দার পর্বতে গমন করলেন।সেখানে তারা দশ হাজার বছর ধরে কঠোর তপস্যা করলেন। কিন্তু রাজা পুত্রলাভে বঞ্চিতই রইলেন।
রাণী পদ্মিনী মহাসাধ্বী অনুসূয়াকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে সাধ্বী! পুত্রলাভের জন্য আমার স্বামী দশ হাজার বছর তপস্যা করেও বিফল হয়েছে।যে ব্রত পালনে ভগবান সন্তুষ্ট হন এবং অতিশ্রেষ্ঠ পুত্রলাভ হয়,এমন কোনো উপায় বিধান করুন।
পদ্মিনীর প্রার্থনায় অনুসূয়া প্রসন্ন হয়ে বললেন, বত্রিশ মাস অন্তর এক অধিমাস বা পুরুষোত্তম মাস আসে। এই মাসে পদ্মিনী ও পরমা দুই একাদশী। এই ব্রত পালন করলে পুত্রদাতা ভগবান শীঘ্রই প্রসন্ন হবেন।
অনুসূয়ার নির্দেশে পদ্মিনী পরম শ্রদ্ধায় এই একাদশী ব্রত পালন করলেন। সেই ব্রতে সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং ভগবান গরুড় বাহনে আরোহন করে পদ্মিনীর সম্মুখে উপস্থিত হলেন।
ভগবান বললেন, হে ভদ্রে! আমি প্রসন্ন হয়েছি। পুরুষোত্তম মাসের একাদশী আমার পরম প্রিয়। তুমি সেই ব্রত যথাযথ পালন করেছ। তাই আমি তোমার ইচ্ছানুরূপ বর প্রদান করব।
ভগবানের স্তব করে রাণী বললেন, হে ভগবান! আমার স্বামীকে আপনি বর দান করুন। ভগবান তখন রাজার কাছে এসে বললেন, হে রাজেন্দ্র! আপনার অভিলষিত বর প্রার্থনা করুন। মহানন্দে রাজা বললেন, হে জগত্ পতি! হে মধুসূদন! দেবতা,মানুষ, নাগ,দৈত্য, রাক্ষস আদি কেউ তাকে পরাজিত করতে পারবে না, এমন পুত্র আমি প্রার্থনা করি। রাজার প্রার্থনা অনুসারে বরদান করে ভগবান অন্তর্হিত হলেন। রাজা পত্নী সহ রাজ্যে ফিরে এলেন। যথা সময়ে রানী পদ্মিনীর গর্ভে মহা বলশালী এক পুত্রের জন্ম হয়। মহারাজ কৃতবীর্য পুত্রের নাম রাখেন কার্তবীর্য। ত্রিলোকে তার সমান কোনো বীর ছিলনা। তাই দশানন রাবন যুদ্ধে তাঁর কাছে পরাজিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে মহারাজ! এই ব্রত যিনি পালন করবেন, তিনি ভগবান শ্রীহরির শ্রীপাদপদ্মে অহৈতুকী ভক্তি লাভ করবেন।
শ্রীকৃষ্ণের উপদেশে ধর্মরাজ সপরিবারে এই একাদশী ব্রত পালন করেন। যিনি এই ব্রত মাহাত্ম্য পাঠ ও শ্রবন করেন,তিনি বহু পুণ্যলাভ করেন।

মৃত্যুর পরে গৃহে পূজা-পাঠ কী বন্ধ রাখাতে হবে❓সমাজে বহুল প্রচলিত একটি ধারণা হলো—কোনো গৃহে মৃত্যু ঘটলে সেখানে ১০ দিন, ১২ দ...
26/05/2026

মৃত্যুর পরে গৃহে পূজা-পাঠ কী বন্ধ রাখাতে হবে❓
সমাজে বহুল প্রচলিত একটি ধারণা হলো—কোনো গৃহে মৃত্যু ঘটলে সেখানে ১০ দিন, ১২ দিন, ১৫ দিন বা কখনও ৩০ দিন এবং অনেকের ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণেরা এক বছর কালা অশোচ দিয়ে থাকেন। পূজা-পাঠ, সন্ধ্যা, যজ্ঞ, দীপ প্রজ্জ্বলন ইত্যাদি বন্ধ রাখতে হয়। অনেকে মনে করেন, মৃত্যুর পরে ধর্মীয় কর্ম করলে অশৌচ লাগে বা তা অনুচিত। কিন্তু বৈদিক শাস্ত্রের আলোকে বিচার করলে দেখা যায়, এই ধারণার কোনো প্রকৃত বৈদিক ভিত্তি নেই।
বরং বেদ, মনুস্মৃতি ও গীতার নির্দেশ হলো—নিত্যকর্ম কখনো ত্যাগ করা উচিত নয়। মৃত্যু মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক সত্য।

“জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যু ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ"।
[গীতা ২/২৭]
অর্থাৎ যে জন্মগ্রহণ করেছে তার মৃত্যু নিশ্চিত, এবং যে মৃত্যুবরণ করেছে তার পুনর্জন্মও নিশ্চিত। এই সময় পরিবারে শোক, মানসিক অস্থিরতা ও দুঃখের পরিবেশ তৈরি হয়। আর ঠিক এই সময়েই ঈশ্বরস্মরণ, উপাসনা, যজ্ঞ ও বেদপাঠ মানুষের মনে শান্তি, ধৈর্য ও আত্মিক শক্তি জাগ্রত করে। তাই মৃত্যু ঘটলে পূজা-পাঠ বন্ধ নয়, বরং আরও বেশি আন্তরিকতার সাথে ঈশ্বরের উপাসনা করা উচিত।
♦️গৃহশুদ্ধি ও যজ্ঞের প্রয়োজনীয়তা: যে গৃহে মৃত্যু ঘটে, সেই গৃহকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অবশ্যই প্রয়োজন। যে কক্ষে মৃত্যু হয়েছে, তা সাবান-জল ও জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করা উচিত। একইসঙ্গে শুদ্ধ ঘৃতের প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও যজ্ঞের মাধ্যমে পরিবেশকে পবিত্র ও সুগন্ধিত করা উচিত। যজ্ঞের ধোঁয়া ও সুগন্ধি উপাদান পরিবেশ শুদ্ধ করতে সহায়ক। তাই শোকের সময় যজ্ঞ বন্ধ রাখা নয়, বরং যজ্ঞের প্রয়োজন আরও বেশি।
অথর্ববেদে বলা হয়েছে—
“শুদ্ধা ভবত যজ্ঞিয়াঃ”
[অথর্ববেদ ১২.২.২০]

অর্থাৎ তোমরা শুদ্ধ ও যজ্ঞশীল হও। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাতেও বলা হয়েছে—
“তস্মাৎসর্বগতং ব্রহ্ম নিত্যং যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্।”
[গীতা ৩.১৫]

অর্থাৎ, যজ্ঞের মধ্যেই সর্বব্যাপী ব্রহ্ম প্রতিষ্ঠিত। আর অথর্ববেদে বলা হয়েছে—
“অযজ্ঞিয়ো হতবর্চা ভবতি” [অথর্ববেদ ১২.২.৩৭]
অর্থাৎ যে যজ্ঞ করে না, সে তেজহীন হয়ে পড়ে।অর্থাৎ শুদ্ধতা ও যজ্ঞময় জীবনই বৈদিক আদর্শ।

নিত্যকর্ম কখনো ত্যাগযোগ্য নয়
মনুস্মৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—

বেদোপকরণে চৈব স্বাধ্যাযে চৈব নৈত্যকে।
নানুরোধোহস্ত্যনধ্যাযে হোমমন্ত্রেষু চৈব হি॥১॥
নৈত্যকে নাস্ত্যনধ্যাযো ব্রহ্মসত্রং হি তৎস্মৃতম্।
ব্রহ্মাহুতিহুতং পূণ্যমনধ্যাযবষকৃতম্ ॥২॥
[মনুস্মৃতি ২।১০৫-১০৬]

অর্থাৎ বেদের পঠন-পাঠন, সন্ধ্যোপাসনা, পঞ্চমহাযজ্ঞ এবং হোমমন্ত্রের অনুশীলনে কোনো অনধ্যায় বা নিষেধ নেই। নিত্যকর্ম কখনো বন্ধ হয় না।
অনধ্যায়ের সময়েও অগ্নিহোত্রাদি কর্ম পুণ্যদায়ক। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—
“যেরূপ সর্বদা শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করিতে হয়, কখনও বন্ধ করা যায় না, সেইরূপ প্রতিদিন নিত্যকর্মের অনুষ্ঠান করা কর্তব্য। নিত্যকর্ম একদিনও পরিত্যাগ করিবে না।”
অর্থাৎ যেমন মানুষ শ্বাস নেওয়া বন্ধ করতে পারে না, তেমনই নিত্য উপাসনা, সন্ধ্যা ও যজ্ঞও বন্ধ করা উচিত নয়। শোকের সময়েই ঈশ্বরকে বেশি স্মরণ করা উচিত অনেকে বলেন—“মৃত্যুর পরে মন অস্থির থাকে, তাই পূজা করা যায় না।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঈশ্বর কী আমাদের উপাসনার ভিখারি? অবশ্যই না। উপাসনা মানুষের নিজের আত্মিক শান্তি ও মানসিক শক্তির জন্য। যখন পরিবারে মৃত্যু ঘটে, তখন মানুষের মন সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়ে। এই সময় ঈশ্বরস্মরণই মানুষকে ধৈর্য ও স্থিরতা দেয়। তাই শোকের সময় ঈশ্বর থেকে দূরে সরে থাকা নয়, বরং তাঁর আশ্রয় আরও বেশি প্রয়োজন।
🪷ঋগ্বেদেও সর্বদা ঈশ্বরস্মরণের কথা বলা হয়েছে—
[ঋগ্বেদ ১০.১৫১.৫] ঈশ্বরকে সর্বদা স্মরণ করতে হবে। গীতায় ভগবান বলেছেন, “সব সময়ই ঈশ্বরের নাম স্মরণ করতে" [গীতা ৮/৭]। ভগবান নিত্যকর্ম সম্বন্ধে আরও বলেছে,

যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজ্যং কার্য্যমেব তৎ।
যজ্ঞো দানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম্॥
[গীতা ১৮.৫]
অনুবাদ: যজ্ঞ, দান ও তপস্যারূপ কর্ম ত্যাগ করা উচিত নয়; এগুলো অবশ্যই করণীয়। কারণ যজ্ঞ, দান এবং তপস্যা জ্ঞানী ব্যক্তিদের চিত্তকে পবিত্র করে

♦️মৃত ব্যক্তির জন্য দান করলে কী তার লাভ হয়?

সমাজে প্রচলিত আছে যে মৃত ব্যক্তির নামে দান-পুণ্য করলে সেই আত্মার উপকার হয়। কিন্তু বৈদিক দর্শনে কর্মফল ব্যক্তিগত। যে কর্ম করে, ফলও সেই পায়। মৃত ব্যক্তির জন্য অন্য কেউ কর্ম করলে তার ফল মৃতের কাছে পৌঁছায় না।
এই বিষয়ে মনুস্মৃতি বলা হয়েছে— কোঽনুভুঙক্তে সুকৃতমেক এব চ দুষ্কৃতম্।❞ [মনুস্মৃতি ৪/২৪০] অর্থাৎ জীব একাকীই নিজের সৎকর্মের ও দুস্কর্মের ফল ভোগ করে।

❝মা ব এনো অন্যকৃতং ভুজেম❞ [ঋগ্বেদ ৬.৫১.৭] অর্থাৎ আমরা অন্যের সঞ্চিত পাপের কর্মফল ভোগ করি না। ❝ পক্তারং পক্বঃ পুনরা দ ১২/৩/৪৮] অর্থ— মানুষ যেমন রন্ধন করে তেমনই ভক্ষণ করে।
“স বা অয়ং পুরুষো জায়মানঃ শরীরমভিসংপদ্যমানঃ পাপ্মভিঃ সংসৃজ্যতে স উৎক্রামন, ম্রিয়মাণঃ পাদ্মনো বিজহাতি।" [বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৪/৩/৮]
অনুবাদ: জীব জন্ম লইয়া শরীর প্রাপ্ত হয় এবং পাপভোগ করে এবং মোক্ষ অবস্থায় পাপের ভোগ হইতে মুক্ত হয়। এই মন্ত্রগুলোতে স্পষ্ট বোঝা যায়—যজ্ঞ, দান ও পুণ্যকর্মের ফল কর্তার কাছেই ফিরে আসে।

অতএব বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী, কোনো গৃহে মৃত্যু ঘটলে পূজা-পাঠ, সন্ধ্যা, যজ্ঞ, বেদপাঠ বা ঈশ্বরস্মরণ বন্ধ রাখা উচিত নয়। বরং সেই সময়েই মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ঈশ্বরের আশ্রয়, মানসিক শান্তি ও আত্মিক শক্তির।
নিত্যকর্ম কখনো পরিত্যাগযোগ্য নয়। যজ্ঞ, উপাসনা, ও দান মানুষের জীবনকে শুদ্ধ, দৃঢ় ও আলোকিত করে। তাই মৃত্যুজনিত শোকের সময় ধর্মীয় কর্ম থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়, বরং আরও বেশি ঈশ্বরনিষ্ঠ হওয়াই প্রকৃত বৈদিক আদর্শ।

মানুষের কর্তব্য হলো নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে চেষ্টা করে যাওয়া, কিন্তু ফলের অহংকার বা হতাশা নিজের কাঁধে বহন না করা। কারণ কর্...
24/05/2026

মানুষের কর্তব্য হলো নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে চেষ্টা করে যাওয়া, কিন্তু ফলের অহংকার বা হতাশা নিজের কাঁধে বহন না করা। কারণ কর্ম করার শক্তি, সুযোগ ও পথ — সবই ঈশ্বরের কৃপা। আমরা শুধু তাঁর ইচ্ছার ক্ষুদ্র সেবক। তাই নিজের ইচ্ছা, পরিশ্রম, ব্যর্থতা ও সফলতা সব ঈশ্বরের চরণে সমর্পণ করলে হৃদয় শান্ত হয়, অহংকার দূর হয় এবং জীবনে ভক্তির আলো জ্বলে ওঠে।
যখন মানুষ ভাবে “সব আমি করেছি”, তখন দুঃখ ও ভয় তাকে গ্রাস করে। কিন্তু যখন সে বলে “হে ঈশ্বর, আমি চেষ্টা করবো, ফল তুমি দাও”, তখন মন হালকা হয়ে যায়। কারণ ঈশ্বরই প্রকৃত ফলদাতা। তিনি জানেন কখন, কীভাবে এবং কতটুকু দিলে আমাদের মঙ্গল হবে।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—
“কর্মে তোমার অধিকার আছে, কিন্তু ফলের উপর কখনো নয়।”
— গীতা ২/৪৭
এই শিক্ষাই আমাদের বলে— কর্তব্য পালন করো, কিন্তু ফল ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দাও। কারণ আমরা তাঁর দাসের দাসানুদাস। তাঁর ইচ্ছাতেই জীবন সুন্দর হয়, তাঁর কৃপায় অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।। হরেকৃষ্ণ।।
।। জয় #শ্রীকৃষ্ণ।।

কৃষ্ণ ও গিরগিটি রূপে অভিশপ্ত রাজা নৃগ ♥️🙏🚩এই কাহিনি শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ-এ বর্ণিত রয়েছে।একবার শ্রীকৃষ্ণের পুত্ররা খেলত...
23/05/2026

কৃষ্ণ ও গিরগিটি রূপে অভিশপ্ত রাজা নৃগ ♥️🙏🚩

এই কাহিনি শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ-এ বর্ণিত রয়েছে।

একবার শ্রীকৃষ্ণের পুত্ররা খেলতে খেলতে একটি পুরোনো কুয়োর কাছে পৌঁছাল। তারা দেখল, সেই কুয়োর ভিতরে একটি বিশাল গিরগিটি আটকে আছে। অনেক চেষ্টা করেও তারা তাকে বাইরে বের করতে পারল না। তখন তারা শ্রীকৃষ্ণকে ডেকে আনল।

শ্রীকৃষ্ণ খুব সহজেই সেই গিরগিটিটিকে কুয়ো থেকে বাইরে তুললেন। ভগবানের স্পর্শ পাওয়া মাত্রই গিরগিটির রূপ বিলীন হয়ে গেল এবং সেখানে এক দিব্যপুরুষ প্রকাশ পেলেন। তিনি নিজের পরিচয় দিলেন রাজা নৃগ হিসেবে।

রাজা নৃগ ছিলেন অত্যন্ত দানশীল ও ধর্মপরায়ণ। তিনি হাজার হাজার গরু দান করেছিলেন। কিন্তু ভুলবশত একই গরু দুইজন ভিন্ন ব্রাহ্মণকে দান করা হয়ে যায়। এই নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সেই একটিমাত্র ভুলের কারণেই মৃত্যুর পরে তিনি গিরগিটির যোনি লাভ করেন।

রাজা নৃগ জানান যে তিনি বহু বছর ধরে সেই কুয়োর মধ্যে পড়ে ছিলেন। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্পর্শে তিনি মুক্তি লাভ করেন।

🌼 কাহিনির শিক্ষা 🌼

• ধর্মীয় কাজেও সতর্কতা অত্যন্ত প্রয়োজন।
• ছোট্ট একটি কর্মেরও ফল অবশ্যই ভোগ করতে হয়।
• ভগবানের কৃপায় সবচেয়ে বড় বন্ধনও দূর হতে পারে।
• দানের সঙ্গে ন্যায় ও সচেতনতাও সমানভাবে জরুরি।

এই কাহিনি খুব কম মানুষই জানেন, কিন্তু ভাগবত পুরাণে এটি বিস্তারে বর্ণিত হয়েছে এবং অত্যন্ত শিক্ষামূলক বলে মানা হয়। 🙏🦚✨

রাজা নৃগ সারাজীবন দান ও ধর্মের কাজ করেও একটি ছোট ভুলের কারণে কঠিন ফল ভোগ করেছিলেন। এই কাহিনি আমাদের শেখায় যে, শুধু ভালো কাজ করাই যথেষ্ট নয়—তার সঙ্গে সতর্কতা, ন্যায় ও দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণ-এর কৃপায় রাজা নৃগ মুক্তি লাভ করেন। ভগবানের স্পর্শ জীবনের সবচেয়ে কঠিন বন্ধনও দূর করতে পারে।

জয় শ্রীকৃষ্ণ! 🙏🦚

দ্বারকার রাজপ্রাসাদে একদিন দেবর্ষি নারদ মুনি আগমন করলেন। তাঁর হাতে বীণা, মুখে “নারায়ণ নারায়ণ” ধ্বনি, আর চোখে সেই চিরচে...
23/05/2026

দ্বারকার রাজপ্রাসাদে একদিন দেবর্ষি নারদ মুনি আগমন করলেন। তাঁর হাতে বীণা, মুখে “নারায়ণ নারায়ণ” ধ্বনি, আর চোখে সেই চিরচেনা রহস্যময় হাসি। রাজপ্রাসাদ আনন্দে ভরে উঠল।
হে প্রভু তোমার ঐ মুচকি হাসি এক মুহূর্তে যেন অনুভব করতে পারলাম হে প্রভু কোথায় তুমি কোথায় গেলে খুঁজে পাবো তোমাকে কোথায় কোথায়? 😔🥺
দ্বারকার রাজপ্রাসাদে একদিন দেবর্ষি নারদ মুনি আগমন করলেন। তাঁর হাতে বীণা, মুখে “নারায়ণ নারায়ণ” ধ্বনি, আর চোখে সেই চিরচেনা রহস্যময় হাসি। রাজপ্রাসাদ আনন্দে ভরে উঠল।সেই সময় সত্যভামা নারদের সামনে এসে প্রণাম করে মনের এক গোপন ইচ্ছার কথা জানালেন। তিনি বললেন—
“হে দেবর্ষি, আমি চাই জন্মে জন্মে, সাত জন্মেও যেন শ্রীকৃষ্ণ-কেই স্বামীরূপে পাই। কখনও যেন তাঁর থেকে বিচ্ছেদ না হয়। এর জন্য আমাকে কী করতে হবে?”
নারদ মুনি মুচকি হেসে বললেন—
“যদি তুমি তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস দান করতে পারো, তবে তোমার এই মনোবাসনা পূর্ণ হবে।”
সত্যভামা এক মুহূর্তও দেরি করলেন না। তাঁর কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। তাই তিনি সরল বিশ্বাসে কৃষ্ণকেই নারদের কাছে দান করে দিলেন।
নারদ তখন সত্যিই শ্রীকৃষ্ণের হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে চললেন। শ্রীকৃষ্ণ মুখে মৃদু হাসি নিয়ে সব দেখছিলেন। আর সত্যভামা হতবাক হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন—
“এ আপনি কী করছেন দেবর্ষি! আমি তো কৃষ্ণকে চিরদিনের জন্য পাওয়ার আশায় তাঁকে দান করেছিলাম। তাঁকে হারানোর জন্য নয়! তাঁকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও থাকতে পারব না!”
নারদ তখন বললেন—
“এর একটি উপায় আছে। যদি তুমি শ্রীকৃষ্ণের সমান ওজনের সোনা আমাকে দিতে পারো, তবে আমি তাঁকে ফিরিয়ে দেব।”
এই কথা শুনে সত্যভামা দ্রুত রুক্মিণী-র কাছে ছুটে গেলেন এবং সব ঘটনা খুলে বললেন।
রুক্মিণী বিস্মিত হয়ে বললেন—
“তুমি কি ভেবেছ, এই জগতে এমন কিছু আছে যা কৃষ্ণের সমান হতে পারে? তিনি তো সমগ্র সৃষ্টির অধীশ্বর!”
কিন্তু সত্যভামা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন—
“আমার কাছে অসংখ্য সোনা, রত্ন, অলঙ্কার আছে। নিশ্চয়ই আমি কৃষ্ণের ওজন সমান করতে পারব।”
দ্বারকার সভায় বিশাল দাঁড়িপাল্লা আনা হলো। একপাশে শ্রীকৃষ্ণকে বসানো হলো। অন্যপাশে সত্যভামা সোনা, হীরা, মুক্তো, রত্ন—ভারি ভারি বস্তা এনে রাখতে লাগলেন।
কিন্তু আশ্চর্য!
এত সোনা দিয়েও দাঁড়িপাল্লা একচুলও নড়ল না। শ্রীকৃষ্ণের দিকই ভারী রয়ে গেল।
সভায় নিস্তব্ধতা নেমে এলো। সত্যভামার চোখে জল। তাঁর অহংকার ধীরে ধীরে ভেঙে চূর্ণ হয়ে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন—ভগবানকে ধনসম্পদ দিয়ে পাওয়া যায় না।
তখন শান্ত স্বরে রুক্মিণী এগিয়ে এলেন। তিনি একটি ছোট্ট তুলসী পাতা হাতে নিলেন। সেই পাতায় ভক্তিভরে “কৃষ্ণ” নাম লিখে চোখ বুজে প্রার্থনা করলেন—
“হে প্রভু, যদি আমার প্রেম ও ভক্তি নিঃস্বার্থ হয়, তবে এই তুলসী পাতাই আপনার সমান হোক।”
এরপর তিনি সেই একটিমাত্র তুলসী পাতা দাঁড়িপাল্লায় রাখলেন।
মুহূর্তের মধ্যেই অলৌকিক ঘটনা ঘটল।
দাঁড়িপাল্লা সমান হয়ে গেল!
সভায় সবাই বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে রইল। দেবর্ষি নারদ হেসে উঠলেন। শ্রীকৃষ্ণও স্নিগ্ধ হাসিতে রুক্মিণীর দিকে তাকালেন।
সত্যভামা তখন বুঝলেন—ভগবানকে জয় করা যায় না ধন-সম্পদ, অহংকার বা ঐশ্বর্য দিয়ে। তাঁকে পাওয়ার একমাত্র পথ হল নিঃস্বার্থ প্রেম, ভক্তি ও সমর্পণ।
একটি ছোট্ট তুলসী পাতার মূল্য সারা পৃথিবীর সোনার থেকেও বেশি হয়ে উঠল, কারণ তার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল শুদ্ধ ভক্তি আর কৃষ্ণনাম।
এই কারণেই বলা হয়—
“ভগবান ধনে নয়, ভক্তিতে বশ হন।”
হরে কৃষ্ণ 🙏

22/05/2026

**
শুদ্ধ ভক্তের মুখে ভগবানের দিব্যনাম শ্রবন করে হৃদয়কে নির্মল করুন।
#ধর্ম
#হরে_কৃষ্ণ Part 7

Address

Kaliganj

Telephone

+911615526250

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when স্বধর্ম-self religion posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to স্বধর্ম-self religion:

Share