বাংলাদেশ ওয়ার্সী ফাউন্ডেশন

বাংলাদেশ ওয়ার্সী ফাউন্ডেশন এই পেজ আহলুল বাইত এবং তরিকা সম্পর্কিত

এগারোই জিলক্বদ: ইমাম আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আঃ)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনাভূমিকাইসলামের ইতিহাসে আহল...
29/04/2026

এগারোই জিলক্বদ: ইমাম আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আঃ)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা

ভূমিকা
ইসলামের ইতিহাসে আহলে বাইত (আঃ)-এর ইমামগণ শুধু আধ্যাত্মিক নেতা নন, তাঁরা জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। তাঁদের মধ্যে অষ্টম ইমাম, ইমাম আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আঃ), বিশেষভাবে খ্যাত তাঁর জ্ঞানগর্ভ ব্যক্তিত্ব, আন্তধর্মীয় সংলাপ এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার জন্য। তাঁর জন্মদিন মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণার দিন।

সংক্ষিপ্ত জীবনী
ইমাম রেজা (আঃ) ১৪৮ হিজরিতে মদিনা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন সপ্তম ইমাম ইমাম মুসা আল-কাজিম (আঃ) এবং মাতা ছিলেন সম্মানিতা নাজমা খাতুন।
শৈশব থেকেই তিনি অসাধারণ জ্ঞান, ধৈর্য ও আল্লাহভীতির পরিচয় দেন। পিতার শাহাদাতের পর তিনি ইমামতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মুসলিম সমাজে জ্ঞানচর্চা, আধ্যাত্মিকতা ও ন্যায়বিচারের প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন।
পরবর্তীতে তাঁকে জোরপূর্বক খোরাসান (বর্তমান ইরানের অংশ) নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি জীবনের শেষ সময় অতিবাহিত করেন এবং ২০৩ হিজরিতে শাহাদাত বরণ করেন।

ইমাম রেজা (আঃ)-এর বৈশিষ্ট্য ও অবদান
তিনি ছিলেন তাঁর যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ আলেম ও চিন্তাবিদদের অন্যতম
বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের পণ্ডিতদের সাথে যুক্তিসংগত বিতর্কে অংশগ্রহণ করতেন
তাঁর জীবন ছিল সহনশীলতা, দানশীলতা ও মানবিকতার প্রতিচ্ছবি
তিনি জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তুলেছিলেন

খলিফা মামুন আল-রশিদ কেন ইমাম রেজা (আঃ)-কে উত্তরসূরী ঘোষণা করেছিলেন
আব্বাসীয় খলিফা মামুনের এই পদক্ষেপ ছিল মূলত রাজনৈতিক কৌশল। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল:

১. মদিনা থেকে বিচ্ছিন্ন করা
ইমাম (আঃ)-এর জনপ্রিয়তা মদিনা-তে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তাঁর চারপাশে বিপুল সংখ্যক শিষ্য ও অনুসারী গড়ে উঠছিল। তাই তাঁকে কেন্দ্র থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া ছিল মামুনের একটি কৌশল।

২. নজরদারির সুবিধা
ইমামকে নিজের নিকটে রাখলে তাঁর ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখা সহজ হয়। এতে ইমামের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

৩. শিয়া সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি
যদি ইমাম (আঃ) উত্তরসূরীর পদ গ্রহণ করেন, তাহলে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মতবিরোধ সৃষ্টি হতে পারে—এমনটাই মামুনের পরিকল্পনা ছিল, যাতে আহলে বাইতের অনুসারীরা দুর্বল হয়ে পড়ে।

৪. বিতর্কের মাধ্যমে মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা
রাজদরবারে বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের পণ্ডিতদের সাথে ইমামের নিয়মিত বিতর্কের আয়োজন করা হতো। উদ্দেশ্য ছিল—যদি ইমাম পরাস্ত হন, তবে তাঁর সম্মান ক্ষুণ্ণ হবে। কিন্তু বাস্তবে ইমাম (আঃ) প্রতিটি বিতর্কে জ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমে বিজয়ী হন।

রাজদরবারে উপস্থিতি ও শিয়া মাযহাবের বিস্তার
ইমাম রেজা (আঃ)-এর উপস্থিতি খলিফার দরবারকে এক জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত করে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আলেম, দার্শনিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা এসে তাঁর সাথে আলোচনা করতেন।

এই উন্মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশে—

* শিয়া মতাদর্শ যুক্তিনির্ভরভাবে উপস্থাপিত হয়
* আহলে বাইতের শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়
* বহু মানুষ ইমামের জ্ঞান ও চরিত্র দ্বারা প্রভাবিত হন
ফলে, মামুনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আংশিকভাবে ব্যর্থ হয়ে যায় এবং বরং শিয়া মাযহাব আরও বিস্তৃত হতে থাকে।

ইমাম রেজা (আঃ)-এর পাঁচটি মূল্যবান হাদীস
ইমাম ইমাম আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আঃ)-এর বাণীগুলো শুধু নৈতিক শিক্ষা নয়, বরং আত্মশুদ্ধির বাস্তব পথনির্দেশনা।

১. «مَنْ حَاسَبَ نَفْسَهُ رَبِحَ»
নিজেকে প্রতিদিন যাচাই করা আত্মউন্নতির প্রথম ধাপ।
নিজের ভুল স্বীকার করলে সংশোধনের দরজা খুলে যায়।
এই অভ্যাস মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে এবং সফলতার দিকে নিয়ে যায়।

২. «الصَّمْتُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْحِكْمَةِ»
অপ্রয়োজনীয় কথা কমিয়ে দিলে অন্তরের গভীরতা বাড়ে।
নীরবতা মানুষকে চিন্তাশীল ও বিচক্ষণ করে তোলে।
এটি আত্মসংযম ও হিকমতের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

৩. «لَا يَكُونُ الْمُؤْمِنُ مُؤْمِنًا حَتَّى يَكُونَ فِيهِ ثَلَاثُ خِصَالٍ...»
সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা ও ধৈর্য—ইমানের ভিত্তি।
এই গুণগুলো ছাড়া বিশ্বাস পূর্ণতা পায় না।
এগুলো অর্জন করলে ব্যক্তি সমাজে বিশ্বস্ত ও সম্মানিত হয়।

৪. «صَدِيقُ كُلِّ امْرِئٍ عَقْلُهُ»
মানুষের সবচেয়ে বড় সহায়ক তার সুস্থ বুদ্ধি।
আবেগ নয়, বিবেক ও জ্ঞানই সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
বুদ্ধির সঠিক ব্যবহার আত্মশুদ্ধির শক্তিশালী হাতিয়ার।

৫. «أَفْضَلُ الْعِبَادَةِ انْتِظَارُ الْفَرَجِ»
কঠিন সময়েও আল্লাহর রহমতের আশা হারানো যাবে না।
ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা ঈমানের একটি উচ্চতর স্তর।
এটি মানুষকে হতাশা থেকে রক্ষা করে এবং আল্লাহর নিকটবর্তী করে।
এই বাণীগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করলে আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নতি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সহজ হয়।

উপসংহার
ইমাম আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আঃ)-এর জীবন আমাদের শেখায়—জ্ঞান, ধৈর্য ও সত্যের পথে অবিচল থাকা কখনো ব্যর্থ হয় না। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যেও তিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং মানবতার জন্য এক চিরন্তন দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
তাঁর জন্মবার্ষিকী আমাদের জন্য শুধু স্মরণ নয়, বরং তাঁর আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকার নবায়নের এক মহৎ সুযোগ।
আবাবিল গ্রুপ

ইবনে আবি শাইবা স্বীয় সূত্রে ইবনে মাসউদ হতে বর্ণনা করেছেন: ‘একদিন আমরা রাসূলের (সাঃ) নিকট বসেছিলাম।হঠাৎ বনী হাশিমের একদল ...
29/04/2026

ইবনে আবি শাইবা স্বীয় সূত্রে ইবনে মাসউদ হতে বর্ণনা করেছেন:

‘একদিন আমরা রাসূলের (সাঃ) নিকট বসেছিলাম।
হঠাৎ বনী হাশিমের একদল নারী-পুরুষ সেখানে আসল।
মহানবী তাদেরকে দেখামাত্রই কাঁদতে শুরু করলেন এবং তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেল।
সাহাবীরা প্রশ্ন করলেন : হে আল্লাহর রাসূল! কেন আপনার চেহারায় বিষণ্ণতা লক্ষ্য করছি?
তিনি বললেন : আমরা এমন এক বংশ যাদের আখেরাতকে আল্লাহ্ দুনিয়ার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। বেশি দূরে নয়, আমার আহলে বাইতের ওপর বিপদাপদ ও নির্বাসনের দুর্যোগ নেমে আসবে।’

সুত্রঃ আল মুসান্নিফ, ৮ম খন্ড, পৃ. ৬৯৭।

আলী ইবনে জাবির বলেন, ইমাম জাওয়াদ (আঃ)-এর নিকট ছিলাম। ইমামের একটি দুম্বা হারিয়ে যাওয়ায় জনগণ তাঁর এক প্রতিবেশীকে টেনে হেঁচ...
29/04/2026

আলী ইবনে জাবির বলেন, ইমাম জাওয়াদ (আঃ)-এর নিকট ছিলাম। ইমামের একটি দুম্বা হারিয়ে যাওয়ায় জনগণ তাঁর এক প্রতিবেশীকে টেনে হেঁচড়ে ইমামের কাছে নিয়ে এল। ইমাম বললেন : ‘তোমাদের কাণ্ড দেখে দুঃখ হয়! তাকে ছেড়ে দাও, সে দুম্বা চুরি করেনি। বর্তমানে দুম্বাটি অমুকের বাড়িতে আছে যাও, ওটাকে নিয়ে এস।
ইমাম যার কথা বলেছিলেন ঠিক সে বাড়িতেই দুম্বাটি পাওয়া গেল। ইমাম কর্তৃক আদিষ্টরা বাড়ীর মালিককে চুরির দায়ে মার-ধোর করল এবং তার জামা কাপড় ছিড়ে ফেলল। কিন্তু বাড়ীওয়ালা শপথ করে বলল যে, সে দুম্বা চুরি করেনি। তাকে ইমামের কাছে ধরে আনল।
ইমাম বললেন : তোমাদের জন্য আফসোস হয়! তোমরা ঐ ব্যক্তির উপর অত্যাচার করেছ। দুম্বাটি নিজেই ঐ ব্যক্তির ঘরে ঢুকে পড়ে এবং সে খবরই জানত না।
ফলে ইমাম ঐ ব্যক্তিকে তুষ্ট করার জন্য এবং ক্ষতিপূরণস্বরূপ তাকে কিছু স্বর্ণ মুদ্রা দান করলেন।

বিহারুল আনওয়ার, ৫০তম খণ্ড, পৃ. ৪৭।

'মানুষের জীবন শৃঙ্খলা সম্পর্কে ইমাম আলী (আঃ) এর উপদেশ বা দিক-নির্দেশনা'পৃথিবীতে মানুষের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে এক...
29/04/2026

'মানুষের জীবন শৃঙ্খলা সম্পর্কে ইমাম আলী (আঃ) এর উপদেশ বা দিক-নির্দেশনা'

পৃথিবীতে মানুষের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হলো অব্যাহত কর্মচাঞ্চল্য, এটা মানুষের ব্যক্তিজীবনের অবশ্যম্ভাবী একটি প্রয়োজনীয়তা। ইমাম আলী (আঃ) মানুষের অস্তিত্বের স্বরূপ সম্পর্কে গভীরভাবে দৃষ্টি রাখেন। এক্ষেত্রে তিনি আরেকটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে মনে করেন। সেটা হলো মানুষের জীবনটাকে যথার্থ ও সঠিকভাবে যাপন করার জন্যে প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলা। যেই শৃঙ্খলা তাকে উন্নতি ও সৌভাগ্যের পথে নিয়ে যায়। হযরত আলী (আঃ) এর মতে মানুষের উচিত তার সময়ের একটা অংশ জীবনের কল্যাণমূলক বিষয়গুলোর জন্যে ব্যয় করা এবং আরেকটি অংশ ব্যয় করা উচিত মানসিক স্বস্তি ও আত্মিক প্রশান্তির জন্যে। ইমাম আলী (আঃ) এর মতে মানুষের উচিত তার জীবনের একটা সময় জীবনের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো নিশ্চিত করার জন্যে ব্যয় করা এবং অপর একটা সময় ব্যয় করা উচিত আত্মিক শান্তি এবং মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করার জন্যে। আর এ প্রশান্তির ব্যাপারটি একমাত্র ইবাদাত-বন্দেগী বা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমেই কেবল অর্জিত হয়।
মানুষের সময়ের তৃতীয় অংশটি তার শারীরিক এবং মানসিক শক্তি লালনের জন্যে ব্যয় করা উচিত যাতে তার জীবনের জন্যে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পাদনের শক্তি লাভ করতে পারে। হযরত আলী (আঃ) এ সম্পর্কে বলেন,মুমিন জীবনের কর্মপরিকল্পনায় তিনটি সময় সুনির্দিষ্ট আছে। একটা হলো তার স্রষ্টার ইবাদাত-বন্দেগির সময়। দ্বিতীয় সময়টা হলো যখন সে তার জীবনযাপন ব্যয় নিশ্চিত করার জন্যে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালায় আর তৃতীয় সময়টা হলো তার সৎ আনন্দগুলো আস্বাদনের সময়। আজকের আলোচনায় আমরা ইমাম আলী (আঃ) এর বক্তব্যের তৃতীয় অংশটার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেবো-যেখানে তিনি জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ ও সুস্থ বিনোদনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দুঃখজনকভাবে বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ দৈনন্দিন জীবন সমস্যায় এতো বেশি জর্জরিত যে,নিজের দিকে তাকাবার সময় খুব কমই মেলে। যার ফলে আমরা লক্ষ্য করবো যে মানুষ তার নিজের সম্পর্কে মানুষ উদাসীনতায় ভোগে।

আমরা লক্ষ্য করবো যে, এই উদাসীনতার পরিণতিতে ব্যক্তির মাঝে অশান্তি-হতাশা-বিষাদগ্রস্ততা-মানসিক অবসাদ এমনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, এগুলো থেকে মুক্তির জন্যে সে ভুল চিত্তবিনোদনের পথ বেছে নিচ্ছে-যা তার চিন্তা-চেতনায় ডেকে আনছে নিরন্তর অবক্ষয়। আলী (আঃ) মানুষের এই চিন্তা-চেতনাগত অবক্ষয় রোধকল্পে আভ্যন্তরীণ বা আত্মিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সুস্থ বিনোদনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন সুস্থ বিনোদনের জন্যে বই পড়া যেতে পারে যে বই মানুষের মনের খোরাক দেয়,আত্মিক এবং চিন্তাগত উৎকর্ষ সাধন করে। তিনি বলেছেন,জ্ঞান ও প্রজ্ঞাময় এবং নতুন অভিনতুন বিষয়বস্তুর মাধ্যমে নিজেদের অন্তরগুলোকে বিনোদিত করো,কেননা মনও শরীরের মতো ক্লান্ত হয়ে যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভিমত হলো,মানুষের জন্যে একঘেঁয়ে কাজ বা একঘেঁয়ে জীবন বিরক্তিকর এবং তা মানুষের শরীরকে অক্ষম করে তোলে। সেজন্যেই মানুষের উচিত হলো স্বাভাবিক ও একঘেঁয়ে জীবনের ছন্দে মাঝে মাঝে কিছুটা পরিবর্তন বা বৈচিত্র্য আনা। যেমন মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যগুলো দেখার জন্যে ভ্রমণ করা বা এসবের ওপর পড়ালেখা করা। এগুলো অন্তরকে প্রশান্ত করে,সতেজ করে। খেলাধুলাও চমৎকার একটি বিনোদন-মাধ্যম। ইসলামে খেলাধুলার ব্যাপারে বলা হয়েছে খেলাধুলা শারীরিক শক্তি-সামর্থ বৃদ্ধি করা ছাড়াও মানসিক আনন্দেরও একটি মাধ্যম।
ইসলামে মানুষের সুস্থতা রক্ষার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই লক্ষ্য করা যাবে ঐশী শিক্ষা মানুষের জন্যে প্রাণদায়ী। যেমন রোযা অসুস্থ ব্যক্তির ওপর হারাম। একইভাবে মাদক যেহেতু মানুষের শরীর মনের জন্যে খুবই ক্ষতিকর এবং জীবন চলার পথকে স্থবির কিংবা একবারে বন্ধই করে দেয় সেজন্যে ইসলাম মাদকদ্রব্যের ব্যাপারে তিরষ্কৃত এমনকি ভর্ৎসনা করা হয়েছে। মানুষের মনোদৈহিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে ইমাম আলী (আঃ) ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, বিমর্ষ বা মাতাল ব্যক্তিদের ওপর আস্থা রেখো না। তিনি মুমিনদেরকে সুস্থ-সবল দেহের অধিকারী হবার জন্যে অনুপ্রাণিত করেছেন! আলী (আঃ) নিজেও ছিলেন আধ্যাত্মিক শক্তির বাইরেও সুস্থ-সবল দেহের অধিকারী। নবীজীর যে-কোনো আদেশ পালনের জন্যে তিনি ছিলেন পরিপূর্ণভাবে সক্ষম।

মুমিনদের জীবন-বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন,উপযুক্ত নয় যে এই তিনটি কাজের বাইরে বিচক্ষণেরা আরো কোনো কাজ করবে। জীবনের শৃঙ্খলা বিধানের জন্যে অর্থনৈতিক কাজকর্ম আঞ্জাম দেওয়া, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড তথা আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগি করা এবং পাপহীন চিত্তবিনোদন করা।

ইসরাঈল প্রতিষ্ঠায় সা‘উদী রাজতন্ত্রের ভূমিকা - ০২(গত কিস্তির পর)ফিলিস্তিন দখলে সম্মতিঃফিলিস্তিনে ইয়াহূদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠ...
29/04/2026

ইসরাঈল প্রতিষ্ঠায় সা‘উদী রাজতন্ত্রের ভূমিকা - ০২

(গত কিস্তির পর)

ফিলিস্তিন দখলে সম্মতিঃ
ফিলিস্তিনে ইয়াহূদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সম্মতি প্রদানকারী প্রথম আরব শাসক হচ্ছেন ‘আবদুল ‘আযীয ইবনে সা‘ঊদ। তেমনি ইয়াহূদী সরকারের প্রতিষ্ঠায় অংশীদার ও তাকে সাহায্যকারী প্রথম আরব শাসকও তিনিই। তাছাড়া তিনিই প্রথম শাসক যিনি ফিলিস্তিন বিপ্লবকে শান্ত ও অকেজো করে দেন। আমাদের এ বক্তব্য কোনো অতিরঞ্জিত বক্তব্য নয়। বরং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনা ও বিভিন্ন অকাট্য দলীল পর্যালোচনা করলে এ উপসংহারেই উপনীত হতে হয়।

বৃটিশদের ফিলিস্তিন দখলে অভিনন্দনঃ
তুরস্কের ‘উছ্মাানী সরকার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হয়ে তার শাসনাধীন আরব ভূখণ্ডসমূহ সাম্রাজ্যবাদী বৃটেনের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯১৭ খৃস্টাব্দের ১০ই ডিসেম্বর জেনারেল এ্যালেনবীর নেতৃত্বে বৃটিশ সেনাবাহিনীর একটি দল কুদ্স্ শহরে (অর্থাৎ বায়তুল মুকাদ্দাসে) প্রবেশ করে। এ সময় জেনারেল এ্যালেনবী সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন : “আজকে ক্রুসেড যুদ্ধ শেষ হলো।” (النفط و الاستعمار و الصهيونية: جاسم المطير، ص ۲۹)
এর কয়েক মাস পরে বৃটিশ বাহিনী উত্তর দিকে অভিযান চালিয়ে ইরাকী ভূখণ্ডের বিরাট এলাকা – মুছ্বেল্, কারকুক্ ও আরো অনেক এলাকা - দখল করে নেয়। এভাবে বৃটেন ফিলিস্তিন ও ইরাকের ওপর স্বীয় পূর্ণাঙ্গ ও প্রত্যক্ষ আধিপত্য চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এ সব ব্যাপারে ‘আবদুল ‘আযীযের প্রতিক্রিয়া কী ছিলো?
ইতিপূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি যে, ‘আবদুল ‘আযীয সব সময় স্বীয় আধিপত্যাধীন ভূখণ্ডের সম্প্রসারণ ও বৃটিশ সাহায্যের প্রবাহ অব্যাহত রাখার পিছনেই ব্যস্ত ছিলেন এবং বৃটিশদের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব নষ্ট হতে পারে এমন কোনো কিছু করতে মোটেই আগ্রহী ছিলেন না। এ কারণেই, বেলফোর ঘোষণা নামে সমধিক পরিচিত ১৯১৭ খৃস্টাব্দের ১২ই অক্টোবরের ঘোষণায় বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনে ইয়াহূদীদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন আমরা তার বিরুদ্ধে ‘আবদুল ‘আযীযকে কোনোরূপ প্রতিবাদ করতে দেখি না।

‘আবদুল ‘আযীযের এ ভূমিকার সপক্ষে যে ব্যক্তি যে ছাফাই গাওয়ার চেষ্টাই করুক না কেন এবং বেলফোর ঘোষণার প্রতি ‘আবদুল ‘আযীযের উদাসীনতা প্রদর্শনের পিছনে বৃটিশদের সাহায্য অব্যাহত রাখার চিন্তা বা অন্যবিদ ব্যস্ততা যা-ই থাকুক না কেন, তা তাঁর অন্তরে বিন্দুমাত্রও আরব-প্রীতি বা দ্বীন-প্রীতি ছিলো বলে প্রমাণ করে না। কারণ, সত্য সম্পর্কে নীরবতা হচ্ছে বোবা শয়ত্বানের লক্ষণ। অবশ্য তাঁর নীরবতাকে নির্দোষ প্রমাণের যে প্রচেষ্টা চালানো হয় সে প্রসঙ্গেই আমরা এ কথা বলতে পারি। কিন্তু আমরা যদি তাঁর এ নীরবতার তাৎপর্য অনুসন্ধান করি তাহলে বলতে বাধ্য যে, তাঁর এ নীরবতার মানে হচ্ছে প্রভুর কাজের প্রতি সেবাদাসের সম্মতি প্রদান।
‘আবদুল ‘আযীয যদি নিজেকে মুসলমান বলে মনে করতেন এবং স্বীয় দ্বীনী চিন্তা-বিশ্বাস প্রসারে আগ্রহী হতেন তাহলে কেন তিনি এ ঘৃণ্য বেলফোর ঘোষণার বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করেন নি?

এটা অনস্বীকার্য যে, তুরস্কের আত্মসমর্পণের পর বৃটেন কর্তৃক আরব দেশসমূহ দখল করে নেয়ার মোকাবিলায় ‘আবদুল ‘আযীয যে ভূমিকা পালন করেন তাকে চরম লজ্জাজনক, ঘৃণ্য এবং বিশ্বাসঘাতকতা বললে খুব কমই বলা হবে।

বস্তুতঃ বৃটিশদের সাহায্যের লক্ষ্যে তুরস্ক সরকার ও তার বন্ধুদের মোকাবিলায় গৃহীত ‘আবদুল ‘আযীযের ভূমিকা এবং বৃটেন কর্তৃক তুর্কী সাম্রাজ্য দখল করে নেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকাকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা যদি তাঁর এ ভূমিকাকে উপেক্ষাও করি তো বৃটিশরা আমাদের আরব ও মুসলিম ভূখণ্ড দখল করে নিয়ে উপনিবেশে পরিণত করার পর ‘আবদুল ‘আযীয যে তাতে সায় দেন এবং এ জন্য বৃটিশ সরকারকে অভিনন্দন জানান সে ঘটনাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা চলে না।

অতঃপর ১৯১৯ সালে বাদশাহ্ ‘আবদুল ‘আযীযকে বৃটেন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু তখন (ইখওয়ানের সাথে বিরোধ শুরু হবার কারণে) তিনি খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলেন না। কারণ, তখন মুশরিকদের দেশে সফরে গেলে গণ-অসন্তোষ সৃষ্টি হবার আশঙ্কা ছিলো। এ কারণে তিনি নিজে সফরে না যাওয়াকেই অগ্রাধিকার প্রদান করেন। তবে আরব ভূখণ্ডসমূহ দখল ও উপনিবেশে পরিণত করার ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য বৃটিশ সরকারকে অভিনন্দন জানানোর লক্ষ্যে তিনি তাঁর পুত্র ফায়ছ্বালকে জন্ ফিলবীর সাথে বৃটেনে পাঠান। এভাবে কার্যতঃ তিনি আমাদের দেশ দখলের সময় বৃটিশ উপনিবেশবাদীরা যে বলেছিলো “আমরা মুক্তিসেনা হিসেবে এসেছি” - সে কথাকেই স্বীকৃতি দিলেন। [এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য صلاح الدين منجد লিখিত فيصل بن عبد العزيز গ্রন্থ দ্রষ্টব্য। এছাড়া দেখুন بنو اميشان লিখিত فيصل গ্রন্থের পৃঃ ৩৭-৩৮।]

কিন্তু দখলদার শক্তির প্রতি ‘আবদুল ‘আযীযের সহায়তা এটাই প্রথম নয়। কারণ, একইভাবে, ১৯১৬ খৃস্টাব্দে বৃটিশরা ইরাক দখল করে নিলে তখনও তিনি বৃটিশ হাই কমিশনকে টেলিগ্রাম করে বিজয়ের জন্য বৃটিশ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।

যা-ই হোক, এ ব্যাপারে ‘আবদুল ‘আযীয যে ভূমিকা পালন করেন অন্তরে বিন্দুমাত্রও দেশপ্রেম নিহিত আছে এমন কোনো ব্যক্তির পক্ষেই (তা তিনি বাদশাহ্ হোন বা অন্য কিছুই হোন) তা পালন করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি না। তাই প্রশ্ন জাগে, যালেম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি কর্তৃক ফিলিস্তিন দখলের পরিপ্রেক্ষিতে, তা-ও এমন এক সময় যখন ঐ ভূখণ্ডের জনগণ এ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলো, তখন একটি মুসলিম ভূখণ্ডের শাসকের পক্ষ থেকে দখলদারকে অভিনন্দন জানানোর কী ব্যাখ্যা হতে পারে?

‘আবদুল ‘আযীয ইবনে সা‘ঊদ ফিলিস্তিনকে বৃটিশ উপনিবেশে পরিণত করার ব্যাপারে সম্মতি প্রদান করে এবং বেলফোর ঘোষণার ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করে পরোক্ষভাবে ফিলিস্তিনকে ইয়াহূদীদের হাতে সমর্পণে সম্মতি প্রদান করেন। কিন্তু তাঁর ভূমিকা এখানেই শেষ নয়। বরং তিনি স্বহস্তে লিখিতভাবেই ফিলিস্তিনকে ইয়াহূদীদের হাতে সমর্পণে সম্মতি প্রদান করেন।
আমরা এ দলীলটির বক্তব্য উদ্ধৃত করবো কি করবো না এ ব্যাপারে প্রথমে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছিলাম (যদিও প্রামাণ্য ঐতিহাসিক গ্রন্থ থেকেই আমরা এটি গ্রহণ করেছি)। কারণ, এটিকে সা‘ঊদী-বিরোধী প্রচারণা বলে দাবী করা হতে পারে এবং আমাদের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন প্রামাণ্য গ্রন্থ পর্যালোচনা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এটি স্বয়ং ‘আবদুল ‘আযীযেরই লেখা। আমরা তাঁর হাতে লেখা অপর একটি পত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট দলীলটি মিলিয়ে উভয় লেখার মধ্যে হস্তাক্ষরের অভিন্নতা লক্ষ্য করেছি বিধায় দলীলটিকে উদ্ধৃত করার উপযোগী বলে মনে করেছি। এ কারণেই আমরা ‘আবদুল ‘আযীয ইবনে সা‘ঊদ কর্তৃক ইয়াহূদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সম্মতি প্রদান সম্পর্কিত এ প্রথম দলীলটিকে সঠিক বলে মনে করছি এবং এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করছি।

অবশ্য আমরা পাঠক-পাঠিকাদেরকে বলছি না যে, তাঁরা আমাদের কথাকে চোখ বুঁজে মেনে নিন। বরং তাঁরাও অত্র গ্রন্থে (মূল আরবী গ্রন্থে) সংযোজিত এ পত্র দু’টির ফটোতে উভয় পত্রের হস্তাক্ষর পরস্পর মিলিয়ে দেখতে পারেন।

নূর হোসেন মজিদি
(চলবে)

কোরআন মজীদের দৃষ্টিতে ছ্বাহাবী ও রাসূলুল্লাহর (সাঃ) যুগের মুনাফিক্ব - ২(গত কিস্তির পর)এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত সূক্ষ্ম দৃ...
29/04/2026

কোরআন মজীদের দৃষ্টিতে ছ্বাহাবী ও রাসূলুল্লাহর (সাঃ) যুগের মুনাফিক্ব - ২

(গত কিস্তির পর)
এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখার প্রয়োজন আছে। তা হচ্ছে, “মা‘ছূম্” একটি পরিভাষা; ওপরে যে অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে সে অর্থেই নবী-রাসূলগণ (আঃ) ও আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ হতে মনোনীত ইমামগণ (আঃ) মা‘ছূম ছিলেন। নচেৎ শব্দটি যদি অক্ষরিকভাবে “নিষ্পাপ” অর্থে গ্রহণ করা হয় তাহলে গুনাহ্ করার ক্ষমতা আছে এমন কাউকেই জীবদ্দশায় মা‘ছূম বলে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।

যদিও নবী-রাসূলগণ (আঃ) ও আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে মনোনীত ইমামগণ (আঃ) গুনাহ্ করার ক্ষমতা ও এখতিয়ারের অধিকারী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের অবস্থার আলোকে এটা সুস্পষ্ট যে, বাস্তবে তাঁদের পক্ষে গুনাহ্ করার সম্ভাবনা ছিলো এতোই ক্ষীণ যে, তা শতাংশের ভগ্নাংশেও প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তথাপি যেহেতু তাঁরা এ ব্যাপারে অক্ষম ছিলেন না সেহেতু প্রচলিত পারিভাষিক অর্থে তাঁরা অবশ্যই মা‘ছূম ছিলেন এবং তাঁরা যে বেহেশতে যাবেন এ ব্যাপারে মানুষের পক্ষে সন্দেহ করার বিন্দুমাত্র কারণ ছিলো না, বরং নির্দ্বিধায় বলা সম্ভব যে, তাঁরা অবশ্যই বেহেশতে যাবেন এবং বেহেশতবাসীদের মধ্যে অগ্রবর্তী হবেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও স্বয়ং আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে তাঁদেরকে নিঃশর্তভাবে বেহেশতী হিসেবে অগ্রিম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া সম্ভবপর ছিলো না।

বিষয়টি মানুষের আচরণ থেকে দৃষ্টান্তের মাধ্যমেও অনুধাবন করা যেতে পারে। তাঁদের ‘ইছমাতের দৃষ্টান্ত হচ্ছে অত্যন্ত উন্নত রুচিবোধসম্পন্ন ব্যক্তির ন্যায় যিনি চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায়ও ফুটপাতের দোকানের খোলা খাবার খান না। এহেন ব্যক্তি যদি এমন অবস্থার মুখোমুখি হন যে, ক্ষুধার কারণে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন এবং সেখানে খাবার মতো কিছুই নেই এমতাবস্থায় তিনি যদি কোথাও মানুষের মল পেয়ে যান এবং জানেন যে, তাতে পুষ্টি আছে বলেই কুকুর তা খায়, সুতরাং তা খেয়ে জীবন বাঁচানো সম্ভব, তথাপি তিনি তা খেয়ে জীবন বাঁচাবেন এমন সম্ভাবনা বিন্দুমাত্রও আছে বলে আমরা মনে করি না। কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে ও আক্ষরিকভাবে তাঁর পক্ষে তা খাওয়া অসম্ভব বলা যাবে না। সুতরাং এ বিষয়টির ওপরে কোনো বুদ্ধিমান মানুষ বাযী (যেমন : বিলিয়ন ডলারের) ধরবেন না।

আর সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে মা‘ছূম্ ব্যক্তিগণকে (আঃ) তাঁদের জীবদ্দশায় বেহেশতী বলে অভিহিত করা ও আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদেরকে বেহেশতের প্রতিশ্রুতি না দেয়ার উপমা হচ্ছে একজন ব্যতিক্রমী প্রতিভাবান ছাত্রের ন্যায় যার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক ও আশেপাশের লোকদের সকলেরই নিশ্চয়তার সাথে জানা আছে যে, বরাবরের মতো আগামী পরীক্ষায়ও সে প্রথম হবে এবং নতুন ক্লাসে তার ক্রমিক নম্বর হবে “এক”, তাই তারা নিশ্চয়তার সাথে বলে যে, আগামী বছরের ক্লাসে সে-ই “প্রথম ছাত্র”, তথাপি স্কুলের প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা গ্রহণ সমাপ্ত হবার আগে পরবর্তী বছরের ছাত্রহাযিরা খাতায় তার নাম প্রথম ক্রমিকে তুলে রাখবেন না। কারণ, তা করলে ঐ ছাত্রের পক্ষে আলসেমি বা দুষ্টামি করে হলেও পরীক্ষা দেয়া হতে বিরত থাকা অসম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের উক্ত কাজ হবে তাঁর পদমর্যাদার অনুপযোগী একটি ভ্রান্ত পদক্ষেপ।

একইভাবে নবী-রাসূলগণ সহ মা‘ছূম্ ব্যক্তিগণকে (আঃ) যদি তাঁদের জীবদ্দশায় বেহেশতের সুসংবাদ দেয়া হতো তাহলে তাঁদের পক্ষে মানুষের মধ্যে নিহিত নিরঙ্কুশ স্বাধীনতার ঐশী গুণের ব্যবহার করে আল্লাহ্ তা‘আলার নাফরমানী করে বসা অসম্ভব হতো না। আর যেহেতু আল্লাহ্ তা‘আলা ওয়াদার বরখেলাফ করেন না সেহেতু নাফরমানী করলেও তাঁদেরকে বেহেশতে নিতে হতো। কিন্তু কোনো নবী গুনাহর কাজ করলে বান্দাহদের জন্য আল্লাহ্ তা‘আলার হুজ্জাত পূর্ণ হতো না, কারণ, মুখলিছ লোকদের পক্ষেও এ ধরনের নবীর নবুওয়াতের ব্যাপারে ইয়াক্বীনের অধিকারী হওয়া সম্ভব হতো না। তাই, এ কালের পরিভাষায় বলা যেতে পারে যে, আল্লাহ্ তা‘আলা কোনো নবীকে ব্লাঙ্ক চেক্ দেন নি। তাহলে তা দশজন ছ্বাহাবীকে কী করে দেয়া হতে পারে?

এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছে যে, ইসলামের সকল ধারার হাদীছ-গ্রন্থে বর্ণিত হাদীছ্ অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) যে হযরত ফাত্বেমাহ্ (সালাামুল্লাহ্ আলাইহা) কে “বেহেশতে নারীদের নেত্রী” এবং হযরত ইমাম হাসান্ ও হযরত ইমাম হোসেন (আঃ)কে “বেহেশতে যুবকদের নেতা” বলে উল্লেখ করেছেন তার ব্যাখ্যা কী?

এর ব্যাখ্যাও ওপরের আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট। এটা স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক ও আশেপাশের লোকদের পক্ষ থেকে পরীক্ষার আগেই কোনো ছাত্রকে পরবর্তী ক্লাসের “প্রথম ছাত্র” হিসেবে উল্লেখ করার ন্যায় আক্ষরিকভাবে ও সন্দেহাতীতভাবে সত্য, তবে তাতে “ঠিকভাবে পরীক্ষা দেয়া সাপেক্ষে” শর্তটি উহ্য থাকে এবং এর মানে এ নয় যে, প্রধান শিক্ষক তার নাম পরীক্ষা সমাপ্ত হবার আগেই পরবর্তী বছরের ছাত্র-হাযিরা খাতায় তুলে রেখেছেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি যে, আমি হাদীছের বিরোধী নই; বরং যারা নিঃশর্তভাবে সমস্ত হাদীছই প্রত্যাখ্যান করে তাদের বিরুদ্ধে আমি লিখেছি এবং তা পত্রপত্রিকায় ছাপাও হয়েছে। কিন্তু আমার বক্তব্য এই যে, প্রচলিত হাদীছ-গ্রন্থ সমূহ হযরত রাসূলে আকরামের (সাঃ) ইন্তেকালের দুই শতাধিক বছর পরে সংকলন করা হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে মুখে মুখে বহু স্তরে একেকটি হাদীছ বর্ণিত হয়ে এরপর সংকলক পর্যন্ত পৌঁছেছে। সংকলকগণ নিজেরাও মিথ্যা হাদীছের অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন এবং তাঁরা যে সব হাদীছ সংগ্রহ করেছেন সেগুলোর মধ্য থেকে হাযার হাযার হাদীছকে মিথ্যা, বিকৃত, পরিবর্তিত ও দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের হাদীছ-সংকলন সমূহে স্থান দেয়া হতে বিরত থাকেন। এমতাবস্থায় তাঁরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যে সব হাদীছকে ছহীহ্ মনে করে তাঁদের সংকলনে স্থান দিয়েছেন সে সবের মধ্যেও বহু জাল ও বিকৃত হাদীছ থেকে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কারণ, তাঁরা নবী-রাসূল ও ওয়াহীপ্রাপ্ত ছিলেন না এবং নবী-রাসূলগণের (আঃ) ন্যায় মা‘ছূম ছিলেন না। সুতরাং তাঁরা আমাদের মতোই গুনাহ্ ও ভুলের উর্ধে ছিলেন না যে, তাঁদের কাজ অবশ্যই নির্ভুল হবে।

অন্যদিকে মুসলমান হওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহর (সাঃ) ওপর ঈমান্ আনা শর্ত, ঐ ব্যক্তিদের ওপর ঈমান্ আনা শর্ত নয়। তেমনি যদিও রাসূলুল্লাহর (সাঃ) দ্বীন ও শরী‘আত্ সংশ্লিষ্ট এবং আদর্শিক, শিক্ষামূলক ও তথ্যমূলক যে কোনো কথাই ওয়াহী (মাত্লূ বা গ্বায়রে মাত্লূ) হিসেবে মেনে নেয়া যরূরী, কিন্তু তাঁর কথা হিসেবে দাবী করে বলা হয়েছে অন্য লোকদের এ ধরনের যে কোনো কথাকেই তাঁর কথা বলে মেনে নেয়া একটি ভ্রান্ত ও অসতর্ক কর্মনীতি এবং তা দ্বীন ও ঈমানের জন্য খুবই ঝুঁকির ব্যাপার। তাই খাবারে ওয়াাহেদ্ অর্থাৎ কোনো-না-কোনো স্তরে, বিশেষ করে প্রথম দিককার কোনো স্তরে কম সূত্রে বর্ণিত হাদীছ অবশ্যই কেবল চার অকাট্য দলীলের (সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধি, কোরআন মজীদ, মুতাওয়াাতির্ হাদীছ ও প্রথম যুগ থেকে সমগ্র উম্মাহর মতৈক্যভিত্তিক আচরণ ও মতের) কোনোটির সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া সাপেক্ষে শুধু প্রায়োগিক ও গৌণ (মুস্তাহাব্ ও মাকরূহ্) বিষয়াদিতে গ্রহণযোগ্য।

নূর হোসেন মজিদি
(চলবে)

রাসুলের (সাঃ) আহলে বায়েতের প্রতি শত্রুতার বিষয়ে সতর্কীকরন১। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আমার পরে ইমাম হবে ১২জন, এদের মধ্যে ৯...
29/04/2026

রাসুলের (সাঃ) আহলে বায়েতের প্রতি শত্রুতার বিষয়ে সতর্কীকরন

১। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আমার পরে ইমাম হবে ১২জন, এদের মধ্যে ৯জন হবে হোসাইনের (আঃ) বংশ (ঔরস) থেকে এবং তাদের ৯ম জন হল 'ক্কায়েম' (অর্থাত ইমাম মাহদী আঃ)। সুসংবাদ তাদের জন্য যারা তাদেরকে ভালবাসবে এবং দুর্ভোগ তাদের যারা তাদের সাথে শত্রুতা করবে। (কিফায়াতুল আসারঃ ৩০)।

২। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ যদি কোন বান্দা 'সাফা' ও 'মারওয়া'র মাঝে ১০০০ বছর ইবাদাত করে- এরপর আরো ১০০০ বছর এবং এরপর আরো ১০০০বছর (ইবাদাত করে), কিন্তু আমাদের প্রতি ভালবাসা না থাকে, তাহলে আল্লাহ তাকে উপুড় করে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবেন। তারপর তিনি (সাঃ) এই আয়াতটি পাঠ করলেনঃ "বল, 'আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন পুরস্কার চাই না-শুধু (আমার) নিকটতম আত্নীয়দের জন্য গভীর ভালবাসা ছাড়া"
(তারিখু দামেস্ক-তারজুমাতে ইমাম আলী (আঃ)- ১/১৩২/১৮২ (সুরা শুরা- ২৩)।

৩। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ শুধু অপবিত্র (অবৈধ) জন্মের সন্তানরাই আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে।
(আমালী আস-সাদুকঃ ৩৮৪/১৪; আল-ফাক্কীহ-১/৯৬/২০৩) ।

আহলে বায়েতের (আঃ) শাসনের ক্ষেত্র প্রস্তুতকারীগনঃ

ইমাম আস-সাদিক (আঃ) বলেনঃ মহান আল্লাহর এ কথা- “আমরা তোমাদের বিরুদ্বে জাগ্রত করেছিলাম আমাদের দাসদেরকে যাদের শক্তি ছিল বিরাট এবং তারা (তোমাদের) বাড়িঘরের ভিতর পর্যন্ত তছনছ করেছিল (সুরা বনী ইস্রাইল-৫)”-সম্পর্কে বলেনঃ আল ক্কায়েম (ইমাম মাহদী আঃ)- এর আত্নপ্রকাশের আগে আল্লাহ এ জাতির পুরুথথান ঘটাবেন; আলে মুহাম্মাদের ওপর অত্যাচার করেছে এমন কাউকেই তাঁরা হত্যা না করে ছাড়বে না।

ইমাম জাফর আস-সাদিক (আঃ) বলেন-“শীঘ্রই কুফা বিশ্বাসীশুন্য (মু’মিন হতে শুন্য) হয়ে যাবে এবং এটি এমনভাবে জ্ঞান-শুন্য হয়ে যাবে যেভাবে সাপ তাঁর গর্তে লুকিয়ে যায়। এরপর জ্ঞান এমন এক শহরে প্রকাশিত হবে যার নাম হবে ‘কোম’ এবং এ শহরটি হবে জ্ঞান ও কল্যানের খনি, যতক্ষন পর্যন্ত না এ পৃথিবীর উপরে ধর্মীয় ক্ষেত্রে দুর্বল একজনও জ্ঞান লাভ করা থেকে অবশিষ্ট না থাকে- এমন কি পর্দার আড়ালে থাকা নারীরাও। এ সব কিছু ঘটবে আমাদের ক্কায়েম (ইমাম মাহদি)(আঃ)-এর আবির্ভাবের নিকটবর্তী সময়ে। আল্লাহ কোম ও এর অধিবাসীদেরকে প্রমান (হুজ্জাত) হওয়ার মর্যাদা দিবেন; যদি তা না হত তাহলে পৃথিবী বাসিন্দাদের গিলে খেয়ে ফেলতো এবং পৃথিবীতে কোন প্রমান (হুজ্জাত) থাকতো না। জ্ঞান এখান থেকে বন্যার মত প্রবাহিত হয়ে পুর্ব ও পশ্চিমের অবশিষ্ট শহরগুলোতে ছড়ি্যে পড়বে- যেন সব মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রমান (হুজ্জাত) পরিপুর্নতা লাভ করে, যেন একজন মানুষের কাছেও দ্বীন (ধর্ম) ও জ্ঞান পৌছতে বাকী না থাকে।এরপর আল-ক্কায়েম ( ইমাম মাহদী আঃ) আবির্ভুত হবেন।“
(আল-বিহার-৬০/২১৩/২৩)।

ইমাম আস-সাদিক (আঃ) বলেন- “কোম-এর মাটি হল পবিত্র এবং এর অধিবাসীরা আমাদের থেকে এবং আমরা তাদের থেকে; যদি কোন অত্যাচারী শাসক এ লোকদের উপর অত্যাচার করে, তাহলে সে শীঘ্রই শাস্তি পাবে, শুধু শর্ত হল তাঁরা যেন তাদের ভাইদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে; যদি তাঁরা তা করে, তাহলে আল্লাহ তাদের উপর অত্যাচারী ও মন্দ শাসককে কর্তৃত্ব দিবেন। জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তাঁরা হল আমাদের ক্কায়েম (ইমাম মাহদী আঃ এর) এর সাহায্যকারীগন এবং আমাদের সত্যের আহবানকারীগন”। এরপর তিনি তাঁর মাথাকে আকাশের দিকে উঠালেন এবং বললেন-হে আল্লাহ, তাদেরকে সব ফেতনাহ থেকে রক্ষা করুন এবং সব ধ্বংস থেকে পরিত্রান দিন।(আল-বিহার-৬০/২১৮/৪৯)।

মাওলা আলীর (আঃ) উপাধিসমূহরাসূল (সাঃ)-এর খলিফা (প্রতিনিধি) নির্ধারণের মাপকাঠিগুলোর মধ্যে একটি মাপকাঠি হচ্ছে- এমন কিছু উপা...
29/04/2026

মাওলা আলীর (আঃ) উপাধিসমূহ

রাসূল (সাঃ)-এর খলিফা (প্রতিনিধি) নির্ধারণের মাপকাঠিগুলোর মধ্যে একটি মাপকাঠি হচ্ছে- এমন কিছু উপাধি যা রাসূল (সাঃ) তার জীবদ্দশায় কোন ব্যক্তিকে দিয়েছেন। যেমন- হাদীসের গ্রন্থাদিতে উল্লেখিত হয়েছে, আলীর মত মর্যাদাকর উপাধিধারী ব্যক্তি রাসূল (সাঃ)-এর সাহাবীদের মধ্যে দ্বিতীয় কেউ নাই। হাদীসবেত্তারা সকলেই উল্লেখ করেছেন যে, রাসূল (সাঃ)-এর কোন সাহাবাই হযরত আলী (আঃ)-এর ন্যায় মহামূল্যবান উপাধিতে ভূষিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেনি।

আলীকে রাসূল (সাঃ) যে সকল উপাধিতে ভূষিত করেছেন তার মধ্যে নিন্মে কয়েকটিঃ

(ক) সিদ্দীক।
-কানযুল উম্মাল, ১৩তম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১২৪।

(খ) সিদ্দীকে আকবর।
-সুনানে ইবনে মাজাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৪, অধ্যায়-১১,হাদীস-১২০ এবং ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৪৮, অধ্যায়-৪৮, হাদীস-১৯২।

(গ) সাইয়্যেদুল আরাব।
একদিন রাসূল (সাঃ) আয়েশাকে বললেনঃ “যদি তুমি আরবের সর্দার (সাইয়্যেদ) ও নেতাকে দেখতে চাও, তাহলে আলী ইবনে আবী তালিবের দিকে তাকাও।” আয়েশা বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আরবের সর্দার নন? তিনি বললেনঃ “আমি গোটা মানবজাতির সর্দার আর আলী হচ্ছে আরবের সর্দার।
-তারিখে দামেশক, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৬১, হাদীস-৭৮৭-৭৯২ ও সাওয়ায়েক মোহরেকা,পৃষ্ঠা- ১৮৮, ৪র্থ খণ্ড, আশারায়ে মোবাশশারা, পৃষ্ঠা-১৯৬ (বাংলায় অনুদিত)।

(ঘ) সাইয়্যেদুল মুসলিমীন (মুসলমানদের সর্দার) ও ইমামুল মুত্তাকিন (পরহেযগারদের ইমাম)।
-ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৪১,অধ্যায়-২৫, হাদীস-১০৪।

(ঙ) সাইয়্যেদুল মু’মিনীন (মু’মিনগণের সর্দার) ও ইমামুল মুত্তাকিন (পরহেযগারদের ইমাম) এবং ক্বায়্যেদুল গাররিল মোহাজ্জালীন (কিয়ামতের দিন মুখোজ্জল চেহারাধারীদের নেতা ও অগৃদূত)।
রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে রাত্রে আমি মেরাজে গিয়েছিলাম, সে রাত্রে আলীর তিনটি উপাধি আমার উপর ওহী হয়েছিল। সে তিনটি উপাধি হচ্ছে- (১) সে মু’মিনদের সরদার, (২) পরহেযগারদের নেতা এবং (৩) কিয়ামতের দিনে শুভ্রচেহারাধারীদের মধ্যে প্রধান।
-ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৪৩, অধ্যায়-২৫, হাদীস-১০৭, আশারায়ে মোবাশশারা, পৃষ্ঠা-১৯৭ (বাংলায় অনুদিত)।

(চ) ইযা’সুবুল মু’মিনীন (মু’মিনদের আবর্তনের কেন্দ্র বিন্দু), রাঈসুল মু’মিনীন [(অনুসরণের ক্ষেত্রে) মু’মিনদের পুরোধা]।
-তারিখে দামেশক, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৬০, হাদীস-৭৮৫ ও কানযুল উম্মাল, ১ম খণ্ড১৯, হাদীস-২ ও ৩৬৩৮১ এবং সাওয়ায়েক মোহরেকা, পৃষ্ঠা-১৯৩, হাদীস-৩৭।

(ছ) আমিরুল মু’মিনীন (মু’মিনদের নেতা)।
-তারিখে দামেশক, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৬০, হাদীস-৭৮৩।

(জ) খাইরুল বারিয়্যাহ অর্থাৎ সর্বোত্তম সৃষ্টি।
-ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৫৪, অধ্যায়-৩১, হাদীস-১১৬।

এই উপাধিটি এত প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল যে, যখনই সাহাবীগণ তাকে দেখতেন তখনই বলতেনঃ
قد جاء خیر البریة

অর্থাৎ“সর্বোত্তম সৃষ্টির আগমন ঘটেছে”।
-ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৫৬, অধ্যায়-৩১, হাদীস-১১৮ ও তারিখে দামেশক, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৪২, হাদীস-৭৫৮।

মুমিনের দুঃখ দূর করলে আল্লাহ দূর করেন সত্তর বিপদইমাম সাদিক (আ.) বর্ণিত একটি হাদীসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তির কারণে একজন মু...
28/04/2026

মুমিনের দুঃখ দূর করলে আল্লাহ দূর করেন সত্তর বিপদ

ইমাম সাদিক (আ.) বর্ণিত একটি হাদীসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তির কারণে একজন মুমিনের কষ্ট লাঘব হয়, আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তির দুনিয়া ও আখিরাতে সত্তর ধরনের বিপদ–আপদ দূর করে দেন। মুমিনের গিরাহ খুলে দেওয়া—আল্লাহর রহমত ও নিকটতা অর্জনের এক বিশেষ মাধ্যম।

ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন,

اَیُّما مُؤمِنٍ نَفَّسَ عَن مُؤمِنٍ کُربَةً، نَفَّسَ اللّهُ عَنهُ سَبعینَ کُربَةً مِن کُرَبِ الدُّنیا وَ کُرَبِ یَومِ القِیامَةِ.

যে কোনো মুমিন অন্য এক মুমিনের কোনো দুঃখ বা সংকট দূর করে দেয়, আল্লাহ তার কাছ থেকে দুনিয়ার এবং কিয়ামতের দিনের সত্তর ধরনের কষ্ট ও বিপদ দূর করে দেন।

[মুস্তাদরাকুল ওয়াসায়েল, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৪১৩]

ইসরাঈল প্রতিষ্ঠায় সা‘উদী রাজতন্ত্রের ভূমিকা – ০১[মোহাম্মাদ ‘আলী ‘সাঈদ লিখিত بريطانيا و ابن سعود العلاقة السياسية و تآثير...
28/04/2026

ইসরাঈল প্রতিষ্ঠায় সা‘উদী রাজতন্ত্রের ভূমিকা – ০১

[মোহাম্মাদ ‘আলী ‘সাঈদ লিখিত بريطانيا و ابن سعود العلاقة السياسية و تآثيرها علی المشکلة فلسطينية (বৃটেন ও ইবনে সা‘ঊদ : রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং ফিলিস্তিন সঙ্কটে এর প্রভাব) গ্রন্থের প্রথম ভাগের অনুবাদ “সা‘উদী রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বৃটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির সহযোগিতা” শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটির দ্বিতীয় ভাগের প্রথমাংশ উপরের শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। - অনুবাদক]

বৃটেনের ফিলিস্তিন দখল ও ‘আবদুল ‘আযীয

উপস্থাপনাঃ

‘আবদুল ‘আযীয তাঁর রাজত্বের শুরু থেকেই স্বীয় রাজত্বের আয়তন বৃদ্ধি এবং অব্যাহতভাবে বৃটিশ সাহায্য লাভের পিছনে তাঁর সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। এ কারণেই বৃটিশরা অসন্তুষ্ট হতে পারে এমন যে কোনো কাজকেই তিনি সযত্নে এড়িয়ে চলছিলেন। এ কারণে তাঁর নিকট ফিলিস্তিন সমস্যার কোনোই গুরুত্ব ছিলো না। তা সত্ত্বেও তাঁকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে মাথা ঘামাতে দেখা যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ফিলিস্তিন সমস্যা নিয়ে তাঁর এভাবে মাথা ঘামানোর পিছনে কারণ কী?

ফিলিস্তিন প্রশ্নে মাথা ঘামানোর রহস্যঃ

‘আবদুল ‘আযীযের জন্য ফিলিস্তিন সমস্যার কোনো গুরুত্ব না থাকা সত্ত্বেও তিনি এ ব্যাপারে অনাগ্রহ সহকারেই মাথা ঘামান। তাঁর এভাবে মাথা ঘামানোর পিছনে নিহিত রহস্য তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৯৩৭ খৃস্টাব্দের পয়লা জানুয়ারী তারিখে বৃটিশ সরকারের নিকট লিখিত এক পত্রে বলেন : “আমাদের ‘আরযী পেশ করার পূর্বে বৃটিশ সরকারকে জানাতে চাই যে, কেবল তার (বৃটিশ সরকারের) প্রতি বন্ধুত্ব এবং সকল আরব ও বৃটিশ সরকারের মধ্যে শান্তি ও সহযোগিতা সৃষ্টিতে আমাদের ঐকান্তিক আগ্রহই আমাদেরকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করেছে।” (شبه الجزيرة فی عهد الملک عبد العزيز: خير الدين الزرکلی، ص ۱۰٨۱)
বাদশাহ্ ‘আবদুল ‘আযীয ১৯৩৭-এর সেপ্টেম্বর মাসে বৃটিশ সরকারকে লেখা অপর এক পত্রে ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাঁর মাথা ঘামানোর কারণসমূহ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন। তিনি এ পত্রে বলেন :

“এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, যে সব মূল কারণ আমাদেরকে ফিলিস্তিন সমস্যাকে গুরুত্ব প্রদানে বাধ্য করেছে তা হচ্ছে নিম্নলিখিত কারণসমূহ :
“প্রথমতঃ নিঃসন্দেহে বৃটেন আরবদেরকে স্বাধীনতার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তা মূলতঃ হেজাযের নামে প্রদত্ত হয়েছে - যা আমাদের রাজ্যের অংশবিশেষ। ....

“দ্বিতীয়তঃ নিঃসন্দেহে গ্রহণযোগ্যভাবে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান করা না হলে একটি দুর্ধর্ষ শক্তি এবং আরব ও বৃটেনের মধ্যে একটি অনতিক্রম্য বাধার দেয়াল সৃষ্টি হবে।

“তৃতীয়তঃ ফিলিস্তিন সমস্যা একটি আরব ও ইসলামী সমস্যা।

“চতুর্থতঃ আমরা যখন আমাদের বন্ধু বৃটেনের সম্মতিক্রমে আরব বাদশাহ্ ও আমীরদের সাথে মিলে দু’টি বিবৃতি দেই - যা “গোলযোগ” নিরসন এবং আরবদের ও (ফিলিস্তিন সম্পর্কিত) বৃটিশ কমিশনের মধ্যে সহযোগিতা সৃষ্টিতে সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালনে সহায়ক হয়, তখন তার মাধ্যমে আমরা এক বিরাট দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি।” (شبه الجزيرة فی عهد الملک عبد العزيز: خير الدين الزرکلی، ص ۱٨۰٤)
[এখানে ‘গোলযোগ’ শব্দ ব্যবহারের লক্ষ্য হচ্ছে ১৯৩৬ খৃস্টাব্দে বৃটেনের সাম্রাজ্যবাদী চেহারার ওপরে ফিলিস্তিনীদের জ্বেলে দেয়া বিপ্লবের অগ্নিশিখা। আর কথিত দু’টি বিবৃতিই যে এ আগুন নির্বাপিত করে তথা এ বিপ্লবের সমাপ্তি ঘটায় - তা স্বয়ং ‘আবদুল ‘আযীযের বক্তব্য থেকেই সুস্পষ্ট।]
‘আবদুল ‘আযীয ইবনে সা‘ঊদ কর্তৃক ফিলিস্তিন সমস্যাকে গুরুত্ব প্রদানের পিছনে প্রকৃত কারণ কী কী ছিলো তা তাঁর উপরোক্ত বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার ধরা পড়ে। তা হচ্ছে :

(১) ‘আবদুল ‘আযীযকে ফিলিস্তিন সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাতে সর্বাগ্রে বৃটেনই উৎসাহিত করে। কারণ, তিনি তাঁর প্রথম পত্রে বলছেন : “কেবল তার (বৃটিশ সরকারের) প্রতি বন্ধুত্ব ... আমাদেরকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করেছে।” আর তিনি তাঁর দ্বিতীয় পত্রে বলছেন : “আমরা ... আমাদের বন্ধু বৃটেনের সম্মতিক্রমে ... এক বিরাট দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি।”
এখানে ‘সম্মতিক্রমে’ কথাটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, বৃটেনের সম্মতি না থাকলে ‘আবদুল ‘আযীয ফিলিস্তিন প্রশ্নে কোনোই ভূমিকা পালন করতেন না। কারণ, বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার কারণে ‘আবদুল ‘আযীযের পররাষ্ট্র নীতি বৃটেনের হাতে ন্যস্ত ছিলো।

(২) বৃটেন ন্যায়সঙ্গতভাবে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে এ ব্যাপারে ভূমিকা পালনের জন্য ‘আবদুল ‘আযীযকে উদ্বুদ্ধ করে নি, বরং বৃটেনের উপনিবেশবাদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তাঁকে এ দায়িত্ব প্রদান করেছিলো। অন্যথায়, ‘আবদুল ‘আযীয যদি নিজের পক্ষ থেকেই এ সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিতেন তাহলে স্বভাবতঃই তাঁকে উপনিবেশবাদী বৃটেনের মুখোমুখি এসে দাঁড়াতে হতো।

‘আবদুল ‘আযীযের নিজের বক্তব্য থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। কারণ, তিনি বলছেন : “সকল আরব ও বৃটিশ সরকারের মধ্যে শান্তি ও সহযোগিতা সৃষ্টিতে আমাদের ঐকান্তিক আগ্রহই আমাদেরকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করেছে।” অর্থাৎ শান্তি ও সহযোগিতার নামে সকল আরব জনগণের ওপর বৃটিশ আধিপত্য চাপিয়ে দেয়ার আগ্রহই তাঁকে এ ব্যাপারে ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করেছিলো।

‘আবদুল ‘আযীযের বক্তব্যে অবশ্য বৃটেনের উপনিবেশবাদী নীতির কারণে আরব জনগোষ্ঠীসমূহের বৃটেনের বিপক্ষে চলে যাবার ভয়ও ধরা পড়েছে। এ কারণেই তিনি দু’পক্ষের মধ্যে ‘ভুল বোঝাবুঝি দূরীকরণের লক্ষ্যে’ ফিলিস্তিনী বিপ্লবীদের শান্ত করার প্রচেষ্টায় অবতীর্ণ হন। কারণ, তিনি নিজেই বলেছেন : “গ্রহণযোগ্যভাবে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান করা না হলে একটি দুর্ধর্ষ শক্তি এবং আরব ও বৃটেনের মধ্যে একটি অনতিক্রম্য বাধার দেয়াল সৃষ্টি হবে।”

এ কারণে ‘আবদুল ‘আযীযের দায়িত্ব ছিলো বৃটেনের ব্যাপারে আরবদেরকে শান্ত ও নিশ্চিন্ত করা এবং ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান প্রশ্নে বৃটেনের ওপর আস্থা স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা। এ কারণেই, পরবর্তীকালে বৃটেন যখন ফিলিস্তিনকে টুকরা টুকরা করে এবং তার বিরাট অংশকে ইয়াহূদীদের হাতে সমর্পণ করে, তখন ‘আবদুল ‘আযীযের এ ভূমিকা ফাঁসীর কাঠগড়ায় নীত ব্যক্তিকে মরফিন ইঞ্জেকশন দিয়ে অনুভুতিহীন করে রাখার কাজ সম্পাদনে সক্ষম হয়েছিলো। ‘আবদুল ‘আযীযের দ্বিতীয় পত্রের চতুর্থ অনুচ্ছেদে এ বিষয়টিই সুষ্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর নিজের ও বৃটিশ সরকারের ভূমিকাকে ‘গোলযোগ নিরসন’ রূপে উল্লেখ করেছেন।
বস্তুতঃ বন্ধু বৃটেনের পক্ষ থেকে ‘আবদুল ‘আযীযকে প্রদত্ত এটাই ছিলো প্রধান দায়িত্ব।

(৩) ফিলিস্তিন সমস্যায় ‘আবদুল ‘আযীযের নাক গলানোর পিছনে অপর একটি কারণ ছিলো তাঁর সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। অর্থাৎ শরীফ হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তিনি ফিলিস্তিনে প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী ছিলেন। কারণ, বৃটিশরা শরীফ হোসেনকে তাঁর অধিপত্যাধীনে একটি একক রাষ্ট্র হিসেবে সকল আরব জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো।

এমতাবস্থায় ফিলিস্তিনকে নিজের আওতায় আনতে না পারলেও অন্ততঃ ফিলিস্তিনীদের ওপর কর্তা ও অভিভাবক হতে পারবেন বলে তিনি আশা করছিলেন। এ কারণেই তিনি বলেন : “নিঃসন্দেহে বৃটেন আরবদেরকে স্বাধীনতার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তা মূলতঃ হেজাযের নামে প্রদত্ত হয়েছে - যা আমাদের রাজ্যের অংশবিশেষ।”

অবশ্য তিনি পরিষ্কার করে বলেন নি যে, একথা উল্লেখের দ্বারা তিনি কী বুঝাতে চেয়েছেন। তবে তা সত্ত্বেও তাঁর উদ্দেশ্য এ থেকে সহজেই উদ্ধার করা চলে।

(৪) কিন্তু ‘আবদুল ‘আযীয মুসলিম ও আরব হিসেবে এ বিষয়ের সাথে নিজেকে জড়িত করার কথা বললেও এমন বহু প্রমাণ রয়েছে যা তাঁর চেহারা থেকে ইসলামী ও আরব হওয়ার মুখোশকে ছিন্ন করে ফেলেছে। এ ব্যাপারে অত্র গ্রন্থের প্রথম ভাগের বিষয়বস্তুই যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি।
আমরা মনে করি ‘আবদুল ‘আযীযের নিজের পক্ষ থেকে এহেন বিষয় উপস্থাপনের পিছনে কারণ ছিলো জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং হারামাইনে শরীফাইনের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জনগণের তিরস্কার এড়ানো ও নিজেকে দোষমুক্ত প্রমাণ করার লক্ষ্যে ইসলামের নাম ব্যবহার করা।

নূর হোসেন মজিদি
(চলবে)

Address

Joydebpur

Telephone

+8801750088099

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাংলাদেশ ওয়ার্সী ফাউন্ডেশন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to বাংলাদেশ ওয়ার্সী ফাউন্ডেশন:

Share