08/09/2025
সাধ্বী রোজালিয়া
অনেক শত বছর আগে সিসিলির পালার্মো শহরে জন্ম নেন এক অভিজাত পরিবারের কন্যা - রোজালিয়া। তিনি ছিলেন সুন্দরী, ভদ্র, আর রাজপ্রাসাদের আদরে বড় হওয়া মেয়ে। চারপাশে ধনসম্পদ, আভিজাত্য, গৌরব—সবই ছিল তার কাছে হাতের নাগালে। কিন্তু রোজালিয়ার মনে ছিল ভিন্ন এক আকাঙ্ক্ষা। তার হৃদয় টানছিল না রাজসিক জীবন, বরং শান্তি খুঁজছিল একান্ত নির্জনতায়, ঈশ্বরের নিকটে।
কথিত আছে, একদিন তিনি এক রহস্যময় দর্শন পান। স্বপ্নে দেখেন, যিশুর জননী মা মরিয়ম তাকে বলছেন, “রোজালিয়া, জাগতিক চাকচিক্য ছেড়ে প্রভুর পথে এসো।”
সেদিন থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন পৃথিবীর সব আরাম-আয়েশ ছেড়ে দিয়ে গুহায় বসবাস করবেন। মাথায় গোলাপের মুকুট পরে রওনা হলেন পাহাড়ের পথে। প্রথমে তিনি থাকলেন পরিবারের জমির কাছে এক ছোট গুহায়। পরে চলে গেলেন পালার্মো শহরকে পাহারা দেওয়া মন্টে পেল্লেগ্রিনো নামের পাহাড়ের নির্জন গুহায়। সেখানেই তিনি দিন কাটাতেন প্রার্থনা, উপবাস আর নিস্তব্ধতায়। কেউ তাকে আর দেখত না। কেবল ঈশ্বরের সঙ্গে তাঁর গভীর একান্ত সম্পর্কই ছিল তাঁর জীবনের ধন।
বছরের পর বছর তিনি ওই গুহাতেই বসবাস করে শেষ পর্যন্ত প্রভুর কোলে ফিরে যান (প্রায় ১১৬৬ সালের দিকে)।
অনেক শত বছর পর, ১৬২৪ সালে, পালার্মো শহরে এক ভয়াবহ মহামারী ছড়িয়ে পড়ল। মানুষ হাজার হাজার মারা যাচ্ছিল। শহর ভয়ে আর কান্নায় ভরে গিয়েছিল। সেই সময় এক অসুস্থ নারীর কাছে স্বপ্নে হাজির হলেন রোজালিয়া। তিনি বললেন, “আমার দেহাবশেষ পাহাড়ের গুহায় আছে। সেগুলো খুঁজে বের করো এবং শহরে নিয়ে গিয়ে প্রার্থনা করো।”
পরে এক শিকারীকেও তিনি একই কথা জানান। তখন লোকেরা গুহায় গিয়ে তাঁর অস্থি খুঁজে পেল। সেগুলো নিয়ে পালার্মোর রাস্তায় শোভাযাত্রা হলো। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এর পরপরই মহামারী থেমে গেল।
সেদিন থেকে পালার্মোর মানুষ তাকে ভালোবেসে ডাকতে লাগল “সান্তুজ্জা”—ছোট্ট সাধ্বী রোজালিয়া। তিনি হয়ে উঠলেন শহরের রক্ষাকর্ত্রী।
আজও জুলাই মাসে পালার্মো শহরে শুরু হয় বিশাল উৎসব। হাজারো মানুষ পাহাড় বেয়ে ওঠেন তাঁর গুহায়, গোলাপ নিয়ে প্রার্থনা করেন। তারা বিশ্বাস করে—সাধ্বী রোজালিয়া বিপদের দিনে পাশে থাকেন, বিশেষ করে রোগ-শোক ও দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেন।
এইভাবে এক রাজকন্যার মতো বড় হওয়া মেয়ে, সবকিছু ছেড়ে ঈশ্বরকে বেছে নিয়ে, হয়ে উঠলেন সিসিলির রক্ষাকর্ত্রী সাধ্বী।
পোস্টটি সংগ্রহ করা হয়েছে ফাদার মিন্টু রোজারিও ফেসবুক থেকে।