শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী পুরাতন কালী মন্দির,যশোর

  • Home
  • Bangladesh
  • Jessore
  • শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী পুরাতন কালী মন্দির,যশোর

শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী পুরাতন কালী মন্দির,যশোর Hindu Temple

"ঔম" (যাকে "ওম" হিসেবেও লেখা হয়) সনাতন ধর্মে একটি পবিত্র শব্দ এবং আধ্যাত্মিক প্রতীক, যার মধ্যে আছে হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্...
28/01/2026

"ঔম" (যাকে "ওম" হিসেবেও লেখা হয়) সনাতন ধর্মে একটি পবিত্র শব্দ এবং আধ্যাত্মিক প্রতীক, যার মধ্যে আছে হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম এবং সিখ ধর্ম। এটি গভীর গুরুত্ব বহন করে এবং এটি একটি আদিম শব্দ হিসেবে বিবেচিত, যেখান থেকে ব্রহ্মাণ্ডের উদ্ভব ঘটে। প্রতীক "ॐ" ভিজ্যুয়ালি এই শব্দটি উপস্থাপন করে। হিন্দুধর্মে, "ঔম" সবচেয়ে পবিত্র মন্ত্র হিসেবে বিবেচিত এবং প্রায়শই প্রার্থনা, ধ্যান এবং আচার-অনুষ্ঠানের শুরু এবং শেষে জপ করা হয়। এটি চূড়ান্ত বাস্তবতার সারাংশ ধারণ করে বলে বিশ্বাস করা হয়, যা অস্তিত্বের তিনটি দিককে উপস্থাপন করে:

১. : জাগরুক অবস্থা, ভৌত বাস্তবতা এবং বাইরের জগৎকে উপস্থাপন করে।
২. : স্বপ্নের অবস্থা, মন এবং সূক্ষ্ম জগতকে উপস্থাপন করে।
৩. : গভীর নিদ্রার অবস্থা, অবচেতন এবং আধ্যাত্মিক মাত্রাকে উপস্থাপন করে।

"ঔম" এর এই তিনটি অংশের পরে একটি বিরতি থাকে এবং তারপর একটি চূড়ান্ত অমীমাংসিত শব্দ আসে, যা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বাইরে থাকা পরম বাস্তব বা উচ্চতর অবস্থাকে উপস্থাপন করে।

"ওম" ধ্যান করা বা জপ করা গভীর আধ্যাত্মিক এবং রূপান্তরমূলক প্রভাব ফেলে বলে জানা যায়। এটি দেবতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার, উচ্চতর চেতনাগত অবস্থায় পৌঁছানোর এবং নিজের আপনাকে মহাজাগতিক কম্পনের সঙ্গে মিলিত করার একটি উপায়।

সার্বিকভাবে, "ওম" একটি প্রতীক এবং শব্দ যা সনাতন ধর্মে অস্তিত্ব, চেতনাশীলতা এবং সকল কিছুর আন্তঃসংযোগের গভীর দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক ধারণাগুলোকে ধারণ করে।

বানী বন্দনা ২০২৬
24/01/2026

বানী বন্দনা ২০২৬

01/01/2026
আগামীকাল  শ্রীশ্রী কার্তিক পূজা। কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে কার্তিক পূজার আয়োজন করা হয়। কার্তিক পরমপুরুষ শিব ও আদি পরা...
16/11/2025

আগামীকাল শ্রীশ্রী কার্তিক পূজা।
কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে কার্তিক পূজার আয়োজন করা হয়। কার্তিক পরমপুরুষ শিব ও আদি পরাশক্তি পার্বতীর সন্তান। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, অত্যাচারী তারকাসুরকে বধ করার জন্য তার জন্ম হয়েছিল। ছয়জন কৃত্তিকার দ্বারা তিনি পালিত হয়েছিলেন বলে তার নাম কার্তিক। তিনি হলেন ছয় মুখ বিশিষ্ট, তাই তার অপর নাম ষড়ানন, স্কন্দ। দক্ষিণ ভারতে কার্তিককে মুরগান বলে ডাকা হয়। কার্তিককে চিরকুমার বলা হলেও তাঁর দুই পত্নী — দেবসেনা ও বল্লী। কার্তিক হলেন সৌন্দর্য, শক্তির প্রতীক। তিনি তীর, ধনুক, শক্তি অস্ত্র ধারণ করে থাকেন। ময়ূর তার বাহন।

প্রাচীন ভারতে সর্বত্র কার্তিক পূজা প্রচলিত ছিল। লোকাচার অনুসারে, নিঃসন্তান দম্পতিরা সন্তান প্রাপ্তির জন্য কার্তিক পূজা করে থাকেন। কার্তিক পূজার মাধ্যমে দম্পতিরা সন্তান-সন্তুতি প্রার্থনা করে থাকেন। তিনি বাচ্চা বড় না হওয়া অব্দি তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করেন৷ তার কৃপা পেলে পুত্রলাভ, ধনলাভ হয়৷ সেকারণে বিয়ে হয়েছে কিন্তুু এখনও সন্তান হয়নি এমন দম্পতির বাড়ির সামনে কার্তিক ঠাকুরের মূর্তি ফেলা হয়।

শিব তখন সংসারত্যাগী ঘোরতর সন্ন্যাসী। সদ্য মৃত্যু হয়েছে তার প্রথমা স্ত্রী সতীর। শোকগ্ৰস্ত শিব তপস্যানিরত।

মহর্ষি কশ্যপ ও দিতির পুত্র দানব বজ্রাঙ্গ। বজ্রাঙ্গের পত্নী বরাঙ্গী। বজ্রাঙ্গ ও বরাঙ্গীর পুত্রের নাম তারক বা তারকাসুর। ব্রহ্মার বরে বলীয়ান তারকাসুর। ব্রহ্মা তাকে বর দিয়েছিলেন — একমাত্র শিবের ঔরসজাত পুত্র ছাড়া আর কেউ তাকে বধ করতে পারবে না। বয়ঃপ্রাপ্ত হয়ে তারকাসুর দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠে। দেবতাদের পরাজিত করে সে স্বর্গলোক অধিকার করে এবং দেবতাদের ক্রীতদাসে পরিণত করে। তার অত্যাচারে উৎপীড়িত দেবগণ পরিত্রাণের জন্য পিতামহ ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন।

ব্রহ্মা দেবতাদের অভয় দিয়ে বলেন, শিব ও পার্বতীর যে অপরাজেয় পুত্র জন্মগ্রহণ করবেন তিনি সুরাসুরের অবধ্য তারকাসুরকে নিধন করবেন এবং স্বর্গরাজ্য পুনরায় দেবতাদের হবে। যথাকালে তপস্যানিরত শিবকে স্বামীরূপে পাওয়ার জন্য কঠোর পঞ্চাগ্নি তপস্যানিরতা পার্বতীর বিবাহ হয় এবং শিবতেজে পার্বতীর পুত্র কার্তিকেয়র জন্ম হয়।

তারকাসুরকে বধের জন্য কার্তিকেয়র জন্ম হয়েছিল। পরমেশ্বর শিব ও পরমেশ্বরী পার্বতীর যোগের মাধ্যমে আত্ম মিলন হয়। ফলে এক অগ্নিপিণ্ডের সৃষ্টি হয়। রতির অভিশাপের সম্মান রক্ষার্থে গর্ভে সন্তান ধারণ করেননি মা পার্বতী। তাছাড়া ঈশ্বর কখনও মনুষ্যের ন্যায় সন্তান জন্ম দেন না। অগ্নিদেব সেই উৎপন্ন হওয়া নব্য তেজময় জ্যোতিপিন্ড নিয়ে পালিয়ে যান। ফলে মা পার্বতী যোগ ধ্যান সমাপ্তি হতেই ক্রুদ্ধ হন। অগ্নিদেব ঐ অগ্নিপিণ্ডের তাপ সহ্য করতে না পেরে গঙ্গায় তা নিক্ষেপ করে। সেই তেজ গঙ্গা দ্বারা বাহিত হয় ও শরবনে গিয়ে এক রূপবান গোলকের মধ্যেই জন্ম হয়। গোলকের বাহিরে বেরিয়ে আসার বা জন্মের পর ছয়জন কৃত্তিকা-মাতৃকা তাঁকে লালন-পালন করেন। কৃত্তিকার পালিত সন্তান বলেই নামও হল কার্তিক। কার্তিকের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সেই শুরু। জানতেও পারলেন না তিনি, কারা তার বাবা-মা ! আসল বাবা-মার ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েই বড় হলেন তিনি। অতুলনীয় হলেন শস্ত্রে এবং শাস্ত্রে।

শিব ও পার্বতীর অমিততেজা এই পুত্র ছয়মুখে ছয় কৃত্তিকার স্তনদুগ্ধ পান করেছিলেন। ছয় মুখের জন্য তাঁর নাম ‘ষড়ানন’ বা ‘ষন্মুখ’। ছয়জন কৃত্তিকা-ধাত্রীজননীর স্তন্যপান করে বর্ধিত হন বলে তাঁর নাম হয় ‘কার্তিকেয়’ বা ‘কার্তিক’। পরে কার্তিক মাসের অন্তিম দিনে দেবী স্কন্দমাতা বা পার্বতী শিশু স্কন্দ কে কৈলাসে নিয়ে আসেন। এবং তাকে কার্তিক মাসের অন্তিম দিনে দেবীর কর্তৃক পূজার্ঘ্য করা হয়, যা কার্তিক পূজা নামে অভিহিত করা হয়।

কার্তিকের জন্ম অমাবস্যা তিথিতে। পরবর্তী পাঁচদিনে তাঁর প্রাপ্তবয়স্কতা লাভ। জন্মের ষষ্ঠ দিন দেবসেনাপতিরূপে তাঁর অভিষেক হয় এবং দেবসেনার সঙ্গে বিবাহ হয়। শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতেই দেবসেনার সঙ্গে কার্তিকের বিবাহ। কার্তিকের স্ত্রী দেবসেনার অপর নাম দেবী ষষ্ঠী। সুরাপদ্মনকে বধ করার পর দেবরাজ ইন্দ্র নিজ কন‍্যা দেবসেনা বা ষষ্ঠীর সঙ্গে কার্তিকের বিবাহ দেন। এখানেই দ্বিতীয় ধাপে ভালবাসার পথ থেকে সরে এলেন কার্তিক। প্রেম কী, তা বোঝার আগেই শুরু হল তাঁর দাম্পত্য। সেই জন্যই তাঁকে আমরা বলি দেবসেনাপতি ! অর্থাৎ দেবসেনার পতি।

ষষ্ঠীদেবী সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক পৌরাণিক দেবী। দেবীভাগবত পুরাণে নবম স্কন্ধের একটি শ্লোকে বলা হয়েছে — “ষষ্ঠাংশা প্রকৃতের্যে চ সা চ ষষ্ঠী প্রকীর্তিতা / বালকানামধিষ্ঠাত্রী বিষ্ণুমায়া চ বালদা।” অর্থাৎ — বালকগণের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, বালকদায়িনী বিষ্ণুমায়া প্রকৃতির ষষ্ঠকলা, এই জন্য ষষ্ঠী নামে কীর্তিত হয়েছেন। মা ষষ্ঠী ভগবতীর একটি রূপ। ষষ্ঠী দেবীর বাহন বিড়াল। এবং তাঁর হস্তে বর মুদ্রা ও ক্রোড়ে শিশু থাকে।

মা ষষ্ঠী মূলতঃ সন্তানদাত্রী ও তাহার রক্ষাকর্ত্রী দেবী; তার কৃপায় নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান লাভ হয় এবং তিনিই সন্তানের রক্ষাকর্ত্রী, পুরাণ মতে যেহেতু তিনি আদিপ্রকৃতির ষষ্ঠাঙ্গ অংশভুতা তাই তাহার নাম ষষ্ঠী দেবী। শিশু জন্মের ষষ্ঠ দিনে ষষ্ঠী দেবীর পূজা করা হয়। যাতে শিশুর কখনও কোনও প্রকার দুঃখ-কষ্ট না হয়। সব ধরনের বিপদ আপদ থেকে মুক্ত হবার জন্যই ষষ্ঠী দেবীর পূজা। প্রার্থনা করা হয় - আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। মা তোমার সকল সন্তানের মঙ্গল করো। জয় দেবি জগন্মাতঃ জগদানন্দকারিণি। প্রসীদ মম কল্যাণি নমস্তে ষষ্ঠী দেবিকে।

স্ত্রী ষষ্ঠীর সাথে কার্তিকের মিল থাকায় কার্তিক পূজার মাধ্যমে দম্পতিরা সন্তান-সন্তুতি প্রার্থনা করে থাকেন। তিনি বাচ্চা বড় না হওয়া অব্দি তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করেন৷ তার কৃপা পেলে পুত্রলাভ, ধনলাভ হয়৷

কার্তিকের স্ত্রীর নাম দেবসেনা হওয়ায় সেকারণেও তিনি ‘দেবসেনাপতি’ আবার দেবসেনাবাহিনীর নায়কত্বের জন্য তিনি ‘দেবসেনাপতি’। এরপর সপ্তম দিন তিনি তারকাসুরকে বধ করেন।

তারকাসুরকে বধ করার পর কার্তিক লোকজনকে বেদ শিক্ষা দিতে আরম্ভ করেন। চতুর্বেদ সম্বন্ধে তার অপরিসীম জ্ঞান। অতি শীঘ্রই তার নাম হল সুব্রহ্মণ্যম। তার এই জ্ঞান দেখে ঋষি অগস্ত্যমুনি তাকে ভারতবর্ষের দাক্ষিণাত্যে নিয়ে যান বেদ চর্চার জন্য।

কার্তিক স্ত্রী দেবসেনাকে নিয়ে চলে এলেন দক্ষিনভারতে। বসতি করলেন পাহাড়ে, উপজাতি তাঁকে বরণ করে নিল সাদরে। ময়ূরবাহন বা মুরুগন বলে জানাল শ্রদ্ধাও ! কিন্তু, ভালবাসা পাওয়ার আকাঙ্খা কার্তিকের মন থেকে দূর হল না। তখনও যদিও তিনি জানতেন না, প্রেম এসে ধরা দিতে চলেছে তাঁর বাহুবন্ধনে। দক্ষিণ ভারতের এই পাহাড়েই সার্থক হবে তাঁর প্রেমের কামনা।

কার্তিক তাই কিছুটা মনমরা হয়েই থাকেন, ঘুরে বেড়ান ইতিউতি। এমন সময়ে একদিন তিনি দেখলেন, এক পাহাড়ি ক্ষেতে শস্য পাহাড়া দিচ্ছে একটি কালো পরমাসুন্দরী মেয়ে ! যতই কালো হোক, কার্তিক তুমুল ভাবে তার প্রেমে পড়লেন। এক বৃদ্ধের ছদ্মবেশে গিয়ে নাম জানতে চাইলেন, জানতে চাইলেন পরিচয়। শুনলেন, সে সেখানকার রাজার মেয়ে, তার নাম বল্লী। নম্বিরাজের কন্যা।

এবার কার্তিক চাইলেন বল্লীকে বিয়ে করতে। সে কথা বলতেই বল্লী রেগে আগুন হলেন। তিনি সদ্য যুবতী, তার কেন এক বৃদ্ধকে মনে ধরবে। বিপদ দেখে কার্তিক তখন স্মরণ করলেন গণেশকে। গণেশও ভাইয়ের মনের কথা ভেবে এক মত্ত হস্তীর রূপ ধরে আটকে দাড়ালেন বল্লীর রাস্তা। বল্লীর আর উপায় নেই ! মত্ত হাতির ভয়ে তিনি জড়িয়ে ধরলেন সেই বৃদ্ধকে। ভয়ে তাঁর দু'চোখ বোজা ! তিনি আদায় করে নিলেন প্রতিশ্রুতি — হাতিটাকে তাড়াতে পারলে বল্লী তাঁকে বিয়ে করবেন। নয় তো দুজনেই মরবেন ! রাজী হতে তাই বাধ্য হলেন বল্লী।

যখন তিনি চোখ খুললেন, দেখলেন সেই বৃদ্ধের জায়গায় দাড়িয়ে রয়েছে এক সুপুরুষ যুবক। এরপর আর বিয়েতে আপত্তি থাকার কথা নয়। বিয়ে হলও ধুমধাম করে। এবং, বল্লীর সঙ্গে দাম্পত্য আর প্রেম পূর্ণ ভাবে উপভোগ করার জন্য দক্ষিণ ভারতের ছয়টি স্থানে ছয়টি শস্ত্রাগার নির্মাণ করলেন কার্তিক ! যেখানে, তৃপ্ত হবে তাঁর অস্ত্রচর্চা আর প্রেমচর্চা — দুই ! সেই ছয়টি শস্ত্রাগার আজ ভারতের সবচেয়ে পবিত্র কার্তিক মন্দিরে পরিণত হয়েছে।

দক্ষিণ ভারতে তিনি খুব জনপ্রিয়। সেখানে তার অসংখ্য মন্দির আছে। তবে তামিলনাড়ুর এই ৬টি মন্দির খুব পবিত্র —
(১) স্বামীমালাই মুরুগান মন্দির।
(২) পালানী মুরুগান মন্দির।
(৩) থিরুচেন্দুর মুরুগান মন্দির।
(৪) থিরুপ্পারামকুমারাম মুরুগান মন্দির।
(৫) থিরুথানি মুরুগান মন্দির।
(৬) পাঝামুদিরচোলাই মুরুগান মন্দির।

কার্তিক একইরূপে তিনি পরম সাত্ত্বিক ব্রহ্মচারী রূপে দন্ডধারণ করে কঠিন তপস্যায় রত আবার অন্য রূপে তিনিই পরম রাজসিক রূপে বল্লী ও দেবসেনার হৃদয়বল্লভ। ইন্দ্রপুত্রী গৌরবর্ণা দেবসেনা এবং প্রাকৃতবংশীয় শ্যামলবরণা বল্লী উভয়েই তার সমান প্ৰিয়। দেবলোক থেকে নরলোকে তার সমান বিচরণ। দুই লোকের দুহিতার ই তিনি প্রাণপ্ৰিয়। সর্পনিধনে কৌমেয় নামক ময়ূরের উর্দ্ধে , ষড়ানন বা মুরুগান বা কার্তিকেয় মধ্যে, বামদিকে দেবী ষষ্ঠী বা দেবসেনা ও ডানদিকে বল্লী।

চিরকুমার নন, দুই স্ত্রী নিয়ে সুখেই থাকেন কার্তিক ! চেন্নাই থেকে তিরুপতির পথে প্রায় ৭০ কিঃমিঃ দূরে থিরুথানি তে একটি ছোট্ট পাহাড়ের উপরে অবস্থিত মন্দিরটিতে কুমার দুই স্ত্রী নিয়েই বিরাজ করছেন। কালো পাথরের বিগ্রহ। সোনা রূপার কবচ পরানো। প্রায় দু ফুট মাপের উৎসব মূর্তি রয়েছে।

কৌমারাম একটি সম্প্রদায়। যাদের বিশেষ করে দক্ষিণ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় তামিল, কন্নড়, বেদ্দাদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। তাদের কাছে কার্তিকেয় হলেন পরমেশ্বর। তারা ভগবান কার্তি‌কেয়কে ত্রিমূর্তিরও চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে এবং শুধুমাত্র তাঁর সেবা করার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করে। কৌমার উৎসবে তারা প্রমত্ত নাচ করে।

অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীর মতো কার্তিকও একাধিক নামে অভিহিত হন। যথা — কৃত্তিকাসুত, আম্বিকেয়, নমুচি, স্কন্দ, শিখিধ্বজ, অগ্নিজ, বাহুলেয়, ক্রৌঞ্চারতি, শরজ, তারকারি, শক্তিপাণি, বিশাখ, ষড়ানন, গুহ, ষান্মাতুর, কুমার, সৌরসেন, দেবসেনাপতি গৌরী সুত, আগ্নিক ইত্যাদি।

জন্মসূত্রে পিতা শিবের বীর্য ও গুণাবলীর যেমন তিনি উত্তরাধিকারী হন, তেমনি মাতা পার্বতীর শৌর্য ও বীর্যের উত্তরাধিকারও তিনি লাভ করেন। তাঁর অপ্রতিরোধ্য পরাক্রম ও দুর্জয় সাহস তাঁকে এনে দেয় দেব-সেনাপতির স্বীকৃতি। রামায়ণ, মহাভারত এবং প্রধান পুরাণগুলিতে কার্তিকের জন্মকথা ও কীর্তিকাহিনী সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে। পুরাণগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান স্কন্দপুরাণ প্রত্যক্ষত তাঁরই নাম বহন করছে। স্কন্দপুরাণ ভিন্ন অন্যান্য প্রধান যে পুরাণগুলিতে কার্তিকের উপাখ্যান বর্ণিত। সেগুলি হলো : মৎস্যপুরাণ, শিবপুরাণ, বামনপুরাণ, লিঙ্গপুরাণ, বায়ুপুরাণ, পদ্মপুরাণ, ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ, অগ্নিপুরাণ, ব্রহ্মপুরাণ, কূর্মপুরাণ, বরাহপুরাণ, ভবিষ্যপুরাণ, ভাগবতপুরাণ এবং ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ। দেখা যায় উল্লিখিত প্রত্যেক পুরাণেই দেবতা ও অসুরদের প্রচণ্ড সংগ্রাম এবং দেবতাদের পরাজয়ের পটভূমিকায় শিব-পার্বতীর পুত্ররূপে কার্তিকের জন্ম। আবার কার্তিকের জন্ম-উপাখ্যানটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কার্তিকের জন্মের পশ্চাতে ছিল শিব-পার্বতীর কঠোর তপস্যা। সন্তান আসবে পিতা-মাতার সংযম ও তপস্যার সেতুপথে — এটাই প্রাচীন ভারতীয় দাম্পত্য জীবনের মূল দর্শন।

ক্ষাত্রশক্তির সঙ্গে যখন ব্রহ্মতেজ সমন্বিত হয়, তখনি বিজয়াদি সর্বাভীষ্ট মানুষের করতলগত হয়। তখনি মানুষের মধ্যে শিবশক্তি অর্থাৎ শুভশক্তির উদ্বোধন ঘটে। সেই উদ্বুদ্ধ দেবাত্মশক্তির কাছে অসুরের পরাজয় অনিবার্য। কারণ, সমস্ত দেবাত্মশক্তির ওপর যাঁর আধ্যিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত, ত্রিভুবনের সমস্ত প্রতিরোধই তাঁর সম্মুখে চূর্ণবিচূর্ণ হতে বাধ্য। সেই আধ্যাত্মিক অর্থে যিনি দেবসেনাপতি, তাঁর কণ্ঠে দেবরাজকন্যার জয়মাল্য দোলে-তিনিই দেবরাজকন্যাকে লাভ করেন। দেবরাজ কন্যার নাম ‘দেবসেনা’।

‘দেবসেনা’র অর্থ দেবশক্তি। অর্থাৎ দেবতাদের সম্মিলিত শক্তি কার্তিকের অধীন। সেজন্য তিনি দেবসেনাপতিরূপে স্বীকৃত। সম্মিলিত দেবাত্মশক্তিকে যথার্থভাবে ব্যবহার ও পরিচালনা করে সভ্যতাকে সুরক্ষিত রাখার গুরুদায়িত্ব তাঁর স্কন্ধে অর্পিত। দেবী দুর্গার পরিবার সমগ্র বিশ্বচরাচর। তাঁর স্নেহাঞ্চলে পশু, পাখি, সরীসৃপ, উদ্ভিদ, মানুষ-সকলেই আচ্ছাদিত। সেই বিশ্ব-পরিবার রক্ষার দায়িত্বে দেবীর পুত্র কার্তিকেয় নিযুক্ত। এই দায়িত্ব তিনি লাভ করেছেন দেবীর পুত্রের অধিকারে নয়, তাঁর আপন যোগ্যতায়।

তেজস্বী, ক্ষিপ্রকর্মা, সদা উদ্যমী, অকুতোভয়, অপরাজেয় ও সুদর্শন কার্তিকেয় শুধু স্বর্গ বা দেবলোকের সেনাপতি নন, সমগ্র মানবলোকেরও ঊর্ধ্বায়ত বীর্য ও শক্তির তিনি প্রতীক-বিগ্রহ। বস্তুত, কার্তিকের পরিচয় একজন বিশেষ দেবতারূপে নির্দিষ্ট হলেও তাঁর মধ্যে অন্তত রুদ্র, অগ্নি, বায়ু, ইন্দ্র ও বিষ্ণু-এই প্রধান বৈদিক পঞ্চদেবতার সংমিশ্রণ ঘটেছে। বৈদিক দেবভাবনা ভিন্ন পৌরাণিক, তান্ত্রিক ও লৌকিক নানা দেবভাবনা এবং দেবতার মানবিকীকরণ-অভীপ্সার সংমিশ্রণে কার্তিকের উপাসনা ও রূপভাবনা সমৃদ্ধ হয়েছে। সম্ভবত এই প্রক্রিয়া পূর্ণ পরিণতি প্রাপ্ত হয় গুপ্ত যুগে-খ্রিস্টীয় চতুর্থ-পঞ্চম শতকে। তবে তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ, নারায়ণ উপনিষদ্, বৌধায়ন ধর্মসূত্র, মহাভারত, পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র প্রভৃতি সাক্ষ্য থেকে জানা যায় যে, পৃথক দেবতা হিসাবে কার্তিক পূজিত হতে শুরু করেছেন খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর বহু আগে থেকেই।

কার্তিকের বাহন ময়ূর। আবার কিছু মতে কুক্কুট বা মোরগও কার্তিকের বাহন। বামনপুরাণের মতে দেবসেনাপত্যে অভিষিক্ত হওয়ার পর গরুড় কার্তিককে বাহন হিসাবে ময়ূরকে প্রদান করেছিলেন। বরাহপুরাণের মতে ঐ সময় পিতা শিব কার্তিকেয়কে ক্রীড়ার জন্য কুক্কুট উপহার দিয়েছিলেন। মহাভারতের মতে অগ্নিদেব এবং মৎস্যপুরাণের মতে বিশ্বকর্মা কার্তিকেয়কে কুক্কুট উপহার দিয়েছিলেন। তবে মহাভারত ও পুরাণের বর্ণনায়, পুরাণের প্রতিমালক্ষণ-বিবৃতিতে, তন্ত্রের ধ্যানমন্ত্রে এবং প্রাচীন মুদ্রায় প্রধানত কার্তিককে ময়ূরবাহনরূপেই দেখানো হয়েছে। এমনকি পূর্বোক্ত অথর্ববেদের পরিশিষ্ট স্কন্দযাগেও কার্তিকের ময়ূরবাহনত্ব উল্লিখিত হয়েছে। কুক্কুট অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্তিকের হস্তধৃতরূপেই বর্ণিত, যাতে বোঝা যায় কুক্কুট তরুন শিবপুত্রের একটি প্রিয় ক্রীড়নক। প্রাণিতত্ত্ববিদগণের মতে, ময়ূর ও কুক্কুট উভয়েই সমবর্গীয় পক্ষী। যাহোক, পরিবার-সমন্বিতা মহিষাসুরমর্দিনীর সঙ্গে কার্তিককে আমরা ময়ূরবাহনরূপে দেখতে অভ্যস্ত। এমনকি মালয়েশিয়া এবং জাপানে কার্তিকের যে মূর্তি ও মন্দির দেখা যায় সেখানেও তিনি ময়ূরবাহন।

কেন কার্তিকের ময়ূরবাহন ? ময়ূরের পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্য - সৌন্দর্য, যৌবনদৃপ্ততা, বীর্য, যোদ্ধৃত্ব এবং প্রাতরুত্থান। সৌন্দর্য, যৌবনদৃপ্ততা, বীর্য, যোদ্ধৃত্ব জন্য ময়ূর পক্ষীকুলে নৃপতিতুল্য। ভারতের জাতীয় পক্ষীও ময়ূর। দেবীর চার সন্তানের মধ্যে কার্তিকের সঙ্গে সর্বাংশেই তার সর্বাপেক্ষা বেশি সাদৃশ্য। দেবীর বাহন যেমন পশুরাজ, তাঁর পুত্রের বাহন তেমনি পক্ষীরাজ। বিষধর সর্প ময়ূরের আক্রমণ-নৈপুণ্য এবং পরাক্রমে শুধু যে পর্যুদস্ত হয় তাই নয়, একেবারে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ময়ূরের কেকাধ্বনি নিশাবসানের সঙ্কেত ঘোষণা করে। তার প্রাতরুত্থান-অভ্যাস তার অনলসতা, অতন্দ্র সতর্কতা এবং জাড্যহীন তৎপরতার পরিচায়ক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ময়ূরের উল্লিখিত পাঁচটি বৈশিষ্ট্য কুক্কুটের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য।

সমগ্র ত্রিভুবনের সুরক্ষার দায়িত্ব যাঁর স্কন্ধে অর্পিত সেই স্কন্দ-কার্তিকেয়ের বাহনের নিকট তো এই গুণগুলিই সর্বাগ্রে প্রকাশিত। আলস্য, তন্দ্রা, নিদ্রা, জড়তা, দীর্ঘসূত্রতা, অসতর্কতা ও অসাবধানতাকে নির্মমভাবে পদানত করতে না পারলে এবং যৌবনোচিত উদ্যম, যোদ্ধৃত্ব, বীর্য ও শক্তি প্রকাশ না করলে কি স্কন্দ-কার্তিকেয় দেবসেনাপতির মর্যাদা লাভ করতে পারতেন, না ত্রিলোকজয়ী তারকাসুরকে পরাভূত ও বিনাশ করতে পারতেন ? কী সংসারজীবনে, কী সাধন-জীবনে, কী কর্মজীবনে সার্থকতা নিহিত ঐ দুর্বলতাসমূহের দমনের এবং ঐ শক্তি প্রকাশের ওপর।

ঐ দমনের পরাকাষ্ঠা, ঐ শক্তি প্রকাশ তাঁর জীবন ও কর্মে দেখিয়েছিলেন বলেই দেবাসুর সংগ্রামে স্কন্দ-কার্তিকেয় চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করেছিলেন। ময়ূর বিষধর সর্পকুলকে ধ্বংস করে আমাদের জীবনকে নিরুদ্বেগ করে। কার্তিকও সভ্যতার শত্রু অসুরকুলকে ধ্বংস করে সভ্যতার পরিত্রাতার ভূমিকায় একদা অবতীর্ণ হয়েছিলেন। জগতের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে কার্তিকেয় ও তাঁর বাহন ময়ূরের গুণাবলীর তাৎপর্য আমাদের বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে।

সর্পের মতো ক্রূর ও খল মানুষেরা সভ্যতার শত্রু। এই সুন্দর পৃথিবীকে তারা প্রতিমুহূর্তে তাদের বিষাক্ত উপস্থিতিতে কলুষিত করছে। তাদের অবস্থান পৃথিবীর বাসযোগ্যতাকে বিনষ্ট করছে। পৃথিবীকে এই সর্পস্বভাব মানুষের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হলে প্রয়োজন সর্পহন্তা ময়ূরের মতো বীর্য ও যোদ্ধৃত্ব। বস্তুত, সর্পস্বভাব যেমন প্রায় সকল মানুষের মধ্যেই কম-বেশি নিহিত, তেমনি নিহিত ময়ূরস্বভাবও। আমাদের অন্তরস্থিত সর্পস্বভাবকে খর্ব ও ধ্বংস করতে হবে আমাদের অন্তরস্থিত ময়ূরস্বভাবের উদ্বোধনের মাধ্যমে।

ময়ূরের মধ্যে যেমন বীর্য ও যোদ্ধৃত্ব প্রকট, তেমনি প্রকট তার যৌবনদৃপ্ততা এবং সৌন্দর্য। যৌবনের ধর্মই হলো দুরতিক্রম্যকে অতিক্রমের উচ্চাভিলাষ, প্রতিবন্ধকের সম্মুখে নতিস্বীকারের প্রবল অনীহা। যৌবনের বৈশিষ্ট্য গতি-অধরাকে ধরার, দুর্লঙ্ঘ্যকে লঙ্ঘন করার দুর্নিবার আকাক্সক্ষা। আর তার মধ্যেই নিহিত যৌবনের প্রকৃত সৌন্দর্য। জড়তা, তন্দ্রা, আলস্য, নিদ্রা প্রৌঢ়ত্বের লক্ষণ এবং বার্ধক্যের ধর্ম।

যৌবনে যদি ঐগুলি দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে যৌবন রাহুগ্রস্ত হয়েছে, যৌবন তার সৌন্দর্য হারিয়েছে, কুশ্রীতা যৌবনকে গ্রাস করেছে। যৌবন এবং সৌন্দর্য যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। পৃথিবীকে সর্পমুক্ত করা যেমন দুঃসাধ্য, তেমনি দুসাধ্য পৃথিবী থেকে স্বর্পস্বভাব মানুষকে বা মানুষের অন্তরস্থিত স্বর্পস্বভাবকে নির্মূল করা। কিন্তু যৌবনদৃপ্ত ময়ূর যেমন সর্প দেখলেই তার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তীক্ষ্ণ চঞ্চু ও শাণিত নখরের আঘাতে তাকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলে, মানুষের মধ্যে যারা ময়ূরস্বভাব অথবা মানুষের মধ্যস্থিত ময়ূরস্বভাব তেমনি জগতের সর্পস্বভাব মানুষের অথবা মানুষের অন্তরস্থিত সর্পস্বভাবের সঙ্গে চিরন্তন সংগ্রামে লিপ্ত। এই সংগ্রামের মনোবৃত্তিই ময়ূরস্বভাব মানুষের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য।

ময়ূরের পঞ্চম বৈশিষ্ট্য প্রাতরুত্থান। এটি তার স্বভাব। প্রাতরুত্থান স্বভাববিশিষ্ট ময়ূর নিদ্রালসতার কাছে আত্মসমর্পণ করে না। সভ্যতার স্থায়িত্ব, স্বাধীনতার স্থায়িত্ব নির্ভর করে মানুষের অনলস তৎপরতার ওপর। পৃথিবীকে সুন্দর রাখতে হলে, পৃথিবীর বাসযোগ্যতা অটুট রাখতে হলে প্রয়োজন ঐ অনলস তৎপরতার-ঐ অতন্দ্র সতর্কতার। দেবসেনাপতি কার্তিক ও তাঁর বাহন ময়ূরের কল্পনায় আমাদের পূর্বপুরুষগণ সেকথাই বোঝাতে চেয়েছিলেন।

আমাদের হুগলী জেলার চুঁচুড়া-বাঁশবেড়িয়া কাটোয়া অঞ্চলের কার্তিক পূজা বিশেষ প্রসিদ্ধ।

শ্রীশ্রী কার্তিক দেবের ধ্যান মন্ত্র —

ॐ কার্তিকেয়ং মহাভাগং ময়ুরোপরিসংস্থিতম্।
তপ্তকাঞ্চনবর্ণাভং শক্তিহস্তং বরপ্রদম্॥
দ্বিভুজং শক্রহন্তারং নানালঙ্কারভূষিতম্।
প্রসন্নবদনং দেবং কুমারং পুত্রদায়কম্॥

অনুবাদ —
কার্তিকদেব মহাভাগ, ময়ূরের উপর তিনি উপবিষ্ট। তপ্ত স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল তাঁর বর্ণ। তাঁর দুটি হাতে শক্তি নামক অস্ত্র। তিনি নানা অংলকারে ভূষিত। তিনি শত্রু হত্যাকারী। প্রসন্ন হাস্যোজ্জ্বল তাঁর মুখ।

শ্রীশ্রী কার্তিক দেবের প্রণাম মন্ত্র —

ॐ কার্তিকের মহাভাগ দৈত্যদর্পনিসূদন।
প্রণোতোহং মহাবাহো নমস্তে শিখিবাহন॥
রুদ্রপুত্র নমস্ত্তভ্যং শক্তিহস্ত বরপ্রদ॥
ষান্মাতুর মহাভাগ তারকান্তকর প্রভো।
মহাতপস্বী ভগবান্ পিতুর্মাতুঃ প্রিয় সদা॥
দেবানাং যজ্ঞরক্ষার্থং জাতস্ত্বং গিরিশিখরে।
শৈলাত্মজায়াং ভবতে তুভ্যং নিত্যং নমো নমঃ॥

অনুবাদ —
হে মহাভাগ, দৈত্যদলনকারী কার্তিকদেব তোমায় প্রণাম করি। হে মহাবাহু, ময়ূর বাহন, তোমাকে নমস্কার। হে রুদ্রের (শিব) পুত্র, শক্তি নামক অস্ত্র তোমার হাতে। তুমি বর প্রদান কর। ছয়। কৃত্তিকা তোমার ধাত্রীমাতা। জনক-জননী প্রিয় হে মহাভাগ, হে ভগবান, তারকাসুর বিনাশক, হে মহাতপস্বী প্রভু তোমাকে প্রণাম। দেবতাদের যজ্ঞ রক্ষার জন্য পর্তবতের চূড়ায় তুমি জন্মগ্রহণ করেছ। হে পর্বতী দেবীর পুত্র তোমাকে সতত প্রণাম করি।

সকলকে শুভ কার্তিক পূজার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


(সংগৃহীত)

যেভাবে এলো ‘রাখের উপবাস’প্রতি বছর সোনারগাঁয়ের বারদীতে লোকনাথ বাবার আশ্রমে কার্তিক মাসের ১৫ তারিখের পর ওই মাসের প্রতি শনি...
16/11/2025

যেভাবে এলো ‘রাখের উপবাস’

প্রতি বছর সোনারগাঁয়ের বারদীতে লোকনাথ বাবার আশ্রমে কার্তিক মাসের ১৫ তারিখের পর ওই মাসের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বাবার আশ্রমে শত শত পুণ্যার্থী নারী ও পুরুষের আগমন ঘটে। সারা দিন ব্যাপী বাবা লোকনাথের নামে উপবাস পালন করে সন্ধ্যায় আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘিয়ের বাতি ও ধূপ-ধূনা জ্বালিয়ে বাবার ধ্যান-ধারণা করে সকলে অনাবিল চিত্তপ্রসাদ পেয়ে থাকেন।

‘একদা শীতলা দেবী বারদী ভূমির উপর দিয়া চলিয়া যাইতে উদ্যত হইলে, বাবা লোকনাথ ইহা বুঝিতে পারেন। শীতলা দেবীর বারদী ভূমি অতিক্রমের পরিণামে এখানে ব্যাপক আকারে বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব ও তাহাতে অকালে প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে। বাবা লোকনাথ ইহাতে বিচলিত হইয়া শীতলা দেবীকে নির্দেশ করেন, বারদীর পথ পরিহার করিয়া তিনি যেন অন্য পথে চলিয়া যান, ইহাতে উভয়ের মধ্যে কিছু বাদ-প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। শীতলা দেবী বাবা লোকনাথকে মান্য করিয়া বারদীর পথ পরিহার করেন’।

এ ঘটনার পর কলেরা, বসন্ত ইত্যাদির উৎপাদ ঠেকানোর নিমিত্তে বাবা লোকনাথ ভক্তগণকে নির্দেশ দেন তাহারা যেন কার্তিক মাসে উপবাস পালন ও আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘৃত-প্রদীপ ও ধূপ-ধূনা প্রজ্জ্বলন করেন। এভাবে রাখের উপবাসের প্রথা প্রচলিত হয়। উক্ত উপবাস প্রথাটি কার্তিক মাসে অনুষ্ঠেয় বিধায় কেহ কেহ এ প্রথাকে ‘কার্তিক ব্রত’ আবার কেহ আবার ‘কার্তিক যজ্ঞ’ নামে অভিহিত করে থাকেন। বিপদ থেকে রক্ষার জন্য যে কয়জন আপনজনের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করা হয়, গুনে গুনে সেই ক’টি প্রদীপই রাখা হয়। চারপাশে সাজানো থাকে নানা রঙের কাটা ফল। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে ঘণ্টা। উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে সবাই একযোগে জ্বালাতে শুরু করে প্রদীপ। একসঙ্গে জ্বলে ওঠে শত শত প্রদীপ। ওপর থেকে দেখা সেই দৃশ্য অনির্বচনীয়। এলাকাজুড়ে শুরু হয় এক আলোর নাচন। প্রদীপ জ্বালানো শেষে ভাঙা হয় সারাদিনের উপবাস। আপনজনের কল্যাণ কামনা করে এই উপবাস করে লোকনাথভক্তরা। কলেরা-বসন্তের হাত থেকে বাঁচার জন্য কার্তিক মাসে উপবাস পালন এবং আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘিয়ের প্রদীপ ও ধূপ-ধূনা জ্বালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বাবা লোকনাথ। সেই থেকে সোনারগাঁয়ের বারদী লোকনাথ আশ্রমে প্রতি বছর কার্তিক মাসে হয় এই উৎসব। ১৫ থেকে ৩০ কার্তিক মাসে এই ১৫ দিনের প্রতিটি শনি ও মঙ্গলবার এই ব্রত অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এখন সব লোকনাথ বাবার মন্দিরেই এই অনুষ্ঠানটি হয়।

শনি দেব কে?।।শনিদেবের জন্মপরিচয়। শনি দেবতা কে ছিলেন?নবগ্রহের একটি অন্যতম গ্রহ, শনি গ্রহকে গ্রহরাজ-ও বলা হয়ে থাকে। শনি হ...
15/11/2025

শনি দেব কে?।।শনিদেবের জন্মপরিচয়।
শনি দেবতা কে ছিলেন?
নবগ্রহের একটি অন্যতম গ্রহ, শনি গ্রহকে গ্রহরাজ-ও বলা হয়ে থাকে। শনি হিন্দুধর্ম মতে একজন দেবতা। শনি উগ্র দেবতা হিসেবে পরিচিত । জ্যোতিষীদের মতে শনির বক্রদৃষ্টির ফলে যে ভালো কাজ করে তার ভালো হয় আর সে মন্দ কাজ করে তাদের সেরূপ শাস্তি হয়। শনি গ্রহ ও সপ্তাহের শনিবার দিনটি শনিদেবের নামে নামকরণ করা হয়। শনিদেব কে শনিশ্চর বা শনৈশ্চর(যিনি আস্তে চলেন) নামেও ডাকা হয়।

পরিচিতি

শনি সনাতন হিন্দু ধর্মের একজন দেবতা যিনি সূর্যদেব ও তার পত্নী ছায়াদেবীর (সূর্যদেবের স্ত্রী ও দেব বিশ্বকর্মার কন্যা দেবী সংজ্ঞার ছায়া থেকে সৃষ্ট দেবী ছায়া) পুত্র, এজন্য তাকে ছায়াপুত্র-ও বলা হয়।শনিদেব, মৃত্যু ও ন্যায় বিচারের দেবতা যমদেব বা ধর্মরাজ ও পবিত্র শ্রী যমুনা দেবীর অনুজ ভ্রাতা।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে একদিন শনির ধ্যানের সময়, তার স্ত্রী দেবী ধামিনী সুন্দর বেশভূষা নিয়ে তার সামনে এলে ধ্যানমগ্ন শনিদেব সেদিকে খেয়াল না করাতে পত্নী ধামিনী বা মন্দা শনিদেবকে অভিশাপ দিলেন, আমার দিকে তুমি ফিরেও চাইলে না! এরপর থেকে যার দিকে চাইবে, সে-ই ভস্ম হয়ে যাবে! কোনো কোনো মতে মনে করা হয় যে এটি মঙ্গলদোষের প্রভাবে হয়েছে। মধ্যযুগীয় গ্রন্থ মতে শনি হলেন একজন দেবতা, যিনি দুর্ভাগ্যের অশুভ বাহক হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু তা প্রকৃতপক্ষে সত্য নয়। শনি ভালোর জন্য ভালো আর খারাপের জন্য খারাপ। তিনি খুব ধৈর্যশীল। উল্লেখ্য,কর্মফল দিতে গিয়ে তিনি অনেকের রোষানলে পড়লেও কখনোই সত্যের পথ থেকে তিনি বিচ্যুত হননি।

মন্দির এবং তীর্থস্থান সমূহ

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এবং বাংলাদেশের হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে শনিদেবের ছোটবড় মন্দির দেখা যায়, এবং সেখানে প্রতি সপ্তাহে শনিবার শনিদেবের সাপ্তাহিক পূজার্চনা হয়ে থাকে। এছাড়াও সারা ভারতে বেশকিছু বড় বড় শনি মন্দির ও তীর্থস্থান উল্লেখযোগ্য, যেমন তিরুনাল্লার শ্রী শনিশ্চর কোইল ,দেওনার-এর শনি দেবালয়ম, মহারাষ্ট্রের শনি-সিঙ্গাপুর মন্দির, তিতওয়ালার শনি মন্দির, মাদুরাই এর নিকটে কুচানুর-এর শনি মন্দির। এছাড়াও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পলাশপুরে শনিদেবের আখড়া,প্রত্নসম্পদ ও মন্দির আছে।

শনিদেবের ব্রত

শনিদেব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা যতই ভয়ভীতিমিশ্রিত হোক না কেন, মৎস্য পুরাণ কিন্তু শনিদেবকে লোকহিতকর গ্রহের তালিকাতেই ফেলেছে।

উৎপন্না একাদশীর মাহাত্ম্য!! অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের কাছে এই একাদশী মাহাত্ম্য শ্রবণ করতে চাইলে শ্রীভগবান বললেন, সত্যযুগে 'মুর'...
15/11/2025

উৎপন্না একাদশীর মাহাত্ম্য!!
অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের কাছে এই একাদশী মাহাত্ম্য শ্রবণ করতে চাইলে শ্রীভগবান বললেন, সত্যযুগে 'মুর' নামে এক দানব ছিল। সে এতই দুরাচারী ছিল যে যুদ্ধে স্বর্গরাজ্য ইন্দ্রকে পরাজিত করে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করেছিল। দেবতারা মহাদেবের কাছে তাদের দুঃখের কথা বললে মহাদেব তাঁদের নিয়ে ক্ষীর সমুদ্রের তীরে বিষ্ণুর কাছে গেলেন। বিষ্ণু দেবতাদের কাছ থেকে জানলেন যে, প্রাচীনকালে ব্রহ্ম বংশে তালজঙ্গা নামে পরাক্রমশালী অসুর ছিল। তারই পুত্র মুর। সে স্বর্গ থেকে দেবতাদের বিতাড়িত করে তার স্বজাতি কাউকে রাজা, কাউকে অন্যান্য দিকপালরূপে প্রতিষ্ঠা করে এখন দেবলোক সম্পূর্ণ অধিকার করেছে। একথা শুনে ভগবান ক্রোধান্বিত হয়ে দেবতাদের সাথে চন্দ্রাবতী পুরীতে গেলেন। দেবতার ও অসুরদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হলো। কেবলমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রে নারায়ণকে একা দেখে সে দানব গর্জন করতে থাকলো। মুর দানব একমাত্র জীবিত ছিল। দেবতাদের হিসাবে ১০০০ বছর যুদ্ধ করার পরও সে পরাজিত হল না। তখন বদ্রিকাশ্রমে ভগবান বিষ্ণু সিংহবতী নামক এক গুহায় শয়ন করলেন। সেখানে এক দানব বিষ্ণুকে নিদ্রিত দেখে মনে করলো বিষ্ণু ভয়ে শয়ন করে আছে। দানবের এই চিন্তার কারণে বিষ্ণুর দেহ থেকে এক কন্যা উৎপন্ন হলো। তার নাম উৎপন্না একাদশী। সে মুর দানবকে বধ করল। বিষ্ণু নিদ্রা থেকে উঠার পর দেখল এই কন্যা মুর দানবকে বধ করেছে।
বিষ্ণু এই একাদশীকে বর দিলেন - এই ব্রত পালনকারীর সমস্ত ইচ্ছা পূর্ণ হবে। এই একাদশী ব্রত পালন করলে বিষ্ণুরই পূজা হবে। এই ব্রত পালনকারীর শত্রু বিনাশ, পরমগতি ও সর্বসিদ্ধি লাভ হবে। একাদশীর উৎপত্তি কোথা থেকে হলো তা শ্রবণ কীর্তন করলে শ্রীহরির আশীর্বাদ লাভ করা যায়।

সংগৃহীত

তুলসী গাছ কেন পূজা করা হয়? তুলসী নামেও পরিচিত, উদ্ভিদটিকে দেবী তুলসীর পার্থিব রূপ বলে মনে করা হয় যিনি ভগবান কৃষ্ণের এক...
12/11/2025

তুলসী গাছ কেন পূজা করা হয়?
তুলসী নামেও পরিচিত, উদ্ভিদটিকে দেবী তুলসীর পার্থিব রূপ বলে মনে করা হয় যিনি ভগবান কৃষ্ণের একনিষ্ঠ উপাসক ছিলেন। তুলসি হল সবচেয়ে পবিত্র উদ্ভিদ যা আমরা ভগবান বিষ্ণুর সাথে সংযোগের কারণে পূজা করি। তুলসী নামেও পরিচিত, উদ্ভিদটিকে দেবী তুলসীর পার্থিব রূপ বলে মনে করা হয় যিনি ভগবান কৃষ্ণের একনিষ্ঠ উপাসক ছিলেন।
তুলসী গাছ কীসের প্রতীক?
তুলসী গাছ, হিন্দুদের জন্য, শুধুমাত্র একটি উদ্ভিদ নয় যা তারা জল দেয়, তবে ভক্তি, বিশুদ্ধতা এবং জ্ঞানের প্রতীক।
হিন্দুরা কি তুলসী পূজা করে?
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তুলসী গাছটি অত্যন্ত শ্রদ্ধার বিষয় এবং এটিকে দেবীর এক রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাস্তবে, অনেক বাড়িতে এটি উঠোনের মাঝখানে জন্মায়। এর উপস্থিতি ঘরকে যেকোনো ধরণের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
তুলসী গাছ নিয়ম অনুসারে না রাখলে বিপদ
হিন্দু ধর্মনুসারে গৃহে তুলসী গাছ রাখা খুব শুভ। কিন্তু যদি সেটা নিয়ম মেনে না রাখা হয় তালে শুভ থেকে অশুভ বেশি হবে ।
আসুন নীচে দেখে নেই নিয়ম গুলো 👉
১. গৃহে তুলসী মঞ্চ রাখুন উত্তর-পূর্ব দিকে।
২. কখনও শিবের পূজোয় তুলসী পাতা দেবেন না। কথিত আছে, শঙ্খচূড়ের স্ত্রী হলেন তুলসী। আর যেহেতু শঙ্খচূড়শিবের হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন তাই তুলসীপাতা দেওয়া নিষেধ।
৩. তুলসী গাছ মারা গেলে তা তুলে অন্য তুলসী গাছ লাগানো দরকার। মরা তুলসী গাছে জল দিলে গৃহস্থের পক্ষে অশুভ। এবং তুলসী গাছটি জলে দিয়ে দেওয়াই ভাল।
৪. তুলসী গাছের জন্য সবসময়েই আলাদা মঞ্চ করা হয়। তবে যত্রতত্র হওয়া তুলসী গাছের পাশে কাঁটাজাতীয় গাছ না রাখার চেষ্টা করবেন তাতে সংসারের অশান্তি বাড়ে।
৫. তুলসীর ভেষজ গুন অসীম। তাই প্রতিনিয়ত তুলসী গাছের কাছে এসে শ্বাস নিলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।
৬. তুলসীপাতা গিলে খাওয়া উচিত। কারণ তুলসী পাতায় থাকা মার্কারি যৌগ দাঁতের পক্ষে খুব ভালো নয়।
৭. তুলসী পাতা দোষ কাটাতে সাহায্য করে। তাই তুলসী পাতা এনার্জিতে সাহায্য করে।
৮. কখনও তুলসী গাছের পাশে ন্যাতা, ঝাঁটা বা অন্যান্য কিছু না রাখা দরকার। কারণ তুলসী গাছ ঠাকুরের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই এসব রাখলে সংসারের অশান্তি লেগেই থাকে।

তুলসী প্রণাম মন্ত্র:
ওঁ বৃন্দায়ৈ তুলসী দেবৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবশ্য চ। বিষ্ণুভক্তি প্রদে দেবী সত্যব ত্যৈ নমো নমঃ॥
অর্থ: বিষ্ণুর প্রিয় ও ভক্তিপ্রদায়িনী সত্যবতী তুলসী দেবীকে প্রণাম করি।
তুলসী প্রণাম মন্ত্র (অন্য একটি):
ওম, ওম তুলসীভ্যে চ বিদ্মহে বিষ্ণুপ্রিয়ায়ে চ ধীমাহি তন্নো বৃন্দা প্রচোদয়াৎ।
অর্থ: হে বিষ্ণু-প্রিয়া দেবী তুলসী, আমাকে আপনার দিব্য রূপের ধ্যান করতে দিন, হে বৃন্দা, আমার মনকে আলোকিত করুন।
জল নিবেদনের মন্ত্র:
তুলসী তুলসী বৃন্দাবন, তুলসী তুমি নারায়ন, তোমার মাথায় ঢালি জল, অন্তিমকালে দিও স্থল।
অর্থ: হে তুলসী, তুমি নারায়ণ, তোমার মাথায় জল ঢালছি, মৃত্যুর সময় আমাকে উদ্ধার করো।
হরে কৃষ্ণ 🙏
ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, আর লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করে অন্যদের ধর্ম জ্ঞান অর্জন করতে সাহায্য করবেন 🙏

ফিরে দেখা, ২৫
12/11/2025

ফিরে দেখা, ২৫

🌟 রাসলীলা কী?​শব্দের অর্থ:​রাস (Rasa): 'রস' শব্দ থেকে 'রাস' শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হলো আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, বা মধুর প...
04/11/2025

🌟 রাসলীলা কী?
​শব্দের অর্থ:
​রাস (Rasa): 'রস' শব্দ থেকে 'রাস' শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হলো আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, বা মধুর প্রেম। এটি হলো ভক্তির সর্বোচ্চ স্তর।
​লীলা (Leela): এর অর্থ হলো খেলা, নৃত্য, বা দিব্য কার্য।
​রাসলীলা: অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ ও গোপিনীদের (শ্রীরাধা সহ) সম্মিলিত আনন্দময় ও অপার্থিব প্রেম-নৃত্য।
​তাৎপর্য:
​সর্বোত্তম লীলা: শ্রীকৃষ্ণের বহু লীলার মধ্যে রাসলীলাকে 'সর্বোত্তম মধুর রস' বা শ্রেষ্ঠ লীলা বলে মনে করা হয়।
​ভক্তির পরাকাষ্ঠা: এটি গোপিনীদের ঈশ্বরের প্রতি নিঃস্বার্থ ভক্তি (প্রেম) এবং আত্মসমর্পণের প্রতীক। গোপিনীরা জাগতিক সব কিছু ভুলে কেবল কৃষ্ণকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়েছিলেন।
​শারীরিক নয়, আধ্যাত্মিক: যদিও এর বর্ণনাকে অনেকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে পার্থিব মনে করেন, বৈষ্ণব শাস্ত্র অনুসারে এটি সম্পূর্ণরূপে অপ্রাকৃত ও আধ্যাত্মিক। এই লীলাতে গোপীরা কৃষ্ণের কাছে নিজেদের আত্মা সমর্পণ করেছিলেন।
​ঘটনার স্থান ও সময়:
​স্থান: বৃন্দাবন ধাম (যমুনা নদীর তীরে)।
​তিথি: সাধারণত কার্তিক মাসের পূর্ণিমা রাতে (শারদ পূর্ণিমা বা রাস পূর্ণিমা তিথিতে) এই লীলা অনুষ্ঠিত হয়।
​✨ রাসলীলার প্রধান বৈশিষ্ট্য (মহারাস)
​মণ্ডলীয় নৃত্য (রাস-নৃত্য): রাসলীলা হলো এক বিশেষ ধরণের নৃত্য, যেখানে অসংখ্য গোপিনী একটি বৃত্তাকারে নৃত্য করেন এবং সেই বৃত্তের কেন্দ্রে থাকেন শ্রীকৃষ্ণ।
​বহু রূপে কৃষ্ণ: এই নৃত্যের অলৌকিকত্ব হলো, যখন গোপীরা তাদের অহংকারের কারণে মনে করতে শুরু করেন যে কেবল তাঁরাই কৃষ্ণের সঙ্গে আছেন, তখন শ্রীকৃষ্ণ প্রত্যেক গোপিনীর পাশে নিজেকে বহু রূপে প্রকাশ করেন। অর্থাৎ, প্রত্যেক গোপিনী অনুভব করেন যে কৃষ্ণ একাই কেবল তার সঙ্গে নৃত্য করছেন। এটি হলো ঈশ্বরের অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্বের এক অলৌকিক প্রকাশ।
​অহং দূরীকরণ: গোপীরা যখন কৃষ্ণকে একান্তভাবে পেয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করেন, কৃষ্ণ তখন হঠাৎ অন্তর্হিত হন। এতে গোপীদের অহংকার চূর্ণ হয় এবং তাঁরা কেবল বিচ্ছেদ-প্রেমের মাধ্যমে কৃষ্ণকে খোঁজেন। এই বিরহ শেষে কৃষ্ণ আবার আবির্ভূত হয়ে রাসলীলা পূর্ণ করেন।
​সংক্ষেপে, রাসলীলা হলো শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধা এবং গোপিনীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সেই দিব্য প্রেমলীলা, যা মানুষকে জাগতিক বন্ধন ছিন্ন করে ঈশ্বরের প্রতি নিঃস্বার্থ ও শুদ্ধ প্রেমের পথে চালিত করে।
​ #রাসলীলা (Rasleela)
​ #রাসপূর্ণিমা (RaasPurnima)
​ #শ্রীকৃষ্ণ (ShriKrishna)
​ #রাধাকৃষ্ণ (RadhaKrishna)
​ #বৃন্দাবন (Vrindavan)
​ #গোপিনী (Gopinis)
​ #প্রেমরস (PremRas)

03/11/2025

হিন্দুদের বিনাশের কারন

১.যাকে তাকে ভগবান বলা
২.একতাবদ্ধ না হয়ে একে অন্যের পিছনে লাগা
৩.ধর্মের নামে নেশা করে মজা করা
৪.নিজ ধর্ম সমন্ধে পরিপূর্ন ঞ্জান না থাকা
৫.সন্তানকে ধর্ম শিক্ষা না দেওয়া
৬. নিজ ধর্ম নিন্দার প্রতিবাদ না করা

Address

H. M. M Road
Jessore
7400

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী পুরাতন কালী মন্দির,যশোর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category