17/08/2022
বুরাইদাহ শহরের সুপরিচিত একটি মসজিদের একটি ঘটনা।
কিয়ামুল লাইলের জন্য মহিলারা বসে অপেক্ষা করছেন। গত কদিন নিয়মিত সালাতে আসাতে পরস্পরের মুখ এখন পরিচিত। মেয়েটার বয়স হয়ত পঁচিশ ছাব্বিশ হবে, বা আরো কম। প্রতিদিন তারাবিতে অনেক কান্নাকাটি করে। সে হাফিজা। তার এই পাশে যে বসেছে, সেই মেয়েটির হাতে হাদীসের বই। হাফিজা মেয়েটি বুঝতে পারলো এই মেয়েটির হাতে হাদীসের সেই বইটির অর্থ হলো, অন্য মেয়েটিও হাফিজা, এবং হাদীস মুখস্থ করছে। কিছুক্ষণ আলাপের পর জানা গেল দ্বিতীয় মেয়েটির বুখারী ও মুসলিম এর হাদীস সব মুখস্থ। প্রথম মেয়েটি যখন একথা শুনে খুশি হয়ে তার ওই পাশের মহিলাকে এই মেয়েটির কথা বললো, মহিলা জানালেন তার মেয়ের কুরআন এবং হাদিস সব মুখস্থ, তিনি এখন হাদীসের শিক্ষিকা।
চাঁদের হাট, তাই না? সেই মসজিদের শতাধিক মহিলাদের মাঝে মাত্র তিনজন এরা। খুঁজলে হাফিজা, প্রায় হাফিজা, বুখারী মুখস্থ, মুসলিমের হাদীস মুখস্থ, সব হাদীস মুখস্থ, উস্তাযা- এমন অনেক পাওয়া যাবে। অনেকের মাঝে "আমি কিছু একটা হয়ে গেছি" ভাবার উপায় নেই কারো-" তুমি যেমন, এমন আরও অনেক আছে, প্রতি কাতারে!"
সৌদি আরবের এই গল্পগুলো মানুষ সহজে করে না- এখানে বছরের পর বছর থেকেও এই জগৎটাকে জানেই না বেশিরভাগ। জানার সময়ই কই? এখন নেগেটিভ গল্প অনেক শোনা যায়, সেগুলো অনেকাংশে সত্য, আবার কখনো সত্য না। সেগুলো প্রচার করতে অনেক উৎসাহ সকলের- কিন্তু এই চিত্র- এই আলো, মহিলাদের এই এগিয়ে যাওয়া, সন্তানদের এই পথে হাঁটতে শেখানোর মত বাবা-মা... এই গল্পগুলো সহজে কেউ করে না।
অন্যের বদনাম করতে তেমন কিছু লাগে না। তাতে তেমন একটা উপকারও হয় না নিজেদের। কিন্তু অন্যের ভালো থেকে শেখার অনেক কিছু আছে তাই না? নাহয় এদেশের এই ভালো থেকে আমরা এই শিক্ষাটা নেই যে, আমাদেরও এই স্বপ্ন দেখা উচিত যে আমাদের সন্তান, আপনাদের সন্তান, সবার সন্তান দ্বীনের ধারক বাহক হবে! হৃদয়ে নিয়ে ঘুরবে কুরআন-সুন্নাহ! একেবারে সাধারণ একটি কাতারের দিকে তাকালেও দেখা যাবে কেউ হাফিজা, কেউ হাদীস মুখস্থ করছে, আর কেউ বা হাফিজার মা!
স্বপ্ন দেখতেই নাহয় শিখি আমরা, to start with!
তারাবীর সালাতে ইমাম যখন ভুল করেন, টের পাই আশপাশের মহিলারা নড়ে ওঠেন, বা অভ্যাসে এক হাতের ওপর আরেক হাত দিয়ে বাড়ি দেন। ইমাম তো শুনবেন না এত দূর থেকে। তাও অভ্যাসে হয়ে যায় এমন। কেন জানেন? কারণ এই মহিলারা হাফিজা। একজন যে হাফিজা, এটা বুঝতে তাকে জিজ্ঞেসও করা লাগে না বেশিরভাগ সময়। খুব সামান্য তিলাওয়াতের ভুলও ধরতে পারছেন, পুরুষরা কেউ ইমামকে শুধরে দেয়ার আগেই এই মহিলারা নড়ে উঠছেন- বুঝাই যায় যে, মুখস্থ। শুধু তাই না। খুঁজলে দেখা যাবে এদের অনেকে সনদপ্রাপ্ত। হয়তোবা ইমামের চেয়েও বেশি র কোয়ালিফাইড। হয়তোবা কেন- এমন কত আছে!
একটা গ্রূপে আছি, প্রতিদিন সকালে আরব মহিলারা তিলাওয়াত করেন। মহিলাদের তিলাওয়াত রেকর্ড/প্রচার করা হয় না। নাহলে পুরুষ কত ক্বারীকে হার মানতেন এই বোনেরা!
নারীদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে পুরা দুনিয়া ওলট পালট হয়ে যাচ্ছে, এটা হলো মুসলিম নারীর "উচ্চশিক্ষা"। বুঝেছেন?
আর এই যে উচ্চশিক্ষিতা হয়েও চুপ করে থাকা, পুরুষ ইমামের পেছনেই সালাত আদায় করা, আল্লাহর সীমায় থাকা- এটাও উচ্চশিক্ষা এবং সেই শিক্ষার প্রয়োগ। এঁরা আল্লাহর বান্দা। তাই আল্লাহর সীমাতেই থাকবেন। এঁদের জ্ঞান অর্জন আল্লাহর জন্য, সেই জ্ঞানের প্রয়োগও আল্লাহর জন্য। কথা বলা আল্লাহর জন্য। আর চুপ থাকাও আল্লাহর জন্য। যেহেতু আল্লাহর জন্য, তাই সব কিছু আল্লাহর নির্ধারিত সীমায় থেকেই হবে। তার বাইরে যেয়ে না।
তাই সত্যিকারের মুসলিম নারীদের "বেচারী" ভাবার ভুলটা করবেন না যেন। এখানে "আমি বেশি না আমি কম" এর ব্যাপারই নেই। "আল্লাহ যা চান, আমি তাইই হব"- এটাই লক্ষ্য- আর হ্যাঁ, এই লক্ষ্যে মুসলিম/মুসলিমাহ তে ভেদাভেদ নেই।
একজন পুরুষ ইমাম হন আল্লাহর জন্য। আর একজন নারী পুরুষদের ইমামতি করেন না সেটাও আল্লাহর জন্য। মুসলিম নারীদের "বেচারী" হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না!
©Reflections
🌸