20/07/2025
জুলাই আন্দোলনের শহীদ কামালের মেয়ের কথা শুনে আজ মনটা খুব ভেঙে পড়লো।
তিনি কষ্ট করে বলছিলেন, আমাদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি, কেউ দায়িত্ব নেয়নি। অনেক বড় বড় দল এসেছে, মিডিয়ার সামনে আমাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কেউ বলেছে, ‘আপনাদের দায়িত্ব আমরা নেবো’, কেউ বলেছে, আপনারা একা নন। কিন্তু বাস্তবে? তারা আমাদের হাতে পাঁচ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে চলে গেছে। এরপর আর কারো কোনো খোঁজ নেই।
শুধু জামায়াতে ইসলামই ছিল ব্যতিক্রম।
তারা একেবারে কোনো প্রচার ছাড়াই দুই লক্ষ টাকা দিয়েছে। এমনকি আমার মায়ের পিত্তথলিতে পাথর হয়েছিল, অপারেশন করার দরকার ছিল, তারও সম্পূর্ণ খরচ দিয়েছে জামায়াত। শুধু একবার নয় আজও তারা আমাদের খোঁজখবর রাখে, পাশে থাকে।
এই কথাগুলো শুনে আমার চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারিনি। একটানা চেয়ে ছিলাম, মনে হচ্ছিল, মানবতা এখনো মরে যায়নি।
আসলে এক মজলুমই বোঝে আরেক মজলুমের কষ্ট। যার নিজে কষ্টের ভিতর দিয়ে যেতে হয়েছে, সেই-ই অন্যের কষ্টের মর্ম বুঝে।
প্রতিবছর জামায়াতে ইসলামী জুলাই আন্দোলনের শহীদদের পরিবারের প্রতি জনকে দুই লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেয়। কিন্তু আমরা কয়জন জানি? কয়টা মিডিয়ায় এই খবর প্রচার হয়? আসলে, এই সংগঠনটি ফলাও করে প্রচারও করে না। তারা জানে, কাজ করতে হয়, ছবি তুলে শেয়ার দিতে নয়। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়, হেডলাইন বানাতে নয়।
তারা শুধু সাহায্যই করেনি, বরং শহীদদের জীবনের কথা, তাদের আত্মত্যাগ, পরিবারের সংগ্রাম এসব সংরক্ষণ করতে শুরু করেছে। বই বের করছে, স্মৃতি ধরে রাখছে।
আমি জানি না, জামায়াত অতীতে কী করেছে। বিতর্ক, সমালোচনা সব দলেরই থাকে। কিন্তু আজকের বাস্তবতায়, জুলাই আন্দোলনের একমাত্র ধারক-বাহক যদি কেউ হয়, তাহলে তা জামায়াতই।
অনেকে এই কথায় হয়তো কষ্ট পাবে, অনেকে ভিন্নমত পোষণ করবে। কিন্তু আমি বলি, একটা দল যদি প্রচার ছাড়াই মানুষের পাশে থাকে, দায়িত্ব নেয়, সাহায্য করে—তবে তারা শ্রদ্ধার দাবিদার।
আমার চোখে জামায়াত এখন শুধু একটি রাজনৈতিক দল না, বরং একটি মানবিক সংগঠন। আজকের দিনে যেখানে সবাই রাজনীতি করে নিজের স্বার্থের জন্য, সেখানে জামায়াত নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।
জানি না তারা ভবিষ্যতে কী করবে, রাজনীতিতে কেমন হবে কিন্তু বর্তমানে তারা যা করছে, সেটা প্রশংসার যোগ্য। তারা মানুষের পাশে আছে, দায়িত্ব নিচ্ছে আর এটাই আসল মানবতা।
লিখেছেন, Mohammad Shiem Shidy