13/06/2026
আপনার সমর্থন ছাড়া আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি বা পর্তুগালের কিছুই আটকে থাকবে না।
তবুও আপনি কাঁদবেন।
রাগ করবেন।
ঝগড়া করবেন।
রাত জেগে ম্যাচ দেখবেন।
স্ট্যাটাস দেবেন।
কখনো কখনো সম্পর্ক নষ্ট করবেন।
কেন?
কারণ অধিকাংশ সমর্থকের জন্য ফুটবল আসলে শুধু একটা খেলা না।
এটা তাদের পরিচয়ের ক্ষুধার সাথে সম্পর্কিত।
মানুষ শুধু বাঁচতে চায় না।
সে গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করতে চায়।
সে অনুভব করতে চায়—"আমি কারো না কারো অংশ।"
"আমি কোনো বড় কিছুর সাথে যুক্ত।"
"আমার অস্তিত্বের একটা অর্থ আছে।"
আর এখানেই শুরু হয় এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক খেলা।
বাস্তবে আপনি ব্রাজিলিয়ান না।
আর্জেন্টাইন না।
পর্তুগিজ না।
আপনার জন্ম, বেড়ে ওঠা, সংগ্রাম, ভবিষ্যৎ—কোনোটার সাথেই এই দলগুলোর বাস্তব কোনো সম্পর্ক নেই।
তবুও আপনি তাদের জয়ে আনন্দিত হন, তাদের হারে ভেঙে পড়েন।
কারণ মানুষ অনেক সময় নিজের জীবনে অর্থ তৈরি করতে না পেরে ধার করা অর্থে বাঁচতে শুরু করে।
সে নিজের কোনো অর্জনের জন্য গর্বিত না।
তাই সে অন্যের অর্জনকে নিজের অর্জন বানিয়ে নেয়।
সে নিজে কোনো যুদ্ধ জেতেনি।
তাই অন্যের ট্রফিকে নিজের বিজয় বলে অনুভব করে।
সে নিজে কোনো ইতিহাস তৈরি করেনি।
তাই অন্যের ইতিহাসের সাথে নিজের নাম কল্পনায় জুড়ে দেয়।
মনোবিজ্ঞানে এটাকে বলা হয় Basking in Reflected Glory।
অর্থাৎ, অন্যের সাফল্যের আলোতে দাঁড়িয়ে নিজেকে উজ্জ্বল অনুভব করা।
যখন একজন মানুষ নিজের পরিচয়, মর্যাদা এবং আত্মমূল্যকে নিজের চরিত্র, জ্ঞান, কাজ বা অবদানের উপর না দাঁড় করিয়ে একটা ফুটবল দলের উপর দাঁড় করায়, তখন সে অজান্তেই নিজের সত্তাকে ছোট করে ফেলে।
কারণ তখন তার গর্বের উৎস আর সে নিজে না।
তার গর্বের উৎস হয়ে যায় এমন কিছু, যার উপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, কোনো অবদান নেই, কোনো মালিকানাও নেই।
ভাবুন তো—
আপনার জীবনের সবচেয়ে তীব্র আনন্দ যদি আসে এমন এক গোল থেকে, যেখানে আপনার কোনো ভূমিকা নেই—
আর সবচেয়ে তীব্র হতাশা যদি আসে এমন এক হারের কারণে, যেখানে আপনার কোনো দায়ও নেই—
তাহলে আপনার আবেগের মালিক আসলে কে?
আপনি?
নাকি অন্য কেউ?
মানুষের সবচেয়ে বড় সম্মান হলো তার স্বাধীন সত্তা।
তার বিবেক।
তার চিন্তা।
তার নিজস্ব অর্জন।
কিন্তু পরিচয়ের সংকটে ভোগা মানুষ প্রায়ই নিজের সেই সত্তাকে যথেষ্ট মনে করে না।
তাই সে নিজেকে বড় দেখানোর জন্য বড় কিছুর সাথে জুড়ে দেয়।