26/06/2026
কারবালার উত্তপ্ত মরুভূমি। চারিদিকে ইয়াজিদের বিশাল সেনাবাহিনীর অবরোধ। ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তাঁর পরিবার তিন দিন ধরে তৃষ্ণার্ত।
প্রধান চরিত্র: ইমাম হুসাইন (আ.), শিশু আলী আসগার এবং ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর তীরন্দাজ হারমালা।
(মরুভূমির উত্তপ্ত বাতাসের শব্দ। ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর তাঁবুর কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। তিনি তাঁবুর দিকে এগিয়ে যান। বিবি রুবাব তাঁর ছয় মাসের শিশু আলী আসগারকে কোলে নিয়ে কাঁদছেন। তৃষ্ণায় শিশুটির গলার স্বর বসে গেছে।)
বিবি রুবাব: (কাঁদতে কাঁদতে) ওগো, আলী আসগার হয়তো আর বাঁচবে না। তৃষ্ণায় তার ঠোঁট ফেটে যাচ্ছে। দুধের বদলে তার মুখে দেওয়ার মতো এক ফোঁটা পানিও নেই। আপনি কি ওকে একটু ফোরাতের কাছে নিয়ে যাবেন? হয়তো শত্রু ওর নিষ্পাপ মুখ দেখে একটু পানি দেবে।
(ইমাম হুসাইন (আ.) একটু দ্বিধায় পড়লেন। তিনি জানেন ইয়াজিদের সেনারা কতটা নিষ্ঠুর। কিন্তু তৃষ্ণার্ত শিশুর কষ্ট দেখে তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তিনি আলী আসগারকে বিবি রুবাবের কোল থেকে তুলে নিলেন।)
ইমাম হুসাইন (আ.): (আলী আসগারকে বুকে জড়িয়ে) হে আমার নিষ্পাপ ফুল! ইয়াজিদের সেনারা কি সত্যিই এত নিষ্ঠুর হবে যে এই শিশুর জন্যও একটু পানি দেবে না?
(ইমাম হুসাইন (আ.) আলী আসগারকে কোলে নিয়ে সেনাবাহিনীর সামনে এগিয়ে গেলেন। তিনি তাঁর হাত তুলে আলী আসগারকে ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর দিকে উঁচিয়ে ধরলেন। তাঁর কণ্ঠস্বর করুণ এবং আবেগপূর্ণ।)
ইমাম হুসাইন (আ.): (উচ্চস্বরে) হে ইয়াজিদের সেনারা! শোনো! তোমরা যদি মনে করো আমি তোমাদের শত্রু, তাহলে আমাকে হত্যা করো। কিন্তু এই নিষ্পাপ শিশুর অপরাধ কী? ও তিন দিন ধরে পানি পায়নি। ওর তৃষ্ণা নিবারণ করো। ও আমার সাথে ফোরাতের দিকে যেতে চায় না, ও শুধু একটু পানি চায়। তোমরা কি ওকেও ফোঁটা পানি দিতে পারো না?
(ইমাম হুসাইনের কথা শুনে ইয়াজিদের সেনাদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হলো। অনেকে মনে মনে লজ্জিত হলো। ওমরের ইবন সাদ পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তীরন্দাজ হারমালাকে ডেকে আনল।)
ওমর ইবন সাদ: হারমালা! শোনো! তুমি কি ওই শিশুর জন্য একটু পানি দিতে পারো না?
হারমালা: (ক্রুর হাসি দিয়ে) হ্যাঁ, কেন পারব না? ফোরাতের পানি তো ওর জন্য নয়, ওর জন্য আমি একটি নতুন ধরনের পানি নিয়ে এসেছি।
(হারমালা তার ধনুক থেকে একটি বিষাক্ত, ধারালো তীর বের করল। সে তীরটি লক্ষ্য করল। তীরটি ছুটে গেল... এবং... সঠিক আল আসগারের গলায় লাগল।)
(এক মুহূর্তের নীরবতা। তারপর, একটা করুণ আর্তনাদ। আলী আসগারের ছোট শরীরটা একটু কেঁপে উঠল, তারপর শান্ত হয়ে গেল। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হাতের মধ্যে আলী আসগারের নিথর দেহ। তাঁর চোখে জল, তাঁর মুখে শোকের ছায়া।)
ইমাম হুসাইন (আ.): (ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে) হে আমার নিষ্পাপ শিশু! তোমরা কি ওকেও হত্যা করলে? তোমরা কি এই ছোট্ট ফুলের প্রতিও সহানুভূতি দেখাতে পারলে না?
(ইমাম হুসাইন (আ.) আলী আসগারের দেহ বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সাথে সাথে যেন পুরো কারবালা কেঁদে উঠল।)