দেহতরী

দেহতরী এটি সনাতন ধর্ম ,আত্মতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব সম্পর্কিত একটি পেইজ।

21/09/2025
পঞ্চতত্ত্বপঞ্চদশ শতকে পৃথিবীতে আবির্ভুত ঈশ্বরের (কৃষ্ণ) পাঁচটি অবতার হলেন পঞ্চতত্ত্ব। এরা হলেন চৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন...
30/06/2025

পঞ্চতত্ত্ব
পঞ্চদশ শতকে পৃথিবীতে আবির্ভুত ঈশ্বরের (কৃষ্ণ) পাঁচটি অবতার হলেন পঞ্চতত্ত্ব। এরা হলেন চৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ, অদ্বৈত আচার্য, গদাধর পণ্ডিত ও শ্রীনিবাস ঠাকুর। এঁদের দ্বারা ভারতবর্ষে বিখ্যাত হরে কৃষ্ণ মন্ত্র ও শ্রীকৃষ্ণের ভক্তির (নিষ্ঠা) কথা ছড়িয়ে পরে।
মহর্ষি কৃষ্ণদৈপায়ন শ্রীবেদব্যাস প্রণীত (বৃহৎ সচিত্র) গরুড় পুরাণ(পৃষ্ঠা-39)দ্বাদশ অধ্যায় *পঞ্চতত্ত্বার্চন* বাসুদেব,সঙ্কর্ষন,অনিরূদ্ধ আর। প্রদুম্ন ও নারায়ণ রূপ যে তাঁহার। এই পাঁচজন দেবতা হলেন পঞ্চতত্ত্ব।
চৈতন্য মহাপ্রভু- স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ-এর কলিযুগাবতার। -(ত্রেতায় রাম, দ্বাপরে গোবিন্দ)
নিত্যানন্দ মহাপ্রভু- স্বয়ং ভগবান অনন্ত-শেষ শ্রী সঙ্কর্ষণ এর কলিযুগাবতার। -(ত্রেতায় লক্ষ্মণ, দ্বাপরে বলরাম)
অদ্বৈত আচার্য- ভগবান বিষ্ণু এবং মহাদেব শিবের মিলিত কলিযুগাবতার।
গদাধর পণ্ডিত- শ্রী রাধা এবং ভগবান কৃষ্ণের অভ্যন্তরীন শক্তির যৌথ কলিযুগাবতার। -(ত্রেতায় সীতা, দ্বাপরে রাধা)
শ্রীনিবাস ঠাকুর/শ্রীবাস ঠাকুর- ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অকৃত্রিম উপাসক দেবর্ষি নারদ এর কলিযুগাবতার।

· জয় শ্রী-কৃষ্ণ-চৈতন্য প্রভু-নিত্যানন্দ।
· শ্রী-অদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাধি-গৌর-ভক্ত-বৃন্দ।।

রথযাত্রার ইতিহাস —কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর অনেকদিন কেটে গেছে। শ্রীকৃষ্ণ তখন দ্বারকায়। শ্রীকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা বলরাম যোগ...
27/06/2025

রথযাত্রার ইতিহাস —

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর অনেকদিন কেটে গেছে। শ্রীকৃষ্ণ তখন দ্বারকায়। শ্রীকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা বলরাম যোগবলে দেহত্যাগ করার পর শ্রীকৃষ্ণ এক বনে গিয়ে ধ্যান শুরু করেন।

একদিন তিনি গাছের উপর পা ঝুলিয়ে বসে ছিলেন। তাঁর রাঙা চরণকে টিয়া পাখি ভেবে ভুল করে তীর নিক্ষেপ করে বসল এক শবর। নাম তার জরা। বাম পায়ে তীরের আঘাতেই অবশেষে জীবনাবসান হল শ্রীকৃষ্ণের !

অপঘাতে শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে অর্জুন ছুটে এলেন দ্বারকায়। দেহ সৎকারের সময় অর্জুন দেখলেন, গোটা দেহটা পুড়লেও সখার নাভিদেশ তো পুড়ছে না !

তখনই হল দৈববাণী, ‘ইনিই সেই পরমব্রহ্ম। অর্জুন, এঁকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করো। সমুদ্রেই ওঁর অনন্তশয়ন।’ অর্জুন তাই করলেন। ঢেউয়ের মাথায় ভাসতে ভাসতে এগিয়ে চলল পরমব্রহ্ম সেই নাভি। আর তাকে লক্ষ করে সমুদ্রের তীর ধরে ছুটে চলল অনার্য সেই শবর – জরা। শেষ অবধি তার তীরের আঘাতেই মৃত্যু হল ভগবানের !

দ্বারকা থেকে পুরী পর্যন্ত ছুটে চলা। অবশেষে এখানেই ভগবানের স্বপ্নাদেশ পেল সে, ‘কাল ভোরে আমাকে তুলে নে, এখন থেকে তোর বংশধর, শবরদের হাতেই পুজো নেব আমি’। তখন থেকে নীলমাধবরূপে তিনি পূজিত হতে থাকলেন শবরদের কাছে। সময়টা দ্বাপর যুগ।

এরপর এলো কলি যুগ। শাস্ত্র মতে শ্রীকৃষ্ণের পরলোকগমনের মধ্যে দিয়েই ৩১০১ খ্রিস্টপূর্বের ১৮ই ফেব্রুয়ারি মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে শুক্রবারে দ্বাপর যুগের সমাপ্তি ঘটে ও কলি যুগের সূচনা হয়।

কলি যুগে কলিঙ্গের রাজা তখন ইন্দ্রদ্যুম্ন দেব। তিনি ছিলেন বিষ্ণুর ভক্ত। সেই উদ্দেশ্যে তিনি গড়ে তুললেন একটি মন্দির, শ্রীক্ষেত্রে। এখন আমরা তাকে চিনি জগন্নাথধাম রূপে। কিন্তু মন্দিরে বিগ্রহ নেই।

রাজসভায় একদিন কথা প্রসঙ্গে তিনি জানতে পারলেন নীলমাধবের কথা। ইনি নাকি বিষ্ণুরই এক রূপ। অমনি চারদিকে লোক পাঠালেন রাজা। এঁদের প্রত্যেকেই ধার্মিক ব্রাহ্মণতনয়। বাকিরা খালি হাতে ফিরে এলেও, ফিরলেন না একজন – বিদ্যাপতি। তিনি জঙ্গলের মধ্যে পথ হারালে তাঁকে উদ্ধার করলেন সুন্দরী শবর কন্যা ললিতা। নিয়ে এলেন তাদের বাড়ি।

ললিতা শবররাজ বিশ্ববসুর কন্যা। ললিতার প্রেমে পড়লেন বিদ্যাপতি। বিয়ে হল দুজনের। বিয়ের পর বিদ্যাপতি আবিষ্কার করলেন রোজ সকালেই শবররাজ কয়েক ঘণ্টার জন্য কোথাও উধাও হয়ে যান, আবার ফিরে আসেন। কোথায় যান বিশ্ববসু ! স্ত্রীকে প্রশ্ন করতে বিদ্যাপতি জানতে পারলেন জঙ্গলের মধ্যে একটি গোপন জায়গায় নীলমাধবের পূজো করতে যান শবররাজ বিশ্ববসু।

নীলমাধবের সন্ধান যখন পাওয়া গেছে, তখন আর ছাড়ার নয়। অমনি বিদ্যাপতি বায়না ধরলেন, তিনিও দর্শন করবেন নীলমাধবকে। বিশ্ববসু প্রথমে রাজি না হলেও, অবশেষে মত দিলেন। তবে শর্তসাপেক্ষে। বিগ্রহ পর্যন্ত চোখ বেঁধে যেতে হবে বিদ্যাপতিকে। জামাতা হলেও বিদ্যাপতিকে কোন ভাবে নীলমাধবের সন্ধান দিতে রাজি ছিলেন না বিশ্ববসু।

বিদ্যাপতিও ছাড়ার পাত্র নন। চোখ বাঁধা অবস্থায় যাওয়ার সময় তিনি গোটা পথটায় সরষের দানা ছড়াতে ছড়াতে গেলেন। যথাস্থানে পৌঁছে যখন তিনি দর্শন পেলেন নীলমাধবের, তখন তাঁর প্রাণ আনন্দে ভরে উঠল।

বনের মধ্যে পূজোর ফুল কুড়িয়ে এনে বিশ্ববসু যখন পূজোয় বসলেন, অমনি দৈববাণী হল, ‘এতদিন আমি দীন-দুঃখীর পূজো নিয়েছি, এবার আমি মহাউপাচারে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পূজো নিতে চাই।’

ভীষণ রেগে গেলেন শবররাজ। ইষ্টদেবতাকে হারাবার দুঃখে বন্দী করলেন বিদ্যাপতিকে। কিন্তু কন্যা ললিতার বারবার কাকুতি মিনতিতে বাধ্য হলেন জামাতাকে মুক্ত করতে। বিদ্যাপতিও সঙ্গে সঙ্গে এই খবর পৌঁছে দিলেন রাজার কাছে। ইন্দ্রদ্যুম্ন মহানন্দে জঙ্গলের মধ্যে সেই গুহার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন ভগবানকে সাড়ম্বরে রাজপ্রাসাদে আনতে। কিন্তু একি, নীলমাধব কোথায় ! আটক হলেন শবররাজ।

তখন দৈববাণী হল যে, 'পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা একটি কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে তার মূর্তি নির্মাণ করার।'

হাজার হাজার হাতি, ঘোড়া, সেপাইসাস্ত্রী, লোকলস্কর নিয়েও সমুদ্র থেকে তোলা গেল না সেই কাঠ। শেষে কাঠের একদিক ধরলেন শবররাজ আর একদিক ব্রাহ্মণপুত্র বিদ্যাপতি। জগন্নাথের কাছে ব্রাহ্মণ-শবর কোনও ভেদাভেদ নেই যে !

রাজা তাঁর কারিগরদের লাগালেন মূর্তি গড়তে। কিন্তু সেই কাঠ এমনই পাথরের মত শক্ত যে ছেনি, হাতুড়ি সবই যায় ভেঙে। মূর্তি নির্মাণের জন্য রাজা, একজন উপযুক্ত কাষ্ঠশিল্পীর সন্ধান করতে থাকেন। তখন এক রহস্যময় বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কাষ্ঠশিল্পী পরিচয়ে, তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হন এবং মূর্তি নির্মাণের জন্য একুশদিন সময় চেয়ে নেন। সেই কাষ্ঠশিল্পী রাজাকে একটি শর্ত দেন, মূর্তি নির্মাণকালে কেউ যেন তাঁর ঘরে না আসে।

বন্ধ দরজার আড়ালে শুরু হয় মূর্তি নির্মাণের কাজ। রাজা ও রানি সহ সকলেই নির্মাণকাজের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ইন্দ্রদ্যুম্নের রানি গুণ্ডিচা রোজই রুদ্ধ দুয়ারে কান পেতে শোনেন কাঠ খোদাইয়ের কাটার ঠক্ ঠক্ শব্দ। চোদ্দদিন পর হঠাৎ রানি দেখলেন রুদ্ধদ্বার কক্ষ নিস্তব্ধ। কী হল !

অত্যুৎসাহী রানি কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। দেখেন মূর্তি তখনও অর্ধসমাপ্ত এবং কাষ্ঠশিল্পী অন্তর্ধিত হয়েছেন। কথিত আছে, এই রহস্যময় কাষ্ঠশিল্পী ছিলেন আসলে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা।

কিন্তু মূর্তির হাত-পা নির্মিত হয়নি বলে রাজা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কৌতুহলবশত, তারা যে ভুল করে ফেলেছেন, তার জন্য অনুতাপ করতে থাকেন। তৎ মুহূর্তে দেবর্ষি নারদ তার সম্মুখে আবির্ভূত হন। নারদ রাজাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন এই অর্ধসমাপ্ত মূর্তি পরমেশ্বরের এক স্বীকৃত স্বরূপ। একদা দ্বারকায় আগমনকালে নিজ মাতার মুখে নিজেরই বাল্যলীলার কথা শ্রবণে আনন্দবিহ্বল কৃষ্ণ, সুভদ্রা ও বলরামের হস্ত-পদ গলে গিয়েছিল। জগন্নাথ অনন্য, তাঁর হস্ত-পদ নিষ্প্রয়োজন, কারণ যিনি সর্বব্যাপী তার স্থানপরিবর্তন এর কোনরূপ প্রয়োজন হয় না। তিনি যে চিরদ্রষ্টা পরমাত্মা, তাই তাঁর জগদপ্রসারী চক্ষু বর্তমান। জীব তাঁকে যা অর্পণ করে তিনি তাই সহাস্যবদনে দশগুণ ফিরিয়ে দেন।

এরপর জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা পুরুষোত্তমক্ষেত্র নীলাচলে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নর সম্মুখে দারুব্রহ্মরূপে প্রকটিত হয়েছিলেন। রাজাকে স্বপ্ন দিয়ে জগন্নাথ বললেন যে এমনটা আগে থেকেই পুনর্নির্ধারিত ছিল। তিনি এই রূপেই পূজিত হতে চান। সেই থেকেই জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার মূর্তি ওভাবেই পূজিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে।

পুরীর মন্দিরের বর্তমান স্থান রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন কর্ত্তৃক নির্বাচিত হয়। ১১১৯ খ্রীষ্টাব্দে গঙ্গাবংশের রাজা ভীমদেব কর্তৃক জগন্নাথদেবের মন্দির নির্মিত হয় এবং পুষ্যানক্ষত্রযুক্ত বৈশাখ মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে বৃহস্পতিবারে দেবতা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

জগন্নাথদেবের প্রধান উৎসব হল রথযাত্রা। ‘উৎকলখণ্ড’ এবং ‘দেউল তোলা’ নামক ওড়িশার প্রাচীন পুঁথিতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ইতিহাস প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে সময় এই রথযাত্রার প্রচলন হয়েছিল সে সময় আজকের ওড়িশার নাম ছিল মালবদেশ। সেই মালবদেশের অবন্তীনগরী রাজ্যে ইন্দ্রদ্যুম্ন নামে সূর্যবংশীয় এক পরম বিষ্ণুভক্ত রাজা ছিলেন, যিনি ভগবান বিষ্ণুর এই জগন্নাথরূপী মূর্তির রথযাত্রা শুরু করার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন পুরীর এই জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ ও রথযাত্রার প্রচলন করেন।

পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রা প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এরপর আষাঢ় মাসের শুক্লা একাদশীর দিন পূর্ণযাত্রা বা উল্টোরথ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। যদিও আষাঢ় মাসের পুষ্যানক্ষত্রযুক্ত শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতেই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার নিয়ম। কিন্তু প্রতি বছর তো আর পুষ্যানক্ষত্রের সঙ্গে আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথির যোগ হয় না, তাই কেবল ওই শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতেই রথযাত্রা শুরু হয়ে থাকে। তবে কখনও এই তিথির সঙ্গে পুষ্যানক্ষত্রের যোগ হলে সেটি হয় একটি বিশেষ যোগ-সম্পন্ন রথযাত্রা।

আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে জগন্নাথদেব, বোন সুভদ্রা ও দাদা বলরাম বা বলভদ্রকে নিয়ে রথে চড়ে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুণ্ডিচার বাড়ি যান। সেখান থেকে সাতদিন পরে আবার নিজের মন্দিরে ফিরে আসেন। এই যাওয়াটাকেই জগন্নাথের মাসির বাড়ি যাওয়া বলে। তবে কালের নিয়মে বদল হয়েছে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মাসির বাড়ি যাওয়ার পদ্ধতিতে। মন্দির থেকে মাসির বাড়ি যাওয়ার পথে পড়ত গুণ্ডি নালা। তাই সেই সময় একই রথে করে তিনটি বিগ্রহকে নিয়ে মাসির বাড়ি যাওয়া সম্ভব ছিল না। দু’টি ভাগে বিভক্ত ছিল রথযাত্রা। প্রথমে তিনটি রথে করে শোভাযাত্রা করে ত্রিমূর্তি নিয়ে যাওয়া হতো। এরপর তা নামিয়ে নালা পার করে অন্য তিনটি রথে চড়ে মাসির বাড়ি যেতেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। এরপর রাজা কেশরী নরসিংহের আমলে এই নালা বন্ধ হওয়ার পর ছ’টি রথের প্রয়োজন ফুরোয়। তিনটি রথেই সম্পন্ন হয় পুরীর রথযাত্রা। রথের দিন তিনটি রথ পর পর যাত্রা করে মাসির বাড়ি। প্রথমে যাবেন বলরামের রথ, তারপর সুভদ্রা এবং সর্বশেষে মহাপ্রভু জগন্নাথের রথ। রথে চড়ে এই গমন ও প্রত্যাগমনকে (সোজা)রথ এবং উল্টোরথ বলে।

জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা তিনজনের রথ তিন রকমের হয়। জগন্নাথের রথের নাম ‘নন্দীঘোষ’। উচ্চতা ৪৫ ফুট। রথের গায়ে হলুদ এবং সোনালি রং। চলার জন্য এই রথে রয়েছে সাত ফুট ব্যাসের ১৬টি চাকা। রথের সারথির নাম দারুক। লাল ও সবুজ রঙের বলরামের রথ ‘তালধ্বজ’। উচ্চতায় জগন্নাথের তুলনায় এক ফুট ছোট। রথে ছ’ফুট ব্যাসের চোদ্দটি চাকা থাকে। সারথি মাতলী। সুভদ্রার রথ ‘দর্পদলন’। উচ্চতা ৪৩ ফুট। রথের রঙ লাল এবং কালো। চাকা বারোটি, প্রত্যেকটির ব্যাস পাঁচ ফুট। এই রথের সারথি স্বয়ং অর্জুন। প্রতিটি রথেই সাতজন করে পার্শ্বদেবী অধিষ্ঠিত। সেই সঙ্গে দু’জন করে দ্বারপাল, একজন করে সারথি এবং একজন করে ধ্বজাদেবতা।

জগন্নাথদেবের রথের প্রতিটি অংশই অতি পবিত্র, কারণ তিনটি রথেই বিরাজ করেন তেত্রিশ কোটি দেবতা। তাই এই রথের রশি একটু স্পর্শ করা বা টানা মানে এই তেত্রিশ কোটি দেবদেবীর চরণ স্পর্শ করা। জগন্নাথদেবের রথের রশির নাম বাসুকি। ধার্মিক সনাতনী হিন্দুরা বিশ্বাস করেন যে, রথের রশি ছোঁয়ার থেকে বড় পুণ্য আর কিছুতে হয় না। জগন্নাথদেবের রথের রশি ধরে টানতে পারলে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়। পুুরাণের মতে, জগন্নাথের রথের রশি সামান্য স্পর্শ করলেও পুনর্জন্ম হয় না। কপিল সংহিতায় উল্লেখ আছে - ”গুণ্ডিচাখ্যং মহাযাত্রা যে পশ্যন্তি মুদনিতাঃ/সর্বপাপ বিনির্মুক্তাস্তে যান্তি ভুবনং মম।” অর্থাৎ ‘গুণ্ডিচা যাত্রায় যে ব্যক্তি আমায় দর্শন করবে সে কালক্রমে সব পাপ থেকে মুক্ত হয়ে আমার (জগন্নাথদেবের) ভুবনে যাবে।‘

বাংলাতেও অনেক জায়গায় সাড়ম্বরে রথযাত্রা পালিত হয়। যেমন — মাহেশের রথযাত্রা, ইস্কনের রথযাত্রা। বাংলায় রথযাত্রা সংস্কৃতির সম্ভবত সূচনা হয়েছিল শ্রীচৈতন্যদেবের নীলাচল অর্থাৎ পুরী যাওয়ার পর। চৈতন্যভক্ত বৈষ্ণবরা বাংলায় পুরীর অনুকরণে রথযাত্রার প্রচলন করেন। যাত্রা শব্দের অর্থ গমন। তাই জগন্নাথের রথযাত্রা এবং উল্টোরথ হিন্দু-বাঙালিদের কোনও কাজ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সূচনার পবিত্রদিন হিসেবে গণ্য করা হয়। বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গাপূজোর সূচনাও হয় এই রথ কিংবা উল্টোরথের দিন।

শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের প্রণাম মন্ত্রঃ —

ॐ নীলাচলনিবাসায় নিত্যায় পরমাত্মনে ।
বলভদ্র সুভদ্রাভ্যাং জগন্নাথায় তে নমঃ ॥

পরমাত্মা স্বরূপ যাঁরা নিত্যকাল নীলাচলে বসবাস করেন, সেই বলভদ্রদেব, সুভদ্রা ও জগন্নাথদেব কে প্রণতি নিবেদন করি ॥


জয় জগন্নাথ

সবাইকে দোল-পূর্ণিমার শুভেচ্ছা।
14/03/2025

সবাইকে দোল-পূর্ণিমার শুভেচ্ছা।

শুভ বিজয়া
14/10/2024

শুভ বিজয়া

পিতৃপক্ষ ( পির্তৃপক্ষের সর্বশেষ দিন হলো মহালয়া)পূর্বপূরুষের তর্পণাদির জন্য প্রশস্ত এক বিশেষ পক্ষ। আমাদের কাছে যা সাধারণত...
02/10/2024

পিতৃপক্ষ ( পির্তৃপক্ষের সর্বশেষ দিন হলো মহালয়া)
পূর্বপূরুষের তর্পণাদির জন্য প্রশস্ত এক বিশেষ পক্ষ। আমাদের কাছে যা সাধারণত "মহালয়া" নামে পরিচিত।
মহালয় বা মহালয়া পিতৃপক্ষের শেষ দিন । এই দিনও যারা পূর্বপুরুষের উদেশ্যে তর্পন এবং পিন্ডদান করেননি তাদের পূর্ব পুরুষগণ মর্তোলোকে অপেক্ষা করতে থাকেন। সকলের উপস্থিতিতে মহাসমাবেশ বা মহালয় তৈরী হয় যা মহালয়া নামে বিদিত।
হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যেহেতু পিতৃপক্ষে প্রেতকর্ম (শ্রাদ্ধ), তর্পণ ইত্যাদি মৃত্যু-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়, সেই হেতু এই পক্ষ শুভকার্যের জন্য প্রশস্ত নয়।
জীবিত ব্যক্তির পূর্বের তিন পুরুষ পর্যন্ত পিতৃলোকে বাস করেন। এই লোক স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। পিতৃলোকের শাসক মৃত্যুদেবতা যম। তিনিই সদ্যমৃত ব্যক্তির আত্মাকে মর্ত্য থেকে পিতৃলোকে নিয়ে যান। পরবর্তী প্রজন্মের একজনের মৃত্যু হলে পূর্ববর্তী প্রজন্মের একজন পিতৃলোক ছেড়ে স্বর্গে গমন করেন এবং পরমাত্মায় (ঈশ্বর) লীন হন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে উঠে যান। এই কারণে, কেবলমাত্র জীবিত ব্যক্তির পূর্ববর্তী তিন প্রজন্মেরই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে থাকে; এবং এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
হিন্দু মহাকাব্য অনুযায়ী, সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষ সূচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় পূর্বপুরুষগণ পিতৃলোক পরিত্যাগ করে তাদের উত্তরপুরুষদের গৃহে অবস্থান করেন। এর পর সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে, তারা পুনরায় পিতৃলোকে ফিরে যান। পিতৃগণের অবস্থানের প্রথম পক্ষে হিন্দুদের পিতৃপুরুষগণের উদ্দেশ্যে তর্পণাদি করতে হয়।
মহাভারত অনুযায়ী, প্রসিদ্ধ দাতা কর্ণের মৃত্যু হলে তার আত্মা স্বর্গে গমন করলে, তাকে স্বর্ণ ও রত্ন খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়। কর্ণ ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে ইন্দ্র বলেন, কর্ণ সারা জীবন স্বর্ণই দান করেছেন, তিনি পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনোদিন খাদ্য প্রদান করেননি। তাই স্বর্গে তাকে স্বর্ণই খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। কর্ণ বলেন, তিনি যেহেতু তার পিতৃগণের সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, তাই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পিতৃগণকে স্বর্ণ প্রদান করেননি। এই কারণে কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়।এই কাহিনির কোনো কোনো পাঠান্তরে, ইন্দ্রের বদলে যমকে দেখা যায়।
মহালয়া পক্ষের পনেরোটি তিথির নাম হল প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী ও অমাবস্যা। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তর্পণে ইচ্ছুক হন, তাকে তার পিতার মৃত্যুর তিথিতে তর্পণ করতে হয়।

05/09/2024

আসন্ন দূর্গোৎসবে আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন অবস্থাতেই অসম্পূর্ণ প্রতিমা ফেইসবুকে প্রকাশ করবেন না।

জন্মাষ্টমী কবে : ২৬ আগষ্ট নাকি ২৭ আগষ্ট (তিথী সম্পর্কিত তথ্য):::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::...
25/08/2024

জন্মাষ্টমী কবে : ২৬ আগষ্ট নাকি ২৭ আগষ্ট (তিথী সম্পর্কিত তথ্য)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

অষ্টমী তিথী শুরু : ২৬ আগষ্ট সোমবার ভোর রাত্রি ৩ টা ৪১ মিনিট থেকে
এবং শেষ : ২৭ আগষ্ট মঙ্গলবার ভোর রাত্রি ২ টা ২১ মিনিট গতে
রোহিনী নক্ষত্র: শুরু : ২৬ আগষ্ট, বিকাল ৩ টা ৫৭ মি থেকে এবং
শেষ : ২৭ আগষ্ট বিকাল ৩ টা ৩৯ মি. গতে

অর্থাৎ ২৬ আগষ্ট সোমবার শুদ্ধা জন্মাষ্টমী তিথি। কারন এদিনে একাধারে অষ্টমী ও নবমী তিথি এবং রোহিনী নক্ষত্র যুক্ত রয়েছে ।
শাস্ত্র নির্নয়:-
*****স্কন্দপুরানে বলা হয়েছে-
সূর্য উদয়ের সময়ে যদি অষ্টমী তিথি যুক্ত থাকে এবং কিঞ্চিত নবমী যুক্ত হয় তাহলে সেই তিথিতেই জন্মাষ্টমী পালন করতে হয়।

কৃষ্ণাষ্টমী উপবাস যোগ্যা, রোহিণী নক্ষত্র যুক্ত হইলে মহাফলপ্রদা, মধ্যরাত্রে রোহিণী যুক্ত হইলে আরও অধিক ফলপ্রদা
সোম বা বুধবার যুক্তা হইলে অধিক প্রশস্তা, সেই সাথে নবমী তিথিযুক্তা হইলে অধিক ফলপ্রদা ।।

*****হরি ভক্তি বিলাসমতেঃ
ভাদ্রমাসে কৃষ্ণপক্ষে অষ্টমীতে মধ্যরাতে চন্দ্র রোহিণী নক্ষত্র সহ বৃষরাশিতে অবস্থান কালে এই জয়ন্তী যোগে পিতা বসুদেব হইতে মাতা দেবকীদেবী শ্রীকৃষ্ণদেবকে প্রসব করিয়াছেন, অতএব ঐ যোগে সম্পূর্ণ উপবাস করিয়া মানব পবিত্র হইয়া পূজা করিবে ।। ৩৪৮-৩৪৯।।

২৬ আগষ্ট ভোর ৩ টা ৪১ মিনিট থেকেই অষ্টমী শুরু অর্থাৎ সূর্য উদয় কালেই অষ্টমী তিথি প্রাপ্ত হচ্ছে। তাই ২৬ আগষ্ট পূর্ণ জন্মাষ্টমী ব্রত।
যদি সোমবারে বা বুধবারে নবমীযুক্ত হয়, তবে ইহা কোটিগুণ মুক্তিদায়ক।

কেবল একাদশী ব্রতেই অরুণোদয় বিদ্ধা ত্যাজ্য, কিন্তু জন্মাষ্টমী প্রভৃতি অন্য সমস্ত ব্রত কেবল সূর্যোদয়বিদ্ধা হলেই ত্যাজ্য।

অর্থাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি ২৬ আগষ্ট দিন টি রয়েছে সোমবার এবং সূর্য উদয় কালে অষ্টমী তিথি সাথে কিঞ্চিত নবমী তিথি যুক্ত এবং নিশীথকালীন পূজায় রোহিনী নক্ষত্র বিদ্যমান। তাই জন্মাষ্টমী পালনের জন্য ২৬ আগষ্ট সোমবার দিনটি একদম যথার্থ দিন।

সুতরাং আগামী ২৬ আগস্ট সোমবার জন্মাষ্টমী এবং ২৭ আগস্ট মঙ্গলবার নন্দোৎসব ।

সকলের প্রতি রইল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা। হরেকৃষ্ণ।। সুজিত পাল-25-08-2024.

ভারত বর্ষের প্রায় ৪ হাজার বছরের রাজত্বঃমহাভারতে উল্লেখিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরবর্তী রাজাদের তালিকাঃ ইন্দ্রপ্রস্থের শে...
24/06/2024

ভারত বর্ষের প্রায় ৪ হাজার বছরের রাজত্বঃ

মহাভারতে উল্লেখিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরবর্তী রাজাদের তালিকাঃ ইন্দ্রপ্রস্থের শেষ রাজা যশপাল। যুধিষ্ঠির থেকে যশপাল পর্যন্ত ১২৪ জন রাজা রাজত্ব করেছিলেন মোট ৪,১৭৫ বছর ৯ মাস ১৪ দিন। এরই মধ্যে রাজা যুধিষ্ঠির প্রভৃতি আনুমানিক ৩০ পুরুষ ১৭৭০ বছর ১১ মাস ১০ দিন রাজত্ব করে।
০১। রাজা যুধিষ্ঠির = ৩৬ বছর ৯ মাস ১৪ দিন।
০২। রাজা পরীক্ষিত = ৬০ বছর ৮ মাস ২৫ দিন।
০৩। রাজা জনমেজয় = ৮৪ বছর ৭ মাস ২৩ দিন।
০৪। রাজা অশ্বমেধ = ৮২ বছর ৮ মাস ৩২ দিন।
০৫। দ্বিতীয় রাম = ৮৮ বছর ২ মাস ৮ দিন।
০৬। ছত্রমল = ৮১ বছর ১১ মাস ২৭ দিন।
০৭। চিত্ররথ = ৭৫ বছর ৩ মাস ১৮ দিন।
০৮। দুষ্টশৈল্য = ৭৫ বছর ১০ মাস ২৪ দিন।
০৯। রাজাউগ্র সেন = ৭৮ বছর ৭ মাস ২১ দিন।
১০। শূরসেন = ৭৮ বছর ৭ মাস ২১ দিন।
১১। ভুবনপতি = ৬৯ বছর ৫ মাস ৫ দিন।
১২। রণজিৎ = ৬৫ বছর ১০ মাস ৪ দিন।
১৩। ঋক্ষক = ৬৪ বছর ৭ মাস ৪ দিন।
১৪। সুখদেব = ৬২-০-২৪
১৫। নরহরিদেব = ৫১-১০-০২
১৬। সুচিরথ = ৪২-১১-০২
১৭। শূরসেন (২য়) = ৫৮-১০-০৮
১৮। পর্বতসেন = ৫৫-০৮-১০
১৯। মেধাবী = ৫২-১০-১০
২০। সোনচীর = ৫০-০৮-২১
২১। ভীমদেব = ৪৭-০৯-২০
২২। নৃহরিদেব = ৪৫-১১-২৩
২৩। পূর্ণমল = ৪৪-০৮-০৭
২৪। করদবী = ৮৮-১০-০৮
২৫। অলংমিক = ৫০-১১-০৮
২৬। উদয়পাল = ৩৮-০৯-০
২৭। দুবনমল = ৪০-১০-২৬
২৮। দমাত = ৩২-০-০
২৯। ভীমপাল = ৫৮-০৫-০৮
৩০। ক্ষেমক = ৪৮-১১-২১
পাণ্ডু বংশের রাজত্ব এখানেই শেষ হয়ে যায়। রাজা ক্ষেমকের প্রধান মন্ত্রী বিশ্রবা ক্ষেমক রাজাকে নিহত করে সিংহাসন অধিকার করে ও পরবর্তীতে তাঁর ১৪ পুরুষ ৫০০ বছর ৩ মাস ১৭ দিন রাজত্ব করে।
১। বিশ্রবা = ১৭-০৩-২৯
২। পুরসেনী = ৪২-০৮-২১
৩। বীরসেনী = ৫২-১০-০৭
৪। ফবঙ্গশায়ী = ৪৭-০৮-২৩
৫। হরিজিৎ = ৩৫-০৯-১৭
৬। পরমসেনী = ৪৪-০২-২৩
৭। সুখপাতাল = ৩০-০২-২১
৮। কদ্রুত = ৪২-০৯-২৪
৯। সজ্জ = ৩২-০২-১৪
১০। ফমরচূড় = ২৭-০৩-১৬
১১। অমীপাল = ২২-১১-২৫
১২। দশরথ = ২৫-০৪-১২
১৩। বীরসাল = ৩১-০৮-১১
১৪। বীরসালসেন = ৪১-০০-১৪
রাজা বীরসাল সেনের প্রধান মন্ত্রী বীরমহা প্রধান তাঁহাকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করে। তাঁর বংশ ১৬ পুরুষ ৪৪৫ বৎসর ৫ মাস ৩ দিন রাজত্ব করে।
১। রাজা বীরমহা = ৩৫-১০-০৮
২। অজিত সিংহ = ২৭-০৭-১৯
৩। সর্বদত্ত = ২৮-০৩-১০
৪। ভুবনপতি = ১৫-০৪-১০
৫। বীরসেন (প্রথম) = ২১-০২-১৩
৬। মহীপাল = ৪০-০৮-০৭
৭। শত্রুশাল = ২৬-০৪-০৩
৮। সঙ্গরাজ = ১৭-০২-১০
৯। তেজপাল = ২৮-১১-১০
১০। মানিক চাঁদ = ৩৭-০৭-২১
১১। কামসেনী = ৪২-০৫-১০
১২। শত্রুমর্দন = ০৮-১১-১৩
১৩। জীবনলোক = ২৮-০৯-১৭
১৪। হরিরাও = ২৬-১০-২৯
১৫। বীরসেন (২য়) = ৩৫-০২-২০
১৬। আদিত্যকেতু = ২৩-১১-১৩
প্রয়োগের রাজা ‘ধন্ধব’ মগধদেশের রাজা আদিত্য কেতুকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করে। তাঁহার বংশ ৯ পুরুষ, ৩৭৪ বছর ১১ মাস ২৬ দিন রাজত্ব করে।
১। রাজা ধন্ধর = ৪২-০৭-২৪
২। মহর্ষি = ৪১-০২-২৯
৩। সনরচ্চী = ৫০-১০-১৯
৪। মহাযুদ্ধ = ২০-০৩-০৮
৫। দূরনাথ = ২৮-০৫-২৫
৬। জীবনরাজ = ৪৫-০২-০৫
৭। রুদ্রসেন = ৪৭-০৪-২৮
৮। অরীলক = ৫২-১০-০৮
৯। রাজপাল = ৩৬-০০-০০
সামন্ত মহান পাল রাজা রাজপালকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করে। সামন্ত মহান পালের ১ পুরুষ ১৪ বছর রাজত্ব করেছেন ও তাঁর কোন বৃদ্ধি নেই। এরপর রাজা বিক্রমাদিত্য অবন্তিকা (উজ্জায়নী) হইতে আক্রমণ চালাইয়া রাজা মহানপালকে হত্যা করে রাজ্যাধীকার করেন। তাঁহার বংশ ১ পুরুষ ৩৯ বছর রাজত্ব করেন। তাঁহারও কোন বৃদ্ধি নাই। শালিবাহনের মন্ত্রী সমুদ্রপাল, যোগীপৈঠনের রাজা বিক্রমাদিত্যকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করেন এবং তাঁহার বংশ ১৬ পুরুষ, ৩৭২ বছর, ৪ মাস ২৭ দিন রাজত্ব করেন।
১। সমুদ্রপাল = ৫৪-০২-২০
২। চন্দ্রপাল = ৩৬-০৫-০৪
৩। সাহায়পাল = ১১-০৪-১১
৪। দেবপাল = ২৭-০১-১৭
৫। নরসিংহপাল = ১৮-০০-২০
৬। সামপাল = ২৭-০১-১৭
৭। রঘুপাল = ২২-০৩-২৫
৮। গোবিন্দপাল = ২৭-০১-১৭
৯। অমৃতপাল = ৩৬-১০-১৩
১০। বলীপাল = ১৩-০৮-০৪
১১। মহীপাল = ১৩-০৮-০৪
রাজা মহাবাহু রাজ্য পরিত্যাগ করিয়া তপস্যার্থে বনে গমন করেন। ইহা শুনিয়া বঙ্গ দেশের রাজা আধীসেন ইন্দ্রপ্রস্থে আসিয়া নিজে রাজত্ব করেন। তাঁর বংশ ১২ পুরুষ, ১৫১ বৎসর ১১ মাস ২ দিন রাজত্ব করে।
১। রাজা আধীসেন = ১৮-০৫-২১
২। বিলাবলসেন = ১২-০৪-০২
৩। কেশবসেন = ১৫-০৭-১২
৪। মাধবসেন = ১২-০৪-০২
৫। ময়ূরসেন = ২০-১১-২৭
৬। ভীমসেন = ০৫-১০-০৯
৭। কল্যানসেন = ০৪-০৮-২১
৮। হরিসেন = ১২-০০-২৫
৯। ক্ষেমসেন = ০৮-১১-১৫
১০। নারায়ণসেন = ০২-০২-২৯
১১। লক্ষ্মীসেন = ২৬-১০-০০
১২। দামোদর সেন = ১১-০৫-১৯
রাজা দামোদরসেন তাঁর পাত্রমিত্রদিগকে অনেক কষ্ট দিতেন। এই নিমিত্ত তাঁর জনৈক পাত্রমিত্র দীপ্তসিংহ সৈন্য সংগ্রহ করিয়া তাঁহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ও তাঁকে যুদ্ধে নিহত করে স্বয়ং রাজত্ব করেন এবং তাঁহার বংশ ৬ পুরুষ, ১০৭ বৎসর ৬ মাস ২ দিন রাজত্ব করে।
১। দীপসিংহ = ১৭-০১-১৬
২। রাজসিংহ = ১৪-০৫-০০
৩। রণসিংহ = ০৯-০৮-১১
৪। নরসিংহ = ১৩-০২-২৯
৬। জীবনসিংহ = ০৮-০০-০১
কোন কারণ বশতঃ রাজা জীবনসিংহ তাঁহার সমস্ত সৈন্য উত্তরদিকে প্রেরণ করেন। বৈরাটের রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান সেই সংবাদ পেয়ে জীবনসিংহকে আক্রমণ করেন এবং তাঁহাকে যুদ্ধে নিহত করিয়া ইন্দ্রপ্রস্থে রাজত্ব করেন এবং তাঁর বংশ ৫ পুরুষ, ৮৬ বৎসর ০ মাস ২০ দিন রাজত্ব করেছেন।
১। পৃথ্বী রাজ = ১২-০২-১৯
২। অভয়পাল = ১৪-০৫-১৭
৩। দুর্জ্জব পাল = ১১-০৪-১৪
৪। উদয়পাল = ১১-০৭-০৩
৫। যশপাল = ৩৬-০৪-২৭
১২৪৯ সালে গজনীর দুর্গ হতে সুলতান শাহাবুদ্দিন ঘোরী যশপালকে আক্রমণ করে তাঁকে প্রয়োগের দুর্গে বন্ধী করে- অতঃপর সুলতান শাহাবুদ্দিন ইদ্রপ্রস্থে (দিল্লীতে) রাজত্ব করিতে আরম্ভ করে। তাঁর বংশ ৫৩ বৎসর, ১ মাস ও ১৭ দিন রাজত্ব করেছে।
ইন্দ্রপ্রস্ত তথা আর্যাবর্তের সকল রাজাদের ধারাবাহিক পরিচিতি ও রাজত্ব কালের পরিচয় প্রথম বারের মতো তুলে ধরেছিলেন মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী জী।
মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী এই তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন রাজপুতনার অন্তর্গত উদয়পুর রাজ্যের রাজধানী, চিতোরগড়ের শ্রিনাথদ্বার হতে প্রকাশিত ও বিদ্যার্থী সম্মিলিত হরিশ্চন্দ্র চন্দ্রিকা এবং মোহঞ্চন্দ্রিকা নামক পাক্ষিক পত্রিকা হতে।
উক্ত পত্রিকাদ্বয়ের সম্পাদক মহাশয় ১৭৮২ বিক্রমাব্দে লিখিত একখানি গ্রন্থ তাহার কোন বন্ধুর নিকট হতে প্রাপ্ত হয়ে তা থেকে সংগ্রহ করে প্রচলিত ১৯৩৯ সালে মুদ্রন করেন।

সংগৃহীত-

06/03/2024

০৭.০৩.২৪ বৃহস্পতিবার বিজয়া একাদশী।পারণ- পরের দিন ০৬টা ১৩মিঃ থেকে ১০টা ১০ পর্যন্ত।

Address

Sylhet
Habiganj Sadar
3301

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দেহতরী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to দেহতরী:

Share