25/08/2021
সূরা ফাতিহা💖
সূরাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে একটি নতুন বিষয় আবিষ্কার করতে পারবেন, ইন শা আল্লাহ।
সূরা ফাতিহায় রয়েছে সাতটি আয়াত, তাই না?
এই সাতটি আয়াতকে দুই ভাগ করেন,
কিন্তু মাঝের আয়াতকে কোন ভাগেই রাখবেন না এখনই।
একদম মাঝের আয়াতটিকে আলাদা রেখে দুই ভাগ করলে কীরকম দাড়ায় হিসাব করেন,
১,২,৩
৫,৬,৭
মাঝে থাকবে আয়াত নাম্বার ৪।
তাইনা?
এবার প্রথম তিনটি আয়াতে কি বলা আছে তা দেখে নিই।
"যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি জগৎসমূহের অধিপতি।”
২য় আয়াতে বলা আছে, "তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।”
৩য় আয়াতে বলা আছে,"যিনি বিচার দিনের মালিক।”
৪র্থ আয়াতে বলা আছে, "আমরা তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।”
এটি কিন্তু মাঝের আয়াত।
এটি কোন ভাগেই এখন পড়বেন না।
৪র্থ আয়াতটিকে সূরা ফাতিহা'র কেন্দ্রবিন্দু বলা যেতে পারে।
এই আয়াত দিয়েই আমরা প্রথম ভাগ আর পরের ভাগকে মিলাবো।
পরের ভাগের আয়াত গুলোতে কি বলা হচ্ছে দেখুন।
৫ম আয়াতে বলা আছে,
"আমাদের সরলপথে পরিচালিত করুন।”
৬ষ্ঠ আয়াতে বলা আছে,
"ওই সব লোকদের পথে, যাদের আপনি নিয়ামত দান করেছেন।”
৭ম আয়াতে বলা আছে,
" তাদের পথে নয়,যাদের ওপর আপনার অভিশাপ নাজিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট।”
এবার আমরা সিকুয়েন্সটি মিলাতে পারি।
প্রথম ভাগের আয়াত গুলো এক জায়গায় নিয়ে আসা যাক।
প্রথম অংশের আয়াতগুলো হলো-
"যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি জগৎসমূহের অধিপতি।”
"তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।”
"যিনি বিচার দিনের মালিক।”
মাঝখানে আছে "আমরা তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।”
আর পরের অংশে আছেঃ
'আমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন'
'ওইসব লোকদের পথে, যাদের আপনি নিয়ামত দান করেছেন।’
'তাদের পথ নয়,যাদের ওপর আপনার অভিশাপ নাজিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট।’
মাঝখানের, অর্থাৎ চার নাম্বার আয়াতে দুটো অংশ আছে।
"আমরা তোমারই ইবাদত করি" এতটুকু একটি অংশ,এবং "তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি" এতটুকু অরেকটি অংশ।
আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে ৪র্থ আয়াতের প্রথম অংশ সূরার প্রথম তিন আয়াতের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং পরের অংশ প্রতিনিধিত্ব করছে সূরার পরের তিন আয়াতের।
এই আয়াতের প্রথম অংশ দিয়ে ওপরের তিন আয়াতকে যাচাই করা যাকঃ
"আমরা তোমারই ইবাদত করি"
আমরা কার ইবাদত করি?
"সকল প্রশংসা যার এবং যিনি সৃষ্টি জগতের অধিপতি।’
(সূরা ফাতিহা'র ১ম আয়াত)
আমরা কার ইবাদত করি?
‘যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।’
[সূরা ফাতিহার ২য় আয়াত]
আমরা কার ইবাদত করি?
"বিচার দিনের মালিক।"
(সূরা ফাতিহা'র ৩য় আয়াত)
দারুণ না?
এবার আসা যাক ওই আয়াতের পরের অংশে।
যেখানে বলা হচ্ছে-
"তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি"
আমরা কিসের জন্য প্রার্থনা করি?
"যাতে আমরা সরল পথে চলতে পারি।”
[সূরা ফাতিহার ৫ম আয়াত]
আমরা কিসের জন্য প্রার্থনা করি?
" যাতে আমরা নিয়ামত প্রাপ্তদের দলে ভিড়তে পারি।”
[৬ ষ্ঠ আয়াত]
আমরা কিসের জন্য প্রার্থনা করি?
"যাতে আমরা অভিশপ্ত এবং পথভ্রষ্টদের দলের অন্তর্ভুক্ত না হই।”
[৭ম আয়াত]
চিন্তা করুন আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা এই ছোট্ট সূরাটির মধ্যেও কীরকম ভাষার মান, সাহিত্য মান দিয়ে দিয়েছেন।
প্রথমে কিছু কথা, মাঝখানে একটি বাক্য, শেষে আরো কিছু কথা, কিন্তু মাঝখানের সেই বাক্যটিকে এমন ভাবে সাজিয়েছেন এবং এমন ভাবে বলেছেন, যেটি প্রথম এবং শেষ -দুটো আংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ!!
এই সূরাটি পড়ার সময় আস্তে আস্তে পড়তে হয় কারন প্রত্যেকটি আয়াতের জবাব আল্লাহ্ পাক স্বয়ং দেন।
সূরাটি সবচেয়ে বড় দোয়া এবং রোগের সেফা।
পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা আমাদের বেশী বেশী নেক আমল করার তৌফিক দান করুন, আমিন।
(সংগৃহীত)
আমার ভালো লেগেছে ব্যাখ্যাটি, তাই আপনাদের সাথেও শেয়ার করলাম।