26/07/2025
|| সিনেমার পাইরেটেড কপি #না দেখা সম্বন্ধে আমার বিবেচনা
অত্যন্ত চমৎকার নির্মাণশৈলী, Trailer ও অন্যান্য প্রচারণার কারণে জনমানসে, বিশেষত ধর্মপরায়ণ জনসমাজে Mahavatar Narsimha সিনেমাটি দেখার প্রতি একটি চরম ঔৎসুক্য কাজ করছে। এটি নিঃসন্দেহে তাদের ইতিবাচক বিষয়ের প্রতি আকর্ষণের দৃষ্টান্ত।
ভারতে এই সিনেমাটি সিনেমাহলে উন্মুক্ত করা হয়েছে। জনগণ সহজেই এটি দেখতে পাচ্ছে, আশা করা হচ্ছে পরবর্তী কয়েক বছর পর ভারতীয় বিভিন্ন সিনেমার মতো এটিও ইউটিউবে উন্মুক্ত করা হবে, তখন বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আমরাও দেখতে পাবো।
এটাই স্বাভাবিকভাবে হওয়া উচিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সিনেমা রিলিজ হওয়ার পরপরই এর অবৈধ কপি সোশ্যাল মিডিয়ায় উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছে। এবং অনেকেই সিনেমাটি দেখেছেন। অনেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এটি জনে জনে বিলিয়ে দিয়েছেন। আমি কাল সারাদিন অনলাইনে ছিলাম না, কিন্তু রাতে যখন ফিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ করলাম, লোকেদের এইরকম আচরণে আমি অত্যন্ত আশ্চর্য ও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আমি যাদের সম্মান ও ্নেহ করা তাদেরকে এইরকম কার্যে যুক্ত হতে দেখে আরো বেশি আশ্চর্য হয়েছিলাম। যাহোক তারা তাদের আনন্দ অন্যদের আছে ভাগাভাগি করেছেন। তাদের কাছে এর স্বপক্ষে যথেষ্ট যুক্তি আছে।
কিন্তু আমি যে কারণে এই পাইরেটেড সিনেমা দেখবে না:
১. প্রথমত ভক্ত হিসেবে একটি illegal কার্য করা আমার জন্য অনুচিত বলে মনে করি। যেহেতু পাইরেটেড কপি একটি অবৈধ সংস্করণ, তাই এটি উপভোগ করা চুরির সম্পদ ভোগ করা ব্যাতীত কিছু নয়।
২. ঈশোপনিষদে বর্ণিত হয়েছে, মা গৃধ কস্যচিদ্ ধনম্— অপরের সম্পদ জোরপূর্বক হরণ কর না। এই জগতের সমস্ত অশান্তি অপরের সম্পদ জোরপূর্বক হরণ করার কারণেই। যেহেতু সিনেমার নির্মাতারা এটি সিনেমাহলের বাইরে এইভাবে দেখা অনুমোদন করেননি, তাই এটি দেখা মানে বেদে বর্ণিত এই ঈশাবাস্য নীতি লঙ্ঘন। ভক্ত-অভক্ত উভয় বিবেচনাতেই আমার জন্য এটি অনুচিত।
৩. ঈশোপনিষদে আরো বলা হয়েছে, যৎ কিঞ্চ জগত্যাং জগৎ তেন ত্যাক্তেন ভূঞ্জিথা — যতটুকু সরবরাহ করা হয়েছে, কেবল তা গ্রহণ কর। যেহেতু বাংলাদেশের মানুষের জন্য এইটা এখনো এভেইলেবল না, তাই আমাল এটার প্রতি উৎসুকতা থাকলেও লোভ থাকা উচিত নয়। ঔৎসুক্য ও লালসা যে এক নয় তা আমাকে বুঝতে হবে। এবং ভগবান যখন আমাকে এটি দেখার সুযোগ দেবেন, তখন আমি তা দেখব।
৪. এর নির্মাতা ৫ বছর কঠোর পরিশ্রম করে এটি তৈরি করেছেন। আমরা এনিমেশন, গ্রাফিক্স ও vfx বিষয়ে অজ্ঞ, তাই বলে আমরা তার পরিশ্রমকে ছোট করতে পারি না। আমি যদি তার এই পরিশ্রমকে ছোট করা, তাহলে এরচেয়ে বড় ছোটলোকিপনা আর হয় না। আমরা নিজেরা আমাদের ক্রেডিট চাই, অন্যকে ক্রেডিট দিতে কার্পণ্য করি।
৫. যদি মনে করি, এটি ভগবানের লীলাকথা, তাই এটি দেখার মাধ্যমে পাইরেটেড কপি দেখার পাপ থেকে মুক্ত হতে পারব, তাহলে পদ্মপুরাণে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, এতে পাপ বহুগুণে বর্ধিত হবে।
৬. সমাজ ও দেশের একজন সচেতন নাগরিক ও মানুষ হিসেবে আমার একটি পাইরেটেড কপি দেখা উচিত নয় বলে মনে করি।
৭. জোরপূর্বক নকল কপি দেখা নিঃসন্দেহে ভোগ বাসনার নির্লজ্জ সীমা।
৮. এছাড়াও সিনেমাহলে না দেখে এর প্রকৃত চমৎকারিত্ব উপলব্ধি করাও অসম্ভব।
৯. এইভাবে সিনেমার নকল কপি দেখার প্রবণতার ফলে নির্মাতার ইকোনমিক ও মানসিক ক্ষতি সাধিত হয়, আমি নির্মাতার হতাশার কারণ হতে চাই না।
১০. এই সিনেমাটির নকল কপি দেখার মাধ্যমে জগতের কোনো মহৎকার্য সাধিতও হবে না।
১১. সর্বোপরি, কর্মচক্র খুব ভয়ানক। আজ আমি লোভে পড়ে পাপ করছি, সেই কর্মফল ভিন্নরূপে আমার কাছে শীঘ্রই ফিরে আসবে, আমি এতে ভয়ভীত।
এইভাবে আমার বিবেক, যা আমাকে অন্যায়ভাবে পাইরেটেড কপি দেখতে বাধা দিচ্ছে। এই বিষয়টি আমি অবশ্যই অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাই না। তবে কেউ কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন এভেইলেবল হওয়া সত্ত্বেও আমি সিনেমাটি এখনো দেখিনি কেন, এটি হচ্ছে এর উত্তর।
কেউ কেউ যুক্তি দেখান, সিনেমার নির্মাতার ব্যবসায়িক চিন্তা না করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত। তাদেরকে বলব, তারা যেন তাদের কষ্টোপার্জিত সম্পদ ব্যাংকে না রেখে, বা পরিবারের জন্য ব্যয় না করে জনসমাজে শতভাগ বিলিয়ে দেন।
~ মধুর গৌরকিশোর দাস
জুলাই ২৬, ২০২৫
পরিশেষে, আশা করব, আমার অন্যান্য লেখার মতো এই লেখাটিও কেউ নিজের বলে দাবি করে প্রচারণা করবে না। কেননা সেটিও একপ্রকার পাইরেটেড কপি প্রচারের মতো।