25/05/2026
?? দেখুন তো মেলে কি না ??
“...আর একজন কহিল, প্রভু, আমি আপনার পশ্চাৎ যাইব, কিন্তু অগ্রে নিজ বাটীর লোকদের নিকটে বিদায় লইয়া আসিতে অনুমতি করুন। কিন্তু যীশু তাহাকে কহিলেন, যে কোন ব্যক্তি লাঙ্গলে হাত দিয়া পিছনে ফিরিয়া চায়, সে ঈশ্বরের রাজ্যের উপযোগী নয়।...”
অনেক দিন থেকে কিছু কিছু থিওলজি শিক্ষার্থীদের মুখে এই ধরণের কথা শুনতে পাচ্ছি।
“আমি এমডিভ পাশ করেছি, এমএ পাশ করেছি, বিটিএইচ পাশ করেছি, ডিপ্লোমা পাশ করেছি কিন্তু আমার যোগ্যতা অনুসারে চাকরী পাইনি। কেবল পেয়েছি অবহেলা আর অপমান।”
কেউ কেউ আবার বিদেশ থেকে আরও উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসে নিদারুন হতাশায় ভুগছেন। কারণ তাকে ব্যবহার করার মত কোন যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন না। তাই তারা হতাশ হয়ে নানা প্রতিষ্ঠান ও মণ্ডলীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেকবার ভেবেছি কিছু লিখব। কিন্তু ইচ্ছে করেই লিখিনি। সম্প্রতি যখন পরিচিত কিছু থিওলজি পড়া মানুষের অন্তরের কথা জানতে পারছি তখন বিষয়টার গুরুত্ব উপলব্ধি করে দু’চারটি কথা লেখার প্রয়োজন বলে মনে করলাম। এতে করে যদি সত্যিকারে যারা থিওলজি পড়ে নিজের জীবনে ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেতে চাচ্ছেন তারা কিছুটা উপকার পেলেও পেতে পারেন।
প্রথমেই বলে রাখি; থিওলজি পড়লেই একজন মানুষ রাতারাতি ফেরেস্তা হয়ে যায় বিষয়টা সেরকম না। আমার নিজের চোখে দেখা যে, থিওলজী পড়ার পরেও অনেকে বিবাহ-বিচ্ছেদে জড়িয়েছেন, বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে জড়িয়েছেন, নিজের বউকে তালাক দিয়ে বা স্বামীকে তালাক দিয়ে অন্যকে বিয়ে করেছেন, নিজের পরিবারে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে রেখে অন্যের পরিবারে শান্তির পরশ বুলাতে গিয়ে ফাটকে আটকে আছেন। তাহলে এসব কি থিওলজী পড়ার দোষ? না, সেটা নয়।
থিওলজী পড়ার পরেও যাদের জীবন সমস্যায় জর্জরিত তাদের মধ্যে প্রধান সমস্যা হল তার থিওলজী পড়ার উদ্দেশ্যের মধ্যে সমস্যা। আমার থিওলজী পড়ার প্রধান উদ্দেশ্য যদি হয় অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, তাহলে বলব, আপনি ভুল পথে পা বাড়িয়েছেন। থিওলজী পড়ার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ ঈশ্বরকে জানা এবং নিজের জীবনে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে আবিস্কার করা ও সেই ইচ্ছার কাছে নিজেকে সঁপে দেয়া।
আজকাল অনেকে থিওলজী পড়তে যায় নিজের স্ট্যাটাস বা অবস্থানকে মজবুত করতে ও মানুষের চোখে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ দেখাতে আর অনেকের কাছে নিজেকে বুদ্ধিমান ও বিশেষ কেউ হিসেবে প্রমাণ করতে। এই যদি হয় থিওলজী পড়ার উদ্দেশ্য তাহলে বলব, আপনি থামুন, নিজেকে প্রশ্ন করুন- আমার কি থিওলজী পড়া উচিৎ?
থিওলজী মানে “ঈশতত্ত্ব”- আপনি ঐশ্বরিক বিষয়ে জ্ঞানার্জন করবেন। থিওলজী মানে “ধর্মতত্ত্ব” নয় যে আপনি ধর্ম নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন। ধর্ম নিয়ে নাড়াচাড়া করা খুবই বিপজ্জনক। পান থেকে চুন খসলেই বিপদ। থিওলজী হল “থিয়স” এবং “লজি” এর সমন্বয়। অর্থাৎ ঈশ্বর সম্পর্কে জ্ঞানার্জন। তাই থিওলজী পড়ার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ ঈশ্বর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।
টাকা পয়সা উপার্জন করার বাসনা থাকলে থিওলজী ছাড়া অন্য কোন পেশায় নিজেকে যুক্ত করুন। কিন্তু থিওলজী পড়তে এসে টাকা পয়সা উপার্জন বা চাকরী করার চিন্তা না করলে ভাল। হয়ত বলবেন, অনেকেই তো এই কাজ করছেন। থিওলজী পড়ে মণ্ডলী প্রতিষ্ঠার নাম করে ধর্ম-ব্যবসা করছে। আমার কথা হল, যে করছে সে করুক। সেটা দেখার দায়িত্ব ঈশ্বরের উপরে ছেড়ে দিন। সেই ব্যক্তি যদি সত্যি সত্যি ঈশ্বরের নামে ধর্ম ব্যবসা করে তাহলে আমাদের যিহোবা ঈশ্বর সময় মত তার ব্যবস্থা করবেন। মনে রাখবেন, আমাদের ঈশ্বর কখনও অন্যায় ও জুলুম সহ্য করেন না।
ফিরে আসি থিওলজী পড়ার বিষয়ে। থিওলজী পড়ার পরেও যারা মনে মনে আক্ষেপ করছেন যে সারা জীবন খ্রীষ্টান নেতাদের গোলামী করে জীবন পার করলাম আর বিনিময়ে কেবল তাদের কাছ থেকে অবহেলা ছাড়া আর কিছুই পেলাম না; আমি আপনাকে বলব, “আসলে আপনি নিজেকে কখনই মূল্যবান ভাবেন নি।” আপনি সামান্য চাকরীর বিনিময়ে আর ক্ষনিক পদোন্নতির লোভে আপনার জীবনে ঈশ্বরের প্রকৃত আহ্বানকে অবহেলা করেছেন আর আপনার জীবনের ভার জাগতিক দেনা-পাওনার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। মনে রাখুন, ঈশ্বরের কাজে নিজের জীবনে ঈশ্বরের আহ্বানই হল আসল। মানুষ থিওলজী পড়তে আরম্ভ করে নিজের জীবনে ঈশ্বরের আহ্বানকে আবিস্কার করতে। আর আমরা করি উল্টোটা- নিজের জীবনে আর্থিক উন্নতি ঘটাতে। ফলে আমরা হতাশায় নিমজ্জিত হই।
নিজের জীবনের চাকা আশীর্বাদের দিকে ঘুরাতে চান? তাহলে এতদিন যা করেছেন তার জন্য অনুতপ্ত হৃদয়ে ক্ষমা চেয়ে ঈশ্বরকে বলুন, “আমি এখন থেকে তোমার কথা শুনতে চাই, তোমার জন্য কিছু কাজ করতে চাই। আমাকে আরেকটিবার সুযোগ দাও।” ব্যাস, লেগে পড়ুন। সফলতার চাবি আপনার হাতে।