19/07/2016
নম্রতা এমন একটি জিনিস তা যে বস্তুতেই থাকে, তা তাকে সৌন্দর্য দান করে। আর যাতে তা থাকবেনা, তাতে দোষ সৃষ্টি হবে। কথাবার্তায় নম্রতা, চেহারায় মুচকি হাসি, কথোপকথনে উত্তম কথা এগুলো এমন উৎকৃষ্ট গুণ, যা কেবল ভাগ্যবানেরাই লাভ করে থাকেন। এগুলো মুমিনের গুণ। নম্রতায় আল্লাহ্ তায়ালা এমন কিছু দান করেন, যা কঠোরতায় পাওয়া যায় না। নম্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষদের সবাই ভালবাসে। দৃষ্টি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মন তাদের দিকে ধাবিত হয়। আত্মা তাদেরকে সালাম করে। কারণ, তাদের কথাবার্তায়, লেনদেনে, আচার-আচরণে এক কথায় সব ক্ষেত্রেই প্রিয় বানিয়ে দেয়। তাদের স্বভাব-চরিত্র হয় এমন, যেমনটা বলা হয়েছে এই আয়াতে- "জওয়াবে তা-ই বল; যা উৎকৃষ্ট। তখন দেখবে, তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে, সেও যেন তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু।"
[সূরা হা-মীম সেজদাহ:৩৪]
এই জাতীয় লোকেরা
সততা, সহনশীলতা, ক্ষমা ও ভদ্রতা দিয়ে হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতাকে দাফন করে দেন। নিজেদের সাথে কৃত মন্দ আচরণকে ভুলে শুধু ভাল বিষয়গুলোই স্বরণ রাখেন। ফলে তারা নিজেরাও সুখে থাকেন, মানুষও তাদের পক্ষ থেকে নিরাপদ থাকে।
প্রিয় নবী (সঃ) ইরশাদ করেন, "প্রকৃত মুসলমান সে, যার হাত ও জবান থেকে অন্যান্য মুসলমানগন নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুমিন সে, যাকে মানুষ নিজেদের জান-মালের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে"।
এখন আমরা নিজেরা একটু ভেবে দেখি আমাদের জবান থেকে মানুষ নিরাপদ আছে কিনা। এমন যেন না হয় যে , কেউ কঠোরভাবে কিছু বলেছে বা মন্দ আচরণ করেছে আর আমি চিন্তা করছি কিভাবে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কঠোরভাবে এর জবাব দেয়া যায়।
অন্যত্র নবী করিম (সঃ) ইরশাদ করেন, "আল্লাহ্ তায়ালা আমাকে আদেশ করেছেন, যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার সাথে সম্পর্ক জুড়তে, যে আমার উপর জুলুম করে, তাকে ক্ষমা করে দিতে এবং যে আমাকে দেয় না তাকে দান করতে।"
"যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে"
[সূরা আলে ইমরান:১৩৪]
কথাগুলো শুনতে খুবই সহজ কিন্তু কার্যে পরিণত করা কঠিন। কিন্তু যাদেরকে আল্লাহ তৌফিক দেন তাদের জন্য সবকিছুই সহজ হয়ে যায়। আল্লাহ্ আমারদেরকেও নম্রতার মত গুণ হাসিল করার তৌফিক দান করুন।
(আমীন)
"তারা এ পৃথিবীতে শান্তি ও সৌভাগ্যের মহা নেয়ামত লাভ করবে। পরকালে তাদের প্রভুর নিকট মহাসাফল্য লাভে ধন্য হবে। যোগ্য আসনে, সর্বাধিপতি সম্রাটের সান্নিধ্যে"
[সূরা ক্বামার:৫৫]