The Messenger of Light

The Messenger of Light আল্লাহর জমি‌নে আল্লাহর আইন চালু করাই ?

https://youtu.be/SR-rQABkK-Y
12/05/2022

https://youtu.be/SR-rQABkK-Y

.Please SHARE so others may benefit as well In Shaa`Allah.قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : { مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ } ... ...

🚫তাগুত কি❓ও এর প্রকারভেদঃ--- [Every Muslim must know about this topic] আরবি طاغوت এর মূল অর্থ সীমালঙ্ঘন করা৷ লিসানুল আরব...
10/05/2022

🚫তাগুত কি❓ও এর প্রকারভেদঃ---
[Every Muslim must know about this topic]

আরবি طاغوت এর মূল অর্থ সীমালঙ্ঘন করা৷ লিসানুল আরব অভিধান মতে-

كُلُّ مُجَاوِزِ حَدَّهُ فِي الـعِصْيَانِ طَاغِِ
"যে বা যারা আনুগত্যের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করে তারাই তাগুত৷"
তাগুত শব্দ এসেছে “তাগা” যার অর্থ “সীমা লংঘন করা”।
ঈমানের পূর্ব শর্ত সমস্ত তাগূতকে অস্বীকার করা৷

فَمن َيَّكْفُرْ بِالطَّاغُوْتِ وَيُؤْمِنْ بِاللّٰهِ فَقَدِسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوسْقٰي ـ
"সুতরাং যারা তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে তারা আল্লাহর রজ্জুকে (দ্বীনকে) দৃরভাবে ধারণ করবে৷"
[সূরা বাক্বারা: ২৫৬]

এখানে প্রথমে তাগুতকে অস্বীকার করা, পরে ঈমান আনার কথা বলা হয়েছে৷ অর্থাৎ যে তাগুতকে অস্বীকার করবে সে-ই ঈমান আনবে অন্যথায় নয়।
আল্লাহ ছাড়া যা কিছুর উপাসনা করা হয় এবং যে এতে রাজি-খুশি থাকে, তাকে তাগুত বলা হয়। প্রত্যেক অনুসৃত অথবা আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য বাদ দিয়ে যাদের আনুগত্য করা হয় তাদেরকেও তাগুত বলা হয়।

মহান আল্লাহ বলেনঃ

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ اُمَّةٍ رَسُوْلًا اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ـ
“আমি প্রত্যেক উম্মাত (জাতির) কাছেই রাসুল পাঠিয়েছি, যেন তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাগুত থেকে বেচে থাকে। (সুরা আন-নাহলঃ ৩৬)

এখানেও তাগুতকে বর্জন করে আল্লাহর ইবাদত করতে বলা হয়েছে৷ واجتنبوا الطاغوت হলেই তাওহীদ অর্জন হবে বা ইমান অর্জন হবে, আর ইমান থাকলেই কেবল ان اعبدوا الله বা ইবাদত মনজুর হবে ৷ অন্যথায় সম্ভব নয়৷ তাগুত এবং তাওহীদ একইসাথে থাকা অসম্ভব৷
(ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য ঈমান রাখা শর্ত, ঈমানের শর্ত সমস্ত তাগুতকে বর্জণ করা৷)
মোটকথা ঈমান এবং ইবাদাতের গ্রহণযোগ্যতার জন্য সমস্ত তাগুতকে বর্জন করা শর্ত৷
অন্যথায় ঈমান আনাও হবে না, কোন ধরণের ইবাদাতও কবুল হবে না৷

⭕তাগুত অনেক প্রকারের আছে তার থেকে প্রধান ৫ প্রকার উল্লেখ করা হলোঃ-

⛔১. ইবলিশঃ সে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদতের দিকে আহব্বান করে।

“হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।
(সুরা ইয়াসিনঃ ৬০-৬১)

সুতরাং আল্লাহ ছাড়া যাকিছুর উপাসনা করা হয় এর মূলে রয়েছে ইবলিশ। সেই হচ্ছে সমস্ত শিরকের হোতা।

⛔২. আল্লাহর আইন বিরোধী শাসকঃ যে আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করে দেয় এবং মানুষের বানানো শাসনতন্ত্র কায়েম করে। যেমন কেউ যদি বলে, “চোরের শাস্তি হাত কাটা বর্বরতা, হত্যার শাস্তি (কেসাস), জিনার শাস্তি (রজম) বর্তমান যুগে চলবেনা”... কিন্তু,
মহান আল্লাহ আল কুরআনে বলেন:-
"যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়।" (সূরা আল মায়িদাহ:-৩৮)

আল্লাহ আরো বলেছেন দেখুনঃ
“হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব। হে বুদ্ধিমানগণ! কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।”
(সুরা বাকারাহঃ ১৭৮-১৭৯)

যারা আল্লাহর আনুগত্য ছেড়ে অন্য কারো আনুগত্য করতে নির্দেশ দেয় বা বাধ্য করে, আল্লাহর বিধান বাদ দিয়ে অন্য বিধান বানায় অতঃপর তা পালন করতে উৎসাহিত/বাধ্য করে এবং অন্ধকার বা গোমরাহীর দিকে আহ্বান/উৎসাহিত করে তারা তাগুত৷ যারা তাদেরকে অনুসরণ করে তারা তাগুতের অনুসারী। মহান আল্লাহ বলেন:-
"যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদানুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই জালেম।"
(সূরা আল মায়িদাহ:-৪৫)

সুতরাং, মানব জীবনেরে যেকোন সমস্যায় কুরআনের ফায়সালা অনুযায়ী রাসূল (সাঃ)কে বিচারক সাব্যস্ত করে তার সমাধান করে নেয়া এবং সেমতে কাজ করা ফরয ৷ কুরআনের বাণীসমূহের উপর আমল করা মহানবী সাঃ এর যুগেই সীমিত নয় বরং তাঁর তিরোধানের পর শরীয়তের মীমাংসাই হলো তাঁর মীমাংসা৷ এবার আসুন দেখি আদৌ মানুষের ইচ্ছামতো বিধান তৈরী করার ক্ষমতা আছে কিনা ?
এবিষয়ে আল কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন:-
"আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।"
(সূরা ইউসুফ:-৪০)

[সূত্র: তাফসিরে মা'য়ারিফুল কুরআন]

এ সমর্থনে কুরানে এসেছে-
রাসূল এ উদ্দেশ্যেই প্রেরিত হয়েছে যে, আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে তার আনুগত্য করা হবে৷ যখন কেউ নিজেদের প্রতি যুলুম করে তখন তারা রাসূলের নিকট আসলে, ক্ষমা চাইলে এবং আল্লাহর রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইলে তারা আল্লাহকেও তখন ক্ষমাশীল ওপরম দয়ালু পাবে ৷ কিন্তু না, আল্লাহর কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের সৃষ্ট বিবাদ বিসম্বাদের বিচারভার রাসূল এর উপর অর্পণ না করে; অতঃপর রাসূলের সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নেয়৷
[সূরা নিসা : ৬৪, ৬৫]

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
"তাগুত হচ্ছে ঐ সকল উপাস্য, নেতা-নেত্রী যাদের আনুগত্য করতে গিয়ে সীমালঙ্ঘন করা হয়। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে বাদ দিয়ে যাদের কাছে বিচার-ফায়সালা চাওয়া হয় অথবা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদাত করা হয়।"

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন-
ولهذا سمي من تحوكم إليه من حاكم بغير كتاب الله طاغوت.
" আর এ কারণেই যে ব্যক্তি কুরআনের নির্দেশিত বিধান ছাড়া বিচার-ফয়সালা করে, সে হচ্ছে তাগুত।"

[তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২/২৯৪ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)]
[মাজমূউল ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়া: ২৮/২০১ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদীনা)]

▪️তাগুত এমন غيرالله যার নিকট বিচার ফায়সালা চাওয়া হয়৷
আল্লাহতা'আলা ইরশাদ করেন-
يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوٓاْ إِلَى ٱلطَّٰغُوتِ وَقَدۡ أُمِرُوٓاْ أَن يَكۡفُرُواْ بِهِ.
"তারা তাগুতের নিকট বিচার ও ফয়সালা নিতে চায়; অথচ তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন তাকে অস্বীকার করে।" (সূরা নিসা, আয়াতঃ৬০)
আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. বলেন-
وقال مجاهد: الطاغوت الشيطان في صورة إنسان يتحاكمون إليه، وهو صاحب أمرهم.
অর্থাৎ মুজাহিদ রহ. বলেন, "তাগুত (মিথ্যা উপাস্য) হচ্ছে, মানুষরূপী শয়তান। যার কাছে মানুষ বিচার ফয়সালার জন্যে যায় এবং তারা তাকে অনুসরণ করে।"
▪️তাগুত এমন غيرالله যাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য একদল প্রানান্তকর চেষ্টা করে৷ [সূরা নিসা : ৭৬]
হযরত ওমর রাঃ বলেন, "জ্বিবত্ অর্থ যাদু , তাগুত অর্থ শয়তান৷"
বুঝা গেল শয়তান খুশি হয়, এবং আল্লাহ নারাজ হন এমন কাজে আহ্বান করে/বাধ্য করে যে বা যারা তারাই তাগুত৷
নিশ্চয়ই ভ্রান্তি হতে সুপথ প্রকাশিত হয়েছে। অতএব যে তাগুতকে অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সে দৃঢ়তর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরলো যা কখনও ছিন্ন হবার নয় এবং আল্লাহ শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। (সুরা বাক্বারা-২৫৬ এর শেষাংশ)
আল্লাহ আরও বলেনঃ
ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟِﻰُّ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍ۟ ﻳُﺨْﺮِﺟُﻬُﻢ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﻈُّﻠُﻤَٰﺖِ ﺇِﻟَﻰ ﭐﻟﻨُّﻮﺭِ ۖ ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭٓﺍ۟ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎٓﺅُﻫُﻢُ ﭐﻟﻄَّٰﻐُﻮﺕُ ﻳُﺨْﺮِﺟُﻮﻧَﻬُﻢ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﻨُّﻮﺭِ ﺇِﻟَﻰ ﭐﻟﻈُّﻠُﻤَٰﺖِ ۗ ﺃُﻭ۟ﻟَٰٓﺌِﻚَ ﺃَﺻْﺤَٰﺐُ ﭐﻟﻨَّﺎﺭِ ۖ ﻫُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَٰﻠِﺪُﻭﻥَ
"যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোযখের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে।"
(সূরা বাকারাঃ ২৫৭)
আল্লাহ অভিভাবক। তাগুতও অভিভাবক।
তাগুত জাহান্নামিদের অভিভাবক, যেখানে তারা চিরদিন থাকবে, কখনো মুক্তি পাবে না।
⛔৩. আল্লাহ যা অবতীর্ন করেছেন (কুরআন+সুন্নাহ) তা বাদ দিয়ে যে বিচারক/শাসক বা নেতাগন অন্য আইন/বিধান/সংবিধান দিয়ে ফয়সালা করে।
যেমন কুরান-হাদীস বিরোধী কোনো আইন রায়, কিয়াস, কারো ফতোয়া, অলিদের কথা, পীর মাশায়েখর কথা মানা, সংসদে আইন পাশ করে সমাজে চাপিয়ে দেয়া এবং বিজাতিদের মন গড়া সংবিধান মানা।
যেমন আল্লাহ বলেছেনঃ
“যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই কাফের”। (সুরা আল-মায়িদাহঃ ৪৪)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-হাম্বলী (رحيمه الله) বলেনঃ
"যারাআল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে শাসন করে তারা তাগুত।" (মাদারিজুস-সালিকিন )
শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব আল-হাম্বলী (رحيمه الله) বলেনঃ
"তাগুত হচ্ছে ঐ সকল মা’বুদ, নেতা, মুরব্বি, আল্লাহর পরিবর্তে যাদের আনুগত্য করা হয় এবং তারা এতে সন্তুষ্ট থাকে।” (মাজমাআতুত-তাওহীদ)
"সেই অত্যাচারী বিচারক, যে আল্লাহ্‌র বিচারে পরিবর্তন করে।"
[আদ-দারার আস-সুন্নিয়্যাহ, ভলিউম: ০১, পৃষ্ঠা: ১০৯-১১০]
আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানি আল-হানাফী (رحيمه الله) বলেনঃ "হযরত শাহ সাহেব [মাওলানা শাহ আব্দুল কাদির দেহলাবি আল-হানাফী (رحيمه الله)] বলেন,
তাগুত হচ্ছে তারা, যারা ভিত্তিহীনভাবে নের্তৃত্বের দাবি করে। প্রতিমা, শয়তান, স্বেচ্ছাচারী শাসক সবই এর অন্তর্ভুক্ত।"
[তাফসীরে উসমানিঃ২/৫৪৫]
শাইখ মুহাম্মাদ আমিন শানকিত্বি আল-মালেকী (رحيمه الله) বলেনঃ "আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদাত করা হয় তারাই তাগুত। আর এই গাইরুল্লাহর ইবাদতের বড় অংশটাই হচ্ছে শয়তানের জন্য। কেননা শয়তানের আহবানে সাড়া দিয়ে কোন গাইরুল্লাহর ইবাদাত করা পরোক্ষভাবে শয়তানেরই ইবাদতের শামিল।"(তাফসীরে আদওয়াউল বয়ান: ১/২২৮)
মাওলানা মুহাম্মাদ মাসঊদ আযহার আল-হানাফী (دابت بركته) বলেনঃ
১.ইসলাম বিরোধী প্রত্যেক শক্তির নামই তাগুত।
২.তাছাড়া, তাগুত হলো সেইসব ব্যক্তি যারা মানুষকে সত্য দ্বীন থেকে বিপথগামী করে-হোক সে মানুষ অথবা জ্বীন।
৩.যারা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে-সেই ধরনের প্রত্যেক ব্যক্তিই তাগুত।
৪.তাগুত হলো সেইসব সিস্টেম বা পদ্ধতি যার ছত্রছায়ায় কুচক্রী মানুষগুলো একত্রিত হয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষরযন্ত্রে লিপ্ত থাকে অথবা যুদ্ধ করে।
৫.আরো, তাগুত হচ্ছে সেইসব প্রতিষ্ঠানের নাম যেখানে সত্য দ্বীন বিরোধী নিত্য-নতুন বিভাগ ও ফিরকার উদ্ভব ঘটে।
শয়তান এবং মিথ্যা উপাস্যগুলোকে (হোক মানুষ অথবা জ্বিন) তাগুতের প্রধান অর্থ বুঝালেও, এর পাশাপাশি তাগুত হচ্ছে পৃথিবীর সেইসকল ক্ষমতাসীন মানুষ যারা তাদের সমস্ত বাতিল শক্তির মাধ্যমে ইসলামের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে, ইসলামি শরীয়তের আইনের বাস্তবায়নকে রুদ্ধ করে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য করে। (আল্লাহই ভালো জানেন)
[ফাতহুল জাওয়াদ ফী মা’আরিফ আয়াতুল জি (হা) দ, পৃ: ৩৭৫-৩৭৬]
⛔৪. যে “ইলমে গায়েব” বা অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করে সে তাগুত।
এদের মাঝে রয়েছে জ্যোতিষী, গণক, রাশি-চক্র ইত্যাদি।
যেমন আল্লাহ বলেনঃ
“তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানেনা। স্থলে ও জলে যা আছে, একমাত্র তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না, কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না, কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে”। (সুরা আনআ’মঃ ৫৯)
⛔৫. আল্লাহ ছাড়া সকল মাবুদই তাগুত। আল্লাহ ছড়া যার ইবাদত/পূজা/উপাসনা করা হয়, এবং এতে যে রাজী-খুশি থাকে সে তাগুত। এদের মাঝে রয়েছে সেইন্ট, ঠাকুর, পীর-ফকির, ধর্মীয় গুরু, নেতা ইত্যাদি যাদেরকে পূজা করা হয়। যেমন আল্লাহ বলেনঃ
“তাদের মধ্যে যে বলে যে, তিনি (আল্লাহ) ব্যতীত আমিই উপাস্য, তাকে আমি জাহান্নামের শাস্তি দেব। আমি জালেমদেরকে এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি”। (সুরা আল-আম্বিয়াঃ ২৯)
মালিক ইবনে আনাস রাঃ বলেন,
"আল্লাহ ব্যতীত যে সকল জিনিসের উপাসনা করা হয় সে সবই তাগুত৷"
তাগুত এমন غيرالله যাকে একনিষ্ঠ অনুসরণ করা হয় , অথচ তা হারাম ও নিষিদ্ধ ৷
[সূরা যুমার : ১৭]
তাগুত এমন غيرالله যার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করা হয়৷ [সূরা নিসা: ৫১]
বিঃ দ্রঃ
"তাগুত তাগুতই- সব যুগেই তার এইএকই চরিত্র।
কেবল নাম ও ধরনটা পাল্টায়- চেতনা ও মানসিকতায় পরিবর্তন আসে না।"
বই: নবীজির( ﷺ) সাথে
নিজেকে ঈমানদার বলে দাবী করতে হলে সবার আগে তাগুতকে অস্বীকার করতে হবে!
ওয়াল্লাহি! তাগুতকে অস্বীকার করা ব্যতীত, কেউ মুসলিম হতে পারে না।
মূলঃ শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)
(সংগৃহীত ও ঈষৎ সংযোজিত)

লক্ষ করুন সব অভিনয় শিল্পিরা ইদানীং তাদের বাম চোখে সমস্যাটা তুলে ধরেছে। এটা দাজ্জাল কে রিপ্রেজেন্ট করে। দাজ্জাল এক চোখা হ...
10/05/2022

লক্ষ করুন সব অভিনয় শিল্পিরা ইদানীং তাদের বাম চোখে সমস্যাটা তুলে ধরেছে। এটা দাজ্জাল কে রিপ্রেজেন্ট করে। দাজ্জাল এক চোখা হবে। একটা চোখ হবে আঙ্গুর ফলের মত।
কিন্তু দাজ্জালি বাহিনীরা আগে থেকেই এই এক চোখে সমস্যা থাকা টা ব্রান্ড বানিয়ে দিচ্ছে যেন দাজ্জালের এক চোখ নষ্ট দেখেও আমরা তাকে দাজ্জাল না ভেবে তাকে অনেক বড় ব্রান্ড মনে করি। আমাদের সামনে এক চোখে সমস্যা থাকা টা কমন বানিয়ে দিচ্ছে যেন আমরা দাজ্জালকে দেখলেও ইগনোর করি। সব ব্রেইনের খেলা খেলছে ওরা। আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। সবাইকে সতর্ক করুন দাজ্জালের বিষয়ে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদেরকে দাজ্জালের ফেতনাহ থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন

কালেক্টেড

জনসচেতনতা মূলক পোস্ট🔴প্রান লাচ্ছি তে শূকরের চর্বি?? লাচ্ছি খাব বলে "প্রাণ লাচ্ছি" কিনেছিলাম। বাসায় এসে SR Nirjon ভাইয়ে...
07/05/2022

জনসচেতনতা মূলক পোস্ট🔴

প্রান লাচ্ছি তে শূকরের চর্বি??

লাচ্ছি খাব বলে "প্রাণ লাচ্ছি" কিনেছিলাম। বাসায় এসে SR Nirjon ভাইয়ের Beautiful Islam ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওর সাথে মিলিয়ে দেখলাম এতে শূকরের চর্বি আছে কিনা। এরপর এই হারাম খাদ্য কোড E-951 চোখে পড়ল।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সকলকে হারাম থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন❤️

- লেখাটি সংগৃহীত

আসুন ছোট ছোট শিরক সম্পর্কে জানি ও এগুলো থেকে বিরত থাকি।✔️🔘আল্লাহ্ ব্যতিত অন্য কারো নামে কসম করা শিরক।__(আবু দাউদ:৩২৩৬(ইফ...
02/05/2022

আসুন ছোট ছোট শিরক সম্পর্কে জানি ও এগুলো থেকে বিরত থাকি।✔️

🔘আল্লাহ্ ব্যতিত অন্য কারো নামে কসম করা শিরক।
__(আবু দাউদ:৩২৩৬(ইফা)

🔘কোন কিছুকে শুভ-অশুভ লক্ষন বা কুলক্ষণ মনে করা শিরক।
__(বুখারি :৫৩৪৬, আবু দাউদ:৩৯১০)

🔘মাজারে ও কোন পির-ফকির কিংবা কারো নিকট সিজদা দেয়া শিরক।
__(সুর জীন: ২০, মুসলিম:১০৭৭,আবু দাউদ, মুত্তাফাকুন আলাই)

🔘আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো বা যেকোন পির আওলিয়া কিংবা মাজারের নামে মানত করা শিরক।
__(সহিহ বুখারি: অধ্যায় : তাকদির)

🔘কেউ পেছন দিক থেকে ডাক দিলে কিংবা নিজে যাত্রার সময় পিছন ফিরে তাকালে যাত্রা অশুভ হয় এই ধারনা বিশ্বাস করা শিরক।
__(বুখারি, আবু দাউদ:৩৯১০)

🔘কোন বিপদে পড়ে আল্লাহকে বাদ দিয়ে "ও মা, ও বাবা" ইত্যাদি বলে এইরকম গায়েবি ডাকা শিরক।
বিপদে পড়লে "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন" বলতে হয়।
__(সুরা বাকারাহঃ ১৫৬)

🔘তোর ভবিষ্যত অন্ধকার', 'তর কপালে বহুত কষ্ট আছে',এই ধরনের গায়েবি কথা কাউকে বলা শিরক।
__(সুরা নমল:৬৫, আল জিন:২৫-২৬, আনাম:৫৯)

🔘হোচট খেলে কিংবা পেচা ডাকলে সামনে বিপদ আছে এই ধারনা শিরক
__(সুরা আনাম:১৭, ইউনুস:১০৭)

🔘রোগ ব্যাধি বা বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পেতে শরীরে পিতলের বালা, শামুক, ঝিনুকের মালা, সুতা, কিংবা যেকোন প্রকারের বস্তু লটকানো শিরক।
__(তির্মিযি, আবু দাউদ ও হাকেম)

🔘সকালে বেচাকেনা না করে কোন কাষ্টমারকে বাকি দিলে কিংবা সন্ধ্যার সময় কাউকে বাকি দিলে ব্যাবসায় অমঙ্গল হয় এই ধারনা করা শিরক!।
__(আবু দাউদঃ৩৯১০)

🔘সফলতা কিংবা মঙ্গল লাভের জন্য এবং অমঙ্গল থেকে রক্ষা পেতে যেকোন প্রকার আংটি ব্যবহার করা শিরক।
__(সুরা আনাম:১৭, ইউনুস :১০৭)

🔘যে কোন জড় বস্তুকে সম্মান দেখানো তথা তাযীম করা বা তার সামনে নিরবতা পালন করা শিরক
যেমন: স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার কিংবা মাজার ইত্যাদি।
__(সুরা বাকারাহ:২৩৮, আহকাফ:৫, ফাতহুল বারি ৭/৪৪৮, আবু দাউদ:৪০৩৩)

🔘আল্লাহর ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কিংবা লোক দেখানো ইবাদাত করা শিরক।
__(সুরা আনাম:১৬২, বাইয়িনাহঃ ৫, কাহফ:১১০,ইমরান:৬৪, ইবনে মাজাহ হা নং৫২০৪)

🔘আল্লাহ্ ব্যাতিত কোন গণক বা অন্য কেউ গায়েব জানে এই কথা বিশ্বাস করা শিরক
__(সুরা নমল:৬৫, আল জিন:২৬, আনাম:৫৯)

🔘পায়রা/ কবুতর উড়িয়ে শান্তি কামনা করা শিরক,
কারণ শান্তিদাতা একমাত্র আল্লাহ্
__(সুরা হাশরঃ ২৩)

🔘আল্লাহর ছাড়া কোন পির-আওলিয়া এবং কোন মাজারের নিকট দুয়া করা বা কোন কিছু চাওয়া শিরক।
__(সুরা ফাতিহা:৪, আশ শোআরা:২১৩, গাফির:৬০, তির্মিযি)

🔘শরিরে যে কোন প্রকার তাবিজ ঝুলানো শিরক।
__(মুসনাদে আহমদ: ১৭৪৫৮, সহিহ হাদিস:৪৯২)

শতাব্দীর সবচে বড় ফিতনা : মডারেট ইসলামby Ali Hasan Osama | রচনা-প্রবন্ধ-০১র‍্যান্ড পরিচিতিRAND Corporation। অ্যামেরিকান ...
25/04/2022

শতাব্দীর সবচে বড় ফিতনা : মডারেট ইসলাম
by Ali Hasan Osama | রচনা-প্রবন্ধ-০১

র‍্যান্ড পরিচিতি

RAND Corporation। অ্যামেরিকান গ্লোবাল পলিসি থিংক ট্যাংক হিসেবে সারা পৃথিবীতে অত্যন্ত পরিচিত এক নাম। RAND Corporation শব্দের বিস্তারিত রূপ হলো Research and Development Corporation। র‍্যান্ড কর্পোরেশন হলো অ্যামেরিকার একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান। এর কাজ হলো আমেরিকার অর্থনৈতিক, সামাজিক, সমরনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক নীতিনির্ধারণী বা থিংক ট্যাংক হিসেবে গবেষণা করা। এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত আলোচনা-পর্যালোচনার পর যেকোনো ধরনের মার্কিন নীতি বা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে অ্যামেরিকাকে সারাবিশ্বে একক পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জেনারেল হেনরি হাপ আর্নল্ডের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম RAND Corporation-এর যাত্রা সূচিত হয়। এরপর ক্রমে ক্রমে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সুখ্যাতি বৃদ্ধি পেতে থাকে।
-
যাত্রার শুরুর দিকেই RAND Corporation সফলভাবে মহাশূন্যে রকেট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে সারাবিশ্বে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়। এরপর ১৯৫৭ সালে মার্কিন বিমানবাহিনী RAND Corporation-এর প্রযুক্তি হায়ার করে মহাশূন্যে স্পাই স্যাটেলাইট তৈরি করতে সক্ষম হয়। এর নাম দেওয়া হয়েছিল Corona। মাত্র দুবছরের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের মোকাবেলায় এই Corona অ্যামেরিকার সবচে মোক্ষম অস্ত্রে পরিণত হয়। এরই ভিত্তিতে Pravda নামক সোভিয়েত পত্রিকা RAND Corporation-এর নাম দেয় the academy of science and death and destruction। এভাবেই ১৯৬০ সালের মধ্যে RAND Corporation বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হয়েও অ্যামেরিকাসহ সারাবিশ্বে পরিচিত হয়ে ওঠে।
-
এরপর সময় গড়াতে থাকে। RAND Corporation-এর পরিধিও বিস্তৃত হতে থাকে। তখন আর তারা শুধু যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তি-অনুসন্ধানের মধ্যে ক্ষান্ত না থেকে কীভাবে শত্রুপক্ষকে বিভক্ত করা যায়, কীভাবে জাতিগত দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে বিনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায়—এসবের গবেষণা করতে থাকে। একেক দেশ ও জাতির জন্য তারা একেক ধরনের নীতি অনুসরণ করে; যাতে করে বিনা যুদ্ধে সেই দেশ ও জাতিকে অ্যামেরিকার কর্তৃত্বাধীন করা যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করা মূলত RAND-এর গবেষণার বাস্তবায়ন মাত্র। মুসলিমরাও যাতে কখনো পরাশক্তি হয়ে উঠতে না পারে, সর্বদাই যেন তারা অ্যামেরিকার অধীনস্থ থাকে—সে লক্ষ্যে RAND বিপুল গবেষণা করে বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানী রিপোর্টই বের করেছে।[1] অ্যামেরিকান গভর্নমেন্টের কাছে সেই অনুসন্ধানী রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর গভর্নমেন্ট তা বাস্তবায়ন করে চলছে। সেই ৬০-এর দশক থেকেই এভাবে তাদের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
-
র‍্যান্ডের দৃষ্টিতে মুসলমানদের প্রকার

RAND নিজেদের অ্যাজেন্ডাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়নের সুবিধার্থে সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের চার ভাগে ভাগ করে থাকে :

১. ফান্ডামেন্টালিস্ট মুসলিম : অর্থাৎ মৌলবাদী ও চরমপন্থী মুসলিম। এরা হচ্ছে সে সকল মুসলিম, যারা ইসলামকে শুধু কতক আচার-অনুষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত আচার-ইবাদতের ধর্ম মনে করে না; বরং ইসলামকে মনে করে এক পরিপূর্ণ দীন এবং মানবমুক্তির বিকল্পহীন জীবনব্যবস্থা। যারা চায় আল্লাহ তাআলার নাজিলকৃত বিধান দিয়ে শাসন ও বিচারকার্য পরিচালনা করতে। চায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিসরেও ইসলামকে একচ্ছত্রভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে। এককথায়, তারা বিজয়ী ধর্মকে সবক্ষেত্রেই বিজয়ী রাখতে চায়। আল্লাহর ভূমিতে আল্লাহর শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এরা হলো অ্যামেরিকার সর্বপ্রধান শত্রু। যেকোনো মূল্যে এদের বিনাশ করা অ্যামেরিকার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
-
২. ট্রেডিশনালিস্ট মুসলিম : অর্থাৎ ঐতিহ্যবাদী মুসলিম। এরা হচ্ছে সে সকল মুসলিম, যারা ইসলামের ঐতিহ্যকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে রেখেছে। ইলমচর্চা, ধর্মপ্রচার এবং আত্মশুদ্ধিকেন্দ্রিক কাজগুলোকেই যারা ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে আছে। মসজিদ, মাদরাসা ও খানকাহ নিয়ে পড়ে থাকাই যাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। অ্যামেরিকা এদের ঝুঁকি মনে করে না। এরা অ্যামেরিকান সভ্যতা-সংস্কৃতির জন্য হুমকি কিংবা ক্ষতিকর নয়। হ্যাঁ, তবে এরা যদি কোনোভাবে ফান্ডামেন্টালিস্ট মুসলিমদের সঙ্গে মিলে যেতে পারে, তবে এরা অ্যামেরিকার জন্য বিপদ এবং মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এ জন্য যেকোনো উপায়ে এদেরকে তাদের নিজ নিজ পরিমণ্ডলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কোনোভাবে ফান্ডামেন্টালিস্ট মুসলিমদের সঙ্গে মিলতে দেওয়া যাবে না। বরং সাধ্যানুসারে উভয় দলের মধ্যে কোন্দল ও বিভেদ জিইয়ে রাখতে হবে।
-
৩. মডারেট মুসলিম বা মডার্নিস্ট মুসলিম : অর্থাৎ আধুনিকতাবাদী মুসলিম। এরা আদি ও আসল ইসলামকে সেকেলে মনে করে। তাই ইসলামকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে চায়, ইসলামের পরিমার্জিত সংস্করণ বের করতে চায়। এদের এসব ব্যাখ্যার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো, ইসলামকে প্রবৃত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। ইসলামকে পাশ্চাত্য ধারার জীবনব্যবস্থা এবং তার সভ্যতা-সংস্কৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করা; যাতে করে ইসলামের ইতিবাচক দিকগুলোও পালন করা যায়, আবার প্রবৃত্তিপূজার অংশ হিসেবে নেতিবাচক দিকগুলোর মধ্যেও অংশগ্রহণ করা যায়। এদের চেষ্টা-প্রচেষ্টার সুবাদেই বর্তমানে অস্তিত্বলাভ করেছে সবকিছুর ইসলামি (!) ভার্সন। ইসলামি মিউজিক, ইসলামি মদ, ইসলামি সুদ, ইসলামি জুয়া, ইসলামি পতিতালয়, ইসলামি সিনেমাহল, ইসলামি গণতন্ত্র, ইসলামি সমাজতন্ত্র প্রভৃতি।

মডারেট মুসলিমরা আল্লাহ তাআলার দীনকে পরিপূর্ণভাবে মানতে রাজি নয়; বরং তারা দীনের কেবল ততটুকু মানতে চায়, যতটুকু তাদের মনঃপুত হয়, যতটুকু মানতে তাদের কোনো কষ্ট-ক্লেশ সইতে হয় না কিংবা ত্যাগ-তিতিক্ষা করতে হয় না। এবং তা-ও কেবল সে উপায়েই মানতে চায়, যা তাদের সমাজে প্রচলিত কিংবা তাদের পূর্বসুরি বাপ-দাদাদের থেকে প্রাপ্ত। এ ছাড়া আল্লাহ তাআলার অন্যান্য বিধানগুলোকে তারা অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করে।

র‍্যান্ডের পলিসি সাজেশন হলো, মডারেট মুসলিমদের সাহায্য করতে হবে, এদের জন্য ফান্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। আর বিশেষভাবে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় এদের প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। যেহেতু সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে এদের উল্লেখযোগ্য অবস্থান ও সবিশেষ গ্রহণযোগ্যতা নেই, তাই মিডিয়ার মাধ্যমে এদেরকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসতে হবে; যাতে তাদের আহ্বান মানুষের কর্ণকুহরে পৌঁছে যায়।[2]
-
৪. সেক্যুলারিস্ট মুসলিম : অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী মুসলিম। এরা প্রথম থেকেই অ্যামেরিকার পকেটে রয়েছে। তাই এদের নিয়ে আলাদা চিন্তা বা মাথাব্যথা নেই। এরা কারও জন্য কোনো ঝুঁকির কারণ নয়। সেক্যুলারিস্ট মুসলিমরা মূলত মুসলিমই নয়। কারণ, তারা ইসলামকে কেবল ব্যক্তিজীবনে পালনীয় ধর্ম মনে করে এবং রাষ্ট্রকে ধর্ম থেকে আলাদা মনে করে। এদের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা ইত্যাদি থাকবে ধর্মের বলয় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এরাই মূলত তারা, যাদের সম্বোধন করে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশের প্রতি ইমান রাখো, আর কিছু অংশকে অস্বীকার করো? তোমাদের মধ্যে যে-কেউ এমনটা করবে তার শাস্তি এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, ইহকালে তাদের জন্য থাকবে লাঞ্ছনা আর কিয়ামত দিবসে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে ভয়াবহ শাস্তির দিকে। তোমরা যা কিছু করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে উদাসীন নন।’ (সুরা বাকারাহ)

আর প্রকাশ থাকে যে, ইসলাম গ্রহণ করার জন্য দীনের প্রতিটি বিষয়ের প্রতি ইমান আনয়ন করতে হয়। কোনো একটি বিষয়ের প্রতি অস্বীকৃতি বা সংশয় থাকলে ব্যক্তি কখনো মুমিন হতে পারে না। অনুরূপভাবে একবার ইসলাম গ্রহণ করার পর পুনরায় ইসলামহারা হওয়ার জন্য দীনের প্রতিটি বিষয়কে অস্বীকার করতে হয় না, বরং যেমনিভাবে ওজু সম্পন্ন করার জন্য নিদেনপক্ষে চারটি অঙ্গ ধৌত করা লাগলেও ওজু ভঙ্গ হওয়ার জন্য ওজু ভঙ্গের কারণগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো একটি কারণ পাওয়া যাওয়াই যথেষ্ট, একইভাবে ইসলাম নষ্ট হওয়ার জন্য দীনের অন্তর্ভুক্ত স্বীকৃত বিষয়সমূহের মধ্য থেকে যেকোনো একটি বিষয়ের প্রতি অস্বীকৃতি বা সংশয় পাওয়া যাওয়াই ইসলামহারা হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
-
প্রেক্ষিত : মডারেট ইসলাম প্রচার

২০০৩ সালে অ্যামেরিকান গ্লোবাল পলিসি থিংক ট্যাঙ্ক RAND Corporation একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। ঠিক কীভাবে ও কাদের সহায়তায় অ্যামেরিকার বৈশ্বিক পলিসির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক নতুন ইসলাম প্রবর্তন করা যায়, Civil Democratic Islam: Partners, Resources & Strategies নামের এই রিপোর্টে তা আলোচিত হয়। অ্যামেরিকাবান্ধব এই নতুন ইসলামেরই নাম দেওয়া হয় ‘মডারেট ইসলাম’ বা Civil Democratic Islam। এরপর ২০০৭ সালে Building Moderate Muslim Networks নামে একটি বিস্তারিত ফলোআপ রিপোর্ট প্রকাশ করে RAND।
-
রিপোর্টগুলোতে মূলত ৩টি বিষয় আলোচিত হয় :

ক) কেন অ্যামেরিকাবান্ধব এই নতুন ইসলামের প্রবর্তন ও প্রচার করা উচিত?

খ) একজন মডারেট মুসলিমের বৈশিষ্ট্য কী হবে?

গ) কীভাবে মুসলমানদের মধ্যে এই মডারেট ইসলামের প্রচার ও প্রচলন ঘটানো যায়?

RAND এর এই রিপোর্টে বেশ কিছু সম্ভাব্য পলিসি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তার মধ্যে একটি হলো, ইসলামের ব্যাপারে পুরনো ধ্যান-ধারণাকে ভেঙ্গে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ‘পশ্চিমা ইসলাম’, ‘অ্যামেরিকান ইসলাম’ ইত্যাদি ধারণাকে প্রমোট করা। তার ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ পলিসি সাজেশান ছিল, মডার্নিস্ট ও মডারেট দায়ি ও আলিমদের চিহ্নিত করা, তাদেরকে বিশ্বব্যাপী প্রমোট করা এবং তাদেরকে দিয়ে নতুন নতুন বই ও কারিকুলাম তৈরি করা। এ ছাড়াও কীভাবে আপাত রক্ষণশীলদের (Conservatives) এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও রিপোর্টগুলোতে আলোচনা করা হয়।
-
পরবর্তীতে ২০১৩ সালে Promoting Online Voices for Countering Violent Extremism নামে তৃতীয় একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে RAND। এই রিপোর্টে মডারেট ইসলামের প্রচারের জন্য এবং প্রকৃত ইসলামি শিক্ষাকে (যেটাকে RAND কট্টরপন্থা বলে) মোকাবেলার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। কট্টরপন্থার বিপরীতে ‘সহিষ্ণুতা ও ক্ষমা’-এর শিক্ষা দেওয়া অনেক ‘মডারেট শায়খ’ এবং মুসলিম কমিউনিটি লিডার ও সংগঠনের নাম নির্দিষ্টভাবে এই রিপোর্টে আলোচিত হয়। RAND-এর পলিসি বাস্তবায়নে এ ধরনের ব্যক্তি ও সংগঠনের সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা করা হয় এই রিপোর্টে।
-
মডারেট ইসলামের লক্ষ্য

২০০৭ সালে RAND Corporation তাদের Civil Democratic Islam নামে যে রিপোর্টটি প্রকাশ করে, তাতে তারা লিখেছে :

‘গোটা মুসলিম বিশ্বে আজ তাদের তাদের নিজেদের মধ্যে একটি লড়াই চলছে। যে লড়াই মূলত বিশ্বাস ও মতাদর্শের লড়াই। এই লড়াইয়ের ফলাফলই নির্ধারণ করবে, মুসলিম বিশ্বের ভাগ্য কী হবে।’

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের চতুর্মাসিক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে :

‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এমনই এক যুদ্ধে লিপ্ত, যা একই সঙ্গে সামরিক ও আদর্শিক। এ যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় কেবল তখনই অর্জিত হওয়া সম্ভব, যখন চরমপন্থীদেরকে (মুজাহিদদেরকে) তাদের স্বজাতি, পরোক্ষ সমর্থক এবং নিজেদের দেশের জনগণের চোখে খারাপ ও কলঙ্কিত করে তোলা যাবে।’
-
ইউ এস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টে রয়েছে :

‘৯/১১-এর আক্রমণের পর বারবার ভুল পদক্ষেপ নিলেও ওয়াশিংটন এখন ঠিকই লক্ষ্যভেদী পাল্টা আক্রমণ হেনে যাচ্ছে। স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের চেয়েও আরও ব্যাপক রাজনৈতিক যুদ্ধের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সামরিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং সি.আই.এ-এর গোপন অভিযান পরিচালনাকারী দলগুলো মিডিয়া এবং বিভিন্ন দেশের বুদ্ধিজীবীদের প্রকাশ্যে অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়া আরম্ভ করেছে। ওয়াশিংটন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে যাচ্ছে এমন এক প্রচারণায়, যার উদ্দেশ্য কেবল মুসলিম সমাজকেই প্রভাবিত করা নয়; বরং স্বয়ং ইসলামকেই বিকৃত করে ফেলা।
-
‘ওয়াশিংটন গোপনে কমপক্ষে দুই ডজন দেশে অর্থ-সাহায্য দিয়ে আসছে। মডারেট ইসলামকে জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে রেডিও-টেলিভিশনে ইসলামি অনুষ্ঠান (!) প্রচার করা, মুসলিম স্কুলে বিভিন্ন কোর্স চালু করা, রাজনৈতিক কর্মশালা করা, মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের ক্রয় করা, মসজিদ নির্মাণ, কুরআন ছাপা, ইসলামি স্কুল প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ-সাহায্য দিয়ে আসছে।’
-
মডারেট মুসলিমের বৈশিষ্ট্য

১. একজন মডারেট মুসলিমকে গণতন্ত্রমনা হতে হবে। গণতন্ত্রমনা বলতে সেই গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল হতে হবে, উদারনৈতিক পশ্চিমা ঐতিহ্যে গণতন্ত্র হিসেবে যা পরিচিত। গণতন্ত্রের সমর্থককে ইসলামি রাষ্ট্র-ধারণার বিরোধী হতে হবে। কোনো দল নিজেদের গণতান্ত্রিক দল দাবি করার অধিকার রাখবে না, যদি গণতন্ত্রকে তারা নিছক ক্ষমতায় আরোহণ ও সরকার গঠনের মাধ্যম মনে করে। যেমন : মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুড)।

২. একজন মডারেট মুসলিমের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, অসাম্প্রদায়িক (ধর্মনিরপেক্ষ) আইন গ্রহণ করে নেওয়া। চরমপন্থী (প্রকৃত) মুসলিম এবং মডারেট মুসলিমের মধ্যে আসল পার্থক্য হলো শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন চাওয়া এবং না চাওয়া।

৩. নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারের (!) প্রতি সম্মান প্রদর্শন। সুতরাং হিজাব বাধ্যতামূলক করা নারী অধিকারে হস্তক্ষেপ করার নামান্তর। অমুসলিমদের ওপর জিযয়া কর আরোপ করা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

৪.সন্ত্রাসবাদ ও অবৈধ সহিংসতাবিরোধী হতে হবে।
-
এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য তারা একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করেছে। যার উত্তরের ভিত্তিতে তারা নির্ণয় করবে, কে মডারেট মুসলিম আর কে প্রকৃত মুসলিম। প্রশ্নগুলো নিম্নরূপ :

* এই ব্যক্তি বা দল কি সহিংসতা (জিহাদ)-কে সমর্থন করে বা সেটাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে? এখন সমর্থন না করলেও কি অতীতে কখনো সমর্থন করেছে বা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছে?

* তারা কি গণতন্ত্রকে সমর্থন করে? করলে কি পশ্চিমা উদার গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে নির্ধারিত ব্যক্তি অধিকারকে সমর্থন করে?

* তারা কি (কুফফার গোষ্ঠী রচিত) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডকে সমর্থন করে?

* এসব ক্ষেত্রে তারা কি কোনো ব্যতিক্রম করতে চায়? যেমন : ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে?

* তারা কি বিশ্বাস করে যে, ধর্ম পরিবর্তন করা ব্যক্তিগত অধিকার?

* তারা কি বিশ্বাস করে যে, শরিয়াহ কর্তৃক নির্ধারিত ফৌজদারি দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন করা উচিত?

* তারা কি মনে করে যে, তাদের রাষ্ট্রে শরিয়াহ বহির্ভূত পছন্দমাফিক অন্য কোনো আইনে বিচারপ্রার্থনার সুযোগ থাকা উচিত?

* তারা কি বিশ্বাস করে যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারও (!) একজন মুসলিম নাগরিকের সমান? তারা কি বিশ্বাস করে যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরাও মুসলিম দেশে মুসলিম নাগরিকদের মতো সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেতে পারে?

* তারা কি বিশ্বাস করে যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা মুসলমানদের শাসিত দেশগুলোতে তাদের ধর্মের প্রচার-প্রসারের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে পারে?

* এই ইসলামি রাষ্ট্র কি অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত কোনো আইনি ব্যবস্থাকে গ্রহণ করে?
-
সিভিল ডেমোক্রেটিক ইসলামের প্রস্তাবনা

১. মডারেট মুসলিমদের লেখা বই-পুস্তক, প্রবন্ধ-নিবন্ধ ইত্যাদি ভর্তুকি দিয়ে প্রকাশ করা।
২. সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে যুবক শ্রেণির জন্য বইপত্র রচনা করতে মডারেট মুসলিমদের উদ্বুদ্ধ করা।
৩. মডারেট মুসলিমদের মতাদর্শকে ইসলামি শিক্ষার সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা।
৪. সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষা-সিলেবাস ও প্রচারমাধ্যমে তাদের ইসলামপূর্ব জাহিলি সভ্যতা-সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে এর চর্চাকে উৎসাহিত করা।
৫. মুসলিম জনগণের মধ্যে সুফিবাদকে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা।
৬. বেআইনি অবৈধ দলসমূহ ও তাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করা।
৭. তাদের সহিংস (জিহাদি) কর্মকাণ্ডগুলোর পরিণাম জনসমক্ষে তুলে ধরা।
৮. মৌলবাদী, চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের (মুজাহিদদের) প্রতি কোনো রকম সম্মান প্রদর্শন করা কিংবা তাদের কোনো প্রশংসা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৯. তাদেরকে জনগণের সামনে মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং কাপুরুষ হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে; প্রতিপক্ষের বীরযোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
১০. মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী (মুজাহিদ) ব্যক্তি ও সংগঠনের দুর্নীতি কপটতা ও অনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে তদন্ত করে (মিথ্যার প্রলেপ লাগিয়ে) তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, ইউ এস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট আরও বলেছে যে,

‘বিভিন্ন দেশে সিআইএ বর্তমানে বেশ কিছু অভিনব কার্যকরী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জঙ্গি (মুজাহিদ) সংগঠনের সদস্য সংগ্রহকারী ও অ্যামেরিকাবিদ্বেষী আলিম-উলামাদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া।’

আলিম-উলামা পরিচয়ধারী লোকদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা আরেক জঘন্য ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছে। তারা প্রস্তাব করেছে,

‘তোমরা যদি দেখতে পাও যে, রাস্তার এক প্রান্তে মোল্লা ওমর একটি কাজ করছে, তাহলে রাস্তার অপর প্রান্তে তোমরা মোল্লা ব্র্যাডলিকে বসিয়ে দাও তার বিরুদ্ধাচারণ করার জন্য।’

১১. মৌলবাদীদের মধ্যে দলাদলি ও বিভাজন সৃষ্টি করা।
-
আমাদের করণীয়

এ পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় কী হতে পারে, এ ব্যাপারে সুন্দর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন শহিদ আনওয়ার আওলাকি (রাহিমাহুল্লাহ) তার এক বক্তৃতায়।

১. অ্যামেরিকা যদি প্রকাশ্যে নির্লজ্জের মতো ঘোষণা দেয় যে, তারা ইসলামকে বিকৃত করতে বদ্ধপরিকর, তাহলে আমাদেরও উচিত, নিজেদের দীন ও আদর্শকে এই কুচক্রীদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করা। যার যা কিছু আছে, তা নিয়েই শয়তানদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া।

ইসলামের যেসব বিষয়কে এরা অপপ্রচারের মাধ্যমে বিতর্কিত করে ফেলেছে, আমাদের উচিত সেসব ব্যাপারে ইসলামের সঠিক বক্তব্যকে আপোষহীনতার সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা। ইসলামি রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা ও তা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি গোটা বিশ্ববাসীর কাছে ব্যাপকভাবে উপস্থাপন করা।

আল্লাহর জমিনে আল্লাহর শরিয়াহভিত্তিক শাসন তথা খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রকাশ্যে ও ব্যাপকভাবে কথা বলা। কুফফার গোষ্ঠীর ল্যাবরেটরিতে উদ্ভাবিত সম্পূর্ণ কুফরি মতাদর্শ গণতন্ত্রের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং ইসলামি শুরাব্যবস্থার সুফল ও কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করা। ইসলামি দণ্ডবিধি, হদ-কিসাস, ইসলামি ফৌজদারি আইন, বহুবিবাহ, নারী অধিকার ও মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে ইসলামের বক্তব্য এবং আমাদের অবস্থান আপোষহীনভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা।

মুসলিম জনসাধারণ যেন পশ্চিমা কুফফার মিডিয়ার চক্রান্তের শিকার না হয়, তাদের মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডার দ্বারা প্রতারিত না হয়, সে জন্য এসব ব্যাপারে সততা, স্বচ্ছতা ও আমানতদারির সঙ্গে আপোষহীনভাবে হৃদয়গ্রাহী করে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরা এবং তা প্রচার করা।
-
২. অ্যামেরিকার যাবতীয় বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, তারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যেকোনো উপায়-উপকরণ ব্যবহার করতে পিছপা হবে না। ইউ এস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট তাদের নিবন্ধে লিখেছে,

‘মুসলিমদের পথভ্রষ্ট করার জন্য সম্ভাব্য যেকোনো উপায় অবলম্বন করতে হবে। এমনকি মিউজিক, কৌতুক, কবিতা, ইন্টারনেট ইত্যাদি সবকিছুর মাধ্যমে অ্যামেরিকার দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রহণযোগ্যভাবে গোটা আরব তথা মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

অতএব তাদের যেকোনো ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
-
৩. এই কুফফার গোষ্ঠী যেহেতু সত্যিকার মুসলিমদের হেয়-প্রতিপন্ন করতে এবং তারা যে সত্যের পথে লড়াই করছে, সেই শুভ্রোজ্জ্বল পথকে বিতর্কিত করতে বদ্ধপরিকর, এ জন্য আমাদের ওপর আবশ্যক যে, আমরা সত্যপন্থী আলিম-উলামা ও দায়িদের পক্ষাবলম্বন করব এবং তাদের বক্তব্য বেশি বেশি প্রচার করব। তারা যদি আমাদের চিরন্তন আদর্শকে নস্যাৎ করতে চায়, তাহলে আমাদের উচিত হবে নিজেদের আদর্শের প্রচার-প্রসার ও তা প্রতিষ্ঠায় আরও বেশি আত্মনিয়োগ করা।
-
৪. সত্যের বাণীসমৃদ্ধ যাবতীয় উপায়-উপকরণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। সত্যের মুখপত্র বই-পুস্তক, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, পত্র-পত্রিকা, অডিও-ভিডিও, ওয়েবসাইট তথা যেকোনো উপায়-উপকরণকে নিজেদের অর্থ ব্যয় করে বেশি থেকে বেশি প্রচার করা উচিত।
-
৫. নিদেনপক্ষে আমাদের কথা ও সম্পদের জিহাদে অংশগ্রহণ করা উচিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘তোমরা সম্পদ, প্রাণ এবং কথার মাধ্যমে জিহাদ করো।’ সঠিকভাবে সত্যের প্রচারও জিহাদের একটি অংশ। …আল্লাহ তাআলা আমাদের বিজয় দান করবেন—এ কথা মনে করে আমাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। বরং আমাদের উচিত সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। ‘আত-তায়িফাতুল মানসুরা’ বা ‘আল-ফিরকাতুন নাজিয়া’র অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করা প্রয়োজন। কারণ, বিদআতের প্রসারে এখন আর শুধু স্বল্প সামর্থ্যবান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলগুলোই নিয়োজিত নয়; বরং খোদ অ্যামেরিকা এবং তার দোসররা বিদআতের প্রচার-প্রসারে ব্যাপক অর্থায়ন শুরু করে দিয়েছে। অতএব হক ও বাতিলের এই আদর্শিক যুদ্ধে গোটা বিশ্ববাসীর সামনে সত্যকে তুলে ধরা সত্যপন্থীদের নৈতিক দায়িত্ব।
__________________
[1] উদাহরণস্বরূপ দ্রষ্টব্য :

* In Their Own Words, Voices of Jihad-
http://www.rand.org/pubs/monographs/2008/RAND_MG602.pdf

* Civil Democratic Islam. Partners, Resources, and Strategies
http://www.rand.org/pubs/monograph_reports/MR1716/MR1716.pdf

* Maritime Terrorism Risk and Liability
http://www.rand.org/pubs/monographs/2006/RAND_MG520.pdf

* Counterinsurgency in Afghanistan
http://www.rand.org/pubs/monographs/2008/RAND_MG595.pdf

* Radical Islam in East Africa
http://www.rand.org/pubs/monographs/2009/RAND_MG782.pdf

* Beyond al qaeda. Part one. The Global Jihadist Movement
http://www.rand.org/pubs/monographs/2006/RAND_MG429.pdf

* Beyond al qaeda. Part two. the Outer Rings of the Terrorist Universe
http://www.rand.org/pubs/monographs/2006/RAND_MG430.pdf

* The Muslim World After 9/11
http://www.rand.org/pubs/monographs/2004/RAND_MG246.pdf

[2] মডারেট মুসলিমদের সম্পর্কে র‍্যান্ডের বিস্তর গবেষণা সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য দ্রষ্টব্য :

* Civil Democratic Islam
* Building Moderate Muslim Networks

Address

14 Dhirendra Plaza, College Get, Tongi
Gazipur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Messenger of Light posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share