06/10/2024
আত্মজ্ঞান হলো নিজকে জানা, আমি কে? আমি কেনো এ জড় জগতে এলাম? আমার আরাধ্য কে? আমার কর্তব্য-কর্ম কি? আমি মৃত্যুর পর কোথায় যাবো? ইত্যকার নিজেকে বলে যা দাবি করি, তাকে জানার চেষ্টাই হলো আত্মজ্ঞান।
# কলিযুগের পরিণতিতে সত্য, ত্রেতা অথবা দ্বাপরের মতো আত্মজ্ঞান লাভের উপযোগী নয়।
# সত্যযুগে মানুষের আয়ু ছিল একশ হাজার বছর, এবং তাঁরা দীর্ঘকাল ধরে ধ্যান করার মাধ্যমে আত্নজ্ঞান লাভ করতেন।
# ত্রেতাযুগে মানুষের আয়ু যখন দশ হাজার বছর, তখন তাঁরা মহাযজ্ঞ করে আত্মজ্ঞান লাভ করতেন।
# দ্বাপরযুগে মানুষের আয়ু যখন এক হাজার, বয়স তখন তাঁরা ভগবানের পূজার্চন করে আত্মজ্ঞান লাভ করতেন।
# কিন্তু কলিযুগে মানুষের আয়ু বড় জোর একশো বছর এবং তাও আবার নানা রকম দুঃখ দুর্দশা ও বাধা প্রতিবন্ধকতায় পরিপুর্ন। আর তাই এ যুগের আত্মজ্ঞান লাভের পন্থা হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের নাম, রুপ, যশ-লীলা আদি শ্রবন করা, জপ করা এবং কীর্তন করা।
# নৈমিষারণ্যর ঋষিরা যারা ছিলেন শুদ্ধভক্ত ও বৈষ্ণব। তাঁরা কলিযুগের পন্থার প্রবর্তন করেছিলেন। তাঁরা এক হাজার বছর ধরে পরমেশ্বর ভগবানের নিত্যকথা শোনবার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন।
# এই কলিযুগ মানুষের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। মানব জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মজ্ঞান লাভ করা। কিন্তু এই ভয়ঙ্কর যুগের প্রভাবে মানুষ তাদের জীবনের উদ্দেশ্য বিস্মৃত হবে, তাই নৈমিষারণ্যর শৌনকাদি ঋষিগন শ্রীল সূতগোস্বামীর কাছে কলিযুগের মানুষের পারমার্থিক উপকারের জন্য অনেক প্রশ্ন করেছেন। শুরুতে তাঁরা ছয়টি প্রশ্ন করেন। নৈমিষারন্যে ঋষিদের ছয়টি প্রশ্ন হলো নিম্নরুপ।
:> প্রথম প্রশ্ন:- জনসাধারনের পরম মঙ্গল বা শ্রেয় কিভাবে সাধিত হয়?
:> দ্বিতীয় প্রশ্ন:- সমস্ত্র শাস্ত্রের সারাতিসার কি?
:> তৃতীয় প্রশ্ন:- পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেনো অবতীর্ণ হয়েছিলেন?
:> চতুর্থ প্রশ্ন:- জড়জগতের সৃস্টির পিছনে ভগবানের যে কার্যকলাপ সেই সম্পর্কে বলুন।
:> পঞ্চম প্রশ্ন:- ভগবানের অবতারগনের কার্যকলাপ বর্ননা করুন।
:> ষষ্ঠ প্রশ্ন:- এই জগত থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অপ্রকট হয়ে তার নিত্য ধামে গমন করলে সনাতনধর্ম কার শরনাপন্ন হয়েছিলো?.
ধর্ম হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের প্রদত্ত পন্থা। যখন ধর্মের গ্লানি বা অবমাননা করা হয়, তখন পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং ধর্ম সংস্থাপন করার জন্য আবির্ভূত হন।
শ্রীমদ্ভগদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে সনাতন ধর্মের দিব্যজ্ঞান, আত্মজ্ঞান, সমাজ ও ধর্মনীতিসহ সকল জীবের সকল বিষয়ের পুর্ণ প্রকাশ।
কলিযুগের মানুষের কর্তব্য হচ্ছে, এই যুগ সম্মন্ধে সচেতন হওয়া এবং তারা যদি কলিযুগ রুপী দুর্লঙ্ঘ সমুদ্র উত্তীর্ণ হতে চায়, তাহলে পুর্বতন ঋষিদের মতো শ্রীল শুকদেব গোস্বামী ও শ্রীল সুতগোস্বামীর পরম্পরা ধারায় প্রতিনিধি সদ্গুরুর আশ্রয়ে চলতে হবে। আর এই তরণীটি হচ্ছে শ্রীমদ্ভগবদ গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত রুপী পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অমৃতময় বানী।
সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রের সারাতিসার হলো, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জানা ও তাঁর শ্রীপাদপদ্মের স্মরণ নিয়ে একাগ্রচিত্তে জপ, কীর্ত্তনের মাধ্যমে আরাধনা করা। এতেই প্রাপ্তি ঘটবে পরম কাঙ্খিত ভগবদ্ জ্ঞান বা আত্মজ্ঞান।
জয় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। পরমকরুণাময় গোলোকপতি সচ্চিদানন্দ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর একান্ত হ্লাদিনী শক্তি শ্রীমতী রাধারাণী আর সকল বৈষ্ণব ভক্ত পার্ষদদের শ্রীচরণকমলে নিরন্তর প্রার্থনা করি, সকলের জীবন যেনো রাধাকৃষ্ণময়তায় পূর্ণ হয়ে, মঙ্গলময়, কল্যাণময়, প্রেমময়, ভক্তিময়, মুক্তিময়, শান্তিময়, সুন্দরময় এবং আনন্দময় হয়ে ওঠে সর্বদা।💚💚Radhe radhe 💚