Islamic Life Style

Islamic Life Style Islamic life Style is all about to spread good messages among the Muslim Nation.For the seek of ALLAH

24/04/2026

নখ কাটা এবং শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার সংক্রান্ত ইসলামী বিধি-বিধান এবং কতিপয় ভ্রান্ত বিশ্বাস:

❑ ১) ৪০ দিনের মধ্যে শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার না করলে কি নামাজ-রোজা ইত্যাদি কোনও ইবাদত কবুল হবে না?

প্রশ্ন: শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা সম্পর্কে ইসলামের বিধান কি? আমি জানি, ৪০ দিনের মধ্যে পরিষ্কার করতে হয়। তার মানে কি, যদি কোন কারণে ৪০ দিন পার হয়ে যায় তাহলে কি নামাজ, রোজা, কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি কোনও ইবাদত কবুল হবে না?

উত্তরঃ নি:সন্দেহে ইসলাম অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, শুদ্ধ ও পবিত্র জীবনাদর্শের নাম। পাক-পবিত্রতা ইসলামের এক অনন্য গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে ঈমানের শাখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই ইসলামে, নখ কাটা এবং মোচ, বগল, নাভির নিচের পশম ইত্যাদি শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করার সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ দিন নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যেই তা পরিষ্কার করা সুন্নত।

আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন,
وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً
"গোঁফ ছাটা, নখ কাঁটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং নাভির নিচের লোম ছেঁচে ফেলার জন্যে আমাদেরকে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যেন আমরা তা করতে চল্লিশ দিনের অধিক দেরী না করি।"
[মুসলিম, অধ্যায়: পাক-পবিত্রতা, হা/৪৮৭]

রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«الْفِطْرَةُ خَمْسٌ : الْخِتَانُ وَالاِسْتِحْدَادُ وَنَتْفُ الإِبْطِ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ وَقَصُّ الشَّارِبِ».

‘পাঁচটি জিনিস মানুষের স্বভাবজাত বিষয়: খতনা করা, ক্ষৌরকার্য করা (নাভির নিম্নের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা), বগলের চুল উপড়ানো, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা।"
[সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

সুতরাং কেউ যদি অবহেলা বশত: ইচ্ছাকৃত ভাবে এই মেয়াদ অতিক্রম করে তাহলে সে গুনাহগার হবে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, অলসতা, ব্যস্ততা, ভুলে যাওয়া ইত্যাদি কোনও কারণে ৪০ দিনের মধ্যে এগুলো পরিষ্কার করা না হলে নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি কোন এবাদত কবুল হবে না। বরং যথানিয়মে সঠিক পদ্ধতি ইবাদত করা হলে, আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তা কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ। অবশ্য, ময়লা জমে পবিত্রতা অর্জনে বিঘ্ন সৃষ্টি করলে তাতে সালাত ও পবিত্রতা সংশ্লিষ্ট ইবাদতগুলো শুদ্ধ হবে না।

এ ক্ষেত্রে করণীয় হল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করার কারণে আল্লাহর নিকট তওবা করা এবং অনতি বিলম্বে এসব নোংরামি থেকে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। আল্লাহ তৌফিক দান করুন,আমীন।

❑ ২) প্রশ্ন: নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করার সময় যদি ২/১ টা অবশিষ্ট থেকে যায় তাহলে কি নামাজ হবে?

উত্তরঃ হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চল্লিশ দিনের মধ্যে ভালোভাবে নাভির নিচের লোম, বগলের পশম (পুরুষদের মোচ) ইত্যাদি পরিষ্কার করা জরুরি। অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে। তবে কেউ যদি এ সময়ের মধ্যে অলসতা, ব্যস্ততা, ভুলে যাওয়া ইত্যাদি কোনও কারণে তা না পরিষ্কার করে বা অসতর্কতা বশত: কিছু লোম অবশিষ্ট থেকে যায় তাহলে এ অবস্থায় যথারীতি পবিত্রতা অর্জন করত: সালাত আদায় করলে তাতে সালাতের কোনও ক্ষতি হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত যেন এমনটি না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা কর্তব্য।

❑ ৩) প্রশ্ন: নাভির নিচের লোম কি নাপাক?

উত্তরঃ ইসলামে নাভির নিচের লোম, বগলের নিচের পশম, নখ ইত্যাদি পরিষ্কারের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ৪০ দিন সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এর অতিরিক্ত সময় নখ ও শরীরের অতিরিক্ত লোম পরিষ্কার না করা গুনাহ।
তবে নখ, চুল, পশম, অতিরিক্ত চামড়া এগুলো নাপাক নয় ইত্যাদি শরীরের উপরিভাগে থাকা জিনিসগুলো নাপাক নয়। কেননা হাদিসে এগুলোকে নাপাক বলা হয়নি। তবে পেশাব, পায়খানা, পুঁজ, প্রবাহিত রক্ত ইত্যাদি শরীরের ভেতর থেকে বাইরে বের হয়ে আসা বস্তু সমূহ নাপাক।

❑ ৪) প্রশ্ন: শনিবার ও বুধবার কি চুল কাটা কি নিষেধ?

উত্তরঃ নখ কাটার জন্য বিশেষ কোন দিন, ক্ষণ বা পদ্ধতি সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত নয়। হাদিসের নাম দিয়ে এ সংক্রান্ত কিছু কথা সমাজে প্রচলিত আছে। কিন্তু মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে এগুলো সব জাল-জঈফ কথা। সুতরাং তাতে বিশ্বাস করা বা সে আলোকে আমল করা বৈধ নয়।
বলা হয়ে থাকে, “শনি, ও বুধবার নখ ও চুল কাটা যাবে না। নিশ্চয়ই তা শ্বেত কুষ্ঠ হওয়ার কারণ।” কিন্তু হাদিসের নামে এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যাচার ও কুসংস্কার পূর্ণ কথা।
এ ছাড়াও উমুক দিন নখ কাটলে এই হবে-সেই হবে। উমুক দিন কাটলে এই রোগ-ব্যাধি বা ক্ষয়-ক্ষতি হবে। উমুক দিন কাটলে এই উপকার হবে-এ জাতীয় কথাবার্তা কুসংস্কার পূর্ণ হিন্দুয়াবী বিশ্বাস থেকে উৎসারিত। কোন মুসলিমের জন্য এ সব কথায় বিশ্বাস পোষণ করা জায়েজ নাই।

➧ কোন দিন নখ-চুল কাটলে কী হয়?

অনেক হিন্দুদের মধ্যে সপ্তাহের দিন হিসেবে নখ-চুল কাটাকে শুভ-অশুভ মানা হয়। যেমন:
◆ শনিবারে চুল বা নখ কাটা অনেক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমনকি হঠাৎ মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে!
◆ রবিবারে চুল-নখ কাটাকে অশুভ বলে মনে করা হয়। সম্পত্তি, মানসিক স্থিতি এবং ধর্মের উপর প্রভাব পড়ে এই দিন চুল বা নখ কাটলে!
◆ সোমবারে চুল কাটলে মানুষের মানসিক অবস্থার উপর এবং শিশুর শারীরিক অবস্থার উপর এর প্রভাব পড়ে!
◆ মঙ্গলবার চুল বা নখ কাটলে আয়ু কমে যায়!
◆ বুধবারে নখ বা চুল কাটলে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ পাওয়া যায়!
◆ বৃহস্পতিবার চুল-নখ কাটা মানে লক্ষ্মীকে অপমান করা হয়!
◆ শুক্রবার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। এদিন চুল বা নখ কাটলে সাফল্য আসে!
◆ সূর্যাস্তের পর নখ কাটলে ভয়াবহ বিপদ আসতে পারে!
(উৎস: dailyhunt in)
বলা বাহুল্য যে, ইসলামের দৃষ্টিতে নখ-চুল কাটার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও দিন বা ক্ষণকে শুভ-অশুভ মনে করা হারাম। ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভ্রান্ত কুসংস্কার ছাড়া অন্য কিছু নয়। (আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমিন)

মোটকথা, হাত বা পায়ের নখ লম্বা হলে বা কাটার প্রয়োজন অনুভব হলে যে কোন মুহূর্তে তা কাটা যাবে। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নখ, মোচ, বগলের লোম পরিষ্কার ও নাভির নিচের লোম কাটার জন্য সর্বোচ্চ ৪০ দিন সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন-যেমনটি পূর্বোক্ত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে এর ব্যতিক্রম করা যাবে না।

❑ ৬) প্রশ্ন: আমি লন্ড্রিতে কাজ করি। সে ক্ষেত্রে হাতের নখ ছোট রাখলে আঙুলের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে কি আমি কিছুটা বড় রাখতে পারবো?

উত্তরঃ কা ফির-মু শরিক এবং ফাসেক নায়ক-নায়িকাদের অনুকরণে নখ বড় রাখা জায়েজ নাই (যেমনটি অনেক যুবক-যুবতি আধুনিক ফ্যাশনের নামে করে থাকে)। বরং ইসলামের নির্দেশ হল, সর্বোচ্চ ৪০ দিনের মধ্যে নখ ও শরীরের অতিরিক্ত পশম কাটাতে হবে; অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে। হাদিসে এসেছে:
আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন,
وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً
"গোঁফ ছাটা, নখ কাঁটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং নাভির নিচের লোম ছেঁচে ফেলার জন্যে আমাদেরকে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যেন আমরা তা করতে চল্লিশ দিনের অধিক দেরী না করি।"
[মুসলিম, অধ্যায়: পাক-পবিত্রতা, হা/৪৮৭]

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏ "‏ الْفِطْرَةُ خَمْسٌ - أَوْ خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ - الْخِتَانُ وَالاِسْتِحْدَادُ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ وَنَتْفُ الإِبِطِ وَقَصُّ الشَّارِبِ ‏"‏
"ফিতরাত (স্বভাবজাত ধর্ম) পাঁচটি অথবা পাঁচটি জিনিস স্বভাবজাত বিষয়:
● ক. খতনা করা,
● খ.নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা,
● গ. নখ কাটা,
● ঘ. বগলের পশম তুলে ফেলা
● ঙ. এবং মোচ কাটা।"
(বুখারি ৫৮৮৯, ৫৮৯১, ৬২৯৭; মুসলিম ২৫৭/১-২)

তবে-যেমনটি আপনি বলেছেন-বিশেষ দরকারে যদি নখ বড় রাখার প্রয়োজন হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ গুনাহ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ বান্দার নিয়ত সম্পর্কে সম্যকভাবে অবগত।
দুআ করি, আল্লাহ আপনার ইনকামে বরকত দান করেন। আমীন।
▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
(আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

08/04/2026

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!

হে সালাত বর্জনকারী! তুমি সালাতকে বর্জন করেছ, তাহলে তোমার জন্য ইসলামের আর কী বাকি থাকল? তুমি কি জান না যে, সালাত হচ্ছে ইসলামের খুঁটি এবং ঈমানের তাঁবু?

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
তুমি ছাড়া প্রত্যেকটি সৃষ্টি তার প্রতিপালককে সাজদাহ করে!!
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يَسۡجُدُۤ لَهُۥۤ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَن فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱلشَّمۡسُ وَٱلۡقَمَرُ وَٱلنُّجُومُ وَٱلۡجِبَالُ وَٱلشَّجَرُ وَٱلدَّوَآبُّ وَكَثِيرٞ مِّنَ ٱلنَّاسِۖ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيۡهِ ٱلۡعَذَابُۗ﴾ [الحج: ١٨]
“আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহকে সাজদাহ করে যারা আছে আসমানসমূহে ও যারা আছে যমীনে, আর সূর্য, চাঁদ, নক্ষত্রমণ্ডলী, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং সাজদাহ করে মানুষের মধ্যে অনেকে? আবার অনেকের প্রতি অবধারিত হয়েছে শাস্তি।”
[সূরাআল-হাজ, আয়াত: ১৮]

আর যখন তুমি সালাত আদায় করছ না, তখন তুমি তো ঐসব লোকদের কাতারে শামিল হয়ে যাচ্ছ, যাদের প্রতি আল্লাহর শাস্তি অবধারিত হয়ে গেছে!

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
তুমি কি জানো না যে, সালাত বর্জন করাটা কুফুরী ও শির্কের পর্যায়ভুক্ত? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ والكفر، تَرْكَ الصَّلاَةِ».

“ব্যক্তি এবং শির্ক ও কুফুরের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত ত্যাগ করা।”[1]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:
«العَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ الصَّلاَةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ».
“আমাদের ও তাদের (অমুসলিমদের) মধ্যে যে প্রতিজ্ঞা বা চুক্তি রয়েছে তা হচ্ছে সালাত। সুতরাং যে ব্যক্তি সালাত বর্জন করল, সে কুফুরী করল।”[2]

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
তুমি কি জানো না যে, সালাত বর্জন করা এবং তাকে অবজ্ঞা করাটা মুনাফেকী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ?
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿إِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَهُوَ خَٰدِعُهُمۡ وَإِذَا قَامُوٓاْ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ قَامُواْ كُسَالَىٰ يُرَآءُونَ ٱلنَّاسَ وَلَا يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ إِلَّا قَلِيلٗا ١٤٢﴾ [النساء: ١٤٢]

“নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করে। বস্তুতঃ তিনি তাদেরকে ধোঁকায় ফেলেন। আর যখন তারা সালাতে দাঁড়ায়, তখন শৈথিল্যের সাথে দাঁড়ায়, শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে।”
[সূরাআন-নিসা,আয়াত: ১৪২]

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«إنَّ أَثْقَلَ الصَّلاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ : صَلاةُ الْعِشَاءِ وَصَلاةُ الْفَجْرِ . وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا».
“নিশ্চয় মুনাফিকদের ওপর বেশি ভারী ও কষ্টকর সালাত হলো এশা ও ফজরের সালাত। আর যদি তারা জানত যে, এ দুই সালাতের মধ্যে কী আছে, তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দুই সালাতে শামিল হত।”[3]

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
তুমি কি বিষয়টি ভেবে দেখেছ? মুনাফিক সম্প্রদায়ও সালাত আদায় করত, তবে তারা সালাত আদায় করত লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে, অথচ তুমি কখনও সালাত-ই আদায় করছ না!!

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
তুমি কি জানো না যে, সালাত বর্জন করাটা এক প্রকার গাফলতি ও অলসতা এবং অন্তরের কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতা? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ، أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ، ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ».

“অবশ্যই মুসলিম জনগণ সালাতের জামা‘আত/জুম‘আহ ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকবে, নতুবা আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরের ওপর মোহর মেরে দেবেন, তারপর তারা নিশ্চিতভাবে গাফেল বান্দাদের কাতারে শামিল হয়ে যাবে।”[4]

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
তুমি কি জানো না যে, সালাত বর্জন করার বিষয়টি সকল আমল বিনষ্ট করে দেয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ».

“যে ব্যক্তি আসরের সালাত বর্জন করল, সে ব্যক্তির আমল নষ্ট হয়ে গেল।”[5]

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
তুমি কি জানো না যে, সালাত বর্জন করার ব্যাপারটি কাফির ও পাপীষ্ঠদের সাথে জাহান্নামের মধ্যে নিয়ে যাবে?
আল্লাহ তা‘আলা যখন জাহান্নামের অধিবাসীদেরকে প্রশ্ন করবেন, তখন জবাবে তারা কী বলবে, তা কোড করে বলেন, :
﴿مَا سَلَكَكُمۡ فِي سَقَرَ ٤٢ قَالُواْ لَمۡ نَكُ مِنَ ٱلۡمُصَلِّينَ ٤٣﴾ [المدثر: ٤٢، ٤٣]

“তোমাদেরকে কিসে ‘সাকার’-এ নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে,আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।”
[সূরাআল-মুদ্দাচ্ছির,আয়াত: ৪২-৪৩]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿فَخَلَفَ مِنۢ بَعۡدِهِمۡ خَلۡفٌ أَضَاعُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَٱتَّبَعُواْ ٱلشَّهَوَٰتِۖ فَسَوۡفَ يَلۡقَوۡنَ غَيًّا ٥٩﴾ [مريم: ٥٩]
“তাদের পরে আসল অযোগ্য উত্তরসূরীরা, তারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হল। কাজেই অচিরেই তারা ক্ষতিগ্রস্ততার সম্মুখীন হবে।”
[সূরা মারইয়াম,আয়াত: ৫৯]

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
তুমি কি জানো না যে, সালাত বর্জন করার বিষয়টি তোমার জন্য বড় ধরনের বিপদ-মুসীবত ডেকে আনবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«الَّذِى تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ، كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ،وَمَالَهُ».

“যে ব্যক্তির আসরের সালাত ছুটে গেল, সে ব্যক্তির পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ যেন লুণ্ঠিত হয়ে গেল।”[6]

অর্থাৎ সে যেন তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ হারিয়ে ফেলল। সুতরাং এক ওয়াক্ত সালাত বর্জনের পরিণতি এমন হলে, সকল ওয়াক্তের সালাত বর্জন করার পরিণতি কেমন ভয়াবহ হতে পারে?

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
তুমি কি জানো না যে, সালাত বর্জন করার বিষয়টি হৃদয় মনের অস্থিরতা, অশান্তি ও কষ্টকর পরিস্থিতি তৈরি করে এবং জীবন-যাপনের বিষয়টিকে সংকুচিত ও দুর্বিষহ করে তুলে?

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿وَمَنۡ أَعۡرَضَ عَن ذِكۡرِي فَإِنَّ لَهُۥ مَعِيشَةٗ ضَنكٗا وَنَحۡشُرُهُۥ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ أَعۡمَىٰ١٢٤ قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرۡتَنِيٓ أَعۡمَىٰ وَقَدۡ كُنتُ بَصِيرٗا ١٢٥ قَالَ كَذَٰلِكَ أَتَتۡكَ ءَايَٰتُنَا فَنَسِيتَهَاۖ وَكَذَٰلِكَ ٱلۡيَوۡمَ تُنسَىٰ١٢٦﴾ [طه: ١٢٤، ١٢٦]
“‘আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে, নিশ্চয় তার জীবন-যাপন হবে সংকুচিত এবং আমরা তাকে কিয়ামতের দিন জমায়েত করব অন্ধ অবস্থায়। সে বলবে, ‘হে আমার রব! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় জমায়েত করলেন? অথচ আমি তো ছিলাম চক্ষুষ্মান। তিনি বলবেন, ‘এরূপই আমাদের নিদর্শনাবলী তোমার কাছে এসেছিল; কিন্তু তুমি তা ছেড়ে দিয়েছিলে এবং সেভাবে আজ তোমাকেও (জাহান্নামে) ছেড়ে রাখা হবে।”
[সূরা ত্বহা, আয়াত: ১২৪-১২৬]

সুতরাং হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
হায়, তোমার জন্য আফসোস হয় এবং হৃদয়ে কষ্ট অনুভব করি! কীভাবে সময় অতিবাহিত হয় এবং কিভাবে জীবনকাল ফুরিয়ে যাচ্ছে, অথচ তোমার রব থেকে তোমার অন্তর আড়ালকৃত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে? দুনিয়ার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বস্তুর মজা উপভোগ না করে তুমি কিভাবে দুনিয়া থেকে বেরিয়ে যাবে? আর দুনিয়ার মধ্যকার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বস্তু হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার ‘ইবাদাত করা, তাঁর যিকির করা, তাঁর শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করা।

হে সালাত/নামাজ বর্জনকারী!
যখন তোমার নিকট তোমার সালাতের বিষয়টি অবজ্ঞার বস্তু হয়, তখন তোমার দীনের কোন বিষয়টি তোমার নিকট প্রিয় হবে? তুমি কি জান না যে, যে ব্যক্তি সালাতকে উপেক্ষা করল, তাহলে এর চেয়ে আর বড় উপেক্ষা বা হাতছাড়া কারার মতো কোনো বস্তু কি হতে পারে?

হাসান বলেন: হে আদম সন্তান! যখন তোমার নিকট তোমার সালাতের বিষয়টি অবজ্ঞার বস্তু হয়, তখন এমন কী বস্তু আছে, যা তোমার নিকট প্রিয় হবে?
হে গাফেল (অলস) ব্যক্তি! তুমি সালাত বর্জনকারী অবস্থায় মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার পূর্বেইফিরে আস তুমি তোমার ‘রব’-এর কাছে।

সালাতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনকারী হে তুমি!
* সালাতের মহান ফযীলতসমূহ জানার পর তুমি কী করবে?
* আর মুসল্লীগণের (সালাত আদায়কারী ব্যক্তিবর্গের) পুরস্কারগুলো দেখার পর তুমি কী করবে?
* আর সালাত উপেক্ষাকারী ব্যক্তিবর্গের শাস্তিগুলো সম্পর্কে জানার পর তুমি কী করবে?
* সালাতের প্রতি উপেক্ষা ও তা বর্জন করার কাজটি কি তুমি এখনও অব্যাহত রাখবে?
* এখনও কি তুমি অবিরতভাবে সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে তা আদায় না করে তাকে বিলম্বিত করতে থাকবে?

হে ভাই আমার!
উচ্চতর অভিপ্রায় বা সংকল্প কোথায়? শক্তিশালী সিদ্ধান্ত কোথায়? জান্নাত পাওয়ার জন্য উদ্যোগ বা তৎপরতা কোথায়? (সালাতের) সময়গুলোর ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার বিষয়টি কোথায়? আগে আগে সালাতের জামা‘আতে হাযির হওয়ার বিষয়টি কোথায়?

রেফারেন্সঃ
[1]সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৫৭
[2]আহমাদ ও তিরমিযী। আর আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
[3]বুখারী, হাদীস নং-৬২৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৫১৪
[4]সহীহ মুসলিম,হাদীস নং- ২০৩৯
[5]সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৫২৮
[6]সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৫২৭

01/04/2026

👉মৌলিকভাবে অজু ভঙ্গের কারণ ৭টি। যথাক্রমে-

➡️এক. পায়খানা ও পেশাবের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া

👉যেমন বায়ু, পেশাব-পায়খানা, পোকা ইত্যাদি। (হেদায়া, হাদিস : ১/৭)

📖পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসলে (নামাজ পড়তে পবিত্রতা অর্জন করে নাও)।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ০৬ )

👉আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নিশ্চয় রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘শরীর থেকে যা কিছু বের হয়, তার কারণে অজু ভেঙে যায়...।’ (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস : ৫৬৮)
➡️দুই. রক্ত, পূঁজ, বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া। (হেদায়া : ১/১০)

👉আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.)-এর যখন নাক দিয়ে রক্ত ঝড়তো, তখন তিনি ফিরে গিয়ে অজু করে নিতেন। (মুয়াত্তা মালিক, হাদিস : ১১০)

➡️তিন. মুখ ভরে বমি করা

👉আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তির বমি হয়, অথবা নাক দিয়ে রক্ত ঝরে, বা মজি (সহবারের আগে বের হওয়া সাদা পানি) বের হয়, তাহলে ফিরে গিয়ে অজু করে নেবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১২২১)

➡️চার. থুথুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হওয়া

👉হাসান বসরি রহ. বলেন, যে ব্যক্তি তার থুথুতে রক্ত দেখে তাহলে থুথুতে রক্ত প্রবল না হলে তার ওপর অজু করা আবশ্যক হয় না। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ১৩৩০)

➡️পাঁচ. চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া

👉আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সিজদা অবস্থায় ঘুমালে অজু ভঙ্গ হয় না, তবে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লে ভেঙ্গে যাবে, কেননা চিৎ বা কাৎ হয়ে শুয়ে পড়লে শরীর ঢিলে হয়ে যায়।’ [ফলে বাতকর্ম হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে] (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩১৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২০২)

➡️ছয়. পাগল, মাতাল বা অচেতন হলে

👉হাম্মাদ (রহ.) বলেন, যখন পাগল ব্যক্তি সুস্থ্ হয়, তখন নামাজের জন্য তার অজু করতে হবে। (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ৪৯৩)

➡️সাত. নামাজে উচ্চস্বরে হাসি দিলে

👉ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজে উচ্চস্বরে হাসে, সে ব্যক্তি অজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করবে। হাসান বিন কুতাইবা (রহ.) বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি উচ্চস্বরে হাসি দেয়, সে ব্যক্তি অজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করবে।’ (সুনানে দারা কুতনি, হাদিস : ৬১২)

29/03/2026

একজন নারী রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে তার স্বামীর বিষয়ে অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন যে, তার স্বামী অনেক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের জন্য বারবার খাবার প্রস্তুত ও তাদের আপ্যায়ন করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ কোনো উত্তর দিলেন না, আর সেই নারী চলে গেলেন।

কিছুক্ষণ পরে রাসুলুল্লাহ ﷺ সেই নারীর স্বামীকে ডেকে বললেন, “আজ আমি তোমার অতিথি হবো।”

তখন সেই ব্যক্তি অত্যন্ত খুশি হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়ে তার স্ত্রীকে বললেন, “আল্লাহর রাসুল ﷺ আজ আমাদের অতিথি হবেন।”

তার স্ত্রী খুব আনন্দিত হলেন এবং অনেক চেষ্টা ও যত্ন নিয়ে যা কিছু খাবার ছিল তা দিয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য খাবার প্রস্তুত করলেন।

যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাদের ঘরে এসে তাদের আতিথেয়তার সম্মান গ্রহণ করলেন, তখন তিনি সেই ব্যক্তিকে বললেন, “তোমার স্ত্রীকে বলো, সে যেন সেই দরজা দেখে, যেখান দিয়ে আমি এই ঘর ত্যাগ করব।”

নারী সেই দরজা দেখলেন এবং দেখতে পেলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পেছনে ঘর থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী, বিচ্ছু এবং ক্ষতিকর জীব বের হয়ে যাচ্ছে। তিনি এ দৃশ্য দেখে এতটাই বিস্মিত হলেন এবং আল্লাহর মহান কুদরত উপলব্ধি করে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন।

যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে বললেন, “এটাই ঘটে যখন একজন অতিথি তোমার ঘর থেকে বিদায় নেয়। তার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ক্ষতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিপদ তোমার ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। অতিথির প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং আপ্যায়নের কষ্ট স্বীকার করার পেছনে এটাই হেকমত।”

রাসুলুল্লাহ ﷺ আরও বলেন, “যে ঘরে বেশি অতিথি আসে, আল্লাহ সেই ঘরকে ভালোবাসেন। এর চেয়ে উত্তম ঘর আর কিছুই হতে পারে না যেখানে তরুণ ও বৃদ্ধ সবার জন্য দরজা খোলা থাকে। এমন ঘরে আল্লাহর রহমত ও বরকত নেমে আসে।”

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যখন আল্লাহ কোনো জাতির জন্য কল্যাণ চান, তখন তিনি তাদের জন্য একটি উপহার পাঠান।” সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “কী ধরণের উপহার, হে আল্লাহর রাসুল?” তিনি বললেন, “অতিথি তার নিজের রিজিক নিয়ে আসে এবং গৃহের লোকদের পাপ সঙ্গে নিয়ে যায়।”

তাই, জেনে রাখুন, অতিথি হলো জান্নাতে যাওয়ার একটি মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, তাকে অবশ্যই তার অতিথির প্রতি উদার হতে হবে।” [বুখারি : ৫৫৬০]

27/03/2026

রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
মানুষ তার বন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠে।
সুতরাং তার বন্ধু নির্বাচনের সময় এ বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত, সে কাকে বন্ধু নির্বাচন করছে।
📚
মিশকাতঃ ৫০১৯
তিরমিজিঃ ২৩৭৮,
আবু দাউদঃ ৪৮৩৩,
সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৯২৭,
সহীহুল জামি‘ ৩৫৪৫,
আহমাদ ৮৪১৭,
শু‘আবুল ঈমান ৯৪৩৮,
হিলইয়াতুল আওলিয়া ৩/১৬৫,
আল মুসতাদরাক ৭৩১৯।

ব্যাখ্যাঃ (الْمَرْءُ عَلٰى دِينِ خَلِيلِه)
অর্থাৎ বেশির ভাগ সময়ে মানুষ তার বন্ধুর আদর্শে গড়ে ওঠে। আদর্শের মিল ছাড়া কখনও প্রকৃত বন্ধুত্ব হতে পারে না। বন্ধুত্ব করার সময় লোকটিকে দেখে নিতে হবে। যদি সে ফাসিক, পাপী এবং দুনিয়াদার হয়, তবে তার সাথে বন্ধুত্ব করবে না। কারণ তার মধ্যেও সেই স্বভাব প্রসারিত হতে পারে।

(فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلْ)
এর অর্থ হল। কারো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করার পূর্বে লক্ষ্য করতে হবে, কার সাথে বন্ধুত্ব করা হচ্ছে। সে কিরূপ লোক। তার চরিত্র কিরূপ, সে কি আক্বীদাহ্ বিশ্বাস করে। অর্থাৎ এসব দিক বিবেচনা করে ও দেখেশুনে বন্ধুত্ব করা উচিত। কারণ মহান আল্লাহ বলেন,
يٰاَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত হও-
(সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ১১৯)।
ইমাম গাযালী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ
লোভী ব্যক্তির সাথে উঠাবসা করলে নিজের লোভও বৃদ্ধি পায়। আর দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তির সাথে চলাফেরা করলে দুনিয়ার প্রতি নিজের আকর্ষণ কমে আখিরাতের কথা বেশি মনে হয়। এর কারণ হলো কারো অনুসরণ করাটা নিজের জ্ঞানকে সেদিকেই নিয়ে যায়। অনুসরণকারী তার অনুসরণীয় ব্যক্তির প্রতি ভক্তির কারণে নিজের চিন্তাশক্তিকে হারিয়ে ফেলে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

মাতৃগর্ভেই নির্ধারিত হয় চারটি বিষয়! হাদিসের আলোকে তাকদীর...আলহামদুলিল্লাহ। তাকদীরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা প্রত্যেক মুসল...
27/03/2026

মাতৃগর্ভেই নির্ধারিত হয় চারটি বিষয়! হাদিসের আলোকে তাকদীর...

আলহামদুলিল্লাহ। তাকদীরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা প্রত্যেক মুসলিমের ঈমানের অন্যতম মূল রুকন এবং মুমিন হওয়ার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত।

অতীতে যা ঘটেছে, বর্তমানে যা ঘটছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে—সবই মহান আল্লাহ তাআলার জ্ঞানাতীত নয়, বরং তাঁর চোখের সামনে সুস্পষ্ট। মানুষের জন্ম, মৃত্যু, রিযিক এবং আমলের প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর কাছে সমানভাবে জ্ঞাত।

আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সত্যবাদী ও সত্যবাদী স্বীকৃত রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

"তোমাদের প্রত্যেকেই আপন আপন মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত (শুক্র হিসেবে) জমা থাকে। তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন রক্তপিন্ড, তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন মাংস পিন্ডাকারে থাকে। তারপর আল্লাহ্ একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে রিযিক, মৃত্যু, দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য—এ চারটি বিষয় লিখার জন্য আদেশ দেয়া হয়।"

হাদীসের আরও মর্মস্পর্শী অংশে বলা হয়েছে, "আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে যে কেউ জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে। এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র একহাত বা এক গজের তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার ওপর প্রাধান্য লাভ করে আর তখন সে জান্নাতীদের আমল করা শুরু করে দেয়। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর এক ব্যক্তি জান্নাতীদের আমল করতে থাকে। এমনকি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত বা দু’হাত তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার উপর প্রাধান্য লাভ করে আর অমনি সে জাহান্নামীদের আমল শুরু করে দেয়। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে।"
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫৯৪)।

তবে মনে রাখতে হবে, ভাগ্যে লিখে দেওয়ার কারণে কেউ জান্নাতী বা জাহান্নামী হয় না, বরং মানুষ তার নিজস্ব আমল ও ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমেই নিজের গন্তব্য নির্ধারণ করে। বান্দার ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত আল্লাহর অগ্রিম জ্ঞানই হলো তাকদীর, আর এই তাকদীর গড়ার স্বাধীনতা ও বিবেক-বুদ্ধি আল্লাহ মানুষকে দান করেছেন।

সূরা রাদের ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির ভাগ্য ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ তারা নিজেরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করে।"

দুনিয়াবী সফলতা বা ফযীলতের সাথে আখিরাতের কামিয়াবীর কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহ তাআলা ভাল আর মন্দের সৃষ্টিকর্তা, তিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন মানব ও দানব জাতিদ্বয়কে পরীক্ষা করার জন্যই। সারা জীবনের ভালো কাজের পর শেষ জীবনে মন্দ কাজের মাধ্যমে ধ্বংস হওয়া এড়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন,

"তোমরা মুসলিম না থাকা অবস্থায় কক্ষনো মৃত্যুবরণ করো না"
(সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১০২)।

অর্থাৎ, মৃত্যু পর্যন্ত ইসলামের ওপর অটল থাকাই হলো প্রকৃত মুমিনের সফলতা। আমাদের আমল যেন কেবল শুরুর জন্য না হয়, বরং তা যেন মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঈমানের ওপর অটল রেখে 'খাতুমা বিল খায়ের' (ঈমানের সাথে মৃত্যু) নসীব করুন। আমীন।

26/03/2026

আবু আদ-দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন:

"তুমি যদি মানুষের সমালোচনা করো, তবে তারাও তোমার সমালোচনা করবে। যদি তুমি তাদের ছেড়ে দাও (উপেক্ষা করো), তবে তারা তোমাকে ছেড়ে দেবে না। আর যদি তুমি তাদের থেকে পালিয়ে যাও, তবে তারা তোমাকে ধরে ফেলবে।"

এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আবু আদ-দারদা! তাহলে আপনি আমাকে কী করতে বলেন?

তিনি বললেন: "তোমার সম্মানকে তোমার অভাবের দিনের (কিয়ামতের দিনের) পাথেয় হিসেবে বিলিয়ে দাও।" (অর্থাৎ, দুনিয়াতে কেউ তোমার সম্মানহানি করলে তার প্রতিশোধ না নিয়ে তা আল্লাহর জন্য ছেড়ে দাও, যেন কিয়ামতের দিন এর বিনিময়ে তুমি সওয়াব পাও)।

তিনি আরও বলেন: আল্লাহর কাছে কোনো মুমিনের সেই ঢোক গেলার চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই, যা সে ক্রোধ সংবরণ করার জন্য গিলে ফেলে। অতএব, তোমরা ক্ষমা করো, আল্লাহ তোমাদের সম্মানিত করবেন।

(সিফাতুস সাফওয়াহ-১/৩০১)

24/03/2026

কুরআন থেকে বাছাই করা ৪০ টি দোয়া
আপনার কালেকশনে রাখুন এবং প্রতিদিন পড়ুন—

❑ কুরআনের দোয়া (আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ):
১. দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

❂ উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াকিনা আযাবান নার।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।(২:২০১)

২. হেদায়েতের পরে হৃদয় না বাঁকানোর দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا

❂ উচ্চারণ: রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, তুমি আমাদেরকে হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের হৃদয়কে বাঁকা করে দিও না।(৩:৮)

৩. ক্ষমা ও রহমতের দোয়া (আদম আ.):
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা যালামনা আনফুসানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের উপর জুলুম করেছি। যদি তুমি আমাদের ক্ষমা না করো ও দয়া না করো তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।(৭:২৩)

৪. জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
❂ উচ্চারণ: রব্বি যিদনী ইলমা।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।(২০:১১৪)

৫. পিতা-মাতার জন্য দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
❂ উচ্চারণ: রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সাগীরা।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করুন যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছেন।(১৭:২৪)

৬. ঈমান দৃঢ় রাখার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ আলাইনা সবরা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন।(৭:১২৬)

৭. ক্ষমা ও রহমতের দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ
উচ্চারণ: রব্বিগফির ওয়ারহাম।
অর্থ: হে আমার রব, ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন।(২৩:১১৮)

৮. ঈমানদারদের ক্ষমার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা ওয়া লি ইখওয়ানিনা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদেরকে এবং আমাদের ঈমানদার ভাইদের ক্ষমা করুন।(৫৯:১০)

৯. পরিবারকে সালাত প্রতিষ্ঠাকারী করার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ
❂ উচ্চারণ: রব্বিজআলনি মুকীমাস সালাহ।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমাকে ও আমার সন্তানদের সালাত কায়েমকারী বানান।(১৪:৪০)

১০. অন্তর প্রশস্ত করার দোয়া (মুসা আ.):
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
❂ উচ্চারণ: রব্বিশরাহলি সদরি।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করে দিন।(২০:২৫)

❑ কোরআনের দোয়া (পর্ব–২):
১১. নূহ (আ.)-এর দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا
❂ উচ্চারণ: রব্বিগফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিমান দাখালা বাইতিয়া মু’মিনা।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং যে মুমিন হয়ে আমার ঘরে প্রবেশ করে তাকে ক্ষমা করুন।(৭১:২৮)

১২. বিপদে ইউনুস (আ.)-এর দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
❂ উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্জালিমিন।
❂ অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।(২১:৮৭)

১৩. মুমিনদের ক্ষমার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা লা তুয়াখিজনা ইন নাসিনা আও আখতা’না।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।(২:২৮৬)

১৪. বোঝা হালকা করার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরান।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের উপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না যেমন পূর্ববর্তীদের উপর দিয়েছিলেন।(২:২৮৬)

১৫. শক্তির বাইরে দায়িত্ব না দেওয়ার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা তাকাতা লানা বিহি।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের এমন দায়িত্ব দেবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।(২:২৮৬)

১৬. ক্ষমা ও সাহায্যের দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا
❂ উচ্চারণ: ওয়া’ফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা।
❂ অর্থ: আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদেরকে মাফ করুন এবং আমাদের উপর দয়া করুন।(২:২৮৬)

১৭. ধৈর্যের দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরা ওয়া সাব্বিত আকদামানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদের পা দৃঢ় রাখুন।(২:২৫০)

১৮. ক্ষমা ও রহমতের দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা জুনুবানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন।(৩:১৬)

১৯. হৃদয়ে ঈমান স্থির রাখার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা লা তাজআল ফি কুলুবিনা গিল্লান লিল্লাজিনা আমানু।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, ঈমানদারদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।(৫৯:১০)

২০. উত্তম পরিণতির দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
❂ উচ্চারণ: তাওয়াফফানি মুসলিমা ওয়া আলহিকনি বিস সালিহীন।
❂ অর্থ: আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং আমাকে সৎ লোকদের সাথে মিলিয়ে দিন।(১২:১০১)

❑ কোরআনের দোয়া (২১–৩০):
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
২১. আরবি:
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আন্তাস সামীউল আলীম।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের কাছ থেকে (এ আমল) কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।(সূরা আল-বাকারা ২:১২৭)

২২. আরবি:
▬▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ওয়াজআলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়া মিন যুররিয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল্লাক।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার অনুগত মুসলিম বানান এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকেও একটি অনুগত জাতি বানান।
(সূরা আল-বাকারা ২:১২৮)

২৩. ইস্তিগফারের দোয়া (রিজিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ):
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَّبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
❂ উচ্চারণ: রব্বিগফিরলি ওয়াতুব আলাইয়া ইন্নাকা আংতাত-তাওয়াবুর রহিম।
❂ অর্থ: হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।

২৪. আরবি:
▬▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের হৃদয়কে বক্র করবেন না।(সূরা আলে ইমরান ৩:৮)

২৫. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফির লানা জুনুবানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমরা ঈমান এনেছি; অতএব আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৬)

২৬. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা আমান্না বিমা আনযালতা ওয়াত্তাবা‘নার রাসূল।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি যা নাযিল করেছেন আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসুলের অনুসরণ করেছি।(সূরা আলে ইমরান ৩:৫৩)

২৭. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা জুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফি আমরিনা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের গুনাহ এবং আমাদের কাজে সীমালঙ্ঘন ক্ষমা করুন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৭)

২৮. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা মা খালাকতা হাযা বাতিলা সুবহানাকা ফাকিনা আযাবান নার।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র; অতএব আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯১)

২৯. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ইন্নাকা মান তুদখিলিন্নারা ফাকদ আখযাইতাহু।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি যাকে আগুনে প্রবেশ করান তাকে অবশ্যই অপমানিত করেছেন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯২)

৩০. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ইন্নানা সামি‘না মুনাদিয়ান ইউনাদি লিল ইমান।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমরা এক আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি, তাই আমরা ঈমান এনেছি।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৩)

❑ কোরআনের দোয়া (৩১–৪০):
৩১. আরবি:
▬▬▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ফাগফির লানা জুনুবানা ওয়া কাফ্ফির আন্না সাইয়্যিআতিনা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের পাপসমূহ দূর করে দিন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৩)

৩২. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
❂ উচ্চারণ: ওয়া তাওয়াফ্ফানা মা‘আল আবরার।
❂ অর্থ: এবং আমাদেরকে সৎকর্মশীলদের সাথে মৃত্যু দিন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৩)

৩৩. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ওয়া আতিনা মা ওয়া‘আদতানা ‘আলা রুসুলিক।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আপনার রাসুলদের মাধ্যমে আপনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদেরকে দান করুন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৪)

৩৪. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
❂ উচ্চারণ: ওয়ালা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়ামাহ।
❂ অর্থ: এবং কিয়ামতের দিন আমাদের অপমানিত করবেন না।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৪)

৩৫. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ ‘আলাইনা সাবরান ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমীন।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন।
(সূরা আল-আরাফ ৭:১২৬)

৩৬. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: রব্বি নাজ্জিনি মিনাল কওমিজ্জালিমিন।
অর্থ: হে আমার রব, আমাকে জালিম সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন।(সূরা আল-কাসাস ২৮:২১)

৩৭. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبِّ أَنزِلْنِي مُنْزَلًا مُّبَارَكًا
❂ উচ্চারণ: রব্বি আনযিলনি মুনযালাম মুবারাকা।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমাকে বরকতময় স্থানে অবতরণ করান।(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:২৯)

৩৮. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ
❂ উচ্চারণ: রব্বি আউযু বিকা মিন হামাযাতিশ শায়াতীন।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমি শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:৯৭)

৩৯. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
❂ উচ্চারণ: ওয়া আউযু বিকা রব্বি আইয়্যাহদুরুন।
❂ অর্থ: এবং হে আমার রব, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যেন তারা আমার কাছে উপস্থিত না হয়।
(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:৯৮)

৪০. আরবি:
▬▬▬▬▬▬☞
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ
❂ উচ্চারণ: রব্বি আওযি‘নি আন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতি আন‘আমতা আলাইয়্যা।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমাকে অনুপ্রাণিত করুন যাতে আমি আপনার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে দান করেছেন।(সূরা আন-নামল ২৭:১৯)

— আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন🤲

Address

Gazipur
1700

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Life Style posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share