Islamic Life Style

Directions Website

Islamic Life Style Islamic life Style is all about to spread good messages among the Muslim Nation.For the seek of ALLAH

23/09/2026

সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য আমল-
(১) পরিচিত বা অপরিচিত মানুষের চোখ লাগা এবং হিংসা থেকে সন্তানকে বাঁচাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর নাতি হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য নিয়মিত একটি দোয়া পড়তেন। সন্তানকে কাছে নিয়ে এই দোয়াটি পড়ে ফুঁ দিন:
أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
"উয়িজুকুমা বিকালিমা-তিল্লাহিত তাম্মাহ, মিন কুল্লি শায়ত্বানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিল লাম্মাহ।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৭১)। (অর্থ: আমি তোমাদের দুজনকে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার আশ্রয়ে রাখছি—সব ধরনের শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং ক্ষতিকর বদনজর থেকে)।
(২) সন্ধ্যা নামার সময়টাতে চারপাশের পরিবেশ অস্থিতিশীল থাকে। এ সময়ে সন্তানদের বাইরে বা একা না রেখে নিজের চোখের সামনে রাখা নবীজির (সা.) নির্দেশ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে, তখন তোমাদের সন্তানদের আটকে রাখো (ঘরে রাখো)। কারণ, এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৮০)।
(৩) মানুষের হিংসা ও ক্ষতি করার প্রবণতা থেকে সন্তানকে মুক্ত রাখতে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা এবং রাতে ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস পড়ে সন্তানের শরীরে ফুঁ দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বদনজর থেকে বাঁচার জন্য এই সূরাগুলোকে সবচেয়ে কার্যকর রক্ষাকবচ হিসেবে উল্লেখ করেছেন (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ২০৫৮)।
(৪) সন্তান স্কুলে বা বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় তাকে আল্লাহর জিম্মায় সঁপে দিয়ে এই দোয়াটি পড়তে শেখান বা নিজে পড়ে ফুঁ দিন: بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ "বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়া লা-হাওলা ওয়া লা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।" হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এটি পড়ে, তাকে সব ধরনের বিপদ থেকে হেফাজত করা হয় এবং শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায় (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৯৫)।
(৫) অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে সন্তানদের সুন্দর মুহূর্তের ছবি প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। তারা স্কুলে পড়লে তাদের হাতে দামী ফোন ভুলেও দেবেন না। যোগাযোগের জন্য চলনসই ফোন দেবেন, যেটার প্রতি বাহিরের কারও আগ্রহ জন্মাবে না।
বর্তমান ভীতিকর পরিস্থিতিতে বাহ্যিক সতর্কতার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য রবের কাছে সমর্পণ এবং সুন্নাহ নির্দেশিত আমলগুলো আঁকড়ে ধরার কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের নিরাপদ রাখুক।

09/09/2026

اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَعَلِّمْهُ التَّأْوِيلَ
বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ফাক্কিহহু ফিদ্দীন,
ওয়া আল্লিমহুত্ তা’ওয়ীল।

বাংলা অর্থ:

“হে আল্লাহ! আপনি তাকে ( সন্তান) দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং তাকে কুরআনের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য বোঝার জ্ঞান দান করুন।”

আমিন।।

08/09/2026

যে লোক এই আয়াত ও হাদিস গুলো ভালো করে বুঝতে পারবে,

👉 সে সম্মেলিত মোনাজাত, জোরে জোরে চিল্লা ফাল্লা করে যিকির ইত্যাদি বিদআতি আমল থেকে বিরত থাকবে ইন শা আল্লাহ ✅

➡️মোনাজাত বা দোয়া করার নিয়ম আল্লাহ ও তার রসুল ﷺ বলে দিয়েছেন ⤵️

তোমরা ধৈর্য্য ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর, আর তা আল্লাহভীরু ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য সকলের কাছে নিশ্চিতভাবে কঠিন।
📗 2 আল বাকারাহঃ 45

হে মু’মিনগণ!
ধৈর্য ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
📗 2 আল বাকারাহঃ 153

তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে বিনয়ের সঙ্গে এবং গোপনে আহবান কর, তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
📗7 আল আরাফঃ 55

তোমার প্রতিপালককে মনে মনে বিনয়ের সঙ্গে ভয়-ভীতি সহকারে অনুচ্চস্বরে সকাল-সন্ধ্যায় স্মরণ কর আর উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।
📗7 আল আরাফঃ 205

প্রিয় নবী মুহাম্মদ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ 📣
❝শীঘ্রই এ উম্মাতের মধ্যে এমন একদল লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা পবিত্রতা অর্জন ও
দু’আর ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করবে।❞
📚 সুনানে আবু দাউদঃ ৯৬
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ
❝যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু প্রবর্তন করবে যা তাতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।❞
ইবনু ঈসা (রহঃ) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ
❝কোন ব্যক্তি আমাদের আচার–অনুষ্ঠানের বিপরীত কিছু প্রবর্তন করলে তা বর্জনীয়।❞

📚 সুনানে আবু দাউদঃ ৪৬০৬
বুখারীঃ ২৬৯৭,
মুসলিমঃ ৪৩৮৫ (হাঃ একাডেমি) (ইফাঃ ৪৩৪৪)
ইবনে মাজাহঃ ১৪
রিয়াদুস সলেহিনঃ ১৭৩, ১৬৫৬
মিশকাতঃ ১৪০,
সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিবঃ ৪৯
ঊপদেশঃ ১৬৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

বান্দা সাজদাহর সময়ে মহান আল্লাহর সর্বাধিক নৈকট্য লাভ করে। কাজেই এ সময় তোমরা অধিক পরিমাণে দু‘আ পাঠ করবে।

📚 সুনানে আবু দাউদঃ ৮৭৫
নাসায়ীঃ ১০৪৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

07/09/2026

পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের অধিকার ও কর্তব্য-পিতামাতা মহান রবের পক্ষ থেকে এক বিরাট নেয়ামত। পিতা-মাতার হাত ধরেই প্রতিটি মানুষ পৃথিবীতে আগমন করে। তাদের লালন-পালনে বেড়ে ওঠে। চলতে শিখে। এ কারণেই কোরআনের বহু আয়াত ও বহুসংখ্যক হাদিসে পিতা-মাতার হক সম্পর্কে বিভিন্নভাবে ইরশাদ হয়েছে।
পিতা-মাতার মাহাত্ম্য ও মহত্ত্ব : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর (হে নবী) আপনার প্রভু এই মর্মে রায় দিচ্ছেন যে, তিনি ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবেন। যদি আপনার নিকট তাদের কেউ বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হয় তাহলে তাদেরকে ‘উফ’ বলবেন না এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করবেন না, এবং তাদের উত্তম কথা বলুন। আর তাদের জন্য রহমতের ডানা প্রসারিত করে দিন আর বলুন, ‘হে আমার প্রভু, আপনি তাদের প্রতি তেমনি রহম করুন, যেমন তারা আমাকে শিশুকালে লালন-পালন করেছেন।’
(সুরা বনী ইসরাইল : ২৩-২৪)।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমার সর্বোত্তম সাহচর্যের বেশি অধিকারী কে? তিনি বললেন, ‘তোমার মা’। লোকটি বলল ‘এরপর কে?’। তিনি বললেন, ‘তোমার মা’। লোকটি বলল ‘এরপর কে?’। তিনি বললেন, ‘তোমার মা’। লোকটি বলল, ‘এরপর কে?’। তিনি বললেন, ‘তোমার পিতা’। (বোখারি)।
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের অধিকার : কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব এবং দুনিয়াতে আল্লাহ ও তার রাসুলের সন্তুষ্টি মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা ও আখেরাতে তাদের চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য বহু প্রকার করণীয় দায়িত্ব ও কর্তব্যের আদেশ এসেছে। সন্তানের ওপর পিতা-মাতার যেমন অধিকার আছে তেমনি পিতা-মাতার ওপরও সন্তানের অধিকার আছে। সন্তানের কিছু অধিকার জন্মের আগে আর কিছু অধিকার জন্মের পরে।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের অধিকার
১. জন্মের পরপরই মৃদুস্বরে ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেয়া। ২. জন্মের সপ্তম দিবসে অর্থপূর্ণ সুন্দর ইসলামি নাম রাখা। ৩. ছেলেসন্তানের জন্য দুইটি এবং মেয়েসন্তানের জন্য একটি ছাগল আকিকা করা। ৪. শিশুকে পুরো দুই বছর বুকের দুধ পান করানো। (সুরা বাকারা : ২৩৩) ৫. সন্তানের লালনপালন ও ব্যয়ভার বহন করা। ৬. কন্যাসন্তানদের ব্যয়ভার বহনে অধিক গুরুত্ব দেওয়া। ৭. ধর্ম শেখানো। (ইবনে মাজাহ : ৩৬৭১)। ৮. সন্তানের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করা এবং স্নেহ করা। ৯. সব সন্তানের প্রতি সমতা ও ন্যায় বজায় রাখা। ১০. বিয়ের উপযুক্ত হলে বিয়ের ব্যবস্থা করা। ১১. সন্তানকে ধর্ম পালনের উপযোগী পরিবেশ দেওয়া।
সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার হক : কোরআন ও হাদিসের আলোকে সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ১৪ টি হক রয়েছে।
জীবিত থাকাকালীন ৭ হক : ১. তাদের সম্মান রক্ষা করা। ২. তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকা। ৩. তাদের আনুগত্য করা। ৪. তাদের খেদমত করা। ৫. তাদের অভাব মোচন করা। ৬. তাদের আরামণ্ডআয়েশের প্রতি যত্নবান থাকা। ৭. সন্তান দূরে থাকলে মাঝেমধ্যে তাদের দেখতে যাওয়া।
মৃত্যুর পর ৭ হক : ১. তাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা। ২. তাদের উদ্দেশ্যে সৎকর্মের সাওয়াব প্রেরণ করা। ৩. তাদের বন্ধুমহলের ও নিকটতমদের সম্মান করা। ৪. তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। ৫. তাদের ঋণ ও আমানত পরিশোধ করা । ৬. তাদের শরিয়তসম্মত সকল অসিয়ত কার্যকর করা। ৭. মাঝেমধ্যে তাদের কবর জিয়ারত করা।

16/08/2026

প্রশ্ন : জনৈক মা তার সন্তানকে কারণে অকারণে অভিশাপ দিয়ে থাকে। তাকে অভিশাপ দিতে নিষেধ করলেও শোনে না। এক্ষণে অভিশাপের ক্ষতি যেন সন্তানের জীবনে না আসে সেজন্য করণীয় কী?

উত্তর : ইসলাম সন্তান ও সম্পত্তির উপর অভিশাপ দিতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। রাসূল ﷺ বলেছেন, তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, সন্তানদের বিরুদ্ধে এবং সম্পদের বিরুদ্ধে বদদু‘আ বা অভিশাপ করো না। এমন সময়ের সাথে তা মিলে যেতে পারে যখন আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া হলে তিনি তা কবুল করেন’

(১)

সন্তানের বিরুদ্ধে পিতামাতার দু‘আ কবুল হয়, এজন্য পিতামাতার কখনো সন্তানের বিরুদ্ধে বদদু‘আ করা উচিত নয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দু‘আ নিঃসন্দেহে কবুল হয়, তার মধ্যে রয়েছে সন্তানের বিরুদ্ধে পিতামাতার দু‘আ’

(২)

তবে অন্যায় বদদু‘আ আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনার রব কারও প্রতি যুলুম করেন না

(৩)

রাসূল ﷺ বলেন, ‘বান্দার দু‘আ সর্বদা গৃহীত হয়, যদি সে পাপের কাজ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করার জন্য দু‘আ না করে এবং দু‘আয় তাড়াহুড়া না করে

(৪) এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের জন্য করণীয়। ক. মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার অব্যাহত রাখা

(৫) খ. বদদু‘আর জবাবে বদদু‘আ না করা।

নিয়মিত এই দু‘আ পড়া:

আরবি:

حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيم

উচ্চারণ : হাসবিয়াল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুয়া, ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রব্বুল ‘আরশিল ‘আযী-ম।

অর্থ : আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি, আর তিনি মহান আরশের অধিপতি।

ঘ. সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন যিকির ও দু‘আ পাঠ করা। বিশেষত এই দুআ টি পাঠ করা।

আরবি :

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيم

বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আস্মিহী শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়া হুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম (৭)

তথ্য সূত্র :
[১] ছহীহ মুসলিম ৩০০৯। [২] আবূ দাঊদ ১৫৩৬ তিরমিযী, ১৯০৫। [৩] আল-কুরআন, সূরা আল-কাহফ ৪৯। [৪] ছহীহ ‍মুসলিম, ৬৮২৩। [৫] আল-কুরআন, সূরা আল-ইসরা ২৩। [৬] আবূ দাঊদ, ৫০৮১। [৭] তিরমিযী ৩৩৮৮ আবূ দাঊদ আবূ দাঊদ, ৫০৮৮। ~ উৎস : মাসিক আল ইতিছাম, আগষ্ট ২০২৬ ]

13/08/2026

৩ জন মা-র ৩টা দোয়া — কুরআনে আল্লাহ নিজে শিখিয়েছেন

কুরআনে আল্লাহ ৩ জন মা-র কথা বলেছেন — মারইয়ামের মা, মুসার মা, ঈসার মা। ৩ জনেরই সন্তান নিয়ে ভয় ছিল। আর ৩ বারই আল্লাহ সামলে দিয়েছেন।

একজন মা-র সবচেয়ে বড় ভয় কী? সন্তান নষ্ট হয়ে যাবে। সন্তান হারিয়ে যাবে। সন্তানকে রক্ষা করতে পারবো না।

এই ৩ জন মা ঠিক এই ৩টা ভয়ে ছিলেন। আর আল্লাহ ৩ বারই দেখিয়ে দিয়েছেন — তুমি যখন সন্তানকে আমার হাতে সোপর্দ করবে, আমি সামলে নেবো।

৩ জন মা। ৩টা ভয়। ৩ বার আল্লাহর সাহায্য। আজকের পোস্টে সেই ৩টা ঘটনা — ৩টা শিক্ষা।

দোয়া ১: মারইয়ামের মা — যখন সন্তানের ঈমান নিয়ে চিন্তা

ইমরানের স্ত্রী। তাঁর সন্তান হচ্ছে। তিনি গর্ভেই মানত করলেন — এই সন্তানকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করবেন। বাইতুল মাকদিসের খেদমতে দেবেন।

কিন্তু সন্তান জন্মের পর দেখলেন — মেয়ে। সেই সময়ে মেয়েরা বাইতুল মাকদিসের খেদমতে যেতো না। তাঁর পরিকল্পনা ভেঙে গেলো। মনে হলো — এখন কী হবে?

কিন্তু তিনি হতাশ হননি। তিনি একটা দোয়া করলেন — যে দোয়ার ফলাফল হাজার বছর ধরে চলছে।

رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثَىٰ وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি ওয়াদাতুহা উনসা, ওয়া ইন্নি সাম্মাইতুহা মারইয়াম, ওয়া ইন্নি উঈযুহা বিকা ওয়া যুররিয়্যাতাহা মিনাশ শাইতানির রাজীম

"হে আমার রব, আমি তো মেয়ে সন্তান প্রসব করেছি। আমি তার নাম রেখেছি মারইয়াম। আর আমি তাকে এবং তার বংশধরদের বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।"
(সূরা আলে ইমরান: ৩৬)

খেয়াল করুন — তিনি শুধু মেয়ের জন্য দোয়া করেননি। বললেন "ওয়া যুররিয়্যাতাহা" — তার বংশধরদেরও। মানে এই মা ভাবছিলেন — আমার মেয়ে, আমার মেয়ের সন্তান, তাদের সন্তান — সবাইকে শয়তান থেকে রক্ষা করুন।

আল্লাহ কী উত্তর দিলেন?

فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا
"তাঁর রব তাকে উত্তমভাবে কবুল করলেন এবং উত্তমভাবে বেড়ে উঠালেন।"
(সূরা আলে ইমরান: ৩৭)

আর এই দোয়া কতটা কবুল হয়েছিল জানেন? নবীজি ﷺ বলেছেন — "প্রতিটা আদম সন্তানকে জন্মের সময় শয়তান স্পর্শ করে, ফলে সে চিৎকার করে কাঁদে — মারইয়াম এবং তাঁর পুত্র (ঈসা) ছাড়া।"
(সহিহ বুখারী: ৩৪৩১, সহিহ মুসলিম: ২৩৬৬)

একজন মা-র একটা দোয়া। আল্লাহ সেটা এতটা কবুল করলেন যে শয়তান মারইয়ামকে স্পর্শই করতে পারেনি। তাঁর সন্তান ঈসা (আ.)-কেও না।

কখন পড়বেন? যখন সন্তানের ঈমান নিয়ে চিন্তিত। যখন ভাবছেন — চারপাশে এত ফিতনা, আমার সন্তানকে কে রক্ষা করবে। যখন মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া, বন্ধুদের প্রভাব — সব দিক থেকে শয়তান সন্তানের দিকে হাত বাড়াচ্ছে।

দোয়া ২: মুসার মা — যখন সন্তানের জীবন বিপদে

মুসার মা-র পরিস্থিতি ভয়ংকর ছিল। ফেরাউন বনি ইসরাঈলের সব নবজাতক ছেলে সন্তানকে হত্যা করছিল। সৈন্যরা ঘরে ঘরে খুঁজছিল। মুসা (আ.) তখন সদ্যজাত।

একজন মা-র কাছে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত কী? সন্তানকে বুকে চেপে ধরেও রক্ষা করতে না পারার ভয়।

আল্লাহ সেই মুহূর্তে মুসার মা-র অন্তরে একটা ইলহাম দিলেন —

وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ أُمِّ مُوسَىٰ أَنْ أَرْضِعِيهِ ۖ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي ۖ إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ
উচ্চারণ: ওয়া আওহাইনা ইলা উম্মি মুসা আন আরদিঈহ, ফাইযা খিফতি আলাইহি ফাআলকীহি ফিল ইয়াম্মি, ওয়া লা তাখাফী ওয়া লা তাহযানী, ইন্না রাদ্দুহু ইলাইকি ওয়া জাইলুহু মিনাল মুরসালীন

"আমি মুসার মায়ের অন্তরে ইলহাম দিলাম — তাকে দুধ পান করাও। যখন তার ব্যাপারে ভয় পাও, তাকে নদীতে ভাসিয়ে দাও। ভয় কোরো না, কষ্ট কোরো না। আমি অবশ্যই তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেবো এবং তাকে রাসুলদের একজন বানাবো।"
(সূরা কাসাস: ৭)

ভাবুন — আল্লাহ একজন মাকে বলছেন, তোমার বুকের ধন, তোমার নবজাতক, তাকে নদীতে ভাসিয়ে দাও। কোন মা পারে এটা?

কিন্তু আল্লাহ দুটো কথা বললেন — "লা তাখাফী ওয়া লা তাহযানী" — ভয় কোরো না, কষ্ট পেও না। আর একটা ওয়াদা দিলেন — "ইন্না রাদ্দুহু ইলাইকি" — আমি ফিরিয়ে দেবোই।

মুসার মা সেই সন্তানকে সিন্দুকে রেখে নীল নদে ভাসিয়ে দিলেন। সিন্দুক ভাসতে ভাসতে গেলো কোথায়? ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে।

যে ফেরাউন মুসাকে মারতে চাইছিল, তার ঘরেই মুসা বড় হলেন। আর সবচেয়ে সুন্দর অংশটা হলো — মুসা অন্য কারো দুধ খাচ্ছিলেন না। কোনো ধাত্রীর দুধ নিচ্ছিলেন না। শেষে ফেরাউনের স্ত্রী খুঁজে খুঁজে মুসার মাকেই নিয়ে আসলেন — দুধ পান করাতে।

فَرَدَدْنَاهُ إِلَىٰ أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ
"আমি তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম — যেন তার চোখ জুড়ায় এবং সে কষ্ট না পায়।"
(সূরা কাসাস: ১৩)

আল্লাহ ওয়াদা করেছিলেন — ফিরিয়ে দেবো। ফিরিয়ে দিয়েছেন। শুধু ফিরিয়ে দেননি — ফেরাউনের টাকায় মুসার মাকেই বেতন দেওয়া হলো নিজের সন্তানকে দুধ পান করানোর জন্য।

কখন পড়বেন? যখন সন্তানের জীবন বিপদে। যখন সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। যখন মনে হয় আমি আর কিছু করতে পারছি না। মনে রাখুন — মুসার মা নিজে কিছু করতে পারেননি। তিনি শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করেছিলেন। আল্লাহ বাকিটা সামলে দিয়েছেন।

দোয়া ৩: মারইয়াম (আ.) — যখন একা, যখন সমাজ বিরুদ্ধে, যখন কেউ বোঝে না

মারইয়াম (আ.) — ইতিহাসের সবচেয়ে পবিত্র নারীদের একজন। কিন্তু তাঁর কষ্টটা কেউ বোঝেনি।

তিনি গর্ভবতী হলেন — কোনো স্বামী ছাড়া। আল্লাহর হুকুমে। আল্লাহর কুদরাতে। কিন্তু সমাজ কি সেটা বুঝবে? লোকে কী বলবে?

প্রসব বেদনা শুরু হলো। একা। কোনো মানুষ নেই পাশে। কোনো ধাত্রী নেই। একটা খেজুর গাছের নিচে। একা।

সেই মুহূর্তে তিনি বলে উঠলেন —

يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَـٰذَا وَكُنتُ نَسْيًا مَّنسِيًّا
উচ্চারণ: ইয়া লাইতানী মিত্তু কাবলা হাযা ওয়া কুনতু নাসইয়াম মানসিয়্যা

"হায়, এর আগেই যদি আমি মারা যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ মুছে যেতাম।"
(সূরা মারইয়াম: ২৩)

কষ্টটা বুঝতে পারছেন? একজন নারী যিনি সারাজীবন আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছেন, তিনি বলছেন — এর চেয়ে মরে যাওয়া ভালো ছিল। কারণ সমাজের সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না। কেউ বিশ্বাস করবে না।

কিন্তু আল্লাহ কি তাঁকে একা রেখেছেন? কখনোই না।

فَنَادَاهَا مِن تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا
উচ্চারণ: ফানাদাহা মিন তাহতিহা আল্লা তাহযানী, কাদ জাআলা রাব্বুকি তাহতাকি সারিয়্যা। ওয়া হুযযী ইলাইকি বিজিযঈন নাখলাতি তুসাকিত আলাইকি রুতাবান জানিয়্যা

"তখন (ঈসা অথবা জিবরীল) নিচ থেকে তাঁকে ডেকে বললেন — কষ্ট পেও না। তোমার রব তোমার নিচে একটি ঝরনা প্রবাহিত করেছেন। আর খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে নিজের দিকে ঝাঁকাও — তাজা পাকা খেজুর তোমার ওপর পড়বে।"
(সূরা মারইয়াম: ২৪-২৫)

আল্লাহ তাঁর জন্য পানি দিলেন। খাবার দিলেন। আর তারপর সবচেয়ে বড় সাহায্যটা — যখন সমাজের সামনে গেলেন, লোকে অভিযোগ করলো, তখন আল্লাহ দোলনায় শিশু ঈসাকে দিয়ে কথা বলালেন।

একটা সদ্যজাত শিশু দোলনায় বসে বললো — "আমি আল্লাহর বান্দা।" (সূরা মারইয়াম: ৩০)

মারইয়ামকে কিছু বলতে হয়নি। আল্লাহ নিজেই তাঁর সম্মান রক্ষা করলেন। তাঁকে একা পড়তে দেননি।

কখন পড়বেন? যখন একা মনে হয়। যখন সমাজ বুঝছে না। যখন সঠিক পথে আছেন কিন্তু কেউ সাথে নেই। যখন মা হিসেবে একা লড়ছেন — স্বামী পাশে নেই, পরিবার সাপোর্ট দিচ্ছে না, সব দায়িত্ব আপনার কাঁধে।

৩টা শিক্ষা — এক নজরে

মারইয়ামের মা — সন্তানের ঈমান রক্ষায়:
"রাব্বি ইন্নি উঈযুহা বিকা ওয়া যুররিয়্যাতাহা মিনাশ শাইতানির রাজীম"

মুসার মা — সন্তানকে আল্লাহর হাতে সোপর্দে:
"লা তাখাফী ওয়া লা তাহযানী, ইন্না রাদ্দুহু ইলাইকি"

মারইয়াম (আ.) — একা কষ্টে আল্লাহর সাহায্যে:
"লা তাহযানী, কাদ জাআলা রাব্বুকি তাহতাকি সারিয়্যা"

৩ জন মা। ৩টা ভয়। কিন্তু একটা কমন জিনিস — ৩ জনই সন্তানকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেছেন। মারইয়ামের মা দোয়া করেছেন। মুসার মা নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করেছেন। মারইয়াম (আ.) কষ্টে ডুবে গেলেও আল্লাহ নিজে এসে সামলে দিয়েছেন।

আর ৩ বারই ফলাফল একই — আল্লাহ সামলে দিয়েছেন। মারইয়াম বড় হয়েছেন ইতিহাসের সেরা নারী হয়ে। মুসা (আ.) বড় হয়েছেন নবী হয়ে। ঈসা (আ.) দোলনায় বসেই মায়ের সম্মান রক্ষা করেছেন।

আপনি কি মা? আপনি কি সন্তান নিয়ে চিন্তিত?

সন্তানের ঈমান, তরবিয়ত, ভবিষ্যৎ — সবকিছু নিয়ে কুরআন ও হাদিসে কী আছে, কোন দোয়া পড়বেন, কোন আমল করবেন, গর্ভ থেকে কৈশোর পর্যন্ত প্রতিটা ধাপে ইসলাম কী শেখায় — এসব বিস্তারিতভাবে জানতে চাইলে "সন্তান যেন নেক ও সালেহ হয়" বইটি আপনার কাজে আসবে। পুরো একটা ইসলামিক প্যারেন্টিং গাইড — কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে।

—সংগ্রহ করতে WhatsApp করুন 01984-563362 নম্বরে, লিখুন "সন্তানের বই চাই"

আর যারা শুধু সন্তানের আমল না, বরং সূরার আমল, দোয়া, রিজিক, শিফা — সবকিছু একসাথে গুছিয়ে রাখতে চান।

৩ জন মা। ৩টা ভিন্ন সময়। ৩টা ভিন্ন পরিস্থিতি। কিন্তু আল্লাহর সাহায্য প্রতিবার এসেছে। একবারও না বলেননি।

মারইয়ামের মা দোয়া করেছেন — আল্লাহ কবুল করেছেন। মুসার মা সন্তানকে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন — আল্লাহ ফিরিয়ে দিয়েছেন। মারইয়াম (আ.) একা কেঁদেছেন — আল্লাহ নিজে সান্ত্বনা দিয়েছেন।

আপনিও মা। আপনার সন্তান নিয়েও ভয় আছে। চিন্তা আছে। রাতে চোখে ঘুম আসে না ভেবে — আমার সন্তানের কী হবে।

এই ৩ জন মা-র কাছ থেকে শিখুন। দোয়া করুন। ভরসা রাখুন। সন্তানকে আল্লাহর হাতে সোপর্দ করুন। যিনি মুসাকে নদী থেকে ফেরাউনের প্রাসাদে পৌঁছে দিয়েছেন, তিনি আপনার সন্তানকেও রক্ষা করবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের শয়তান থেকে হেফাজত করুন। তাদের ঈমান রক্ষা করুন। তাদের নেক ও সালেহ বানান। আর প্রতিটা মায়ের চোখ জুড়িয়ে দিন — যেমন মুসার মায়ের চোখ জুড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমিন।

আপনার সন্তান নিয়ে সবচেয়ে বড় চিন্তা কোনটা? ৩ জন মা-র মধ্যে কার ঘটনা আপনার সবচেয়ে কাছের মনে হলো?
কমেন্টে লিখুন — নম্বরটা।

রেফারেন্স:
— সূরা আলে ইমরান: ৩৫-৩৭
— সূরা কাসাস: ৭, ১০, ১৩
— সূরা মারইয়াম: ২৩-২৫, ৩০
— সহিহ বুখারী: ৩৪৩১
— সহিহ মুসলিম: ২৩৬৬
— তাফসীরে ইবনে কাসীর

__ সংগৃহীত

11/08/2026

রব্বি আওযিনী আন আশকুরা
নি'মাতাকাল্লাযি আন'আমতা
আলাইয়্যা ওয়া আলা ওয়ালিদাইয়্যা
ওয়া আন আ'মালা সালিহান তারদাহু,
ওয়া আসলিহ লি ফি যুররিয়্যাতি
ইন্নি তুবদু ইলাইকা
ওয়া ইন্নি মিনাল মুসলিমীন।

قَالَ رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡکُرَ نِعۡمَتَکَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ وَ عَلٰی وَالِدَیَّ وَ اَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًا تَرۡضٰہُ وَ اَصۡلِحۡ لِیۡ فِیۡ ذُرِّیَّتِیۡ ۚؕ اِنِّیۡ تُبۡتُ اِلَیۡکَ وَ اِنِّیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۱۵﴾

হে আমার রাব্ব!
আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন
যাতে আমি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি,
আমার প্রতি ও আমার মাতা-পিতার প্রতি
আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য এবং
যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি
যা আপনি পছন্দ করেন;
আমার জন্য আমার সন্তান সন্ততিদেরকে
সৎকর্মপরায়ণ করুন,
আমি আপনারই অভিমুখী হলাম এবং
আত্মসমর্পণ করলাম।

13/07/2026

❐ বি'পদ-আপদ ও দুঃখ-ক'ষ্ট থেকে মুক্তির দোআ ♡︎

اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ فَوَاجِعِ الْقَدَرِ
وَمِنْ فُقْدَانِ الْأَهْلِ
وَمِنْ حُزْنِ الْقَلْبِ وَحُرْقَةِ الشُّعُورِ
يَا مَنْ تَسْمَعُ الْأَصْوَاتَ وَإِنْ خَفِيَتْ
وَتَقْضِي الْحَاجَاتِ وَإِنْ عَظْمَتْ
وَتُجِيبُ الدَّعْوَاتِ وَإِنْ ثَقُلَتْ
وَتَغْفِرُ الذُّنُوبَ وَإِنْ كَثُرَتْ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাঊযু বিকা মিন ফাওয়াজি'ইল-কাদার, ওয়া মিন ফুকদানিল-আহলি, ওয়া মিন হুজনিল-কালবি ওয়া হুরকাতিশ্-শুউরি। ইয়া মান তাসমা'উল-আস্বাতা ওয়াইন খাফিয়াত, ওয়া তাকদ্বিল-হাজাতি ওয়াইন আযুমাত, ওয়া তুজীবুদ-দা'ওয়াতি ওয়াইন থাকুলাত, ওয়া তাগফিরুয্-জুনূবা ওয়াইন কাথুরাত।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে আশ্রয় চাই নিয়তির কঠিন বিপদ থেকে, আপনজনদের হারানো থেকে, অন্তরের দুঃখ ও অনুভবের জ্বালা থেকে। হে সেই সত্তা, যিনি মৃদু আওয়াজও শুনতে পান, বড় প্রয়োজনও পূরণ করেন, ভারী দোআকেও কবুল করেন এবং বহু গোনাহও ক্ষমা করে দেন।

❐ রেফারেন্স : এই দোয়াটিও নির্দিষ্ট কোনো “হাদীসের দোয়া” নয়, বরং কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত কিছু বাণী এবং সুন্দর ব্যক্তিগত প্রার্থনার সমন্বয়ে রচিত ♡︎

07/07/2026

নবীজি (ﷺ)-এর শেখানো ১০টি জীবন বদলে দেওয়া লাইফ হ্যাকস

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সফল, প্রশান্ত ও বরকতময় জীবনের দিকনির্দেশনা

আধুনিক যুগে মানুষ সফলতা, মানসিক প্রশান্তি ও সুন্দর জীবনের জন্য অসংখ্য বই পড়ে, সেমিনারে অংশগ্রহণ করে এবং বিভিন্ন মোটিভেশনাল বক্তার পরামর্শ অনুসরণ করে। অথচ মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) চৌদ্দশ বছর আগেই এমন কিছু জীবনঘনিষ্ঠ নীতিমালা শিক্ষা দিয়ে গেছেন, যা শুধু দুনিয়ার সফলতাই নয়; বরং আখিরাতের মুক্তিরও পথ দেখায়।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতিটি শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন, সময়ের সঠিক ব্যবহার, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ববোধ, ইতিবাচক মানসিকতা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করে। তাই একজন মুমিনের জন্য প্রকৃত "লাইফ হ্যাক" হলো কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ﴾

"নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।"
— (সূরা আল-আহযাব, ৩৩:২১)

আরও ইরশাদ হয়েছে—

﴿وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا﴾

"রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।"
— (সূরা আল-হাশর, ৫৯:৭)

এছাড়াও আল্লাহ বলেন—

﴿مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ﴾

"যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল।"
— (সূরা আন-নিসা, ৪:৮০)

▪️১. অল্প হলেও নিয়মিত আমল করুন

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—

«أَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ»

"আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেটি, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।"
— (সহীহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৬৫)

শিক্ষা

অনেক মানুষ আবেগের বশে একদিন অনেক ইবাদত করে, এরপর দীর্ঘদিন তা ছেড়ে দেয়। কিন্তু ইসলাম ধারাবাহিকতাকে বেশি মূল্য দেয়। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত, সামান্য সদকা, কিছু যিকির বা দুই রাকাত নফল নামাজ—যদি নিয়মিত হয়, তবে তা আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।

▪️২. অপ্রয়োজনীয় বিষয় পরিহার করুন

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—

«مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ»

"একজন ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো, তার সঙ্গে সম্পর্কহীন ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পরিহার করা।"
— (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)

শিক্ষা

আজকের যুগে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, গীবত, সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল—এসব মানুষের ঈমান, সময় ও মানসিক শান্তি নষ্ট করে। একজন বিচক্ষণ মুমিন সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের উপকারী কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।

▪️৩. রাগ নিয়ন্ত্রণই প্রকৃত শক্তি

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—

«لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ»
"প্রকৃত শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।"
— (সহীহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৪; সহীহ মুসলিম,হাদিস:২৬০৯)

শিক্ষা

রাগ মানুষের বিচারবুদ্ধিকে দুর্বল করে দেয় এবং অনেক সময় এমন কথা বা কাজ করিয়ে ফেলে, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগের সময় নীরব থাকা, অজু করা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে রাগ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই।

▪️৪. আগে চেষ্টা, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি কি আমার উটটি ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করব, নাকি আগে বেঁধে তারপর তাওয়াক্কুল করব?" তিনি বললেন—

«اعْقِلْهَا وَتَوَكَّلْ»

"আগে উটটি বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।"
— (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৫১৭)

শিক্ষা

ইসলামে তাওয়াক্কুল মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়; বরং বৈধ সব উপায় ও চেষ্টা গ্রহণ করার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে সোপর্দ করা। পরীক্ষায় ভালো ফল চাইলে পড়াশোনা করতে হবে, ব্যবসায় বরকত চাইলে সততা ও পরিশ্রম করতে হবে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে হবে—এরপর আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ﴾

"অতঃপর যখন তুমি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।" — (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৫৯)

▪️৫. নিজের চেয়ে কম সম্পদশালীর দিকে তাকাও

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—

«انْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْكُمْ، وَلَا تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ، فَهُوَ أَجْدَرُ أَنْ لَا تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ»

"তোমরা পার্থিব বিষয়ে তোমাদের চেয়ে নিম্ন অবস্থার মানুষের দিকে তাকাও; তোমাদের চেয়ে উচ্চ অবস্থার মানুষের দিকে তাকিও না। এতে আল্লাহ তোমাদের যে নিয়ামত দিয়েছেন, তা তুচ্ছ মনে হবে না।"
— (সহীহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৯০;সহীহ মুসলিম,হাদিস:২৯৬৩)

শিক্ষা

বর্তমান যুগে মানুষের অধিকাংশ দুশ্চিন্তার কারণ হলো অন্যের জীবন, সম্পদ ও বিলাসিতার সঙ্গে নিজের তুলনা করা। এই তুলনা হিংসা, অসন্তোষ ও অকৃতজ্ঞতা সৃষ্টি করে। অথচ ইসলাম আমাদের শেখায়—যারা আমাদের চেয়ে কম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জীবনযাপন করছেন, তাদের দিকে তাকালে নিজের প্রাপ্ত নিয়ামতের মূল্য উপলব্ধি করা সহজ হয় এবং অন্তরে কৃতজ্ঞতা জন্মায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ﴾

"তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।"
— (সূরা ইবরাহিম, ১৪:৭)

▪️৬. পাঁচটি নিয়ামত নষ্ট হওয়ার আগেই কাজে লাগান

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—

«اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ، وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ، وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ، وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ»

"পাঁচটি বিষয় আসার আগে পাঁচটি বিষয়কে কাজে লাগাও—বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্থতা, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতা, ব্যস্ততার আগে অবসর এবং মৃত্যুর আগে জীবন।"
— (মুসতাদরাক আলা আস-সাহিহাইন, হাদিস: ৭৮৪৬)

শিক্ষা

সময় ও সুযোগ আল্লাহর এক মহামূল্যবান নিয়ামত। এগুলো চলে গেলে আর ফিরে আসে না। তাই সুস্থতা, যৌবন ও অবসরকে ইবাদত, জ্ঞান অর্জন এবং কল্যাণকর কাজে ব্যয় করাই একজন মুমিনের প্রজ্ঞার পরিচয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَالْعَصْرِ. إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ. إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ﴾

"সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে..."
— +সূরা আল-আসর, ১০৩:১–৩)

▪️৭. দিনের শুরুতেই বরকত

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করেছেন—

«اللَّهُمَّ بَارِكْ لِأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا»

"হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য সকাল বেলার সময়ে বরকত দান করুন।"
— (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬; সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ১২১২)

শিক্ষা

ফজরের পর সময় অপচয় না করে ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, পড়াশোনা বা জীবিকার কাজ শুরু করা সুন্নাহ। ভোরের সময় মন সতেজ থাকে এবং কাজে বরকত আসে।

▪️৮. নিজের জন্য যা ভালোবাসো, ভাইয়ের জন্যও তা-ই ভালোবাসো

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—

«لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ»

"তোমাদের কেউ পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে, তার ভাইয়ের জন্যও তা-ই ভালোবাসে।"
— (সহীহ বুখারি, হাদিস: ১৩; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৪৫)

শিক্ষা

হিংসা, বিদ্বেষ ও স্বার্থপরতা একজন মুসলিমের চরিত্র হতে পারে না। পারস্পরিক ভালোবাসা, সহযোগিতা ও কল্যাণকামিতাই ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি।

▪️৯. শেষ মুহূর্তেও ভালো কাজ থামিও না

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—

«إِنْ قَامَتِ السَّاعَةُ وَفِي يَدِ أَحَدِكُمْ فَسِيلَةٌ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ لَا يَقُومَ حَتَّى يَغْرِسَهَا فَلْيَغْرِسْهَا»

"যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়ও তোমাদের কারও হাতে একটি গাছের চারা থাকে এবং তা রোপণ করার সুযোগ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে।"
— (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৯০২)

শিক্ষা

একজন মুমিন কখনো আশা হারায় না। পৃথিবীর শেষ মুহূর্তেও সে কল্যাণকর কাজ চালিয়ে যায়। ইসলাম ইতিবাচক, কর্মমুখী ও আশাবাদী জীবনব্যবস্থা শিক্ষা দেয়।

▪️১০. দুনিয়ায় মুসাফিরের মতো জীবনযাপন

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—

«كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ»

"দুনিয়ায় এমনভাবে জীবনযাপন করো, যেন তুমি একজন অপরিচিত পথিক অথবা একজন মুসাফির।"
— (সহীহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১৬)

শিক্ষা

এই দুনিয়া চিরস্থায়ী আবাস নয়; এটি আখিরাতের প্রস্তুতির স্থান। তাই সম্পদ, পদ-মর্যাদা ও ভোগ-বিলাসের মোহে ডুবে না গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানাতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ﴾

"পার্থিব জীবন তো প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।" — (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৮৫)

▫️এই দশটি নববী জীবননীতি আমাদের যা শেখায়

- নিয়মিত ছোট ছোট নেক আমলই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।
- অপ্রয়োজনীয় কাজ ও কথাবার্তা পরিহার করা ঈমানের সৌন্দর্য।
- রাগ নিয়ন্ত্রণ করা প্রকৃত শক্তিমত্তার পরিচয়।
- চেষ্টা ও তাওয়াক্কুল—উভয়ই ঈমানের অংশ।
- আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রতি সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ থাকা।
- সময়, যৌবন ও সুস্থতাকে আখিরাতের পুঁজি বানানো।
- ভোরের সময়কে বরকতময় কাজে ব্যয় করা।
- অন্যের কল্যাণ কামনা করা পূর্ণ ঈমানের লক্ষণ।
- শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সৎকাজে অবিচল থাকা।
- দুনিয়াকে চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, আখিরাতের সফরের প্রস্তুতিক্ষেত্র হিসেবে দেখা।

এই দশটি শিক্ষা কেবল অনুপ্রেরণামূলক বাণী নয়; এগুলো একজন মুসলিমের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক আচরণ এবং আখিরাতমুখী চিন্তার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে এগুলো অনুসরণ করবে, আল্লাহর ইচ্ছায় তার জীবন হবে অধিক শান্তিময়, বরকতময় ও সফল।

02/07/2026

📌 বক্তব্যের সারসংক্ষেপ: আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব ও ফজিলত

দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেকেই বিভিন্ন নফল ইবাদত বা নেক আমল নিয়ে ভাবি, কিন্তু ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, মৌলিক ও স্পর্শকাতর একটি আমল আমাদের অবহেলায় বাদ পড়ে যায়। আর তা হলো—‘সিলাতুল আরহাম’ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। বছরের যেকোনো সময়েই এই আমলটির গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই বিষয়টিই এই লেকচারে অত্যন্ত চমৎকারভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

[ডাবিং করা ভিডিওর লিঙ্ক কমেন্টে]

🔹 মূল আলোচনাসমূহ:
অগ্রাধিকারের ক্রম: আমাদের জীবনে পিতা-মাতার পরেই স্থান হলো স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের। আর ঠিক তারপরেই রয়েছেন ভাই-বোন, দাদা-দাদি, চাচা-ফুফু, মামা-খালা ও কাজিনসহ বৃহত্তর পরিবারের সদস্যরা।

'সিলাতুল আরহাম' কী?: ‘সিলাহ’ মানে যুক্ত করা আর ‘আরহাম’ মানে গর্ভ। অর্থাৎ, যাদের সাথে আমাদের বংশীয় রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, তাদের সাথে সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা ইমানদার ও জান্নাতি মানুষের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

ইসলামের সূচনা পর্বের শিক্ষা: ইসলামের একদম শুরুর দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মক্কায় গোপনে দাওয়াত দিচ্ছিলেন, তখন থেকেই তাওহীদের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার জোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আল্লাহর নামের সাথে সম্পর্ক: 'রহিম' (আত্মীয়তা) শব্দটি আল্লাহর পবিত্র নাম 'আর-রহমান' থেকে এসেছে। হাদিসে এসেছে—যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক রাখেন; আর যে তা ছিন্ন করে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

সম্পর্ক চ্যুত করার ভয়াবহতা: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন, যারা নির্দেশিত পারিবারিক ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে।

🔹 পারিবারিক টানাপোড়েন ও আমাদের করণীয়:
বাস্তবতা মেনে নেওয়া: প্রতিটি পরিবারেই কিছু না কিছু সমস্যা বা মতবিরোধ থাকে। শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন ছাড়া, সাধারণ মনমালিন্য বা তর্কের কারণে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা যাবে না।

অহংকার (ইগো) পরিহার করা: পারিবারিক বিবাদের মূল কারণ হলো অহংকার। দুজনের মধ্যে যে আগে ক্ষমা করে বা এগিয়ে আসে, সেই আল্লাহর কাছে উত্তম।

প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী কে?: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী সে নয় যে কেবল সমান আচরণ করে (অর্থাৎ ভালো করলে ভালো, খারাপ করলে খারাপ)। বরং প্রকৃত রক্ষাকারী হলো সে, যার আত্মীয়রা সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে নিজে তা জোড়া লাগায়।

🎁 রিজিক ও দীর্ঘায়ুর মহৌষধ:
রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের একটি চমৎকার উপায় শিখিয়েছেন—"যে ব্যক্তি চায় তার আয়ু বৃদ্ধি পাক এবং রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।"

💡 আহ্বান:
আমাদের ইগো বা অহংকার পাশে সরিয়ে রেখে, আজই সেই আত্মীয়ের খোঁজ নিন যার সাথে হয়তো অনেকদিন যোগাযোগ নেই বা কোনো কারণে মনমালিন্য চলছে। তাকে একটি ফোন করুন, মেসেজ দিন কিংবা ছোট একটি উপহার পাঠিয়ে সম্পর্কটা আবার জোড়া লাগিয়ে নিন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন। আমীন।

Address

Gazipur
1700

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Life Style posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share