Vedic Mission

Vedic Mission Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Vedic Mission, Religious organisation, Gazipur.

হে মনুষ্য! তোমরা এক সঙ্গে চল, এক সঙ্গে মিলিয়া আলোচনা কর। তোমাদের মন উত্তম সংস্কার যুক্ত হউক। পূর্বকালীন জ্ঞানী পুরুষেরা যেরূপ উত্তম কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করিয়াছে, তোমরাও সেইরূপ কর।

~ ঋগ্বেদ ১০/১৯১/২

"সর্বভূত হিতেরতাঃ" [গীতা ১২।৪] কর্ম এমন করো যাতে সমস্ত প্রাণীদের হিত সিদ্ধ হয়।
27/05/2026

"সর্বভূত হিতেরতাঃ" [গীতা ১২।৪] কর্ম এমন করো যাতে সমস্ত প্রাণীদের হিত সিদ্ধ হয়।

26/05/2026

▪️এবার ঈদে ঢাকাতে সরাসরি হিন্দুদের গোরু খাওয়ার দাওয়াত ‼️
আজ এই মেজরিটি পার্সেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশে সনাতনীদের সাথে এ কেমন ধর্মানুভূতিতে আঘাতের বৈষম্যমূলক আচরণ ? আজ যদি বিপরীত হতো তবে সাধারণ সনাতনীদের উপর কীভাবে তারা ঝাঁপিয়ে পড়তো?
স্থান: “টুথ কেয়ার এন্ড অর্থোডন্টিকস”
(Tooth Care & Orthodontics)

📍Place: 33/2/1, North Pirerbag, 60 Feet, Mirpur, Dhaka

💥 নারীদের ঋতুস্রাবকালীন সময়ে কি তারা অপবিত্র হয়ে যায়? — বৈদিক ও শাস্ত্রীয় পর্যালোচনা 💥ঋতুস্রাব (মাসিক ধর্ম) নারীর জী...
25/05/2026

💥 নারীদের ঋতুস্রাবকালীন সময়ে কি তারা অপবিত্র হয়ে যায়? — বৈদিক ও শাস্ত্রীয় পর্যালোচনা 💥

ঋতুস্রাব (মাসিক ধর্ম) নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এটি কোনো রোগ নয়, কোনো অভিশাপ নয় এবং কোনো অশুচিতার চিহ্নও নয়। তবুও বিভিন্ন সমাজ ও ধর্মীয় প্রথায় দীর্ঘকাল ধরে ঋতুকালীন নারীদের নানা ধরনের বিধিনিষেধের মধ্যে রাখা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের উপাসনা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে রাখা হয়েছে।
কিন্তু বৈদিক সনাতন ধর্মে নারীর মর্যাদা, পবিত্রতা ও অধিকার সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? নারীরা কি ঋতুস্রাবের সময় অপবিত্র হয়ে পড়েন? এই বিষয়ে বেদ, ধর্মসূত্র ও স্মৃতিশাস্ত্রের আলোকে একটি নিরপেক্ষ আলোচনা প্রয়োজন। বেদে নারী সর্বদা শুদ্ধ ও পূজনীয়া অথর্ববেদে বলা হয়েছে—

শুদ্ধাঃ পুতা যোষিতো যজ্ঞিয়া ইমা আপশ্চরুমব সর্পন্তু শুভ্রাঃ । অদুঃ প্রজাং বহুলান্পশুন্নঃ পক্তৌদনস্য সুকৃতামেতু লোকম্ ॥ [অথর্ববেদ ১১.১.১৭]

অনুবাদ— শুদ্ধ, পবিত্র ও পূজনীয় রমণীগণ ও তাঁদের পবিত্র কর্ম জলের ধারার মতো পবিত্র পাত্রে প্রবেশ করুক ও যজ্ঞের জন্য পবিত্র ভোগ্যবস্তু তৈরি হোক। তাহারা আমাদের উত্তম বংশধর ও প্রভূত ধনসম্পদ দান করুন। যারা অমৃতসত্তার জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য তৈরি করে, তারা যেন জীবনের সর্বোচ্চ অর্জনের শিখরে পৌঁছান।

এই মন্ত্রে নারীদের “শুদ্ধাঃ”, “পুতা” এবং “যজ্ঞিয়া”—অর্থাৎ শুদ্ধ, পবিত্র ও পূজনীয়া বলে অভিহিত করা হয়েছে। বেদে কোথাও নারীকে জন্মগতভাবে বা স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার কারণে অপবিত্র বলা হয়নি। যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতির বক্তব্য : নারী সর্বদা শুদ্ধ

Soma gave them purification; the Gandharva, sweet speech; Agni, perfect purity; therefore verily women are always pure. (Yajnavalkya Smriti 71)

অনুবাদঃ— নারীজাতি সোম থেকে শুদ্ধতাপ্রাপ্ত, গন্ধর্বদের থেকে সুমিষ্ট বাক্য প্রাপ্ত, অগ্নির কাছ থেকে শুদ্ধতাপ্রাপ্ত; তাই নারীরা সর্বদা শুদ্ধ। (যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি ৭১)

এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে নারী সর্বদা শুদ্ধ। অর্থাৎ তাদের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় অবস্থার কারণে স্থায়ী বা প্রকৃত অশুদ্ধতা আরোপ করা শাস্ত্রসম্মত নয়। বশিষ্ঠ ধর্মসূত্রে নারীর পবিত্রতা
বশিষ্ঠ ধর্মসূত্রে নারীদের সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বক্তব্য পাওয়া যায়।

Women (possess) an unequalled means of purification; they never become (entirely) foul. For month by month their temporary uncleanness removes their sins.
(Vashistha Dharmasutra 28.4)

অনুবাদঃ— নারীদের একটা অন্য ধরনের পবিত্রতা আছে। তারা কখনোই পুরোপুরি অপবিত্র হন না। মাসে মাসে কিছুদিনের অস্থায়ী অশৌচাবস্থা তাদের মনের পাপ ধুয়েমুছে দেয়। (বশিষ্ঠ ধর্মসূত্র ২৮.৪)
আবার বলা হয়েছে—

Women belong first to three gods, Soma (the moon), the Gandharva, and Fire, and come afterwards into the possession of men; according to the law they cannot be contaminated.
(Vashistha Dharmasutra 28.5)

অনুবাদঃ— নারীরা তিন ধরনের দেবসত্তার অন্তর্ভুক্ত। প্রথমে সোম (চন্দ্রের ন্যায় মাধুর্যময় ঈশ্বরের রূপ), গন্ধর্ব ও অগ্নি। এরপরে তারা পুরুষের অর্ধাঙ্গিনী। তাই আইন শাস্ত্রমতে তারা কখনোই অশুদ্ধ হতে পারে না। (বশিষ্ঠ ধর্মসূত্র ২৮.৫)

পুনরায় বলা হয়েছে—
Soma gave them cleanliness, the Gandharva their melodious voice, and Fire purity of all (limbs); therefore women are free from stains.
(Vashistha Dharmasutra 28.6)

অনুবাদঃ— নারীজাতি সোম থেকে শুদ্ধতাপ্রাপ্ত, গন্ধর্বদের থেকে সুমিষ্ট বাক্য প্রাপ্ত, অগ্নির কাছ থেকে শুদ্ধতাপ্রাপ্ত (সর্বাঙ্গে)। তাই নারীরা সবসময় কলুষতা থেকে মুক্ত। (বশিষ্ঠ ধর্মসূত্র ২৮.৬)

আরও বলা হয়েছে—
Pure is the mouth of a goat and of a horse, pure is the back of a cow, pure are the feet of a Brâhmana, but women are pure in all (limbs).
(Vashistha Dharmasutra 28.9)

অর্থঃ— ছাগলের এবং ঘোড়ার মুখ শুদ্ধ, গরুর পিঠ শুদ্ধ, ব্রাহ্মণের পা শুদ্ধ, কিন্তু মহিলাদের সব অঙ্গই বিশুদ্ধ হয়।
অনুবাদঃ— ছাগ ও অশ্বের মুখাবয়ব শুদ্ধ, গো জাতির পৃষ্ঠদেশ শুদ্ধ, ব্রাহ্মণের পাদদেশ শুদ্ধ, কিন্তু নারী জাতির সবই শুদ্ধ (সকল অঙ্গ)। (বশিষ্ঠ ধর্মসূত্র ২৮.৯)

এই শাস্ত্রবচনগুলো থেকে স্পষ্ট যে নারীদের শারীরিক বা ধর্মীয়ভাবে স্থায়ী অশুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা বৈদিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অনেক সময় ঋতুকালীন কিছু বিধিনিষেধকে ভুলভাবে নারীর অপবিত্রতার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অথচ শাস্ত্রে মূলত নারীর শারীরিক সুরক্ষা ও বিশ্রামের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ঋতুকালে যৌনমিলন নিষিদ্ধ, মনুসংহিতায় বলা হয়েছে—

সমানশয়নে চৈব ন শ্যীত তয়া সহ।
রজসাভিপ্লু তেজো বলঃ চক্ষুরায়ুশ্চৈব প্রহীয়তে।।
(মনুসংহিতা ৪।৪০)

অনুবাদঃ— কামে একান্ত উন্মত্ত হইলেও রাজোদর্শনে নিষিদ্ধ দিনত্রয়ে স্ত্রীগমন করিবে না, এবং তাহার সহিত সহবাস করিবে না।

এখানে নারীর অপবিত্রতার কথা বলা হয়নি; বরং ঋতুকালে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

🌸 বেদ অধ্যয়ন কি ঋতুকালে নিষিদ্ধ?
কিছু ব্যক্তি দাবি করেন যে ঋতুস্রাবকালীন সময়ে নারীদের বেদপাঠ, স্বাধ্যায় বা উপাসনা করা নিষিদ্ধ। কিন্তু বেদ নিজেই জ্ঞান ও পবিত্রতার উৎস হিসেবে বেদাধ্যয়নের মাহাত্ম্য ঘোষণা করেছে।

পাবমানীয়ো অধ্যেত্যূষিভিঃ সম্ভূতং রসম্।
তস্মৈ সরস্বতী দুহে ক্ষীরং সর্পিঃ মধূদকম্ ॥
[ঋগ্বেদ ৯/৬৭/৩২]

অর্থ— বেদবিদ্যা অধ্যয়নকারীকে পবিত্র করে, তাঁর মধ্যে সত্য বিদ্যার সার পরিপূর্ণ থাকে, সেই বেদবিদ্যা অধ্যয়নকারীর জন্য দুধ, ঘী, মধু এবং জল বর্ষণকারী অর্থাৎ আত্মসন্তুষ্টি, বল, মধুরতা এবং শান্তি প্রদান করে।

যদি বেদপাঠ মানুষকে পবিত্র করে, তাহলে কেবল ঋতুস্রাবের কারণে কোনো নারীকে বেদপাঠ বা ঈশ্বরচিন্তা থেকে বিরত রাখার যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বরং উপাসনা ও স্বাধ্যায় আত্মশুদ্ধিরই উপায়।

🌸 সনাতন ধর্মে নারী কেবল পরিবারের সদস্য নন; তিনি জননী, শিক্ষিকা, অর্ধাঙ্গিনী এবং দেবীরূপে পূজিতা। তাই স্মৃতিশাস্ত্রে বলা হয়েছে—
“যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ”
(মনুসংহিতা ৩.৫৬)
অর্থঃ— যেখানে নারীগণ পূজিত হন, সেখানে দেবতাগণ আনন্দের সঙ্গে অবস্থান করেন।

বেদ, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি এবং বশিষ্ঠ ধর্মসূত্রের আলোচনায় দেখা যায় যে নারীকে স্বভাবতই শুদ্ধ, পবিত্র ও সম্মাননীয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ঋতুস্রাব একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া; এটি কোনো পাপ, অভিশাপ বা স্থায়ী অশুদ্ধতার কারণ নয়। ঋতুকালে কোনো নারীর শারীরিক দুর্বলতা, ব্যথা, জ্বর বা অস্বস্তি থাকলে তিনি বিশ্রাম নেবেন—এটাই যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু তিনি যদি সুস্থ বোধ করেন, তবে ঈশ্বরচিন্তা, প্রার্থনা, স্বাধ্যায়, যজ্ঞ বা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত উদ্ধৃতিগুলোর আলোকে তাকে স্বভাবত অপবিত্র গণ্য করার ভিত্তি নেই।
অতএব, ঋতুস্রাবকে অপবিত্রতার প্রতীক না দেখে নারীর স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় অবস্থা হিসেবে দেখা উচিত। সনাতন ধর্মের মূল চেতনা নারীকে অবমাননা নয়, বরং সম্মান, মর্যাদা ও শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। তাই নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনই প্রকৃত ধর্মাচরণের লক্ষণ।
“যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ” — যেখানে নারী সম্মানিত, সেখানেই দেবত্বের আবির্ভাব ঘটে।

ও৩ম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।

১৯৭১ সালের এই দিনে কুমিল্লার মুরাদনগরের হিন্দু অধ্যুষিত বাখরাবাদ গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের সহায়ত...
25/05/2026

১৯৭১ সালের এই দিনে কুমিল্লার মুরাদনগরের হিন্দু অধ্যুষিত বাখরাবাদ গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের সহায়তায় সংঘটিত হয় এক ভয়াবহ গ/ণ/হ/ত্যা।

সেদিন প্রায় দেড় শতাধিক হিন্দুকে নির্মমভাবে হ/ত্যা করা হয়। নিরীহ নারী-পুরুষের তাজা রক্ত মিশে গিয়েছিল তিতাস নদীর স্রোতে। সেই বিভীষিকাময় ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে গ্রামে নির্মিত হয়েছে “প্রদীপ্ত তিতাস” নামে একটি স্মৃতিসৌধ। শহিদ সন্তান দুলাল সাহা নিজস্ব অর্থায়নে রামচন্দ্রপুর-মুরাদনগর সড়কের পাশে দুই শতক জমির ওপর এই স্মৃতিস্মারক নির্মাণ করেন। তবে নির্মাণের পাঁচ বছর পার হলেও আজও স্মৃতিসৌধটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি।

গ/ণহ/ত্যার স্মৃতিচারণ

শহিদ সন্তান অনুকূল চন্দ্র দাস (৭৫) সেই বিভীষিকাময় দিনের কথা স্মরণ করে বলেন—

“সেদিন ছিল সোমবার। ভোররাতে পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলে। মানুষ যখন ঘর থেকে বের হয়ে মাঠে কাজে যাচ্ছিল, তখনই নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হ/ত্যা শুরু হয়। আমার কাকা লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসকে সেখানেই হ/ত্যা করা হয়। পরে বাবাসহ ২১ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় দেবিদ্বারে। সেখানে তাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে গণকবরে ফেলে দেওয়া হয়।”

সেদিনের নির্মমতায় বহু নারীও নি/র্যাতনের শিকার হন। ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ স্বপ্না রানী সাহার পিতা ধরণী মোহন সাহাও পাকবাহিনীর গুলিতে নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেঁচে যাওয়া তিন যুবকের একজন ছিলেন দুলাল চন্দ্র সাহা, যিনি আজও ইতিহাস সংরক্ষণের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্মৃতি সংরক্ষণের প্রচেষ্টা

স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৯৬ সালে “স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধ সংরক্ষণ পরিষদ” নামে একটি সংগঠন গঠিত হয়। সংগঠনটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন, স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল।

বাখরাবাদ গ/ণহ/ত্যার স্মৃতি আজও স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে গভীর বেদনার প্রতীক হয়ে আছে। শহিদ পরিবারগুলোর প্রত্যাশা—নবপ্রজন্ম যেন এই ইতিহাস জানতে পারে এবং শহিদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে স্মরণ করা হয়।
এদিনে বীরগতি প্রাপ্ত বাঙালি হিন্দুদের আত্মার সদ্গতি প্রার্থনা এবং বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

তথ্যসূত্র:
Wikipedia,
Bangla FM,
দৈনিক সবুজ বাংলা

কর্মফল কে ভোগ করে দেহ নাকি আত্মা? কেউ কেউ বলেন, পাপ-পুণ্য, সুখ-দুঃখ, শোক-আনন্দ এসব আসলে দেহ ও মনের ধর্ম; আত্মা বা জীবের ...
24/05/2026

কর্মফল কে ভোগ করে দেহ নাকি আত্মা?

কেউ কেউ বলেন, পাপ-পুণ্য, সুখ-দুঃখ, শোক-আনন্দ এসব আসলে দেহ ও মনের ধর্ম; আত্মা বা জীবের নয়। কারণ জীব নাকি শুধু সাক্ষীমাত্র, সে কোনো কিছুতে লিপ্ত হয় না। যেমন গরম-ঠান্ডা শরীর অনুভব করে, আত্মা নয়—তেমনি সব ভোগও নাকি শরীর ও মনেরই।

কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ঠিক নয়। কারণ দেহ, ইন্দ্রিয়, প্রাণ ও মন—এসবই জড় পদার্থ। জড় বস্তু নিজেরা কিছু অনুভব করতে পারে না। যেমন একটি পাথর গরম বা ঠান্ডা অনুভব করে না, যদিও সেটি রোদে গরম হয় বা পানিতে ঠান্ডা হয়। কিন্তু কোনো চেতন প্রাণী যখন সেটিকে স্পর্শ করে, তখন সেই প্রাণীই গরম-ঠান্ডা অনুভব করে।
ঠিক তেমনি প্রাণও জড়; তার নিজের কোনো ক্ষুধা বা তৃষ্ণা নেই। কিন্তু জীব যখন প্রাণের সহায়তায় শরীরে অবস্থান করে, তখন সে ক্ষুধা-তৃষ্ণা অনুভব করে। একইভাবে মনও জড় পদার্থ। মনের নিজের আনন্দ বা দুঃখ নেই। জীবাত্মা মনের মাধ্যমে আনন্দ, শোক, সুখ ও দুঃখ অনুভব করে। আত্মা চেতন হওয়াতে শরীরের দ্বারা কর্ম করে। কঠোপনিষদ্‌ ১/৩/৪ নং শ্লোকে "আত্মেন্দ্রিয়মনোয়ুক্তং‌ ভোক্তেত্যাহুঃ " অর্থাৎ, শরীর‌, ইন্দ্রিয় এবং মনের‌ সংযোগে‌ই জীবাত্মা‌ সুখ‌-দুঃখের উপভোক্তা‌ হয়। “শ্রোত্রং চক্ষুঃ স্পর্শনঞ্চ রসনং ঘ্রাণমেব চ। অধিষ্ঠায় মনশ্চায়ং বিষয়ানুপসেবতে" [গীতা ১৫/৯] অর্থাৎ কর্ণ, নেত্র, ত্বক, জিহ্বা, নাসিকা এবং মনকে আশ্রয় করে এই জীবাত্মা বিষয় সমূহকে ভোগ করে।

জীব বাহ্যিক ইন্দ্রিয়—যেমন কান, চোখ ইত্যাদির মাধ্যমে শব্দ, রূপ প্রভৃতি গ্রহণ করে সুখ-দুঃখ ভোগ করে। আবার অন্তঃকরণ অর্থাৎ মন, বুদ্ধি, চিত্ত ও অহংকারের মাধ্যমে চিন্তা, সিদ্ধান্ত, স্মরণ, অহংকার ইত্যাদি করে এবং তার ফলও ভোগ করে। যেমন একটি তরবারি দিয়ে কেউ হত্যা করলে শাস্তি তরবারিকে দেওয়া হয় না; শাস্তি পায় সেই ব্যক্তি, যে তরবারি ব্যবহার করেছে। কারণ তরবারি কেবল একটি যন্ত্র। ঠিক তেমনি দেহ, ইন্দ্রিয়, মন ও প্রাণ—এসব জীবের যন্ত্রমাত্র। এগুলোর মাধ্যমে কাজ করে জীব নিজেই। তাই ভাল-মন্দ কর্মের ফলও জীবকেই ভোগ করতে হয়।
সুতরাং জীব শুধু কর্মের সাক্ষী নয়; সে কর্মের কর্তা ও ভোক্তা। একমাত্র পরমাত্মাই প্রকৃত সাক্ষী, যিনি সব দেখেন কিন্তু কোনো কর্মে লিপ্ত হন না।

ও৩ম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।

মানিকগঞ্জে পান বিক্রেতা শ্রীবাস চন্দ্র সাহা পান বিক্রির বাকী ২০ টাকা চাওয়ায় ইশা মোল্লা তাকে প্রকাশ্যে সবার সামনে গলা টিপ...
23/05/2026

মানিকগঞ্জে পান বিক্রেতা শ্রীবাস চন্দ্র সাহা পান বিক্রির বাকী ২০ টাকা চাওয়ায় ইশা মোল্লা তাকে প্রকাশ্যে সবার সামনে গলা টিপে হtya করেছে। পুলিশ বলেছে- " আমরা ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

সামাজিকভাবে আপনার জীবনের দাম কত কম আশা করি তা বুঝতে পারছেন।

23/05/2026

কাল সামনে একটা ভিডিও আসে, যেখানে এক হাইস্কুলের হিন্দু কম্পিউটার অপারেটরকে মারধর ও চাকরিচ্যুত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন? কারণ সে বলেছিল, “বইয়ের কোথা থেকে প্রশ্ন আসবে সেটা উপরওয়ালা সৃষ্টিকর্তাও জানেন না আমি জানব কিভাবে?” এই কথাতে নাকি সে ‘সৃষ্টিকর্তা’ না বলে বলেছে আল্লা তাই মুসলিমদের রিলিজিয়ন অবমাননা হয়ে গেছে। তাই তার এ দশা করা হয়েছে।

কিন্তু ফুয়াদের মতো জ*ঙ্গিরা যে প্রতিদিন হিন্দুদের নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলে যায় তাতে কি হিন্দুদের ধর্ম অবমাননা হয় না? এই জ’ঙ্গিকে হিন্দুদের নিয়ে যা খুশি তা মন্তব্য করার অধিকার কে দিয়েছে। জ’ঙ্গি ফুয়াদ! তুই ইসলাম রিলিজিয়ন নিয়ে এমন মন্তব্য কর তো। দেখি তোর কত দম। হিন্দুরা দুর্বল তাই বলে এখানে যা খুশি বলে পার পেয়ে যাস তাই না, বরা’হনন্দন!

প্রশ্নঃ মন্দিরে 'মানত' করলে কী ঈশ্বর মনের বাসনা পূর্ণ করে? উত্তর: মানুষের জীবনে দুঃখ, অভাব ও আকাঙ্ক্ষা চিরন্তন সঙ্গী। এই...
22/05/2026

প্রশ্নঃ মন্দিরে 'মানত' করলে কী ঈশ্বর মনের বাসনা পূর্ণ করে?

উত্তর: মানুষের জীবনে দুঃখ, অভাব ও আকাঙ্ক্ষা চিরন্তন সঙ্গী। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের আশায় বহু মানুষ মন্দিরে গিয়ে ‘মানত’ করে কেউ অর্থ দান করে, কেউ পশু-পাখি উৎসর্গ করে। সাধারণ ধারণা হলো, এই মানত পূরণ করলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন এবং মানুষের মনের বাসনা পূর্ণ করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই ধারণা কি সত্যিই শাস্ত্রসম্মত? ‘মানত’ মূলত একটি লেনদেনমূলক মানসিকতা—“আমি এটা দেব, তুমি আমাকে সেটা দাও।” এই ধারণা ঈশ্বরকে একপ্রকার মানুষের মতো করে কল্পনা করে, যিনি বস্তুগত উপহার পেলে খুশি হন এবং বিনিময়ে ইচ্ছা পূরণ করেন। কিন্তু বৈদিক দর্শনে ঈশ্বর সর্বজ্ঞ, ন্যায়পরায়ণ এবং নির্লিপ্ত। তিনি কারো দান বা বস্তু দ্বারা প্রভাবিত হন না; বরং তিনি কর্মফল দাতা অর্থাৎ যেমন কর্ম, তেমন ফল।

১. ফলের আশায় কর্ম — হীন মানসিকতা
❝কৃপণাঃ ফলহেতবঃ❞ [গীতা ২/৪৯] অর্থাৎ যারা কেবল ফলের উদ্দেশ্যে কর্ম করে তারা নিতান্তই কৃপন।

২. আসক্তিহীন কর্মই শ্রেষ্ঠ পথ

🍂তস্মাদসক্তঃ সততং কার্যং কর্ম সমাচর ।
অসক্তো হ্যাচরন্ কর্ম পরমাপ্নোতি পুরুষঃ।।🍂 [গীতা ৩।১৯]

🌿অর্থাৎঃ তুমি আসক্তিশূন্য হইয়া কর্ম সম্পাদন করো,অনাসক্ত হয়ে কর্মানুষ্ঠান করিলে পুরুষ পরমপদ (মোক্ষ) প্রাপ্ত হন।

এখানে স্পষ্ট বলা হচ্ছে কর্ম করো, কিন্তু কোনো প্রত্যাশা বা শর্ত জুড়ে দিও না।

৩. নিষ্কাম কর্মে মুক্তি, সকাম কর্মে বন্ধন

🍂যুক্ত: কর্মফলং ত্যক্ত্বা শান্তিমাপ্নোতি নৈষ্ঠিকীম্ ।
অয়ুক্ত: কামকারেণ ফলেসক্তো নিবধ্যতে।।🍂
[গীতা ৫/১২]

🌿অর্থাৎ: নিষ্কাম কৰ্মযোগিগণ কৰ্মফল ত্যাগ করিয়া সর্বদুঃখ-নিবৃত্তিরূপ স্থিরা শান্তি লাভ করেন। সকাম বহির্মুখ ব্যক্তিগণ কামনাবশতঃ ফলে আসক্ত হইয়া বন্ধনদশা প্রাপ্ত হন।

৪. কর্মই অধিকার, ফল নয়

🍂কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন ।
মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোহস্ত্বকর্মণি ॥ [গীতা ২/৪৭]

🌿অর্থাৎ: কৰ্মেই তোমার অধিকার, কৰ্মফলে কখনও তোমার অধিকার নাই । কৰ্মফল যেন তোমার কৰ্মপ্রবৃত্তির হেতু না হয় কৰ্মত্যাগেও যেন তোমার প্রবৃত্তি না হয় ।

বেদের দৃষ্টিতে কর্ম ও সাফল্য বেদে কোথাও বলা হয়নি যে, মানত বা বস্তুগত দান করলে ঈশ্বর বিশেষভাবে খুশি হয়ে ইচ্ছা পূরণ করেন। বরং বেদ সর্বত্র পরিশ্রম, সৎকর্ম ও আত্মনির্ভরতার উপর জোর দেয়। ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করে, যারা পরিশ্রম করে কর্ম করে ঈশ্বরের প্রতি ভরসা রাখে। অলস্যহীন ব্যক্তি কাজে সফল হয়। তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই ঘরে। তাই ত বেদে বলা হচ্ছে ❝যন্তি প্রমাদতন্দ্রাঃ❞ [অথর্ববেদ ২০।১৮।৩] অর্থাৎ আলস্যহীন কর্মঠ ব্যক্তিই প্রকৃত আনন্দ প্রাপ্ত করেন। দুস্কর্ম ব্যক্তিরা কাজ না করে বসে থাকে দোষ দেই কর্মের। ❝তব প্রণীতী তব শূর শর্মন্না বিবাসন্তি কবয়ঃ সুযজ্ঞাঃ❞ [ঋগ্বেদ ৩।৫১।৭] অর্থাৎ উত্তম কর্মকারীই পরমাত্মার আশ্রয় লাভ করে। ❝উৎক্রাম মহুতে সৌভগায়❞[যজুর্বেদ ১১।২১] অর্থাৎ মহান সৌভাগ্যের জন্য কঠোর পরিশ্রম করো।

যদি ধরে নেওয়া হয় যে মানত করলে ঈশ্বর বিশেষভাবে কারো ইচ্ছা পূরণ করেন, তাহলে প্রশ্ন ওঠে— তবে কি ধনী ব্যক্তি বেশি দান করে বেশি সুবিধা পাবে? তাহলে কি ঈশ্বর পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়বেন? বৈদিক দর্শন অনুযায়ী ঈশ্বর সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তিনি কারো দান বা বাহ্যিক আচরণ নয়, বরং অন্তরের বিশুদ্ধতা ও কর্মের ন্যায়নীতি অনুযায়ী ফল প্রদান করেন। মানতের ইতিবাচক দিক (সীমিত অর্থে) তবে একেবারে অস্বীকারও করা যায় না যে, কিছু ক্ষেত্রে মানত মানুষের মধ্যে মানসিক শক্তি আত্মবিশ্বাস শৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই প্রভাব মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক, ঈশ্বরকে “ঘুষ” দেওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়।

মন্দিরে ‘মানত’ করা কোনো শাস্ত্রসম্মত উপায় নয় যার মাধ্যমে ঈশ্বরকে খুশি করে ইচ্ছা পূরণ করানো যায়। বরং শাস্ত্রের মূল শিক্ষা হলো— নিষ্ঠার সাথে সৎকর্ম করা ফলের প্রতি আসক্ত না হওয়া
ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখা ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন, যারা নিজে চেষ্টা করে, পরিশ্রম করে এবং ন্যায়ের পথে চলে। অতএব বলা যায়— মানত নয়, সৎকর্মই মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে।

ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ

একসময় পৌরাণিক হিন্দু পণ্ডিতরা সমাজে সতীদাহ চালু করেছিল নিজেদের স্বার্থে। নারীদের তুলনায় পুরুষদের অতিরিক্ত বড় করে দেখিয়ে...
22/05/2026

একসময় পৌরাণিক হিন্দু পণ্ডিতরা সমাজে সতীদাহ চালু করেছিল নিজেদের স্বার্থে। নারীদের তুলনায় পুরুষদের অতিরিক্ত বড় করে দেখিয়ে নারীদের অবদমিত রাখা যার উদ্দেশ্য। কিন্তু তারা বললেই তো আর সমাজ মানবেনা, তাই তারা বুদ্ধি করল কীভাবে সমাজকে এই কুপ্রথা মানানো যায়।

পৌরাণিক যুগে ভণ্ড পণ্ডিতরা সমাজে বেদপাঠ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। শুধু নামধারী টাইটেল সর্বস্ব দ্বিজ ছাড়া আর কেউ বেদপাঠ ই করতে পারবেনা, নারীদেরও বেদ পাঠ ও শ্রবণ নিষিদ্ধ করে দিলো। ফলে কয়েক প্রজন্মে সমাজের মানুষ ধীরে ধীরে বেদশাস্ত্রে কী লেখা আছে ভুলে গেল। তবে সমাজের মানুষের মাঝে সংস্কৃত শ্লোকের প্রতি ছিল অগাধ শ্রদ্ধা। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে ওই ভণ্ড পণ্ডিতরা মনগড়া পুরাণ, গৌন স্মৃতিগ্রন্থ এসব রচনা করল আর তাতে সংস্কৃত শ্লোক লিখে নিজেদের প্রয়োজনীয় যেসব নতুন নিয়ম তা ঢুকিয়ে দিলো। চালু হয়ে গেল সতীদাহ প্রথা।
বিশেষ করে বঙ্গ অঞ্চলে যেই বিধবাদের সম্পত্তি দেয়ার আইন চালু হলো, তখনই সমাজের এই নরাধমরা সতীদাহ চালু করার জন্য উঠেপড়ে লাগল সম্পত্তি দখলের লোভে। যদিও সাধারণ সনাতনীদের বিবেক জ্ঞানের কারণে এই প্রথা খুব বেশী বিস্তৃতি লাভ করতে পারেনি।

বানোয়াট এইসব পুরাণ, গৌণ স্মৃতি গ্রন্থগুলোতে সংস্কৃত শ্লোকে ভণ্ডরা লিখেছিল সতীদাহে অংশ নিলে, স্বামীর মৃত্যুর পর সহমরণ করলে, তার চেয়ে বড় পূণ্য কিছুই নেই। সতী হতে গেলে কোনো নারীকে চন্দ্র সূর্য সাক্ষী করে সংকল্প নিয়ে মন্ত্রপাঠ করতে হতো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই মন্ত্র জোর করে পাঠ করানো হতো। তারপর বলা হত, এখন আর এই সতী-দাহ থেকে ফেরার উপায় নেই! কুখ্যাত ভণ্ড স্মার্ত পণ্ডিত রঘুনন্দন ভট্টাচার্য করেছিলেন সবচেয়ে কুৎসিত কর্মটি। পবিত্র ঋগ্বেদের একটি মন্ত্রের অগ্রে শব্দটিকে তিনি অগ্নে বা অগ্নি বলে প্রচার করে সমাজে সতীদাহ প্রথার পক্ষে ওকালতি করে একে বৈধতা দিয়েছিলেন। তার এই ক্রিমিনাল কাজটির প্রভাবে কত নারীর‌ যে অকালমৃত্যু হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য!

১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর লর্ড বেন্টিঙ্ক রাজা রামমোহনের সঙ্গে একমত হয়ে সতীদাহ আইন করে বন্ধ করলেন। পবিত্র ঋগ্বেদ ও অথর্ববেদ থেকে রামমোহন রায় প্রমাণ করে দেন সতীদাহ প্রথা একটা ভুয়া পৌরাণিক প্রথা, এর কোন বৈদিক ভিত্তি নেই।
"প্রবর্তক ও নিম্বর্তকের সংবাদ" গ্রন্থ লিখে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন সতীদাহ বেদবিরুদ্ধ, অবৈদিক। সে-যুগে এই কাজটি করা কতদূর কঠিন ছিল, আজকের বাঙালি তা বুঝতে পারবে না। তারা বুঝতে পারবে না, ধর্মের নামে শোষণের এক বিশাল জাল বিছিয়ে রেখেছিল কথিত পণ্ডিত বর্গ ও ব্রাহ্মণ্যবাদের ঠিকাদাররা। বাল্যবিবাহ, কুলীন ব্রাহ্মণ বিবাহ, বহুবিবাহ, সতীদাহ, দেবদাসী, গুরুপ্রসাদী, শূদ্রের বেদমন্ত্রের অনধিকারে, মন্ত্রপাঠে জিহ্বা কর্তন অথবা সমমূল্যের প্রায়শ্চিত্ত এমন হাজারো বেদবিরুদ্ধ, বর্বর নীতির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই‌ করতে শিখিয়েছেন বাঙালির এই সূর্যসন্তান। এর জন্য তাঁকে পেতে হয়েছিল হত্যার হুমকি, হতে হয়েছিল নানা অপমান অপদস্ততার মুখোমুখি।

সমাজ ও ধর্ম সংস্কারক, "বঙ্গীয় নবজাগরণ" এর সূচনাকারী, বাংলায় প্রথম উপনিষদের অনুবাদক, বেদ, উপনিষদভিত্তিক নিরাকারবাদের অন্যতম ভাষণ দানকারী রাজা রামমোহন রায়ের জন্মতিথিতে তাঁর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া। উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ ॥ ৩৪[গীতা ৪/৩৪]অনুবাদ: প্রণামদ্বা...
21/05/2026

তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া। উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ ॥ ৩৪
[গীতা ৪/৩৪]
অনুবাদ: প্রণামদ্বারা, প্রশ্নদ্বারা, সেবাদ্বারা সেই জ্ঞান জানো, তত্ত্বদর্শী জ্ঞানিগণ তোমাকে সেই তত্ত্বজ্ঞানের উপদেশ দিবেন।

ব্রহ্ম কী, ব্রহ্মের স্বরূপ কী, আত্মা কী, প্রকৃতি কী ইত্যাদি বিষয়ে গুরুর নিকট শ্রবণ করেই পরোক্ষ জ্ঞানলাভ হয়। কিন্তু এই পরোক্ষ জ্ঞান লাভ করতে হলে শিষ্যের কিছু গুণ থাকা আবশ্যক। প্রথমত আচার্যকে প্রণাম করতে হবে। গুরুর প্রতি যেন তার প্রগাঢ় শ্রদ্ধা এবং ভক্তি থাকে। তিনি সর্বদা বিনীত হয়ে শ্রদ্ধা-সহকারে আচার্যকে প্রণাম করবেন। তারপর জ্ঞানার্থীর হৃদয়ে জ্ঞানলাভের একটি প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকা চাই। তিনি সর্বদা তত্ত্বের অনুসন্ধানী হয়ে আচার্যকে নিজের জ্ঞাতব্য বিষয়ে বিবিধ প্রশ্ন করবেন। তারপর চাই আচার্যের সেবা। এই সেবা দ্বারাই আচার্যকে প্রসন্ন করতে হয় এবং প্রসন্ন হলেই আচার্য সেবাপরায়ণ শিষ্যকে তত্ত্বজ্ঞান শিক্ষা দিয়ে থাকেন। বৈদিক শাস্ত্রদিতে আচার্যদের এই রকম উপদেশ দিতে দেখা যায়। প্রশ্ন উপনিষদে (১/২) ঋষি পিপ্পলা শিষ্যদের উদ্দেশ্যে বলছেন-"তোমরা পুনরায় তপস্যা, ব্রহ্মচর্য ও শ্রদ্ধার সাথে একবছর গুরুগৃহে বাস করো; তারপর ইচ্ছা অনুসারে প্রশ্ন করিও, যদি আমার জানা থাকে তবে সবকিছুই তোমাদের বলব।" মুণ্ডক উপনিষদেও (১/২/১৩) এরূপ আদেশ পাওয়া যায়-"ব্রহ্মজ্ঞ গুরু যথাবিধি সমীপাগত, প্রশান্তচিত্ত, সংযতেন্দ্রিয় শিষ্যকে যা দ্বারা অক্ষর পুরুষকে জানা যায় সেই ব্রহ্মবিদ্যা বিষয়ে যথাযথরূপে জ্ঞান দান করবেন।"

গীতা অনুযায়ী ঈশ্বরের উপাসনা কেমন হওয়া উচিত?উত্তর: বর্তমান সময়ে এমন সনাতনী মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যার ঘরে শ্রীমদ্ভগবদ্গ...
19/05/2026

গীতা অনুযায়ী ঈশ্বরের উপাসনা কেমন হওয়া উচিত?

উত্তর: বর্তমান সময়ে এমন সনাতনী মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যার ঘরে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা নেই। কিন্তু শুধু গীতা ঘরে রাখলেই কি তার পূর্ণ উপকার পাওয়া যায়? নিশ্চয়ই নয়। গীতার প্রকৃত ফল লাভ করতে হলে তা পড়তে হবে, বুঝতে হবে এবং জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। আমরা প্রায় সকলেই কোনো না কোনোভাবে ঈশ্বরের উপাসনা করি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সেই উপাসনা কী শাস্ত্রসম্মত? আমরা কী সত্যিই জানি, কীভাবে উপাসনা করলে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়া যায়?
“উপাসনা” শব্দের অর্থই হলো—ঈশ্বরের নিকটে বসা, অর্থাৎ তাঁর সান্নিধ্যে পৌঁছানো। যে ব্যক্তি উপাসনার মাধ্যমে নিজের অজ্ঞতা দূর করে এবং পরমেশ্বরের সান্নিধ্যে আসে, সে এমন এক অনির্বচনীয় আনন্দ অনুভব করে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না—শুধু হৃদয়ে উপলব্ধি করা যায়। এই উপাসনার সঠিক পদ্ধতি অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন শ্রীকৃষ্ণ গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ে।

🌿কোন স্থানে বসে উপাসনা করতে হবে সেই সম্পর্কে বলা হচ্ছে,

যোগী যুঞ্জীত সততমাত্মানং রহসি স্থিতঃ। একাকী যতচিত্তাত্মা নিরাশীরপরিগ্রহঃ।। ১০

অনুবাদ: চিত্ত ও আত্মাকে বশীভূতকারী, কামনাশূন্য এবং পরিগ্রহরহিত যোগী একা নির্জন স্থানে স্থিত হয়ে নিরন্তর আত্মাকে যোগে নিযুক্ত করবে।

শুচৌ দেশে প্রতিষ্ঠাপ্য স্থিরমাসনমাত্মনঃ। নাত্যুচ্ছিতং নাতিনীচং চৈলাজিনকুশোত্তরম্ ॥ ১১

তত্রৈকাগ্রং মনঃ কৃত্বা যতচিত্তেন্দ্রিয়ক্রিয়ঃ।
উপবিশ্যাসনে যুঞ্জ্যাদ যোগমাত্মবিশুদ্ধয়ে ॥ ১২।[গীতা ৬/১১-১২]

অনুবাদ: খুব উঁচু নয় বা খুব নিচু নয়-এমন শুদ্ধ ভূমিতে ক্রমান্বয়ে কুশ, হরিণের চামড়া এবং বস্ত্র পেতে নিজের স্থির আসন স্থাপন করে সেই আসনে উপবিষ্ট হয়ে মনকে একাগ্র করে চিত্ত এবং ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়া সংযমপূর্বক আত্মার শুদ্ধির জন্য যোগ অভ্যাস করবে।

🌿 অনেকেই মনে করে মূর্তি ছাড়া মনকে একাগ্র করা কঠিন। মনকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে বা মনকে কোথায় স্থাপন করে একাগ্র করবো সেই সংশয় নিবারণ করছে,

সমং কায়শিরোগ্রীবং ধারয়ন্নচলং স্থিরঃ।
সংপ্রেক্ষ্য নাসিকাগ্রং স্বং দিশশ্চানবলোকয়ন্ ৷ ১৩ প্রশান্তাত্মা বিগতভীরব্রহ্মচারিব্রতে স্থিতঃ।
মনঃ সংযম্য মচ্চিত্তো যুক্ত আসীত মৎপরঃ ॥ ১৪
[গীতা ৬/১৩-১৪]

অনুবাদ: শরীর, মস্তক, গ্রীবা সমান ও অচলভাবে ধারণ করে স্থির হয়ে নিজের নাসিকার অগ্রভাগে দৃষ্টি রেখে অন্যদিকে না তাকিয়ে ব্রহ্মচর্য ব্রতে স্থিত, ভয়রহিত ও প্রশান্ত-চিত্ত যোগী মন সংযমপূর্বক মদ্‌গত চিত্ত, মৎপরায়ণ হয়ে যোগে যুক্ত হবে।

যুঞ্জন্নেবং সদাত্মানং যোগী নিয়তমানসঃ। শান্তিং নির্বাণপরমাং মৎসংস্থামধিগচ্ছতি ॥ [গীতা ৬/১৫]

অনুবাদ: সংযতচিত্ত যোগী এভাবে আত্মাকে নিরন্তর যোগযুক্ত করে আমাতে স্থিতিরূপ নির্বাণ পরম শান্তি প্রাপ্ত করেন।

🌿 উপাসনার সময় কী চিন্তা করা যাবে না সেই বিষয়ে বলা হচ্ছে,

সংকল্পপ্রভবান্ কামাংস্ত্যত্ত্বা সর্বানশেষতঃ। মনসৈবেন্দ্রিয়গ্রামং বিনিয়ম্য সমস্ততঃ ॥ ২৪
শনৈঃ শনৈরুপরমেদ্ বুদ্ধ্যা ধৃতিগৃহীতয়া। আত্মসংস্থং মনঃ কৃত্বা ন কিঞ্চিদপি চিন্তয়েৎ ॥ [গীতা ৬/২৪,২৫]

অনুবাদ: সংকল্প থেকে উৎপন্ন সকল কামনা নিঃশেষরূপে ত্যাগ করে, মনের দ্বারা ইন্দ্রিয়সমূহকে সকল বিষয় থেকেই উত্তমরূপে বশ করে, ধৈর্যযুক্ত বুদ্ধি দ্বারা মনকে পরমাত্মায় স্থিত করে ধীরে ধীরে নিবৃত্ত করতে হবে, অন্য কিছুই চিন্তা করবে না।

যতো যতো নিশ্চরতি' মনশ্চঞ্চলমস্থিরম্।
ততস্ততো নিয়ম্যৈতদাত্মন্যেব বশং নয়েৎ ॥ ২৬
প্রশান্তমনসং হোনং যোগিনং সুখমুত্তমম্।
উপৈতি শান্তরজসং ব্রহ্মভূতমকল্মষম্ ॥ গীতা / ২৬,২৭]

অনুবাদ: অস্থির চঞ্চল মন যে যে বিষয়ে বিচরণ করে, সেই সেই বিষয় থেকে এই মনকে রোধ করে পরমাত্মাতেই স্থির করবে। কেননা, যার মন প্রশান্ত, পাপরহিত, রজগুণ শান্ত ও ব্রহ্ম-গুণধারী-এই রকম যোগীর উত্তম সুখ প্রাপ্ত হয়।

🌿যোগী ব্যক্তি কীভাবে ব্রহ্মকে প্রাপ্ত করেন সেই বিষয়ে বলা হচ্ছে,

বুদ্ধ্যা বিশুদ্ধয়া যুক্তো ধৃত্যাত্মানং নিয়ম্য চ।
শব্দাদীন্ বিষয়াংস্ত্যত্ত্বা রাগদ্বেষৌ ব্যুদস্য চ ৷ ৫১

বিবিক্তসেবী লম্বাশী যতবাক্কায়মানসঃ।
ধ্যানযোগপরো নিত্যং বৈরাগ্যং সমুপাশ্রিতঃ ॥ ৫২

অহঙ্কারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং পরিগ্রহম্।
বিমুচ্য নির্মমঃ শান্তো ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে ॥ ৫৩ [গীতা ১৮/৫১,৫২,৫৩]

অনুবাদ: বিশুদ্ধ বুদ্ধিযুক্ত হয়ে ও ধৃতি দ্বারা অন্তঃকরণকে বশ করে, শব্দাদি বিষয়সমূহ ত্যাগ করে এবং রাগদ্বেষ পরিত্যাগপূর্বক; নির্জনস্থান-নিবাসী, পরিমিত আহারকারী; বাক্য, শরীর ও মনকে সংযত করে সর্বদা ধ্যানযোগ-পরায়ণ এবং বৈরাগ্য আশ্রয়পূর্বক অহংকার, বল, দর্প, কাম, ক্রোধ ও পরিগ্রহ পরিত্যাগপূর্বক মমতাশূন্য ও শান্তিপরায়ণ ব্যক্তি ব্রহ্মের ভাবকে প্রাপ্ত হন।

🌿যোগী কোন অবস্থায় পৌছালে এবং কী রূপে পরমেশ্বর দর্শন দেন সেই বিষয়ে বলা হচ্ছে,

যত্রোপরমতে চিত্তং নিরুদ্ধং যোগসেবয়া। যত্র চৈবাত্মনাত্মানং পশ্যন্নাত্মনি তুষ্যতি ॥ ২০
সুখমাত্যন্তিকং যত্তদ্বুদ্ধিগ্রাহ্যমতীন্দ্রিয়ম্।
বেত্তি যত্র ন চৈবায়ং স্থিতশ্চলতি তত্ত্বতঃ ৷ [গীতা ৬/২০,২১]

অনুবাদ: যে অবস্থায় যোগের অভ্যাস দ্বারা নিরুদ্ধ-চিত্ত নিবৃত্ত হয় এবং যে অবস্থায় মনের দ্বারা পরমাত্মার সাক্ষাৎ করে পরমাত্মাতেই সন্তুষ্ট হয়। যে অবস্থাতে এই যোগী শুভবুদ্ধি দ্বারা গ্রহণযোগ্য ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি থেকেও ঊর্ধ্বে স্থিত অনন্ত যে সুখ আছে তাকে অনুভব করেন এবং যে অবস্থাতে স্থিত হয়ে যথার্থ তত্ত্ব পরমাত্মা থেকে বিচলিত হন না।

জ্ঞানেন তু তদজ্ঞানং যেষাং নাশিতমাত্মনঃ। তেষামাদিত্যবজ্ঞানং প্রকাশয়তি তৎপরম্ ॥
[গীতা ৫/১৬]

অনুবাদ: যাঁদের আত্মজ্ঞান দ্বারা সেই অজ্ঞানতা নষ্ট হয়েছে, তাঁদের সেই জ্ঞান সূর্যের ন্যায় পরমাত্মাকে প্রকাশ করায়।

🌿উপাসনার ফল

যং লব্ধা চাপরং লাভং মন্যতে নাধিকং ততঃ। যস্মিন্ স্থিতো ন দুঃখেন গুরুণাপি বিচাল্যতে ॥ ২২ তং বিদ্যাদ্দুঃখসংযোগবিয়োগং যোগসংজ্ঞিতম্। স নিশ্চয়েন যোক্তব্যো যোগোহনির্বিঘ্নচেতসা ॥ [গীতা ৬/২২,২৩]

অনুবাদ: যে অবস্থা প্রাপ্ত করলে অন্য কোনো প্রাপ্তিকে তার চেয়ে অধিক মনে হয় না ও যে অবস্থায় স্থিত হলে গুরুতর দুঃখেও বিচলিত হয় না এবং দুঃখের সাথে সংযোগ হওয়ার সাথে সাথে বিয়োগ হয়, তাকে যোগ বলে জানবে। অধ্যবসায় সহকারে তৎপরায়ণ চিত্তে সেই যোগ অভ্যাস করা কর্তব্য।

যুঞ্জন্নেবং সদাত্মানং যোগী বিগতকল্মষঃ।
সুখেন ব্রহ্মসংস্পর্শমত্যন্তং সুখমম্মুতে ॥ ২৮
[গীতা ৬/২৮]

অনুবাদ: পাপরহিত যোগী এইপ্রকার নিরন্তর নিজেকে যোগযুক্ত করে আনন্দপূর্বক ব্রহ্মের সংস্পর্শজনিত অনন্ত সুখ অনুভব করে।

উপাসনা কোনো কেবলমাত্র বাহ্য আচরণ নয়—এটি আত্মার অন্তর্গত এক নীরব যাত্রা, যেখানে জীব আত্মা ধীরে ধীরে পরমাত্মার সান্নিধ্যে লাভ করে । যখন মন সংসারের অসংখ্য সংকল্প-বিকল্প ত্যাগ করে একমাত্র পরমেশ্বরের মধ্যে স্থিত হয়, তখন অন্তরের গভীরে জাগ্রত হয় এক দিব্য আলো যা অজ্ঞতার সমস্ত অন্ধকারকে অপসারিত করে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা আমাদের শিক্ষা দেয়—সংযম, একাগ্রতা ও ভক্তির মাধ্যমে যে সাধক অন্তরে ঈশ্বরকে ধারণ করে, তার হৃদয়েই পরমেশ্বরের আবির্ভাব ঘটে। তখন বাহিরে আর কিছু খুঁজে বেড়াতে হয় না; নিজের আত্মার মধ্যেই অনুভূত হয় সেই অনন্ত, অখণ্ড, শাশ্বত সত্তা।

ও৩ম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।

Address

Gazipur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Vedic Mission posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Vedic Mission:

Share