শ্রী রাধেশ্যাম

শ্রী রাধেশ্যাম কৃষ্ণায় বাসুদেবায় হরায়ে পরমেত্মনে প্রনত
ক্লেশনাশায় গোবিন্দায় নমো নমঃ

24/05/2024

Horiname

 #আমলকী_একাদশী_বার্তাআগামী ২০ মার্চ ২০২৪ বুধবার আমলকী একাদশী ব্রত কৃপা করে সকলে একাদশী পালন করবেন। আমলকী একাদশী মাহাত্ম্...
19/03/2024

#আমলকী_একাদশী_বার্তা
আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ বুধবার আমলকী একাদশী ব্রত কৃপা করে সকলে একাদশী পালন করবেন।

আমলকী একাদশী মাহাত্ম্য :
যুধিষ্ঠির বললেন, হে কৃষ্ণ! মহাফলদাতা বিজয়া একাদশীর কথা শুনলাম।এখন ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী যে নামে বিখ্যাত তা বর্ণনা করুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে মহাভাগ যুধিষ্ঠির, মান্ধাতার প্রশ্নের উত্তরে মহাত্মা বশিষ্ঠ এই একাদশীর মহিমা কীর্তন করেছিলেন। আপনার কাছে এখন আমি সেই কথা বলছি।
এই একাদশীর নাম `আমলকী'। বিষ্ণুলোক প্রদানকারী রূপে এই একাদশী বিশেষভাবে মহিমান্বিত। একাদশীর দিন আমলকী বৃক্ষের তলে রাত্রি জাগরণ করলে সহস্র গাভীদানের ফল লাভ হয়।
হে পান্ডুনন্দন, পূর্বে ব্রহ্মার রাত্রিতে দৈনন্দিন প্রলয় উপস্থিত হলে স্থাবর জঙ্গমসহ দেবতা,অসুর ও রাক্ষস সবকিছুর বিনাশ হয়। তখন ভগবান সেই কারনসমুদ্রে অবস্থান করেন। তাঁর মুখপদ্ম থেকে চন্দ্রবর্ণের এক বিন্দু জল ভূমিতে পড়ে। সেই জলবিন্দু থেকে একটি বিশাল আমলকী বৃক্ষ উত্পন্ন হয়। এই বৃক্ষের স্মরণমাত্র গোদানের ফল, দর্শনে তার দ্বিগুন, এবং ফলভক্ষনে তিনগুন ফল লাভ হয়। এই বৃক্ষে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর সর্বদা অবস্থান করেন। এর প্রতিটি শাখা প্রশাখা ও পাতায় ঋষি, দেবতা ও প্রজাপতিগণ বাস করেন।এই বৃক্ষকে সমস্ত বৃক্ষের আদি বলা হয়। এবং তা পরম বৈষ্ণব রূপে বিখ্যাত।অতএব এই শ্রেষ্ঠ ব্রত সকলেরই পালনীয়।এখন এই ব্রতের এক অদ্ভূত ইতিহাস আপনাকে বলছি।
প্রাচীনকালে বৈদিশ নামে এক প্রসিদ্ধ নগর ছিল।এখানকার রাজা ছিলেন চৈত্ররথ।চন্দ্রবংশীয় পাশবিন্দুক রাজার পুত্ররূপে তিনি জন্মগ্রহন করেছিলেন।তিনি খুব শক্তিমান ও রাজঐশ্বর্যশালী ছিলেন।শাস্ত্রজ্ঞানেও ছিলেন নিপুণ।তার রাজ্যে দিব্য আনন্দ পূর্ণ মনোরম পরিবেশ ছিল।প্রজারা ছিলেন বিষ্ণুভক্তিপরায়ণ।সকলেই একাদশী ব্রত পালন করতেন।রাজ্যে কোনো অভাব অমঙ্গল ছিলনা।এভাবে প্রজাদের নিয়ে রাজা সুখে দিনযাপন করতেন।
একসময় ফাল্গুনী শুক্লপক্ষের দ্বাদশীযুক্তা আমলকী একাদশী তিথি সমাগত হওয়ায় রাজ্যের সকলেই এই ব্রত পালনের সংকল্প করলেন।ঐদিন প্রাতঃস্নানের পর প্রজাদের নিয়ে রাজা ভগবান শ্রীবিষ্ণুর মন্দিরে যান। সেখানে সুবাসিত জলপূর্ণ কলস, ছত্র, বস্ত্র, পাদুকা, পঞ্চরত্ন ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে স্থাপন করেন। তারপর ধূপ দীপ দিয়ে যত্নসহকারে মুনি ঋষিদের দ্বারা শ্রীপরশুরাম মূর্তি সমন্বিত আমলকীর পূজা করেন। `হে পরশুরাম! হে রেণুকার সুখবর্ধক! হে ধাত্রী! হে পাপবিনাশিনী আমলকী! তোমাকে প্রনাম। আমার অর্ঘ্যজল গ্রহন কর।' এইভাবে দিনে যথাবিধি পূজা স্তবস্তুতি নৃত্যগীত করে রাজা ভক্তিভরে সেই বিষ্ণু মন্দিরে রাত্রি জাগরণ করতে লাগলেন। এমন সময় দৈব যোগে এক ব্যধ সেখানে উপস্থত হয়। পূজার সামগ্রীসহ বহু ব্যক্তিকে একত্রে রাত্রিজাগরণ করতে দেখে সে কৌতুহলাক্রান্ত হল। সে ভাবল, এসব কি ব্যাপার? বিষ্ণু মন্দিরে প্রবেশ করে সে বসে পড়ল। কলসের উপরে স্থাপিত বিষ্ণুমূর্তি দর্শন করল। ভগবান বিষ্ণু ও একাদশীর মাহাত্ম্য সে মনোযোগ দিয়ে শুনল। সারাদিন ঐ ব্যাধ কিছুই আহার করেনি। এইভাবে ক্ষুধায় কাতর হয়ে সেখানে সে রাত্রিজাগরণ করল।
পরদিন প্রজাসহ রাজা নগরের দিকে যাত্রা করলেন। ব্যাধও তার গৃহে ফিরে গেল।এরপর একসময় তার মৃত্যু হল। একাদশীতে রাত্রি জাগরণ ব্রত প্রভাবে সে পরবর্তী জন্মে এক রাজ্যের অধীশ্বর রূপে নিযুক্ত হল।
জয়ন্তী নামে এক নগরী ছিল। সেখানে বিদূরথ নামে এক রাজা বাস করতেন। ঐ ব্যাধ বিদূরথ রাজার মহাবলী পুত্ররূপে জন্মগ্রহন করেন। তার নাম হয় বসুরথ।এক লক্ষ গ্রামের আধিপত্য তিনি লাভ করলেন। তিনি ছিলেন সূর্যের মতো তেজস্বী, চন্দ্রের মতো কান্তিমান ও পৃথিবীর মতো ক্ষমাশীল। বিভিন্ন সদ্ গুণে ভূষিত বসুরথ পরম বিষ্ণুভক্তি পরায়ণ হন।
এই মহাদাতা রাজা একবার শিকার করতে গিয়ে পথ ভুলে যান। গভীর জঙ্গলের মধ্যে ক্ষুধায় পীড়িত হয়ে তিনি ক্লান্তিবশতঃ শুয়ে পড়েন।এমন সময় কতগুলি পর্বত নিবাসী ম্লেচ্ছ রাজার কাছে এসে নানা ভাবে উত্ পীড়ণ করতে থাকে। রাজাকে তাদের শত্রু মনে করে তারা তাকে হত্যা করতে চেষ্টা করে। "পূর্বে এই রাজা আমাদের পিতা-মাতা-পুত্র-পৌত্র সবাইকে মেরে ফেলেছে।আমাদের গৃহছাড়া করেছে।" এরকম বলতে বলতে ম্লেচ্ছরা রাজাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। তারা বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্রে তাঁকে আঘাত করতে লাগল। আশ্চর্যজনক ভাবে সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাজার কোনো ক্ষতি তারা করতে পারলনা। তখন রাজার শরীর থেকে নানা অলংকারে বিভূষিতা এক পরমা সুন্দরী স্ত্রীমূর্তি আবির্ভূতা হন।মহাশক্তিধারিণী ঐ নারী অল্প সময়ের মধ্যেই সকল পাপী ম্লেচ্ছকে নিধন করল। রাজার নিদ্রাভঙ্গ হল।ভয়ানক হত্যাকান্ড দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হলেন।
তিনি বললেন, আহা, আমার শত্রুদের হত্যা করে কে আমার প্রান রক্ষা করল, এমন কৃপালু কে আছে? আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এমন সময় দৈববানী হল, ভগবান কেশব ব্যতীত শরনাগতকে রক্ষা করার কে আছে? তিনি শরনাগত পালক। এই শুনে ভক্তিযুক্ত চিত্তে গৃহে ফিরে এলেন।প্রজাসহ মহাসুখে ইন্দ্রের মতো নিষ্কন্টক রাজ্য ভোগ করতে লাগলেন।
বশিষ্ঠ বললেন, হে রাজন, যে মানুষ এই পরম উত্তম আমলকী একাদশী ব্রত পালন করেন, তিনি নিঃসন্দেহে বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হন।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।🥰

মহাপ্রসাদে গোবিন্দে, নাম-ব্রহ্মণি বৈষ্ণবে।স্বল্প-পুণ্য বতাং রাজন্ বিশ্বাস নৈব জায়তে।।শরীর অবিদ্যা-জাল   জড়েন্দ্রিয় তাহে ...
19/03/2024

মহাপ্রসাদে গোবিন্দে, নাম-ব্রহ্মণি বৈষ্ণবে।
স্বল্প-পুণ্য বতাং রাজন্ বিশ্বাস নৈব জায়তে।।

শরীর অবিদ্যা-জাল জড়েন্দ্রিয় তাহে কাল
জীবে ফেলে বিষয়-সাগরে।
তা’র মধ্যে জিহ্বা অতি, লোভময় সুদুর্মতি,
তা’কে জেতা কঠিন সংসারে।।
কৃষ্ণ বড় দয়াময়, করিবারে জিহ্বা জয়,
স্বপ্রসাদ-অন্ন দিলা ভাই।।
সেই অন্নামৃত পাও রাধাকৃষ্ণ গুণ গাও,
প্রেমে ডাক শ্রীচৈতন্য নিতাই।।

আগামী ০৭ মার্চ ২০২৪ বৃহস্পতিবার বিজয়া একাদশী সকলে কৃপাকরে একাদশী ব্রত পালন করবেন। বিজয়া একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য :স্কন্দপুর...
06/03/2024

আগামী ০৭ মার্চ ২০২৪ বৃহস্পতিবার বিজয়া একাদশী সকলে কৃপাকরে একাদশী ব্রত পালন করবেন।

বিজয়া একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য :
স্কন্দপুরাণে এই একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। মহারাজ যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন,হে বাসুদেব! ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর মাহাত্ম্য অনুগ্রহ করে আমাকে বলুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে যুধিষ্ঠির, এই একাদশী `বিজয়া' নামে পরিচিত।এই একাদশী সম্পর্কে দেবর্ষি নারদ স্বয়ম্ভু ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।তিনি এই প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন, তা আমি তোমাকে বলছি।এই পবিত্র পাপবিনাশকারী ব্রত মানুষকে জয় দান করে বলে এই একাদশীর নাম বিজয়া।
পুরাকালে শ্রীরামচন্দ্র ১৪ বছরের জন্য বনে গিয়েছিলেন।সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে তিনি পঞ্চবটী বনে বাস করতেন।সেইসময় লঙ্কাপতি রাবণ সীতা দেবীকে হরণ করেন। সীতার অনুসন্ধানে রামচন্দ্র চতুর্দিক ভ্রমণ করতে থাকেন। তখন মৃতপ্রায় জটায়ুর সাথে তাঁর সাক্ষাত্ হয়। জটায়ুর রাবণের সীতাহরণের সমস্ত ঘটনা রামচন্দ্রকে জানিয়ে মৃত্যুবরণ করল।এরপর সীতা উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের সাথে তিনি বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।
ভগবান রামচন্দ্রের কৃপায় হনুমান লঙ্কায় গমন করেন।সেখানে অশোক বনে সীতাদেবীকে দর্শন করে শ্রীরামচন্দ্র প্রদত্ত অঙ্গুরীয় তাঁকে অর্পণ করেন। ফিরে এসে শ্রীরামচন্দ্রের কাছে লঙ্কার সমস্ত ঘটনা ব্যাখ্যা করেন। হনুমানের কথা শুনে রামচন্দ্র সুগ্রীবের পরামর্শে সমুদ্রতীরে যান। সেই দুস্তর সমুদ্র দেখে তিনি লক্ষ্মণকে বললেন, হে লক্ষ্মণ, কিভাবে এই অগাধ সমুদ্র পার হওয়া যায়, তার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিনা।
উত্তরে লক্ষ্মণ বললেন, হে পুরুষোত্তম, সর্বজ্ঞাতা আদিদেব আপনি, আপনাকে আমি কি উপদেশ করব? তবে বক্দালভ্য নামে এক মুনি এই দ্বীপে বাস করেন। এখান থেকে চার মাইল দূরে তাঁর আশ্রম।হে রাঘব, আপনি সেই প্রাচীন ঋষিশ্রেষ্ঠকে এর উপায় জিজ্ঞাসা করুন।
লক্ষ্মণের মনোরম কথা শুনে তারা সেই মহামুনির আশ্রমে উপনীত হলেন,ভগবান রামচন্দ্র ভক্তরাজ সেই মুনিকে প্রণাম করলেন। মুনিবর শ্রীরামচন্দ্রকে পুরাণপুরুষ বলে জানতে পারলেন।আনন্দ ভরে জিজ্ঞাসা করলেন, হে রামচন্দ্র, কি কারনে আপনি আমার কাছে এসেছেন, কৃপা করে আমাকে বলুন।
শ্রীরামচন্দ্র বললেন,হে মুনিবর, আপনার কৃপায় সৈন্যসহ আমি এই সমুদ্রতীরে উপস্থিত হয়েছি। রাক্ষসরাজের লঙ্কাবিজয় করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।যাতে এই ভয়ঙ্কর সমুদ্র উত্তীর্ণ হতে পারি, তার উপায় জানবার জন্য আমরা আপনার কৃপা প্রার্থনা করি। মুনিবর প্রসন্ন চিত্তে পদ্মলোচন রামচন্দ্রকে বললেন, হে রাম, আপনার অভীষ্ট সিদ্ধির জন্য যে শ্রেষ্ঠ ব্রত করণীয়, তা বলছি।ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের বিজয়া নামক একাদশী পালনে আপনি নিশ্চয়ই সৈন্যসহ সমুদ্র পার হতে পারবেন।এই ব্রতের বিধি শ্রবন করুন। বিজয় লাভের জন্য দশমীর দিন সোনা, রূপা,তামা অথবা মাটির কলস সংগ্রহ করে তাতে জল ও আমপাতা দিয়ে সুগন্ধিচন্দনে সাজিয়ে তার উপর সোনার নারায়ণ মূর্তি স্থাপন করবেন।একাদশীর দিন যথাবিধি প্রাতঃস্নান করে কলসের গলায় মালাচন্দন পরিয়ে উপযুক্ত স্থানে নারকেল ও গুবাক দিয়ে পূজা করবেন।এরপর গন্ধ,পুষ্প, তুলসী,ধূপ-দীপ নৈবেদ্য ইত্যাদি দিয়ে পরম ভক্তি সহকারে নারায়ণের পূজা করে হরিকথা কীর্তনে সমস্ত দিন যাপন করবেন।রাত্রি জাগরণ করে অখন্ড ঘি প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত রাখবেন।দ্বাদশীর দিন সূর্যোদয়ের পর সেই কলস বিসর্জনের জন্য কোন নদী, সরোবর বা জলাশয়ের কাছে বিধি অনুসারে পূজা নিবেদনের পর তা বিসর্জন দেবেন।তারপর ঐ মূর্তি বেদজ্ঞ ব্রাহ্মনকে দান করবেন।এই ব্রত প্রভাবে নিশ্চয় আপনার বিজয় লাভ হবে।
ব্রহ্মা বললেন, হে নারদ, ঋষির কথামত ব্রত অনুষ্ঠানের ফলে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। সীতাপ্রাপ্তি, লঙ্কাজয়, রাবণবধের মাধ্যমে তিনি অতুল কীর্তি লাভ করেছিলেন। তাই যথাবিধি যে মানুষ এই ব্রত পালন করবে,তাদের এ জগতে জয়লাভ ও পরজগতে অক্ষয় সুখ সুনিশ্চিত জানবে।
হে যুধিষ্ঠির, এই কারনে এই ব্রত পালন অবশ্য কর্তব্য। এই ব্রতকথা শ্রবন কীর্তনে বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
#শ্রী_রাধেশ্যাম

হরে কৃষ্ণ... 🙏🙏সুধী ভক্তবৃন্দ আসছে আগামী ১১ই ফাল্গুন (২৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪) শনিবার বৈষ্ণব চূড়ামণি শ্রী শ্রীল নরোত্তম দাস...
24/02/2024

হরে কৃষ্ণ... 🙏🙏
সুধী ভক্তবৃন্দ
আসছে আগামী ১১ই ফাল্গুন (২৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪) শনিবার বৈষ্ণব চূড়ামণি শ্রী শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয়ের শুভ আর্বিভাব তিথি।
🌿🍁👣🙏
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু দাসের অনুদাস,
সেবা অভিলাস করে নরোত্তম দাস।

আজ আকুমার ব্রহ্মচারী সর্বতীর্থদর্শী পরম ভাগবতোত্তম ভক্ত প্রেমভক্তির মহাজন শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুরের ৫০৪ তম আবির্ভাব তিথি মহোৎসব।

শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে রাজশাহী জেলার পদ্মাবতী নদীতট-সংলগ্ন গোপালপুর নগরে মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে আবির্ভূত হন। তাঁর পিতার নাম রাজা শ্রীকৃষ্ণানন্দ এবং মাতার নাম শ্রী নারায়ণী দেবী।

শুভলগ্নে পুত্রের জন্মে ব্রাহ্মণগণ লগ্ন দেখে বলেছিলেন,

ুত্র_প্রসিদ্ধ_মহান্ত_হবে_এবং_এর_প্রভাবে_বহু_লোক_উদ্ধার_পাবে।

তপ্ত কাঞ্চনের ন্যায় অঙ্গকান্তি, দীঘল নয়ন, আজানুলম্বিত ভুজ-যুগল ও গভীর নাভি দ্বারা সমন্বিত ছিল গৌড়ীয় বৈষ্ণব এই সন্তের। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই পিতার অগাধ সম্পত্তি ত্যাগ করে তিনি বৃন্দাবনধামে নিতাই-গৌরের প্রচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

শ্রীল লোকনাথ গোস্বামীর একমাত্র শিষ্য ছিলেন শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর। তিনি সারাজীবন ব্রহ্মচর্য পালন করেন এবং আমাদের মতো কলিহত জীবদের জন্য তিনি বাংলা ভাষায় ৩৩ টি গৌড়ীয় ভজন লিপিবন্ধ করে গিয়েছেন।

তার লেখা প্রত্যেকটি ভজন শ্রবণ ও কীর্তনের ফলে ভগবানের প্রতি আমাদের প্রেম বৃদ্ধি পায়। কয়েকটি ভজন হলো, এইবার করুণা করো বৈষ্ণব গোঁসাই, রাধা কৃষ্ণ প্রানমোর যুগলকিশোর.....

মহান এই আচার্যের আবির্ভাবের স্থান খেতুরী ধামের মহিমা শ্রবণ করবো।

খেতুরী ধাম হলো শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুরের আবির্ভাব স্থান। গৌড়ীয় বৈষ্ণব আচার্য ও মহাজনগণ এই খেতুরী ধামকে তিন ধামের (যেমনঃ #বৃন্দাবন_পুরী_নবদ্বীপ) প্রকাশ বলে তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন।

🚩 #খেতুরী_ধামের_মাহাত্ম্যঃ

👉 খেতুরী ধামে একদিন রাত্রি যাপন করলে তিন ধামের রাত্রি যাপনের সমতুল্য ফল লাভ হয়।

👉 এই ধামে বসে এক মালা জপ করলে এক হাজার মালা জপের সমতুল্য ফল লাভ হয়ে থাকে।

👉 ধামে যে কোনো সৎ-কর্ম করা হলে তা হাজার গুণ বেশি ফলদায়ক হয়ে থাকে।

👉 তবে কেউ অপকর্ম করলে তদনুরূপ তাকে হাজার গুণ অপকর্মের ফল ভোগ করতে হয়। So, be careful for that.

👏, তাই আমাদের সকলের উচিত এই ধামে আগমন পূর্বক ধামের সেবায় মনপ্রাণ সমর্পণ করা ও ধামের মহিমা প্রকাশ করা। তাহলে নরোত্তম দাস ঠাকুর এবং মহাপ্রভুর কৃপায় কৃষ্ণভক্তি লাভ হবে এবং জীবনান্তে গোলক বৃন্দাবনে গতি লাভ হবে।

🔕 খেতুরী ধাম মন্দিরের দুপাশে দুটি পুকুর রয়েছে যা ঠাকুর মহাশয় শ্যামকুন্ড ও রাধাকুন্ড বলে বৃন্দাবনের-ভাব নিয়ে স্মরণ ও স্নান করতেন। এজন্য সেই পুকুর দুটিকে আমাদেরও শ্যামকুন্ড ও রাধাকুন্ডের মতো শ্রদ্ধা ভক্তি করা উচিত।

🔕 নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয় সেখানে প্রতিদিন ব্রাহ্মমুহূর্তে স্নান করতেন। স্নানকালে বাঘ বা বা অন্যান্য হিংস্র জন্তুরা ঠাকুর মহাশয়ের প্রতি হিংস্র না হয়ে তাঁর মুখ থেকে হরিনাম শ্রবণ করে বা তাঁর অঙ্গজ্যোতি দর্শন করে, পরিশেষে তাঁর প্রতি মস্তক অবনত করে শ্রদ্ধাপরায়ন হতেন।

কে কে যাবে ভাই অভিন্ন বৃন্দাবনে 🙋??

শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয় কি........ জয় ✋🤚

" শ্রদ্ধার্ঘ্যঃ
শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয় "
শুভ আবির্ভাব তিথি মহোৎসব

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য শ্রীমন্ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ভক্তগণকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মার নিকটে পৌঁছে হরিনাম সংকীর্তন করেন এবং বারবার নরোত্তম, নরোত্তম বলে ডাকতে থাকেন।
এরপর পদ্মাকে বলেন,"হে পদ্মাবতী,তুমি এই কৃষ্ণপ্রেম নাও এবং আমার ভক্ত নরোত্তম আসার পূর্ব পর্যন্ত তোমার কাছে সযত্নে গচ্ছিত রাখো,সে এলে তুমি তাকে তা প্রদান করো।"
তখন পদ্মাবতী বলেন,"হে প্রভু,আমি কিভাবে চিনব আপনার ভক্ত নরোত্তমকে?"
তখন মহাপ্রভু তাকে বলেন...
"যাঁহার পরশে তুমি অধিক উছলিবা।
সেই নরোত্তম প্রেম তাঁরে তুমি দিবা।।"
মহাপ্রভুর আজ্ঞায় পদ্মা সেই কৃষ্ণপ্রেম অত্যন্ত আনন্দের সাথে সংরক্ষণ করে রাখেন।
পরবর্তীতে এক প্রাতঃকালে নরোত্তম দাস ঠাকুর যিনি বাল্যকাল থেকেই সংসারের প্রতি অনাসক্ত ছিলেন, শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুর স্বপ্নাদেশে পদ্মায় স্নান করতে যান।তিনি পদ্মায় নামার সাথে পদ্মার তরঙ্গ উচ্ছলিত হতে থাকে।তখন মহাপ্রভুর আজ্ঞা স্মরণ করে পদ্মানদী দেবীমূর্তি ধারণ করে নরোত্তমকে মহাপ্রভুর দেয়া প্রেম প্রদান করেন....

"তোমার নিমিত্ত প্রেম চৈতন্য গোসাঞি।
রাখিয়াছে সেই প্রেম লও মোর ঠাঁই।।
শোন শোন নরোত্তম নিবেদন করি।
প্রেম রাখি প্রভু গেলা নীলাচল পুরী।।

কৃষ্ণপ্রেম লাভের পর নরোত্তমের গায়ের বর্ণ কৃষ্ণবর্ণ থেকে পরিবর্তিত হয়ে গৌরবর্ণ হয়ে যায়.........
সেই প্রেমভক্তির মহাজন শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয়ের আজ শুভ তিরোভাব তিথি।
উনার চরণপদ্মে সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি....

"যদ্ভক্তিনিষ্ঠোপলরেখিকেবস্পর্শঃ পুনঃ স্পর্শমনীয় যস্য।
প্রমাণ্যমেবং শ্রুতিবদ যদীয়তস্মৈঃ নমঃ শ্রীলনরোত্তমায়।।
অনুবাদঃ
ভগবদ্ভক্তির প্রতি যাঁর নিষ্ঠা পাথরে অংকিত রেখার ন্যায় অটুট, যাঁর পাদ্যাদি স্পর্শমণির ন্যায় অভিষ্টপ্রদ এবং যাঁর বাক্য বেদবাক্যের ন্যায় অভ্রান্ত, আমি সেই শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয়কে পুনঃপুনঃ প্রণাম করি।

নরোত্তম দাস ঠাকুর একটা সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "আমি বড় অভাগা, আমি বড় দু:খী। আমার মনকে দমন করা আমার পক্ষে খুবই দুষ্কর। তাই, হে নিত্যানন্দ প্রভু, দয়া করে আমাকে প্রেমের বন্যায় ভাসিয়ে দাও। তোমার কৃপায় আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাও। তা হলে, তোমার পাদপদ্মের প্রেমধারার আস্বাদনে আমি এমনই বিভোর হব যে, আপনা হতেই আমার মন তোমাতে মগ্ন হবে।" এই হচ্ছে ভক্তের সহজ পথ। যদি আমরা নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপালাভ করতে পারি, তা হলে খুব শীঘ্রই আমরা শুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেমের ভাবোচ্ছ্বাস আস্বাদন করতে পারব।

~শ্রীল জয়পতাকা স্বামী, বৈষ্ণব কে? গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত।

ভগবান দর্শন
13/01/2024

ভগবান দর্শন

04/01/2024
16/10/2023

মিনতি ভরা আঁখি, কে তুমি ঝড়ের পাখি🦜🦜
কি দিয়ে জুড়াই ব্যাথা কেমনে কোথায় রাখি।🥰🥰
#শ্রী_রাধেশ্যাম

সময় সবসময় সবার অনুকুলে থাকে না৷
27/09/2023

সময় সবসময় সবার অনুকুলে থাকে না৷

নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরোত্তমম্ ।দেবীং সরস্বতীঞ্চৈব ততো জয়মুদীরেয়ৎ ।।নরোত্তম নর,নারায়ণ এবং দেবী সরস্বতীকে নমস্কার...
26/09/2023

নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরোত্তমম্ ।
দেবীং সরস্বতীঞ্চৈব ততো জয়মুদীরেয়ৎ ।।
নরোত্তম নর,নারায়ণ এবং দেবী সরস্বতীকে নমস্কার করিয়া জয়ধ্বনি উচ্চারন করিবে।

👌একাদশী বার্তা 👌বিঃ দ্রঃ- কৃপা পূর্বক একাদশীর তারিখের বিষয়ে আপনার বাড়ির পাশের ইস্কন মন্দিরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবেন।⚠...
24/09/2023

👌একাদশী বার্তা 👌

বিঃ দ্রঃ- কৃপা পূর্বক একাদশীর তারিখের বিষয়ে আপনার বাড়ির পাশের ইস্কন মন্দিরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবেন।

⚠️আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৩ইং, মঙ্গলবার, পার্শ্ব একাদশী।

🌼পারন (পরের দিন) ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং, বুধবার:

👉সকাল ০৫:৫৫ থেকে ০৯:৪৫ এর মধ্যে বাংলাদেশ সময়।

👉সকাল ০৫:২৮ থেকে ০৯:২৯ এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সময়।

➡️উপরোক্ত সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশস্য ভগবানকে নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করে পারন করা একান্ত কর্তব্য। তা না হলে একাদশীর পূর্ণফল প্রাপ্ত হবেন না। আর অবশ্যই একাদশীর আগের দিন ও পরের দিন নিরামিষ প্রসাদ গ্রহণ করতে হবে।

➡️আসুন এবার সকল ভক্তবৃন্দরা মিলে জেনে নেই। আমরা কেন একাদশী করব এবং বিভিন্ন পুরানে একাদশী মহাব্রত সম্পর্কে কি বলা হয়েছে?
#বিভিন্নপুরাণ থেকে:
১. সকল পুরাণে মুনিদের এই নিশ্চিত মত যে, একাদশীতে উপবাস করলে সকল পাপ হইতে মুক্ত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
(ব্রহ্মবৈবর্ত্তপুরাণ)
২. শ্রী যমরাজ ব্রাহ্মন কে বলেছেন, হে ব্রাহ্মণ! যাদের পুত্র ও পৌত্র একাদশী ব্রত করে আমি শাসন কর্তা যম হয়েও বিশেষরূপে তাদের নিকট ভীত হই। যারা একাদশী ব্রত পরায়ন সেই মহাত্মারা বল পূর্বক স্বীয় শত পুরুষ উদ্ধার করেন।
(পদ্মপুরাণ)
৩. একাদশীতে যে উপবাস, ইহাই সার, ইহাই তত্ত, ইহাই সত্য, ইহাই ব্রত, ইহাই সম্যক প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ। (ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ)
৪. যে মানুষ একাদশীর দিন শস্যদানা গ্রহণ করে সে তার পিতা, মাতা, ভাই এবং গুরু হত্যাকারী এবং সে যদি বৈকুন্ঠ লোকে উন্নীত হয় তবুও তার অধঃপতন হয়।
৫. একাদশীর দিন বিষ্ণুর জন্য সবকিছু রন্ধন করা হয় এমনকি অন্ন এবং ডাল ও কিন্তু শাস্ত্রের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বৈষ্ণবদের বিষ্ণুর প্রসাদ গ্রহণ করা উচিৎ নয়। সেই প্রসাদ পরের দিন গ্রহণ করার জন্য রেখে দেওয়া যেতে পারে। একাদশীর দিন কোন রকম শস্যদানা এমনকি অন্ন তা যদি বিষ্ণুর প্রসাদও হয় তবুও তা গ্রহণ করতে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
৬. বিধবা না হলে শাস্ত্র অনুসারে একাদশী ব্রত পালন করার প্রথা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রবর্তন করে ছিলেন। (শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত আদিলীলা (১৫/৮-১০)
৭. অনেকের ধারনা পুরী ধামে শ্রীজগন্নাথ দেবের প্রসাদ ভক্ষন দোষাবহ নহে। এই ধারনার বশবর্তী হইয়া পুরীতে অনেকেই নিঃসঙ্কোচে অন্ন গ্রহণ করেন, ইহা সম্পূর্ণ শাস্ত্র বিরুদ্ধ বিচার।
৮. বিধাবা নারী এবং মতিগণ (তেজস্বী) যদি একাদশী ব্রত না করে তাহলে প্রণয় কাল পর্যন্ত তাদের অন্ধকারময় নরকে পঁচে মরতে হয়। (শারদীয় পুরাণ)
৯. হে রাজন! যতদিন আয়ু থাকবে ততদিন একাদশী উপবাস থাকবে। (অগ্নিপুরাণ)
১০. বিধবা রমণী একাদশীতে আহার করলে, তার সর্বপ্রকার সুকৃতি নষ্ট হয় এবং দিনদিন তার ভ্রণহত্যা পাপের অপরাধ হয়। (কাত্যায়ন সংহিতা)
১১. যিনি একাদশী ব্রত পরিত্যাগ করে অন্য ব্রতের উপাসনা করেন, তার হাতের মহা মূল্যবান রত্ন পরিত্যাগ করে লোহা যাচনা করা হয়। (তত্ত্বসাগর)
১২. দেবাদিদেব শিব দূর্গা দেবী কে বলেছেন হে মহাদেবী যারা হরি বাসরে (একাদশীতে) ভোজন করে যমদূত গণ যমালয়ে নিয়ে তাদের অগ্নিবর্ন তীক্ষ লৌহাস্ত্র তাদের মুখে নিক্ষেপ করে।
(স্কন্দপুরাণ)
১৩.যে মানুষ একাদশীর দিন শস্যদানা গ্রহণ করে
সে তার পিতা, মাতা, ভাই এবং গুরু হত্যাকারী এবং সে যদি বৈকুন্ঠলোকেও উন্নীত হয় তবুও তার অধঃপতন হয়।
___স্কন্দপুরাণ
তাহলে কেন আমরা জেনে শুনে পাপ কর্ম করব?
তাই আসুন আমাদের মধ্যে যেসকল ভক্তবৃন্দরা একাদশী মহাব্রত পালন না করে যে পাপ করছেন। তারা সহ সকল ভক্তবৃন্দরাই একসাথে একাদশী মহাব্রত পালন করি এবং আমাদের এই দুর্লভ মানব জীবনকে স্বার্থক করি।
একাদশীর আবির্ভাব:
*******************
পদ্মপুরাণে একাদশী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। একসময় জৈমিনি ঋষি তাঁর গুরুদেব মহর্ষি ব্যাসদেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে গুরুদেব! একাদশী কি? একাদশীতে কেন উপবাস করতে হয়? একাদশী ব্রত করলে কি লাভ? একাদশী ব্রত না করলে কি ক্ষতি? এ সব বিষয়ে আপনি দয়া করে বলুন।

মহর্ষি ব্যাসদেব তখন বলতে লাগলেন-সৃষ্টির প্রারম্ভে পরমেশ্বর ভগবান এই জড় সংসারে স্থাবর জঙ্গম সৃষ্টি করলেন। মর্ত্যলোকবাসী মানুষদের শাসনের জন্য একটি পাপপুরুষ নির্মাণ করলেন। সেই পাপপুরুষের অঙ্গগুলি বিভিন্ন পাপ দিয়েই নির্মিত হল। পাপপুরুষের মাথাটি ব্রহ্মহত্যা পাপ দিয়ে, চক্ষুদুটি মদ্যপান, মুখ স্বর্ণ অপহরণ, দুই কর্ণ-গুরুপত্নী গমন, দুই নাসিকা-স্ত্রীহত্যা, দুই বাহু-গোহত্যা পাপ, গ্রীবা-ধন অপহরণ, গলদেশ-ভ্রুণহত্যা, বক্ষ-পরস্ত্রী-গমন, উদর-আত্মীয়স্বজন বধ, নাভি-শরণাগত বধ, কোমর-আত্মশ্লাঘা, দুই উরু-গুরুনিন্দা, শিশ্ন-কন্যা বিক্রি, মলদ্বার-গুপ্তকথা প্রকাশ পাপ, দুই পা-পিতৃহত্যা, শরীরের রোম-সমস্ত উপপাতক।

এভাবে বিভিন্ন সমস্ত পাপ দ্বারা ভয়ঙ্কর পাপপুরুষ নির্মিত হল। পাপপুরুষের ভয়ঙ্কর রূপ দর্শন করে ভগবান শ্রীবিষ্ণু মর্ত্যের মানব জাতির দুঃখমোচন করবার কথা চিন্তা করতে লাগলেন। একদিন গরুড়ের পিঠে চড়ে ভগবান চললেন যমরাজের মন্দিরে। ভগবানকে যমরাজ উপযুক্ত স্বর্ণ সিংহাসনে বসিয়ে পাদ্য অর্ঘ্য দিয়ে যথাবিধি তাঁর পূজা করলেন। যমরাজের সঙ্গে কথোপকথনকালে ভগবান শুনতে পেলেন দক্ষিণ দিক থেকে অসংখ্য জিবের আর্তক্রন্দন ধ্বনি। প্রশ্ন করলেন-এ আর্তক্রন্দন কেন?

যমরাজ বললেন, হে প্রভু, মর্ত্যের পাপী মানুষেরা নিজ কর্মদোষে নরকযাতনা ভোগ করছে। সেই যাতনার আর্ত চীৎকার শোনা যাচ্ছে। যন্ত্রণাকাতর পাপাচারী জীবদের দর্শন করে করুণাময় ভগবান চিন্তা করলেন-আমিই সমস্ত প্রজা সৃষ্টি করেছি, আমার সামনেই ওরা কর্মদোষে দুষ্ট হয়ে নরক যাতনা ভোগ করছে, এখন আমিই এদের সদগতির ব্যবস্থা করব। ভগবান শ্রীহরি সেই পাপাচারীদের সামনে একাদশী তিথি রূপে এক দেবীমুর্তিতে প্রকাশিত হলেন। সেই পাপীদেরকে একাদশী ব্রত আচরণ করালেন। একাদশী ব্রতের ফলে তারা সর্বপাপ মুক্ত হয়ে তৎক্ষণাৎ বৈকুন্ঠ ধামে গমন করল।

শ্রীব্যাসদেব বললেন, হে জৈমিনি! শ্রীহরির প্রকাশ এই একাদশী সমস্ত সুকর্মের মধ্যে শ্রেষ্ট এবং সমস্ত ব্রতের মধ্যে উত্তম ব্রত। কিছুদিন পরে ভগবানের সৃষ্ট পাপপুরুষ এসে শ্রীহরির কাছে করজোড়ে কাতর প্রার্থনা জানাতে লাগল-হে ভগবান! আমি আপনার প্রজা! আমাকে যারা আশ্রয় করে থাকে, তাদের কর্ম অনুযায়ী তাদের দুঃখ দান করাই আমার কাজ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি একাদশীর প্রভাবে আমি কিছুই করতে পারছি না, বরং ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছি। কেননা একাদশী ব্রতের ফলে প্রায় সব পাপাচারীরা বৈকুন্ঠের বাসিন্দা হয়ে যাচ্ছে।

হে ভগবান, এখন আমার কি হবে? আমি কাকে আশ্রয় করে থাকব? সবাই যদি বৈকুন্ঠে চলে যায়, তবে এই মর্ত্য জগতের কি হবে? আপনি বা কার সঙ্গে এই মর্ত্যে ক্রীড়া করবেন? পাপপুরুষ প্রার্থনা করতে লাগল- হে ভগবান, যদি আপনার এই সৃষ্ট বিশ্বে ক্রীড়া করবার ইচ্ছা থাকে তবে, আমার দুঃখ দুর করুন। একাদশী তিথির ভয় থেকে আমাকে রক্ষা করুন। হে কৈটভনাশন, আমি একমাত্র একাদশীর ভয়ে ভীত হয়ে পলায়ন করছি। মানুষ, পশুপাখী, কীট-পতঙ্গ, জল-স্থল, বন-প্রান্তর, পর্বত-সমুদ্র, বৃক্ষ, নদী, স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল সর্বত্রই আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু একাদশীর প্রভাবে কোথাও নির্ভয় স্থান পাচ্ছি না দেখে আজ আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।

হে ভগবান, এখন দেখছি, আপনার সৃষ্ট অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের মধ্যে একাদশীই প্রাধান্য লাভ করেছে, সেইজন্য আমি কোথাও আশ্রয় পেতে পারছি না। আপনি কৃপা করে আমাকে একটি নির্ভয় স্থান প্রদান করুন। পাপপুরুষের প্রার্থনা শুনে ভগবান শ্রীহরি বলতে লাগলেন- হে পাপপুরুষ! তুমি দুঃখ করো না। যখন একাদশী তিথি এই ত্রিভুবনকে পবিত্র করতে আবির্ভুত হবে, তখন তুমি অন্ন ও রবিশস্য মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তা হলে আমার মূর্তি একাদশী তোমাকে বধ করতে পারবে না।

একাদশী ব্রত সর্বোত্তম কেন?
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
(১). শাস্ত্রে যে চৌষট্টি প্রকার ব্রতের কথা বলা আছে তার মধ্যে একাদশী ব্রত সর্বোত্তম। শ্রবন, স্মরণ, কীর্তন ইত্যাদি নবধা ভক্তির পরই একাদশীর অবস্থান।।

(২). শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর লীলা বিলাসের প্রথম থেকেই একাদশী ব্রত পালনের উপর জোর দিয়েছিলেন।।

(৩). মোট ছাব্বিশটি একাদশী আছে। প্রতি মাসে দুটি একাদশী হলে বছরে চব্বিশটি। কিন্তু যে বছর পুরুষোত্তম, অধিমাস বা মলো মাস, সেই মাসে পদ্মিনী ও পরমা নামে আরও দুটি একাদশীর আবির্ভাব হয়।।

(৪). আট বছর থেকে আশি বছর বয়সের যে কেউই এই একাদশী পালন করতে পারে।।

(৫). জন্ম মৃত্যুর অশৌচে কখনোই এই
একাদশী পরিত্যাগ করতে নেই।

(৬). শুধু এই একাদশী পালন করেও মানুষ শনির প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে পারে।।

(৭). একাদশীর ব্রত পালনে যে ফল লাভ হয় অস্বমেধ, রাজশূয় ও বাজপেয় যজ্ঞের দ্বারাও সেই ফল লাভ হয় না।

(৮). ভুলক্রমে একাদশী ভঙ্গ হয়ে গেলে ক্ষমা ভিক্ষা করে তা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ।

(৯). একাদশীর দিনগুলো হলো চরিত্র সংশোধনের দিন। পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, মিথ্যাচার, ক্রোধ, দুশ্চিন্তা এবং সকল প্রকার কলহ বিবাদ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।।

(১০). এইদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে মঙ্গল আরতি করতে হয়। মা এবং বোনেরা এই সময় রজচক্রের মধ্যে থাকলেও একাদশী পালন করতে পারবেন।।

(১১). একাদশীর দিন ক্ষৌরকর্মাদি নিষিদ্ধ।।

(১২). অহংকার বশত একাদশী ব্রত ভঙ্গ করলে তাকে নরক যন্ত্রনা ভোগ করতে হয়।

(১৩). শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তদের একাদশীর দিন নূন্যতম পঁচিশ মালা জপ করতে বলেছেন।।

(১৪). অনাহারে থেকে হরিনাম করে, হরিকথা বলে ও রাত্রি জাগরণ করে মালা জপ করতে হয়।।

(১৫). একাদশীতে শ্রাদ্ধ আসলে তা এইদিন না করে দ্বাদশীতে শ্রাদ্ধ করা উচিৎ।।

(১৬). এই উপাচার শুধু বৈষ্ণবের জন্য নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বী সকলেরই এই ব্রত পালন করা অবশ্য কর্তব্য।

(১৭). পরিশেষে, বলব, একাদশীর উপবাস মানে কি। লুনার সাইকেলের এগারতম দিনে হয় এই উপবাস। উপ মানে হলো নিকটে আর বাস মানে হলো অবস্থান করা। অর্থাৎ, শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষের এগারতম দিনে পরমেশ্বর ভগবানের সাথে অবস্থান।। সুতরাং, এই দিন শুধু না খেয়ে থাকলেই হবে না, ভগবানের নাম জপ করতে হবে ও সকল পাপাচার থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

একাদশী কী?
***********
শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ আদি নবধা ভক্তির পরই দশম ভক্ত্যাঙ্গরূপে একাদশীর স্থান। এই তিথিকে হরিবাসর বলা হয়। তাই ভক্তি লাভেচ্ছু সকলেই একাদশী ব্রত পালনের পরম উপযোগীতার কথা বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। একাদশী তিথি সকলের অভীষ্ট প্রদানকারী। এই ব্রত পালনে সমস্ত প্রকার পাপ বিনষ্ট, সর্বসৌভাগ্য ও শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধান হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আট থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত যেকোন ব্যক্তিরই ভক্তিসহকারে পবিত্র একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য।

সঙ্কটজনক অবস্থা বা জন্মমৃত্যুর অশৌচে কখনও একাদশী পরিত্যাগ করতে নেই। একাদশীতে শ্রাদ্ধ উপস্থিত হলে সেইদিন না করে দ্বাদশীতে শ্রাদ্ধ করা উচিত। শুধু বৈষ্ণবেরাই নয়, শিবের উপাসক, সূর্য-চন্দ্র-ইন্দ্রাদি যেকোন দেবোপাসক, সকলেরই কর্তব্য একাদশী ব্রত পালন করা। দুর্লভ মানবজীবন লাভ করেও এই ব্রত অনুষ্ঠান না করলে বহু দুঃখে-কষ্টে চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করতে হয়।

অহংকারবশত একাদশী ব্রত ত্যাগ করলে যমযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। যে ব্যাক্তি এই ব্রতকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, জীবিত হয়েও সে মৃতের সমান। কেউ যদি বলে “একাদশী পালনের দরকারটা কি?” সে নিশ্চয় কুন্তিপাক নরকের যাত্রী। যারা একাদশী পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে শনির কোপে তারা বিনষ্ট হয়। একাদশীকে উপেক্ষা করে তীর্থ স্থান আদি অন্য ব্রত পালনকারীর অবস্থা গাছের গোড়া কেটে পাতায় জল দানের মতোই।

একাদশী বাদ দিয়ে যারা দেহধর্মে অধিক আগ্রহ দেখায়, ধর্মের নামে পাপরাশিতে তাদের উদর পূর্ণ হয়। কলহ-বিবাদের কারণেও একাদশী দিনে উপবাস করলে অজ্ঞাত সুকৃতি সঞ্চিত হয়। পুণ্যপ্রদায়িনী সর্বশ্রেষ্ঠ এই ব্রত শ্রীহরির অতি প্রিয়। একাদশী ব্রত পালনে যে ফল লাভ হয়, অশ্বমেধ, রাজসূয় ও বাজপেয় যজ্ঞদ্বারাও তা হয় না। দেবরাজ ইন্দ্রও যথাবিধি একাদশী পালনকারীকে সম্মান করেন। একাদশী ব্রতে ভাগবত শ্রবণে পৃথিবী দানের ফল লাভ হয়। অনাহার থেকে হরিনাম, হরিকথা, রাত্রিজাগরণে একাদশী পালন করা কর্তব্য।

কেউ যদি একাদশী ব্রতে শুধু উপবাস করে তাতে বহু ফল পাওয়া যায়। শুদ্ধ ভক্তেরা এই দিনে একাদশ ইন্দ্রিয়কে শ্রীকৃষ্ণে সমর্পণ করেন। একাদশীতে শস্যমধ্যে সমস্ত পাপ অবস্থান করে। তাই চাল, ডাল, আটা, ময়দা, সুজি, সরিষা আদি জাতীয় খাদ্যদ্রব্য একাদশী দিনে বর্জন করা উচিত। নির্জলা উপবাসে অসমর্থ ব্যক্তি জল, দুধ, ফল-মূল, এমনকি আলু, পেপে, কলা, ঘিয়ে বা বাদাম তেল অথবা সূর্যমুখী তেলে রান্না অনুকল্প প্রসাদ রূপে গ্রহণ করতে পারেন। রবিশস্য (ধান, গম, ভুট্রা, ডাল ও সরিষা) ও সোয়াবিন তেল অবশ্যই বর্জনীয়। দশমী বিদ্ধা একাদশীর দিন বাদ দিয়ে দ্বাদশী বিদ্ধা একাদশী ব্রত পালন করতে হয়।

একাদশীতে সূর্যোদয়ের পূর্বে বা সুর্যোদয়কালে (১ঘন্টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে) যদি দশমী স্পর্শ হয়, তাকে দশমী বিদ্ধা বলে জেনে পরদিন একাদশীব্রত পালন করতে হয়। মহাদ্বাদশীর আগমন হলে একাদশীর উপবাস ব্রতটি মহাদ্বাদশীতেই করতে হয়। একাদশী ব্রত করে পরের দিন উপযুক্ত সময়ে শস্যজাতীয় প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করতে হয়। শাস্ত্রবিধি না মেনে নিজের মনগড়া একাদশী ব্রত করলে কোন ফল লাভ হয় না। দৈববশত যদি কখনও একাদশী ভঙ্গ হয়ে যায়, তবে ক্ষমা ভিক্ষা করে পুনরায় ব্রত পালন করতে হয়।

একাদশী পালনের নিয়মাবলী
**************************
ভোরে শয্যা ত্যাগ করে শুচিশুদ্ধ হয়ে শ্রীহরির মঙ্গল আরতিতে অংশগ্রহণ করতে হয়। শ্রীহরির পাদপদ্মে প্রার্থনা করতে হয়, “হে শ্রীকৃষ্ণ, আজ যেন এই মঙ্গলময়ী পবিত্র একাদশী সুন্দরভাবে পালন করতে পারি, আপনি আমাকে কৃপা করুন।” একাদশীতে গায়ে তেল মাখা, সাবান মাখা, পরনিন্দা-পরচর্চা, মিথ্যাভাষণ, ক্রোধ, দিবানিদ্রা, সাংসারিক আলাপাদি বর্জনীয়। এই দিন গঙ্গা আদি তীর্থে স্নান করতে হয়। মন্দির মার্জন, শ্রীহরির পূজার্চনা, স্তবস্তুতি, গীতা-ভাগবত পাঠ আলোচনায় বেশি করে সময় অতিবাহিত করতে হয়।

এই তিথিতে গোবিন্দের লীলা স্মরণ এবং তাঁর দিব্য নাম শ্রবণ করাই হচ্ছে সর্বোত্তম। শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তদের একাদশীতে পঁশিচ মালা বা যথেষ্ট সময় পেলে আরো বেশি জপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একাদশীর দিন ক্ষৌরকর্মাদি নিষিদ্ধ। একাদশী ব্রত পালনে ধর্ম অর্থ, কাম, মোক্ষ আদি বহু অনিত্য ফলের উল্লেখ শাস্ত্রে থাকলেও শ্রীহরিভক্তি বা কৃষ্ণপ্রেম লাভই এই ব্রত পালনের মুখ্য উদ্দেশ্য। ভক্তগণ শ্রীহরির সন্তোষ বিধানের জন্যই এই ব্রত পালন করেন। পদ্মপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, বরাহপুরাণ, স্কন্দপুরাণ ও বৈষ্ণবস্মৃতিরাজ, শ্রীহরিভক্তিবিলাস আদি গ্রন্থে এ সকল কথা বর্ণিত আছে।

বছরে ছাব্বিশটি একাদশী আসে। সাধারণত বার মাসে চব্বিশটি একাদশী। এইগুলি হচ্ছে-

১. উৎপন্না একাদশী - ২. মোক্ষদা একাদশী
৩. সফলা একাদশী , - ৪. পুত্রদা একাদশী
৫. ষটতিলা একাদশী - ৬. জয় একাদশী
৭. বিজয়া একাদশী - ৮. আমলকী একাদশী
৯. পাপমোচনী একাদশী - ১০. কামদা একাদশী
১১. বরুথিনী একাদশী - ১২. মোহিনী একাদশী
১৩. অপরা একাদশী - ১৪. নির্জলা একাদশী
১৫. যোগিনী একাদশী - ১৬. শয়ন একাদশী
১৭. কামিকা একাদশী - ১৮. পবিত্রা একাদশী
১৯. অন্নদা একাদশী - ২০. পরিবর্তিনী বা পার্শ্ব একাদশী
২১. ইন্দিরা একাদশী - ২২. পাশাঙ্কুশা একাদশী
২৩. রমা একাদশী - ২৪. উত্থান একাদশী

কিন্তু যে বৎসর পুরুষোত্তমাস, অধিমাস বা মলমাস থাকে, সেই বৎসর পদ্মিনী ও পরমা নামে আরও দুটি একাদশীর আবির্ভাব হয়। যারা যথাবিধি একাদশী উপবাসে অসমর্থ অথবা ব্রতদিনে সাধুসঙ্গে হরিকথা শ্রবণে অসমর্থ, তারা এই একাদশী মাহাত্ম্য পাঠ বা শ্রবণ করলে অসীম সৌভাগ্যের অধিকারী হবেন।

একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য
*******************
ভদ্রশীলের কাহিনীঃ পুরাকালে গালব নামে এক মহান মুনি নর্মদা নদীর তীরে বাস করতেন। তাঁর ভদ্রশীল নামে এক বিষ্ণুভক্ত পুত্র ছিল। সে ছোটবেলা থেকে বিষ্ণুমূর্তি বানিয়ে পূজা করত। বালক হয়েও লোককে বিষ্ণুপূজার উপদেশ ও একাদশী পালন করতে নির্দেশ দিত, নিজেও পালন করত। পিতা একদিন জিজ্ঞাসা করেন। আচ্ছা ভদ্রশীল! তুমি অতি ভাগ্যবান। তুমি বলো তো, রোজ শ্রীহরির পূজা করা, একাদশ তিথি পালন করা- এরূপ ভক্তি কিভাবে তোমার উদয় হল?”

উত্তরে ভদ্রশীল বলতে লাগল- বাবা! আমি পূর্বজন্মের কথা ভুলিনি। আগের জন্মে যমপুরীতে গিয়েছিলাম। সেখানে যমরাজ আমাকে এ বিষয়ে উপদেশ করেছিলেন। পিতা অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে বললেন- ভদ্রশীল, তুমি পূর্বে কে ছিলে? যমরাজ তোমাকে কি বলেছিল, সব কিছুই আমাকে বলো। ভদ্রশীল বলল- বাবা! আমি পূর্বে চন্দ্রবংশের একা রাজা ছিলাম। তখন আমার নাম ছিল ধর্মকীর্তি।

ভগবান দত্তাত্রেয় আমার গুরু ছিলেন। নয় হাজার বছর আমি পৃথিবী শাসন করেছিলাম। বহু ধর্ম-কর্ম করেছিলাম। পরে যখন আমার অনেক ধনসম্পদ হল তখন আমি পাগলের মতো অধর্ম করতে লাগলাম। কতগুলি পাষন্ড ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করতাম। আর কেবল কথা আলাপের ফলেই আমার বহু দিনের অর্জিত পুণ্য নষ্ট হয়ে গেল। আমিও পাষন্ডী হলে গেলাম। সব প্রজারাও অধর্ম করতে লাগল। প্রজাদের প্রত্যেকের অধর্মের ছয় ভাগের এক ভাগ রাজাকেই গ্রহণ করতে হয়। তারপর একদিন আমি সৈন্যদের সঙ্গে বনে মৃগয়া করতে গেলাম।

বহু পশু বধ করলাম। তারপর আমি ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর ও ক্লান্ত হয়ে রেবা নদীর তীরে গেলাম। প্রখর রোদে তপ্ত হয়ে নদীতে স্নান করলাম। কিন্তু তারপর আমার কোন সেনাকে দেখতে না পেয়ে চিন্তিত ও অতিশয় ক্ষুধার্ত হলাম। অন্ধকার হয়ে এল। আমি পথ ঠিক করতে পারলাম না। তারপর এক জায়গায় গিয়ে কয়েকজন তীর্থবাসীকে দেখলাম। জানলাম তারা একাদশী ব্রত করেছে। তারা সারাদিন কিছু খায়নি, জলপান পর্যন্তও করেনি। আমি তাদের সঙ্গে পড়ে রাত্রি জাগরণ করলাম। কিন্তু ক্লান্তি ক্ষুধা পিপাসায় কাতর হয়ে রাত্রি জাগরণের পর আমার মৃত্যু হল।

তখন দেখলাম বড় বড় দাঁত বিশিষ্ট দুজন ভয়ংকর যমদুত এসে আমাকে দড়ি দিয়ে বাঁধল। আর ক্লেশময় পথ দিয়ে আমাকে টেনে নিয়ে চলল। তারপর যমপুরীতে পৌছালাম। যমরাজও দেখতে তখন ভয়ংকর। যমরাজ চিত্রগুপ্তকে ডেকে আমাকে দেখিয়ে বললেন-পন্ডিত! এই ব্যক্তির যেরূপ শিক্ষাবিধান তুমি তা বলো। চিত্রগুপ্ত কিছুক্ষণ বিচার করে ধর্মরাজ যমকে বললেন-হে ধর্মপাল! এই ব্যক্তি পাপকর্মেই রত ছিল সত্য, কিন্তু তবুও একাদশীর উপবাসের জন্য সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়েছে।

তীর্থবাস ও রাত্রি-জাগরণও করেছে। তাই ওর সব পাপ নষ্ট হয়েছে। চিত্রগুপ্ত এই কথা বললে যমরাজ খুব চমকে উঠলেন, তিনি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ভুমিতে দন্ডবৎ প্রণাম জানিয়ে আমাকে পূজা করতে লাগলেন। তারপর তাঁর দূতদের আহ্বান করে বলতে লাগলেন- হে দূতগণ! তোমরা ভাল করে আমার কথা শোনো। তোমাদের মঙ্গলজনক কথা আমি বলছি। যে সব মানুষ মর্ধরত, তোমরা তাদেরকে এখানে আনবে না। যাঁরা শ্রীহরির ভক্ত, পবিত্র, একাদশীব্রত পরায়ণ, জিতেন্দ্রিয় এবং যাঁদের মুখে সর্বদা ‘হে নারায়ণ, হে গোবিন্দ, হে কৃষ্ণ, হে হরি, উচ্চারিত হয়, যাঁরা সকল লোকের হিতকারী ও শান্তিপ্রিয়, তাদেরকে তোমরা দূর থেকেই পরিত্যাগ করবে।

কারণ, সেই সব ব্যক্তিকে আমার শিক্ষা দেবার অধিকার নেই। যাঁরা সর্বদা হরিনামে আসক্ত, সর্বদা হরিকথা শ্রবণে আগ্রহী, যাঁরা পাষন্ডগণের সঙ্গ করে না, ভক্তদের শ্রদ্ধা করে, সাধুসেবা অতিথিসেবা পরায়ণ, তাঁদেরকে পরিত্যাগ করবে।

হে দূতগণ! তোমরা শুধু তাদেরকেই আমার কাছে ধরে আনবে যারা উগ্রস্বভাব, ভক্তদের অনিষ্ট করে, লোকদের সঙ্গে কলহ বাধায়, একাদশী ব্রত পালনে একান্ত পরাঙ্মুখ, পরনিন্দুক, ব্রাহ্মণের ধনে লোভ, পরতন্ত্র, হরিভক্তি বিমূখ, যারা ভগবদ্ বিগ্রহ দেখে শ্রদ্ধাবত হয় না, মন্দির দর্শনে যাদের আগ্রহ নেই, অন্যের অপবাদ করে বেড়ায়, তাদের সবাইকে বেঁধে এখানে নিয়ে আসবে।’

যমরাজের মুখে এসব কথা শুনে আমি পাপকর্মের জন্য অত্যন্ত অনুশোচনা করতে থাকি। তারপর আমি সূর্যের মতো উজ্জ্বল দেহ লাভ করলাম। একটি দিব্য বিমানে চড়িয়ে আমাকে যমরাজ দিব্যলোকে পাঠিয়ে দিলেন। কোটি কল্প সেখানে অবস্থান করার পর এই পৃথিবীতে এসে সদাচারী মহান ব্রাহ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার জাতিস্মরতা হেতু এসব ঘটনা আমার হৃদয়ে জাগ্রত আছে।

আমি পূর্বে একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য জানতাম না। অনিচ্ছাকৃতভাবে যখন একাদশী পালনে এত ফল লাভ করেছি। তাহলে ভক্তি সহকারে একাদশী ব্রত উপবাস করলে কি প্রকার ফল লাভ হয় তা জানি না। তাই বৈকুন্ঠধামে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছায় আমি পবিত্র একাদশীব্রত ও প্রতিদিন বিষ্ণুপূজা করব এবং অন্যদেরও এসব পালন করতে উৎসাহী করব। পুত্রের কথা শুনে গালব মুনি অতি সন্তুষ্ট হয়ে ভাবলেন, আমার বংশে এই পরম বিষ্ণুভক্তের জন্ম হয়েছে, তাই আমার জন্ম সফল, আমার বংশও পবিত্র হল।

"জয় শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
শ্রী অদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ।"

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।"

🌻🌿 #পার্শ্ব_একাদশী_ব্রত_মাহাত্ম্য_কথা🌻
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে ভাদ্রমাসের শুক্লপক্ষের পার্শ্ব একাদশী মাহাত্ম্য সম্পর্কে যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করলেন, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কী এবং এই ব্রত পালনেই কি পুণ্য লাভ হয়? উত্তরে-ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে ধর্মরাজ মহাপুণ্যপ্রদা, সমস্ত পাপহারিনী এবং মুক্তিদায়িনী এই একাদশী বাজপেয় যজ্ঞ থেকেও বেশি ফল দান করে। যে ব্যক্তি এই তিথিতে ভক্তি সহকারে ভগবান শ্রীবামন দেবের পূজা করেন তিনি ত্রিলোক পূজিত হন।

পদ্মফুলে পদ্মলোচন শ্রীবিষ্ণুর অর্চনকারী বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হন। শায়িত ভগবান এই তিথিতে পার্শ্ব পরিবর্তন করেন। তাই এর নাম পার্শ্ব একাদশী বা পরিবর্তিনী একাদশী। যুধিষ্ঠির মহারাজ বললেন, হে জনার্দন আপনার এসকল কথা শুনেও আমার সন্দেহ পূর্ণরূপে দূর হয়নি। হে দেব আপনি কিভাবে শয়ন করেন, কীভাবেই বা পার্শ্ব পরিবর্তন করেন, আর চার্তুমাস্য ব্রত পালনকারীর কি কর্তব্য এবং আপনার শয়নকালে লোকের কি করণীয়? এসব বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আমাকে বলুন। আর কেনই বা দৈত্যরাজ বলিকে বেঁধে রাখা হয়েছিল, তা বর্ণনা করে আমার সকল সন্দেহ দূর করুন।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে রাজন দৈত্যকুলে আবির্ভূত প্রহ্লাদ মহারাজের পৌত্র “বলি” আমার অতি প্রিয় ভক্ত ছিল। সে আমার সন্তুষ্টি বিধানের জন্য গো-ব্রাহ্মণ পূজা ও যজ্ঞাদি ব্রত সম্পাদন করত। কিন্তু ইন্দ্রের প্রতি বিদ্বেষবশত সকল দেবলোক সে জয় করে নেয়। তখন দেবতাগণসহ ইন্দ্র আমার শরণপন্ন হয়েছিল। তাদের প্রার্থনায় আমি ব্রাহ্মণবালক বেশে বামনরূপে বলি মাহারাজের যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হলাম। তার কাছে আমি ত্রিপাদ ভূমিমাত্র প্রার্থনা করেছিলাম। সেই তুচ্ছ থেকে আরও শ্রেষ্ঠ কিছু সে আমাকে দিতে চাইলেও আমি কেবল ত্রিপাদ ভূমি গ্রহণেই স্থির থাকলাম।

দৈত্যগুরু শুত্রুাচার্য আমাকে ভগবানরূপে জানতে পেরে বলি মহারাজকে ঐ দান দিতে নিষেধ করল। কিন্তু সত্যাশ্রয়ী বলি গুরুর নির্দেশ অমান্য করে আমাকে দান দিতে সংকল্প করল। তখন আমি এক পদে নীচের সপ্তলোক, আরেক পদে উপরের সপ্তভুবন অধিকার করে নিলাম। পুনরায় তৃতীয় পদের স্থান চাইলে সে তার মাথা পেতে দিল। আমি তার মস্তকে তৃতীয় পদ স্থাপন করলাম। তার আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে আমি সর্বদা তার কাছে বাস করার প্রতিশ্রুতি দিলাম।

ভাদ্র শুক্লপক্ষীয়া একাদশীতে ভগবান শ্রীবামন দেবের এক মূর্তি বলি মহারাজের আশ্রমে স্থাপিত হয়। দ্বিতীয় মূর্তি ক্ষীর সাগরে অনন্তদেবের কোলে শয়ন একাদশী থেকে উত্থান একাদশী পর্যন্ত চারমাস শয়ন অবস্থায় থাকেন।'' এই চারমাস যে ব্যক্তি নিদিষ্ট নিয়ম, ব্রত বা জপ তপ ব্যতীত দিনযাপন করে, সেই মহামুর্খ জীবিত থাকলেও তাকে মৃত বলে জানতে হবে।''

শ্রাবণ মাসে শাক, ভাদ্র মাসে দই, আশ্বিনে দুধ, কার্তিক মাসে মাসকালাই বর্জন করে এই চারমাস শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করতে হয়। প্রতিটি একদশী ব্রত যথাযথ পালন করতে হয়। শায়িত ভগবান পার্শ্ব পরিবর্তন করেন বলে এই একাদশী মহাপুণ্য ও সকল অভীষ্ট প্রদাতা। এই একাদশী ব্রত পালনে এক সহস্র অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়।

একাদশী ব্রত পালনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল উপবাস করা নয়, নিরন্তর শ্রীভগবানের স্মরণ, মনন ও শ্রবন কীর্ত্তনের মাধ্যমে একাদশীর দিন অতিবাহিত করতে হয়। শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তদের এই দিন পঁচিশ মালা বা যতেষ্ট সময় পেলে আরও বেশী জপকরার নির্দেশ দিয়েছেন। একাদশী পালনের সময় পরনিন্দা, পরিচর্চা, মিথ্যা ভাষন, ক্রোধ, দুরাচারী, স্ত্রী সহবাস সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
------------------------------------------------------------------------------
🌿🍏"শুদ্ধ ভাবে একাদশী🍏🌿
🌿🍏পালনের নিয়মাবলী"🍏🌿
➿➿➿➿➿➿➿➿➿
⚜️সঠিক ও শুদ্ধ ভাবে একাদশী পালনের নিয়ম আছে। একাদশীতে কি কি খাবারে নিষেধাজ্ঞা আছে। একাদশী পারনের নিয়ম কি, একাদশী ব্রতের মাহাত্ব্য কি, কোন কোন নিয়ম পালন করতেই হবে, সেই নিয়ম কি কি, এবং একাদশী না থাকলে কি করতে হবে। তাহলে জেনে নেই সেই সব নিয়ম, নিষেধ গুলি কি কি।
💞১ সমর্থ পক্ষে দশমীতে একাহার, একাদশীতে নিরাহার, ও দ্বাদশীতে একাহার করবে।
💞২ তা হতে অসমর্থ পক্ষে শুধু মাত্র একাদশীতে অনাহার করতে হয়।
💞৩ যদি উহাতেও অসমর্থ হয়, একাদশীতে পঞ্চ রবিশস্য বর্জন করবে। ফল মুলাদি অনুকল্প গ্রহণের বিধান রয়েছে।
🍃🌹🍃সমর্থ পক্ষে রাত্রি জাগরণের বিধি আছে। মহান গোস্বামীগন ও আচার্যবৃন্দের অনুমোদিত তালিকা বা পঞ্জিকায় যে সমস্ত একাদশী নির্জলা ব্রত পালনের জল ব্যতীত, পালনের নির্দেশ প্রদান করেছেন , সেগুলি সেই মতে করলে সর্বোত্তম হয়। নিরন্তর কৃষ্ণ ভজনায় থেকে নিরাহার থাকতে।
🍇🥭একান্ত অপারগ হলে নির্জলা সহ অন্যান্য একাদশীতে কিছু সবজি, ফলমূল গ্রহণ করতে পারবে। যেমন, গোল আলু, মিষ্টি আলু, চালকুমড়ো, পেঁপে, টমেটো, ফুলকপি ইত্যাদি সবজি, ঘি অথবা বাদাম তেলে রান্না করে ভগবানকে উৎসর্গ করে, আহার করতে পারেন। কাঁচা হলুদ অথবা ঘরে বানানো গুরা হলুদ, মরিচ, লবন ব্যবহার্য।
🫐🍉আবার অন্যান্য আহার্য যেমন, দুধ, কলা, আপেল, আঙুর, আনারস, আঁখ, আমড়াশস্য তরমুজ, বেল, নারিকেল, মিষ্টি , আলু, বাদাম, লেবুর শরবত। ইত্যাদি ফলমূল খাওয়া যায়।
🍒🍍একাদশীতে পাঁচ প্রকার রবিশস্য গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছেঃ
🍒🥥১ ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন, চাল, মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েস, খিচুড়ি ,চালের পিঠা, খৈ, ইত্যাদি।
🍒🥥২ গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন, আটা, ময়দা, সুজি, বেকারির বিস্কুট, বা সকল প্রকার বিস্কুট, বেকারির রুটি, হরলিক্স জাতীয় ইত্যাদি।
🍒🥥৩ যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন, ছাতু, খই, রুটি ইত্যাদি।
🍒🥥৪ ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন, মুগ, মসুরী, মাসকলাই, খেসারী, ছোলা, অড়হর, ফেনল, মটরশুঁটি, বরবটি, সিম ইত্যাদি।
🍒🥥৫ সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, তিল তেল, ইত্যাদি।
🍓🍏🍎উপরোক্ত পঞ্চ রবি শস্য যে কোনো একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয়। উল্লেখ্য যারা সাত্বিক আহারী নন, এবং চা, বিড়ি, সিগারেট, পান, কফি, নেশা গ্রহণ করেন একাদশী ব্রত পালনের সময়কাল পর্যন্ত এই সব গ্রহণ না করাটাই ভালো।
💢একাদশী ব্রত মাহাত্ব্য💢
°°°°°°°′°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
🍋🍊🍎একাদশী করলে যে কেবল মাত্র নিজের জীবন এর সদগতি হয় তা নয়, একাদশী ব্যক্তির প্রয়াত পিতা মাতা নিজ কর্ম দোষে নরকবাসী হন, তবে সেই পুত্রই পিতা মাতাকে নরকের থেকে উদ্ধার করতে পারবে।
🍌🍋🍎একাদশীতে অন্ন ভোজন করলে যেমন নরকবাসী হবে, তেমনই অন্যকে অন্নভোজন করালেও নরকবাসী হবে। কাজেই একাদশী ব্রত পালন করা আমাদের সকলের কর্তব্য।
💢একাদশী পারন💢
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
🍇🍏একাদশী তিথির পরদিন উপবাস ব্রত ভাঙার পর, নিয়ম একাদশী পারনের অর্থাৎ, উপবাসের পরদিন সকালে যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া থাকে, সেই সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশস্য ভগবানকে নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করা একান্ত ভাবে দরকার। নতুবা একাদশীর কোনো ফল লাভ হবে না।
🍑🥭🍌একাদশী ব্রত পালনের একমাত্র প্রকৃত উদ্দেশ্যে কেবল উপবাস করা নয়। নিরন্তর ভগবান এর নাম স্মরণ, মনন, ও শ্রবন কীর্তনের মাধ্যমে একাদশীর দিন অতিবাহিত করতে হয়। এই দিন যতোটুকু সম্ভব উচিত একাদশী পালনে পরনিন্দা, পরচর্চা, মিথ্য ভাষণ, ক্রোধ, দুরাচারী, স্ত্রী সহবাস, সম্পুর্ন রূপে নিষিদ্ধ। নিন্মক্ত বিষয় গুলোর প্রতি দৃষ্টি বাঞ্ছনীয়।
🫐🍏🍎একাদশী ব্রতের আগের দিন রাত ১২ টার আগেই অন্ন ভোজন সম্পন্ন করে নিলে সর্বোত্তম। ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাত ব্রাশ করে দাত ও মুখে লেগে থাকা অন্ন পরিস্কার করে নেওয়া সকালে উঠে শুধু মুখ কুলি ও স্নান করতে হয়। একাদশীর সময় সবজি কাটার থেকে সতর্ক থাকতে হবে। যেনো কোথাও কেটে না যায়।
🍉🍇🍊একাদশীতে রক্ত ক্ষরণ বর্জনীয়। দাত ব্রাশ করার সময় কালেও রক্ত ক্ষরণ হয়ে থাকে। তাই আগের দিনই দাত ব্রাশ করা সর্বোত্তম।
🍈🍉🍋 একাদশীতে চলমান একাদশীর মাহাত্ম্য ভগবদ্ভক্তের শ্রীমুখ হতে শ্রবণ অথবা সম্ভব না হলে নিজেই ভক্তি সহকারে পাঠ করতে হয়।
🍍🥥🍉যারা একাদশীতে একাদশীর রান্না করেন তাদের পাঁচ ফোড়ন ব্যবহার থেকে সতর্ক থাকা উচিত। কারন পাঁচ ফোঁড়নে সরিষার তেল, তিল থাকতে পারে, যা বর্জনীয়।
🍎🍐🍊একাদশীতে শরীরে প্রসাধনীর ব্যবহার নিষিদ্ধ। তৈল, সুগন্ধী সাবান, শ্যাম্পু, ইত্যাদি বর্জনীয়। সকল প্রকার ক্ষৌরকর্ম শেভ, চুল, নখ ইত্যাদি কাটা নিষিদ্ধ।
🫐🍈🍎একাদশী না থাকলে কি করবো তাও জেনে নেই। একাদশী না থাকা কালীন আমরা যে খাবার গ্রহণ করবো, অর্থাৎ খাদ্য শস্য গ্রহণ করবো, তা আমরা খাবো না, তা খাবার নয় পাপ ভক্ষণ করবো। কারন মাত্র ১টি খাদ্য শস্যের মধ্যে চার ধরনের পাপ থাকে। পাপ গুলো কি কি দেখি।
🏵️১। মাতৃ হত্যার পাপ।
🏵️২। পিতৃ হত্যার পাপ।
🏵️৩। ব্রহ্ম হত্যার পাপ।
🏵️৪। গুরু হত্যার পাপ।
🍇🍉🍊আমরা মাত্র একটি দানা নয় প্রতি গ্রাসে হাজার হাজার দানা ভক্ষণ করবো। ভেবে দেখতে হবে, যে পাপ কাজ আমি করি নি সেই পাপ কাজের ভাগীদার আমাকে হতে হবে।
🍍🍏🍉যদি আমরা একাদশীর সময় খাদ্যশস্য গ্রহণ করি। আর ঠিক তেমনই নিজে খেলে যে পাপ হবে অন্যকে খাওয়ালেও সেই একই পাপ তাই একজন সনাতনী হিসাবে আমাদের একাদশী থাকা উচিত না অনুচিত, তাই আমরা নিজেরাই বিচার করে দেখতে পারি।

একাদশী সংকল্প মন্ত্রঃ ---
"একাদশ্যাং নিরাহারঃ স্হিত্বা অহম্ অপরেহহনি।
ভোক্ষ্যামি পুন্ডরীকাক্ষ স্মরনং মে ভবাচ্যুত।।

অনুবাদ: হে পুন্ডরীকাক্ষ হে অচ্যূত আমি একাদশীর দিন উপবাস পূর্বক এই ব্রত পালন করার জন্য আপনার স্মরণ গ্রহণ করছি।

একাদশীর পারণ মন্ত্রঃ ---

”অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য ব্রতেনানেন কেশব।
প্রসীদ সুমুখ নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদো ভব॥” (বৃ: না: পু: ২১/২০)

অনুবাদ: হে কেশব! আমি অজ্ঞানরূপ অন্ধকারে নিমজ্জিত হইয়াছি, হে নাথ! এই ব্রত দ্বারা আমার প্রতি প্রসন্ন হইয়া আমাকে জ্ঞানরূপ চক্ষু প্রদান করুন।

"জয় শ্রীশ্রী একাদশীর জয়"
🌿"হরে কৃষ্ণ"🌿
●●●●●●●●●●
-----------------------------------------------------------------------------
পোস্টটি ভাল লাগে অবশ্যই স-কলকে শেয়ার করবেন।
প্রনিপাত

সদা সর্বদা শ্রী শ্রী রাধা ও কৃষ্ণের পাদপদ্মের কথা স্মরণ করুন, তাহলে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা আপনার জন্য বরাদ্দকৃত কার্য সম্পাদন করতে কোনও অসুবিধা অনুভব করতে হবে না।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণের কৃপার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে হ

Address

শ্রী রাধেশ্যাম হাউজ
Gaffargaon
2230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী রাধেশ্যাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to শ্রী রাধেশ্যাম:

Share