07/04/2026
অসুস্থ থাকার সময়
"অসুস্থ হলে এই দশটি ‘সংজ্ঞা (ধ্যান বিষয়)’ চিন্তা করলে, হৃদয়ে স্মরণ করলে সুস্থ হয়ে উঠবে" — এ কথা বলা হয়েছে। এই দশটি সংজ্ঞা হলো :
(১) অনিচ্চ সংজ্ঞা (অনিত্য সংজ্ঞা) — সবকিছু চিরস্থায়ী নয়, এই চিন্তা।
(২) অনত্তা সংজ্ঞা — কোনো কিছুতেই "আমি", "আমার" বা নিজের মালিকানার কিছু নেই, এই ভাবনা।
(৩) অসুব সংজ্ঞা — এই দেহটা অপরিষ্কার, বিকারযুক্ত এবং জঘন্য বস্তু — এই উপলব্ধি।
(৪) আদীনব সংজ্ঞা — দেহে রোগ-ব্যাধি, কষ্ট থাকা স্বাভাবিক ব্যাপার — এই উপলব্ধি। এটি উপলব্ধি করে দেহের দোষত্রুটি ও সমস্যার প্রকৃতি বোঝা।
(৫) পহান সংজ্ঞা — খারাপ, পাপ চিন্তাগুলো বর্জন করা উচিত — এই মনোভাব। মানুষ ভালো-মন্দ নানা চিন্তা করে। সুখকর অনুভূতি পেলে আসক্তি, দুঃখ পেলে ঘৃণা জন্মায়। এই খারাপ চিন্তাগুলো ত্যাগ করতে হবে।
(৬) বিরাগ সংজ্ঞা — এই জীবনে কোনো আসক্তি না রেখে বিমুখ হওয়া।
(৭) নিরোধ সংজ্ঞা — এই দুঃখময় জীবনের সম্পূর্ণ নিঃশেষ করা যায় — এই বিশ্বাস।
(৮) সব্বলোক আনভিরত সংজ্ঞা — এই জগতের মধ্যে প্রকৃত সুখ বলে কিছু নেই — এই উপলব্ধি।
(৯) সব্বসংখার অনিচ্চ সংজ্ঞা — সমস্ত সংস্কার (সংগঠিত বস্তু বা ঘটনা) অনিত্য, মায়াময় — এই উপলব্ধি।
(১০) আনাপান সতি — শ্বাস-প্রশ্বাসকে সচেতনভাবে লক্ষ্য করা ধ্যান।
যদিও এটা সংজ্ঞা নয়, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই দশটি বিষয় একত্রে ‘সংজ্ঞা দশ’ বলা হয়ে থাকে।
এই দশটি সংজ্ঞা গিরিমানন্দ ভিক্ষু অসুস্থ থাকার সময় ভগবান বুদ্ধ আনন্দ থেরকে শিখিয়ে দিলেন। আনন্দ ভিক্ষু এই দশটি সংজ্ঞা গিরিমানন্দ ভিক্ষুকে বুঝিয়ে বললেন। তিনি এই কথা শ্রবণ করতে করতেই রোগমুক্ত হলেন।