23/05/2023
🙏🙏🙏অন্নপ্রাশন🥰🥰🥰
অন্নপ্রাশন, হিন্দু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ উৎসব। দশবিধ শুদ্ধিজনক সংস্কারের অন্যতম একটি হচ্ছে অন্নপ্রাশন। অন্নের প্রাশন বা ভোজনকে অন্নপ্রাশন বলে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সন্তান যদি বালক হয়, তবে ৬ষ্ঠ কিংবা ৮ম মাসে এবং বালিকা হলে ৫ম কিংবা ৭ম মাসে অন্নপ্রাশন করতে হয়। এতে সন্তানের মামার উপস্থিতি বাঞ্ছনীয়। এ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনকে নিমন্ত্রণ করতে হয়। নিমন্ত্রিত আত্মীয়েরা আশীর্বাদ সহযোগে সাধ্যমাফিক উপহার সামগ্রী প্রদান করে।
অন্নপ্রাশন কি?🌿🌿🌿🌿🌿
হিন্দুধর্মীয় সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ উৎসব। অন্নপ্রাশন হিন্দুধর্মীয় সংস্কার বিশেষ। দশবিধ শুদ্ধিজনক সংস্কারের অন্যতম একটি হচ্ছে অন্নপ্রাশন। অন্নের প্রাশন বা ভোজনকে অন্নপ্রাশন বলে।‘অন্ন’ শব্দের সাধারণ অর্থ যে-কোনো খাবার, বিশেষ অর্থ ভাত; আর ‘প্রাশন’ শব্দের অর্থ খাওয়া। আক্ষরিকভাবে ‘অন্নপ্রাশন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘ভাত খাওয়ানো’ বা শিশুর প্রথম ভাত খাওয়া অনুষ্ঠানকেই বলা হয় অন্নপ্রাশন।। অন্যভাবে এই অনুষ্ঠানটিকে বলা হয় ‘মুখে ভাত’। মানে হচ্ছে আপনার শিশুর জীবনে মায়ের দুধের পর প্রথম শক্ত খাবারের যাত্রা শুরু। অর্থাৎ এই অনুষ্ঠানের পর থেকে শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি শক্ত খাবার দেওয়া শুরু হয়। সাধারণত বাঙালীদের মধ্যেই এই অনুষ্ঠানের চল রয়েছে এবং দেশের বেশিরভাগ অংশেই কিছুটা ব্যতিক্রমীভাবে হলেও এই অনুষ্ঠানটি করা হয়ে থাকে।
কেন করা হয় অন্নপ্রাশন?
সাধারণত সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সন্তান যদি বালক হয়, তবে ৬ষ্ঠ কিংবা ৮ম মাসে এবং বালিকা হলে ৫ম কিংবা ৭ম মাসে অন্নপ্রাশন করতে হয়। সনাতন ধর্মে বলা হয়, শিশুর দাঁত উঠার আগেই অন্নপ্রাশন করা উচিত। এর কারণ যদিও অজানা, তারপরও ধরে নেওয়া যায় যে, এসময়টাতে একটি শিশুর তরল খাবারে আর পুষ্টি সবটুকু চাহিদা পূরণ হয় না। তাকে তখন ভারী খাবার প্রয়োজন আছে বলেই সময়টাকে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ধর্মীয় বিধানে। তাছাড়া, এই ছয় মাস ইঙ্গিত দেয় যে, আপনার শিশু এখন ভারী খাবার খেতে সক্ষম। ছেলে শিশুর জন্য বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ছয় থেকে আট মাস, অর্থাৎ জোড় মাস অন্যদিকে মেয়ে শিশুর জন্য বেজোড় হিসাবে পাঁচ থেকে সাত মাস।
এই অনুষ্ঠানটি কোথায় হয়ে থাকে?
সাধারণত নিজ বাড়ি অথবা মামা/দাদার বাড়িতে অন্নপ্রাশনের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এতে সন্তানের মামার উপস্থিতি বাঞ্চনীয়। প্রচলিত আছে, মামাকেই প্রথম ভাত তুলে দিতে হয় বোনের সন্তানের মুখে। অনুষ্ঠানটির সঙ্গে ধর্মীয় কিছু বিষয় জড়িত বলে যারা এর আচার বিষয়ে জানেন, তাদের ডেকে নেওয়াই ভাল।
কিভাবে হয় এই অন্নপ্রাশন?
বাবা-মা বা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা এজন্য একটি শুভ দিনক্ষণ ঠিক করেন। বাচ্চাকে নতুন কাপড় পরানো হয়। সাধারণত শিশুর স্বাস্থ্য, কল্যাণ আর সমৃদ্ধি কামনা করে শুরুতেই ধর্মীয় কিছু আচার-আচরণ পালন করতে হয়। এরপরেই তার মুখে ভাত তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের উপরই নির্ভর করে কে এই ভাত তুলে দেবেন। মূলত এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে শিশুর জন্মের পর একটি পরিবারে নিকটজনদের পুনর্মিলনী।
ধর্মীয় বিভিন্ন আচারের মধ্যে একটি হচ্ছে, কলা পাতা বা কাঁসার বড় থালায় করে কলম, খাতা, টাকা, অলংকার, মাটি, ধান জাতীয় বেশকিছু জিনিস রেখে দেওয়া হয় এবং শিশুটির সামনে তা তুলে ধরা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, শিশুটি হাত বাড়িয়ে যে জিনিসটা ধরবে, অর্থাৎ সে যে জিনিসটার প্রতি আকৃষ্ট হবে, বড় হয়ে সে সেটাই হবে। যেমন, কোন শিশু যদি কলম-খাতা ধরে তবে বলা হয় সে বড় হয়ে লেখাপড়া জানা মানুষ হবে, বিদ্বান হবে। আবার সে যদি টাকায় হাত দেয়, তার মানে সে ব্যবসায়ী জাতীয় কিছু হবে। মাটি ধরলে জমিবাড়ির মালিক হবে। ধান ধরলে কৃষিকাজে মনোযোগী হবে। মনে রাখতে হবে, এগুলো সবই ধর্মীয় বিধান থেকে উদ্ভুত ধারণা, বাস্তবের সাথে মিল হয়তো কমই পাওয়া যাবে।
কি ধরনের খাবার সাধারণত শিশুকে দেওয়া হয়?
শিশুর প্রথম শক্ত খাবার হিসাবে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়াতে চাইলে ক্ষীর বা পায়েসই দেওয়া হয়ে থাকে। অথবা সাদা ভাত একটু ঘি দিয়ে নরম করে তারপর দেয় অনেকেই। অনেকে আবার এর সঙ্গে বিশেষভাবে রান্না করা ডালও যোগ করে থাকেন। তবে মজার বিষয় হলো, শিশুর সামনে সাধারণত মাছ, মাংস, নিরামিষসহ সব ধরনের খাবারই অল্প অল্প করে সুন্দর করে পৃথক বাটিতে সাজিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু খাওয়ানো হয় সামান্যই। পরে সেই খাবার অন্যদের মধ্যে পরিবেশন করা হয়।
কারা করেন এই অনুষ্ঠান?
প্রত্যেক শিশু জন্মের পরপরই সবারই অন্নপ্রাশন করাতে হয়। তাই সকল পরিবার এই অনুষ্ঠান করতে সচেষ্ট থাকেন। যে যার সাধ্যমত এই অনুষ্ঠান পালন করে নিজের সন্তানের অন্নপ্রাশন করাতে চান। তবে ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। সেখানে আত্মীয়-স্বজনরা নিমন্ত্রিত হয় এবং শিশুর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাপূর্বক শিশুকে উপহারসহ আশীর্বাদ করে। এ অনুষ্ঠান ঘরেও হতে পারে, কিংবা কোনো মন্দির বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও হতে পারে। সম্পূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশে এ অনুষ্ঠান করার শাস্ত্রীয় বিধান থাকলেও ইদানীং তা অনেকটা শিথিল হয়েছে; তবে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর গুরুত্ব এখনও অটুট রয়েছে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏