24/05/2021
হক কথা মাঝে মধ্যে এভাবেই বেড়িয়ে আসে।
🎙️ মিজানুর রহমান আজহারির কথাগুলোর রেফারেন্স ও হাদিসগুলো দেখে নেই।
🔻 (০১) সালাতে রুকুতে যাওয়ার আগে ও পরে রাফঊল ইয়াদায়েন করতে হবে। এবং রাফঊল ইয়াদায়েন করলে (১০) টি নেকি লাভ করা যায়।
👉 আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাত শুরু করতেন, তখন উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ’তে যাওয়ার জন্য তাকবীর বলতেন এবং রুকূ’ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই ভাবে দু’হাত উঠাতেন এবং ‘سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه’ ও ‘رَبَّناَ وَلَكَ الحَمدُ’ বলতেন। কিন্তু সিজদার সময় এরুপ করতেন না।
(সহীহ বুখারী হাঃ নং : ৭৩৫ থেকে ৭৩৯ নং হাদিস পর্যন্ত)।
👉 রাফঊল ইয়াদায়েন করলে (১০) টি নেকি লাভ করা যায়।
রাফঊল ইয়াদায়েন শরীআতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এর প্রমাণে চার শতাধিক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (সিফরুস সাআদাত, পৃ. ১৫), যা প্রায় ৫০ জন ছাহাবী দ্বারা প্রমাণিত। যাকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি স্বেচ্ছায় তা উপেক্ষা করে তাহলে সে সুন্নাতকে অমান্য করল (ছহীহ ইবনু খুযায়মা, হা/১৯৭; সিলসিলা ছহীহা, হা/২১৩০)। উল্লেখ্য যে, ছালাতে রাফঊল ইয়াদায়েনের জন্য ১০টি করে নেকী বেশি হয় (সিলসিলা ছহীহা, হা/৩২৮৬)।
উৎস: মাসিক আল ইতিছাম জানুয়ারি 2021
আব্দুল্লাহ্ বিন আহমাদ তাঁর পিতা ইমাম আহমাদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, উক্ববাহ্ বিন আমের হতে বর্ণনা করা হয়, তিনি নামাযে ‘রফয়ে য়্যাদাইন’ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘নামাযীর জন্য প্রত্যেক ইশারা (হাত তোলার) বিনিময়ে রয়েছে ১০টি করে নেকী।’ (মাসাইল ৬০পৃ:)
আল্লামা আলবানী বলেন, হাদীসে ক্বুদসীতে উক্ত কথার সমর্থন ও সাক্ষ্য মিলে; “যে ব্যক্তি একটি নেকী করার ইচ্ছা করার পর তা আমলে পরিণত করে, তার জন্য ১০ থেকে ৭০০ নেকী লিপিবদ্ধ করা হয়---।” (বুখারী, মুসলিম, সহিহ তারগিব ১৬ নং, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ৫৬ ও ১২৮-১২৯পৃ:) যেহেতু ‘রফয়ে য়্যাদাইন’ হল সুন্নাহ্। আর সুন্নাহর উপর আমল নেকীর কাজ বৈকি?
উৎস: সালাতে মুবাশ্বির
লেখক: শাইখ আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী।
🔻 (০২) জোড়ে আমিন বলার ফজিলত।
👉 আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইমাম যখন ‘আমীন’ বলেন, তখন তোমরাও ‘আমীন’ বলো। কেননা, যার ‘আমীন’ (বলা) ও মালাইকার ‘আমীন’ (বলা) এক হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মা‘ফ করে দেয়া হয়। ইব্নু শিহাব (রহঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ‘আমীন’ বলতেন।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং : ৭৮০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
🔻 (০৩) সালাতে বৈঠকে শাহাদাত অংগুলি দ্বারা ইশারা করা।
👉 ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, একদা আমি (মনে মনে) বললাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে সালাত আদায় করেন আমি তা অবশ্যই দেখবো। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত দাঁড়িয়ে ক্বিবলামূখী হয়ে তাকবীর বলে দুই হাত কান বরাবর উত্তোলন করলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাত আকঁড়ে ধরলেন। তারপর যখন রুকূ’তে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন তখনও অনুরূপভাবে দু’হাত উত্তোলন করলেন। বর্ণনাকারী (ওয়াইল ইবনু হুজর) বলেন, অতঃপর তিনি বাম পা বিছিয়ে বসলেন, বাম হাত বাম পায়ের ঊরুর উপর রাখলেন এবং ডান কনুই ডান ঊরু হতে পৃথক রাখলেন। তারপর দু’ আঙ্গুল গুটিয়ে বৃত্তাকার করলেন এবং তাঁকে আমি এভাবে বলতে দেখলাম। বর্ণনাকারী বিশর (রহঃ) বৃদ্ধাংগুলিকে মধ্যমার সাথে মিলিয়ে বৃত্ত করলেন এবং শাহাদাত অংগুলি দ্বারা ইশারা করে দেখালেন।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং : ৯৫৭
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস)। আরো দেখুন (আবুদাউদ হাঃ ৯৮৭, ৯৮৮, ৯৯০, নাসাঈ হাঃ ১২৭৪)
👉 আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলে শয়তান কষ্ট পায়।
নাফি‘ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) যখন সলাতে বসতেন, নিজের দু হাত নিজের দু রানের উপর রাখতেন। আর শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন এবং তার চোখের দৃষ্টি থাকত আঙ্গুলের প্রতি।। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এ শাহাদাত আঙ্গুল শায়ত্বনের কাছে লোহার চেয়ে বেশী শক্ত। অর্থাৎ শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে তাওহীদের ইশারা করা শায়ত্বনের উপর নেযা নিক্ষেপ করার চেয়েও কঠিন। [১]
ফুটনোটঃ
[১] হাসান : আহমাদ ৫৯৬৪।
মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৯১৭
হাদিসের মান: হাসান হাদিস
প্রচারে :- Muslim Ummah - মুসলিম উম্মাহ