07/01/2025
এক যুবক বিয়ে করল। তারপর সে তার বাবার কাছে গেল দোয়া নিতে।
বাবা তাকে বললেন —একটি কাগজ, একটি পেন্সিল আর একটি রবার নিয়ে আসো।
যুবক বলল, কেন বাবা?
— আরে নিয়ে আসো না।
সে তখন ভুলে রবার না কিনে শুধু কাগজ আর পেন্সিল নিয়ে চলে এলো।
বাবা বললেন, আবার নিচে যাও। গিয়ে রবার নিয়ে আসো।
সে রবার নিয়ে এলো। তারপর এসে বাবার পাশে বসল। বাবা বললেন, এবার যে কোনো একটি বাক্য লিখ। তোমার যা খুশি।
- লিখেছি।
— রবার দিয়ে বাক্যটি মুছে ফেল।
- জি, মুছেছি।
— আবার যে কোনো একটি বাক্য লিখ।
- লিখেছি।
— এবারও মুছে ফেল।
- জি, মুছেছি।
— আবার লিখ।
বিরক্ত হয়ে ছেলে জিজ্ঞাসা করল, তুমি আসলে কী চাচ্ছ খুলে বলো তো? বারবার শুধু লিখছি আর মুছছি?
— লিখতে বলেছি লিখো।
- লিখেছি।
— আবার মুছে ফেল।
- জি, মুছেছি।
এবার বাবা তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, বেটা! এর মাধ্যমে আমি মূলত তোমাকে বোঝাতে চেয়েছি, দাম্পত্য জীবনের জন্য একটা রবারের প্রয়োজন।
বিয়ের পর তুমি যদি তোমার সঙ্গে এমন একটি ক্ষ-মা-র রবার না রাখো, যা দিয়ে তুমি তোমার স্ত্রীর ভুলগুলো মু-ছে ফেলবে, কিংবা তোমার স্ত্রীর কাছে যদি কোনো রবার না থাকে যা দিয়ে সে তোমার ভুলগুলো মুছে ফেলবে, তাহলে খুব দ্রুত দেখবে দাম্পত্য জীবনের পৃষ্ঠাটি কষ্ট-অসন্তোষের দাগে কালো হয়ে গেছে।
সুতরাং তোমরা একে অন্যের ছি-দ্রা-ন্বেষণ করবে না। দোষ-ত্রুটির পিছনে পড়বে না। বরং ক্ষমা ও মার্জনার পথে হাঁটবে। ধৈর্যধারণ করবে। স্ত্রীর ছোট ছোট দোষ থেকে চোখ বন্ধ করে রাখবে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, মানুষের মধ্যে যার আখলাক সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে সর্বোত্তম।’ [সুনানে আবু দাউদ : ১১৬২]
আলহামদুলিল্লাহ, এমন অনেক দম্পতি আছে, যারা দিনশেষে একসঙ্গে কথা বলতে বসে একে অপরের দোষ-ত্রুটিগুলো সম্পূর্ণরূপে ভুলে যায়। তাদের অন্তরে তখন ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। আর আকাশছোঁয়া এই ভালোবাসার সামনে কোনো সমস্যা ও সংকট কিছুই না।
উসমান ইবনু যায়েদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
‘আমি ইমাম আহমাদকে বললাম, আফিয়াত তথা নিরাপত্তার দশটি অংশ। এই নয়টিই গুরুত্ব না দেওয়ার মাঝে নিহিত। অর্থাৎ কোনো দোষ-ত্রুটি দেখেও না দেখার ভান করা।’
বই : দুজনার পাঠশালা!