শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির। ধর্মপুর, ফেনী।

  • Home
  • Bangladesh
  • Feni
  • শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির। ধর্মপুর, ফেনী।

শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির। ধর্মপুর, ফেনী। শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গা মহাপুজা,
দুর্গাতত্ত্ব,দুর্গাপূজা বিষয়ক তাত্ত্বিক আলোচনা

🪷শ্রী শ্রী নাট মন্দিরের শুভারম্ভ 🪷পূর্ণভূমি শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, ধর্মপুর বড় বনিক বাড়ী। শান্তি, ভক্তি,ও আধ্যাত্মিকতার...
20/06/2026

🪷শ্রী শ্রী নাট মন্দিরের শুভারম্ভ 🪷
পূর্ণভূমি শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, ধর্মপুর বড় বনিক বাড়ী। শান্তি, ভক্তি,ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য পবিত্র তীর্থভূমি এই শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির। এই মহাপুন্যভূমি যুগ যুগ ধরে ভক্ত,সাধক,ও দর্শনার্থীদের হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধার স্থান দখল করে আছে।১৮৩৫ সালে নির্মিত ধর্মপুর বড় বনিক বাড়ী ও শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির। ২০০১ সালে মূল শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির পূর্ণ নির্মান হলেও দীর্ঘ দিন এই শ্রী মন্দিরের প্রাঙ্গণে নাট মন্দির শূন্য ছিল,নাট মন্দির যা মন্দিরের এই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, মূল মন্দির প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৬ বছর পর শ্রী শ্রী মা দুর্গার অশেষ কৃপায় আবার পূণরায় শ্রী মন্দির প্রাঙ্গণে নির্মিত হতে যাচ্ছে প্রস্তাবিত ভব্য সুবিশাল নাট মন্দির।
গতকাল ১৯ জুন ২০২৬ ইং রোজ শুক্রবার সকাল ৮:৪৫ মধ্যে শ্রী শ্রী নাট মন্দিরের পবিত্র ভূমিপুজা ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শিল্যানাস কার্য সম্পূর্ণ হলো।দেবগৃহারম্ভে গনেশ,লোকপাল,আদিত্যাদিনবগ্রহ,ক্ষেত্রপাল, ব্রহ্মা,বাস্তুপুরুষ, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা সহ ৫৩ জন দেব-দেবীর পুজার মাধ্যমে নাট মন্দির নির্মান কার্যের শুভারম্ভ হলো।
🪷জয় মা দুর্গা🪷
🪷শ্রী দুর্গা জয় তারা🪷
🪷দুর্গে দুর্গে রক্ষনি সাহা🪷
🪷দুর্গা শিব, দুর্গা শিব,দুর্গা শিব🪷

ধর্মপুর বড় বনিক বাড়ী, শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের প্রস্তাবিত নাট মন্দিরের শুভারম্ভ ভুমি পূজা ও শিলান্যাস।🏵️দেবগৃহারম্ভে গন...
19/06/2026

ধর্মপুর বড় বনিক বাড়ী, শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের প্রস্তাবিত নাট মন্দিরের শুভারম্ভ ভুমি পূজা ও শিলান্যাস।
🏵️দেবগৃহারম্ভে গনেশ,লোকপাল,আদিত্যাদি নবগ্রহ,ক্ষেত্রপাল পালগন এবং ত্রূরভূতগন,ব্রহ্মা,বাস্তুপুরুষ, সহ ৫৩ জন দেবতার পুজার মাধ্যমে শুভ সূচনা হলো শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের নাট মন্দির নির্মাণ কাজ।
মা দুর্গার কৃপায় নাট মন্দিরের কাজ নির্বিঘ্নে সুসম্পর্ণ হোক মায়ের নিকট এই প্রার্থনা 🙏🙏🙏

...🙏🏻🌺।।"তব চরণং শরণং করবাণি নতামরবাণি নিবাসি শিবম্‌"।।🌺🙏🏻...                                    ...🪷🪔🌺🔻🌺🪔🪷...🌺🌺জয় মা🌺🌺
14/06/2026

...🙏🏻🌺।।"তব চরণং শরণং করবাণি নতামরবাণি নিবাসি শিবম্‌"।।🌺🙏🏻...
...🪷🪔🌺🔻🌺🪔🪷...
🌺🌺জয় মা🌺🌺

দেবী সুক্তম  ওঁ নমশ্চণ্ডিকায়ৈকাত্যায়ন কুলোদ্ভবে সর্ব্বদেবাংশসম্ভবে । শ্রীজয় শ্রীজয়  দুর্গে প্রসীদ গিরিজে সতী।। মহাসুরৌঘ ...
04/06/2026

দেবী সুক্তম
ওঁ নমশ্চণ্ডিকায়ৈ
কাত্যায়ন কুলোদ্ভবে সর্ব্বদেবাংশসম্ভবে ।
শ্রীজয় শ্রীজয় দুর্গে প্রসীদ গিরিজে সতী।।
মহাসুরৌঘ নির্নাশে মহাদেবী হরপ্ৰিয়ে ।
শ্রীজয় শ্রীজয় দেবী আদ্যাকালী নমোঽস্তুতে ।।
সুরথাধিষ্ঠীতে গৌরী ব্রহ্মাদিসুর বন্দিতে ।
শ্রীজয় শ্রীজয় শিবা চণ্ডিকা সিংহবাহিনী ।।
চতুর্ব্বর্গপ্রদে দেবী চতুর্ব্বর্গাত্মীকে শুভে ।
শ্রীজয় শ্রীজয় দেবী ভ্রামরী রক্তদন্তিকা ।।
মাহেশ্বরী মহামায়ে মহামোহ বিনাশিনী ।
শ্রীজয় শ্রীজয় দুর্গা বিন্ধাচলনিবাসিনী ।।
রাজ্য সাম্রাজ্য সুখদে রাজরাজেশ্বরী প্রিয়ে ।
শ্রীজয় শ্রীজয় গৌরী অম্বিকা অপরাজিতা ।।
সর্ব্ব শান্তিপ্রদে সৌম্যে জয়দে ভুবনত্রয়ে ।
শ্রীজয় শ্রীজয় ঐন্দি বন্দনা ব্রহ্ম চারিনী ।।
দেবীসূক্ত মিদং রাজন পরাশর প্রকীর্তিতম ।
পঠনঃ সপ্তসতীং চণ্ডী পঠিত্বা যশ মাপ্নুয়াৎ ।।
দেবীসূক্ত সবজ্ঞায় পঠেৎ সপ্তসতীং যদি ।
অভিচারায়ঃ ভবতি ফল মাপ্নোতি কিঞ্চনঃ ।।

শ্রী শ্রী বৃহৎ মার্কণ্ডেয় পুরাণে পরাশর সংবাদে দেবী সুক্ত সম্পূর্ণং

অর্থাৎ - হে দেবী! তুমি কাত্যায়ন ঋষির কুলে আবির্ভূতা এবং সমস্ত দেবতাদের অংশ থেকে সমুদ্ভূতা। হে দুর্গা! তোমার শ্রীময় জয় হোক, জয় হোক, হে গিরিজা, হে সতী! তুমি প্রসন্ন হও।

হে মহাদেবী! তুমি অসংখ্য মহাসুরের বিনাশকারিণী, হে শিবপ্রিয়া! হে আদ্যাশক্তি কালী! তোমার শ্রীময় জয় হোক, তোমাকে প্রণাম।

হে গৌরী! তুমি সুন্দর রথে অধিষ্ঠিতা (অথবা রাজা সুরথ কর্তৃক আরাধিতা) এবং ব্রহ্মা প্রভৃতি দেবগণের দ্বারা বন্দিতা। হে শিবা, হে চণ্ডিকা, হে সিংহবাহিনী! তোমার শ্রীময় জয় হোক।

হে শুভময়ী! হে দেবী! তুমি ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ - এই চতুর্বর্গ প্রদানকারিণী এবং নিজেই এই চার পুরুষার্থের মূর্তিমান রূপ। হে ভ্রামরী, হে রক্তদন্তিকা! তোমার শ্রীময় জয় হোক।

হে মাহেশ্বরী! হে মহামায়া! তুমি মহামোহের বিনাশকারিণী। হে দুর্গা! হে বিন্ধ্যাচলবাসিনী! তোমার শ্রীময় জয় হোক।

হে দেবী! তুমি রাজ্য ও সাম্রাজ্যের সুখদাত্রী, হে রাজরাজেশ্বরী! হে গৌরী, হে অম্বিকা, হে অপরাজিতা! তোমার শ্রীময় জয় হোক।

হে সৌম্যরূপিণী দেবী! তুমি সর্বশান্তি প্রদান কর এবং তিনভুবনে একমাত্র জয়দানকারিণী।
হে ঐন্দ্রী, হে ব্রহ্মচারিণী! তোমার শ্রীময় জয় হোক।

ঘট কিসের প্রতীক? যে কোন পূজায় ঘট কেন অপরিহার্য? ঘট আমাদের দেহের প্রতিরূপ।পূজার সময় পঞ্চগুড়ি দিয়ে পিঠ তৈরী করা হয়। এ...
03/06/2026

ঘট কিসের প্রতীক? যে কোন পূজায় ঘট কেন অপরিহার্য? ঘট আমাদের দেহের প্রতিরূপ।

পূজার সময় পঞ্চগুড়ি দিয়ে পিঠ তৈরী করা হয়। এই পঞ্চগুড়ি, পঞ্চমহাভূত অর্থাৎ ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম এর প্রতীক। এই পঞ্চমহাভূতের উপর মৃত্তিকা দিয়ে পিঠ করা হয়। মৃত্তিকা বেদীর উপর পঞ্চশষ্য দেওয়া হয়। পঞ্চশষ্য আমাদের কাম ক্রোধ, লোভ, মোহ ও মাৎসর্য্য এই পঞ্চবৃত্তির প্রতীক। এর উপর ঘটস্থাপন করা হয়।

ঘট আমাদের দেহের প্রতীক।আধ্যাত্মিক ভাষায় দেহকে দেহ ঘট বলা হয়। ঘটের ভেতর পঞ্চরত্ন দেওয়া হয়।আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয়, যথা-চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা,ত্বক ও জিহ্বা হলো পঞ্চরত্ন।এরপর ঘটে জল ঢেলে পূর্ণ করা হয়। জল হলো দেহরস অর্থাৎ রক্ত। ঘটে এবার পঞ্চ পল্লব দেওয়া হলো, যা আমাদের গ্রীবা বা গলার রূপ।আমাদের গ্রীবায় পঞ্চবায়ু অর্থাৎ পান, অপান, উদান, সমান ও ব্যান থাকে। এই পঞ্চবায়ুই পঞ্চ পল্লবের প্রতীক। এর উপরে ডাব বা নারিকেল দেওয়া হলো, আমাদের মুখের মতোই নারিকেলেরও চোখ মুখ, নাক দেখা যায়। সেই কারণেই নারিকেল আমাদের মুখ- মন্ডলের প্রতিরূপ। মস্তক থাকলে তাতে আচ্ছাদন দিতে হয়, আর সেই কারণে নারিকেলের উপর গামছা বা বস্ত্র দেওয়া হয়। এই হলো আমাদের দেহের প্রতিরুপ। আর কান্ডকাঠী চার বেদের প্রতীক।

সংস্কৃতে এক মন্ত্র আছে তার অনুযায়ী ঘট হোল মহাতীর্থক্ষেত্র। সেই কলশ স্থাপনা মন্ত্র উধৃত করলাম —

১।
সরিতঃ সাগরাঃ শৈলাস্তীর্থানি জলদা নদাঃ।
আয়ান্তু মম ভক্তস্য দুরিতক্ষয়কারকাঃ॥
অর্থ:
সমস্ত নদী, সাগর, পর্বত, তীর্থস্থান, মেঘ ও জলধারা এখানে আগমন করুন এবং আমার সকল পাপ ও অমঙ্গল দূর করুন।
২।
কলশস্য মুখে বিষ্ণুঃ কণ্ঠে রুদ্রঃ সমাশ্রিতঃ।
মূলে তস্য স্থিতো ব্রহ্মা মধ্যে মাতৃগণাঃ স্মৃতাঃ॥
অর্থ:
এই কলশের মুখে ভগবান বিষ্ণু, কণ্ঠদেশে রুদ্র (শিব), মূলদেশে ব্রহ্মা এবং মধ্যভাগে দেবীশক্তিস্বরূপ মাতৃগণ অধিষ্ঠান করেন।
৩।
কুক্ষৌ তু সাগরাঃ সপ্ত সপ্তদ্বীপা বসুন্ধরা।
ঋগ্বেদোऽথ যজুর্বেদঃ সামবেদোऽপ্যথর্বণঃ॥
অর্থ:
কলশের উদরভাগে সাতটি সমুদ্র, সাতটি দ্বীপসহ পৃথিবী এবং ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ অবস্থান করেন।
৪।
অঙ্গৈশ্চ সহিতাঃ সর্বে কলশং তু সমাশ্রিতাঃ।
দেবদানবসংবাদে মথ্যমানে মহোদধৌ॥
অর্থ:
বেদের সমস্ত অঙ্গসহ সব পবিত্র শক্তি এই কলশে অবস্থান করেন। সমুদ্র মন্থনের সময় এই কুম্ভ (কলশ) উৎপন্ন হয়েছিল।
৫।
উৎপন্নোऽসি তদা কুম্ভ! বিধৃতো বিষ্ণুনা স্বয়ম্।
ত্বত্তঃ সর্বাণি তীর্থানি দেবাঃ সর্বে ত্বয়ি স্থিতাঃ॥
অর্থ:
হে কুম্ভ! তুমি সমুদ্র মন্থনকালে আবির্ভূত হয়েছিলে এবং স্বয়ং বিষ্ণু তোমাকে ধারণ করেছিলেন। সকল তীর্থ ও দেবতারা তোমার মধ্যেই অবস্থান করেন।
৬।
ত্বয়ি তিষ্ঠন্তি ভূতানি ত্বয়ি প্রাণাঃ প্রতিষ্ঠিতাঃ।
শিবঃ স্বয়ং ত্বমেবাসি বিষ্ণুস্ত্বং চ প্রজাপতিঃ॥
অর্থ:
সকল জীব ও প্রাণশক্তি তোমার মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। তুমি স্বয়ং শিব, তুমি বিষ্ণু এবং তুমি প্রজাপতি (ব্রহ্মা)-রূপেও বিরাজমান।
৭।
আদিত্যা বসবো রুদ্রা বিশ্বেদেবাঃ সপৈতৃকাঃ।
ত্বয়ি তিষ্ঠন্তি সর্বেऽপি যতঃ কামফলপ্রদাঃ॥
অর্থ:
আদিত্যগণ, বসুগণ, রুদ্রগণ, বিশ্বদেবগণ এবং পিতৃগণ সকলেই তোমার মধ্যে অবস্থান করেন; কারণ তুমি সকল কামনা ও শুভফল প্রদানকারী।
৮।
ত্বত্‌প্রসাদাদিমং কর্ম কর্তুমীহে জলোদ্ভব!
সান্নিধ্যং কুরু মে দেব! প্রসন্নো ভব সর্বদা॥
অর্থ:
হে জলোদ্ভব (জলজাত পবিত্র কলশ)! তোমার কৃপায় আমি এই পূজাকর্ম সম্পন্ন করতে চাই। হে দেব, তুমি এখানে উপস্থিত হও এবং সর্বদা আমার প্রতি প্রসন্ন থাকো।

"গর্জ গর্জ ক্ষণং মূঢ় মধু যাবৎ পিবাম্যহম। ময়া ত্বয়ি হতেঽত্রৈব গর্জিষ্যন্ত্যাশু দেবতাঃ।। "...🔥🔥-----শ্রী শ্রী চণ্ডীবঙ্গ...
02/06/2026

"গর্জ গর্জ ক্ষণং মূঢ় মধু যাবৎ পিবাম্যহম। ময়া ত্বয়ি হতেঽত্রৈব গর্জিষ্যন্ত্যাশু দেবতাঃ।। "...🔥🔥

-----শ্রী শ্রী চণ্ডী

বঙ্গানুবাদ-
ওরে মূঢ়, যতক্ষণ আমি মধুপান করি, ততক্ষণ তুই গর্জন করে নে। আমি তোকে বধ করলেই দেবতারা এখানে শীঘ্রই গর্জন করবেন।।....🌺🌺🌺

মহাসিংহের রুপ ধরি প্রভু নারায়ণ।তপোবলে পায় হরি শ্রীদুর্গার চরণ।।জয় মা 🌺
26/05/2026

মহাসিংহের রুপ ধরি প্রভু নারায়ণ।
তপোবলে পায় হরি শ্রীদুর্গার চরণ।।

জয় মা 🌺

|| ফলহারিণী ||বৈশাখ মাস শেষ হল কি না চলে এসেছে জ্যৈষ্ঠ মাস। আর এবারে জ্যৈষ্ঠের পয়লাতেই পড়ে গেছে মায়ের আরাধনার দিন। আজ...
16/05/2026

|| ফলহারিণী ||
বৈশাখ মাস শেষ হল কি না চলে এসেছে জ্যৈষ্ঠ মাস। আর এবারে জ্যৈষ্ঠের পয়লাতেই পড়ে গেছে মায়ের আরাধনার দিন।
আজ অমাবস্যা! ভক্তের কাছে বহু পরিচিত এই অমাবস্যা। নাম হয়েছে ফলহারিণী অমাবস্যা! ঠাকুর আজকের দিনেই শ্রীশ্রীমাকে ষোড়শী রূপে পূজা করেছিলেন! সে আখ্যান অনেকের জানা। কিন্তু এই তিথির নাম ফলহারিণী হল কি করে?

আপনি যদি নামে লক্ষ্য করেন তাহলে বুঝবেন ফল হরণ করা সম্বন্ধে কিছু বলা আছে হয়তো। এই ফল আহারের ফল যেমন , তেমনি কর্মফল ও বটে!

ধরা যাক এক শিষ্য গুরুর কাছে সঠিক পথে চালিত হবার জন্য সাধনা শুরু করেন। গুরু আধার দেখে তাকে বীজ দেন। সাধনার বীজ।‌ শিষ্যের কাজ ঐ বীজকে মহীরুহ করা নিজের সাধনার দ্বারা।

শিষ্য গুরুপ্রদত্ত বীজের লালন শুরু করেন নিজের সাধনা, জপের দ্বারা। সঠিক সময়ে তা অঙ্কুরিত হয়।

সাধনার পথে বাধা আসেই। শিষ্যকে বিচলিত হওয়া চলে না। একটা গাছ যখন বেড়ে ওঠে তার ক্ষেত্রেও প্রখর রোদ, ঝড় সহ্য করতে হয়। যারা পারেনা তারা আসন হারিয়ে ফেলে। সব গাছ ঝড়-খরা সহ্য করে দাঁড়াতে পারে না।

সবকিছু সহ্য করা গাছে মুকুল আসে। ফল আসার পূর্ব ইঙ্গিত! সাধকের সাধনাতেও এসময় মুকুল এলো। কিন্তু অস্থির হওয়া চলে না। সাধনা চালিয়ে যেতে হয়। নাহলে প্রবল ঝড়ে মুকুলও ঝরে পড়ে। এই মুকুলের ইঙ্গিত থাকে পৌষের অমাবস্যায় মায়ের পুজোয়। পুজোয় সেখানে আম্রমুকুল ব্যবহৃত হয়। যার জন্য পৌষ অমাবস্যার অপর নাম আম্রবকুল অমাবস্যা।

এবার অন্তিম পর্ব। মুকুল থেকে ফল হবার পর্ব। ফল হলেও সব ফল সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনা। অনেক সাধক এইসময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলে, অহং চলে আসে। ফল গাছ থেকে মাটিতে পড়ে চৌচির হয়ে যায়! এতদিনের সাধনা বৃথা হয়ে যায়। আমাদের এখনো সতর্ক থাকতে হবে।

সঠিক সময় আসে। সাধক নিজের সাধনালব্ধ ফল মায়ের চরণে দেন। মা সেই কর্মফল হরণ করেন। বদলে সাধককে দেন অপার তৃপ্তি। এটাই ফলহারিণী! ফাইনাল স্টেজ! সাধক শিষ্যের কাছে এখন মায়ের চিত্র পরিষ্কার। কষ্ট না করলে কি কেষ্ট মেলে?

প্রশ্ন হল আমরা সাধারণ মানুষ কি করবো আজকের দিনে? উত্তর হল আমরা আমাদের প্রত্যেকের যে ইষ্ট আছে তাকে স্মরণ করবো। অবশ্যই করবো। যার যে ইষ্ট থাক সব গিয়ে মিলিত হয় মা তেই! আমরা আজকে নিজের ইচ্ছা পূরণের কামনা হেতু আমাদের প্রিয় একটি ফল মায়ের কাছে অর্পণ করবো। এক বৎসর যাবৎ আমরা সেই ফল খাবো না। আমাদের ইচ্ছা পূরণ হলে আমরা পুনরায় সেই ফল খেতে পারবো। কিন্তু মনে রাখতে হবে ইচ্ছাটি যেন সর্বজনের কল্যাণের জন্য হয়!

মা আছে আর আমি আছি, ভাবনা আছে কি আর?
আমি মায়ের হাতে খাই পরি, মা নিয়েছেন আমার ভার...

জয় মা! আপনাদের কল্যাণ হোক, জগতের কল্যাণ হোক!

সলিল শয়ন ত্যাজি উঠেন ভবানী। দশবিধ আয়ুধে শোভিত দশ পাণি।। মৃগেন্দ্র পৃষ্ঠে মাতা করি আরোহন। বামপদে মহিষেরে করেন মর্দন।। অন...
16/05/2026

সলিল শয়ন ত্যাজি উঠেন ভবানী।
দশবিধ আয়ুধে শোভিত দশ পাণি।।
মৃগেন্দ্র পৃষ্ঠে মাতা করি আরোহন।
বামপদে মহিষেরে করেন মর্দন।।
অন্তরীক্ষে জয়ধ্বনি করে দেবগণ।
পাতাল ভৈরবীর হইল মর্ত্যে আগমন।।
বন্দিব যোগাদ্যা যুগ আদ্যা শক্তি মাতা।
ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষ চতুর্বর্গ দাতা।।
ভয়ঙ্কর ঘোর মূর্তি তীক্ষ্ণ খড়গ হাতে।
ভদ্রকালী নামে দেবী আছিলো লঙ্কাতে।।

আজ ৩১ এ বৈশাখ আজ মা মহামায়ার মহাপূজা। আজ ভোর রাতে সলিল শয্যা ত্যাগ করে আজ উঠে আসেন।

কাহিনী বলছি শুনুন।

এই দেবী ভদ্রকালী। মহীরাবণ পূজিতা। রাম - লক্ষ্মণকে মায়াযুদ্ধে অজ্ঞান করে নিয়ে আসেন মায়ের পায়ে বলি দেবেন বলে। হনুমান খুঁজতে খুঁজতে পাতাল পুরী এলে দেখেন তোড়জোড় চলছে পূজার। হনুমান মাছি রূপে গিয়ে ভদ্রকালী যোগাদ্যার কানে বলেন, "শুনেছি মা আপনি নাকি আদেশ করেছেন রাম লক্ষ্মণের রক্ত পানে ইচ্ছুক। যদি সত্যি হয়ে তবে আপনার মন্দির আমি ধ্বংস করবো। আমি রামের দাস হনুমান কথা দিচ্ছি।"

দেবী হেসে বলেন, " পুত্র মারুতি! রাম জগদীশ্বর। তাঁর রক্ত নেব কী করে। মহী অসুর। ওর স্বভাবই তা। মহী প্রতিদিন আমায় নরবলি দেয়। নররক্ত আমার প্রিয় হেতু। বলির আগে আমায় ষষ্টাঙ্গে প্রণাম করতে বলে। তুমি রাম - লক্ষ্মণকে বলো, মহীকে যেন তারা বলে, তাঁরা রাজার ছেলে, সবাই তাদেরকে দেখে প্রণাম করে। যেহেতু তাদেরকে কখনো প্রণাম করতে হয়নি তাই তারা প্রণাম করা জানেন না। আর যখন মহী প্রণাম করা দেখাবে তুমি আমার পায়ে তাকেই বলি দিয়ে দেবে। যেমন ভাবা তেমন ব্যাজ। মহী আর তদপুত্র অহি রাবণ বধের পর। যোগাদ্যা রামকে বলেন, " রাঘব মহী আমায় নিত্য নরবলি সহকারে পুজো দিতো। তুমি আমায় এমন এমন স্থানে ধরিত্রীতে প্রতিষ্ঠা করো। যাতে আমি নিত্য নরবলি পাই" হনুমান রাম - লক্ষ্মণকে কাঁধে করে আর ভবানীকে মাথায় করে বর্তমান বর্ধমানের ক্ষীরগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন।

আমরা সবাই জানি যে কালীঘাটে মাতা সতীর ডান পায়ের চার আঙুল পড়েছিল।

কালীঘাটে চারিটি অঙ্গুলি ডানি পার।
নকুলেশ ভৈরব কালিকা দেবী তাঁর।।

আর বাকি ডান পায়ের বুড়ো আঙুল সহ পায়ের পাতা পরে ক্ষীরগ্রামে। যোগাদ্যার থানে।

ক্ষীরগ্রামে ডানিপার অঙ্গুষ্ঠ বৈভবঃ।
যোগাদ্যা দেবতা ক্ষীরকন্টক ভৈরবঃ।।

ছবিতে দেখছেন সেই মহীরাবণ পূজিতা ভদ্রকালী। সারা বছর জলে থাকেন শুধু বৈশাখ সংক্রান্তি মানে আজকেই জলের বিছানা ছেড়ে সবাইকে দেখা দিয়ে মোষ পাঠা খেয়ে আবার চলে যাবেন জলে। সাধে কি রামপ্রসাদ বলেছেন,

পাতালেতে ছিলে মাগো হয়ে ভদ্রকালী, কত দেবতা করেছে পূজা দিয়ে নরবলি গো মা।

কথিত আছে, দেবী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেখানকার হরিদত্ত নামে এক রাজার সন্নিকট দেবীর স্বপ্নাদেশ দিয়ে পূজা আরম্ভকরান। সপ্তাহব্যাপী মহাধুমধামের মধ্য দিয়ে চলে। কিন্তু অত্যাশ্চর্য ঘটনাটি হল তখন পূজা হত নরবলি দিয়ে। রাজা সমস্ত পরিবারের জন্য নিয়ম চালু করেন যে, বলির জন্য প্রত্যেক পরিবারের একজন সদস্য চায় প্রতি পূজায়।

স্বভাবতই শোকচ্ছায়া নেমে আসে প্রজাবর্গের মধ্যে। নিয়মানুসারে একদিন এক ব্রাহ্মণের পালা পড়ে, শোকগ্রস্ত ব্রাহ্মণ তার ছেলেকে নিয়ে ভোেররাত্রিতে গ্রাম পরিত্যাগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু পথমাঝে সেই ব্রাহ্মণকে দেবী দর্শন দেন এক বুড়ির বেশে। দেবী ব্রাহ্মণকে বলেন, এতো রাতে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? ব্রাহ্মণ সব ঘটনা বর্ণনা করে বলে ওই রাক্ষসী দেবীর ভয়ে চলে যাচ্ছি নাহলে আমার ছেলেটাকেও খাবে। দেবী হেসে বলেন "যার ভয়ে পালাও মা তুমি, সেই মা যোগাদ্যা আমি"। মা আশ্বাস দিয়ে বলেন, যা তোর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যা। আমি কোনো মায়ের কোল খালি করে নরবলি চাই না। তাঁর পরিবর্তে ছাগ ও মহিষ বলি দিও। দেবী যোগাদ্যার আশীর্বাদে তারা গ্রামে ফিরে আসে এবং নরবলি বদলে শুরু হয় মহিষ ছাগ বলি। ক্ষীরগ্রামের পূজিতা প্রাচীন যোগাদ্যা মূর্তিটি কোনো কারনে হারিয়ে গিয়েছিল। আনুমানিক ২০০ বছর আগে, বর্ধমান মহারাজ কীর্তিচন্দ্রের নির্দেশে দাঁইহাটের নবীন ভাস্কর নতুন যোগাদ্যা মূর্তিটি তৈরি করেন। এই নবীন ভাস্করই হলেন তিনিই, যিনি পরবর্তীতে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের মা ভবতারিণীর মূর্তি নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে ক্ষীরদিঘি সংস্কারের সময় পুরোনো মূর্তিটি পাওয়া যায়। বর্তমানে, পুরোনো মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি এবং নবীন ভাস্কর এর তৈরি নবীন মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি, দুটি ভিন্ন মন্দিরে পূজিত হয়। ক্ষীরগ্রামে একটা সময় বেশ কিছু চতুষ্পাঠী ছিল। মিলেছে বহু প্রাচীন পুঁথি। স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন, তাদের দাবি, বেশ কয়েক জন পণ্ডিত এই গ্রামে বিদ্যাচর্চা করতেন। গবেষক যজ্ঞেশ্বর চৌধুরী জানিয়েছেন, এই জনপদে অন্তত ৪০টি যোগাদ্যা বন্দনার পুঁথি মিলেছে। তবে তার মতে, সবথেকে আগে যোগাদ্যা বন্দনা লিখেছিলেন কবি কৃত্তিবাস। ♥️

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩
15/04/2026

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩

Address

Dharmapur, Feni
Feni

Opening Hours

Monday 09:00 - 20:00
Tuesday 09:00 - 20:00
Wednesday 09:00 - 20:00
Thursday 09:00 - 20:00
Friday 09:00 - 20:00
Saturday 09:00 - 20:00
Sunday 09:00 - 20:00

Telephone

+8801860025705

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির। ধর্মপুর, ফেনী। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির। ধর্মপুর, ফেনী।:

Share

Category