17/09/2026
ববি হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমের বাড়িতে গণেশ পূজা: এক প্রগতিশীল সামাজিক বার্তা নাকি রাজনৈতিক সমীকরণের নতুন রূপ❓
কলকাতা: আমাদের সমাজে সাধারণত একজন মানুষের পিতৃপরিচয়কেই মুখ্য করে দেখা হয়। কিন্তু বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে মায়ের পরিচয় বা মাতুলালয়ের ঐতিহ্যও যে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং গর্বের, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা ফিরহাদ (ববি) হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম। সম্প্রতি নিজের বাসভবনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে গণপতি পূজার আয়োজন করেন প্রিয়দর্শিনী, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে এক সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনেকেই হয়তো জানেন না, ববি হাকিমের মায়ের নাম মীনাক্ষী মুখার্জি। সেই সূত্রে প্রিয়দর্শিনী হাকিম কেবল হাকিম পরিবারের সন্তানই নন, তিনি মুখার্জি পরিবারেরও উত্তরসূরি। পিতৃপরিচয়ের পাশাপাশি মায়ের দিকের এই সনাতন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে তিনি যেভাবে নিজের বাড়িতে গণেশ পূজার আয়োজন করেছেন, তাকে অনেকেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন। নেটিজেনদের একাংশের মতে, মুখার্জি পরিবারের মেয়ে হিসেবে তিনি তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখেছেন।
পিতৃপরিচয় বনাম মাতৃপরিচয়: এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
সামাজিকভাবে পিতৃপরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও, আধুনিক বিজ্ঞান এবং সমাজতত্ত্ব কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। জীববিজ্ঞানের নিয়মে সন্তানের জেনেটিক গঠনে বাবা ও মা—দুজনেরই অবদান একদম সমান (৫০-৫০)। তাই মায়ের বংশপরিচয়কে আড়ালে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রিয়দর্শিনীর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, নিজের শিকড় ও মায়ের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং তা গর্বের সাথে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি নাকি রাজনৈতিক আবহের প্রভাব?
এই সুন্দর সাংস্কৃতিক ছবির পেছনে অনেকে আবার বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ছায়াও দেখছেন। সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে:
* এই দৃশ্য কি শুধুই এক আন্তরিক পারিবারিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ?
* নাকি পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশের কোনো পরোক্ষ প্রভাব❓ বিশেষ করে রাজ্যে বিজেপির উত্থান এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রসারের পর কি এই ধরনের ধর্মীয় আচারগুলো আরও বেশি করে প্রকাশ্যে আসছে?
* অথবা, এই ঐতিহ্য আগেও ছিল, কিন্তু বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তা আমাদের সামনে নতুনভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে?
শিকড়কে সম্মান জানানোর বার্তা
রাজনীতি বা বিতর্ক যা-ই থাক না কেন, নিজের শিকড়, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোই হোক বাংলার প্রকৃত পথ। প্রিয়দর্শিনী হাকিমের এই উদ্যোগকে অনেকে সম্প্রীতি এবং প্রগতির এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন।
তবে এই ধরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে সাধুবাদ জানালেও, কিছু নেটিজেন আবার ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য বা ট্রোল করতেও ছাড়ছেন না—যা বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার এক চেনা রূপ‼