19/10/2025
ভূত চতুর্দশী মূলত দুটি কারণে পালন করা হয়: একটি হল অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির জয় এবং অন্যটি হল- পরলোকগত পিতৃপুরুষদের স্মরণ করা।অনেকে আবার মনে করেন পূর্বপুরুষের আত্মা এই তিথিতে মর্ত্যলোকে আসেন। তবে সব ক্ষেত্রেই শুভ শক্তির আগমনের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই অশুভ শক্তির থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যেই জ্বালানো হয় চোদ্দ প্রদীপ। বিশ্বাস করা হয় এই চোদ্দ প্রদীপের আলো সংসারে সকল প্রকার অশুভ শক্তির অবসান ঘটায়। এই তিথিতে চোদ্দ প্রকার শাক খাওয়ার বিধান রয়েছে। সেগুলি হল— ওল, কেউ, বেতো, কালকাসুন্দে, নিমপাতা, জয়ন্তী, সরিষা, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, পলতা, শুলফা, গুলঞ্চ, ঘেঁটু, শুশুনি (পণ্ডিত রঘুনন্দনের মতে)। যদিও স্থানবিশেষে শাকের নাম পরিবর্তিত হতে পারে। অশুভ শক্তি বিনাশের উদ্দেশ্যে স্নান করে এই চোদ্দশাক খেয়ে চোদ্দ প্রদীপ জ্বালানোই হল ভূত চতুর্দশীর রীতি।
কথিত রয়েছে, কার্তিক মাসের এই তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ বধ করেছিলেন নরকাসুরকে। মনে করা হয়, নরকাসুররূপী রাজা বলি প্রতিবছর ভূত চতুর্দশীর দিন অসংখ্য ভূত-প্রেত নিয়ে মর্ত্যে নেমে আসেন মায়ের পুজো দিতে। ঠিক এই কারণে ভূত চতুর্দশীর অপর নাম নরক চতুর্দশী। কারও কারও মতে, এই দিন যমকে প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করা হয়, যা নরকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় বলে বিশ্বাস করা হয়। একটি মতে, দেবী কালী চামুণ্ডারূপে ১৪ ভূতকে সঙ্গে নিয়ে এসে অশুভ শক্তিকে দূর করেন।
পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে এই তিথিটি নরক চতুর্দশী নামে পরিচিত। এ ছাড়াও কোথাও কোথাও ছোট দেওয়ালি বা কালী চৌদস নামে ও বিখ্যাত। ওই অঞ্চলে ওরা কালী পূজা এই দিনে করে থাকে তান্ত্রিক রা। দক্ষিণ ভারতে আজকের দিনে ওরা দীপাবলি পালন করে।
নরকাসুর বধ
নরকাসুর নামে এক রাক্ষস ছিল এবং সে পৃথিবীতে মানুষের উপর অত্যাচার করছিল। সে ১৬০০০ গোপীকে বন্দি করেছিল। তাঁরা সকলেই কৃষ্ণের কাছে রাক্ষসকে হত্যা করার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। নরকাসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে একটি বর পেয়েছিলেন যে, তিনি কেবল তাঁর মায়ের দ্বারাই নিহত হতে পারেন। তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর স্ত্রী সত্যভামা সহ সমস্ত মেয়েদের উদ্ধার করতে যান। কারণ সত্যভামা পূর্বজন্মে তার মা ছিলেন। চতুর্দশীর এই দিনে তাঁরা রাক্ষসকে বধ করে সবাইকে রক্ষা করেছিলেন