02/08/2026
বন্ধুত্বের অজানা কাহিনী....
বন্ধুত্বের কথা উঠলে অনেকেই শ্রীকৃষ্ণ ও সুদামার কাহিনী স্মরণ করেন।যেখানে রাজাধিরাজ শ্রীকৃষ্ণ তাঁর দরিদ্র বন্ধু সুদামাকে দেখে সিংহাসন ছেড়ে ছুটে এসেছিলেন। তিনি বন্ধুকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন, তাঁর পদ ধৌত করেছিলেন এবং সামান্য চিঁড়াকে অমূল্য উপহার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সেখানে ছিল না ধন-সম্পদের অহংকার, ছিল শুধু নির্মল ভালোবাসা।
কিন্তু এই পৃথিবীতে সেই একই বন্ধুপ্রীতির আরেক অনন্য উদাহরণ রেখে গিয়েছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুও।
রঘুনাথের স্বপ্ন ছিল তিনি একদিন দিগ্বিজয়ী পণ্ডিত হবেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি ন্যায়শাস্ত্রের উপর একটি বিশদ টীকা রচনা করেন। কিছুদিন পর তিনি জানতে পারলেন, নিমাই পণ্ডিতও একই বিষয় নিয়ে গ্রন্থ রচনা করছেন। বিষয়টি তাঁর মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করল।
পরদিন নৌকায় বসে নিমাই নিজের লেখা থেকে কিছু অংশ রঘুনাথকে শুনিয়ে শোনালেন। শুনে রঘুনাথ বুঝতে পারলেন, নিমাইয়ের রচনা তাঁর নিজের গ্রন্থের চেয়ে অনেক বেশি সহজ, প্রাঞ্জল ও হৃদয়গ্রাহী। তাঁর চোখ ভিজে উঠল। নিমাই কারণ জানতে চাইলে রঘুনাথ বললেন, “তোমার এই গ্রন্থ প্রকাশিত হলে আমার রচনা আর কেউ পড়বে না।”
বন্ধুর মনের ব্যথা বুঝতে নিমাই এক মুহূর্তও দেরি করলেন না। নিজের অমূল্য পাণ্ডুলিপি তিনি গঙ্গার জলে বিসর্জন দিলেন। বন্ধুর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি নিজের কীর্তিকেই ত্যাগ করলেন।
শ্রীকৃষ্ণ ও সুদামা আমাদের শেখান—প্রকৃত বন্ধুত্ব মর্যাদা ও সম্পদের ঊর্ধ্বে। আর শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শেখান—প্রকৃত বন্ধুত্বের জন্য প্রয়োজন হলে নিজের গৌরবও ত্যাগ করা যায়।
বন্ধু মানে শুধু সুখের সঙ্গী নয়; বন্ধু মানে এমন একজন, যার হাসির জন্য নিজের প্রাপ্তিকেও বিসর্জন দিতে দ্বিধা হয় না।
🙏 জয় শ্রীকৃষ্ণ 🙏 🙏
জয় গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏