18/03/2024
🙏 হরেকৃষ্ণ 🙏
একাদশী সংবাদ🌹
আগামী ২০-০৩-২০২৪ ইং তারিখ রোজ বুধবার পবিত্র আমলকীব্রত একাদশীর উপবাস ব্রত। পারন পরেরদিন সকাল
(বাংলাদেশ) ০৯:২৮-১০:০৪
(পশ্চিমবঙ্গ) ০৯:০১-০৯:৪২
তাই আসুন আমরা সবাই ভগবান প্রদত্ত একাদশী ব্রত পালন করি এবং মানব জীবন সার্থক করি।
🙏কৃপাকরে অাপনি নিজে একাদশী ব্রত পালন করুন ও অন্যকে একাদশী ব্রত পালনের জন্য উৎসাহিত করুন । সেনগ্রাম কেন্দ্রীয় কালী মন্দির, পাংশা, রাজবাড়ী ।
🙏❤️❤️একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য❤️❤️🙏
যুধিষ্ঠির বললেন, হে কৃষ্ণ! মহাফলদাতা বিজয়া একাদশীর কথা শুনলাম।এখন ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী যে নামে বিখ্যাত তা বর্ণনা করুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে মহাভাগ যুধিষ্ঠির, মান্ধাতার প্রশ্নের উত্তরে মহাত্মা বশিষ্ঠ এই একাদশীর মহিমা কীর্তন করেছিলেন। আপনার কাছে এখন আমি সেই কথা বলছি।
এই একাদশীর নাম `আমলকী'। বিষ্ণুলোক প্রদানকারী রূপে এই একাদশী বিশেষভাবে মহিমান্বিত। একাদশীর দিন অামলকী বৃক্ষের তলে রাত্রি জাগরণ করলে সহস্র গাভীদানের ফল লাভ হয়।
হে পান্ডুনন্দন, পূর্বে ব্রহ্মার রাত্রিতে দৈনন্দিন প্রলয় উপস্থিত হলে স্থাবর জঙ্গমসহ দেবতা,অসুর ও রাক্ষস সবকিছুর বিনাশ হয়। তখন ভগবান সেই কারনসমুদ্রে অবস্থান করেন। তাঁর মুখপদ্ম থেকে চন্দ্রবর্ণের এক বিন্দু জল ভূমিতে পড়ে। সেই জলবিন্দু থেকে একটি বিশাল আমলকী বৃক্ষ উত্পন্ন হয়। এই বৃক্ষের স্মরণমাত্র গোদানের ফল, দর্শনে তার দ্বিগুন, এবং ফলভক্ষনে তিনগুন ফল লাভ হয়। এই বৃক্ষে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর সর্বদা অবস্থান করেন। এর প্রতিটি শাখা প্রশাখা ও পাতায় ঋষি, দেবতা ও প্রজাপতিগণ বাস করেন।এই বৃক্ষকে সমস্ত বৃক্ষের আদি বলা হয়। এবং তা পরম বৈষ্ণব রূপে বিখ্যাত।অতএব এই শ্রেষ্ঠ ব্রত সকলেরই পালনীয়।এখন এই ব্রতের এক অদ্ভূত ইতিহাস আপনাকে বলছি।
প্রাচীনকালে বৈদিশ নামে এক প্রসিদ্ধ নগর ছিল।এখানকার রাজা ছিলেন চৈত্ররথ।চন্দ্রবংশীয় পাশবিন্দুক রাজার পুত্ররূপে তিনি জন্মগ্রহন করেছিলেন।তিনি খুব শক্তিমান ও রাজঐশ্বর্যশালী ছিলেন।শাস্ত্রজ্ঞানেও ছিলেন নিপুণ।তার রাজ্যে দিব্য আনন্দ পূর্ণ মনোরম পরিবেশ ছিল।প্রজারা ছিলেন বিষ্ণুভক্তিপরায়ণ।সকলেই একাদশী ব্রত পালন করতেন।রাজ্যে কোনো অভাব অমঙ্গল ছিলনা।এভাবে প্রজাদের নিয়ে রাজা সুখে দিনযাপন করতেন।
একসময় ফাল্গুনী শুক্লপক্ষের দ্বাদশীযুক্তা আমলকী একাদশী তিথি সমাগত হওয়ায় রাজ্যের সকলেই এই ব্রত পালনের সংকল্প করলেন।ঐদিন প্রাতঃস্নানের পর প্রজাদের নিয়ে রাজা ভগবান শ্রীবিষ্ণুর মন্দিরে যান। সেখানে সুবাসিত জলপূর্ণ কলস, ছত্র, বস্ত্র, পাদুকা, পঞ্চরত্ন ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে স্থাপন করেন। তারপর ধূপ দীপ দিয়ে যত্নসহকারে মুনি ঋষিদের দ্বারা শ্রীপরশুরাম মূর্তি সমন্বিত আমলকীর পূজা করেন। `হে পরশুরাম! হে রেণুকার সুখবর্ধক! হে ধাত্রী! হে পাপবিনাশিনী আমলকী! তোমাকে প্রনাম। আমার অর্ঘ্যজল গ্রহন কর।' এইভাবে দিনে যথাবিধি পূজা স্তবস্তুতি নৃত্যগীত করে রাজা ভক্তিভরে সেই বিষ্ণু মন্দিরে রাত্রি জাগরণ করতে লাগলেন। এমন সময় দৈব যোগে এক ব্যধ সেখানে উপস্থত হয়। পূজার সামগ্রীসহ বহু ব্যক্তিকে একত্রে রাত্রিজাগরণ করতে দেখে সে কৌতুহলাক্রান্ত হল। সে ভাবল, এসব কি ব্যাপার? বিষ্ণু মন্দিরে প্রবেশ করে সে বসে পড়ল। কলসের উপরে স্থাপিত বিষ্ণুমূর্তি দর্শন করল। ভগবান বিষ্ণু ও একাদশীর মাহাত্ম্য সে মনোযোগ দিয়ে শুনল। সারাদিন ঐ ব্যাধ কিছুই আহার করেনি। এইভাবে ক্ষুধায় কাতর হয়ে সেখানে সে রাত্রিজাগরণ করল।
পরদিন প্রজাসহ রাজা নগরের দিকে যাত্রা করলেন। ব্যাধও তার গৃহে ফিরে গেল।এরপর একসময় তার মৃত্যু হল। একাদশীতে রাত্রি জাগরণ ব্রত প্রভাবে সে পরবর্তী জন্মে এক রাজ্যের অধীশ্বর রূপে নিযুক্ত হল।
জয়ন্তী নামে এক নগরী ছিল। সেখানে বিদূরথ নামে এক রাজা বাস করতেন। ঐ ব্যাধ বিদূরথ রাজার মহাবলী পুত্ররূপে জন্মগ্রহন করেন। তার নাম হয় বসুরথ।এক লক্ষ গ্রামের আধিপত্য তিনি লাভ করলেন। তিনি ছিলেন সূর্যের মতো তেজস্বী, চন্দ্রের মতো কান্তিমান ও পৃথিবীর মতো ক্ষমাশীল। বিভিন্ন সদ্ গুণে ভূষিত বসুরথ পরম বিষ্ণুভক্তি পরায়ণ হন।
এই মহাদাতা রাজা একবার শিকার করতে গিয়ে পথ ভুলে যান। গভীর জঙ্গলের মধ্যে ক্ষুধায় পীড়িত হয়ে তিনি ক্লান্তিবশতঃ শুয়ে পড়েন।এমন সময় কতগুলি পর্বত নিবাসী ম্লেচ্ছ রাজার কাছে এসে নানা ভাবে উত্ পীড়ণ করতে থাকে। রাজাকে তাদের শত্রু মনে করে তারা তাকে হত্যা করতে চেষ্টা করে। "পূর্বে এই রাজা আমাদের পিতা-মাতা-পুত্র-পৌত্র সবাইকে মেরে ফেলেছে।আমাদের গৃহছাড়া করেছে।" এরকম বলতে বলতে ম্লেচ্ছরা রাজাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। তারা বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্রে তাঁকে আঘাত করতে লাগল। আশ্চর্যজনক ভাবে সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাজার কোনো ক্ষতি তারা করতে পারলনা। তখন রাজার শরীর থেকে নানা অলংকারে বিভূষিতা এক পরমা সুন্দরী স্ত্রীমূর্তি আবির্ভূতা হন।মহাশক্তিধারিণী ঐ নারী অল্প সময়ের মধ্যেই সকল পাপী ম্লেচ্ছকে নিধন করল। রাজার নিদ্রাভঙ্গ হল।ভয়ানক হত্যাকান্ড দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হলেন।
তিনি বললেন, আহা, আমার শত্রুদের হত্যা করে কে আমার প্রান রক্ষা করল, এমন কৃপালু কে আছে? আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এমন সময় দৈববানী হল, ভগবান কেশব ব্যতীত শরনাগতকে রক্ষা করার কে আছে? তিনি শরনাগত পালক। এই শুনে ভক্তিযুক্ত চিত্তে গৃহে ফিরে এলেন।প্রজাসহ মহাসুখে ইন্দ্রের মতো নিষ্কন্টক রাজ্য ভোগ করতে লাগলেন।
বশিষ্ঠ বললেন, হে রাজন, যে মানুষ এই পরম উত্তম আমলকী একাদশী ব্রত পালন করেন, তিনি নিঃসন্দেহে বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হন।
Follow our page/YouTube/Instagram/Twitter: GaurNitaiTV