11/06/2026
আমরা কেন একাদশী পালন করি?
"বছরে ২৬টি একাদশী আছে। পুরুষোত্তম মাসে আরও দু'টো হয়৷ এভাবে মোট ২৮টি একাদশী আছে। একেকটি একাদশীর মাহাত্ম্যে একেকটি নাম দেওয়া আছে এবং একাদশীর কাহিনী আছে - কেউ উদ্ধার পেয়েছে, কেউ সিদ্ধি পেয়েছে, কেউ আশীর্বাদ লাভ করেছে। একাদশীর মাহাত্ম্য পদ্মপুরাণে আছে, বিভিন্ন পুরাণে আছে। সেটা পড়লে বোঝা যাবে কেন এটার নাম বিশেষ দেওয়া হলো এবং এই একাদশী করলে কী ফল লাভ হবে।
কিন্তু আমরা সেটাকে খুব গুরুত্ব দিই না৷ কেননা আমরা একাদশী করি কারণ সেটা ভগবানের খুব প্রিয় দিন। একাদশীতে যদি হরিনাম করি বা কৃষ্ণসেবা করি, তবে শাস্ত্র বলছে যে, এতে কৃষ্ণকে আরও সন্তুষ্ট করা যায়। আমাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো ভগবানকে সন্তুষ্ট করা। আমরা প্রতিটি একাদশী করি৷ পাণ্ডবা নির্জলা হোক, ভৈমী হোক, পাপবিনাশিনী হোক যেটাই হোক না কেন। কিন্তু এমন কেউ আছে হয়তো তার সারা বছরের হয়তো একটি একাদশীর বিষয়ে একটু আকৃষ্ট আছে বা একেকটি একাদশীর মাহাত্ম্য শ্রবণ করে তারা একটু আকৃষ্ট হয়ে পড়ে যে, বাহ! তাহলে এই একাদশীতে এই আশীর্বাদ পাওয়া যায় বা এই ব্রতে এই আশীর্বাদ পাওয়া যায়। তার ফলে তারা উৎসাহিত হয়ে বলে, আমি এটি করব৷ এটা প্রভুপাদ বলছেন, কখনো কখনো পুরাণের মধ্যে এই সমস্ত জড়জাগতিক কিছু পুণ্যকর্মের ফল বা কোন সিদ্ধি বা অন্য কোন একটা আশীর্বাদ বিষয়ে উল্লেখ থাকে, সেটা অনেক ক্ষেত্রে নতুন খরিদ্দারকে আকর্ষণ করার জন্য৷ যারা শুদ্ধভক্ত, তারা তো সব একাদশী করবে। কোন একাদশী কী দেয় না তিনি তো প্রত্যেক একাদশী করছেন, কোন একাদশী কী ফল দেয়, না দেয়, সেই মাহাত্ম্য তেমন দরকার নেই। আমরা প্রত্যেক একাদশীই করে যাচ্ছি। তাই প্রতিটি একাদশীর মাহাত্ম্য শোনার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশি গুরুত্ব দেই না৷ একেকটা একাদশী কী করে এর কী দরকার? হরিনাম করুন প্রত্যেকে। তবে হয়তো প্রচারের পক্ষে কেউ দু'চারটা জানলে ভালো, সুবিধা আছে। সেটি আছে পদ্মপুরাণে।"
~ শ্রীল জয়পতাকা স্বামী
১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০০০
শিলিগুড়ি