27/05/2026
❝ আমার জীবন রথের সারথি পরম প্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ৫২তম পূন্য - স্নানোৎসবের পূর্ণ্যলগ্নে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি সহ আভূমি লুন্ঠিত ভক্তিপূর্ণ প্রনাম জানাই তব রাতুল শ্রীচরণে। ❞
*. *. * *. *. *. *. *. *
স্নানোৎসব
""""""''''''''''''''"""'''''''
১৩৭৩ সন।
ঠাকুরের আটাত্তর বছর চলছে।
ঠাকুর-বাংলার ভিতরে রাজনারায়ণ বসু পথের দিকে (পূর্বের রোহিণী রোড) ঠাকুর একটা সুইমিং পুল তৈরী করতে বললেন ।
১৯৬৬ সন, ২৭শে মে (১২ই জ্যৈষ্ঠ), বৃহস্পতিবার, শুক্লা পঞ্চমী তিথি। ঠাকুর এই নবনির্মিত সুইমিং পুলে স্নান করলেন, বড়মাও সেদিন উপস্থিত ছিলেন সেখানে, আরও ছিল শত শত আশ্রম নরনারীগণ । ঠাকুরের স্নান-মুহূর্তে অসংখ্য শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠল ।
সে অনেকদিন পূর্বের কথা । বড়দা সেবার কলকাতার নিকটবর্তী গঙ্গার উপকূলে সোদপুরে বাস করেন । ঠাকুরের কনিষ্ঠ পুত্র কাজলদা (ডাঃ প্রচেতারঞ্জন চক্রবর্ত্তী )বড়দার কাছে সাঁতার শিখতে চাইলেন। বড়দা বলেছিলেন, ঠাকুরের অনুমতি হলে শেখা হবে ।
এই ঘটনার বহুদিন পর একদিন কাজলদা ঠাকুরের কাছে সাঁতার শেখার জন্য নিবেদন করলেন এবং বড়দার কথা বাবাকে জানালেন, ঠাকুর তখন বললেন, আমিই তোকে সাঁতার শেখাবো
শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছা পূরণের জন্য বড়দা ঠাকুর বাংলার প্রাঙ্গণে সুইমিং পুল তৈরী করলেন ও (১৩ই জ্যৈষ্ঠ শুক্রবার উদ্বোধন দিবস) কনিষ্ঠ ভ্রাতাকে সাঁতার শেখাতে লাগলেন ।
২৭শে মে, ঠাকুর, বড়মা ট্রলিতে ক'রে গেলেন সাঁতার শেখানো দেখতে । বেলা প'ড়ে গেছে । সময় পাঁচটা পনের । সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়েছে, বড়দা তখন সাঁতার শেখাচ্ছিলেন কাজলদাকে, এমন সময় গেলেন ঠাকুর ও বড়মা । সাঁতার শেখানো উভয়েই উপভোগ করতে লাগলেন । কিছুক্ষণ পর বড়দা ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা জানালেন, বাবা স্নানে নামবেন নাকি ? স্নান করবেন ? নামুন না ।
ঠাকুর উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন স্নানের কথা শুনে, বললেন, আমি নামবো ? তারপর বড়মার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি স্নান করতে নামবো ?
বড়মা সহাস্যে সম্মতি দিলেন । ঠাকুরকে বড়দা হাত ধ'রে ঘাটে নামালেন, ঠাকুর বেশ আনন্দের সঙ্গে স্নান করলেন, সাঁতার কাটলেন, তারপর ছয়টা বিশ মিনিটে ফিরে এলেন পার্লারে । বর্তমানে এই দিনটি প্রতি বছর দেওঘরে পূণ্য-স্নানোৎসব হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
মহাজীবন
শ্রীপরেশ ভোরা
-------------------------
তথ্যসূত্রঃ ------- আলোচনা # আষাঢ়,১৩৮২
Satsang Bihar Dinajpur - সৎসঙ্গ বিহার দিনাজপুর