14/09/2026
🌺শ্রী গণেশ অষ্টকম্🌺
(গণেশ পুরাণ, উপাসনাখণ্ড)
শ্রী গণেশায় নমঃ।
সর্বে উচুঃ।
যতোঽনংতশক্তেরনংতাশ্চ জীবা
যতো নির্গুণাদপ্রমেয়া গুণাস্তে।
যতো ভাতি সর্বং ত্রিধা ভেদভিন্নং
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ১ ॥
যতশ্চাবিরাসীজ্জগত্সর্বমেত-
-ত্তথাব্জাসনো বিশ্বগো বিশ্বগোপ্তা।
তথেংদ্রাদয়ো দেবসংঘা মনুষ্য়াঃ
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ২ ॥
যতো বহ্নিভানূ ভবো ভূর্জলং চ
যতঃ সাগরাশ্চংদ্রমা ব্য়োম বায়ুঃ।
যতঃ স্থাবরা জংগমা বৃক্ষসংঘাঃ
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৩ ॥
যতো দানবাঃ কিন্নরা যক্ষসংঘা
যতশ্চারণা বারণাঃ শ্বাপদাশ্চ।
যতঃ পক্ষিকীটা যতো বীরুধশ্চ
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৪ ॥
যতো বুদ্ধিরজ্ঞাননাশো মুমুক্ষো-
-র্যতঃ সংপদো ভক্তসংতোষদাঃ স্য়ুঃ।
যতো বিঘ্ননাশো যতঃ কার্যসিদ্ধিঃ
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৫ ॥
যতঃ পুত্রসংপদ্যতো বাংছিতার্থো
যতোঽভক্তবিঘ্নাস্তথাঽনেকরূপাঃ।
যতঃ শোকমোহৌ যতঃ কাম এব
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৬ ॥
যতোঽনংতশক্তিঃ স শেষো বভূব
ধরাধারণেঽনেকরূপে চ শক্তঃ।
যতোঽনেকধা স্বর্গলোকা হি নানা
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৭ ॥
যতো বেদবাচো বিকুংঠা মনোভিঃ
সদা নেতি নেতীতি যত্তা গৃণংতি।
পরব্রহ্মরূপং চিদানংদভূতং
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৮ ॥
ফলশ্রুতি
শ্রীগণেশ উবাচ।
পুনরূচে গণাধীশঃ স্তোত্রমেতত্পঠেন্নরঃ।
ত্রিসংধ্য়ং ত্রিদিনং তস্য় সর্বকার্য়ং ভবিষ্যতি ॥ ৯ ॥
যো জপেদষ্টদিবসং শ্লোকাষ্টকমিদং শুভম্।
অষ্টবারং চতুর্থ্য়াং তু সোঽষ্টসিদ্ধীরবাপ্নুয়াত্ ॥ ১০ ॥
যঃ পঠেন্মাসমাত্রং তু দশবারং দিনে দিনে।
স মোচয়েদ্বংধগতং রাজবধ্য়ং ন সংশয়ঃ ॥ ১১ ॥
বিদ্য়াকামো লভেদ্বিদ্য়াং পুত্রার্থী পুত্রমাপ্নুয়াত্।
বাংছিতাঁল্লভতে সর্বানেকবিংশতিবারতঃ ॥ ১২ ॥
যো জপেত্পরয়া ভক্ত্য়া গজাননপরো নরঃ।
এবমুক্ত্বা ততো দেবশ্চাংতর্ধানং গতঃ প্রভুঃ ॥ ১৩ ॥
ইতি শ্রীগণেশপুরাণে উপাসনাখংডে শ্রীগণেশাষ্টকম্।
জয় শ্রী গণেশ। 🙏
🌺শ্রী গণেশ অষ্টকম-বাংলা অনুবাদ🌺
যাঁর অনন্ত শক্তি থেকে অসংখ্য জীবের উৎপত্তি,
যাঁর নির্গুণ সত্তা থেকে অপ্রমেয় গুণের আবির্ভাব,
যাঁর থেকে ত্রিগুণে ভেদভিন্ন এই জগৎ প্রকাশিত হয়—
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥১॥
যাঁর থেকে এই সমগ্র জগৎ আবির্ভূত হয়েছে,
পদ্মাসনে উপবিষ্ট ব্রহ্মা, বিশ্বের গতি ও রক্ষাকর্তা,
ইন্দ্রাদি দেবতাগণ ও মানুষ—সকলে যাঁর থেকে উদ্ভূত,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥২॥
যাঁর থেকে অগ্নি, সূর্য, শিব, পৃথিবী ও জল,
যাঁর থেকে সমুদ্র, চন্দ্র, আকাশ ও বায়ু,
যাঁর থেকে স্থবর-জঙ্গম ও বৃক্ষসমূহ উৎপন্ন,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৩॥
যাঁর থেকে দানব, কিন্নর, যক্ষগণ,
চারণ, হস্তী, বন্য পশু, পক্ষী, কীট ও লতাগুল্ম উদ্ভূত,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৪॥
যাঁর থেকে বুদ্ধি ও অজ্ঞানের নাশ হয়,
মুমুক্ষুর মোক্ষ ও ভক্তের তুষ্টিদায়ী সম্পদ আসে,
যাঁর থেকে বিঘ্ননাশ ও কার্যসিদ্ধি ঘটে,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৫॥
যাঁর থেকে পুত্রলাভ ও বাঞ্ছিত অর্থসিদ্ধি হয়,
অভক্তদের নানা রূপের বিঘ্নও যাঁর থেকে আসে,
শোক, মোহ ও কামও যাঁর থেকে উদ্ভূত,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৬॥
যাঁর অনন্ত শক্তি থেকে শেষনাগ ধরণী ধারণ করেন,
নানা রূপে পৃথিবী ধারণে সমর্থ হন,
যাঁর থেকে নানা স্বর্গলোক সৃষ্ট,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৭॥
যাঁকে বেদবাণী ও মনও “নেতি নেতি” বলে বর্ণনায় অক্ষম,
যিনি পরব্রহ্মস্বরূপ, চিদানন্দময়,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৮॥
ফলশ্রুতি (সংক্ষেপে)
এই স্তোত্র ত্রিসন্ধ্যায় তিন দিন পাঠ করলে সকল কাজ সিদ্ধ হয়।
আট দিন আটবার, বিশেষত চতুর্থীতে পাঠে অষ্টসিদ্ধি লাভ হয়।
এক মাস প্রতিদিন দশবার পাঠে বন্দিদশা ও রাজভয় থেকে মুক্তি হয়।
বিদ্যা, পুত্র ও বাঞ্ছিত সবই একুশবার পাঠে লাভ হয়।
পরম ভক্তি সহকারে গজাননের এই স্তোত্র জপ করলে কল্যাণ হয়।
🌺শ্রী গণেশ অষ্টকম — মাহাত্ম্য ও পাঠের নিয়ম🌺
মাহাত্ম্য
গণেশ পুরাণে বলা হয়েছে, এই অষ্টকম ভক্তিভরে পাঠ করলে বিঘ্ন দূর হয়, কার্যসিদ্ধি হয় এবং গণেশের কৃপা লাভ হয়।
ত্রিসন্ধ্যায় টানা তিন দিন পাঠ করলে সকল কাজ সিদ্ধ হয়।
আট দিন ধরে প্রতিদিন আটবার, বিশেষত শুক্লা চতুর্থীতে পাঠ করলে অষ্টসিদ্ধি লাভ হয়।
এক মাস প্রতিদিন দশবার পাঠ করলে বন্দিত্ব, রাজভয় ও কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি হয়।
একুশবার পাঠে বিদ্যা, সন্তান ও বাঞ্ছিত ফল লাভ হয়।
পরম ভক্তি সহকারে নিয়মিত জপ করলে জ্ঞান, বুদ্ধি, শান্তি ও মঙ্গল বৃদ্ধি পায়।
পাঠের নিয়ম
১. স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করুন।
২. শুদ্ধ আসনে পূর্ব বা উত্তরমুখে বসুন।
৩. গণেশের মূর্তি বা ছবি সামনে রাখুন। সম্ভব হলে দূর্বা, সিঁদুর, মিষ্টি বা মোদক নিবেদন করুন।
৪. প্রথমে বলুন:
ওঁ গণেশায় নমঃ
ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ
৫. তারপর অষ্টকম আটটি শ্লোক মনোযোগ সহকারে পাঠ করুন। শেষে ফলশ্রুতিও পড়তে পারেন।
৬. উত্তম সময়: ভোর, সন্ধ্যা, বুধবার, শুক্লা চতুর্থী ও গণেশ চতুর্থী।
৭. নতুন কাজ শুরুর আগে, পরীক্ষা, ব্যবসা, বিবাহ বা যে কোনো শুভ অনুষ্ঠানের পূর্বে পাঠ বিশেষ ফলদায়ক।
৮. পাঠ শেষে প্রার্থনা করুন:
“হে গজানন, আমার সকল বিঘ্ন দূর করো, বুদ্ধি দাও, কার্যসিদ্ধি দাও।”
সংক্ষিপ্ত দৈনিক নিয়ম
প্রতিদিন একবার সম্পূর্ণ অষ্টকম পড়লেও উপকার হয়।
বিশেষ ফলের জন্য:
সাধারণ কাজের সিদ্ধিতে — ৩ দিন, দিনে ৩ বার
বড় বাধা দূর করতে — ৮ দিন, দিনে ৮ বার
গভীর সাধনায় — ২১ দিন বা ৪০ দিন নিয়মিত পাঠ
জয় শ্রী গণেশ। 🙏