Pollob Chakroborty Tutul

Directions Contact the place of worship

Pollob Chakroborty Tutul সনাতন ধর্মাবলম্বী বিষয়ে জানতে আমাদের পেজটিতে ফলো দিয়ে পাশে থাকুন।জয় শ্রী কৃষ্ণ 🌿🙏🌿জয় রাধে 🌿🙏🌿

শনিবার মানেই শনিদেবের মহিমা স্মরণ ও ভক্তিভরে তাঁর দর্শন লাভের শুভ দিন। কালো তিলের প্রদীপ জ্বালিয়ে শুদ্ধ চিত্তে প্রভুর আর...
26/09/2026

শনিবার মানেই শনিদেবের মহিমা স্মরণ ও ভক্তিভরে তাঁর দর্শন লাভের শুভ দিন। কালো তিলের প্রদীপ জ্বালিয়ে শুদ্ধ চিত্তে প্রভুর আরাধনা করলে জীবনের পথ সুগম ও বাধামুক্ত হয়। জয় শনিদেব 🙏🌸🌿

#জাগ্রতচেতনা

প্রশ্নঃ--রাধা অষ্টমী কি?? আমাদের কেন রাধা অষ্টমী ব্রত পালন করা উচিত???==================================উত্তরঃ--রাধা অষ্...
18/09/2026

প্রশ্নঃ--রাধা অষ্টমী কি?? আমাদের কেন রাধা অষ্টমী ব্রত পালন করা উচিত???
==================================
উত্তরঃ--রাধা অষ্টমী হচ্ছে শ্রীমতি রাধারানীর আবির্ভাব তিথী। রাধারানী ভাদ্রমাসের শুক্লাষ্টমী তিথীতে ধরিত্রীকে পবিত্র করে আবির্ভুত হয়েছিলেন। বৈষ্ণব সম্প্রাদায়ের মধ্যে এই অষ্টমী তিথী মহাসমারোহে দীর্ঘদিন ধরে উদযাপিত হয়ে আসছে। তবে সাধারন মানুষের মধ্যে এর প্রভাব খানিকটা কম। ভগবান শ্রী কৃষ্ণের হৃদিনী শক্তির প্রতিরুপ স্বরূপা হচ্ছেন রাধাঠাকুরানী।
রাধাষ্টমী ব্রত পালনের কথা বর্নিত করে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তির জীবনে একবারের জন্যেও এ মহান ব্রত পালন করেন তবে তার কোটি জন্মার্জিত ব্রহ্মহত্যাদির মত মহাপাপও তৎক্ষণাৎ ক্ষমা হয়ে যান। শত সহস্র একাদশী ব্রত পালনে যে ফল লাভ হয়, রাধাষ্টমী ব্রত পালনে তার শতাধিক ফল লাভ হয়। পুরানে আরো বর্নিত রয়েছে যে, কোন পাপিষ্ট ব্যাক্তি যদি হেলায় বা অশ্রদ্ধায় এ মহান ব্রত পালন করেন তাহলে ও তার বৈকুণ্ঠলোকে গতি হয়। পদ্মপুরাণের সর্গখন্ডের চল্লিশতম অধ্যায়ে এমনই এক কাহিনী বর্ণিত রয়েছে।
পুরাকালে সত্যযুগে লীলাবতী নামে এক পতিতা বাস করতেন।একদিন সকালে নগর ভ্রমনকালে এক সুসজ্জিত মন্দিরে রাধাঠাকুরানীর পূজা উদযাপন দেখতে পেয়ে ব্রতীদের কাছে ঐ পতিতা ছুটে গেলেন। গিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, "হে পূণ্যাত্মা সকল তোমরা এত সাত সকালে অতি যত্ন সহকারে কোন ব্রত উদযাপন করছ"? তদত্তুরে রাধাব্রতীগণ বলতে লাগলেন যেহেতু ভাদ্র মাসের সীতাষ্টমীতে শ্রীমতি রাধিকা আবির্ভুত হয়েছিলেন, আমরা সেই রাধাষ্টমী ব্রত পালন করছি। এই অষ্টমীব্রত গোঘাত জনিত পাপ, ব্রহ্মহত্যা জনিত অথবা স্ত্রী হত্যা জনিত পাপ সহ সকল পাপই নাশ করতে সক্ষম।
তাদের কাছ থেকে রাধাষ্টমীর মহিমা শ্রবণ করে সেই পতিতাও স্বেচ্ছায় ব্রত পালনে সংকল্প বদ্ধ হলেন এবং ভক্তগণের সহিত যথাযথভাবে ব্রত পালন করলেন। পরদিন সর্পদংশনে সেই পতিতার মৃত্যু হল। যমদূতেরা ক্রুদ্ধচিত্তে তাকে বন্ধন করে সাথে নিয়ে যমালয়ের দিকে যাত্রা শুরু করলেন। পথিমধ্যে শঙ্খ, চক্র, গদ, পদ্মধারী ভগবান বিষ্ণুর দূতগণ উপস্হিত হয়ে লীলাবতীর সকল বন্ধন ছেদন করে দিলেন এবং তাকে সঙ্গে করে রাজহংসযুক্ত দিব্য বিমানে বৈকুণ্ঠলোকে গমন করলেন। এই ভাবে অধঃপতিত বেশ্যাও কেবল মাত্র রাধাষ্টমী পালন করার ফলে সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়ে সরাসরি বৈকুণ্ঠ ধামে গমন করলেন।
যে এ রাধাষ্টমী ব্রত পালন করেন না শতকোটি কল্পেও তার নরক হত

রাত পোহালেই আগামীকাল রাধাষ্টমী ব্রত 🌸🌿ভক্তিভরে জপ করুন শ্রীরাধিকার নাম 🌿রাধে রাধে 🙏🏻🌸🌿       #জাগ্রতচেতনা
18/09/2026

রাত পোহালেই আগামীকাল রাধাষ্টমী ব্রত 🌸🌿
ভক্তিভরে জপ করুন শ্রীরাধিকার নাম 🌿
রাধে রাধে 🙏🏻🌸🌿

#জাগ্রতচেতনা

🌺শ্রী গণেশ অষ্টকম্🌺(গণেশ পুরাণ, উপাসনাখণ্ড)শ্রী গণেশায় নমঃ।সর্বে উচুঃ।যতোঽনংতশক্তেরনংতাশ্চ জীবাযতো নির্গুণাদপ্রমেয়া গু...
14/09/2026

🌺শ্রী গণেশ অষ্টকম্🌺
(গণেশ পুরাণ, উপাসনাখণ্ড)

শ্রী গণেশায় নমঃ।
সর্বে উচুঃ।
যতোঽনংতশক্তেরনংতাশ্চ জীবা
যতো নির্গুণাদপ্রমেয়া গুণাস্তে।
যতো ভাতি সর্বং ত্রিধা ভেদভিন্নং
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ১ ॥
যতশ্চাবিরাসীজ্জগত্সর্বমেত-
-ত্তথাব্জাসনো বিশ্বগো বিশ্বগোপ্তা।
তথেংদ্রাদয়ো দেবসংঘা মনুষ্য়াঃ
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ২ ॥
যতো বহ্নিভানূ ভবো ভূর্জলং চ
যতঃ সাগরাশ্চংদ্রমা ব্য়োম বায়ুঃ।
যতঃ স্থাবরা জংগমা বৃক্ষসংঘাঃ
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৩ ॥
যতো দানবাঃ কিন্নরা যক্ষসংঘা
যতশ্চারণা বারণাঃ শ্বাপদাশ্চ।
যতঃ পক্ষিকীটা যতো বীরুধশ্চ
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৪ ॥
যতো বুদ্ধিরজ্ঞাননাশো মুমুক্ষো-
-র্যতঃ সংপদো ভক্তসংতোষদাঃ স্য়ুঃ।
যতো বিঘ্ননাশো যতঃ কার্যসিদ্ধিঃ
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৫ ॥
যতঃ পুত্রসংপদ্যতো বাংছিতার্থো
যতোঽভক্তবিঘ্নাস্তথাঽনেকরূপাঃ।
যতঃ শোকমোহৌ যতঃ কাম এব
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৬ ॥
যতোঽনংতশক্তিঃ স শেষো বভূব
ধরাধারণেঽনেকরূপে চ শক্তঃ।
যতোঽনেকধা স্বর্গলোকা হি নানা
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৭ ॥
যতো বেদবাচো বিকুংঠা মনোভিঃ
সদা নেতি নেতীতি যত্তা গৃণংতি।
পরব্রহ্মরূপং চিদানংদভূতং
সদা তং গণেশং নমামো ভজামঃ ॥ ৮ ॥

ফলশ্রুতি
শ্রীগণেশ উবাচ।
পুনরূচে গণাধীশঃ স্তোত্রমেতত্পঠেন্নরঃ।
ত্রিসংধ্য়ং ত্রিদিনং তস্য় সর্বকার্য়ং ভবিষ্যতি ॥ ৯ ॥
যো জপেদষ্টদিবসং শ্লোকাষ্টকমিদং শুভম্।
অষ্টবারং চতুর্থ্য়াং তু সোঽষ্টসিদ্ধীরবাপ্নুয়াত্ ॥ ১০ ॥
যঃ পঠেন্মাসমাত্রং তু দশবারং দিনে দিনে।
স মোচয়েদ্বংধগতং রাজবধ্য়ং ন সংশয়ঃ ॥ ১১ ॥
বিদ্য়াকামো লভেদ্বিদ্য়াং পুত্রার্থী পুত্রমাপ্নুয়াত্।
বাংছিতাঁল্লভতে সর্বানেকবিংশতিবারতঃ ॥ ১২ ॥
যো জপেত্পরয়া ভক্ত্য়া গজাননপরো নরঃ।
এবমুক্ত্বা ততো দেবশ্চাংতর্ধানং গতঃ প্রভুঃ ॥ ১৩ ॥
ইতি শ্রীগণেশপুরাণে উপাসনাখংডে শ্রীগণেশাষ্টকম্।
জয় শ্রী গণেশ। 🙏

🌺শ্রী গণেশ অষ্টকম-বাংলা অনুবাদ🌺

যাঁর অনন্ত শক্তি থেকে অসংখ্য জীবের উৎপত্তি,
যাঁর নির্গুণ সত্তা থেকে অপ্রমেয় গুণের আবির্ভাব,
যাঁর থেকে ত্রিগুণে ভেদভিন্ন এই জগৎ প্রকাশিত হয়—
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥১॥
যাঁর থেকে এই সমগ্র জগৎ আবির্ভূত হয়েছে,
পদ্মাসনে উপবিষ্ট ব্রহ্মা, বিশ্বের গতি ও রক্ষাকর্তা,
ইন্দ্রাদি দেবতাগণ ও মানুষ—সকলে যাঁর থেকে উদ্ভূত,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥২॥
যাঁর থেকে অগ্নি, সূর্য, শিব, পৃথিবী ও জল,
যাঁর থেকে সমুদ্র, চন্দ্র, আকাশ ও বায়ু,
যাঁর থেকে স্থবর-জঙ্গম ও বৃক্ষসমূহ উৎপন্ন,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৩॥
যাঁর থেকে দানব, কিন্নর, যক্ষগণ,
চারণ, হস্তী, বন্য পশু, পক্ষী, কীট ও লতাগুল্ম উদ্ভূত,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৪॥
যাঁর থেকে বুদ্ধি ও অজ্ঞানের নাশ হয়,
মুমুক্ষুর মোক্ষ ও ভক্তের তুষ্টিদায়ী সম্পদ আসে,
যাঁর থেকে বিঘ্ননাশ ও কার্যসিদ্ধি ঘটে,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৫॥
যাঁর থেকে পুত্রলাভ ও বাঞ্ছিত অর্থসিদ্ধি হয়,
অভক্তদের নানা রূপের বিঘ্নও যাঁর থেকে আসে,
শোক, মোহ ও কামও যাঁর থেকে উদ্ভূত,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৬॥
যাঁর অনন্ত শক্তি থেকে শেষনাগ ধরণী ধারণ করেন,
নানা রূপে পৃথিবী ধারণে সমর্থ হন,
যাঁর থেকে নানা স্বর্গলোক সৃষ্ট,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৭॥
যাঁকে বেদবাণী ও মনও “নেতি নেতি” বলে বর্ণনায় অক্ষম,
যিনি পরব্রহ্মস্বরূপ, চিদানন্দময়,
সেই গণেশকে আমরা সদা নমস্কার ও ভজন করি। ॥৮॥

ফলশ্রুতি (সংক্ষেপে)
এই স্তোত্র ত্রিসন্ধ্যায় তিন দিন পাঠ করলে সকল কাজ সিদ্ধ হয়।
আট দিন আটবার, বিশেষত চতুর্থীতে পাঠে অষ্টসিদ্ধি লাভ হয়।
এক মাস প্রতিদিন দশবার পাঠে বন্দিদশা ও রাজভয় থেকে মুক্তি হয়।
বিদ্যা, পুত্র ও বাঞ্ছিত সবই একুশবার পাঠে লাভ হয়।
পরম ভক্তি সহকারে গজাননের এই স্তোত্র জপ করলে কল্যাণ হয়।

🌺শ্রী গণেশ অষ্টকম — মাহাত্ম্য ও পাঠের নিয়ম🌺
মাহাত্ম্য
গণেশ পুরাণে বলা হয়েছে, এই অষ্টকম ভক্তিভরে পাঠ করলে বিঘ্ন দূর হয়, কার্যসিদ্ধি হয় এবং গণেশের কৃপা লাভ হয়।
ত্রিসন্ধ্যায় টানা তিন দিন পাঠ করলে সকল কাজ সিদ্ধ হয়।
আট দিন ধরে প্রতিদিন আটবার, বিশেষত শুক্লা চতুর্থীতে পাঠ করলে অষ্টসিদ্ধি লাভ হয়।
এক মাস প্রতিদিন দশবার পাঠ করলে বন্দিত্ব, রাজভয় ও কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি হয়।
একুশবার পাঠে বিদ্যা, সন্তান ও বাঞ্ছিত ফল লাভ হয়।
পরম ভক্তি সহকারে নিয়মিত জপ করলে জ্ঞান, বুদ্ধি, শান্তি ও মঙ্গল বৃদ্ধি পায়।
পাঠের নিয়ম
১. স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করুন।
২. শুদ্ধ আসনে পূর্ব বা উত্তরমুখে বসুন।
৩. গণেশের মূর্তি বা ছবি সামনে রাখুন। সম্ভব হলে দূর্বা, সিঁদুর, মিষ্টি বা মোদক নিবেদন করুন।
৪. প্রথমে বলুন:
ওঁ গণেশায় নমঃ
ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ
৫. তারপর অষ্টকম আটটি শ্লোক মনোযোগ সহকারে পাঠ করুন। শেষে ফলশ্রুতিও পড়তে পারেন।
৬. উত্তম সময়: ভোর, সন্ধ্যা, বুধবার, শুক্লা চতুর্থী ও গণেশ চতুর্থী।
৭. নতুন কাজ শুরুর আগে, পরীক্ষা, ব্যবসা, বিবাহ বা যে কোনো শুভ অনুষ্ঠানের পূর্বে পাঠ বিশেষ ফলদায়ক।
৮. পাঠ শেষে প্রার্থনা করুন:
“হে গজানন, আমার সকল বিঘ্ন দূর করো, বুদ্ধি দাও, কার্যসিদ্ধি দাও।”
সংক্ষিপ্ত দৈনিক নিয়ম
প্রতিদিন একবার সম্পূর্ণ অষ্টকম পড়লেও উপকার হয়।
বিশেষ ফলের জন্য:
সাধারণ কাজের সিদ্ধিতে — ৩ দিন, দিনে ৩ বার
বড় বাধা দূর করতে — ৮ দিন, দিনে ৮ বার
গভীর সাধনায় — ২১ দিন বা ৪০ দিন নিয়মিত পাঠ
জয় শ্রী গণেশ। 🙏








সাতক্ষীরার ঈশ্বরীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা যশোরেশ্বরী কালীমন্দির শুধু একটি প্রাচীন মন্দির নয়, এটি দক্ষিণ বাংলার বিস্মৃত ইতিহাসের...
12/09/2026

সাতক্ষীরার ঈশ্বরীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা যশোরেশ্বরী কালীমন্দির শুধু একটি প্রাচীন মন্দির নয়, এটি দক্ষিণ বাংলার বিস্মৃত ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। শাক্ত বিশ্বাসে এটি সতীপীঠ, যেখানে সতীর করকমল পতিত হয়েছিল বলে প্রচলিত। আবার ইতিহাসের পাতা খুললে এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে যায় মহারাজা প্রতাপাদিত্যের নাম এবং তাঁর রাজধানী ঈশ্বরীপুরের কথা। একসময় যে জনপদ ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, আজ সেখানে অতীতের সেই জৌলুসের খুব সামান্যই অবশিষ্ট।

১০০ দরজার প্রাচীন মন্দিরের কাহিনি, অদ্ভুত আলোর কিংবদন্তি, হারিয়ে যাওয়া নাটমন্দির, প্রায় ২০০ বিঘা জমির স্মৃতি এবং ১৯৭১-এর পরের পরিবর্তন—সব মিলিয়ে যশোরেশ্বরীর ইতিহাস এক দীর্ঘ সময়ের দলিল। ২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদীর মন্দির দর্শনের পর এটি আবার আলোচনায় আসে। কয়েক শতকের এই ইতিহাসে ধর্মের পাশাপাশি রয়েছে রাজনীতি, স্থাপত্য এবং মানুষের স্মৃতিও।

----

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর। আজ শান্ত, সবুজে ঘেরা এক জনপদ। অথচ কয়েক শতক আগে এই জায়গাটিই ছিল দক্ষিণ বাংলার এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র। এই ঈশ্বরীপুরের বুকেই দাঁড়িয়ে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির—শাক্ত বিশ্বাসে এক পবিত্র সতীপীঠ। প্রচলিত মতে, সতীর করকমল বা হাতের অংশ এখানে পতিত হয়েছিল। তাই দেবী এখানে যশোরেশ্বরী নামে পূজিতা। তবে এই মন্দিরের ইতিহাস শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসে আটকে নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বৃহত্তর যশোর, মহারাজা প্রতাপাদিত্য, হারিয়ে যাওয়া রাজধানী, প্রাচীন স্থাপত্য, ১৯৭১-এর স্মৃতি এবং কয়েক শতকের সামাজিক পরিবর্তন।

যশোরেশ্বরী নামের অর্থ সাধারণভাবে ধরা হয় ‘যশোরের ঈশ্বরী’। একসময় বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের সঙ্গে এই জনপদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মন্দিরটির প্রাচীন প্রতিষ্ঠা নিয়ে অবশ্য একাধিক কাহিনি প্রচলিত। একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী, আনারি নামে এক ব্রাহ্মণ এখানে দেবীর আরাধনা শুরু করেন এবং পরে একটি বিশাল মন্দির নির্মিত হয়। সেই মন্দিরে নাকি ছিল ১০০টি দরজা। কিন্তু এই নির্মাণের নির্দিষ্ট সময়কাল নিয়ে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে ১০০ দরজার কাহিনি আজ ইতিহাসের পাশাপাশি লোকস্মৃতিরও অংশ।

আরও একটি সূত্রে মন্দিরের সঙ্গে সেন যুগের সম্পর্কের কথা পাওয়া যায়। কোথাও লক্ষ্মণ সেনের সংস্কারের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এই দাবির পক্ষে সুস্পষ্ট প্রাচীন নথি পাওয়া কঠিন। তাই মন্দিরের প্রথম প্রতিষ্ঠা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের বদলে বলা যায়, বহু শতক ধরে এই স্থানটি ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে এসেছে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শাসকের আমলে এর গুরুত্ব ও স্থাপত্যে পরিবর্তন ঘটেছে।

ষোড়শ শতকের শেষভাগে এই অঞ্চলের ইতিহাসে প্রবেশ করেন মহারাজা প্রতাপাদিত্য। আনুমানিক ১৫৯০ থেকে ১৬১০ সালের মধ্যে ঈশ্বরীপুর তাঁর রাজধানী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতাপাদিত্য ছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার শক্তিশালী আঞ্চলিক শাসকদের অন্যতম। তাঁর রাজধানীকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল প্রশাসনিক ও ধর্মীয় পরিসর। সেই সময়ের স্মৃতি আজও ছড়িয়ে রয়েছে ঈশ্বরীপুরের বিভিন্ন প্রাচীন স্থাপনায়। যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরের সঙ্গে প্রতাপাদিত্যের নামও এই কারণেই গভীরভাবে জড়িয়ে যায়।

মন্দিরের উৎপত্তি নিয়ে সবচেয়ে পরিচিত কাহিনিটিও প্রতাপাদিত্যের সময়কে ঘিরে। প্রচলিত গল্পে বলা হয়, তাঁর এক সেনাপতি জঙ্গলের মধ্যে অদ্ভুত এক আলোর রেখা দেখতে পেয়েছিলেন। সেই আলো অনুসরণ করে তিনি একটি পাথর আবিষ্কার করেন, যার আকৃতি নাকি মানুষের হাতের তালুর মতো। ঘটনাটিকে দেবীর আবির্ভাব হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং সেই স্থানেই শুরু হয় উপাসনা। ইতিহাসের নথিতে এই ঘটনার প্রমাণ নেই, কিন্তু স্থানীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যে এই কাহিনির গুরুত্ব আজও যথেষ্ট।

একসময় যশোরেশ্বরী মন্দিরের পরিসর বর্তমান কাঠামোর তুলনায় অনেক বড় ছিল। মন্দিরের সঙ্গে একটি বিশাল নাটমন্দিরও ছিল। ভক্তরা সেখানে সমবেত হতেন এবং সেখান থেকেই দেবীর দর্শন করা যেত। আজ সেই পুরনো নাটমন্দির নেই। কয়েকটি স্তম্ভ তার অস্তিত্বের স্মৃতি বহন করে। বিভিন্ন বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের সময় ও তার পরবর্তী পর্যায়ে প্রাচীন কাঠামোটি ভেঙে পড়ে এবং মন্দিরের পুরনো জাঁকজমকের বড় অংশ হারিয়ে যায়।

মন্দিরের সঙ্গে প্রায় ২০০ বিঘা জমির কথাও প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, দেবীর সেবাপূজা ও মন্দির পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ জমি দান করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পত্তির বড় অংশ মন্দিরের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে স্থানীয়ভাবে দাবি রয়েছে। ফলে যশোরেশ্বরীর ইতিহাস শুধু মন্দিরের গর্ভগৃহ বা প্রতিমাকে ঘিরে নয়, তার সঙ্গে যুক্ত বিস্তৃত সম্পত্তি ও সামাজিক কাঠামোর ইতিহাসও।

ঈশ্বরীপুরের গুরুত্ব বোঝার জন্য শুধু যশোরেশ্বরী মন্দিরের দিকে তাকালেই হবে না। আশপাশে এখনও চণ্ড ভৈরব মন্দির, টেঙ্গা মসজিদ, হাম্মামখানা এবং অন্যান্য পুরনো স্থাপত্যের নিদর্শন রয়েছে। অর্থাৎ যে জায়গাকে আজ একটি সাধারণ গ্রাম বলে মনে হয়, সেখানে একসময় ধর্ম, রাজনীতি ও স্থাপত্যের এক সমৃদ্ধ পরিসর তৈরি হয়েছিল। এমনকি প্রতাপাদিত্যের সময় পর্তুগিজ খ্রিস্টানদের উপস্থিতিরও ঐতিহাসিক উল্লেখ পাওয়া যায়। একই ভূখণ্ডে তাই শাক্ত উপাসনা, হিন্দু রাজশক্তি, ইসলামি স্থাপত্য এবং ইউরোপীয় ধর্মীয় উপস্থিতির চিহ্ন পাশাপাশি দেখা যায়।

১৯৭১-এর আগে মন্দিরে নিয়মিত দৈনিক পূজার প্রচলন ছিল বলে বিভিন্ন বিবরণে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে সেই ধারায় পরিবর্তন আসে। মঙ্গলবার ও শনিবার বিশেষ পূজার পাশাপাশি কালীপুজো হয়ে ওঠে অন্যতম প্রধান বার্ষিক আয়োজন। স্থানীয় মানুষের মধ্যে মন্দিরকে ঘিরে ধর্মীয় আবেগও বজায় থাকে। শুধু হিন্দু ভক্ত নন, স্থানীয় মুসলিমদেরও মানত করতে আসার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০২১ সালের ২৭ মার্চ যশোরেশ্বরী আবার নতুন করে ভারতজুড়ে আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্দিরে এসে দেবীর পূজা করেন। তিনি দেবীর জন্য রুপোর উপর সোনার প্রলেপ দেওয়া একটি মুকুট অর্পণ করেন। মন্দিরের জন্য বহুমুখী সভাগৃহ ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের সহায়তার কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল। কয়েক বছরের মধ্যেই সেই মুকুট চুরির ঘটনায় মন্দিরের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের বিষয়টি আবার সামনে আসে। আজকের যশোরেশ্বরী তাই শুধু একটি প্রাচীন মন্দির নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া এক রাজধানীর দৃশ্যমান স্মৃতি, যেখানে কিংবদন্তি, রাজনীতি, ধর্ম এবং ইতিহাস কয়েক শতক ধরে পাশাপাশি পথ চলেছে।

হরে কৃষ্ণ 🙏আপনি কতটা ভাগ্যবান! ঘুম থেকে উঠেই ভগবানের দর্শন পেয়েছেন। ❤️🙏একবার মন থেকে বলুন— রাধা রাধা 🙏🙏
10/09/2026

হরে কৃষ্ণ 🙏
আপনি কতটা ভাগ্যবান! ঘুম থেকে উঠেই ভগবানের দর্শন পেয়েছেন। ❤️🙏
একবার মন থেকে বলুন— রাধা রাধা 🙏🙏

May Kanha's blessings fill your life with love, peace & happiness!🤍🦚Happy Janmashtami, Kanha!🦚
04/09/2026

May Kanha's blessings fill your life with love, peace & happiness!🤍🦚

Happy Janmashtami, Kanha!🦚

🌿🌺 মনসা প্রণাম মন্ত্র 🌺🌿মা মনসার চরণে ভক্তিভরে প্রণাম জানিয়ে তাঁর কৃপা প্রার্থনা করি। 🙏🌺মায়ের আশীর্বাদে সকলের জীবন হোক শ...
18/08/2026

🌿🌺 মনসা প্রণাম মন্ত্র 🌺🌿

মা মনসার চরণে ভক্তিভরে প্রণাম জানিয়ে তাঁর কৃপা প্রার্থনা করি। 🙏🌺
মায়ের আশীর্বাদে সকলের জীবন হোক শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলময়। 🌿✨

আস্তীকস্য মুনর্মাতা ভগিনী বাসুকেস্তথা।
জরৎকারু-মুনি-পত্নী মনসা দেবী নমোহস্তুতে।

অর্থ:
যিনি আস্তীক মুনিএর মাতা, নাগরাজ বাসুকীর ভগিনী (বোন) এবং জরৎকারু মুনির পত্নী (স্ত্রী), সেই দেবী মনসাকে আমি প্রণাম জানাই।

🌿🐍 জয় মা মনসা দেবী 🐍🌿

#জয়মামনসা #মনসাদেবী #মনসাপূজা #মনসাপ্রণামমন্ত্র #নাগদেবী #সনাতনধর্ম #সনাতনী #ভক্তি #পূজা #মায়েরকৃপা #জয়মনসামা #কৃষ্ণপ্রেমী কৃষ্ণপ্রেমী

Address

Dinajpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Pollob Chakroborty Tutul posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Pollob Chakroborty Tutul:

Shortcuts

Share