16/03/2024
এই যে রমজান মাসে দ্বীনি হালাকা করতে গিয়ে মুসলিম ছাত্ররা মার খেল, ক্লাসে হাদিস বলায় শিক্ষকের চাকুরি হারাতে হল, জনপরিসরে ইসলাম পালনের উপর নানারকম সীমাবদ্ধতা, বাধ্যবাধকতা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে লাগল, এগুলো নিয়ে সমাজের কত পার্সেন্ট মুসলিম সচেতন?
অথচ এগুলো নিয়ে ব্যথিত হওয়া এবং এগুলো নিয়ে আওয়াজ তোলা মুসলিম সমাজের জন্য আবশ্যক ছিল। আপনার ঈমানের নিদর্শন কি? সমাজে মন্দ বিষয় প্রতিষ্ঠিত হলে, আপনার দ্বীন ও উম্মাহ কোনভাবে আক্রান্ত হলে আপনি ব্যথিত হবেন, সোচ্চার হবেন। যার ভিতর এই তরপ ও জাগরণ আসে না, সে আসলে ঈমানের নুর থেকে বঞ্চিত হয়ে জীবনযাপন করছে। তার ঈমানকে সত্যিকার ঈমান বলা যায় না। এতো দ্বীন ও উম্মাহর সাথে নিফাক, প্রতারণা!
আপনি পরিপূর্ণরূপে ইসলাম পালন করতে না পারেন, কিন্তু ঈমানের আলামতটা তো নিজের ভিতর ধারণ করতে পারেন এবং সেটাকে প্রকাশ করতে পারেন?
একজন সেলিব্রেটি, গায়ক, নায়ক, খেলোয়ারের কিছু হলে যে পরিমাণ বেদনা, সচেতনতা, তৎপরতা ও কোলাহল এই প্রজন্মের মাঝে দেখা যায়, তার কিঞ্চিতও দ্বীন ও উম্মাহর ইস্যুতে দেখা যায় না। একজন অমুসলিম কিংবা অশ্লিলতার প্রমোটার অথবা অনর্থক বিষয়ের ধারকবাহক ব্যক্তির মূল্যের চেয়েও দ্বীন ও উম্মাহর ইস্যু আজকে মুসলিমদের কাছে সামান্য হয়ে গেছে। এই মুসলিম সমাজের ব্যাপারেই তো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, স্রোতে ভাসা খড়খুটা।
আমরা সংখ্যায় বলি ৯০%, কিন্তু আদতে আমরা হলাম হাদিসে বর্ণিত স্রোতে ভাসা খড়খুটার ন্যায়। এই খড়খুটাকে গিলে ফেলার জন্য চারপাশের পশুরা নিয়মিত পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে আর দস্তরখানা প্রস্তুত করে একে অপরকে সুস্বাদু খাবার গ্রহণের জন্য আহবান করছে। কিন্তু খড়খুটার জাতির কোন হুশ নেই, নেই সচেতনতা, নেই কর্মতৎপরতা আর হুংকার।
©Iftekhar Sifat