22/04/2026
বিদআতীদের সাথে বসা থেকে বিরত থাকা — আহলুস সুন্নাহর একটি মূলনীতি
খালিদ বিন সৌদ আল-বুলাইহিদ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দরুদ ও সালাম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর। এরপর—
কুরআন প্রমাণ করে যে বিদআতীদের সাথে বসা নিষিদ্ধ।
* আল্লাহ বলেনঃ “আর তিনি তোমাদের প্রতি কিতাবে নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে শুনবে, তখন তাদের সাথে বসো না, যতক্ষণ না তারা অন্য কথায় প্রবেশ করে। নিশ্চয়ই তোমরা তখন তাদের মতো হয়ে যাবে।”
ইবন জারীর বলেনঃ
এই আয়াতে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে—সব ধরনের বাতিলপন্থী, বিদআতী ও পাপাচারীদের সাথে তাদের বাতিল আলোচনায় লিপ্ত অবস্থায় বসা নিষিদ্ধ।
রাসূলের সুন্নাহ থেকেও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মানুষ তার সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়। যে আহলুস সুন্নাহর সাথে থাকে, সে সুন্নী হয়; আর যে বিদআতীদের সাথে থাকে, সে বিদআতী হয়।
* রাসূল ﷺ বলেছেনঃ “সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হলো—মিস্ক বহনকারী ও কামারের হাপরের…” (সহীহ)
* আরও বলেছেনঃ “মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে—তাই সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে তা দেখুক।”
* এবং বলেছেনঃ “মানুষ তার সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।”
- সুফিয়ান আস-সাওরী বলেনঃ মানুষের নষ্ট হওয়া বা ভালো হওয়ার ক্ষেত্রে সঙ্গীর মতো প্রভাবশালী কিছু নেই। যে এ কথা অস্বীকার করে, সে শরীয়তের বিরোধিতা করে।
ইতিহাসে বহু আলেম ও আবেদ ছিলেন, যারা সুন্নাহর ওপর ছিলেন, কিন্তু বিদআতীদের সাথে মেলামেশা, তাদের কাছ থেকে দীন শেখা বা তাদের প্রভাবে পড়ে বিদআতে চলে গেছেন।
- সুফিয়ান আস-সাওরী আরও বলেনঃ যে ব্যক্তি বিদআতীর সাথে বসে, সে তিনটির একটিতে পড়বেই— ১. অন্যদের জন্য ফিতনার কারণ হবে, ২. তার অন্তরে সন্দেহ ঢুকে তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে, অথবা ৩. সে আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে বলবে “আমি নিরাপদ”—কিন্তু আল্লাহ তার দীন কেড়ে নেবেন।”
⸻
বিদআতীদের সাথে বসার ক্ষতি
বিদআতীদের সাথে বসা ও বন্ধুত্বের ফলে মারাত্মক ক্ষতি হয়ঃ
•মুমিন সুন্নাহ থেকে সরে গিয়ে বিদআতে পড়ে
•আকীদা ও মানহাজে বিভ্রান্তি আসে
•সন্দেহ ও কুমন্ত্রণা প্রবেশ করে
•বাতিলপন্থীদের প্রতি অন্তরে ঝোঁক তৈরি হয়
•মানুষ তাকে বিদআতী হিসেবে গণ্য করে
এ কারণে সাহাবায়ে কিরাম ও সালাফগণ তা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
- ইবন আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ
“বিদআতীদের সাথে বসো না, কারণ তা অন্তরকে অসুস্থ করে।”
- আইয়্যুব আস-সাখতিয়ানি বলেনঃ
সাঈদ ইবন জুবাইর আমাকে দেখলেন একজন বিদআতীর সাথে বসতে, তিনি বললেন: তার সাথে বসো না—সে মুরজিয়া।
- আবু কিলাবা বলেনঃ
“বিদআতীদের সাথে বসো না, তাদের সাথে বিতর্কেও যেও না—আমি আশঙ্কা করি তারা তোমাদের বিভ্রান্তিতে ডুবিয়ে দেবে বা সত্যকে বিকৃত করে দেবে।”
- ইবরাহীম নাখাঈ বলেনঃ
“বিদআতীদের সাথে বসো না, তাদের সাথে কথা বলো না—আমি ভয় করি তোমাদের অন্তর ফিরে যাবে (বিপথে)।”
- আমর ইবন কাইস আল মুল্লাঈ বলেন,
আলেমদের মাঝে এটি প্রসিদ্ধ যে তারা বলতেন, বক্রপন্ন্থীদের সাথী হয়ো না; কারণ এতে তোমার অন্তর বাঁকা হয়ে যাবে।
- ইবন সিরীন সম্পর্কে বর্ণিতঃ
দুইজন বিদআতী তার কাছে এলো এবং বলল—আমরা একটি হাদীস বলি বা একটি আয়াত পড়ি? তিনি বললেন—না। হয় তোমরা দুজন উঠে যাবে, নাহয় আমি উঠে যাবো।
লোকেরা বলল—একটি আয়াত পড়লে ক্ষতি কী ছিল?
তিনি বললেন—আমি ভয় করেছি তারা তা বিকৃত করবে এবং তা তোমাদের অন্তরে স্থির হয়ে যাবে।
- সাল্লাম ইবন আবু মুতী’ বলেন,
আইয়্যুব আস-সাখতিয়ানীকে একজন বলল, আপনাকে একটি বাক্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে চাই, তিনি বললেন, অর্ধেক বাক্যও বলার অনুমতি নেই।
- মুসলিম ইবন ইয়াসার বলেনঃ
“বিদআতীকে তোমার কান দিও না—সে এমন কিছু ঢুকিয়ে দেবে যা তুমি তোমার মন থেকে বের করতে পারবে না।”
- ইবন মুবারক বলেনঃ
“তোমার মজলিস গরিবদের সাথে হোক, আর বিদআতীর সাথে বসা থেকে সাবধান।”
- ইমাম আহমদ বলেনঃ
“বিদআতীদের সাথে বসা, মেলামেশা বা ঘনিষ্ঠ হওয়া উচিত নয়।”
- ইমাম আহমাদ আরও বলেনঃ
“তোমার দীনের ব্যাপারে বিদআতীর সাথে পরামর্শ করো না এবং সফরে তাকে সঙ্গী করো না।”
⸻
সালাফদের ঐকমত্য
বিদআতীদের বর্জন, তাদের থেকে দূরে থাকা, তাদের সাথে বন্ধুত্ব না করা, তাদের কথা না শোনার ব্যাপারে সালাফগণ একমত।
- ইমাম আবু উসমান আস-সাবূনী বলেনঃ
সালাফগণের নীতি হচ্ছে তারা বিদআতীদের ঘৃণা করে, ভালোবাসে না, সঙ্গ দেয় না, কথা শোনে না, বিতর্ক করে না।
- ইমাম বাগভী বলেনঃ
সাহাবী, তাবেঈ ও পরবর্তী আলেমগণ বিদআতীদের সাথে শত্রুতা পোষণ ও তাদের বর্জন করার বিষয়ে একমত ছিলেন।
- ইবন কুদামা বলেনঃ
সালাফরা বিদআতীদের সাথে বসা, তাদের বই দেখা ও তাদের কথা শোনা থেকে নিষেধ করতেন।
⸻
বিদআতীদের সাথে মেলামেশাকারী মানুষদের অবস্থা
এ বিষয়ে মানুষ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে,
তন্মধ্যে যে অজ্ঞ ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহ ও আহলে বিদআত—উভয়ের সাথে মিশে, সে হক ও বাতিলের মাঝে দোদুল্যমান। তাকে নরমভাবে সুন্নাহর দিকে ফেরানো উচিত।
আর যে ব্যক্তি নিজে দাওয়াহর কাজ করে, ওয়াজ করে, এ ব্যাপারে পরিচিত ব্যক্তিত্ব, আহলুস সুন্নাহর সাথে থাকে কিন্তু বিদআতীদের প্রশংসা করে—
সে সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত, যদিও সুন্নাহর দাবি করে; মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের সাথে প্রতারণাকারী।
- আওযাঈ বলেনঃ
যে ব্যক্তি বলে—আমি সুন্নাহপন্থীদের সাথেও বসি, বিদআতীদের সাথেও বসি—সে তো সত্য ও মিথ্যাকে সমান করতে চায়।
- আরতাআ ইবনুল মুনযির বলেনঃ
যে ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহর সাথে মেলামেশা করে, কিন্তু বিদআতীদের ব্যাপারে আলোচনা আসলে তাদের ব্যাপারে আলোচনা করতে চায় না, বরং নিষেধ করে, তার বিষয়টি কেমন? তিনি বলেন, সে নিজেই তাদের একজন। ইমাম আওযাঈ তার কথা শুনে বললেন, আরতাআ সত্য বলেছে।
⸻
বিদআতীদের সম্মান করার নিষেধ
- ফুদাইল ইবন ‘ইয়াদ্ব বলেনঃ
“যার কাছে কোনো লোক কোনো বিষয়ে পরামর্শ চাইলো আর সে কোনো বিদআতীকে দেখিয়ে দিল, তবে তো সে ইসলামের সাথে ধোঁকাবাজী করলো। তোমরা বিদআতীদের কাছে যাওয়া থেকে সাবধান হও কারণ তারা মানুষদেরকে হক গ্রহণে বাধা দেয়।”
- ইমাম বারবাহারী বলেন,
কোনো মানুষকে যখন দেখবে যে সে বিদআতীদের সাথে উঠাবসা করে তখন তাকে সাবধান করো, তাকে বিদআতীদের বিষয়ে জানাও, তারপরও যদি বসে তবে তার ব্যাপারে সাবধান থেকো; কারণ সে প্রবৃত্তির অনুসারী।
সালাফদের ইমামগণ বিদআতিদের সম্মান করা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
ফুযাইল ইবন ইযায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“যে ব্যক্তি কোনো বিদআতিকে সম্মান করে, সে ইসলামের ধ্বংসে সাহায্য করে।”
সুতরাং যে ব্যক্তি বিদআতিদের বড় করে দেখে, তাদের মতবাদকে সঠিক বলে প্রচার করে এবং তাদের দাওয়াতের প্রশংসা করে—সে তাদের মতোই বিদআতি এবং সুন্নাহ ধ্বংস, তাওহীদ বাতিল ও শরীয়তের ভাষ্য বিকৃত করার কাজে তাদের সহযোগী।
আর যে ব্যক্তি তাদের চরিত্রের প্রশংসা করে, তাদের প্রচেষ্টাকে বড় করে দেখায়, তাদের বই-পুস্তকের দিকে মানুষকে আহ্বান করে—কিন্তু তাদের বিদআত স্পষ্ট করে না এবং মুসলিমদের তাদের ভ্রান্তি থেকে সতর্ক করে না—সে তার দাওয়াতে প্রতারণা করেছে এবং উম্মাহকে নসীহত করার আমানত খিয়ানত করেছে।
মানুষ যতই তার মতবাদ ও চিন্তা গোপন করুক এবং তার বিদআত লুকানোর চেষ্টা করুক—আল্লাহ তা প্রকাশ করে দেন। সালাফরা যেসব লক্ষণ উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—বিদআতিদের প্রতি তার ভালোবাসা ও সখ্যতা।
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
“মানুষ সেই ব্যক্তির সাথেই চলে ও বন্ধুত্ব করে, যাকে সে ভালোবাসে এবং যে তার মতো।”
ইমাম আওযায়ী বলেন:
“মানুষকে তিন জায়গায় চেনা যায়—তার সঙ্গী দ্বারা, তার মজলিস দ্বারা এবং তার কথাবার্তায়।”
তিনি আরও বলেন:
“যে ব্যক্তি আমাদের কাছে তার বিদআত লুকায়, তার সখ্যতা (কার সাথে মেশে) আমাদের কাছে গোপন থাকে না।”
মুহাম্মদ ইবন উবাইদুল্লাহ আল-গুল্লাবী বলেন:
“আহলুল আহওয়া (ভ্রান্ত মতের লোকেরা) সবকিছু গোপন রাখতে পারে, কিন্তু তাদের পারস্পরিক সখ্যতা ও বন্ধুত্ব গোপন রাখতে পারে না।”
অতএব, যে ব্যক্তি বিদআতিদের সঙ্গী হয়, তাদের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে—তারপর দাবি করে যে সে সালাফদের পথে আছে—তার এই দাবি সত্য নয়। কারণ বিদআতিদের প্রতি ভালোবাসা সালাফদের পথ অনুসরণের পরিপন্থী।
সালাফদের পদ্ধতি অনুসরণের দাবি করলে, তাদের বিরোধীদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে এবং বিদআতিদের থেকে দূরে থাকতে হবে। একজন সুন্নী ব্যক্তির অন্তরে একসাথে সালাফদের ভালোবাসা ও তাদের শত্রুদের (বিদআতিদের) ভালোবাসা একত্রিত হতে পারে না।
ফুযাইল ইবন ইযায বলেন:
“আত্মাগুলো সৈন্যদলের মতো—যেগুলো পরস্পর পরিচিত হয়, তারা মিলিত হয়; আর যেগুলো অপরিচিত থাকে, তারা পৃথক হয়। কোনো সুন্নাহর অনুসারী বিদআতির প্রতি ঝুঁকবে না, তবে তা নেফাক (মুনাফিকি) ছাড়া সম্ভব নয়।”
সালাফদের কথায় “সখ্যতা” বলতে বোঝায় পূর্ণাঙ্গ সঙ্গ—যার মধ্যে ভালোবাসা, সমর্থন ও প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত। যেমন হাদিসে এসেছে:
“মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে, তাই দেখো সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে।” (মুসনাদ আহমাদ)
সুতরাং যার বিদআতিদের সাথে স্পষ্ট বন্ধুত্ব প্রমাণিত হয়, তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত ধরা হবে।
সুফিয়ান সাওরী বলেন:
“যে বিদআতিদের সাথে চলে, সে আমাদের কাছে বিদআতি।”
তবে যদি কেউ কোনো প্রয়োজনে (যেমন রুজি-রোজগার, উপদেশ বা অন্য কোনো কল্যাণকর উদ্দেশ্যে) বিদআতিদের সাথে সাময়িকভাবে মিলিত হয়, অথবা বাধ্যতামূলক কোনো সাধারণ পরিবেশে দেখা হয়—এবং সে সুন্নাহর উপর প্রতিষ্ঠিত ও বিদআত থেকে দূরে থাকে—তাহলে তাকে বিদআতিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
ইবন তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“উদ্দেশ্য হলো—মুসলিম খারাপ কাজ ও ক্ষতিকর সঙ্গী থেকে দূরে থাকবে, তবে প্রয়োজন বা বড় কোনো কল্যাণ থাকলে ব্যতিক্রম।”
এটাই ন্যায় ও ভারসাম্যের পথ—যা বড় আলেমদের পদ্ধতি। এর বিপরীতে কিছু লোক অল্প কারণে মানুষকে বিদআতি বলে এবং সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের সম্মান নষ্ট করে।
এই বিষয়ে মানুষ তিন প্রকারঃ
১. একদল অতিরঞ্জিত—সামান্য কারণে মানুষকে বিদআতি বলে এবং দূরে সরিয়ে দেয়।
২. একদল উদাসীন—বিদআতিদের সাথে বন্ধুত্ব করে ও তাদের প্রশংসা করে।
৩. মধ্যপন্থী দল—সুন্নাহ অনুসরণ করে, বিদআতিদের থেকে দূরে থাকে, কিন্তু বিচার করতে তাড়াহুড়া করে না।
বর্তমান সময়ে কিছু দাঈ দেখা যায়—তারা বিদআতিদের সাথে সম্পর্ক রাখে, তাদের সাহায্য করে এবং যারা তাদের বিদআত খণ্ডন করে তাদের বিরোধিতা করে। তারা বিদআতীদের অনেক ভ্রান্তির ব্যাপারে নীরব থাকে এবং সালাফদের ঐকমত্যকে হালকা করে দেখে।
শাইখ ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—যে ব্যক্তি বিদআতিদের প্রশংসা করে, সে কি তাদের অন্তর্ভুক্ত?
তিনি বলেন:
“হ্যাঁ, এতে কোনো সন্দেহ নেই—যে তাদের প্রশংসা করে এবং তাদের দিকে আহ্বান করে, সে তাদের দাঈদের অন্তর্ভুক্ত।”
আরও বলেন:
“যে প্রকাশ্যে বিদআত করে, তার ব্যাপারে সতর্ক করা হবে—তার ভালো কাজের দিকে তাকানো হবে না; তাকে নসীহত করা হবে, যেন সে হেদায়েত পায়।”
এই নতুন পদ্ধতি—বিদআতিদের সাথে বন্ধুত্ব, তাদের প্রশংসা ও তাদের সাথে সম্পর্ক গড়া—তরুণদের বিপথগামী করার একটি বড় কারণ হয়েছে।
অনেক যুবক ছিল সুন্নাহর উপর, কিন্তু তার শিক্ষক কোনো বিদআতির প্রশংসা করার কারণে সে তার দিকে আকৃষ্ট হয়, তার সাথে মিশে বা তার বই পড়ে—অতঃপর সে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়।
এর উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে—আবু যর আল-হারাওয়ী প্রথমে আহলে হাদিস ছিলেন, কিন্তু পরে প্রভাবিত হয়ে আশআরী মতবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং তা ছড়িয়ে দেন। ঘটনাটি ছিল এমন যে, ইমাম আবু যর আল হারাওয়ী একদিন তার উস্তাদ ইমাম দারাকুতনীর সাথে বসা ছিলেন। এমন সময় সেখানে আশআরী ইমাম আবু বকর আল বাকেল্লানী আসলেন। বাকেল্লানী সদ্য কোনো এক মুনাযারায় মুতাযেলীদের হারিয়ে দিয়েছিলেন। তাই ইমাম দারাকুতনী ইমাম বাকেল্লানীর মাথায় চুমু দিয়ে সাদরে করণ করলেন। এতেই আবু যর হারাওয়ী, যিনি সহীহ বুখারীর বুখারী পরবর্তী বর্ণনাকারী ছিলেন, তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে আশআরী মতবাদের অনুসারী হয়ে পড়েন। তিনিই পরবর্তীতে মরক্কোতে আশআরী মতবাদের প্রচারক হয়ে যান। ইতিপূর্বে ঐ সব এলাকার লোকেরা আহলুস সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন।
ইবন কাসীর বলেনঃ
মাগরিবের লোকেরা তার মাধ্যমেই আশ‘আরী মত গ্রহণ করে।
এভাবে কিছু দাঈ অজান্তেই বিদআতিদের মতবাদ প্রচার করছে—যা অনেক দীনদার মানুষ বুঝতে পারে না, কিন্তু এর ক্ষতি অত্যন্ত বড়।
এই কারণে বলা হয়েছে:
“যে বিদআতিদের সাথে বসে, সে আমাদের কাছে বিদআতিদের থেকেও বেশি বিপজ্জনক।”
বর্তমানে দেখা যায়—কিছু দাঈ ইবাদি, আশআরী, সুফি, ইত্যাদি পথভ্রষ্ট এমনকি শিয়াদের সাথে সুসম্পর্ক রাখে, কিন্তু আহলুস সুন্নাহর পক্ষ থেকে এর তেমন প্রতিবাদ হয় না।
ফলে গত কয়েক দশকে যুবকদের মাঝে খারেজী, লিবারাল, মুরজিয়া ও সুফি মতবাদ ছড়িয়ে পড়েছে—যা সালাফি পদ্ধতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফল।
⸻
সমসাময়িক বাস্তবতা
বর্তমানে কিছু দাঈ—
বিদআতীদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তাদের সম্মান করে, তাদের ভুল গোপন করে— এর ফলে যুবসমাজ বিভ্রান্ত হচ্ছে।
ইবন ‘আউন বলেনঃ
“যে বিদআতীদের সাথে বসে, সে বিদআতীদের থেকেও আমাদের কাছে বেশি বিপজ্জনক।”
⸻
সংক্ষেপে—
•বিদআতীদের সাথে বসা বিপজ্জনক
•সালাফদের পথ হলো তাদের থেকে দূরে থাকা
•তবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সীমিত ব্যতিক্রম আছে
•সঠিক পথ হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন করা।
©প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া হাফি. এর ফেসবুক পোস্ট থেকে।