মধ্যপাড়া ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ

  • Home
  • Bangladesh
  • Dinajpur
  • মধ্যপাড়া ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ

মধ্যপাড়া ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ মধ্যপাড়া ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ।
(এ?

05/09/2022

প্রথমে মন দিয়ে দুটি আয়াত অনুবাদ সহকারে পড়েন।

فَاِذَا نُفِخَ فِی الصُّوۡرِ فَلَاۤ اَنۡسَابَ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَئِذٍ وَّ لَا یَتَسَآءَلُوۡنَ
অতঃপর যেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে সেদিন তাদের মাঝে কোন আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না, কেউ কারো কাছে (কোন বিষয়ে) জানতে চাইবে না।
মু'মিনুন-১০১

فَاَقۡبَلَ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ یَّتَسَآءَلُوۡنَ
অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরের কাছে জানতে চাইবে ।
আস-সাফফাত-৫০

এক.
লক্ষ্য করেন প্রথম আয়াতে لَا یَتَسَآءَلُوۡنَ(কেউ কারো কাছে (কোন বিষয়ে) জানতে চাইবে না।)

দ্বিতীয় আয়াতে یَّتَسَآءَلُوۡنَ(পরস্পরের কাছে জানতে চাইবে । )

দুই.
স্বঘোষিত কুরআনের পন্ডিত তথা হাদীস অস্বীকারকারীদের কে উপরোক্ত দুটি আয়াতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন।

দুই আয়াতের মধ্য থেকে আমরা কোনটি মানব?
জবাবটা কুরআন থেকে দিতে হবে।

বিঃদ্রঃ পয়েন্টগুলো লিখে রাইখেন, এরা আপনাকে দাওয়াত দিতে চাইলে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিবেন।

Arif Bin Habib

29/07/2022

তিনিই ইমামে আ'জম রহঃ।

এক.
قال خارجة بن مصعب
ختَم القرآنَ في الكعبة أربعة من الأئمة
عثمان بن عفان
وتميم الدَّاري
وسعيد بن جُبير
وأبو حنيفة
(تاريخ بغداد للخطيب البغدادي جـ 13 صـ 356)
খারিজা ইবনে মুসআব রহঃ বলেন, কা'বায় চারজন ইমাম কুরআন খতম করেছেন,
(১) উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু,
(২) তামিম আদদারি রাদিয়াল্লাহু আনহু,
(৩) সাঈদ ইবনে জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু,
(৪)আবু হানিফা রহঃ
(তারিখে বাগদাদ খন্ড-১৩ পৃষ্ঠা-৩৫৬)

দুই.
قال مِسعَر بن كِدام
رأيت أبا حنيفة قرأ القرآن في ركعة
(سير أعلام النبلاء للذهبي جـ 6 صـ 401)
মিসআর ইবনে কিদাম রহঃ বলেন, আমি আবু হানিফা রহঃ কে এক রাকাতে পুরা কুরআন পড়তে দেখেছি।
(সিয়ারু আ'লামিন নুবালা খন্ড-৬ পৃষ্ঠা-৪০১)

তিন.
قال علي بن عاصم
لو وُزن عقلُ أبي حنيفة بعقل نصف أهل الأرض لرجَح بهم
(تاريخ بغداد للخطيب البغدادي جـ 13 صـ 364)
আলী ইবনে আসিম রহঃ বলেন, পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের "আকল" এর সাথে যদি ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লার "আকল" কে ওজন করা হয়, তাহলে ইমাম আবু হানিফার "আকল" ই প্রাধান্য (বেশি ওজন) পাবে।
(তারিখে বাগদাদ খন্ড-১৩ পৃষ্ঠা-৩৬৪)

চার.
قال عبدالله بن المبارك
قلت لسفيان الثوري: يا أبا عبدالله، ما أبعد أبا حنيفة من الغِيبة! ما سمعتُه يغتاب عدوًّا له قط، قال: هو والله أعقل
(تاريخ بغداد للخطيب البغدادي جـ 13 صـ 363)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহঃ বলেন, আমি সুফিয়ান সাওরি রহঃ কে বললাম হে আবু আব্দুল্লাহ! কোন্ জিনিস আবু হানিফাকে গিবত থেকে দূরে রাখে? আল্লাহর শপথ!আমি কখনো তাকে তার শত্রুর গিবত বলতেও শুনিনি, তখন সুফিয়ান সাওরি রহঃ বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি ( আবু হানিফা রহঃ) অনেক জ্ঞানী। ( তার জ্ঞান তাকে গিবত করতে দেয়না, কারণ গিবত নেক আমল নষ্ট করে দেয়)
(তারিখে বাগদাদ খন্ড-১৩ পৃষ্ঠা-৩৬৩)

পাচ,
قال مكي بن إبراهيم (شيخ البخاري)
جالستُ الكوفيين فما رأيت أورعَ من أبي حنيفة
(تاريخ بغداد للخطيب البغدادي جـ 13 صـ 363)
মক্কি ইবনে ইবরাহিম রহঃ( ইমাম বুখারীর শাইখ) বলেন, আমি কুফিদের সাথে উঠাবসা করেছি, ইমাম আবু হানিফার চাইতে পরহেজগার ( মুত্তাকী) আর কাউকে দেখিনি।
(তারিখে বাগদাদ খন্ড-১৩ পৃষ্ঠা-৩৬৩)

ছয়.
قال مكي بن إبراهيم (شيخ البخاري)
كان أبو حنيفة أعلمَ أهلِ الأرض
(البداية والنهاية لابن كثير جـ 10 صـ 110)
মক্কি ইবনে ইবরাহিম রহঃ( ইমাম বুখারীর শাইখ) বলেন,আবু হানিফা রহঃ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন।
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খন্ড-১০ পৃষ্ঠা-১১০

সাত.
قال يحيى بن معين (إمام الجرح والتعديل)
كان أبو حنيفة ثقةً (سير أعلام النبلاء جـ 6 صـ 395)
ইয়াহইয়া ইবনে মাইন রহঃ (হাদীসের মান নির্ণয়, রাবি নির্নয়ের ইমাম) বলেন, ইমাম আবু হানিফা রহঃ "সিকা" ( বিশ্বস্ত)ছিলেন।
(সিয়ারু আ'লামিন নুবালা খন্ড-৬ পৃষ্ঠা-৩৯৫)

আট.
قال علي بن الجعد: كنا عند زهير بن معاوية، فجاءه رجلٌ، فقال له زهيرٌ: مِن أين جئت؟ فقال: مِن عند أبي حنيفة، فقال زهيرٌ: إن ذهابك إلى أبي حنيفة يومًا واحدًا أنفعُ لك من مجيئك إليَّ شهرًا
(الانتقاء لابن عبدالبر صـ 134)
আলি ইবনুল জা'দ বলেন, আমরা যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়ার কাছে ছিলাম, তার কাছে একজন লোক আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? লোকটি জবাব দিলেন, আমি আবু হানিফা রহঃ এর কাছ থেকে এসেছি। তখন যুহাইর রহঃ বললেন তুমি আমার কাছে একমাস আসার চাইতে ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর কাছে একদিন যাওয়া তোমার জন্য বেশি উপকারী।
(আল ইনতিকা লি ইবনি আবদিল বার পৃষ্ঠা-১৩৪)

নয়.
قال حفص بن غياث
كلام أبي حنيفة في الفقه
أدقُّ من الشَّعر، لا يعيبه إلا جاهلٌ
(سير أعلام النبلاء جـ6 صـ 403)
হাফসুবনু গিয়াস বলেন, ফিকহের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার কথা চুলের চেয়ে সুক্ষ্ম, কোন মূর্খ ছাড়া সেই কথাকে কেউ ত্রুটিযুক্ত করবেনা।
(সিয়ারু আ'লামিন নুবালা খন্ড-৬ পৃষ্ঠা-৪০৩)

দশ.
سُئل الأعمش عن مسألة، فقال
إنما يُحسِن هذا النعمانُ بن ثابت
(الانتقاء لابن عبدالبر صـ 126)
ইমাম আ'মাস রহঃকে একটা মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এটা নু'মান ইবনে ( আবু হানিফা রহঃ) ভালো বলতে পারবেন।
(আল ইনতিকা লি ইবনি আবদিল বার পৃষ্ঠা-১২৬)

আরিফ বিন হাবিব
জামিয়া শারিফিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা লালবাগ।

09/07/2022

এক বাদশাহ এর সামনে ইবরাহীম নবী এবং সারা আলাইহিমাস সালাম এর একটা ঘটনা আছে,,,,, এটা ঐতিহাসিক ভাবেও আছে আবার হাদীসেও আছে, হাদীসের বর্ণনা টা নিলেই সুন্দর হয়,,,,,,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ هَاجَرَ إِبْرَاهِيمُ ـ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ـ بِسَارَةَ، فَدَخَلَ بِهَا قَرْيَةً فِيهَا مَلِكٌ مِنَ الْمُلُوكِ، أَوْ جَبَّارٌ مِنَ الْجَبَابِرَةِ، فَقِيلَ دَخَلَ إِبْرَاهِيمُ بِامْرَأَةٍ، هِيَ مِنْ أَحْسَنِ النِّسَاءِ‏.‏ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ، مَنْ هَذِهِ الَّتِي مَعَكَ قَالَ أُخْتِي‏.‏ ثُمَّ رَجَعَ إِلَيْهَا، فَقَالَ لاَ تُكَذِّبِي حَدِيثِي فَإِنِّي أَخْبَرْتُهُمْ أَنَّكِ أُخْتِي، وَاللَّهِ إِنْ عَلَى الأَرْضِ مُؤْمِنٌ غَيْرِي وَغَيْرُكِ‏.‏ فَأَرْسَلَ بِهَا إِلَيْهِ، فَقَامَ إِلَيْهَا، فَقَامَتْ تَوَضَّأُ وَتُصَلِّي فَقَالَتِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ آمَنْتُ بِكَ وَبِرَسُولِكَ وَأَحْصَنْتُ فَرْجِي، إِلاَّ عَلَى زَوْجِي فَلاَ تُسَلِّطْ عَلَىَّ الْكَافِرَ‏.‏ فَغُطَّ حَتَّى رَكَضَ بِرِجْلِهِ ‏"‏‏.‏ قَالَ الأَعْرَجُ قَالَ أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَتِ اللَّهُمَّ إِنْ يَمُتْ يُقَالُ هِيَ قَتَلَتْهُ‏.‏ فَأُرْسِلَ ثُمَّ قَامَ إِلَيْهَا، فَقَامَتْ تَوَضَّأُ تُصَلِّي، وَتَقُولُ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ آمَنْتُ بِكَ وَبِرَسُولِكَ، وَأَحْصَنْتُ فَرْجِي، إِلاَّ عَلَى زَوْجِي، فَلاَ تُسَلِّطْ عَلَىَّ هَذَا الْكَافِرَ، فَغُطَّ حَتَّى رَكَضَ بِرِجْلِهِ‏.‏ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ أَبُو سَلَمَةَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقَالَتِ اللَّهُمَّ إِنْ يَمُتْ فَيُقَالُ هِيَ قَتَلَتْهُ، فَأُرْسِلَ فِي الثَّانِيَةِ، أَوْ فِي الثَّالِثَةِ، فَقَالَ وَاللَّهِ مَا أَرْسَلْتُمْ إِلَىَّ إِلاَّ شَيْطَانًا، ارْجِعُوهَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ، وَأَعْطُوهَا آجَرَ‏.‏ فَرَجَعَتْ إِلَى إِبْرَاهِيمَ ـ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ـ فَقَالَتْ أَشَعَرْتَ أَنَّ اللَّهَ كَبَتَ الْكَافِرَ وَأَخْدَمَ وَلِيدَةً‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইবরাহীম (আঃ) সারাকে সঙ্গে নিয়ে হিজরত করলেন এবং এমন এক জনপদে প্রবেশ করলেন, যেখানে এক বাদশাহ ছিল, অথবা বললেন, এক অত্যাচারী শাসক ছিল। তাকে বলা হলো যে, ইবরাহীম (নামক এক ব্যক্তি) এক পরমা সুন্দরী নারীকে নিয়ে (আমাদের এখানে) প্রবেশ করেছে। সে তখন তার নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করল, হে ইবরাহীম, তোমার সঙ্গে এ নারী কে? তিনি বললেন, আমার বোন। অতঃপর তিনি সারার নিকট ফিরে এসে বললেন, তুমি আমার কথা মিথ্যা মনে করো না। আমি তাদেরকে বলেছি যে, তুমি আমার বোন। আল্লাহ্‌র শপথ! দুনিয়াতে (এখন) তুমি আর আমি ব্যতীত আর কেউ মু’মিন নেই। সুতরাং আমি আর তুমি দ্বীনী ভাই বোন। এরপর ইবরাহীম (আঃ) (বাদশাহর নির্দেশে) সারাকে বাদশাহর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। বাদশাহ তাঁর দিকে অগ্রসর হল। সারা উযূ করে করে সালাত আদায়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং এ দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্‌ ! আমিও তোমার উপর এবং তোমার রসূলের উপর ঈমান এনেছি এবং আমার স্বামী ব্যতীত সকল হতে আমার লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করেছি। তুমি এই কাফিরকে আমার উপর ক্ষমতা দিও না। তখন বাদশাহ বেহুঁশ হয়ে পড়ে মাটিতে পায়ের আঘাতগ করতে লাগলো। তখন সারা বললেন, আয় আল্লাহ্‌! এ যদি মারা যায় তবে লোকে বলবে, স্ত্রীলোকটি একে হত্যা করেছে। তখন সে সংজ্ঞা ফিরে পেল। এভাবে দু’বার বা তিনবারের পর বাদশাহ বলল, আল্লাহ্‌র শপথ! তোমরা তো আমার নিকট এক শয়তানকে পাঠিয়েছ। একে ইবরাহীমের নিকট ফিরিয়ে দাও এবং তার জন্য হাজেরাকে হাদিয়া স্বরূপ দান কর। সারাহ ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকট ফিরে এসে বললেন, আপনি জানেন কি, আল্লাহ্‌ তা’আলা কাফিরকে লজ্জিত ও নিরাশ করেছেন এবং সে এক বাঁদী হাদিয়া হিসেবে দিয়েছেন।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২২১৭

30/06/2022

জিলহজের প্রথম দশকের আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য,

এক,
এই দশ রাতের শপথ করেছেন আল্লাহ,
وَ لَیَالٍ عَشۡرٍ
কসম দশ রাতের।
ফাজর-২

দুই.
এই দিনগুলোতে বেশি পরিমাণে আল্লাহকে স্মরন করতে বলা হয়েছে,
وَ یَذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰہِ فِیۡۤ اَیَّامٍ مَّعۡلُوۡمٰتٍ عَلٰی مَا رَزَقَہُمۡ مِّنۡۢ بَہِیۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِ
এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিয্ক দিয়েছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।
হজ্ব-২৮

তিন.
عن جابر بن عبدالله
أفضلُ أيّامِ الدُّنيا العشرُ يعني عشرَ ذي الحجَّةِ قيل ولا مثلُهنَّ في سبيلِ اللهِ قال ولا مثلُهنَّ في سبيلِ اللهِ إلّا رجلٌ عفَّر وجهَه بالتُّرابِ
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন হলো জিলহজের প্রথম দশদিন।
الترغيب والترهيب ٢‏/١٩٠ • إسناده حسن

চার.
এই দশদিনের মধ্যে কুরবানীর দিন আছে,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرْطٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِنَّ أَعْظَمَ الأَيَّامِ عِنْدَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَوْمُ النَّحْرِ ثُمَّ يَوْمُ الْقَرِّ ‏"‏ ‏
আবদুল্লাহ ইবনু কুরত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ প্রাচুর্য্যময় মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন দিন হলো কুরবানীর দিন, তারপর মেহমানদারীর দিন, সেটি হলো দ্বিতীয় দিন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৭৬৫

রমযানের পরে আশরায়ে যিলহজ্বের চেয়ে শ্রেষ্ঠতম কোনো দিন নেই-এটা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় এবং এতে সকলেই একমত।

জিলহজের প্রথম দশকের আমল,

এক,
আল্লাহর নিকট যিলহাজ্জ মাসের দশ প্রথম দিনের আমলের অধিক প্রিয়।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ ‏"‏ ‏ يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَىْءٍ ‏"‏ ‏
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মহান আল্লাহর নিকট যে কোন দিনের সৎ আমলের চাইতে যিলহাজ্জ মাসের দশ প্রথম দিনের আমলের অধিক প্রিয়। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে জিহাদে বের হয় এবং এর কোন একটি নিয়েও ফিরে না আসে তার কথা স্বতন্ত্র।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪৩৮

দুই.
বেশি পরিমাণে তাকবীর, তাহলিল পড়া।
عن عبدالله بن عمر
ما من أيامٍ أعظمُ عندَ اللهِ ولا أحبَّ إليه العملُ فيهنَّ من هذهِ الأيامِ العشرِ فأكثروا فِيهنَّ من التهليلِ والتكبيرِ والتحميدِ
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও সবচেয়ে প্রিয় দিন হলো জিলহজের প্রথম দশক,
সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি পরিমাণে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করো।
أخرجه أحمد (٥٤٤٦)

তিন.
জিলহজের প্রথম নয়দিন রোযা রাখা,
عَنْ امْرَأَتِهِ، عَنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ تِسْعًا مِنْ ذِي الْحِجَّةِ، وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ وَخَمِيسَيْنِ»
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন স্ত্রী থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যিলহজ্জ মাসের নয় দিন, আশুরার দিন এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন সাওম (রোযা) পালন করতেন-মাসের সোমবার এবং দুই বৃহস্পতিবার।
সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২৪১৭

চার.

কুরবানীর ইচ্ছাকারিগন চুল, নখ কাটবেনা।
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
‏ "‏ إِذَا رَأَيْتُمْ هِلاَلَ ذِي الْحِجَّةِ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ ‏"‏ ‏
উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নাবী (সা) বলেছেনঃ যখন তোমরা যিলহাজ্জ মাসের (নতুন চাঁদ দেখতে পাও) আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল না ছাটে ও নখ না কাটে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫০১৩

পাচ.
আরাফার দিনের রোযা, (৯ ই জিলহজের রোযা)

وَصِيَامُ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ وَصَوْمُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ ‏"‏
পেয়ে সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই। ‘উমার (রাঃ) উক্ত বাক্যটি বারবার বলতে লাগলেন, এক পর্যায়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অসন্তুষ্টির ভাব দূরীভূত হল। এরপর ‘উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ বাক্তি কেমন যে সারা বছর সওম রাখে? তিনি বললেনঃ এমনও কি কেউ সামর্থ্য রাখে? তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ বাক্তি কেমন যে দুই দিন সওম পালন করে এবং একদিন রোযাহীন থাকে? তিনি বললেন, কেউ কি এরূপ করতে সহ্মম? তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যক্তি কেমন যে একদিন সওম পালন করে এবং একদিন রযাহীন থাকে? তিনি বললেন, তা দাঊদ (আঃ) এর সাওমের মতই। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ ব্যক্তির সওম কেমন যে একদিন সওম রেখে দু’দিন রোযাহীন থাকে? তিনি বললেনঃ আমি এটাই কামনা করি, যেন আমাকে এরূপ শক্তি দেয়া হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ প্রতি মাসে তিনটি সওম এবং এক রমাযান থেকে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত প্রতি বছরের রমাযানের সওম, এটাই হচ্ছে সর্বদা সওম পালনের সমতুল্য। আরাফাহ্ দিনের সওম আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এর দ্বারা তিনি পূর্বের বছর এবং পরের বছরের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর আশূরার সওম, আমি আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি (এর বিনিময়ে) আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করবেন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪২৫

হাজীদের জন্য এই দিনে আরাফার ময়দানে ওকূফ ও মুজাহাদার শক্তি অর্জনের নিমিত্তে রোযা না রাখা উত্তম।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَفْطَرَ بِعَرَفَةَ وَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ أُمُّ الْفَضْلِ بِلَبَنٍ فَشَرِبَ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَأُمِّ الْفَضْلِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ حَجَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَصُمْهُ يَعْنِي يَوْمَ عَرَفَةَ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ عُمَرَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ عُثْمَانَ فَلَمْ يَصُمْهُ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ الإِفْطَارَ بِعَرَفَةَ لِيَتَقَوَّى بِهِ الرَّجُلُ عَلَى الدُّعَاءِ وَقَدْ صَامَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ يَوْمَ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফাতে রোযা ভেঙ্গে ফেলেন। সেদিন তাঁর জন্য উম্মুল ফাদল (রাঃ) কিছু দুধ পাঠিয়েছিলেন। তিনি তা পান করেন।

জ্ঞাতব্য:
আবূ হুরায়রা, ইবনু উমার ও উম্মুল ফাযল (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্‌ বলেছেন।
ইবনু উমার (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আমি হাজ্জ করেছি কিন্তু আরাফার দিন তিনি রোযা পালন করেননি; আবূ বাক্‌র (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, তিনিও সেদিন রোযা পালন করেননি; উমার (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, তিনিও সেদিন রোযা পালন করেননি এবং উসমান (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি কিন্তু তিনিও রোযা পালন করেননি।
এ হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম আমলের কথা বলেছেন। তাঁরা আরাফার দিন দু’আর ক্ষেত্রে শক্তিলাভের জন্য রোযা পালন না করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। অবশ্য আরাফাতে অবস্থানকালে কোন কোন আলিম সে দিনের রোযা পালন করেছেন।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৭৫০

ছয়.
আইয়্যামে তাশরিকের আমল,
عَنْ نُبَيْشَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّا كُنَّا نَهَيْنَاكُمْ عَنْ لُحُومِهَا أَنْ تَأْكُلُوهَا فَوْقَ ثَلاَثٍ لِكَىْ تَسَعَكُمْ فَقَدْ جَاءَ اللَّهُ بِالسَّعَةِ فَكُلُوا وَادَّخِرُوا وَاتَّجِرُوا أَلاَ وَإِنَّ هَذِهِ الأَيَّامَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ وَذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏
নুবাইশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমরা তোমাদেরকে তিন দিনের অধিক কুরবানীর গোশ্‌ত খেতে নিষেধ করেছিলাম, যাতে গোশ্‌ত তোমাদের সকলের নিকট পৌঁছে যায়। আল্লাহ এখন তোমাদের দারিদ্র মোচন করেছেন। কাজেই এখন তোমরা তা খাও, জমা করে রাখো এবং সদাক্বাহ করে নেকী অর্জন করো। জেনে রেখো, এ দিনগুলো পানাহারের দিন এবং মহান আল্লাহকে স্মরণ করার দিন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৮১৩

৯ জিলহজ ফজর থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। জামাতে হোক বা একা, সর্বাবস্থায় এটা বলতে হবে। পুরুষ হোক বা নারী সকলকেই বলতে হবে। তাকবিরে তাশরিক হলো-

আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

মাসআলাঃ
উচ্চস্বরে একবারই তাকবীর বলা ওয়াজিব।
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২
রদ্দুর মুহতার ২/১৭৮
মাসিক আল কাউসার (মারকাযুদ্ দাওয়া)

মাসআলাঃ
আইয়ামে তাশরীকের কোনো নামায কাযা হয়ে গেলে ঐ দিনগুলোর মধ্যে তার কাযা আদায় করলে তাকবীর বলা ওয়াজিব। কিন' এই কাযা পরবর্তী অন্য সময় আদায় করলে বা আইয়ামে তাশরীকের আগের কাযা নামায ঐ দিনগুলোতে আদায় করলে তাকবীর বলা ওয়াজিব নয়।
বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬৪ ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২ আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫১১-৫১৩
মাসিক আল কাউসার (মারকাযুদ্ দাওয়া)

মাসআলাঃ
মহিলারা এই তাকবীরে তাশরীকটি নিচু স্বরে আদায় করবে। উচ্চ স্বরে নয়।-রদ্দুল মুহতার ২/১৭৯ হাশিয়া তাহতাবী

আরিফ বিন হাবিব
জামিয়া শারিফিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা লালবাগ।

18/06/2022

মদীনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলো। চারিদিকে হাহাকার। পর্যাপ্ত খাবার নেই। অনেক মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। কারো কাছে অর্থ থাকলেও খাবার কিনতে পারছে না।

ঠিক এমন সময় শুনা গেলো ১০০০ উট বোঝাই খাদ্যশস্য আসছে।

১০০০ উট বোঝাই খাদ্যশস্য দিয়ে মদীনার দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা সম্ভব, খাদ্যাভাব দূর করা সম্ভব।

জানা গেলো, এই ১০০০ উট বোঝাই খাদ্যের মালিক একজন। চাইলেই তিনি মনোপলি ব্যবসা করতে পারেন। ১০০ টাকার পণ্য ২০০০ টাকা চাইলে সবাই নিতে বাধ্য।

বর্তমান সময়ে সিলেটের মাঝি, ব্যবসায়ীরা যেমন ২০০/৫০০ টাকার নৌকা ভাড়া ৫০,০০০ টাকা, ৫ টাকার মোমবাতি ৫০-৬০ টাকা চাচ্ছে; মদীনার সেই ব্যবসায়ী চাইলে এমনটা করতে পারতেন।

তার কাছে মদীনার খুচরা ব্যবসায়ীরা ছুটে গেলো। তারা খাদ্য কিনতে চায়। খাদ্যের স্বাভাবিক দামের তুলনায় দ্বিগুণ দাম দিবে।

বড়ো ব্যবসায়ী দেখলেন, তার ২ কোটি টাকার মতো পণ্যের দাম ৪ কোটি টাকা হয়েছে। দ্বিগুণ লাভে বিক্রি করতে পারেন।

কিন্তু, তিনি ব্যবসায়ীদের বলে দিলেন, তিনি এরচেয়েও বেশি লাভ করতে চান। এতো কম লাভে বিক্রি করবেন না। 'আরেকজন' এরচেয়ে বেশি লাভ দিবেন বলেছেন।

ছোটো ব্যবসায়ীরা অবাক! তারা পণ্যের দ্বিগুণ দাম দিচ্ছে, তবুও তিনি বিক্রি না করে বলছেন আরেকজন এরচেয়ে বেশি দাম দিবে। কে তিনি?

সেই বড়ো ব্যবসায়ী কুরআনের একটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন।

"যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মতো যা উৎপন্ন করলো সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে একশোটি দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তাকে বাড়িয়ে দেন।" [সূরা বাকারা ২: ২৬১]

মদীনার সেই দুর্যোগকালীন সময়ে, যখন খাদ্য পাওয়া যাচ্ছে না, সেই সময় চাইলে কয়েক গুণ লাভ করা যেতো। অথচ সেই বড়ো ব্যবসায়ী তার ১০০০ উট বোঝাই খাদ্যশস্য মদীনার মানুষজনকে দান করে দেন। যা বর্তমান অর্থমূল্যে কোটি টাকা হতে পারে!

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময়কালের সেই 'বড়ো ব্যবসায়ী' এমন একজন ছিলেন, যার নামোল্লেখ না করলেও বুঝা যায় তিনি কে। এমন সম্পদশালী সাহাবী হাতেগোনা ২-৩ জন ছিলেন।

বলতে পারবেন, তিনি কে?

--------

তথ্যসূত্র:

আব্দুল আজিজ ইবনু সালমান, মাওয়ারিদুয জময়ান লি দুরুসিজ জামান: ৩/৭৪।

11/06/2022

৫ জায়গায় ৫ দিনে ৯ কাজ করাকে হজ্জ বলে।

🔹৫ জায়গা হল;
১. মিনা ২. আরাফা ৩. মুজদালিফা ৪. জামারাত ও ৫. বাইতুল্লাহ।

🔹৫ দিন হল;
জুলহিজ্জাহ (জিলহজ্জ) মাসের ৮. ৯. ১০. ১১. ১২।

🔹৯ কাজ হল;
তার মধ্যে ৩টি ফরজ ৬টি ওয়াজিব
===
ফরজ তিনটি; ১. ইহরাম ২. আরাফা ৩. তওয়াফে জিয়ারত।
===
ওয়াজিব ৬টি হল;
১. মুজদালফা ২. কঙ্কর ৩. কুরবানী ৪. মাথা কামানী ৫. সাঈ ৬. বিদায়ী তওয়াফ

🔹খোলাসা কথা,
হজ্জের জন্য জায়গা হল ৫টি, হজ্জ পালনের জন্য দিন হল ৫টি আর কাজ হল মাত্র ৯টি। ব্যস! সিরিয়াল মত ঠিকঠাক থাকলে আপনার হজ্জ কমপ্লিট।
©

07/06/2022

প্রিয়তমা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা
-------------------------------------

না, তার মর্যাদা হাতে গোনা কয়েকটি নয়। গুনলে হয়ে যাবে সংখ্যাটা অনেক বেশি—চল্লিশ! হ্যাঁ, তিনি এ সংখ্যায় অনন্যা! এই বৈশিষ্ট্যে দ্যুতিময়! এই শোভায় চির দেদীপ্যমান!
আকাশ থেকে শুধু তার জন্যেই এসেছে ‘চারিত্রিক প্রসংশা সনদের মহা ঘোষণা! যা চিরন্তন হয়ে আছে কুরআনের বুকে! আবৃত্ত হয়ে চলেছে কুরআনপ্রেমী মুমিনের সজীব সতেজ ঠোঁটে দিনের পর দিন! যুগের পর যুগ! এবং যা বন্ধ হবে না কেয়ামতের আগে কখনো!
কী উপমা! কী উপমান! কেমন মহীয়সী উপমেয়! নবীজি বলেছেন—
كَمَلَ مِنَ الرِّجالِ كَثِيرٌ، ولَمْ يَكْمُلْ مِنَ النِّساءِ إلَّا مَرْيَمُ بنْتُ عِمْرانَ، وآسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ، وفَضْلُ عائِشَةَ علَى النِّساءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ علَى سائِرِ الطَّعامِ.
‘পুরুষেরা অনেকেই পূর্ণতার স্তরে পৌঁছে গেলেও নারীদের ভেতরে পূর্ণতায় পৌঁছতে পারে নি মারইয়াম বিনতে ইমরান আর ফেরাউন-স্ত্রী আসিয়া ছাড়া অন্য কেউ। (আর আয়েশা?) সব নারীকে ছাড়িয়ে হয়ে গেছেন অমন, যেনো শতো খাবারের ভিড়ে রাজ-খাবার সারিদ !’
আচ্ছা আয়েশার সব বৈশিষ্ট্য বাদ দিলে শুধু একটি বৈশিষ্ট্যই তো তাকে নিয়ে যাবে উঁচুতে, অনেক! তিনি প্রিয়নবীর প্রিয়তমা স্ত্রী—এ-ই তার সেরা পাওয়া! কেননা, এই পাওয়া তার কাছে নিয়ে এসেছিলো আরও অ নে ক পাওয়া।
নবীজির প্রিয় সান্নিধ্য ও তাঁর নিবিড় পের্যবেক্ষণ আয়েশাকে দিয়েছে বিপুল অনন্যতা। হাদীসের গভীর জ্ঞান। হাদীসতত্ত্বের গভীরতা। আরও কতো কী! নবী পরিবারে ইলমের মশাল তার হাতেই ধরা ছিলো। তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ ফকীহ। শরীয়তের নিগূঢ় জ্ঞান-রহস্যের দরোজাগুলো তার হাতেই খুলে গিয়েছিলো একে একে।
পৃথিবীকে জানিয়েছেন তিনি নবীজির ঘরোয়া জীবনের অজানা সব কথা। রাতদিনের আমল। সকাল সন্ধার আচরণ। জনে জনে মিষ্টি ব্যবহারের আশ্চর্য এক ক্ষমতার কথা। তিনিই স্বামীর কাছে নিবেদিত হয়ে উম্মতের সব নারীকে বলে গিয়েছেন—আমার মতো নিবেদিত হও! আর আমার মতো ইলমের ফোয়ারায় অবগাহণ করো!
আহ, কী তার স্মৃতিশক্তি! মুখস্থ বর্ণনার সময় মনে হতো তিনি বুঝি সব দেখেই বলছেন! হাদীসশাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ শাখা সনদশাস্ত্রে তিনি ছিলেন এক বিস্ময়!
তিনি নবীগৃহে বসে নবীর সান্নিধ্যে থেকে দেখেছেন ওহী নাজিলের দৃশ্য। ওহীর আলোকধারায় সব হেসে ওঠার বিরল দৃশ্য। তার হুজরা যেনো হয়ে উঠেছিলো শতোধারায় প্রবহমান এক স্বচ্ছ ঝরনা। ইলম আহরণের প্রাণকেন্দ্র। আরেক গারে হেরা!

* ..
প্রিয়তমা আয়েশার সমালোচকদের চোখে বালি পড়ুক। মুখে ওদের কালি পড়ুক। ওদের অহমিকার মসনদে আগুন লাগুক। আকাশ-আক্রোশের তীব্র আঘাতে ছিটকে পড়ুক।

লিখেছেন || ইয়াহইয়া ইউসুফ নদবী হাফি.

11/05/2022

বয়ান- ২১
আগামী জুমায় ইন শা আল্লাহ।

হিংসা পুণ্যকে খেয়ে ফেলে।

ভুমিকাঃ
হজ্জ্ব যাত্রার আগে কলব পরিশুদ্ধ করে নেই,
طهارة القلب أولي من طهارة الأبدان
শরীরের পবিত্রতার চেয়ে কল্বের পবিত্রতা বেশি উত্তম।

*আল্লাহ বলেন
یَوۡمَ لَا یَنۡفَعُ مَالٌ وَّ لَا بَنُوۡنَ

‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন উপকারে আসবে না’।
শুয়ারা-৮৮

اِلَّا مَنۡ اَتَی اللّٰہَ بِقَلۡبٍ سَلِیۡمٍ
‘তবে যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ অন্তরে’।
শুয়ারা-৮৯

**عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ ‏

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক চাল-চলন ও বিত্ত-বৈভবের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না; বরং তিনি দৃষ্টি দিয়ে থাকেন তোমাদের অন্তর ও ‘আমলের প্রতি।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৪৩৭

মুল আলোচনা,

এক
ইবলিসের হিংসা,
الحسد أول ذنب عصي الله به في السماء
আসমানে আল্লাহর নাফরমানী শুরু হয়"হিংসা" দিয়ে,
وَ اِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ قَالَ ءَاَسۡجُدُ لِمَنۡ خَلَقۡتَ طِیۡنًا
আর স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, ‘আদমকে সিজদা কর’, তখন ইবলীস ছাড়া সকলে সিজদা করল। সে বলল, ‘আমি কি এমন ব্যক্তিকে সিজদা করব যাকে আপনি কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন’?
বানী ইসরায়েল-৬১

قَالَ اَرَءَیۡتَکَ ہٰذَا الَّذِیۡ کَرَّمۡتَ عَلَیَّ ۫ لَئِنۡ اَخَّرۡتَنِ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَاَحۡتَنِکَنَّ ذُرِّیَّتَہٗۤ اِلَّا قَلِیۡلًا
সে বলল, ‘দেখুন, এ ব্যক্তি, যাকে আপনি আমার উপর সম্মান দিয়েছেন, যদি আপনি আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময় দেন, তবে অতি সামান্য সংখ্যক ছাড়া তার বংশধরদেরকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করে ছাড়ব’।
বানি ইসরায়েল-৬২

দুই,
কাবিলের হিংসা
যমীনেও প্রথম নাফরমানী "হিংসা" দিয়েই শুরু হয়েছে,যেই হিংসা কাবিল কে দিয়ে হত্যা নামক অপরাধ সংঘটিত করেছে।
قَالَ لَاَقۡتُلَنَّکَ
সে(কাবিল) বলল, ‘অবশ্যই আমি তোমাকে(হাবিলকে) হত্যা করব’।
মায়িদা-২৭

তিন,
মুসলমানদের প্রতি কাফিরদের হিংসা,
وَدَّ کَثِیۡرٌ مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ لَوۡ یَرُدُّوۡنَکُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ اِیۡمَانِکُمۡ کُفَّارًا ۚۖ حَسَدًا مِّنۡ عِنۡدِ اَنۡفُسِہِمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ مَا تَبَیَّنَ لَہُمُ الۡحَقُّ ۚ فَاعۡفُوۡا وَ اصۡفَحُوۡا حَتّٰی یَاۡتِیَ اللّٰہُ بِاَمۡرِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
আহলে কিতাবের অনেকেই চায়, যদি তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর কাফির অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারত! সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তাদের পক্ষ থেকে হিংসাবশত (তারা এরূপ করে থাকে)। সুতরাং তোমরা ক্ষমা কর এবং এড়িয়ে চল, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ দেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
বাকারা-১০৯

চার,
হিংসা নিন্দনীয় অপরাধ,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ إِذَا فُتِحَتْ عَلَيْكُمْ فَارِسُ وَالرُّومُ أَىُّ قَوْمٍ أَنْتُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ نَقُولُ كَمَا أَمَرَنَا اللَّهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ تَتَنَافَسُونَ ثُمَّ تَتَحَاسَدُونَ ثُمَّ تَتَدَابَرُونَ ثُمَّ تَتَبَاغَضُونَ أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ ثُمَّ تَنْطَلِقُونَ فِي مَسَاكِينِ الْمُهَاجِرِينَ فَتَجْعَلُونَ بَعْضَهُمْ عَلَى رِقَابِ بَعْضٍ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাযিঃ)-এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেছেন, যখন রোম সাম্রাজ্য ও পারস্য (ইরান) সাম্রাজ্য তোমাদের অধিকারে আসবে তখন তোমরা কিরূপ সম্প্রদায় হবে? উত্তরে ‘আবদুর রহ্মান ইবনু ‘উওফ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে যেরূপ আদেশ করেছেন আমরা ঐরূপই বলব। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ অন্য কিছু কি বলবে না? তখন তোমরা পরস্পর ঈর্ষাপরায়ণ হবে, এরপর হিংসা করবে, অতঃপর সম্পর্ক ছিন্ন করবে, এরপর শত্রুতা করবে। কিংবা এরূপ কিছু কথা তিনি বলেছেন। অতঃপর তোমরা নিঃস্ব মুহাজির লোকেদের কাছে যাবে এবং একজনকে অপরের শাসনকর্তা নিযুক্ত করবে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৩১৭

পাচ,
হিংসা অতিত উম্মতের ব্যাধি,
سيُصيبُ أمتي داءُ الأُمَمِ: الأشَرُ والبطَرُ والتكاثُرُ والتشاحُنُ في الدنيا، والتباغُضُ والتحاسُدُ، حتى يكونَ البَغْيُ
অচিরেই আমার উম্মতকে অতিত উম্মতের কয়েকটি ব্যাধি স্পর্শ করবে, তার মধ্যে একটা হলো পরস্পর হিংসা করা।
الألباني (ت ١٤٢٠)، صحيح الجامع ٣٦٥٨ • حسن

ছয়,
হিংসার স্তর চারটি,
(১) تمني زوال النعمة عن المنعم عليه ولو لم تنتقل للحاسد
অন্যের নেয়ামত/ভালো ধ্বংস হওয়ার কামনা করা, যদিও ঐ নেয়ামত টা হিংসুকের অর্জন না হয়।

(২) تمني زوال النعمة عن المنعم عليه وحصوله عليها.
অন্যের নেয়ামত/ভালো ধ্বংস হওয়ার কামনা করা, এবং নেয়ামত টা হিংসুকের অর্জন হওয়ার কামনা করা।

(৩) تمني حصوله على مثل النعمة التي عند المنعم عليه حتى لا يحصل التفاوت بينهما، فإذا لم يستطع حصوله عليها تمنى زوالها عن المنعم عليه
হিংসুকের কামনা হলোঃ অন্যের যেই নেয়াম আছে এটা যেন তারও অর্জন হয়, যদি তার (হিংসুকের)অর্জন না হয় তাহলে যেন ঐ ব্যক্তির নেয়ামত টা ধ্বংস হয়ে যায়।

(৪)حسدمجاز রুপক হিংসা যাকে ঈর্ষা বলা হয়,
এটা যায়েজ আছে।

উদাহরণ-১
، - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ حَسَدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ ‏"‏ ‏.

'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু’টি ব্যাপার ছাড়া ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। একটি হ’ল- এমন ব্যক্তি যাকে মহান আল্লাহ কুরআনের জ্ঞান দান করেছেন। সে তদনুযায়ী রাত-দিন 'আমাল করে। আরেক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তা’আলা অর্থ-সম্পদ দান করেছেন। সে রাত-দিন তা (আল্লাহর পথে) খরচ করে। (এ দু’ ব্যক্তির সাথে ঈর্ষা পোষণ করা যায়।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৭৭৯

উদাহরণ-২
ইয়াহুদীদের ইর্ষা,
عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَا حَسَدَتْكُمُ الْيَهُودُ عَلَى شَىْءٍ مَا حَسَدَتْكُمْ عَلَى السَّلاَمِ وَالتَّأْمِينِ ‏
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইয়াহুদীরা তোমাদের কোন ব্যপারে এত বেশী ঈর্ষান্বিত নয় যতটা তারা তোমাদের সালাম ও আমীনের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৫৬

حسدمجاز/ইর্ষা কে منافسة(ভালোর প্রতিযোগিতা)ও বলা হয়,
وَ فِیۡ ذٰلِکَ فَلۡیَتَنَافَسِ الۡمُتَنَافِسُوۡنَ
আর প্রতিযোগিতাকারীদের উচিৎ এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা।
মুতাফফিফিন-২৬

সাত
হিংসার ক্ষতিসমুহ,

(১) হিংসা হিংসুকের দ্বীন কে বিনাশ করে দেয়,
أَنَّ الزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ دَبَّ إِلَيْكُمْ دَاءُ الأُمَمِ قَبْلَكُمُ الْحَسَدُ وَالْبَغْضَاءُ هِيَ الْحَالِقَةُ لاَ أَقُولُ تَحْلِقُ الشَّعْرَ وَلَكِنْ تَحْلِقُ الدِّينَ

যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের আগেকার উম্মাতদের রোগ তোমাদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। তা হলো পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা। আর এই রোগ মুন্ডন করে দেয়। আমি বলছি না যে, চুল মুন্ডন করে দেয়, বরং এটা দ্বীনকে মুন্ডন (বিনাশ) করে দেয়। সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তোমরা যদি পরস্পরকে না ভালবাস তাহলে ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে বলবো না যে, পারস্পারিক ভালবাসা কোন কাজের মাধ্যমে মজবুত হয়? তোমরা পরস্পর সালামের বিস্তার ঘটাও।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৫১০

(২)হিংসা হিংসুকের আমল বরবাদ করে দেয়,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ قَالَ ‏"‏ الْعُشْبَ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা অবশ্যই হিংসা পরিহার করবে। কারণ আগুন যেভাবে কাঠকে বা ঘাসকে খেয়ে ফেলে, তেমনি হিংসাও মানুষের নেক আমলকে খেয়ে ফেলে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৯০৩

(৩)হিংসুক থেকে ঈমান আস্তে আস্তে আলাদা হয়ে যায়,
، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَجْتَمِعَانِ فِي النَّارِ مُسْلِمٌ قَتَلَ كَافِرًا ثُمَّ سَدَّدَ وَقَارَبَ، وَلَا يَجْتَمِعَانِ فِي جَوْفِ مُؤْمِنٍ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَفَيْحُ جَهَنَّمَ، وَلَا يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ عَبْدٍ الْإِيمَانُ وَالْحَسَدُ»
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
জাহান্নামে একত্রিত হবে না সে মুসলমান যে কোন কাফিরকে হত্যা করেছে, এরপর সঠিক ও সরল পথে দৃঢ় রয়েছে। আর কোন মু’মিনের পেটে আল্লাহ্‌র রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের (আগুনের) শিখা একত্রিত হবে না। আর (আল্লাহ্‌র) বান্দার অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্রিত হবে না।
সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩১০৯

(৪) কল্যাণ উঠে যায়,
لا يزالُ النّاسُ بخيرٍ ما لم يتحاسَدوا
মানুষ ততক্ষণ কল্যাণের মধ্যে থাকে যতক্ষণ পরস্পর হিংসা না করবে।
مجمع الزوائد ٨‏/٨١ • رجاله ثقات

আট,
হিংসুকের হিংসা থেকে বাচার উপায়
(১) সুরা ফালাক পড়া, (হিংসুকের হিংসা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া)
وَ مِنۡ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ
আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে’।
পূর্ন সুরার অনুবাদ টা বলে দিবেন ইন শা আল্লাহ।

(২) ঝাড়ফুক করা,

উদাহরণ-১
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ جِبْرِيلَ، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ اشْتَكَيْتَ قَالَ ‏ "‏ نَعَمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ وَعَيْنِ حَاسِدٍ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ وَاللَّهُ يَشْفِيكَ ‏.‏
আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে জিবরীল (আঃ) এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন জিবরীল (আঃ) পাঠ করলেনঃ “আমি আপনাকে আল্লাহ তা'আলার নামে ঝাড়ছি এমন সকল কিছু হতে যা আপনাকে কষ্ট দেয় এবং সকল প্রকার অনিষ্টকর প্রাণী ও সকল হিংসুটে দৃষ্টি হতে। আল্লাহ তা'আলার নামে আমি আপনাকে ঝাড়ছি, আপনাকে আল্লাহ তা'আলা সুস্থতা দান করুন।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৯৭২

উদাহরণ-২
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ وَيَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ أَبَاكُمَا كَانَ يُعَوِّذُ بِهَا إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ، أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসান এবং হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য নিম্নোক্ত দু’আ পড়ে পানাহ চাইতেন আর বলতেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম (‘আঃ) ইসমাঈল ও ইসহাক (‘আঃ)-এর জন্য দু’আ পড়ে পানাহ চাইতেন। আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ঠ হতে পানাহ চাচ্ছি।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৩৭১

নয়,
হিংসুক চোখ,

(১)
আল্লাহ বলেন,
وَ اِنۡ یَّکَادُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَیُزۡلِقُوۡنَکَ بِاَبۡصَارِہِمۡ لَمَّا سَمِعُوا الذِّکۡرَ وَ یَقُوۡلُوۡنَ اِنَّہٗ لَمَجۡنُوۡنٌ
আর কাফিররা যখন উপদেশবাণী শুনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছড়ে ফেলবে, আর তারা বলে, ‘এ তো এক পাগল’।
ক্বালাম-৫১

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালো টা সহ্য করতে না পেরে হিংসার আগুনে তারা জলে উঠেছে।
এই আয়াত থেকে বদ নজর তথা হিংসার নজর প্রমাণিত হয়।

(২) কুদৃষ্টির প্রভাব (হিংসুক চোখের প্রভাব)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَال
‏ الْعَيْنُ حَقٌّ وَلَوْ كَانَ شَىْءٌ سَابَقَ الْقَدَرَ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ وَإِذ اسْتُغْسِلْتُمْ فَاغْسِلُوا
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) -এর সানাদে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘কুদৃষ্টির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাস্তব’। কোন বিষয় যদি ভাগ্যলিপিকে অতিক্রম করত, তাহলে ‘কুদৃষ্টি’ ভাগ্যলিপিকে অতিক্রম করত এবং তোমাদের (কুদৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের) -কে গোসল করতে বলা হলে তোমরা গোসল করাবে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৫৯৫

(৩) কুদৃষ্টির/হিংসুক চোখের ভয়ংকর প্রভাব!!
أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ رَخَّصَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لآلِ حَزْمٍ فِي رُقْيَةِ الْحَيَّةِ وَقَالَ لأَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ ‏"‏ مَا لِي أَرَى أَجْسَامَ بَنِي أَخِي ضَارِعَةً تُصِيبُهُمُ الْحَاجَةُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ لاَ وَلَكِنِ الْعَيْنُ تُسْرِعُ إِلَيْهِمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ارْقِيهِمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ ‏"‏ ارْقِيهِم

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাযম পরিবারকে সাপের ছোবলে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীকে ঝাড়ফুঁক করার অনুমতি দেন এবং আসমা বিনতু ‘উমায়স (রাঃ) -কে বললেন, আমার ভাই [জা‘ফার (রাঃ)] এর ছেলে-মেয়েদের কি হলো যে, তাদের শরীর আমি দুর্বল দেখতে পাচ্ছি? তাদের কি অভাব দেখা দিয়েছে? তিনি (আসমা) বললেন, না কিন্তু তাদের উপর তাড়াতাড়ি কুনযর লেগে যায়। তিনি বললেন, তুমি তাদের ঝাড়-ফুঁক কর। তিনি বললেন, তখন আমি তাঁর নিকট (দু‘আটি) উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, (ঠিক আছে) তুমি তাদের ঝাড়ফুঁক করে দাও।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৬১৯

(৪)
আশ্চর্য একটি বর্ননা!!
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ مَرَّ عَامِرُ بْنُ رَبِيعَةَ بِسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ وَهُوَ يَغْتَسِلُ فَقَالَ لَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ وَلاَ جِلْدَ مُخَبَّأَةٍ ‏.‏ فَمَا لَبِثَ أَنْ لُبِطَ بِهِ فَأُتِيَ بِهِ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقِيلَ لَهُ أَدْرِكْ سَهْلاً صَرِيعًا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَنْ تَتَّهِمُونَ بِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا عَامِرَ بْنَ رَبِيعَةَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ عَلاَمَ يَقْتُلُ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مِنْ أَخِيهِ مَا يُعْجِبُهُ فَلْيَدْعُ لَهُ بِالْبَرَكَةِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَأَمَرَ عَامِرًا أَنْ يَتَوَضَّأَ فَيَغْسِلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَرُكْبَتَيْهِ وَدَاخِلَةَ إِزَارِهِ وَأَمَرَهُ أَنْ يَصُبَّ عَلَيْهِ ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ قَالَ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَأَمَرَهُ أَنْ يَكْفَأَ الإِنَاءَ مِنْ خَلْفِهِ ‏.‏

আবূ উমামাহ বিন হুনায়ফ (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ:
আমির বিন রাবীআহ (রাঃ) সাহল বিন হুনায়ফ (রাঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তখন গোসল করছিলেন। আমির (রাঃ) বলেন, আমি এমন খুবসুরত সুপুরুষ দেখিনি, এমনকি পর্দানশীন নারীকেও এরুপ সুন্দর দেখিনি, যেমন আজ দেখলাম। অতঃপর কিছুক্ষণের মধ্যেই সাহল (রাঃ) বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট নিয়ে যাওয়া হল এবং তাঁকে বলা হলো, ধরাশায়ী সাহলকে রক্ষা করুন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কাকে অভিযুক্ত করছো? তারা বললো, আমির বিন রাবীআহ কে। তিনি বলেন, তোমাদের কেও বদনজর লাগিয়ে তার ভাইকে কেন হত্যা করতে চায়? তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের মনোমুগ্ধকর কিছু দেখলে যেন তার জন্য বরকতের দুআ’ করে। অতঃপর তিনি পানি নিয়ে ডাকলেন, অতঃপর আমিরকে উযু করতে নির্দেশ দিলেন। তিনি তার মুখমণ্ডল, দু’হাত কনুই পর্যন্ত, দু’পা গোছা পর্যন্ত ও লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। তিনি আমিরকে পাত্রের (অবশিষ্ট) পানি সকলের উপর ঢেলে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি সাহলের পেছন দিক থেকে পানি ঢেলে দেয়ার জন্য আমিরকে নির্দেশ দেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৫০৯

(৫)হিংসুক চোখ/কুদৃষ্টি থেকে বাচার ঝাড়ফুঁক,
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنِي أَنْ أَسْتَرْقِيَ مِنَ الْعَيْنِ ‏.‏
‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে কুদৃষ্টি হতে (বাঁচার জন্য) ঝাড়ফুঁক করার আদেশ করতেন।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৬১৫

আল্লাহ হিংসা থেকে হেফাজত করেন আমিন।
M***i Arif Bin Habib ♥️

Address

Madhyapara, Parbatipur
Dinajpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মধ্যপাড়া ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share