Noyamela Jame Masjid

Noyamela Jame Masjid 24X7 Online Religious Blog Page

Noyamela Jame Masjid,
Biral, Dinajpur, Bangladesh

12/08/2026

সহিহ বুখারি ১৬৭ নম্বর আয়াতের শেষাংশ ‘ওয়ামা হুম বিখারি জীনা মিনান নার’ (তারা কখনো আগুন থেকে বের হতে পারবে না)—এর ব্যাখ্যাকল্পে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

"কেয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি চিত্রা হুটাক মেষ বা ভেড়ার সুরতে আনা হবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে দাঁড় করানো হবে। অতঃপর আওয়াজ দেওয়া হবে: ‘হে জান্নাতবাসী! তোমরা কি একে চেনো?’ তারা মাথা তুলে দেখে বলবে: ‘হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু।’ এরপর জাহান্নামিদের জিজ্ঞেস করা হবে: ‘তোমরা কি একে চেনো?’ তারাও বলবে: ‘হ্যাঁ, এটিই মৃত্যু।’ তখন সেটিকে জবেহ করে ফেলা হবে এবং ঘোষণা করা হবে: ‘হে জান্নাতবাসী! চিরকাল বেঁচে থাকো, আর কোনো মৃত্যু নেই; হে জাহান্নামবাসী! চিরকাল থাকবে, আর কোনো মৃত্যু নেই।’"

সহিহ বুখারি হাদিস নম্বর: ৬৫৪৭

12/08/2026

সাহাবিরা যখন সুরা বাকারার ১৫৪ নম্বর আয়াতের ‘শহীদরা জীবিত’ থাকার অর্থ জানতে চাইলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ব্যাখ্যা করে বললেন:

"শহীদদের রুহগুলো সবুজ পাখির পেটের ভেতরে থাকে। তাদের জন্য আরশের সাথে ঝুলন্ত প্রদীপমালা রয়েছে। তারা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়ায় ও ফলমূল আহার করে, অতঃপর আরশের প্রদীপে এসে আশ্রয় নেয়। তাদের রব তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেন: ‘তোমরা কি আর কিছু চাও?’ তারা বলে: ‘আমরা আর কী চাইব, আমরা তো জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করছি...’"

সহিহ মুসলিম হাদিস নম্বর: ১৮৮৭

11/08/2026

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) এবং আল্লাহ ছাড়া যে সবের ইবাদত করা হয় (তাগুত) তা অস্বীকার করে, তার ধন-সম্পদ ও রক্ত হারাম বা সুরক্ষিত হয়ে যায় এবং তার হিসাবের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত হয়।"

সহিহ মুসলিম (হাদিস নম্বর: ১৫৯ / তাগুত ও ঈমানের সত্যতা সম্পর্কিত)

08/08/2026

টানা কয়েকদিন আমি ৫০,০০০ বার 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পাঠ করেছিলাম, ফলস্বরূপ একটি অত্যন্ত টক্সিক relationship থেকে মুক্তি পেলাম..
আবার আস্তাগফিরুল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ পড়তে শুরু করলাম.. তারপর আমার বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়।

আমি আবারও প্রতিদিন ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ বার আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করি, তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে অনেক চাকরির সুযোগ আসে, মাশা আল্লাহ!❤️

🟪দুআ কবুলের গল্প ০৫🟪

এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি বলেছেন যে তিনি প্রতিদিন ৩০,০০০ ইস্তিগফার করেন এবং আল্লাহ তাকে ৮০,০০০ ডলার ঋণ থেকে বাঁচিয়েছেন। ইস্তিগফার করার পর তার জীবন খুবই সুন্দর হয়ে গেছে।

🟧 দুআ কবুলের গল্প ০৬🟧

আলহামদুলিল্লাহ! আমি প্রায় ১৯ দিন ধরে প্রতিদিন ৭০০০ বার আস্তাগফিরুল্লাহ/রব্বিগফিরলি/আল্লাহুম্মাগফিরলি পাঠ করেছি!

আমি আমার দুজন বন্ধুর চাকরির জন্য দুআ করছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, তাদের মধ্যে একজন প্রত্যাশিত বেতনের সাথে খুব ভালো চাকরির অফার পেয়েছে।✨💌

আমার অন্যান্য দুয়ার উত্তর পাওয়ার জন্য আমি এখনও আস্তাগফিরুল্লাহ এবং দরূদ-এ-পাক (পবিত্র দরূদ) পাঠ করছি/দোয়া করছি

🟥দুআ কবুলের গল্প ০৭🟥

আমি ৬ মাস ধরে চাকরি খুঁজছিলাম এবং একটাও পাচ্ছিলাম না... আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।

একটা সময় আমি এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম যে, মনে হচ্ছিল কোনো চাকরিই পাবো না, তখন আমি প্রতিদিন প্রায় ১০০০-১৫০০ বার করে "আস্তাগফিরুল্লাহ" পাঠ করা শুরু করলাম।

এক থেকে দেড় দিনের মধ্যে আমি একটি চাকরিতে শূন্যপদ পেলাম, এবং সেটিতে আবেদন করলাম এবং চাকরিটা পেয়ে গেলাম... আলহামদুল্লিলাহ..

সংগৃহীত

টানা কয়েকদিন আমি ৫০,০০০ বার 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পাঠ করেছিলাম, ফলস্বরূপ একটি অত্যন্ত টক্সিক relationship থেকে মুক্তি পেলাম..।

02/08/2026

তুমি কি নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখতে চাও?
তাহলে একটা উপদেশ বলছি, যা তোমার জীবনের ধারা পাল্টে দিতে পারো।
একজন ভালো মানুষ আমাকে একবার এই কথাগুলো বলেছিলেন। আমি তাঁকে জীবনে মাত্র একবারই দেখেছিলাম, কিন্তু তাঁর এই কথাগুলো আমার জীবনে অনেক বড় প্রভাব ফেলেছিল।
আমি একদিন বিদেশের এক মাসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। মাসজিদটি প্রায় খালি ছিলো, শুধু আমি আর এক তাজিক (তাজিকিস্তানের) লোক ছিলাম। লোকটির চেহারা ছিল সাধারণ, কিন্তু তাঁর মুখে এক ধরনের অদ্ভুত নূর (আলোকোজ্জ্বলতা) ছিলো।
আমি ইমাম হয়ে নামাজ পড়ালাম। নামাজ শেষে লোকটি ভাঙ্গা আরবিতে বললেন: তোমাকে একটা উপদেশ দিবো, এটি পালন করো।
আমি বললাম, বলুন।
তিনি বললেন: তুমি প্রতিদিন এক হাজারবার নাবী ﷺ-র প্রতি দুরূদ পাঠ করো। এটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ভাগ করে নিতে পারো। তুমি অবাক হবে যে কীভাবে তোমার জীবনে পরিবর্তন আসবে।
তিনি আরও বললেন: দেখো, তখন আর কোনো চিন্তা তোমাকে দমন করতে পারবে না, কোনো ঋণ তোমাকে কষ্ট দেবে না, আর প্রতিটি কষ্ট থেকে তুমি মুক্তি পাবে। নবীজি ﷺ তোমাকে কিয়ামাতের দিনে চিনে ফেলবেন। কারণ, তোমার দুরূদ তাঁর কাছে পৌঁছাবে।
চলে যাওয়ার আগে তিনি হেসে বললেন:
তুমি তাঁকে স্বপ্নে দেখবে, 'কখনো তোমাকে শান্তনা দিতে, আবার কখনো সতর্ক করতে'।
আমি সত্যিই সেই উপদেশ মানতে শুরু করলাম। প্রথম তিন বছর কিছুই দেখিনি। তবে আমার জীবন বদলে গেলো, সব কাজ সহজ হয়ে গেলো, আল্লাহর রহমাত ও নিরাপত্তা পেয়ে গেলাম।
এরপর. ধীরে ধীরে নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখতে শুরু করলাম। প্রতিটি স্বপ্নে ছিলো বিশেষ বার্তা, 'হয়তো কোনো গুনাহ থেকে সাবধান করা অথবা কোনো ভালো খবর দেয়া'।
আল্লাহর কসম:
আমি যাকে-ই এই উপদেশ দিয়েছি, সবাই-ই নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখেছেন। কখনো সুসংবাদ নিয়ে, কখনো সতর্কবার্তা নিয়ে।
আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি:
যেকেউ প্রতিদিন ১০০০ বার দুরূদ শরীফ পড়বে, সে নিশ্চয়ই নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখবে।

মূল - শাইখ আহমাদ যায়দান (হাফিজাহুল্লাহ),মিশর
ভাষান্তর - ইয়াছিন আরাফাত, আল-আযহার ইউনিভার্সিটি।

31/07/2026

দুনিয়ায় ও আখেরাতের উদাহরণ

১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান দেশভাগের আগে প্রচুর পরিমাণে লড়াই এবং রক্তপাত শুরু হয়েছিল। ক্বারী মুহাম্মদ কাইয়্যুম বর্ণনা ক...
22/07/2026

১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান দেশভাগের আগে প্রচুর পরিমাণে লড়াই এবং রক্তপাত শুরু হয়েছিল। ক্বারী মুহাম্মদ কাইয়্যুম বর্ণনা করেছেন যে, সেই সময় সেখানে এক ধনী ব্যক্তির একটি সুন্দরী কন্যা ছিলো। সেই সময় সে তার খালার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাইরে বের হয়েছিল, যিনি কয়েকটি গলি দূরে কোথাও বসবাস করতেন।

যখন সে অর্ধেক রাস্তা অতিক্রম করলো এমন সময় তখন একটি দাঙ্গা (গোলাগুলি) শুরু হয়ে যায় এবং সে সেই পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে যায়। সে কাছাকাছি একটি মসজিদ দেখতে পায় এবং দ্রুত মসজিদে চলে যায় এবং নারীদের বসার জায়গার কোণে বসে পড়ে।
দাঙ্গা (গোলাগুলি) গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে এবং সে সেই পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে যায়। সে চিন্তিত ছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে বুঝতে পারছিল না তার কী করা উচিত।

সেখানে একজন তরুণ ছাত্র ছিল, যিনি মসজিদের দেখাশোনাকারী ছিলেন। এবং গভীর রাতে যখন তিনি তালা লাগানোর আগে মসজিদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি দেখলেন একজন সুন্দরী তরুণী মসজিদের নারীদের অংশের কোণে বসে আছে।

তিনি খুব ভদ্রভাবে এই মেয়েটিকে মসজিদ ছেড়ে চলে যেতে বললেন।
তিনি মেয়েটিকে বললেন, যদি কেউ তাদের দেখে ফেলে, তাহলে উভয়েরই অসম্মান হবে এবং তাদের মসজিদ থেকেও এবং সমাজ থেকেও বের করে দেওয়া হবে।

কিন্তু মেয়েটি তাকে অনুরোধ করল যেন তাকে মসজিদে এক রাত থাকতে দেওয়া হয়, কারণ মসজিদের বাইরে একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি ছিল এবং সে সেই পরিস্থিতিতে বাইরে যেতে পারছিল না। তাই ছেলেটি রাজি হয়ে গেল এবং সে মসজিদের বিপরীত প্রান্তে বসে কুরআন পড়তে শুরু করল।

মেয়েটি ঘুমাতে পারছিল না, কারণ দিনের ঘটনার ভয়াবহতা তার মনকে ভীত করছিল। এবং সে দেখল, ছেলেটি মোমবাতির আলোতে বিপরীত পাশে বসে কুরআন পড়ছে। সে তাকে দেখতে থাকল, কিন্তু একই সময়ে সে যা দেখল তাতে বিস্মিতও হলো।

সে কী দেখল?
মেয়েটি দেখল যে, তরুণ ছেলেটি সময়ে সময়ে তার হাত খোলা আগুনের মধ্যে দিচ্ছে, অর্থাৎ তার আঙুল পুড়িয়ে ফেলছে। যখন তাপ অসহনীয় হয়ে উঠছিল, তখনই শুধু সে তার হাত সরিয়ে নিচ্ছিল। তারপর সে আবার এভাবে চালিয়ে যাচ্ছিল। এভাবে সে পুরো রাত চালিয়ে গেল, যতক্ষণ না ভোর হয়ে গেল।

ফজরের সময়ে ছেলেটি আযান দিল এবং মেয়েটিকে বলল, জামাতের জন্য মুসল্লিরা আসা শুরু করার আগে সে যেন চলে যায়, কারণ এখন বাইরের পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেছে।

সে মসজিদ থেকে চলে যেতে রাজি হলো, কিন্তু একটি শর্ত রাখল যে কেন সে সারা রাত কুরআন পড়ার সময় তার হাত পুড়াচ্ছিল এটা তাকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

ছেলেটি এই শর্তে রাজি হলো না, কারণ সে এটি প্রকাশ করতে চায়নি এবং মেয়েটিকে চলে যেতে বলল। কিন্তু মেয়েটি সন্তুষ্ট হলো না এবং যুক্তি তর্ক শুরু করল ও তাকে ব্যাখ্যা করতে বাধ্য করল। সে বলল, অন্যথায় সে মসজিদ ছেড়ে যাবে না।

যেহেতু ছেলেটির আর কোনো উপায় ছিল না, তাই সে বলল,
আমি যৌবনের বয়সে আছি এবং আমার মধ্যে তীব্র কামনা আছে। মসজিদে আমরা একা ছিলাম এবং আমার ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আমি তরুণ হওয়ার কারণে আমার কাম বাসনা নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম ছিলাম। এবং যদিও আমি কুরআন পড়তেছিলাম, শয়তান আমার অন্তরে প্রলোভন দেওয়া শুরু করেছিল।

তাই যখনই এই প্রলোভন আমার অন্তরে আসে, আমি আমার হাত পুড়িয়ে দিই। আমি নিজেকে বলি যে, এই আগুন জাহান্নামের আগুনের তুলনায় কিছুই নয়।
যদি আমি এত ছোট আগুনের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পারি, তাহলে আমি কীভাবে জাহান্নামের আগুনের ব্যথা সহ্য করব? তাই আমি এটি করছিলাম।

যখন সে উত্তরটি পেল, তখন সে তার বাড়িতে চলে গেল এবং তার বাবা-মাকে আশ্বস্ত করল যে সে এখন ঠিক আছে। এবং যা কিছু ঘটেছে তা সে তার বাবা-মাকে ব্যাখ্যা করল।

এবং সে তার মাকেও জানাল যে সে মসজিদের দেখাশোনাকারী ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চায়। সে তার মাকে বলল যে, শুধুমাত্র এমন আল্লাহভীরু ব্যক্তি তার স্ত্রীর প্রতি সত্য হতে পারে এবং তার স্ত্রীর সমস্ত অধিকার পূরণ করতে পারে।

সে বলল, তাকে বিয়ে করার পর সে সুখী হবে।

অতঃপর মসজিদের দরিদ্র দেখাশোনাকারী ব্যক্তি ধনী ব্যক্তির কন্যাকে বিয়ে করলেন।

তিনি সম্মান লাভ করেছিলেন এই কারণে নয় যে তিনি সুদর্শন ছিলেন, বরং তার চরিত্রের কারণে।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামার পাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে বেশি ভারী আর কিছুই হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ নির্লজ্জ, অশালীন ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন। (তিরমিজী)

উমরাহ যাওয়ার জন্য আমার ব্যক্তিগত কিছু টিপস। যা কাজে লাগতে পারে ইনশাআল্লাহ! এইগুলো বিষয় যারা গ্রুপ ছাড়া নিজেরা যেতে চান,...
12/07/2026

উমরাহ যাওয়ার জন্য আমার ব্যক্তিগত কিছু টিপস। যা কাজে লাগতে পারে ইনশাআল্লাহ! এইগুলো বিষয় যারা গ্রুপ ছাড়া নিজেরা যেতে চান, বিশেষ করে তাদের জন্য এবং কিছু বিষয় সবার ক্ষেত্রেই কাজে লাগবে ইনশাআল্লাহ!

১. কোনো বিশ্বস্ত এজেন্সি থেকে শুধু টিকিট আর ভিসা করতে হবে।বাংলাদেশ থেকে বিমান বাংলাদেশ আর সৌদি এ্যারাবিয়া তে ডিরেক্ট যাওয়া যায়। এখনো পর্যন্ত আর কোনো এয়ারলাইন্স ডিরেক্ট যায়না। বাকি সব ট্রানজিট। বাচ্চা থাকলে ট্রানজিট ফ্লাইট এ্যাভয়েড করবেন। সেক্ষেত্রে যারা ডিরেক্ট ফ্লাইটে যেতে চান, সৌদি এয়ারলাইন্স বেস্ট আমার কাছে।

নোট - বাসা থেকে বের হওয়ার সময়, পাসপোর্ট ভিসা চেক করে একসাথে পরিবারের একজনের কাছে রাখুন। বোর্ডিং পাসের সময়, জানালার পাশে বসার, বা পাখা বরাবর বসতে না চাইলে,আরকিছু রিকোয়ারমেন্টস থাকলে তখনি জানাবেন।বেবি স্ট্রলার ট্যাগ লাগানোর পরও বিমান পর্যন্ত নিতে পারবেন। ( যদিও কিছু বিমানে ভেতরেও নেয়া যায়, জিজ্ঞেস করে নিতে পারেন আগেই)।বেবি টিকিটের সাথে বেবি স্ট্রলার একদম ফ্রি নেয়া যায়।

২. জেদ্দা পৌছানোর পর,( সৌদির এয়ারলাইনসের আলাদা বিমানবন্দর), এয়ারপোর্টে খুব সহজেই ইমিগ্রিশনের কাজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ! তারা খুবই হেল্পফুল। এরপর এয়ারপোর্টের ভেতর থেকেই পাসপোর্ট দিয়ে টুরিস্ট সিম কিনবেন( অবশ্যই এমবি সহ)।, এবং এয়ারপোর্টের ভেতরেই ট্যাক্সি সেবা আছে। সেখান থেকে সহজেই মক্কা বা মদীনা যেখানে আগে যেতে চান সেখানের যেকোনো সাইজের গাড়ি ভাড়া নিতে পারবেন।

৩. হোটেল বুকিং টিকিট করার পরপর-ই করে ফেলুন, বিভিন্ন ওয়েবসাইট আছে যেমন, booking.com/agoda. Booking এর সময় খেয়াল রাখবেন, Pay at hotel option ( Free cancellation). কারন প্রিপেমেন্ট হলে কোনো কারণে যেতে পারলে বা ২/১ দিন এদিক সেদিক হলে কার্ড থেকে টাকা কেটে নিবে।যেকোনো ডেবিট কার্ড দিয়েও করা যায়।ব্যাংক/কার্ডে টাকা থাকা লাগেনা।তখন আপনি হোটেলে গিয়ে পেমেন্ট করবেন। যেই অপশন বলেছি। এছাড়াও পরিচিত কোনো মাধ্যম থাকলে ঐখানে থাকা কারো মাধ্যমেও বুক করতে পারবেন। ওখানে বাঙ্গালি অনেকেই বুকিং এর বিজনেস করেন। বিশ্বস্ত হতে হবে। ধোকাবাজ সব জায়গায় আছে।সতর্ক থাকবেন।

নোট - সৌদি বেশিভাগ হোটেলে চেক ইন টাইম শুরু হয় ঐ দেশের সময়ের বিকাল ৩/৪/৫ টায়। চেকআউট সকাল ১১/১২ টা। আর হোটেল যদি হারামের কাছে থাকে তাহলে তো ভাল, দূরে হলে শিওর হবেন যে হোটেলের শাটেল সার্ভিস (হারামে যাওয়ার জন্য হোটেলের নিজস্ব গাড়ি) আছে কিনা, থাকলে কখন কখন। তাহলে ট্যাক্সিভাড়া বেঁচে যাবে।

৪. জেদ্দা বা মক্কা মদীনা থেকে ট্রেনে যাওয়া আসা করা যায়, সেটা আরামদায়ক, এটার জন্য আগে থেকে টিকিট করতে হয়, অনলাইনেও কাটা যায়, এরজন্য HHR Train (সৌদি এ্যাপ) ডাউনলোড করুন।বা চাইলে ট্রেনস্টেশনে গিয়েও কাটা যায়। ২/১ আগে গিয়ে কাটতে পারলে ভাল।কখনো রাশ বেশি থাকলে ইনস্টান্ট পাওয়া যায়না।

৫. মোস্ট ইম্পরট্যান্ট হলো nusuk এ্যাপ ডাউনলোড করা। কারণ এই এ্যাপ ছাড়া এখন রিয়াজুল জান্নাহতে যেতে পারবেন না।এই এ্যাপ এর মাধ্যমে ভিসা, পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খুলে রিয়াজুল জান্নাহতে যাওয়ার জন্য তারিখ দিয়ে ট্রাই করতে হয়।এখন মহিলাদের জন্য পারমিশন খুব কম পাওয়া যায়। একটু পর পর অল্প কিছু টাইমস্লটে পারমিশন দেয়, এজন্য একটু পর পর চেক করতে হয়।(অনেক সময় পাওয়াও যায়না সেটা খুব কষ্টের)। উমরাহ করতে কিছুর দরকার হয়না এখন আলহামদুলিল্লাহ!

৬. সৌদিতে মক্কা মদীনায় বিভিন্ন জায়গায় জিয়ারাহর জন্য/ঘোরার জন্য ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন, ওখানে ট্যাক্সি Available সবসময়।মিটারে গেলে ভাল না গেলে, দামাদামি করবেন।ওখানে প্রচুর বাংলাদেশী ড্রাইভার ভাই আছেন।

৭.উমরাহ করার জন্য এশার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত বেস্ট সময়। রাত ১/২ টা তে বেশি ভাল।যাদের তাওয়াফ করতে সমস্যা, তারা হুইলচেয়ারে দ্বিতীয় তলায় করতে পারবেন। তবে বিশেষ কারণ না থাকলে ক্বাবার ফ্লোরের মতো শান্তি অন্য জিনিস।সাই করার জন্যও নতুন বিল্ডিং এ ইলেক্ট্রিক স্বচলিত বাহন আছে অসুস্থ মানুষের জন্য। না চিনলে ওখানে থাকা সিকিউরিটিতে থাকা ভাই/বোনদের জিজ্ঞেস করে নিবেন। এর জন্য কিছু রিয়াল এক্সট্রা খরচ হবে।

৮. তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর পানি/জুস খাবেন। খেজুর খেলে অনেক এনার্জি পাবেন।উমরাহ পালনের পর অন্য যেকোনো সময় দীর্ঘসময় ক্বাবার সামনে থাকতে চাইলে খেজুর সাথে রাখতে পারেন। আর ভেতরে জমজম পানির অনেক পয়েন্ট, এতে পানির পিপাসা জমজমের পানি দিয়ে পূরণ করুন। একদম বিনামূল্যে।

৯. হোটেল হারাম থেকে দূরে হলে জামাতে নামাজ পড়তে চাইলে ১ ঘন্টা আগেই আসবেন। জামাতের সময় অনেকটা দূর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এবং জামাতের আগে আগে ভীড়ের কারণে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা যায়না।বাইরে পড়তে হয়।পুরুষদের জন্য ইহরামের কাপড় ছাড়া অন্য পোষাকে ক্বাবার ফ্লোরে যাওয়া যায়না।ভেতরে নামাজ পড়তে চাইলেও ইহরামের কাপড় বাধ্যতামূলক। মহিলাদের জন্য সমস্যা নেই।

১০. খাবারের ক্ষেত্রে সবরকম খাবার পাওয়া যায় ওখানে।দাম তুলনামূলক কম।বাংলা খাবার ছাড়া খেতে না পারলে ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টগুলো বা হারামের আশেপাশের কিছু গলিতে বাংলাদেশী খাবার পাবেন। আর হোটেলে খাবার নিতে ওখানে কিছু এ্যাপ আছে বাংলাদেশী ফুডপান্ডা/পাঠাও এর মতো। যেমন HungerStation - هنقرستيشن . এটা ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। সৌদির টুরিস্ট সিম এর নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খুলবেন।

১১. হারামের বাইরে সরকারী বেশকিছু টয়লেট/বাথরুম আছে। সেখানে প্রচুর ভীড় থাকে।আর ভেজা থাকে, হারাম থেকে বের হলে মক্কা টাওয়ার বা ক্লক টাওয়ারের শপিং মলের টয়লেট অজুখানা ইউজ করতে পারেন। তুলনামূলক অনেক পরিষ্কার আর শুকনা থাকে।

১২. জিয়ারাহর স্থানগুলো সম্পর্কে জানা না থাকলে গুগল করতে পারেন। কোথায়, কি সব সহ ইনফরমেশন পেয়ে যাবেন।

এবার আসি কি কি সঙ্গে নিবেন…

যেকয়দিন থাকবেন, সেই অনুপাতে কাপড় নিবেন। ওখানে লন্ড্রীতে অনেক খরচ। আর ধুয়ে ধুয়ে শুকাতে বেশ ঝামেলা। ময়লা কাপড়ের জন্য আলাদা হালকা ওজনের ব্যাগ রাখবেন।বোরখা/ইহরামের কাপড় অবশ্যই কমপক্ষে দুই সেট রাখবেন। ময়লা বা নাপাক কিছু লাগলে যাতে অপশন থাকে।কিছু মেডিসিন নিবেন, যেমন, প্যারাসিটামল, গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন।বেবি থাকলে ঠান্ডা লাগলে বেসিক যেই মেডিসিন গুলো লাগে সেটা নিবেন।আমাদের দেশের মেডিসিনগুলো ওখানে পাওয়া যায়না।

মহিলাদের জন্য ইহরাম বাধা অবস্থায় মুখে কাপড় লাগানো যায়না। এর মানে এই না যে, মুখ খুলে রাখতে হবে। পর্দা করা ফরজ। এরজন্য বিশেষ ক্যাপ নিকাব পাওয়া যায়। বাইতুল মোকার্ররাম মার্কেটে যেসব পাওয়া যায় ঐগুলিতে ফেইস হালকা দেখা যায়।তাই বানিয়ে নিতে পারলে ভাল, না হয় অনলাইনের কোনো পেজ থেকে নিতে পারেন।বেশকিছু অনলাইন পেইজে পাওয়া যায়।

উমরাহর শেষ ধাপ চুল কাটা। মহিলাদের জন্য সাথে কেচি রাখলে খুব ভাল। নিজে বা পরিবারের যে কেউ আগা সমান করে কেটে দিতে পারবে। নোট- কেচি দেশ থেকে নেয়ার সময় অবশ্যই হ্যান্ড ক্যারী করবেন না। এটা নিষেধ।

বাচ্চার নির্দিষ্ট খাবার থাকলে যেটা রান্না করতে হয় এমন হলে মিনি সাইজের ইলেক্ট্রিক কুকার নিয়ে যেতে পারেন। হোটেলে রান্না করতে পারবেন। এরজন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হলো অবশ্যই মাল্টিপ্লগ/থ্রীপ্লগ দেশ থেকেই নিয়ে যাবেন। ওখানে হোটেল গুলোর পয়েন্ট আমাদের দেশের মতো নয়। বাচ্চার জন্য মাস্ট বেবি স্ট্রলার নিবেন।অনেক হাটাহাটি করতে হয়, বাচ্চা কোলে নিয়ে সামলানো প্রায় অসম্ভবের মতো কষ্ট। এটা লাগবেই।সহজে ফোল্ডেবল, এবং হালকা হলে ভাল।

দেশে আসার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন ওভারওয়েট না হয়। ওজন বেশি হলে এয়ারপোর্টে ফেলে দিতে হবে বা অনেক টাকা খরচ করে আনতে হবে।যাওয়ার সময় ওভারওয়েট একদম ছাড় দেয়না। তাই যত কম জিনিস দেশ থেকে নেয়া যায়। যাতে ফেরার সময় যথেষ্ট স্পেস থাকে।

জমজম পানি একটি পাসপোর্টে একটি ফ্রি আনা যায়। বেশি আনতে চাইলে, এয়ারপোর্ট থেকে বক্সসহ কিনে, লাগেজে আনা যাবে ইনশাআল্লাহ! (আমি এনেছি কয়েকবার সমস্যা হয়নি)। সেক্ষেত্রে ওজন যেন বেশি না হয় খেয়াল করবেন। এবং অবশ্যই বোর্ডিং এ পাসপোর্টের সাথে যেই পানি পাবেন (সেটাও কিনতে হয়), ঐটাতে ব্ল্যাক মারকার বা কিছু দিয়ে নিশানা দিবেন, যাতে দেশে যখন লাগেজ, পানি কালেক্ট করবেন তখন সহজেই চোখে পড়ে।অনেকে অন্যের পানি নিয়ে চলে যায়। কারন ছোট করে পানির বক্সে পাসপোর্ট নাম্বার লেখা থাকে। অনেকে পানি পায়না এই কারণে (আমি নিজেও একবার একটা বোতল পাইনি)।

আর হারামে যেহেতু বেশিরভাগ সময় থাকা হয় তাই একটা ব্যাকপ্যাক খুব জরুরী। সেখানে জুতা, ফোন, টাকা, খেজুর,দরকারী জিনিসপত্র নিতে পারবেন। হাতে আলাদে বড় ব্যাগ হলে ক্যারি করতে কষ্টদায়ক এবং অনেকসময় নিতেও দেয়না। গ্রুপ ছাড়া গেলে নিজের মতো করে নিজের সময় বুঝে যেকোনো কিছু করা যায়।

অবশ্যই ছোট একটা উমরাহ পালনের নিয়মকানুনের বই সাথে রাখবেন।যেখানে প্রয়োজনীয় মাসাআলা ও সব নিয়মকানুন, কখন কি করবেন সব জানতে পারবেন।

Copy: Najnin Akter Amatullah

আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি চাটাই...
11/07/2026

আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি চাটাইয়ের ওপর ঘুমালেন। অতঃপর তিনি যখন উঠলেন, তখন তাঁর পার্শ্বদেশে চাটাইয়ের দাগ পড়ে গিয়েছিল। আমরা বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি আপনার জন্য একটি নরম বিছানা (গদি) তৈরি করে দিতাম!"
​তখন তিনি বললেন, "দুনিয়ার সাথে আমার কীসের সম্পর্ক? এই দুনিয়াতে আমি তো কেবল সেই আরোহীর মতো, যে কোনো একটি গাছের ছায়াতলে ক্ষণিকের জন্য আশ্রয় নিল, অতঃপর সে বিশ্রাম শেষে আবার পথ চলা শুরু করল এবং গাছটি পেছনে ফেলে চলে গেল।"

​সূনানে তিরমিযী, হাদিস নং ২৩৭৭

09/07/2026

তাবলীগের বয়ানে জি*^হাদ
মাওলানা আনাস বিন ইদ্রিস

Address

Noyamela Jame Masjid, Biral
Dinajpur
5210

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Noyamela Jame Masjid posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share