19/04/2026
শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমিন رحمه الله-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:
মানুষ কি দীন-ধর্মের ক্ষেত্রে নজর (عين) দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে পারে?
তিনি উত্তরে বলেন:
হ্যাঁ, একজন ধার্মিক মানুষও নজরে আক্রান্ত হতে পারে। ফলে তার অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে যায়। আগে যে ইবাদতে তার মন প্রশান্ত থাকত, তা থেকে তার অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়। যে আমল আগে সহজ ছিল, তা তার কাছে কঠিন হয়ে পড়ে। যে ইবাদতে আগে সে আনন্দ পেত, তা থেকে সে অস্বস্তি অনুভব করতে থাকে। এমনকি তার মুখস্থ শক্তিও আক্রান্ত হতে পারে—সে যা মুখস্থ করেছিল তা ভুলে যেতে পারে, আগে যে কাজে সে শক্তিশালী ছিল সেখানে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বরং এমনও হতে পারে, যে নেক আমলের ধারাবাহিকতা আগে বজায় রেখেছিল, সেটি চালিয়ে যাওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে যায়।
— শায়খের বক্তব্য শেষ —
সুতরাং হে মুসলিম ভাইয়েরা!
নজর (عين) সত্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই। শরীয়তের দলিল দ্বারা এটি প্রমাণিত, এবং অভিজ্ঞতাও এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এটি এমন এক বিপদ, যার প্রভাব অনেক সময় বাহ্যিকভাবে দেখা যায় না যেমন অন্য রোগ দেখা যায়; বরং এটি ভেতরে ভেতরে মানুষের অন্তর ও আমলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, অথচ মানুষ তা টেরও পায় না।
অতএব সতর্ক থাক—তোমার ইবাদত ও আনুগত্যকে মানুষের আলোচনার বিষয় বানিও না এবং তা নিয়ে গর্ব বা প্রদর্শন করো না। কারণ মানুষের মন দুর্বল, হৃদয় পরিবর্তনশীল। মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে হিংসা করে, কেউ আছে যে অতিরিক্ত মুগ্ধ হয়—আর এগুলো সবই পরীক্ষার দরজা।
যতটা সম্ভব তোমার আমল গোপন রাখো, তোমার ইবাদত আড়ালে রাখো, এবং তোমার ও আল্লাহর মাঝে এমন কিছু আমল রাখো যা কেউ জানে না। কেননা ইখলাস (নিষ্ঠা) সবচেয়ে বড় সুরক্ষা, আর গোপন রাখা সবচেয়ে শক্ত দুর্গ।
আজ তুমি স্থির আছ বলে আত্মতুষ্ট হয়ো না। কত সোজা পথে থাকা মানুষ বিচ্যুত হয়েছে, কত পরিশ্রমী ব্যক্তি দুর্বল হয়ে গেছে, কত হাফেজ ভুলে গেছে—সবই আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী। কখনো এর কারণ হতে পারে নজর, কখনো নিজের আমলে আত্মতুষ্টি, কখনো মানুষের প্রশংসার প্রতি হৃদয়ের আসক্তি।
সুতরাং যিকির আঁকড়ে ধরো, বেশি বেশি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও, এবং সর্বদা আল্লাহর কাছে দ্বীনের উপর অটল থাকার দোয়া করো। নেককাররা যেমন বলতেন:
“হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখ।”
নিজ হাতে নিজের জন্য বিপদের দরজা খুলে দিও না। কেননা নিয়ামত প্রকাশ করা এবং আমল নিয়ে মানুষের সামনে কথা বলা অনেক সময় বঞ্চনার কারণ হয়ে যায়। বান্দা যত বেশি নিজের আমল গোপন রাখে, তত বেশি তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং বিপদ থেকে দূরে থাকে।
আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি—তিনি যেন আমাদের দ্বীনকে হেফাজত করেন, হিংসুক ও বদনজরকারীদের অনিষ্ট থেকে আমাদের রক্ষা করেন, কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন, এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে সত্যের উপর অটল রাখেন।
Collected