মহা পবিত্র আল-কুরআন ও ১০০% সহিহ্ হাদিস :

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • মহা পবিত্র আল-কুরআন ও ১০০% সহিহ্ হাদিস :

মহা পবিত্র আল-কুরআন ও ১০০% সহিহ্ হাদিস : ইসলাম প্রচারার্থে আল কুরআন ও বিশ্ব নবী (সঃ) এর হাদিস সমূহ প্রচার করা।

26/06/2026

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন এর সুরা আন-নিসা এর ৩৪ নং আয়াতে বলেন:
"পুরুষ নারীর কর্তা, কারণ আল্লাহ্ তাহাদের এক-কে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন"।

اَلرِّجَالُ قَوَّامُوْنَ عَلَى النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللّٰهُ بَعْضَهُمْ عَلٰى بَعْضٍ وَّبِمَاۤ اَنْفَقُوْا مِنْ اَمْوَالِهِمْ‌ ؕ فَالصّٰلِحٰتُ قٰنِتٰتٌ حٰفِظٰتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللّٰهُ‌ ؕ وَالّٰتِىْ تَخَافُوْنَ نُشُوْزَهُنَّ فَعِظُوْهُنَّ وَاهْجُرُوْهُنَّ فِى الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوْهُنَّ‌ ۚ فَاِنْ اَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوْا عَلَيْهِنَّ سَبِيْلًا‌ ؕاِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيْرًا

সূরা নম্বরঃ ৪, আয়াত নম্বরঃ ৩৪

22/06/2026

জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি কি আছে?

সূরা আরাফে নতুন একটা ব্যাপার নিয়ে জানলাম। ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি যে, আখিরাতের পরিণাম হবে বাইনারি, হয় জান্নাত নয় জা*হান্নাম।

অথচ এই সূরার মাধ্যমে আমাদেরকে আল্লাহ জানিয়ে দিলেন— না, জান্নাত আর জা*হান্নামের মাঝামাঝিও আরেকটা জায়গা আছে। জায়গাটার নাম আরাফ!

এই জায়গার নাম অনুসারেই এই সূরার নামকরণ। "আরাফ" হবে তাদের জন্য, যারা এতটাও ভালো কাজ করেনি যে জান্নাতের টিকেট পেয়ে যাবে! আবার এতটাও খারাপ কাজ করেনি যে জা*হান্নামে যেতে হবে। এ যেন মিডেল ক্লাসদের চরণ ভূমি!

এই আরাফবাসি সবসময়ই আশায় থাকবে যে, তাদেরকে যেন কোন না কোন সময় জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়।

এই আরাফ ছাড়াও হাশরের (The Day Of Judgement) আরেকটা ইম্পর্টেন্ট ফেক্ট আমাদের অনেকেরই অজানা। আর সেটা হলো কান্তারা!

আমরা মনে করি, কোনো রকমে পুলসিরাত পার হইতে পারলেই বাঁচি। ভুল! পুলসিরাত পার হতে পারলেই জান্নাত নয়। পার হতে পারলে অপেক্ষা করবে মুমিনদের জন্য ফাইনাল পরীক্ষা।

হাশরের দিনে বিশ্বাসীদের বিচার হবে দু-বার। এক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পূর্বে। আরেক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পরে। জি ঠিকই শুনেছেন।

পূর্বের বিচার হবে- "স্রষ্টার হক নষ্ট করার বিচার।"

আর পরের বিচার হবে- "বান্দার হক নষ্ট করার বিচার।"

আর যে জায়গাটায় বিচারটি হবে, সেই জায়গাটির নামই হলো— "কান্তারা।" আল-কান্তারাহ হলো- সিরাতের পর আরেকটি ছোট সিরাত। বিশ্বাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা এই কান্তারার উপর দিয়েই প্রবেশ করবে। এবং স্রষ্টা এই কান্তারার উপরেই মুমিনদের মধ্যকার আন সেটেলড ইস্যুস গুলো রিসোলভ করবেন।
‎ ‎
কল্পনা করুন! একজন ব্যক্তি আল-কান্তারাহ তে, জান্নাতের দরজার অলমোস্ট দ্বারপ্রান্তে, অথচ সে সেথায় ঢুকতে পারছে না! কারণ তার সব সৎকর্মগুলো যা নিয়ে নিয়ে সে বড়াই করতো সব শেষ। উল্টো তাকে জা*হান্নামে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সেই হতোভাগাকে আপনি তখন কী বলবেন?

প্রিয় রাসূল (ﷺ) অবশ্য সেই হতভাগা কে ডিফাইন করেছেন "মুফলিস" হিসেবে। "মুফলিস" অর্থ হলো দেউলিয়া।

রাসূল (ﷺ) বলেছেন, “তোমরা কি জানো, কে আসল দেউলিয়া?”

সাহাবারা (রা.) উত্তর দেন, “যার কাছে অর্থ বা সম্পদ কিছুই নেই সে ইয়া রাসূলুল্লাহ?”

রাসূল (ﷺ) বললেন, “না! আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত দেউলিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি– যেই ব্যক্তি কি*য়ামতের দিনে অনেক নামাজ, অনেক রোজা ও অনেক সদকা নিয়ে উপস্থিত হবে। অথচ সে দেখতে পাবে যে, সে ঐ দিনে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে! কারণ জীবদ্দশায় সে অন্যদের গা*লি দিয়ে বেড়াতো। অন্যদের অপবাদ দিয়ে বেড়াতো। অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াতো। অন্যের র*ক্তপাত ঘটিয়ে বেড়াতো এবং অন্যকে প্রহার করে বেড়াতো। আজ তার সব সৎকর্মগুলো ভুক্তভোগীদেরকে দিয়ে দিতে হচ্ছে!

শুধু তাই না! যদি তার ভালো কাজগুলো ক্ষতিপূরণ গুলোকে কভার করতে না পারে, তাহলে তাদের পাপ গুলোও তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জা*হান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।”

তাই বলছি, আপনার যারা নামাজ রোজা সাদাকার পাশাপাশি আপনার মুখের ভাষার মাধ্যমে অন্যদের কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছেন কিংবা আমল দিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াচ্ছেন, তাদের জন্য একটাই কথা—
দেখা হবে বন্ধু!
দেখা হবে কান্তারায়!
‎ ‎
▪️রেফারেন্স :
১. (সূরা আল-আরাফ : ৪৬)
২. (সহীহ্ বুখারী : ২৪৪০)
৩. (সহীহ্ মুসলিম : ২৫৮১)

লেখা : সংগ্রহ করা হয়েছে।

10/05/2026

একবার হযরত উমর (রা.) বাজারের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন । তিনি বাজারে এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন শুনতে পেলেন সেই ব্যক্তি দো'আ করছে-

'হে-আল্লাহ ! আমাকে আপনার অল্পসংখ্যক লোকের মধ্যে গন্য করে নিন, হে-আল্লাহ ! আমাকে আপনার অল্পসংখ্যক লোকের মধ্যে গন্য করে নিন ।

হযরত উমর রা. সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন- 'তুমি এই দো'আ কোথা থেকে শিখেছো ?'

উত্তরে সেই ব্যক্তি বললো- 'আল্লাহর কুরআন থেকে । আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,
'এবং আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ।'(৩৪:১৩)

উত্তর শুনে হযরত উমর রা. কাঁদতে লাগলেন, এবং নিজেকে উপদেশ দিতে লাগলেন- 'হে-উমর ! মানুষ তোমার থেকে অধিক জ্ঞানী ।' সাথে তিনিও দো'আ করতে লাগলেন-

'হে-আল্লাহ ! আমাকেও আপনার অল্পসংখ্যক লোকের মধ্যে গন্য করে নাও ।'

আমরা দেখেছি, আমরা যখন কোনো ব্যক্তিকে কোনো পাপকাজ বা আল্লাহর অবাধ্যতা ছেড়ে দিতে বলি, তখন সেই ব্যক্তি যুক্তি দেখায়- 'এই কাজ তো অধিকাংশ ব্যক্তিই করে, আমি করলে কি সমস্যা ?'

★ এখন যদি আমরা কুরআনে 'অধিকাংশ ব্যক্তি' বা ‘অধিকাংশ’ লিখে অনুসন্ধান করি তখন পাবো-

> অধিকাংশ ব্যক্তিই তা জানে না । ( ৭:১৮৭)

> অধিকাংশ ব্যক্তিই কৃতজ্ঞতা আদায় করে না । (২:২৪৩)

> অধিকাংশ ব্যক্তিই বিশ্বাস করে না । (১১:১৭)

> তোমাদের অধিকাংশই অবাধ্য । (৫:৫৯)

> তাদের অধিকাংশই মূর্খ । (৬:১১১)

> তাদের অধিকাংশই সত্য জানে না । (২১:২৪)

> তাদের অধিকাংশই বুঝে না । (৪৯:৪)

> অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ, তারা শোনে না । (৪১:৫)

★ তারপর আমরা যদি 'অল্পসংখ্যক' লিখে অনুসন্ধান করি তখন পাবো আল্লাহ বলেছেন-

> আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ। (৩৪:১৩)

> অল্পসংখ্যকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিলো । (১১:৪০)

> একদল পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে । এবং অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য থেকে । (৫৬:১৩-১৪)

তাই আসুন আমরা এই অল্পসংখ্যক ব্যক্তিদের দলে শামিল হই। আল্লাহ আমাদের তাঁর অল্পসংখ্যক লোকদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন।
আমিন ।
আমিন।।
আমিন।

08/05/2026

এক S.S.C পরীক্ষার্থী সালাফী মেয়ের কাছে হার মানলেন দেওবন্দি মুফতি‼️

ঘটনাটি জামালপুরের সরিষাবাড়ির সাঞ্চারপাড়া এলাকার। এক ব্যক্তি রাগের মাথায় তার স্ত্রীকে একসাথে তিন তালাক দিয়ে বসে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস বসে।

সালিসে উপস্থিত এক দেওবন্দি মুফতি বললেন, যেহেতু স্বামী একসাথে তিন তালাক দিয়েছে, তাই তালাক সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়ে গেছে।

ঠিক সেই সময় উপস্থিত এক সদ্য S.S.C পরীক্ষার্থী সালাফী মেয়ে, আয়েশা বেগম, সাহস করে বললেন--এভাবে একসাথে তিন তালাক দিলে তা তিন তালাক হিসেবে গণ্য হয় না।

তার কথা শুনে মুফতি তাকে ধমক দেন। কিন্তু আয়েশা বেগম থেমে না গিয়ে সবার সামনে হাদিস দ্বারা তার বক্তব্য প্রমাণ করে দেন।

তিনি বলেন:

একসাথে তিন তালাক দিলে তা এক তালাকই গণ্য হয়।

এরপর তিনি হাদিসটি তুলে ধরেন

طَلَّقَ رُكَانَةُ بْنُ عَبْدِ يَزِيدَ... (সম্পূর্ণ হাদিস)

বিখ্যাত সাহাবী রুকানা (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে এক মজলিসে তিন তালাক দেন। পরে তিনি খুবই অনুতপ্ত ও দুঃখিত হন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ.) তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কীভাবে তালাক দিয়েছ?
তিনি বলেন, “আমি তিন তালাক দিয়েছি।”
রাসূল (ﷺ.) জিজ্ঞেস করেন, “এক মজলিসে?
তিনি বলেন, “হ্যাঁ।
তখন রাসূল (ﷺ.) বলেন, “এটি এক তালাকই হয়েছে। চাইলে তুমি তোমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারো।”
এরপর তিনি তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেন।

📚 মুসনাদে আহমদঃ ২৩৮৭
আবু দাউদঃ ২১৯৬
বুলুগুল মারামঃ ১০৭৩

এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়--
সত্য কথা বলার জন্য বয়স বা ডিগ্রি নয়, বরং দলিল জানা জরুরি। আর আল্লাহর ইচ্ছায় এই ভাবে আয়েশা একজন স্ত্রীর সংসার ভাঙ্গা থেকে রক্ষ করলেন..!

04/05/2026

“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।”
— সূরা আল-ইনশিরাহ, ৯৪:৫-৬

05/04/2026

আরবের এক ব্যক্তির দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আগুনের লেলিহান শিখা নেভার পর দেখা গেল, শুধু দেয়ালগুলোই অবশিষ্ট আছে। লোকজন তাকে সান্ত্বনা দিতে জড়ো হলো। কিন্তু সবাই অবাক হয়ে দেখল, লোকটি কাঁদছে না; বরং তার মুখে হাসি! যেন তার কিছুই হয়নি।

লোকেরা জিজ্ঞেস করল, "ওহে আবু আব্দুল্লাহ! তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? তোমার এত বড় ক্ষতি হলো, আর তুমি হাসছ?"
তিনি উত্তর দিলেন, "আমি কেন দুঃখ করব? আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমি যদি আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকি, তবে আল্লাহ আমাকে এর চেয়েও উত্তম কিছু দান করবেন। আমি আমার সব বিষয় আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি এবং সর্বাবস্থায় তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি।"

মাত্র দুই সপ্তাহ পর, লোকেরা অবাক হয়ে দেখল সেই জায়গায় একটি বিশাল নতুন দোকান দাঁড়িয়ে আছে, যা হরেক রকমের মালামালে পরিপূর্ণ। কৌতূহলী হয়ে তারা ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখল, আবু আব্দুল্লাহ দোকানের ভেতরে নামাজ পড়ছেন।
লোকেরা জিজ্ঞেস করল, "এটা কীভাবে সম্ভব? মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আপনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। এত টাকা আপনি কোথায় পেলেন?"

আবু আব্দুল্লাহ মুচকি হেসে বললেন, "আমি কি তোমাদের বলিনি যে আমার বিশ্বাস ছিল আল্লাহ আমাকে দান করবেন? আল্লাহর কসম! তিনি তাঁর দানে আমাকে অবাক করে দিয়েছেন।"

আবু আব্দুল্লাহ বলতে শুরু করলেন:
"দোকান পোড়ার পর এক শুক্রবার সকালে আমার কাছে বাচ্চাদের খাবারের টাকাও ছিল না। আমার স্ত্রী তার বোনের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করে আনল। আমি সেই টাকা নিয়ে বাজারে মাছ কিনতে গেলাম।

বাজারে দেখলাম, এক জেলে একটি ছোট মাছ হাতে নিয়ে কাকুতি-মিনতি করছে। সে মাছটি ২০০ দিনারে বিক্রি করতে চাইছিল। কিন্তু মাছটির যা আকার, তাতে কেউ ৫০ দিনারও দিতে চাইছিল না। আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'ভাই, তুমি এত বেশি দাম চাইছ কেন?'

জেলে বলল, 'আমার মেয়ে খুব অসুস্থ। সারাদিন চেষ্টা করে আমি শুধু এই একটি মাছই পেয়েছি। আমার ২০০ দিনার খুব দরকার, যাতে আমি মেয়ের চিকিৎসার পুরো ওষুধ কিনতে পারি।'

তার অবস্থা দেখে আমার খুব মায়া হলো। আমি ভাবলাম, আল্লাহর রাস্তায় এটি সদকা করে দিই। আমি তাকে ২০০ দিনার দিয়ে মাছটি কিনে নিলাম এবং বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে রান্না করতে বললাম। এরপর আমি জুমার নামাজ পড়তে চলে গেলাম।"

"নামাজ থেকে ফিরে দেখি আমার স্ত্রী অবাক হয়ে বলছে, 'দেখো তো, মাছের পেটে এগুলো কী পাওয়া গেছে?'আমি দেখলাম, নয়টি সুন্দর চকচকে পাথর। আমি বললাম, 'বাহ! পাথরগুলো খুব সুন্দর, আমরা এগুলো যত্ন করে রেখে দেব।'

দুদিন পর আমার মেয়ে ও জামাই বেড়াতে এল। আমি জামাইকে পাথরগুলো দেখালাম। সে পাথরগুলো দেখেই চমকে উঠল! সে বলল, 'আব্বা! এগুলো সাধারণ পাথর নয়, এগুলো অত্যন্ত দামী মুক্তা! এগুলোর অনেক দাম, আপনি তো ধনী হয়ে যাবেন!'

"আমার জামাই তখন ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করল। তারা এই মুক্তাগুলো কেনার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করল। আমি মাত্র তিনটি মুক্তা বিক্রি করলাম, আর বাকি ছয়টি রেখে দিলাম। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করলেন এবং আমি যা হারিয়েছিলাম, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ফিরিয়ে দিলেন।"

পরদিন আমি সেই জেলেকে খুঁজতে বাজারে গেলাম, যাতে আল্লাহর এই নিয়ামত থেকে তাকেও কিছু দিতে পারি। কিন্তু তাকে আর খুঁজে পেলাম না। অন্য জেলেদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, 'এখানে এমন কোনো ব্যক্তিকে আমরা চিনি না।'
তখন আমি বুঝতে পারলাম, সে আসলে কোনো সাধারণ জেলে ছিল না। হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো পরীক্ষা বা সাহায্য ছিল, যা মানুষরুপে এসেছিল।" (আরবী হেকায়াত)

যখন আল্লাহর ওপর আপনার সুধারণা খাঁটি হয়, তখন তিনি আপনাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক ও খুশি দান করেন, যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।

01/04/2026

কল্পনা করুন, আপনি সারাজীবন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলেন। কিন্তু কিয়ামতের দিন যখন আমলনামা হাতে পাবেন, তখন দেখলেন—অনেক নামাজই শুদ্ধভাবে আদায় হয়নি, কারণ আপনি জানতেনই না সূরা মিলানোর সঠিক নিয়ম।
ভাবতেই কি বুক কেঁপে ওঠে না? অনেকেই লজ্জায় বা অবহেলায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি শেখেন না। কিন্তু নামাজ তো শুধু পড়লেই হবে না—সঠিক নিয়মে পড়াটাই ফরজ।
তাই সময় থাকতে জেনে নিন—ফরজ ও সুন্নত নামাজে সূরা মিলানোর সঠিক নিয়ম কী।

তাই আজ সহজভাবে জেনে নিন—কোন রাকাতে কী পড়তে হবে, আর কোনটা সুন্নত, কোনটা ওয়াজিব।

📌 ৪ রাকাত ফরজ নামাজে সূরা মিলানোর নিয়ম
👉 (যেমন: যোহর, আসর, এশা ফরজ)

✔ ১ম রাকাত: সূরা ফাতিহা + অন্য সূরা
✔ ২য় রাকাত: সূরা ফাতিহা + অন্য সূরা
✔ ৩য় রাকাত: শুধু সূরা ফাতিহা
✔ ৪র্থ রাকাত: শুধু সূরা ফাতিহা
📖 কারণ:
ফরজ নামাজে প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানো ওয়াজিব, আর শেষ দুই রাকাতে শুধু ফাতিহা পড়াই সুন্নত।

📌 ৪ রাকাত সুন্নত নামাজে সূরা মিলানোর নিয়ম
✔ ১ম রাকাত: সূরা ফাতিহা + অন্য সূরা
✔ ২য় রাকাত: সূরা ফাতিহা + অন্য সূরা
✔ ৩য় রাকাত: সূরা ফাতিহা + অন্য সূরা
✔ ৪র্থ রাকাত: সূরা ফাতিহা + অন্য সূরা
📖 কারণ:
সুন্নত ও নফল নামাজে প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানো প্রয়োজন (ওয়াজিব)।

📌 গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসআলা
🔹 ১. বিসমিল্লাহ পড়ার নিয়ম
✔ সূরা ফাতিহার আগে: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম নিঃশব্দে পড়া ওয়াজিব (হানাফি মতে)
✔ অন্য সূরার আগে: বিসমিল্লাহ পড়া মুস্তাহাব (পড়লে সওয়াব, না পড়লেও নামাজ হবে)

🔹 ২. সূরা সিরিয়াল অনুযায়ী পড়া
কুরআনের সূরাগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী পড়া উত্তম
(যেমন: ফিল → কুরাইশ → মাউন…)
❗ উল্টাপাল্টা পড়া জায়েজ, কিন্তু মাকরুহ (অপছন্দনীয়)

🔹 ৩. ৩য়/৪র্থ রাকাতে ভুল করে সূরা পড়লে?
👉 যদি ভুলে পড়ে ফেলেন—
✔ নামাজ ঠিক থাকবে
✔ সাজদায়ে সাহু লাগবে না
✔ তবে এটা সুন্নতের خلاف (অপছন্দনীয়) �

🔹 ৪. সূরা না মিলালে কী হবে?
👉 প্রথম দুই রাকাতে সূরা না মিলালে— নামাজ শুদ্ধ হবে
❗ কিন্তু ওয়াজিব ছুটে যাওয়ায় সাজদায়ে সাহু দিতে হবে।

সহজভাবে মনে রাখুন, ফরজ নামাজ:
✔ প্রথম ২ রাকাত → ফাতিহা + সূরা
✔ শেষ ২ রাকাত → শুধু ফাতিহা
👉 সুন্নত নামাজ:
✔ সব রাকাতেই → ফাতিহা + সূরা

শেষ কথা: নামাজ শুধু পড়লেই হবে না— সঠিকভাবে পড়াটাই আসল। ছোট ছোট এই নিয়মগুলো ঠিক রাখলে—
আপনার নামাজ হবে আরও সুন্দর, আরও পরিপূর্ণ।
💬 নিজেকে প্রশ্ন করুন—আপনি কি এতদিন সঠিক নিয়মে সূরা মিলাচ্ছিলেন?

যদি মনে হয় এই লেখাটি দরকারি— তাহলে শেয়ার করুন।
হয়তো আপনার একটি শেয়ারে কারো নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

সাওয়াবের নিয়তে পৌঁছে দিন সবার কাছে

#নামাজ

মাইসারা (মাইসারাহ), যিনি খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর দাস ছিলেন, মুহাম্মদ ﷺ-এর সাথে তাঁর ব্যবসায়িক সফ...
22/03/2026

মাইসারা (মাইসারাহ), যিনি খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর দাস ছিলেন, মুহাম্মদ ﷺ-এর সাথে তাঁর ব্যবসায়িক সফরে শামের দিকে রওনা হন। এটি নবুওয়াত প্রাপ্তির আগের ঘটনা।
খাদিজা (রা.) তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর সঙ্গে থাকেন, তাঁর খেদমত করেন, তাঁর কাজকর্ম দেখাশোনা করেন এবং তাঁর আচরণ লক্ষ্য করেন। কারণ তিনি আগে থেকেই তাঁর সততা ও আমানতদারিতার কথা শুনেছিলেন এবং নিজের ব্যবসায় তাঁকে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন।

মক্কা থেকে কাফেলা যাত্রা শুরু করার পর থেকেই মাইসারা নবী ﷺ-এর চরিত্র দেখে বিস্মিত হন। তিনি দেখলেন—তিনি অত্যন্ত সুন্দর ব্যবহারকারী, মহান চরিত্রের অধিকারী, নম্র, সত্যবাদী এবং ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকেন। মাইসারা এসব বিষয় মনে রাখতেন, যাতে ফিরে গিয়ে তাঁর মালিকাকে সব বলতে পারেন।

যখন কাফেলা শামের কাছাকাছি পৌঁছায়, তারা এক গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেয়। কাছেই ছিল এক সন্ন্যাসীর আস্তানা, যার নাম ছিল নাস্তুর (নাস্তুরা)। তিনি প্রতি বছর খাদিজার কাফেলার সঙ্গে মাইসারাকে দেখতেন, তাই তাঁকে চিনতেন।

তিনি কাফেলাকে দেখে দ্রুত এগিয়ে এসে বললেন:
— হে মাইসারা! এই কাফেলায় কে আছে?

মাইসারা বললেন:
— কুরাইশের কিছু লোক, যারা প্রতি বছর বদলায়।

সন্ন্যাসী বললেন:
— আমি দূর থেকে দেখেছি, একটি মেঘ কাফেলাটিকে ছায়া দিচ্ছে—তোমরা চললে সেটিও চলে, থামলে সেটিও থামে। এমন দৃশ্য আমি আগে কখনও দেখিনি। বলো তো, এই কাফেলায় সম্মানিত ব্যক্তি কে?

মাইসারা বললেন:
— তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব। তিনি এ বছর খাদিজার জন্য ব্যবসা করছেন।

সন্ন্যাসী বললেন:
— আমি কি তাঁকে দেখতে পারি?

মাইসারা বললেন:
— হ্যাঁ, কিন্তু কেন?

তিনি বললেন:
— আমি তাঁকে দেখতে চাই।

এরপর তিনি নবী ﷺ-এর কাছে এসে সালাম দিলেন এবং গভীরভাবে তাঁর চেহারা লক্ষ্য করলেন। তারপর মাইসারাকে আলাদা ডেকে বললেন:
— তোমার সঙ্গীর চোখে যে লালচে ভাব, এটা কি ভ্রমণের কারণে?

মাইসারা বললেন:
— না, জন্ম থেকেই এমন।

— তিনি কি এতিম হয়ে জন্মেছেন?

— হ্যাঁ।

— তাঁর মায়ের কী হয়েছিল?

— তিনি ছয় বছর বয়সে মারা যান।

— তিনি কি লাত ও উজ্জা (মূর্তি) দিয়ে শপথ করেন?

— না, তিনি এগুলো ঘৃণা করেন এবং কখনো এগুলোর নামে শপথ করেন না।

তখন সন্ন্যাসী বললেন:
— আমার কথা মনে রেখো। আকাশ-জমিনের রবের কসম, এবং মূসা ও ঈসা (আ.)-এর রবের কসম—আমরা এমন এক নবীর অপেক্ষায় আছি, যিনি সকল রিসালাতের সমাপ্তি ঘটাবেন। মূসা ও ঈসা (আ.) তাঁর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন। এই ব্যক্তিই সেই নবী। আমাদের কাছে তাঁর নাম ‘আহমদ’।

তিনি আবার বললেন:
— ‘মুহাম্মদ’ নামের অর্থ কী?

মাইসারা বললেন:
— যার প্রশংসা করা হয়, যিনি নিন্দিত হন না।

তিনি বললেন:
— আমাদের কাছে ‘আহমদ’-এর অর্থও একই।

এই অর্থ পরবর্তীতে কুরআনে এসেছে, যেখানে ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) বলেছেন:
“আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল… এবং আমার পরে আসবেন এক রাসূল, যার নাম আহমদ।”

এরপর সন্ন্যাসী বললেন:
— হে মাইসারা! তাঁর খেদমত চালিয়ে যাও। যদি তিনি একদিন নিজেকে আল্লাহর রাসূল ঘোষণা করেন, কখনো তাঁকে অস্বীকার করো না। আর আমার কথা কাউকে বলো না—কারণ তাঁর শত্রু রয়েছে।

মাইসারা বলেন:
— আমি সব কথা মনে রাখলাম এবং গোপন রাখলাম।

তারপর কাফেলা বাজারে গেল। নবী ﷺ খাদিজার পণ্য বিক্রি করলেন সুন্দর আচরণ ও স্পষ্ট শর্তে। তখন আরেকজন সন্ন্যাসী এসে একটি পণ্য কিনে পরে তর্ক শুরু করল:
— আমরা তো এই দামে ঠিক করিনি!

তর্ক বাড়লে সে বলল:
— লাত ও উজ্জার নামে শপথ করো যে তুমি সত্য বলছ।

নবী ﷺ বললেন:
— আমি লাত ও উজ্জাকে অত্যন্ত ঘৃণা করি। আমি এদের নামে শপথ করব না। তুমি তোমার পণ্য নিয়ে যাও, তোমার কথাই গ্রহণ করলাম।

এতে সন্ন্যাসী বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল:
— তুমি কে?

তিনি বললেন:
— আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ।

পরে সে মাইসারাকে বলল:
— এই ব্যক্তি কে?

তিনি বললেন:
— আমাদের নেতা, নেতার সন্তান।

সন্ন্যাসী বলল:
— তাঁকে রক্ষা করো। তিনি শেষ নবী। আমি ইচ্ছা করে তাঁকে পরীক্ষা করেছি—লাত ও উজ্জার নামে শপথ করতে বলেছিলাম। যখন তিনি অস্বীকার করলেন, তখন বুঝলাম তিনিই সেই প্রতীক্ষিত নবী। আর আমি দেখেছি—একটি মেঘ শুধু তাঁকেই ছায়া দিচ্ছিল।

মাইসারা বলেন:
— এতে আমার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হলো।

এরপর নবী ﷺ পণ্য বিক্রি করে প্রচুর লাভ করলেন এবং শাম থেকে মক্কার জন্য উপযোগী জিনিসপত্র কিনলেন। তাঁর লাভ সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

ফিরে আসার সময় মাইসারা বললেন:
— হে মুহাম্মদ! আপনি আগে মক্কায় গিয়ে খাদিজাকে সুসংবাদ দিন, হয়তো তিনি আপনাকে বেশি পুরস্কার দেবেন।

তিনি বললেন:
— আমি অতিরিক্ত লাভের জন্য বের হইনি। আমাদের চুক্তি হয়েছে, সেটাই যথেষ্ট। আমি কাফেলা ছেড়ে একা ফিরব না।

মাইসারা বলেন:
— এতে আমি তাঁর আরেকটি গুণ দেখলাম—দুনিয়ার লোভ না থাকা, চুক্তি রক্ষা করা এবং অতিরিক্ত পাওয়ার লোভ না করা।

মক্কায় ফিরে মাইসারা খাদিজা (রা.)-কে সবকিছু জানালেন—তাঁর চরিত্র, সন্ন্যাসীদের কথা এবং ব্যবসার লাভ। এতে খাদিজা (রা.) তাঁর প্রতি আরও মুগ্ধ হন এবং তাঁর মর্যাদা আরও বেড়ে যায়। এ ঘটনাগুলোই পরবর্তীতে তাঁদের বরকতময় বিয়ের পথ সুগম করে।

📌 আপনি যদি পুরোটা পড়ে থাকেন, তাহলে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর দরুদ পাঠ করতে ভুলবেন না—

اللهم صل وسلم على رسول الله ﷺ

19/03/2026

আবদুল্লাহ ইবনে হারাম আল-আনসারী উহুদ যুদ্ধের আগের রাতে স্বপ্নে দেখেন আগামীকাল যুদ্ধে তিনিই সর্বপ্রথম শহীদ হবেন। এই স্বপ্ন দেখেই তিনি অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত হয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলেন।

কেউ মারা যাবে তা জেনে কি আনন্দিত হয়? কিন্তু ইবনে হারাম খুশি হয়েছিলেন। ঘুম থেকে উঠে শাহাদাতের প্রস্তুতি নিলেন। গোসল করলেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হলেন এবং সুগন্ধি মাখলেন। তার আটটা মেয়ে ছিলো। আর ছেলে ছিলো একজন। তিনি তার একমাত্র ছেলে জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে গভীর ঘুম থেকে জাগিয়ে বললেন:

বেটা! আমি তোমাকে তোমার বোনদের সাথে উত্তম আচরণের ওসিয়ত করে যাচ্ছি। আমি দেখেছি আগামীকাল যুদ্ধে আমিই প্রথম শহীদ হবো।

পুত্র জাবিরকে ওসিয়ত করে পিতা শাহাদাতের তামান্না বুকে চেপে ভোরের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে রইলেন। যেন নববধুর সাথে প্রথম মোলাকাত। আহা! খোদার রাহে জান নজরানার একি তামান্না!

পরদিন সকালে তিনি কেবলার দিকে ফিরে হাত তুলে এই দুআ করলেন:

اللهم خذ من دمي حتى ترضى

মালিক গো! যতক্ষণ আপনার রেজামন্দী না হবে ততক্ষণ আপনি আমার রক্ত নিতে থাকুন।

তিনি স্বাভাবিক বা ধীরে ধীরে মৃত্যু চাননি। বরং চেয়েছিলেন আল্লাহর রাস্তায় তার শরীর টুকরো টুকরো হয়ে যাক। এমন শুধু তিনি না। সাহাবায়ে আজমায়ীন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমের মধ্যে আল্লাহর রাস্তায় নিজের রক্ত গড়িয়ে দেয়ার এত তীব্র তামান্না ছিলো যে তারা একে অপরের প্রতিযোগিতা করতেন। অন্য একজন সাহাবী আবদুল্লাহ বিন জাহশ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও দুআ করেছিলেন:

اللهم اني اسالك ان القى العدو غدا فيقتلني ويجدع انفي ويبقر بطني ويسمل عيني حتى اذا لقيتك وقلت غدا يا عبد الله فيما ذلك اقول فيك يا رب

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাচ্ছি আগামীকাল যেন শত্রুর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয় এবং সে যেন আমাকে হত্যা করে। আমার নাক কেটে ফেলে। আমার পেট চিরে ফেলে এবং আমার চোখ উপড়ে ফেলে। যাতে আগামীকাল যখন আপনার সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে আর আপনি জিজ্ঞাসা করবেন: হে আবদুল্লাহ! কেন এমন হলো? তখন আমি বলব: আয় আমার রব! এগুলো তো আপনার রাস্তায় কাটিয়ে এসেছি।

আহ!

আল্লাহ তায়ালা স্বপ্নের তাবীর পুরা করলেন। ইবনে হারাম খোলা তলোয়ারের ঝলক দেখিয়ে জামে শাহাদাহ থেকে শরাব পান করে উহুদের মুবারক ময়দানে সবুজ পাখি হয়ে উড়ে গেলেন ফিরদাউসের পানে।

যুদ্ধের পর পুত্র জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ তার পিতার মৃত্যুর খবর পেয়ে তার শবের কাছে এলেন। তার মৃতদেহ ঢাকা ছিল। তিনি বলেন:

আমি তার মুখের কাপড় সরিয়ে তাকে চুমু খেতে ও কাঁদতে থাকি। তখন অন্যান্য সাহাবীরা আমাকে কাঁদতে নিষেধ করছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখছিলেন এবং নিষেধ করেননি।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাবিরের দিকে ফিরে বললেন:

হে জাবির! তুমি তার জন্য কাঁদো বা না কাঁদো। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! তোমরা তাকে তুলে নেওয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা তাদের ডানা দিয়ে তোমার পিতাকে ছায়া দিচ্ছিল।

এতটুকুতে শেষ নয়। রাসূলে আকদাস আরো বললেন:

হে জাবির! যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! ফেরেশতারা তোমার পিতাকে আসমান ও জমিনের মাঝখানে তুলে নিয়েছিল এবং সোনার পাত্রে বৃষ্টির পবিত্র পানি দিয়ে গোসল করিয়েছে।

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন:

এর চেয়েও আশ্চর্যজনক তৃতীয় বিষয়টি শোনো হে জাবির! যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! আল্লাহ তায়ালা তোমার পিতার সাথে কোনো মাধ্যম বা অনুবাদক ছাড়াই সরাসরি কথা বলেছেন। আল্লাহ বলেছেন: হে আমার বান্দা! তোমার কী আকাঙ্ক্ষা আছে চাও। এখন পুরস্কার ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের সময়।

তিনি বললেন: আয় আমার রব! আমি আবার দুনিয়াতে ফিরে যেতে চাই।

আল্লাহ বললেন: কেন?

তিনি বললেন: যাতে আপনার রাস্তায় আমি পুনরায় শহীদ হতে পারি।

আল্লাহ বললেন: সম্ভব নয়। কারণ আমি আগেই ফয়সালা করেছি যে আমি মাটি থেকে তাদের সৃষ্টি করেছি। সেখানেই তাদের ফিরিয়ে দেব এবং সেখান থেকেই তাদের পুনরায় বের করে আনব। সুতরাং অন্য কিছু চাও।

তখন তিনি বললেন: আমার আকাঙ্ক্ষা হলো আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান।

আল্লাহ বললেন: আমি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। এরপর আর কখনো তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হবো না।

জাবিরের দীলের বাগানে রাসূলুল্লাহর মুবারক যবানের এই কথাগুলো শুনতে শুনতে কি শত শত গোলাপ ফুটেনি? একঝাঁক বুলবুলি কি একসাথে গেয়ে উঠেনি?

হায় জীবন! সাহাবায়ে কিরামের জীবন ও তাদের জান-মাল খোদার রাহে কিভাবেই না উৎসর্গিত হয়েছিলো! লিখতে লিখতেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।

রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আরদ্বাহ।
#কপি পোস্ট #

10/03/2026

Address

Dhaka

Opening Hours

Monday 15:00 - 21:00
Friday 09:00 - 21:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মহা পবিত্র আল-কুরআন ও ১০০% সহিহ্ হাদিস : posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share