01/01/2022
অধ্যাপক হায়াৎ মাহমুদ স্যারের মতে 'খ্রিস্টাব্দ' নয় 'খ্রিষ্টাব্দ হবে । কারণ হিসেবে তিনি বলেন এটি একটি আত্তীকৃত শব্দ এবং এর উচ্চারণে ষ আসে।তাই ' ষ্ট' লেখতে হবে।
অন্য দিকে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যারের মতে - 'খ্রিষ্টাব্দ' নয় 'খ্রিস্টাব্দ' হবে। কারণ বিদেশি শব্দের বানানে 'ষ' না হয়ে 'স' হয়। ষত্ব বিধানেও তাই বলে।
প্রমিত বানানের নিয়মে উল্লেখ আছে ,“তৎসম শব্দে ট, ঠ, বর্ণের পূর্বে ষ হয়। যেমনঃ বৃষ্টি, দৃষ্টি, নিষ্ঠা, পৃষ্ঠা। কিন্তু বিদেশি শব্দে এই ক্ষেত্রে স হবে। যেমনঃ স্টল, স্টাইল, স্টিমার, স্টুডিও, স্টেশন, স্টোর, স্ট্রিট”।
“কিন্তু খ্রিষ্ট যেহেতু বাংলায় আত্তীকৃত শব্দ এবং এর উচ্চারণও হয় তৎসম কৃষ্টি, তুষ্ট ইত্যাদি শব্দের মতো, তাই ষ্ট দিয়ে খ্রিষ্ট শব্দটি লেখা হবে”।
বিপরীতে, অভিধানে উল্লেখ আছে ‘খ্রিস্ট’। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে “পাঠ্যপুস্তকের বানানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকায় বানানটিকে অপরিবর্তনীয় রাখা হয়েছে”। ( তথ্য সংগৃহীত)
প্রশ্ন হল, ‘পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’ বাংলা একাডেমিকে অনুসরণ করবে নাকি বাংলা একাডেমি অনুসরণ করবে ‘পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’ কে? নিয়ম যদি ‘খ্রিষ্ট’ হয় তবে অভিধানে ‘খ্রিস্ট’ লেখার আদৌ দরকার আছে কি? আমার মতে, শব্দটি ইংরেজি থেকে আগত। তাই এর উচ্চারণ হওয়া উচিত “খ্রিস্ট”; আত্তীকৃত আর তৎসম শব্দ কৃষ্টি, তুষ্ট এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ‘খ্রিষ্ট’ শব্দটি গ্রহণ করার পক্ষে নই। করণ, প্রমিত বানানের নিয়মে উল্লেখ আছে ‘ইংরেজি s এর পরিবর্তে স হবে, আর sh এর পরিবর্তে শ হবে”। খ্রিস্টান ও খ্রিষ্টান শব্দদুটির বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য।
এবার আপনারাই বলেন যে সমস্যার সমাধান উনারা দিতে পারেননি তা আমি কীভাবে দেই?
আমিতো ২ টাকার স্কুল মাস্টর! বাচ্চাদের বর্ণমালা পড়াই ভুল উচ্চারণে...
যাই হোক চলেন আপনাদের আরও একটু চিন্তায় ফেলে দেই-
এই যে আজ সারাদিন ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন।আপনারা কি জানেন আজ ইংরেজি নববর্ষ ছিল না? আজ হলো খ্রিস্টীয় নববর্ষ!
আরও একটি তথ্য দেই ইংরেজরা কিন্তু রোমানদের কাছ হতে মাত্র ২৬ টি বর্ণ চুরি করেছে। যা আমরা ইংরেজি বর্ণমালা হিসেবেই চিনি!
থাক আর কিছু না বলি। পরে আবার ২ টাকার মাস্টর বলে গালি দিবেন। নয়তো বলবেন "২ টাকার মাস্টরের এত বড় বড় কথা বলা মানায় না!"😴