04/07/2025
মতুয়াদের একক রাজনৈতিক মোর্চা গঠনে মূল অন্তরায় কোথায়?(পর্ব-১)
🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅🐅
রাজনৈতিক অঙ্গনে মতুয়াদের অংশগ্রহণ-এর পরিসংখ্যান নিলে যেসব নাম সামনে আসে, তার ভিতর সরাসরি ধারাবাহিকভাবে ভাবলে ভীষ্মদেব দাস, বিরাট মণ্ডল, কুবের মণ্ডল, কুমুদবিহারী মল্লিক, নিরোদবিহারী মল্লিক, প্রমথরঞ্জন ঠাকুর, রায়বাহাদুর শরৎ বল, কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর, শচীপতি ঠাকুর, মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর, কার্তিক ঠাকুর, বীরেন বিশ্বাস, সুব্রত ঠাকুর( বাংলাদেশ), সুব্রত ঠাকুর( ভারত), শান্তনু ঠাকুর, অসীম সরকার, নরোত্তম বিশ্বাস, মধুপর্ণা ঠাকুর প্রমুখ অন্যতম।
এ থেকে অভিভক্ত ভারত, বর্তমান গণতান্ত্রিক ভারত ও বর্তমান বাংলাদেশ পর্বে যারা রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন, আছেন ও রাজনীতিতে সফলতার মুখ দেখেছেন বলা যায় তারা প্রায় সকলেই কোন না কোন পূর্ব প্রতিষ্ঠিত বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের বলয়ে থেকে রাজনীতি করেছেন, করছেন।
মতুয়াদের নিজস্ব মৌলিক স্বাতন্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা তারা তেমন কেউ তৈরী করেননি, করতে পারেননি বা করতে যাননি। কেন যাননি, কেন পারেননি, কেন করেননি- এমন সব প্রশ্ন নিয়ে বর্তমানের কিছু অনলাইনবেজ মতুয়া সমাজকর্মীদের এ নিয়ে হরহামেশাই বিষোদগার করতে দেখা যায়। [দ্রষ্টব্য:- এমনসব অসংখ্যজনের ভিতর আমার অতি পরিচিত কয়েকজন অনলাইন মতুয়া কর্মীর নামের তালিকার মধ্যে আছেন Chirananda Majumder, Samiran Mondal, বৃন্দাবন সৌক্ষ্ম্য, সুকেশ মিত্র প্রমূখ। আছেন আরো অনেকে, তবে তাদের কারো নাম ধরে সরাসরি বললাম না, কারণ তাদের সঙ্গে আমার ফেসবুকে ততটা অন্তরঙ্গ পরিচয় নেই, তাই বলাটা একটু অশোভন ভাবলাম। শুধু বহু বিষয়ে একমত বলে এ কয়েকজনের সরাসরি নাম বললাম।]
এখন এনাদের এ বিষয়ক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবতা বোঝাতে শুরুতে আমি একটা গল্প বলছি।
"একটি ওরিয়েন্টেশন কোর্সে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী ছিল। দৈনিক চা বিরতিতে তাদেরকে সিঙ্গারা খেতে দেওয়া হত। কিন্তু ১০০ জনের মধ্যে ৮০ জনই সিঙ্গারা পছন্দ করতো না। ওই ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী নাস্তায় অন্য কিছু দেওয়ার জন্য ডাইরেক্টরের কাছে আবেদন জানালেন, যদিও বাকি ২০ জন সিঙ্গারার পক্ষেই মত দিলেন।
ডাইরেক্টর ভোটের ব্যবস্থা করলেন এবং বললেন, 'যে খাবার সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে, সেটাই প্রতিদিন টি ব্রেকে দেওয়া হবে।'
ভোট শেষে দেখা গেল, সেই ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী সিঙ্গারার পক্ষে ভোট দিয়েছে। অবশিষ্ট ৮০ জনের ভোট এরকম:
ফলমূল - ১৮ জন
স্যান্ডউইচ - ১৫ জন
বার্গার - ১৩ জন
চপ - ১২ জন
পুরি - ১০ জন
নুডুলস - ৭ জন
ভেজিটেবল রোল - ৫ জন
ফলাফল, সিঙ্গারা সর্বাধিক ভোট পাওয়ায় টি ব্রেকে প্রতিদিন সিঙ্গারাই চলতে লাগল।"
এ গল্প থেকে আমরা বুঝলাম, যতদিন ৮০% লোক নিজেদের স্বার্থপরতা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত থাকবে, ততদিন ২০% লোকই তাদের শাসন করবে।
মতুয়াদের দলে, উপদলে বিভক্তির কারণে একক দলীয় রাজনীতিতে বেঁধে রাজনীতির পূর্ণাঙ্গ সুফল ঘরে তোলা কষ্টসাধ্য। তাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে মতুয়া রাজনীতিবিদরা যেটুকু রাজনৈতিক খোরপোষ পাচ্ছেন, আপাতত তাই নিয়েই আমাদের খুশি থাকতে হবে। নিজেদের একক রাজনৈতিক প্লাটফর্ম যতদিন না হয়, ততদিন এই আমাদের মন্দের ভাল।(১ম পর্ব সমাপ্ত)
অমিতাভ মল্লিক অমি
লালবাগ, ঢাকা
৪ জুলাই'২৫