10/10/2020
বিশ্ব মারকাজ ও বিশ্ব আমীরকে নিয়ে দেওবন্দের ফতোয়া
(অতি সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত দ্বীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলূম দেওবন্দ তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উম্মতে মুসলিমার কল্যাণে তাবলীগ জামাত সম্পর্কে কিছু ফতোয়া প্রকাশ করছেন। যা তাবলীগ ইস্যুতে বিভক্ত মুসলিম উম্মাহকে ভুল বুঝাবুঝি থেকে ফিরিয়ে এক সুতোয় গাঁথতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ইনশাআল্লাহ।
প্রথিতযশা লেখক অনুবাদক দারুল উলুম দেওবন্দের কৃতি সন্তান মুফতি আইয়ুব কাসেমীর অনুবাদে মাসিক আত তাহকীক ও তাবলীগ নিউজ বিডিডটকমের পাঠকদের সামনে এই ফতোয়াগুলো নিম্নে তুলে ধরা হল।)
( দারুল উলূম দেওবন্দেের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.darulifta-deoband.com য়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে আপনি চাইলে দেখতে পারেন)
১/ নিজামুদ্দিন মারকাজওয়ালাদের যে গোমরাহ বলবে সে নিজেই গোমরাহ।( ফতোয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ- জওয়াব নম্বর ৬৯৫১৮)
২/ দাওয়াত ও তাবলীগের মারকাজ নিজামুদ্দিনের ব্যক্তিবর্গরা সামগ্রিকভাবে আহলে হক্ব এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের উলামাদের সাথে সম্পৃক্ত ও তাঁদের মতাদর্শে বিশ্বাসী। তাই এই জামাতকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বহির্ভূত মনে করাও গোমরাহি। তবে হ্যাঁ যদি তাবলীগের সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্যাক্তি ব্যক্তিগতভাবে ভুল চিন্তা ও মত লালন করে তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। এজন্য পুরো জামাতকে ভুল আখ্যা দেওয়া যাবে না। ( ফতোয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ- জওয়াব নম্বর ৬৯১৫৮)
৩/ তাবলীগের জামাতের বর্তমান আভ্যন্তরিণ মতানৈক্যের সাথে দারুল উলূম দেওবন্দের নূন্যতম কোন সম্পর্ক নেই।( ‘এক জরুরী ওয়াজাহাত’ দারুল উলূম দেওবন্দ)
৪/ এ মতানৈক্য যেহুতু জামাতের আভ্যন্তরিণ বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত, দ্বীনি ইলম ও আহকাম এবং ফিকহী বিষয়ের সাথে নয় তাই তাদের এই মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ে উলূম দেওবন্দ উভয় দলের সাথে সমান সমান দূরত্ব বজায় রেখেছে ( এক জরুরী ওয়াজাহাত’ ও জওয়াব নম্বর ১৫৬১৩১)
৫/ তাই এই মতানৈক্যের সাথে দারুল উলূম দেওবন্দের কোন সম্পৃক্ততা নেই।( এক জরুরী ওয়াজাহাত’ দারুল উলূম দেওবন্দ)
৬/ দারুল উলূম দেওবন্দতাবলীগের মতবিরোধের ক্ষেত্রে কোন একপক্ষের পক্ষাবলম্বন পছন্দ করে না।( ফতোয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ-ফতোয়া নম্বর ১৫৬১৩১)
৭/ কেননা সে কোন এক নির্দিষ্ট পক্ষের নয় ( ফতোয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ-ফতোয়া নম্বর১৬৫৩৯৫)
৮/ দারুল উলূম দেওবন্দের এই নিরপেক্ষ অবস্থান ঘোষণা করা সত্ত্বেও এক দলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে,দারুল উলূম দেওবন্দ এ সময়ে এক বিশেষ পক্ষের পক্ষপাতিত্ব করছে। এই ভুল ধারনার ভিত্তিতে দারুল উলূম ঘোষণা দিচ্ছে যে, তাবলীগ জামাতের বর্তমানের আভ্যন্তরিণ মতানৈক্যের সাথে দারুল উলূম দেওবন্দের কোন দূরতম সম্পর্কও নেই(“এক জরুরী ওয়াজাহাত” দারুল উলূম দেওবন্দ)
৯/ তাই দাওয়াত ও তাবলীগের এই মতানৈক্যের কারণে দারুল উলূম দেওবন্দ শুরু থেকেই চাচ্ছে যে, জামাতের বড়রা( দায়িত্বশীলগণ) পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব এটা দূর করবেন। এটা শুধু জামাতের জন্য নয় বরং সমগ্র জাতীর জন্য কল্যাণকর প্রমানিত হবে(“এক জরুরী ওয়াজাহাত” দারুল উলূম দেওবন্দ)
১০/ এক পক্ষ অপর পক্ষের দোষত্রুটি বয়ান না করলে এই দূরত্ব এমনিতেই ঘুচিয়ে যাবে।
( ফতোয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ- জওয়াব নম্বর
১৬৫৩৯৫)
১১/ কোন জামাআতকে নিজামুদ্দিন মারকাজের সাথে সম্পর্ক রাখার
কারণে মসজিদে ঢুকতে বাঁধা দেওয়া ঠিক নয়।যারা এমনটা করে তাদের এ কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। এমনটা করা ঠিক নয়।( ফতোয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ- জওয়াব নম্বর ১৫২৬৮৭)
১২/ মাওলানা সা’দ সাহেব ও নিজামুদ্দিন মারকাজের অন্যান্য বড় আকাবিরগণের মাধ্যমে ফুয়ুজ ও বরকত ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হবে ইনশাআল্লাহ ( এক ব্যক্তির স্বপ্নের ব্যাখ্যা) ( ফতোয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ- জওয়াব নম্বর৫২৯৮৯)
১৩/ যারা কোন মুসলমানের উপর অপবাদ আরোপ করে ও দোষী সাব্যস্ত করতে উঠেপড়ে লাগে ঐ সমস্ত লোকদের দুনিয়া ও আখিরাতে পাকড়াও হওয়ার বিষয় সুস্পষ্ট। কুরআন হাদিস দ্বারা বিষয়টি প্রমাণিত। (ফতোয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ- জওয়াব নম্বর১৭০৪৯১)
ভাষান্তরঃ মুফতি আইয়ুব কাসেমী।