30/04/2026
গত পরশু গাজীপুর থেকে এক সালাফী ঘরানার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এবং তার স্ত্রী আমার কাছে রুক্বইয়াহ করতে আসেন। সমস্যা যেটাই হোক, আজকে মূলত অন্য কিছু পয়েন্ট তুলে ধরবো যাতে সমাজের বাস্তবতা সবাই ঠিকমত বুঝে।
- ঐ ভাইয়ের এলাকায় ভালো পরিচিতি রয়েছে। তার আঠারো বছরের সংসার রয়েছে এবং তিনি সংসারে ভালো খরচও করেন। বাচ্চাদের প্রতিও তার কর্তব্য ঠিকমত পালন করেন।
- ঐ ভাইয়ের এক বিবাহিত মহিলা কলিগ তাকে এগুলোর জন্য পছন্দ করতেন এবং তার সংসার নিয়ে হিংসা করতেন (পরবর্তীতে অন্যদের মাধ্যমে জানা গিয়েছে)।
- ঐ মহিলা নিজে থেকে তার সাথে কিছুদিন মেসেজে কথা বলেন। অর্থাৎ, পরকীয়া করার চেষ্টা করেন এবং ঐ ভাইও তাতে জড়িয়ে পড়েন। ঐ মহিলা প্রায়ই অনেক কিছু রান্না করে নিয়ে আসতেন এবং ঐ ভাইয়ের পরিবারকেও খাওয়াতেন (হয়তো বশীকরণের যাদু করার উদ্দেশ্যে)।
- ঐ ভাইয়ের স্ত্রী কিছুদিনের মধ্যেই এটি ধরে ফেলেন। তিনি নিজেও অবাক হয়ে যান যে, তার স্বামীর মত লোক কীভাবে এটিতে জড়িয়ে পড়েন!!!
- ঐ মহিলা পরবর্তীতে স্বীকার করেন যে, দোষ তারই ছিল এবং তাকে সেই মাদ্রাসা থেকে এগুলোর জন্য বের করে দেওয়া হয়।
- ঐ ভাইয়ের স্ত্রী তাকে নিয়ে এক কবিরাজের কাছে যান। কবিরাজ একটি ডিম নিয়ে ঐ ভাইয়ের নাভীর কাছে নিয়ে কি কি জানি করেন এবং ডিম ভেঙ্গে দেখান যে, অনেক ময়লাজাতীয় জিনিস বের হয়েছে (এটি জ্বীনদের সাহায্য নিয়ে কবিরাজদের ভেল্কিবাজী)। এরপর থেকে ঐ ভাইয়ের আসক্তি কমে যায় ঐ মহিলা থেকে। হয়তো বশীকরণের যাদু করা হয়েছিল ঐ ভাইয়ের উপর। আল্লাহু আ’লাম
- আরো কিছু সমস্যা নিয়ে তারা আমার কাছে রুক্বইয়াহ করতে আসেন। মূলত, অনেক জায়গায় খুঁজেও বিশ্বাসযোগ্য কাউকে পাচ্ছিলেন না তাই “সালাফী” নাম দেখে তারা আমার কাছে আসেন।
- দুইজনেরই কিছু সমস্যা ছিল। শুরুর দিক থেকে ঐ ভাইয়ের বুক আর পিঠে কিছুটা ব্যথা এবং মাথা ঝিম ঝিম করেছিল। আর তার স্ত্রীর মেরুদণ্ড ও পিঠে ভালোই ব্যথা করেছিল। আলহামদুলিল্লাহ রুক্বইয়াহ শেষ করার পর উনারা অনেকাংশে সুস্থতা অনুভব করেছিলেন।
পুরো ঘটনার সারমর্ম এটিই যে, যারা সুন্নাহ অনুযায়ী রুক্বইয়াহ করার জন্য রাক্বী খুঁজে পায় না, তারা তখন ভণ্ড কবিরাজদের কাছে যেয়ে ঈমান নষ্ট করে আসে। সেটি সালাফী হোক অথবা হানাফী হোক। যারা অমুক তমুক শাইখ থেকে ফাতাওয়া নিয়ে রুক্বইয়াহকারীদের পিছে লেগে থাকেন, তারা সমাজ থেকে শিরক-কুফর দূর করার জন্য পদক্ষেপ নেন এবং ভণ্ড কবিরাজ, তাবীয ব্যবসায়ী ইত্যাদি থেকে মানুষদের ফিরিয়ে এনে সুন্নাহসম্মত চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করেন। আল্লাহ তা’আলা আপনাদেরকে ও আমাদেরকে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন