07/01/2026
“কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল মাউত”
— প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে
(সূরা আল-ইমরান: ১৮৫, সূরা আনকাবূত: ৫৭)।
মৃত্যু কারও জন্য এড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু সব মৃত্যু সত্যিই এক নয়। ইসলামে মৃত্যুকে বিভিন্নভাবে দেখা হয় তার প্রকৃতি, সময় এবং অবস্থার ভিত্তিতে:
১. হুসনে খাতিমা (সুন্দর পরিসমাপ্তি):
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, তাওবা করে, কলেমা পড়তে পড়তে বা নেক অবস্থায় মারা যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” এটা সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মৃত্যু।
২. সুও খাতিমা (খারাপ পরিসমাপ্তি):
যে গুনাহরত অবস্থায়, কুফরি বা নাফরমানিতে মারা যায়—এটা ভয়ংকর। আল্লাহ আমাদের এ থেকে হেফাজত করুন।
৩. শহীদের মৃত্যু:
আল্লাহর পথে, ঈমানের জন্য জীবন দিলে শহীদ হওয়া যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ, জুলুমের শিকার হয়ে মৃত্যু, পেটের রোগে মারা যাওয়া, আগুনে পোড়া, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া—এসবকেও হাদিসে শাহাদাতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। শহীদ জীবিত থাকেন আল্লাহর কাছে (সূরা বাকারা: ১৫৪)।
৪. সাধারণ মৃত্যু:
রোগে, বার্ধক্যে, দুর্ঘটনায়—যা সবচেয়ে বেশি হয়। এটাও আল্লাহর তাকদীর। কিন্তু এর মধ্যেও ধৈর্য ধরলে সওয়াব আছে।
মৃত্যু শুধু শেষ নয়, এটা একটা দরজা—যা দিয়ে আমরা পরকালে প্রবেশ করি। যেভাবে জীবন কাটিয়েছি, মৃত্যুর মুহূর্তে তার প্রভাব পড়ে। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় দোয়া করতেন:
“আল্লাহুম্মা আখিরনা বিখাইরিন ওয়া তাওয়াফফানা মুসলিমীন”(হে আল্লাহ! আমাদের শেষটা ভালো করো এবং মুসলিম অবস্থায় আমাদের ওফাত দাও।)
এই কথাটা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মৃত্যুকে ভয় না করে তার জন্য প্রস্তুত হতে হবে—নিয়মিত তাওবা, নেক আমল, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত রাখা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হুসনে খাতিমা নসিব করুন। আমীন।