24/05/2026
আপনার মেয়ে মারা গেছে।
অত্যন্ত নির্মম, ভয়ংকর এবং অমানবিক এক ঘটনায়।
সেদিন আপনি বলেছিলেন—
“আমি বিচার চাই না। বিচার হবে না।”
আমরা আপনার কথায় রাগ করিনি।
কারণ আমরা ভেবেছিলাম—
এটা একজন অসহায়, ভেঙে পড়া বাবার আর্তনাদ।
একজন মানুষের শেষ বিশ্বাসটুকু ভেঙে যাওয়ার শব্দ।
রাষ্ট্র, আইন, বিচারব্যবস্থা—সবকিছুর উপর থেকে আস্থা হারানো এক পিতার দীর্ঘশ্বাস।
আমরা আপনাকে সহানুভূতি দিয়েছি।
আপনার কান্নাকে সত্য ভেবেছি।
আপনার শোককে সম্মান করেছি।
কিন্তু এরপর যা দেখলাম,
তা ধীরে ধীরে মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলতে শুরু করেছে।
একের পর এক মিডিয়ায় উপস্থিতি।
একেক চ্যানেলে একেক রকম বক্তব্য।
ক্যামেরার সামনে বারবার আসা।
মানুষের দেওয়া টাকার বান্ডিল হাসিমুখে গ্রহণ করা।
আর কিছু আচরণ—
যেগুলো একজন শোকাহত বাবার সঙ্গে মানুষ মিলিয়ে নিতে পারছে না।
কারণ সত্যি কথা হলো—
যে বাবা নিজের মেয়েকে এমন নির্মমভাবে হারায়,
তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলা পর্যন্ত কঠিন হওয়ার কথা।
দুই হাঁটু ভেঙে যাওয়ার কথা।
নিজের ভেতরটাই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা।
হ্যাঁ, সবাই শোক একইভাবে প্রকাশ করে না—
এটা আমরা মানি।
কেউ চিৎকার করে কাঁদে,
কেউ চুপ হয়ে যায়,
কেউ মানুষের ভিড়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে।
তবুও একটা সীমার পর মানুষ প্রশ্ন তো তুলবেই।
কারণ রামিসার জন্য যারা বিচার চাইছিল,
তাদেরই একটা বড় অংশ এখন বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।
সহানুভূতির জায়গায় ধীরে ধীরে সন্দেহ জন্ম নিচ্ছে।
এবং সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—
মানুষ এখন “বিচার” থেকে সরে গিয়ে “ফুটেজ” নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
এটা রামিসার জন্য অপমানজনক।
এটা কোনোভাবেই হওয়া উচিত না।
আপনি একজন বাবা—
এখনও আমি সেটাই বিশ্বাস করতে চাই।
ভেতর থেকে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়া একজন মানুষ।
কিন্তু এই সমাজ খুব নির্মম।
এখানে মানুষ কান্নাকেও বিশ্লেষণ করে,
শোককেও সন্দেহ করে,
এবং ক্যামেরা কখনও কখনও মানুষের ট্র্যাজেডিকেও প্রদর্শনী বানিয়ে ফেলে।
তাই হয়তো এখন সবচেয়ে প্রয়োজন—
মিডিয়া থেকে কিছুটা দূরে থাকা।
নিজেকে আড়ালে রাখা।
আর রামিসা হত্যার বিচার প্রক্রিয়াটাকে সামনে আসতে দেওয়া।
কারণ রামিসা কোনো সংবাদ শিরোনাম নয়।
সে কোনো ভাইরাল কনটেন্ট নয়।
সে একজন নিহত শিশু।
আর তার বিচার—
এই রাষ্ট্রের মানবিকতা, ন্যায়বোধ এবং বিবেকের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।