সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা এক এবং অদ্বিতীয় পরমেশ্বরই এ বিশ্ব সংসার এবং সনাতন ধর্মের প্রবর্তক

#সনাতনীবিদ্যার্থীসংসদ #ঢাকাকলেজ

মনসাপূজার পশুবলির কথা কোথায় আছে?উত্তর: দেবীভাগবতপুরাণ ও ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে আছে। দেবীভাগবতপুরাণ অনুসারে মনসাপূজায় পশুবলি ...
18/08/2026

মনসাপূজার পশুবলির কথা কোথায় আছে?

উত্তর: দেবীভাগবতপুরাণ ও ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে আছে। দেবীভাগবতপুরাণ অনুসারে মনসাপূজায় পশুবলি প্রথা প্রবর্তন করেছেন দেবরাজ ইন্দ্র, তাই যারা বলেন মনসাপূজায় পশুবলির কথা কোথাও নেই, তারা ভুল বলেন। তাদের শাস্ত্রীয় রেফারেন্স প্রদান করে সংশোধন করে দিবেন।

নত্বা ষোড়শোপচারং বলিঞ্চ তৎপ্রিয়ং তদা।
প্রদদৌ পরিতুষ্টশ্চ ব্রহ্মাবিষ্ণুশিবাজ্ঞয়া।।
(দেবীভাগবত: নবমস্কন্ধ, ৪৮.১১৪)

"দেবরাজ ইন্দ্র ভক্তিযুক্ত শুদ্ধ হৃদয়ে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শিবের আজ্ঞায় বলিসহ ষোড়শ উপচারে মনসাদেবীর পূজা করলেন।"

পঞ্চম্যাং মনসাখ্যায়াং দেব্যৈ দদ্যাচ্চ যো বলিম্।
ধনবান্ পুত্রবাংশ্চৈব কীর্তিমান্ স ভবেদ্ ধ্রুবম্।।
(ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ : প্রকৃতি খণ্ড,৪৬.৯)

"পঞ্চমী তিথিতে দেবী মনসাকে যে ব্যক্তি বলি প্রদান করে, সে ধনবান, কীর্তিমান এবং পুত্রবান হয়।"

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী

নরবলি নয়, মৃত্যুদণ্ডসনাতন ধর্মে পশুবলি একটি সুপ্রাচীন বৈদিক প্রথা। বেদ পরবর্তী রামায়ণ, মহাভারত, বিবিধ পুরাণসহ অধিকাংশ শা...
18/08/2026

নরবলি নয়, মৃত্যুদণ্ড

সনাতন ধর্মে পশুবলি একটি সুপ্রাচীন বৈদিক প্রথা। বেদ পরবর্তী রামায়ণ, মহাভারত, বিবিধ পুরাণসহ অধিকাংশ শাস্ত্রেই পশুবলির কথা বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু পশুবলি প্রসঙ্গ আসলেই পশুবলি বিরোধী পক্ষ পশুবলিকে অযৌক্তিক প্রমাণ করার জন্য কালিকাপুরাণের বিভিন্ন শ্লোককে দৃষ্টান্ত হিসাবে নিয়ে আসেন। যে শ্লোকগুলোতে বর্ণিত হয়েছে নরবলির কথা। এই নরবলিকে দেখিয়ে তারা শাস্ত্রীয় পশুবলি প্রথাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা করে। কিন্তু আমরা যদি খুব ভালো করে কালিকাপুরাণের ৬৭ তম অধ্যায়টি পাঠ করি, তবে দেখতে পাব কালিকাপুরাণে কোথায় নরবলির কথা নেই, আছে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের কথা বা যুদ্ধে পরাজিত শত্রুপক্ষের নেতৃত্বকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার কথা। যেহেতু রাজা বা রাজার নির্দেশনায় মন্ত্রীগণ শুধু দণ্ড প্রধান করতে পারে, তাই কালিকা পুরাণে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে; নরবলি বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান একমাত্র দিতে পারেন রাজা। রাজার অনুমতিতে রাজপুত্র, অমাত্য, সচিব অর্থাৎ রাজার মন্ত্রী পরিষদ পারবে। সৌপ্তিকগণ গুটিকয়েক রাজপুরুষ ছাড়া সকলের দৃষ্টিসীমার আড়ালে গভীর রাত্রে রাজার নামে নরবলি বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। তবে রাজার অনুমতি ছাড়া নরবলি প্রদান করা হলে, যারা করবে তারা ভয়ংকর পাপে নিমজ্জিত হয়ে নরকগামী হবে। কিন্তু দেশে কোনো প্রকারের উপদ্রব উপস্থিত হলে অথবা যুদ্ধকালে রাজসম্পর্কীয় পুরুষগণ দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, শান্তি ও স্থিতাবস্থার প্রয়োজনে দোষি ব্যক্তিদেরকে বলি বা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে পারবে। তবে একথা বিশেষভাবে স্মর্তব্য যে, রাজার অনুমতিক্রমে রাজপুত্র, অমাত্য, সচিব ও সৌপ্তিকগণ ছাড়া অন্য কেউ কখনো নরবলি বা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে পারবে না।

রাজপুত্রস্তথামাত্যঃ সচিবঃ সৌপ্তিকাদয়ঃ।
দদ্যুর্নরবলিং ভূপ সম্পত্ত্যা বিভবায় চ ॥
নৃপাননুমতে মৰ্ত্তং দত্ত্বা পাপমবাপ্নুয়াৎ ।
উপপ্লুবে রণে বাপি যথেচ্ছং বিতরেন্নরঃ ॥
যঃ কশ্চিদ্রাজপুরুষো নান্যত্ত্বপি কদাচন ।
(কালিকাপুরাণ: ৬৭.১২২-১২৪)

"রাজপুত্র, অমাত্য, সচিব ও সৌপ্তিকগণ রাজার সম্পত্তি ও বিভবের নিমিত্ত নরবলি প্রদান করবে।তারা রাজার অনুমতি ছাড়া নরবলি প্রদান করলে ভয়ংকর পাপে নিমজ্জিত হবে। তবে কোনো প্রকারের উপদ্রব উপস্থিত হলে অথবা যুদ্ধকালে যে কোনো রাজসম্পর্কীয় পুরুষ ইচ্ছানুসারে মনুষ্য বলি প্রদান করতে পারবে। রাজার অনুমতিক্রমে রাজপুত্র, অমাত্য, সচিব ও সৌপ্তিকগণ ছাড়া অন্য কেউ নরবলি প্রদান করতে পারবে না।"

রাজা ছাড়া যেমন কেউ নরবলি বা কাউকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে পারে না, এ বিষয়টি কালিকাপুরাণে যেমন বলা হয়েছে, তেমনি তন্ত্রেও বলা হয়েছে। শ্যামারহস্যে উদ্ধৃত যামলবচনে বলা হয়েছে, কেবল রাজাই নরবলি দিতে পারেন, এ ব্যতিরেক অন্য কেউ নয়।
"রাজা নরবলিং দদ্যাৎ নান্যোঽপি পরমেশ্বরী।"

বর্তমানে অধিকাংশ দেশেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ফাঁসির মাধ্যমে। কিন্তু প্রাচীনকালে ভারতবর্ষসহ অধিকাংশ দেশেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো ঘাড় থেকে গলাকে বিচ্ছিন্ন করা বা শূলে চড়িয়ে।গলাকে বিচ্ছিন্ন করা বা শূলে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পূর্বে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে স্নান করিয়ে বেশকিছু ধর্মীয় কৃত্যাদি করতে হতো। যে প্রথা বর্তমানকালে ফাঁসির আসামির ক্ষেত্রেও শুধু ভারতবর্ষে নয়, পৃথিবীব্যাপী আজও দেখা যায়। শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে, অপরাধী ব্যক্তিকে রাজা দণ্ড প্রদান করেন, সেই দণ্ড পরবর্তীতে সে পাপ থেকে মুক্ত হয়। সেই পাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার জন্যে দেবতার সম্মুখে তাকে বলি নামক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো। পূর্বেই বলা হয়েছে, রাজা ছাড়া কেউ নরবলি বা মৃত্যুদণ্ড প্রাদান করতে পারবে না। তাই অপরাধীর বলি বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পরবর্তীতে রাজাই নিজহাতে মাটির বা তৈজসপাত্রে বলির রক্ত উৎসর্গ করবে। পুরোহিত বা অন্য কেউ নয়।

রুধিরাণি প্রদদ্যাত্তু ভূতিকামো নরোত্তমঃ ।
নরস্য তু সদা রক্তং মাহেয়ে তৈসজেঽথ বা । দদ্যাদন্নরপতিস্তস্তু ন পত্রাদৌ কদাচন ॥
(কালিকাপুরাণ: ৬৭.৪৭)

"রাজা সর্বদা মনুষ্যের রক্ত মাটিরপাত্রে বা তৈজসপাত্রে রেখে, তবে উৎসর্গ করবে, পাতায় নির্মিত দোনাদিতে কখনই উৎসর্গ করবে না ৷"

একমাত্র রাজা যেহেতু রাজদণ্ড প্রদান করতে পারে, তাই রাজা ছাড়া ব্রাহ্মণ-শূদ্রাদি কোনো জাতিই নরবলি বা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে পারেন না। ব্রাহ্মণ সিংহ, বাঘ ও নরবলি প্রদান করলে সে ভয়ংকর নরকে গমন করে। ইহলোকে সে হীন আয়ু হয়ে, ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে দ্রুত মৃত্যুবরণ করেন এবং তার জীবনে সুখ ও সৌভাগ্য বলতে কিছুই আর অবশিষ্ট থাকে না।

সিংহং ব্যাঘ্রং নরঞ্চাপি স্বগাত্ররুধিরং তথা ।
ন দদ্যাদ্ ব্রাহ্মণো মদ্যং মহাদেব্যৈ কদাচন ৷৷
সিংহং ব্যাঘ্রন্নরং দত্ত্বা ব্রাহ্মণো নরকং ব্রজেৎ।
ইহাপি স্যাৎ স হীনায়ুঃ সুখসৌভাগ্যবর্জ্জিতঃ।। স্বগাত্ররুধিরং দদ্যাচ্চাত্মবধ্যামবাপ্নুয়াৎ।
মদ্যং দত্ত্বা ব্রাহ্মণস্তু ব্রাহ্মণ্যাদেব হীয়তে ৷৷
(কালিকাপুরাণ: ৬৭.৫০-৫২)

"ব্রাহ্মণ, দেবীর নিকট সিংহ, ব্যাঘ্র, মনুষ্য, স্বকীয় গাত্রের রুধির অথবা মদ্য কখনই বলি প্রদান করবে না।
ব্রাহ্মণ সিংহ, ব্যাঘ্র এবং নরবলি প্রদান করলে সে নরকে গমন করে এবং ইহলোকে হীন আয়ু ও সুখ-সৌভাগ্যহীন হয় ।
ব্রাহ্মণ স্বীয় গাত্রের রুধির দান করে আত্মহত্যার পাপ প্রাপ্ত হয় এবং মদ্য প্রদান করলে ব্রাহ্মণ্য হতে চ্যুত হয়।"

রাজা ব্রাহ্মণ বা শূদ্রকে কখনো বলি প্রদান করবে না এবং রাজপুত্রকেও বলিদান করবে না। তবে শত্রু রাজার পুত্র যদি যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বন্দী হয়, তবে দেশরক্ষার প্রয়োজনে তাকে বলি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে।

ন ব্রাহ্মণং বলিং দদ্যাচ্চাণ্ডালমপি পার্থিব ।
নোৎসৃষ্টং দ্বিজদেবেভ্যো ভূপতেস্তনয়ং তথা।
রণেন বিজিতং দদ্যাত্তনয়ং রিপুভূভৃতঃ।।
(কালিকাপুরাণ: ৬৭. ১০৬-১০৭)

"রাজা, দেব-দ্বিজগণের উদ্দেশে অর্চিত ব্রাহ্মণ অথবা শূদ্রকে বলি প্রদান করবে না এবং রাজপুত্রকেও বলিদান করবে না। তবে শত্রু ভূপতির পুত্র যদি যুদ্ধে পরাজিত হয়, তবে দেশরক্ষার প্রয়োজনে তাকে বলি দিতে পারে।"

তবে যতবড়ই অপরাধী হোক না কেন, তার বয়স যদি পঁচিশ বা এর ঊর্ধ্বে না হয় তবে তাকে বলি বা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা যাবে না। অর্থাৎ পঁচিশ বছরের পূর্বের শিশু, কিশোর বা তরুণদের বলি বা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা যাবে না।

মহিষঃ পঞ্চবর্ষীয়ঃ পঞ্চবিংশতিবার্ষিকঃ।
বলির্দেয়ো নরো দেব্যৈ তস্য রক্তস্ত ভূতয়ে।।
(কালিকাপুরাণ: ৬৭.১৪৮)

'পঞ্চবর্ষীয় মহিষ এবং পঞ্চবিংশতিবার্ষিক মনুষ্যকে প্রদান করবে এবং বলিকৃত পশুর সেই রক্তই বিভূতি প্রদান করবে।'

রাজা যদি স্বেচ্ছাচারী হয়ে নিরপরাধ কাউকে বলি প্রদান করে, তবে রাজা বিনাশপ্রাপ্ত হয়। বলি পরবর্তীতে নরবলির ছিন্ন-মস্তক যে যে বাক্য উচ্চারণ করে, তা অচিরেই সফল হয়। অন্যায়ভাবে যদি কাউকে বলির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়, তবে সেই অন্যায়ের প্রতি তীব্র ক্ষোভে যদি বলিকৃত ব্যক্তি মৃত্যুকালে হুঙ্কার প্রদান করে, তবে সেই বলির আদেশ প্রদানকারী রাজার রাজ্য সমূলে বিনষ্ট হয়।

হসতি চ্ছিন্নশীর্ষঞ্চেস্নারং স্যাত্তু রিপুক্ষয়ঃ।
শ্রীবৃদ্ধিরায়ুষো বৃদ্ধিঃ সদা দাতুরসংশয়ঃ ॥
যদ্‌যদ্বাক্যং নিগদতি তথা ভবতি চাচিরাৎ । হূঙ্কারাদ্রাজ্যহানিঃ স্যাৎ শ্লেষ্মস্রাবাচ্চ পঞ্চতা ॥
(কালিকাপুরাণ: ৬৭. ১৪১-১৪২)

"যদি নরবলির ছিন্ন শির হাস্য করে, তবে শত্রুর বিনাশ হয় এবং বলিদাতার সর্বদা লক্ষ্মী ও পরমায়ু বৃদ্ধি হয়, সে বিষয়ে কোন সংশয় নেই।
নরবলির ছিন্ন-মস্তক যে যে বাক্য উচ্চারণ করে, তা অচিরেই সফল হয়। সে মৃত্যুকালে হুঙ্কার করলে রাজ্যের হানি হয় এবং শ্লেষ্মস্রাব করলে কর্তার মৃত্যু হয়।"

রাজা যদি স্বেচ্ছাচারী হয়ে ক্ষমতার দম্ভে নিরপরাধ ব্যক্তিকে বলি প্রদান করে, তবে রাজা শুধু নিজেই বিনাশপ্রাপ্ত হয় না তার রাজ্যও সমূলে বিনষ্ট হয়। পক্ষান্তরে তিনি যদি পরিপূর্ণ শাস্ত্রীয় বিধিতে নরবলি (অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড) প্রদান করতে পারে তবে দেবী সহস্র বছর থেকে লক্ষ বছর তৃপ্তি লাভ করেন।

নরেণ বলিনা দেবী সহস্রং পরিবৎসরান্।
বিধিদত্তেন চাপ্নোতি তৃপ্তিং লক্ষং ত্রিভির্নরৈঃ।
(কালিকাপুরাণ: ৬৭.১৯)

'শাস্ত্রীয় যথাবিধিতে প্রদত্ত একটি নরবলিতে দেবী সহস্র বছর তৃপ্তি লাভ করেন এবং তিনটি নরবলিতে দেবী লক্ষ বছর তৃপ্তি লাভ করেন।'

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী

দেবতাকে অর্পিত মাংসই ভক্ষ্যসাধন জীবনের জন্য মাংসাহার নয়; আবার সবাই সাধন জগতের অধিকারী নয়।সনাতন ধর্মে বৃথা হিংসা পশুবধ কর...
18/08/2026

দেবতাকে অর্পিত মাংসই ভক্ষ্য

সাধন জীবনের জন্য মাংসাহার নয়; আবার সবাই সাধন জগতের অধিকারী নয়।সনাতন ধর্মে বৃথা হিংসা পশুবধ করে মাংস ভোজন নিষিদ্ধ। কিন্তু শাস্ত্রে দেবতাদের উদ্দেশ্যে সমর্পণ করে মাংস ভোজন করতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহাভারতে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে যে যজ্ঞে বা দেবতাদের সমপর্ণ করে, তবেই মাংস ভোজ করতে।যবচূর্ণ বা যবনির্মিত পিঠা, খিচুড়ি, মাংস এবং বিবিধ প্রকারের পিঠা সহ সকল উপাদেয় সুস্বাদু খাবার কখনো একা খেতে নেই; দেবতাদের সমপর্ণ করে, সকলকে দিয়ে তবেই খেতে হয়।

সংযাবং কৃসরং মাংসং শঙ্কুলীং পায়সং তথা ।
আত্মার্থং ন প্রকৰ্ত্তব্যং দেবাৰ্থস্তু প্রকল্পয়েৎ ॥
(মহাভারত:অনুশাসন পর্ব, ৯১.৪০)

"যবচূর্ণ বা যবনির্মিত পিঠা, কৃশর ( তিলতণ্ডুলকৃত সিদ্ধান্ন বা খিচুড়ি ), মাংস, শঙ্কূল( ঘিয়ে ভাজা ময়দার পিঠা) ও পায়স এগুলো নিজের জন্য প্রস্তুত করবে না; ঐ সমস্ত দ্রব্য দেবতার নিমিত্ত প্রস্তুত করবে।"

মহাভারতের এ নির্দেশনাটি মনুসংহিতার মধ্যেও পাওয়া যায়। সেখানে অসংস্কৃত পশুমাংস অর্থাৎ যে পশুকে যজ্ঞে দেবতার উদ্দেশ্যে সমর্পণ করা হয় নি, সেই পশুর মাংস ভোজন করতে নিষেধ করা হয়েছে।

বৃথাক্‌সরসংযাবং পায়সাকূপমেব চ ।
অনুপাকৃতমাংসানি দেবান্নানি হবীংষি চ ॥
(মনুসংহিতা:৫.৭)

"দেবতাকে না দিয়ে তিলতণ্ডুলকৃত সিদ্ধান্ন বা খিচুড়ি; ক্ষীর ও গুড়মিশ্রিত ঘিয়ে ভাজা গমচূর্ণ; দুগ্ধজাত বিবিধ প্রকারের পায়স; বিবিধ প্রকারের উপাদেয় সুস্বাদু পিঠা; অসংস্কৃত পশুমাংস অর্থাৎ যে পশুকে যজ্ঞে দেবতার উদ্দেশ্যে সমর্পণ করা হয় নি, সেই পশুর মাংস; পূজা বা হোমপূর্ব অন্ন, অর্থাৎ দেবতাকে নিবেদনের পূর্বে নৈবেদ্যাদি অন্ন ঘৃত বর্জনীয়।"

শাস্ত্রের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত বলিকৃত পশু সকল বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে মুক্তিলাভ করে। ষড়রিপুর নাশের প্রতীক হিসেবেই পশুবলি দেয়া হয়। যেমন পাঠা হলো অনিষ্টকর কামের প্রতীক, মহিষ হলো ক্রোধের প্রতীক। তবে পশুবলি হয়তো প্রতিকী। কিন্তু সত্যিকারের পশুবলি দেবতার উদ্দেশ্যে তখনই সার্থক হবে, যখন সত্যিসত্যি দেহ থেকে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ,মদ ও মাৎসর্য রূপ শরীরস্থ এই ষড়রিপুকেই বিনাশ করতে পারবে। পশুত্ব থেকে প্রথমে মনুষ্যত্ব এবং অন্তে দেবত্বে পৌছতে হত।দেবতার উদ্দেশ্য পশুবলিকে শাস্ত্রে অহিংসা বলা হয়েছে। দেবতা ও পিতৃলোকের উদ্দেশ্য পশুকে বলিরূপে সমর্পণ করে, অবশিষ্ট মাংস ভোজন করলে কোন প্রকারের দোষ আশ্রয় করে না।যজ্ঞ সিদ্ধির নিমিত্ত প্রজাপতি স্বয়ংই পশু সমুদর সৃষ্টি করেছেন।অতএব যজ্ঞে যে পশুবধ তাহা বধ নয়; এ দেবতাদের সন্তুষ্টির জন্য যজ্ঞ। তাই এতে কোন প্রকার পাপ হয় না।

যজ্ঞায় জন্ধির্মাংসস্যেত্যেষ দৈবো বিধিঃ স্মৃতঃ ।
অতোঽন্যথাপ্রবৃত্তিস্ত রাক্ষসো বিধিরুচ্যতে ॥
ক্রীত্বা স্বয়ং বাপ্যুৎপাদ্য পরোপকৃতমেব বা।
দেবান্ পিতৃংশ্চার্চয়িত্বা খাদন্মাংসং ন দুষ্যতি ॥
(মনুসংহিতা:৫.৩১-৩২)

" যজ্ঞ করে মাংস ভোজন করবে, কারণ যজ্ঞের হুতাবশিষ্ট যে মাংস, সেই মাংসের ভোজনকে দৈব বিধি বলে। যজ্ঞ ব্যতিরেকে মাংসভোজনকে, অর্থাৎ নিজের জন্য পশু হত্যা করে মাংস ভোজনের প্রবৃত্তিকে রাক্ষস বিধি বলে ।
ক্রীত বা নিজে পশুপালন করে তার মাংস বা অপর কর্তৃক প্রদত্ত মাংস দেবগণ ও পিতৃগণকে অর্চনা করে ভক্ষণ করলে মনুষ্য দোষভাগী হয় না ।"

যজ্ঞার্থং পশবঃ সৃষ্টাঃ স্বয়মেব স্বয়ম্ভুবা।
যজ্ঞোঽস্য ভূত্যৈ সর্বস্য তস্মাদ যজ্ঞে বধোহবধঃ৷৷ (মনুসংহিতা: ৫.৩৯)

"যজ্ঞের অঙ্গস্বরূপ যে পশুবধ তা সিদ্ধ করবার জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মা নিজেই পশুসমূহ সৃষ্টি করেছেন; আর যজ্ঞ এই সমগ্র জগতের ভূতি বা পুষ্টির সাধক। সেই কারণে যজ্ঞে যে পশুবধ তা বর্ধই নয়, কারণ, এইরকম ক্ষেত্রে পশুবধে পাপ নেই।"

পশুবধ প্রসঙ্গে মহর্ষি মনু আরও বলেন, কেবলমাত্র মধুপর্কাদি প্রয়োজনে যদি পণ্ডবধ করা হয়, তবে কোন পাপ আশ্রয় করে না। বরং এ দৈবকর্মে পশুটি উৎকৃষ্ট গতি প্রাপ্ত হয়।

মধুপর্কে চ যজ্ঞে চ পিতৃদৈবতকর্মণি।
অত্রৈব পশবো হিংস্যা নান্যত্রেত্যব্রবীন্মনুঃ।।
এষ্বর্থেষু পশূন্ হিংসন্ বেদতত্ত্বার্থবিদ দ্বিজঃ।
আত্মানঞ্চ পশুঞ্চৈব গময়ত্যুত্তমাং গতিম্।।
(মনুসংহিতা: ৫.৪১-৪২)

"মধুপর্কে, যজ্ঞে, পিতৃকার্যে এবং দেবকার্যেই পশু বধ করবে, কিন্তু অন্য কোনও উদ্দেশ্যে এই পশুহিংসা কর্তব্য নয়। এ কথা মনু বলেছেন।
বেদার্থতত্ত্বজ্ঞ দ্বিজাতিরা কেবলমাত্র মধুপর্কাদি প্রয়োজনে যদি পণ্ডবধ করেন, তবে তার দ্বারা তিনি নিজেকে এবং সেই পশুটিকে উৎকৃষ্ট গতি প্রাপ্ত করিয়ে দেন—উভয়েরই সদ্‌গতি লাভ হয়৷"

মহানির্বাণতন্ত্রে বলা হয়েছে দেবোদ্দেশে বলিদানে যে হিংসা শাস্রে তাকে বৈধহিংসা বলা হয়েছে। বৈধহিংসায় পাপ স্পর্শ করে না। তাই দেবোদ্দেশে বলিদান উৎসর্গ ব্যতীত সর্বত্রই হিংসা বর্জন করতে হবে।

দেবোদ্দেশং বিনা ভদ্রে হিংসাং সর্বত্র বর্জয়েৎ।
কৃতায়াং বৈধহিংসায়াং নরঃ পাপৈর্ন লিপ্যতে।
( মহানির্বাণতন্ত্র:১১.১৪৩)

"ভদ্রে! দেবতার উদ্দেশ্য ব্যতিরেক কোন স্থলেই হিংসা করবে না। ফলত এই প্রকার দেবতার উদ্দেশ্যে বা শ্রাদ্ধকাল প্রভৃতিতে বৈধ হিংসা করলে, সে ব্যক্তি পাপে লিপ্ত হবে না।"

মাংস আহারের প্রতি মানুষের প্রবৃত্তি চিরকালের। এ কথাটি বেদে বলা হয়েছে। মদ্যাসক্ত আসক্ত ব্যক্তির নিকটে যেমন মদ্য প্রিয়, তারা শুধু মদ্যের সন্ধানে এবং অপেক্ষাতেই থাকে; মাংস প্রিয় মাংসাশী যেমন মাংসের অপেক্ষাতেই থাকে।

যথা মাংসং যথা সুরা যথাক্ষা অধিদেবনে।
যথা পুংসো বৃষণ্যত স্ত্রিয়াং নিহন্যতে মনঃ।
এবা তে অঘ্ন্যে মনোঽধি বৎসে নি হন্যতাম্ ॥ ১॥
(অথর্ববেদ সংহিতা: ৬ কাণ্ড,৭ অনুবাক,৯ সূক্ত.১)

"সুরাসক্তের নিকট সুরা প্রিয়, মাংসাশীর নিকট মাংস প্রিয়, দ্যূতকারের নিকট দ্যূতস্থান প্রিয়, সুরতাকামী পুরুষের মন স্ত্রীবিষয়ে আসক্ত হয়ে থাকে, সেই রকমই, হে অবধ্য গাভী! তোমার এই বৎস তোমার প্রিয় হোক।"

তাই কদাচিত কিছু মনুষ্য ছাড়া মাংস যেহেতু জগতের অধিকাংশ মানুষই ভোজন করে বা করতে চায়; তাই সুসংস্কৃত করে ভোজন করা উচিত। পশুকে যখন দেবতার উদ্দেশ্যে সমর্পণ করা হয় তখন সেই সংস্কৃত মাংস ভোজনে পাপ আশ্রয় করে না।বেদের পরে বৈষ্ণবদের প্রধান গ্রন্থ হলো শ্রীমদ্ভাগবত এবং বিষ্ণু পুরাণ। বৈষ্ণবদের জীবনে শ্রীমদ্ভাগবতের প্রভাব তীব্র এবং অসীম। পশুবলি এবং মাংসাহার সম্পর্কে "মাংসাশীর নিকট মাংস প্রিয়", অথর্ববেদের এ নির্দেশনাই পাওয়া যায় শ্রীমদ্ভাগবতের একাদশ স্কন্ধে।

লোকে ব্যবায়ামিষমদ্যসেবা
নিত্যাস্তু জন্তোর্ন হি তত্র চোদনা।
ব্যবস্থিতিস্তেষু বিবাহযজ্ঞ
সুরাগ্রহৈরাসু নিবৃত্তিরিষ্টা॥

ধনং চ ধর্মৈকফলং যতো বৈ
জ্ঞানং সবিজ্ঞানমনুপ্রশান্তি।
গৃহেষু যুঞ্জতি কলেবরস্য
মৃত্যুং ন পশ্যন্তি দুরন্তবীর্যম্৷৷

যদ্ ঘ্রাণভক্ষো বিহিতঃ সুরায়া-
স্তথা পশোরালভনং ন হিংসা।
এবং ব্যবায়ঃ প্রজয়া ন রত্যা
ইমং বিশুদ্ধং ন বিদুঃ স্বধর্মম্৷৷

যে ত্বনেবংবিদোঽসন্তঃ স্তব্ধাঃ সদভিমানিনঃ।
পশূন্ দ্রুহ্যন্তি বিস্ৰব্ধাঃ প্ৰেত্য খাদন্তি তে চ তান্॥
(শ্রীমদ্ভাগবত:১১.৫.১১-১৪)

"বেদবিধিতে সেই সকল কর্মের নির্দেশ আছে যাতে মানব স্বাভাবিকভাবে আকৃষ্ট হয় না। জগতে দেখা যায় যে প্রাণীর স্বাভাবিক প্রবৃত্তি মৈথুন তথা মাংস এবং সুধা অভিমুখে ধাবিত হয়। অতএব বেদবাণীতে এই কর্মে যুক্ত হওয়ার বিধান দান কখনো সম্ভব নয়। এইরূপ পরিস্থিতিতে বিবাহ, যজ্ঞ, সৌতামণি যজ্ঞদ্বারা তার সেবনের যে বিধান বেদবাণীতে পরিলক্ষিত হয় তাঁর তাৎপর্য হল মানবকুলের উচ্ছৃঙ্খল প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ ও তাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করা । শ্রুতির অভীষ্ট বা উদ্দেশ্যও হল সেই সকলথেকে দূরে রেখে মানবকুলের উদ্ধার সাধন৷

অর্থের যথার্থ প্রয়োগ হল ধর্ম পালনে ; কারণ ধর্ম থেকে পরমতত্ত্ব জ্ঞান এবং তার নিষ্ঠায় অপরোক্ষ অনুভূতি লাভ হয় এবং নিষ্ঠাতেই পরম শান্তির নিবাস। কিন্তু অতি দুঃখের সঙ্গে স্বীকার করতে হয় যে মানব সেই অর্থের ব্যবহার গৃহস্থালি স্বার্থে অথবা কামভোগেই করে থাকে ; তারা ভুলে যায় যে তাদের দেহ মৃত্যুর অধীন এবং তার হাত থেকে রেহাই পাওয়া কখনো সম্ভব হয় না৷

শ্রৌত্রামণি যজ্ঞেও সুরা আঘ্রাণের বিধান আছে পানের নয়। যজ্ঞে পশু উৎসর্গ পালনীয়, হিংসা নয়। এইভাবে সহধর্মিণীর সহিত মৈথুনের অনুমতি ধার্মিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নিমিত্ত সন্তান উৎপন্ন করবার জন্যই দেওয়া হয়েছে, বিষয়ভোগের উদ্দেশ্যে কখনো নয়। কিন্তু অর্থবাদের এই দিকগুলিতে অভ্যস্ত বিষয়ীগণ এই বিশুদ্ধ ধর্মকে মানে না।

বিশুদ্ধ ধর্মে জ্ঞানহীন অহংকারী ব্যক্তিগণ বস্তুত দুষ্ট হয়েও নিজেদের শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করে থাকে। সেই দেবতাকে সমর্পণ না করা বিপথগামী ব্যক্তিরা পশুদের উপরে বৃথা হিংসা করে। মৃত্যুর পর সেই পশুরাই সেই ঘাতকদের ভক্ষণ করে।"

যজ্ঞে পশু উৎসর্গ পালনীয়, হিংসা নয় এ বিষয়টি বোঝাতে শ্রীমদ্ভাগবতে 'আলভন' শব্দটির প্রয়োগ করা হয়েছে। আলভন শব্দটির [আ + √ লভ্ + অন ( ল্যুট্ )-ভা; নুম্-পক্ষে ‘আলম্ভন’, পা ৭.১.৬৪ ] প্রধানতম অর্থই হল হিংসা বা বধ। এছাড়া স্পর্শন ও মর্দন অর্থেও শব্দটি প্রযুক্ত হয়।শ্রীমদ্ভাগবতের একাদশ স্কন্ধে বলা হয়েছে, শাস্ত্রে দেবোদ্দেশে পশুবধের বিধান থাকলেও বৃথা হিংসার বিধান নেই।কিন্তু ভোগাসক্ত মানুষ এই বিশুদ্ধ ধর্ম জানে না। শাস্ত্রে অনভিজ্ঞ, গর্বিত ও পণ্ডিতম্মন্য সেই পাপাচারী নিঃশঙ্কচিত্তে পশুবধ করে, কিন্তু পরলোকে সেই নিহত পশুরাই ( বলি না দিয়ে হত্যা করা) তাদের মাংস খেয়ে থাকে। এইভাবে যারা পশুহিংসা দ্বারা পরদেহের প্রতি হিংসা করে, তারা সেই সর্বান্তর্যামী শ্রীহরিকেই দ্বেষ করে। শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণে আরও বলা হয়েছে, মাংসের প্রতি যারা অত্যাধিক আসক্ত, তারা কেবলমাত্র শাস্ত্রনির্দিষ্ট কর্মের জন্য বনে গিয়ে প্রয়োজন মতো অনিষিদ্ধ প্রাণীকে বধ করতে পারেন। তবে শসস্ত্রে বৃথা প্রাণীহিংসা করতে বারেবারেই নিষেধ করা হয়েছে।প্রবৃত্তিমার্গকে নিয়ন্ত্রিত করে নিবৃত্তিমার্গে যেতে বলা হয়েছে।

তীর্থেষু প্রতিদৃষ্টেষু রাজা মেধ্যান্ পশূন্ বনে ।
যাবদর্থমলং লুব্ধো হন্যাদিতি নিয়ম্যতে ।।
( শ্রীমদ্ভাগবত:৪.২৬.৬ )

"যার মাংসের প্রতি অত্যাধিক আসক্তি আছে, সেই রাজা কেবলমাত্র শাস্ত্রনির্দিষ্ট কর্মের জন্য বনে গিয়ে প্রয়োজন মতো অনিষিদ্ধ প্রাণীকে বধ করতে পারেন , বৃথা প্রাণীহিংসা কোনমতেই করবেন না- শাস্ত্রে এইভাবে নির্দেশ দিয়ে প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।"

শ্রীমদ্ভাগবতের চতুর্থ স্কন্ধে কেবলমাত্র শাস্ত্রবিহিত যজ্ঞ পশু ভিন্ন অন্য কোন প্রাণীকে বধ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

তমৃত্বিজঃ শত্রুবধাভিসন্ধিতং
বিচক্ষ্য দুষ্প্রেক্ষ্যমসহ্যরংহসম্।
নিবারয়ামাসুরহো মহামতে
ন যুজ্যতেঽত্রান্যবধঃ প্ৰচোদিতাৎ ॥
(শ্রীমদ্ভাগবত: ৪.১৯.২৭)

"ক্রোধাবেশে তাঁর মূর্তি তখন এমন ভয়াল রূপ ধারণ করল যে তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠল। ঋত্বিকগণ যখন দেখলেন যে অসহ্য পরাক্রমশালী মহারাজ পৃথু ইন্দ্রকে বধ করতে প্রস্তুত হয়েছেন, তখন তাঁরা তাঁকে নিবৃত্ত করতে প্রয়াসী হয়ে বলতে লাগলেন— 'মহারাজ ! আপনি অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি, সুতরাং এ কথা আপনার অজ্ঞাত নয় যে যজ্ঞে দীক্ষিত হওয়ার পর কেবলমাত্র শাস্ত্রবিহিত যজ্ঞ পশু ভিন্ন অন্য কাউকে বধ করা উচিত নয়।"

পদ্মপুরাণের স্বর্গখণ্ডে বলা হয়েছে, আঁইশ যুক্ত মাছ এবং কৃষ্ণসার হরিণের মাংস দেবতা ও ব্রাহ্মণদের নিবেদন করে খেলে কোন পাপ আশ্রয় করে না।

মৎস্যান্ সশল্ক ন্ ভুঞ্জীঃ মাংসং রৌরবমেব চ।
নিবেদ্য দেবতাভ্যস্তু ব্রাহ্মণেভ্যশ্চ নান্যথা।।
(পদ্মপুরাণ: স্বর্গখণ্ড,২৮.৩৮)

" সশল্ক বা আঁইশ যুক্ত মাছ এবং রুরু মৃগ বা কৃষ্ণসার হরিণের মাংস দেবতা ও ব্রাহ্মণদের নিবেদন করে খেতে হয়, এ ব্যতিরেকে খাওয়া উচিত নয়।"

কূর্মপুরাণে বলা হয়েছে, শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রিত বা দৈবকর্মে নিযুক্ত হয়ে দেবতাকে সমর্পিত মাংস ভক্ষণ কর্তব্য। পক্ষান্তরে দেবতাকে সমর্পিত মাংস যে প্রত্যাখ্যান করে, সে ব্যক্তি যজ্ঞের সেই পশুর পশমের সমপরিমাণ বছর নরকভোগ করে।

আমন্ত্রিতস্তু যঃ শ্রাদ্ধে দৈবে বা মাংসমুৎসৃজেৎ।
যাবস্তি পশুরোমাণি তাবতো নরকান ব্রজেৎ।
(কূর্মপুরাণ: উপরিভাগ,১৭.৪২)

"যে ব্যক্তি শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রিত বা দৈবকর্মে নিযুক্ত হয়ে দেবতাকে সমর্পিত মাংস ভক্ষণ না করে প্রত্যাখ্যান করে, যজ্ঞের সেই পশুর যতগুলি লোম আছে, সেই ব্যক্তি তত বছর নরকভোগ করে।"

বিবিধ শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে, পশুকে দেবতাকে সমর্পণ করে, দৈব বিধি অনুসারে সেই পশুর মাংস ভোজন করতে। দৈব বিধি অনুসরণ করলে তবেই মাংস সুসংস্কৃত হয়। দেবতাকে সমর্পণে পশুহত্যা পাপ হয় না। পক্ষান্তরে দেবতাকে সমর্পিত করে সুসংস্কৃত মাংস যদি ভোজন না করা হয়, তবে তা অশাস্ত্রীয় রাক্ষস বিধিতে পরিণত হয়, যা অত্যন্ত অধর্ম। রাক্ষস বিধিতে দেবতাকে সমর্পণ না করে শুধু ভোজনের উদ্দেশ্যে পশুকে হত্যা করা হয়। রাক্ষস বিধি অনুসরণ করলে পরকালে সেই পশুই ভক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে ভক্ষণ করে। ভৌগোলিক কারণে জগতের সকল অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই উদ্ভিজ্জ আমিষ ভোজী হওয়া দুষ্কর শুধু নয় অসম্ভবও বটে। মনুষ্যের মাংস ভোজনের প্রবৃত্তি সহজাত। মাংস ভোজনের আকাঙ্ক্ষা থাকবে। বিষয়টি অথর্ববেদেও বলা হয়েছে। যারা সাধন জীবনের উন্নতির জন্য উদ্ভিজ্জ আমিষ ভোজন করছে, তাদের কথা আলাদা। তাদের প্রাণীজ আমিষ ভোজন না করাই সর্বোত্তম পন্থা। সাধন জীবনের বাইরে যারা প্রতিনিয়ত প্রাণী হত্যা করে প্রাণীজ আমিষ ভোজন করছে, সেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উচিত মাংসকে কসাইয়ের দোকান থেকে না কিনে দেবতাকে সমর্পণ করে তবেই ভোজন করা। কলকাতার গোপাল মুখোপাধ্যায়ের মত কদাচিত কিছু ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে বঙ্গদেশে মাংসের দোকানদাদের প্রায় সকলেই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী। তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার নামে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য পশুটিকে হত্যা করে পরবর্তীতে দোকানে বিক্রি করে। সেই কশাইয়ের দোকানের মাংসের থেকে দেবতাকে সমর্পণ করে দৈব বিধি অনুসারে মাংস ভোজন করা উত্তম শুধু নয়, সর্বোত্তম।

ড.কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী

১৮ বছর ৭ মাস বয়সী তরুণ কাঠগড়ায় দাড়িয়ে নির্ভীকভাবে হেসে বলেছিলো,"আমি গীতা পড়েছি, আমার মৃত্যুর ভয় নেই।" ক্ষুদিরামের ফাঁসি...
11/08/2026

১৮ বছর ৭ মাস বয়সী তরুণ কাঠগড়ায় দাড়িয়ে নির্ভীকভাবে হেসে বলেছিলো,"আমি গীতা পড়েছি, আমার মৃত্যুর ভয় নেই।" ক্ষুদিরামের ফাঁসি কার্যকর হয় ১৯০৮ সালের ১১ আগষ্ট। ঘড়িতে তখন ভোর ৪টা। সে সময় ক্ষুদিরামের পক্ষের আইনজীবি ছিলেন শ্রী উপেন্দ্রনাথ সেন। তাঁর ভাষ্যমতে "ফাঁসির মঞ্চে ক্ষুদিরাম নির্ভীকভাবে উঠে যান। তাঁর মধ্যে কোন ভয় বা অনুশোচনা কাজ করছিল না। এদেশের নবীন যৌবনের প্রতীক হয়ে হাসিমুখে তিনি উঠে যান ফাঁসির মঞ্চে।" তাইতো বাঁকুড়ার লোককবি পীতাম্বর দাস এই বিপ্লবীর আত্মত্যাগের উপাখ্যানকে কেন্দ্র করেই গানে লিখেছিলেন,

"একবার বিদায় দে-মা ঘুরে আসি।

হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে ভারতবাসী।”

আত্মবলিদান দিবস
তরুণ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু

শোক বার্তা
06/08/2026

শোক বার্তা

03/08/2026

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পারমার্থিক ভ্রমণে বিদ্যার্থীদের ভজন পরিবেশনা।
#ভজন

ওঁ তৎ সৎনমস্কারসনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক আয়োজিত পারমার্থিক ভ্রমণের কিছু স্থির চিত্র।তার...
03/08/2026

ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক আয়োজিত পারমার্থিক ভ্রমণের কিছু স্থির চিত্র।

তারিখ: ৩১.০৭.২৬ (শুক্রবার)

প্রচারে:
শ্রীপ্রিতম কুন্ডু
গণমাধ্যম বিষয়ক সহ সম্পাদক।
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,ঢাকা কলেজ।

ওঁ তৎ সৎসনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক আয়োজিত পারমার্থিক ভ্রমণ গত ”৩১ শে জুলাই, শুক্রবার” সফল...
02/08/2026

ওঁ তৎ সৎ

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক আয়োজিত পারমার্থিক ভ্রমণ গত ”৩১ শে জুলাই, শুক্রবার” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এই ধর্মীয় ভ্রমণকে সফল করার জন্য সংসদের সকল সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, উপদেষ্টা মণ্ডলী এবং সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আপনাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার কারণেই এই পারমার্থিক ভ্রমণ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ধন্যবাদান্তে,
শ্রীসাধন চন্দ্র দেবরাজ
সভাপতি
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা কলেজ

শ্রীজয়রুপ মজুমদার
সাধারণ সম্পাদক
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা কলেজ

#পারমার্থিকভ্রমণ #তীর্থযাত্রা `

🕉️ ওঁ তৎ সৎজ্ঞান • সংস্কার • ঐক্য🛕 পারমার্থিক তীর্থভ্রমণ ২০২৬সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ...
30/07/2026

🕉️ ওঁ তৎ সৎ

জ্ঞান • সংস্কার • ঐক্য

🛕 পারমার্থিক তীর্থভ্রমণ ২০২৬

সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক আয়োজিত

সনাতন ধর্মের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন কলেজের সনাতন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে একদিনের পারমার্থিক তীর্থভ্রমণ ২০২৬।

এই ভ্রমণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা প্রাচীন মন্দির, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বিক্রমপুরের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজের সনাতন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। দিনব্যাপী থাকবে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নানা আয়োজন।

🛕 ভ্রমণের স্থানসমূহ

🔸 শেখরনগর কালীবাড়ি – প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন জাগ্রত কালীমন্দির।

🔸 সোনারং জোড়া মঠ – অষ্টাদশ শতকে নির্মিত পোড়ামাটির অলংকরণসমৃদ্ধ ঐতিহাসিক যুগল মঠ।

🔸 রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের জমিদার বাড়ি – ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা।

🔸 ইছামতী নদী – বিক্রমপুরের ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন।

✨ তীর্থভ্রমণে যা থাকছে

🛕 বিগ্রহ দর্শন

📜 ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ

🌿 প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ

🤝 বিভিন্ন কলেজের সনাতন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচয় ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি

🎶 ভজন ও কীর্তন

🍛 প্রসাদ গ্রহণ

👕 আকর্ষণীয় স্মারক টি-শার্ট

🔑 চাবির রিং

📅 সময়সূচি

🗓️ তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার)

🚌 বাস ছাড়ার সময়: সকাল ৭:০০টা (সময়মতো উপস্থিত থাকতে হবে)

🌆 ফেরত: সন্ধ্যায়

📍 পিক-আপ পয়েন্ট

🚌 সরকারি বাঙলা কলেজ – ২টি বাস

🚌 ঢাকা কলেজ – ১টি বাস

🚌 ইডেন মহিলা কলেজ – ১টি বাস

🧭 দিকনির্দেশনা

✅ প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে কলেজের বৈধ আইডি কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।

✅ নির্ধারিত সময়ের কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে নিজ নিজ পিক-আপ পয়েন্টে উপস্থিত থাকতে হবে।

✅ বাস নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাবে। তাই সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা কাম্য।

✅ ভ্রমণ চলাকালীন শৃঙ্খলা, ভদ্রতা ও ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

✅ মন্দির ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সময় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

✅ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন থাকার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ রইল।

📞 যোগাযোগ

শ্রী জয়রুপ মজুমদার (ঢাকা কলেজ) 📱 ০১৬৩১১৮৩৪০৮ (বিকাশ)

শ্রীযুক্তা কল্যাণী রায় (বাঙলা কলেজ) 📱 ০১৫৩৮৪২১৯৬১ (বিকাশ/নগদ)

শ্রী গৌরাঙ্গ অঙ্কুর (বাঙলা কলেজ) 📱 ০১৮৬৭৮২৭৪৮৫ (বিকাশ/নগদ)

শ্রীযুক্তা মুমু দে (ইডেন কলেজ) 📱 ০১৭১৭৩৮৬২৭৬ (বিকাশ)

শ্রীযুক্তা অনিন্দ্য মনন ঘোষ ঐশী (ইডেন কলেজ) 📱 ০১৯৬৭৭২৩১৬৬ (বিকাশ)

শ্রীযুক্তা অমৃতা (বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ) 📱 ০১৩১৫০২৮৭৩২ (বিকাশ)

শ্রী সবুজ ঘোষ (তিতুমীর কলেজ) 📱 ০১৭৭০৯৮৩৯৭৩ (বিকাশ)

শ্রী শুভ বিশ্বাস (কবি নজরুল সরকারি কলেজ) 📱 ০১৭৫৪২০২৫৪০ (বিকাশ)

শ্রী অতীশ পাল (সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ) 📱 ০১৮২৩৪৬৫০৯৮ (বিকাশ)

আয়োজনে

সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

"ধর্মচর্চা, ঐতিহ্যচর্চা ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে—এসো, একসাথে তীর্থের পথে।"

ওঁ তৎসৎ নমস্কার সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আয়োজনে আগামী ৩১ শে জুলাই শুক্রবার যে পারমার্থিক ভ্রম...
29/07/2026

ওঁ তৎসৎ
নমস্কার
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আয়োজনে আগামী ৩১ শে জুলাই শুক্রবার যে পারমার্থিক ভ্রমণ হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. শ্রী কুশলনরণ চক্রবর্তী স্যার।

Address

ঢাকা কলেজ
Dhaka
1205

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share