Ramakrishna Math & Ramakrishna Mission Dhaka. রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • Ramakrishna Math & Ramakrishna Mission Dhaka. রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন

Ramakrishna Math & Ramakrishna Mission Dhaka. রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন Sri Sri Ramakrishna Dev Temple ("Joto Mot Toto Poth" "যত মত তত পথ") ("As Many Faiths So Many Paths")

 #শুভ  #নববর্ষ  #১৪৩২
14/04/2025

#শুভ #নববর্ষ #১৪৩২

শিক্ষা    মানুষের ভিতর যে পূর্ণত্ব প্রথম হইতেই বর্তমান, তাহারই প্রকাশ-সাধনকে বলে শিক্ষা।    বিদ্যাশিক্ষা কাকে বলি? বই পড়...
31/03/2025

শিক্ষা
মানুষের ভিতর যে পূর্ণত্ব প্রথম হইতেই বর্তমান, তাহারই প্রকাশ-সাধনকে বলে শিক্ষা।
বিদ্যাশিক্ষা কাকে বলি? বই পড়া? না। নানাবিধ জ্ঞানার্জন? তাও নয়। যে শিক্ষা দ্বারা এই ইচ্ছাশক্তির বেগ ও স্ফূর্তি নিজের আয়ত্ত ও সফলকাম হয়, তাহাই শিক্ষা।
আমার বিশ্বাস-গুরুর সাক্ষাৎ সংস্পর্শে গুরুগৃহবাসেই প্রকৃত শিক্ষা হইতে থাকে। গুরুর সাক্ষাৎ সংস্পর্শে না আসিলে কোনরূপ শিক্ষাই হইতে পারে না।
আমাদের বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কথা ধরুন। পঞ্চাশ বৎসর হইল ওইগুলি প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে, কিন্তু ফল কি দাঁড়াইয়াছে? ওইগুলি একজনও মৌলিকভাবসম্পন্ন মানুষ তৈরি করিতে পারে নাই। ওইগুলি শুধু পরীক্ষাকেন্দ্ররূপে দণ্ডায়মান। সাধারণের কল্যাণের জন্য আত্মত্যাগের ভাব আমাদের ভিতর এখনও কিছুমাত্র বিকশিত হয় নাই।
একজন জ্বলন্ত character-এর (চরিত্রসম্পন্ন ব্যক্তির) কাছে ছেলেবেলা হইতে থাকা চাই, জীবন্ত দৃষ্টান্ত দেখা চাই। কেবল 'মিথ্যা কথা বলা বড় পাপ' পড়িলে কিছুই হইবে না। চাই পাশ্চাত্য-বিজ্ঞানের সঙ্গে বেদান্ত, আর মূলমন্ত্র ব্রহ্মচর্য, শ্রদ্ধা আর আত্মপ্রত্যয়।
আর কি জান, ছোট ছেলেদের গাধা পিটাইয়া ঘোড়া করা গোছের শিক্ষা দেওয়াটা তুলিয়া দিতে হইবে একেবারে। কেহই কাহাকেও শিক্ষা দিতে পারে না। শিক্ষক শিখাইতেছি মনে করিয়াই সব নষ্ট করে। বেদান্ত বলে এই মানুষের ভিতরেই সব আছে। একটি ছেলের ভিতরেও সব আছে। কেবল সেইগুলি জাগাইয়া দিতে হইবে-এইমাত্র শিক্ষকের কাজ। ছেলেগুলি যাহাতে আপন আপন হাত পা নাক কান মুখ ও চক্ষুর ব্যবহার করিয়া নিজেদের বুদ্ধি খাটাইতে পারে, এইটুকু করিয়া দিতে হইবে। তাহা হইলেই আখেরে সমস্তই সহজ হইয়া পড়িবে।
এখন চাই স্বাধীনভাবে স্বদেশী বিদ্যার সঙ্গে ইংরাজী আর বিজ্ঞান পড়ান, চাই technical education (কারিগরি বিদ্যা), আর যাহাতে industry (শিল্প) বাড়ে, লোকে চাকরি না করিয়া যাহাতে কিছু উপার্জন করিতে পারে।
অগ্নি যেমন একখণ্ড চকমকিতে নিহিত থাকে, জ্ঞান তেমনি মনের মধ্যেই রহিয়াছে, উদ্দীপক কারণটি যেন ঘর্ষণ, জ্ঞানাগ্নিকে প্রকাশ করিয়া দেয়।
এই যে ক্রোশব্যাপী বৃহৎ বটবৃক্ষ, তাহা ওই সর্ষপবীজের অষ্টমাংশের তুল্য ক্ষুদ্র বীজে ছিল-ওই মহাশক্তিরাজি উহার ভিতরে নিহিত রহিয়াছে। আমরা জানি, একটি জীবাণুকোষের ভিতর সকল শক্তি, প্রখর বুদ্ধি কুণ্ডলীকৃত হইয়া অবস্থান করে; তবে অনন্ত শক্তি কেন না তাহাতে থাকিতে পারিবে? আমরা জানি, তাহা আছে। ...আমাদের ভিতর শক্তি পূর্ব হইতেই অন্তর্নিহিত ছিল অব্যক্তভাবে, কিন্তু উহা ছিল নিশ্চয়ই।
শিশু নিজে নিজেই শিখিয়া থাকে। তবে তাহাকে তাহার নিজের ভাবে উন্নতি করিতে আপনারা সাহায্য করিতে পারেন।
আমরা যে বলি মানুষ 'জানে', ঠিক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলিতে গেলে বলিতে হইবে-মানুষ 'আবিষ্কার করে' (discover) বা আবরণ উন্মোচন করে (unveil)। মানুষ 'যাহা শিক্ষা করে', প্রকৃতপক্ষে সে উহা 'আবিষ্কার করে'। শব্দটির অর্থ-অনন্ত জ্ঞানের খনিস্বরূপ নিজ আত্মা হইতে আবরণ সরাইয়া লওয়া। আমরা বলি, নিউটন মাধ্যাকর্ষণ আবিষ্কার করিয়াছিলেন। উহা কি এক কোণে বসিয়া তাঁহার জন্য অপেক্ষা করিতেছিল? না, উহা তাঁহার নিজ মনেই অবস্থিত ছিল। সময় আসিল, অমনি তিনি উহা দেখিতে পাইলেন।
জ্ঞানলাভের একমাত্র উপায় একাগ্রতা। রসায়ণতত্ত্বান্বেষী নিজের পরীক্ষাগারে গিয়া, নিজের মনের সমুদয় শক্তি কেন্দ্রীভূত করিয়া তিনি যে-সকল বস্তু বিশ্লেষণ করিতেছেন, তাহাদের উপর প্রয়োগ করেন এবং এইরূপে তাহাদের রহস্য অবগত হন।
নিকৃষ্ট মানুষ হইতে সর্বোচ্চ যোগী পর্যন্ত সকলকেই জ্ঞানলাভের জন্য এই একই উপায় অবলম্বন করিতে হয়। যদি শিক্ষা বলিতে কতকগুলি বিষয় জানা মাত্র বুঝায় তবে লাইব্রেরিগুলিই তো জগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, অভিধানসমূহই তো ঋষি। সুতরাং আদর্শ হওয়া উচিত যে, আমাদের আধ্যাত্মিক ও লৌকিক সর্বপ্রকার শিক্ষা আমাদের নিজেদের হাতে লইতে হইবে এবং যতদূর সম্ভব, জাতীয়ভাবে ওই শিক্ষা প্রদান করিতে হইবে।
তোমরা এক্ষণে যে শিক্ষালাভ করিতেছ, তাহার কতকগুলি গুণ আছে বটে, কিন্তু উহার আবার কতকগুলি বিশেষ দোষও আছে, আর এই দোষ এত বেশি যে, গুণভাগ উহাতে ডুবিয়া যায়। প্রথমত ওই শিক্ষায় মানুষ প্রস্তুত হয় না-ওই শিক্ষা সম্পূর্ণ নাস্তিকভাবপূর্ণ। এইরূপ শিক্ষায় অথবা অন্য যে কোন শিক্ষায় এইরূপ সব ভাঙিয়া চুরিয়া যায়, তাহা মৃত্যু অপেক্ষাও ভয়ানক। বালক স্কুলে গেলে সে প্রথম শিখিল-তাহার বাপ একটা মূর্খ, দ্বিতীয়ত তাহার পিতামহ একটা পাগল, তৃতীয়ত প্রাচীন আচার্যগণ সব ভণ্ড, আর চতুর্থত শাস্ত্র সব মিথ্যা। ষোল বৎসর বয়স হইবার পূর্বেই সে একটা প্রাণহীন, মেরুদণ্ডহীন 'না'-এর সমষ্টি হইয়া দাঁড়ায়। আর ইহার ফল এই দাঁড়াইয়াছে যে, এইরূপ পঞ্চাশ বৎসরের শিক্ষায় ভারতের তিন প্রেসিডেন্সির ভিতরে একটা লোকও জন্মাইল না। মৌলিকভাবপূর্ণ যে-কেহ এখানে জন্মাইয়াছে, সে এ দেশে নয়, অন্যত্র শিক্ষালাভ করিয়াছে অথবা তাহারা আপনাদিগকে কুসংস্কার হইতে মুক্ত করিবার জন্য প্রাচীন শিক্ষাপ্রণালী অবলম্বন করিয়াছে।
মাথায় কতকগুলি ভাব ঢুকাইয়া সারাজীবন হজম হইল না-অসম্বদ্ধভাবে মাথায় ঘুরিতে লাগিল-ইহাকে শিক্ষা বলে না।
কয়েকটা পাস দিলে বা ভাল বক্তৃতা করতে পারলেই তোদের কাছে শিক্ষিত হলো! যে-বিদ্যার উন্মেষে ইতর-সাধারণকে জীবনসংগ্রামে সমর্থ করতে পারা যায় না, যাতে মানুষের চরিত্রবল, পরার্থ তৎপরতা, সিংহসাহসিকতা এনে দেয় না, সে কি আবার শিক্ষা? যে-শিক্ষায় জীবনে নিজের পায়ের উপর দাঁড়াতে পারা যায়, সেই হচ্ছে শিক্ষা। আজকালকার এই-সব স্কুল-কলেজে পড়ে তোরা কেমন একপ্রকারের একটা dyspeptic (অজীর্ণরোগাক্রান্ত) জাত তৈরি হচ্ছিস। কেবল machine (কল)-এর মতো খাটছিস, আর 'জায়স্ব শ্রিয়স্ব' এই বাক্যের সাক্ষিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছিস। এই যে চাষাভুষা, মুচি-মুদ্দাফরাশ-এদের কর্মতৎপরতা ও আত্মনিষ্ঠা তোদের অনেকের চেয়ে ঢের বেশি। এরা নীরবে চিরকাল কাজ করে যাচ্ছে, দেশের ধনধান্য উৎপন্ন করছে, মুখে কথাটি নেই। এরা শীঘ্রই তোদের ওপরে উঠে যাবে।...
বর্তমান শিক্ষায় তোদের বাহ্যিক হালচাল বদলে দিচ্ছে, অথচ নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির অভাবে তোদের অর্থাগমের উপায় হচ্ছে না।
তোরা ভাবছিস-আমরা শিক্ষিত। কি ছাই মাথা-মুণ্ডু শিখেছিস? কতকগুলি পরের কথা ভাষান্তরে মুখস্থ করে মাথার ভেতর পুরে পাস করে ভাবছিস-আমরা শিক্ষিত। ছ্যাঃ! ছ্যাঃ! এর নাম আবার শিক্ষা!! তোদের শিক্ষার উদ্দেশ্য কি? হয় কেরানিগিরি, না হয় একটা দুষ্ট উকিল হওয়া, না হয় বড়জোর কেরানিগিরিরই রূপান্তর একটা ডেপুটিগিরি চাকরি-এই তো? এতে তোদেরই বা কি হলো, আর দেশেরই বা কি হলো? একবার চোখ খুলে দেখ, স্বর্ণপ্রসূ ভারতভূমিতে অন্নের জন্য কি হাহাকারটা উঠেছে! তোদের ওই শিক্ষায় সে অভাব পূর্ণ হবে কি? কখনও নয়। পাশ্চাত্য-বিজ্ঞানসহায়ে মাটি খুঁড়তে লেগে যা, অন্নের সংস্থান কর-চাকরি গুখুরি করে নয়, নিজের চেষ্টায় পাশ্চাত্য-বিজ্ঞানসহায়ে নিত্য নতুন পন্থা আবিষ্কার করে। ওই অন্নবস্ত্রের সংস্থান করবার জন্যই আমি লোকগুলোকে রজোগুণতৎপর হতে উপদেশ দিই।
শিক্ষার বিস্তার, জ্ঞানের উন্মেষ-এ সব না হলে দেশের উন্নতি কি করে হবে?... সাধারণের ভেতর আর মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার না হলে কিছু হবার জো নেই।... পুরাণ, ইতিহাস, গৃহকার্য, শিল্প, ঘরকন্নার নিয়ম ও আদর্শ চরিত্র গঠনের সহায়ক নীতিগুলি বর্তমান বিজ্ঞানের সহায়তায় শিক্ষা দিতে হবে। ছাত্রীদের ধর্মপরায়ণ ও নীতিপরায়ণ করতে হবে।...
যাদের মা শিক্ষিতা ও নীতিপরায়ণা হন, তাদের ঘরেই বড়লোক জন্মায়। মেয়েদের তোরা এখন যেন কতকগুলি manufacturing machines (উৎপাদন-যন্ত্র) করে তুলেছিস। রাম রাম। এই কি তোদের শিক্ষার ফল হলো? মেয়েদের আগে তুলতে হবে, mass-কে (জনসাধারণকে) জাগাতে হবে, তবে তো দেশের কল্যাণ-ভারতের কল্যাণ।
যে রকম শিক্ষা চলিতেছে, সে রকম নয়। সত্যিকার কিছু শিক্ষা চাই। খালি বই পড়া শিক্ষা হইলে চলিবে না। যাহাতে চরিত্রগঠন হয়, মনের শক্তি বাড়ে, বুদ্ধির বিকাশ হয়, নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াইতে পারে-এই রকম শিক্ষা চাই। ওই

রকম শিক্ষা পাইলে মেয়েদের সমস্যা মেয়েরা আপনারাই সমাধান করিবে।...
বীরত্বের ভাবটাও দরকার। এ সময়ে তাহাদের মধ্যেও আত্মরক্ষা শিক্ষা করা দরকার হইয়া পড়িয়াছে। দেখ দেখি, ঝাঁসির রানী কেমন ছিলেন!
ধর্ম, শিল্প, বিজ্ঞান, ঘরকন্না, রন্ধন, সেলাই, শরীর-পালন-এ-সব বিষয়ের স্থূল মর্মগুলিই মেয়েদের শেখানো উচিত।
কেবল শিক্ষা, শিক্ষা, শিক্ষা! ইউরোপের বহু নগর পর্যটন করিয়া তাহাদের দরিদ্রদেরও সুখস্বাচ্ছন্দ্য ও বিদ্যা দেখিয়া আমাদের গরিবদের কথা মনে পড়ায় অশ্রু বিসর্জন করিতাম। কেন এই পার্থক্য হইল?-শিক্ষা, জবাব পাইলাম।
শিক্ষাবলে আত্মপ্রত্যয়, আত্মপ্রত্যয়বলে অন্তর্নিহিত ব্রহ্ম জাগিয়া উঠিতেছেন; আর আমাদের ক্রমেই তিনি সঙ্কুচিত হইতেছেন।
আমাদের বালকদের যে বিদ্যাশিক্ষা হইতেছে, তাও একান্ত negative (নেতিভাবপূর্ণ)-স্কুলবালক কিছুই শেখে না, কেবল সব ভেঙে চুরে যায়-ফল 'শ্রদ্ধাহীনত্ব'।
ধর্মপ্রচারের সঙ্গে সঙ্গেই লৌকিক বিদ্যা ও অন্যান্য বিদ্যা যাহা কিছু আবশ্যক তাহা আপনিই আসিবে। কিন্তু যদি ধর্মকে বাদ দিয়া লৌকিক জ্ঞানবিস্তারের চেষ্টা কর, তবে তোমাদিগকে স্পষ্টই বলিতেছি, ভারতে তোমাদের এই চেষ্টা বৃথা হইবে-লোকের হৃদয়ে উহা প্রভাব বিস্তার করিবে না।
সত্যিকার জাতি, যাহারা কুটিরে বাস করে, তাহারা তাহাদের ব্যক্তিত্ব ও মনুষ্যত্ব ভুলিয়া গিয়াছে। হিন্দু, মুসলমান, খ্রীস্টান-প্রত্যেকের পায়ের তলায় পিষ্ট হইতে হইতে তাহাদের মনে এখন এই ধারণা জন্মিয়াছে যে, ধনীর পদতলে নিষ্পেষিত হইবার জন্যই তাহাদের জন্ম। তাহাদের লুপ্ত ব্যক্তিত্ববোধ আবার ফিরাইয়া দিতে হইবে। তাহাদিগকে শিক্ষিত করিতে হইবে।
যদি আমরা গ্রামে গ্রামে অবৈতনিক বিদ্যালয় খুলিতে সমর্থও হই, তবু দরিদ্র ঘরের ছেলেরা সে-সব স্কুলে পড়িতে আসিবে না; তাহারা বরং ওই সময় জীবিকার্জনের জন্য হাল-চাষ করিতে বাহির হইয়া পড়িবে। আমাদের না আছে প্রচুর অর্থ, না আছে ইহাদিগকে শিক্ষাগ্রহণে বাধ্য করিবার ক্ষমতা। সুতরাং সমস্যাটি নৈরাশ্যজনক বলিয়াই মনে হয়। কিন্তু আমি ইহারই মধ্যে একটি পথ বাহির করিয়াছি। তাহা এই-যদি পর্বত মহম্মদের নিকট না-ই আসে, তবে মহম্মদকেই পর্বতের নিকট যাইতে হইবে। দরিদ্রলোকেরা যদি শিক্ষার নিকট

পৌঁছিতে না পারে (অর্থাৎ নিজেরা শিক্ষালাভে তৎপর না হয়) তবে শিক্ষাকেই চাষীর লাঙ্গলের কাছে, মজুরের কারখানায় এবং অন্যত্র সব স্থানে যাইতে হইবে।
যদি প্রকৃতিতে বৈষম্য থাকে তথাপি সকলের পক্ষে সমান সুবিধা থাকা উচিত। কিন্তু যদি কাহাকেও অধিক, কাহাকেও কম সুবিধা দিতেই হয়, তবে বলবান অপেক্ষা দুর্বলকে অধিক সুবিধা দিতে হইবে। অর্থাৎ চণ্ডালের বিদ্যাশিক্ষা যত আবশ্যক, ব্রাহ্মণের তত নহে। যদি ব্রাহ্মণের ছেলের একজন শিক্ষকের আবশ্যক, চণ্ডালের ছেলের দশজনের আবশ্যক। কারণ যাহাকে প্রকৃতি স্বাভাবিকভাবে প্রখর করেন নাই, তাহাকে অধিক সাহায্য করিতে হইবে। তেলা মাথায় তেল দেওয়া পাগলের কর্ম।

েশাবলী
্বামী_বিবেকানন্দ



🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏
www.facebook.com/rkmdhaka

গুরু    যিনি এই সংসার-মায়ার পারে লইয়া যান, যিনি কৃপা করে সমস্ত মানসিক আধিব্যাধি বিনিষ্ট করেন, তিনিই যথার্থ গুরু। আগে শিষ...
25/03/2025

গুরু
যিনি এই সংসার-মায়ার পারে লইয়া যান, যিনি কৃপা করে সমস্ত মানসিক আধিব্যাধি বিনিষ্ট করেন, তিনিই যথার্থ গুরু। আগে শিষ্যেরা 'সমিৎপানি' হয়ে গুরুর আশ্রমে যেত। গুরু অধিকারি বলে বুঝলে তাকে দীক্ষিত করে বেদ পাঠ করাতেন।
গুরু সম্বন্ধে এইটুকু দেখিতে হইবে, তিনি যেন শাস্ত্রের মর্মজ্ঞ হন। জগতের সকলেই বেদ, বাইবেল বা কোরান পাঠ করিতেছে, কিন্তু এগুলি শুধু শব্দ ব্যাকরণ ধর্মের, কয়েকখানা শুষ্ক অস্থি মাত্র। যে গুরু শব্দ লইয়া বেশি নাড়াচাড়া করেন ও মনকে কেবল শব্দের ব্যাখ্যাচালিত হইতে দেন, তিনি ভাব হারাইয়া ফেলেন। শাস্ত্রের মর্ম যিনি জানেন, তিনিই যথার্থ ধর্মাচার্য।... দ্বিতীয়ত, গুরুর নিষ্পাপ হওয়া আবশ্যক। তৃতীয়ত, দেখা আবশ্যক গুরুর উদ্দেশ্য কি। গুরু যেন অর্থ, নামযশরূপ বা কোন স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্ম শিক্ষাদানে প্রবৃত্ত না হন-সমগ্র মানবজাতির প্রতি শুদ্ধ প্রেমই যেন তাঁহার কার্যের নিয়ামক হয়।
গুরু হচ্ছেন সেই আধার, যাঁর মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক শক্তি তোমার কাছে পৌঁছয়। যে-কেউ শিক্ষা দিতে পারে বটে, কিন্তু গুরুই শিষ্যে আধ্যাত্মিক শক্তি সঞ্চার করে থাকেন, তাতেই আধ্যাত্মিক উন্নতিরূপ ফল হয়ে থাকে। শিষ্যদের মধ্যে পরস্পর ভাই-ভাই সম্বন্ধ, আর ভারতের আইন এই সম্বন্ধ স্বীকার করে থাকে। গুরু তাঁর পূর্ব পূর্ব আচার্যদের কাছ থেকে যে মন্ত্র বা ভাবশক্তিময় শব্দ পেয়েছেন, তাই শিষ্যে সংক্রামিত করেন-গুরু ব্যতীত সাধনভজন কিছু হতে পারে না; বরং বিপদের আশঙ্কা যথেষ্ট আছে।
কে কার উদ্ধার করতে পারে বল? গুরু কেবল কতকগুলি আবরণ দূর করে দিতে পারেন। ওই আবরণগুলো গেলেই আত্মা আপনার গৌরবে আপনি জ্যোতিষ্মান হয়ে সূর্যের মতো প্রকাশ পান।
সর্বপ্রকার শিক্ষার অর্থই আদান-প্রদান-আচার্য দিবেন, শিষ্য গ্রহণ করিবেন। কিন্তু আচার্যের কিছু দিবার বস্তু থাকা চাই, শিষ্যের গ্রহণ করিবার জন্য প্রস্তুত হওয়া চাই।
শিষ্যের এই গুণগুলি আবশ্যক-পবিত্রতা, প্রকৃত জ্ঞানপিপাসা ও অধ্যবসায়। অশুদ্ধাত্মাপুরুষ কখনও প্রকৃত ধার্মিক হইতে পারে না। প্রকৃতির এই বিচিত্র নিয়ম যে, যখনই ক্ষেত্র উপযুক্ত হয়, তখনই বীজ নিশ্চয়ই আসিবে, আসিয়াও থাকে। যখনই আত্মার ধর্মপিপাসা প্রবল হইবে তখনই ধর্মশক্তি সঞ্চারক পুরুষ সেই আত্মার সহায়তার জন্য অবশ্যই আসিবেন, আসিয়াও থাকেন।

েশাবলী
্বামী_বিবেকানন্দ



🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏
www.facebook.com/rkmdhaka

সন্ন্যাস    'আত্মনো মোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ'- এই হচ্ছে সন্ন্যাসের প্রকৃত উদ্দেশ্য। সন্ন্যাস না হলে কেউ কখনও ব্রহ্মজ্ঞ হতে...
22/03/2025

সন্ন্যাস
'আত্মনো মোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ'- এই হচ্ছে সন্ন্যাসের প্রকৃত উদ্দেশ্য। সন্ন্যাস না হলে কেউ কখনও ব্রহ্মজ্ঞ হতে পারে না-এ কথা বেদ-বেদান্ত ঘোষণা করছে। যারা বলে- এ সংসারও করব, ব্রহ্মজ্ঞও হব-তাদের কথা আদপেই শুনবিনি। ও-সব প্রচ্ছন্নভোগীদের স্তোকবাক্য। এতটুকু সংসারের ভোগেচ্ছা যার রয়েছে, এতটুকু কামনা যার রয়েছে, এ কঠিন পন্থা ভেবে তার ভয়; তাই আপনাকে প্রবোধ দেবার জন্য বলে বেড়ায়, 'একূল ওকূল-দুকূল রেখে চলতে হবে।' ও পাগলের কথা, উন্মত্তের প্রলাপ, অশাস্ত্রীয় অবৈদিক মত। ত্যাগ ছাড়া মুক্তি নেই। ত্যাগ ছাড়া পরাভক্তি লাভ হয় না। ত্যাগ-ত্যাগ! 'নান্যঃ পন্থা বিদ্যতে হয়নায়।' গীতাতেও আছে-কাম্যানাং কর্মণাং ন্যাসং সন্ন্যাসং কবয়ো বিদুঃ।
সন্ন্যাস চারি প্রকার (১) বিদ্বৎ সন্ন্যাস, (২) বিবিদিষা সন্ন্যাস, (৩) মর্কট সন্ন্যাস এবং (৪) আতুর সন্ন্যাস। হঠাৎ ঠিক ঠিক বৈরাগ্য হলো ও তখনি সন্ন্যাস নিয়ে বেরিয়ে পড়ল-এটি প্রান্জন্ম সংস্কার না থাকলে হয় না। ইহারই নাম বিদ্বৎ সন্ন্যাস। আত্মতত্ত্ব জানবার প্রবল বাসনা থেকে শাস্ত্রপাঠ ও সাধনাদি দ্বারা স্ব-স্বরূপ অবগত হইবার জন্য কোন ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষের কাছে সন্ন্যাস নিয়ে স্বাধ্যায় ও সাধন ভজন করতে লাগল-একে বিবিদিষা সন্ন্যাস বলে। সংসারের তাড়নায়, স্বজন বিয়োগ বা অন্য কারণে কেউ কেউ বেরিয়ে পড়ে সন্ন্যাস নেয়; কিন্তু এ বৈরাগ্য স্থায়ী হয় না, এর নাম মর্কট সন্ন্যাস। আর এক প্রকার সন্ন্যাস আছে-যেমন মুমূর্ষু রোগশয্যায় শায়িত, বাঁচবার আশা নেই, তখন তাকে সন্ন্যাস দিবার বিধি আছে। সে যদি মরে তো পবিত্র সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করে মরে গেল-পরজন্মে এই পুণ্যে ভাল জন্ম হবে। আর যদি বেঁচে যায় তো আর গৃহে না গিয়ে ব্রহ্মজ্ঞান লাভের চেষ্টায় সন্ন্যাসী হয়ে কালযাপন করবে। একে আতুর সন্ন্যাস বলে।
সাংসারিক ব্যক্তিগণ বাঁচিতে ভালবাসে, সন্ন্যাসীকে মৃত্যু ভালবাসিতে হইবে। তবে কি আমাদিগকে আত্মহত্যা করিতে হইবে? তাহা কখনই হইতে পারে না। কারণ আত্মহত্যাকারি গণ প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুকে ভালবাসে না। দেখাও যায়-আত্মহত্যা করিতে চেষ্টা করিয়া যদি কেহ অকৃতকার্য হয়, সে পুনরায় ওই চেষ্টা প্রায় করে না। তবে মৃত্যুকে ভালবাসার অর্থ কি? তাৎপর্য এই-আমাদিগকে মরিতেই হইবে-ইহা অপেক্ষা ধ্রুব সত্য কিছুই নাই। তবে আমরা কোন মহৎ সৎ উদ্দেশ্যের জন্য দেহপাত করি না কেন?

েশাবলী
্বামী_বিবেকানন্দ



🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏
www.facebook.com/rkmdhaka

তাঁর কৃপা হলে জ্ঞানের অভাব থাকে না -মূর্খ বিদ্বান হয়, বোবার কথা ফুটে। তাই বলছি - বই পড়লেই পণ্ডিত হয় না।🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏 ্রীশ্...
19/03/2025

তাঁর কৃপা হলে জ্ঞানের অভাব থাকে না -
মূর্খ বিদ্বান হয়, বোবার কথা ফুটে।
তাই বলছি - বই পড়লেই পণ্ডিত হয় না।

🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏
্রীশ্রী_ঠাকুর_শ্রীরামকৃষ্ণের_বাণী

বেদান্ত   বেদনামক শব্দরাশি কোন পুরুষমুখনিঃসৃত নহে। উহার সন তারিখ এখনও নির্দিষ্ট হয় নাই, কখনও নির্দিষ্ট হইতে পারে না। আর ...
17/03/2025

বেদান্ত
বেদনামক শব্দরাশি কোন পুরুষমুখনিঃসৃত নহে। উহার সন তারিখ এখনও নির্দিষ্ট হয় নাই, কখনও নির্দিষ্ট হইতে পারে না। আর আমাদের (হিন্দুদের) মতে, বেদ অনাদি অনন্ত। একটি বিশেষ কথা তোমাদের স্মরণ রাখা উচিত যে, জগতের অন্যান্য ধর্ম ঈশ্বর নামক ব্যক্তির অথবা ভগবানের দূত বা প্রেরিত পুরুষের বাণী বলিয়া তাহাদের শাস্ত্রের প্রামাণ্য দেখায়। হিন্দুরা কিন্তু বলেন, বেদের অন্য কোন প্রমাণ নাই, বেদ স্বতঃপ্রমাণ; কারণ বেদ অনাদি অনন্ত, উহা ঈশ্বরের জ্ঞানরাশি। বেদ কখনই লিখিত হয় নাই, উহা কখনই সৃষ্ট হয় নাই, অনন্তকাল ধরিয়া উহা রহিয়াছে। যেমন সৃষ্টি অনাদি অনন্ত, তেমনি ঈশ্বরের জ্ঞানও অনাদি অনন্ত। বেদ অর্থে এই ঐশ্বরিক জ্ঞানরাশি (বিদ্‌ ধাতুর অর্থ জানা)।
বেদনামক গ্রন্থরাশি প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত--কর্মকাণ্ড ও জ্ঞানকাণ্ড। কর্মকাণ্ডের মধ্যে নানাবিধ যাগযজ্ঞের কথা আছে। উহাদের মধ্যে অধিকাংশই বর্তমান যুগের অনুপযোগী বলিয়া পরিত্যক্ত হইয়াছে এবং কতকগুলি এখনও কোন-না-কোনও আকারে বর্তমান। দ্বিতীয় ভাগ জ্ঞানকাণ্ড--আমাদের ধর্মের আধ্যাত্মিক অংশ। উহার নাম বেদান্ত অর্থাৎ বেদের শেষ ভাগ--বেদের চরম লক্ষ্য। বেদ--জ্ঞানের এই সারভাগের নাম বেদান্ত বা উপনিষদ্।
মম্বাদি স্মৃতিশাস্ত্র ও পুরাণ প্রভৃতির যতটুকু উপনিষদের সহিত মিলে, ততটুকুই গ্রহণীয়; যেখানে উভয়ের বিরোধ হইবে, সেখানে স্মৃতি প্রভৃতির প্রমাণ নির্দয়ভাবে পরিত্যাজ্য।
বেদে কোথাও নরকের কথা নাই। বেদের অনেক পরবর্তী পুরাণে এই নরকের প্রসঙ্গ আছে। বেদের সর্বাপেক্ষা অধিক যে শাস্তির কথা পাওয়া যায়-তাহা পুনর্জন্ম, অর্থাৎ আর একবার উন্নতির সুবিধা লাভ করা।
'গুরুপূজা' সাধনার প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়াই বেদে উত্ত হইয়াছে।
বেদের একটি বিশেষত্ব এই যে, যত শাস্ত্রগ্রন্থ আছে, তন্মধ্যে একমাত্র বেদই বার বার বলিয়াছেন-বেদকেও অতিক্রম করিতে হইবে। বেদ বলেন, উহা কেবল অজ্ঞ শিশু-মনের জন্য লিখিত। পরিণত অবস্থায় বেদের গণ্ডি ছাড়াইয়া যাইতে হইবে।
আধুনিক বিজ্ঞান ধর্মের উপর যে পুনঃপুনঃ তীব্র আক্রমণ করিতেছে, বেদই কেবল উহাকে বাধা দিতে পারে এবং ধর্মের সহিত বিজ্ঞানের সামঞ্জস্য বিধান করিতে পারে।
ভারতে এমন কোন ধর্ম নাই যাহা বলে না যে, ভগবান সকলের ভিতর রহিয়াছেন। বিভিন্ন মতের বৈদান্তিকগণ সকলেই স্বীকার করিয়া থাকেন যে, জীবাত্মার মধ্যে পূর্ব হইতেই পবিত্রতা, বীর্য ও পূর্ণত্ব অন্তর্নিহিত।
বেদান্ত তোমার কর্মফলের জন্য ছোটখাট দেবতাদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করে না, তুমি নিজেই তোমার অদৃষ্টের নির্মাতা। তুমি নিজ কর্মফলে ভালমন্দ দুই-ই ভোগ করিতেছ, তুমি নিজেই নিজের চোখে হাত দিয়া বলিতেছ-অন্ধকার। হাত সরাইয়া লও, আলো দেখিতে পাইবে।
বেদান্ত বলেন-যে-ব্যক্তি নিজেকে বিশ্বাস করে না, সে নাস্তিক। আত্মার মহিমায় বিশ্বাস স্থাপন না করাকেই বেদান্ত নাস্তিকতা বলেন।
বেদান্তই জগতের একমাত্র সার্বভৌম ধর্ম; কারণ উহা কোন ব্যক্তিবিশেষের মতকে প্রামাণিক বলিয়া গ্রহণ করিতে উপদেশ দেয় না, উহা কেবল সনাতন তত্ত্বসমুদয়ই শিক্ষা দিয়া থাকে; ব্যক্তিবিশেষের সহিত অচ্ছেদ্যভাবে জড়িত কোন ধর্ম জগতের সমগ্র মানবজাতি গ্রহণ করিতে পারে না।
মানুষ কি বলে দণ্ডায়মান হইয়া কার্য করিতে সমর্থ হয়? --বীর্য। বীর্যই সাধুত্ব--দুর্বলতাই পাপ। যদি উপনিষদে এমন কোন শব্দ থাকে, যাহা বজ্রবেগে অজ্ঞানরাশির উপর পতিত হইয়া উহাকে একেবারে ছিন্ন ভিন্ন করিয়া ফেলিতে পারে, তবে উহা--'অভীঃ'। যদি জগৎকে কোন ধর্ম শিখাইতে হয়, তবে তাহা এই 'অভীঃ'। কি ঐহিক, কি আধ্যাত্মিক, সকল বিষয়েই 'অভীঃ' এই মূলমন্ত্র অবলম্বন করিতে হইবে। কারণ, ভয়ই পাপ ও অধঃপতনের নিশ্চিত কারণ। ভয় হইতেই মৃত্যু, ভয় হইতেই সর্বপ্রকার অবনতি আসিয়া থাকে।

েশাবলী
্বামী_বিবেকানন্দ



🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏
www.facebook.com/rkmdhaka

হিন্দুধর্ম    হিন্দুগণ আপ্তবাক্য বেদ হইতে নিজেদের ধর্ম লাভকরিয়াছেন। তাঁহারা বেদসমুদয়কে অনাদি ও অনন্ত বলিয়া বিশ্বাস করেন।...
15/03/2025

হিন্দুধর্ম
হিন্দুগণ আপ্তবাক্য বেদ হইতে নিজেদের ধর্ম লাভকরিয়াছেন। তাঁহারা বেদসমুদয়কে অনাদি ও অনন্ত বলিয়া বিশ্বাস করেন।
ধর্মমতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরোধ সত্ত্বেও কতকগুলি ঐক্য আছে। প্রথমত তিনটি বিষয়-তিনটি সত্তা প্রায় সকলেই স্বীকার করেন-ঈশ্বর, আত্মা ও জগৎ। ঈশ্বর অর্থাৎ যিনি জগৎকে চিরকাল সৃজন, পালন ও লয় করিতেছেন। সাংখ্যগণ ব্যতীত আর সকলেই ইহা স্বীকার করেন। আত্মা-অসংখ্য জীবাত্মা কর্মফলে বার বার শরীর পরিগ্রহ করিয়া জন্মমৃত্যুচক্রে ভ্রাম্যমাণ; ইহাকে সংসারবাদ বলে-চলতি কথায় 'পুনর্জন্মবাদ'। আর রহিয়াছে এই অনাদি অনন্ত জগৎ। এই তিনকে কেহ একেরই বিভিন্ন অবস্থা, কেহ বা সম্পূর্ণ পৃথক তিনটি সত্তা বলিয়া মানিলেও সকলেই এই তিনটিতে বিশ্বাস করেন।
আত্মা অনন্ত আনন্দস্বরূপ, উহা লিঙ্গবর্জিত। আত্মাতে নরনারীভেদ নাই। দেহসম্বন্ধেই নরনারীভেদ।... আত্মার সম্বন্ধে কোনরূপ বয়সও নির্দিষ্ট হইতে পারে না, সেই প্রাচীন পুরুষ সর্বদাই একরূপ!
হিন্দুদিগের সকল সম্প্রদায়েরই মত এই সৃষ্টি, এই প্রকৃতি, এই মায়া অনাদি অনন্ত। জগৎ কোন বিশেষ দিনে সৃষ্ট হয় নাই। একজন ঈশ্বর আসিয়া এই জগৎকে সৃষ্টি করিলেন, তারপর তিনি ঘুমাইতেছেন, ইহা হইতে পারে না। সৃষ্টিকারিণী শক্তি এখনও বর্তমান।
হিন্দুধর্ম বুঝিতে হইলে বেদ ও দর্শন পড়িতে হইবে এবং সমুদয় ভারতের প্রধান প্রধান ধর্মাচার্য এবং তাঁহাদের শিষ্যগণের উপদেশাবলী জানিতে হইবে।
খ্রীস্টধর্ম খ্রীস্ট ব্যতীত, মুসলমানধর্ম মহম্মদ এবং বৌদ্ধধর্ম বুদ্ধ ব্যতীত টিকিতে পারে না, কিন্তু হিন্দুধর্ম কোন ব্যক্তিবিশেষের উপর একেবারে নির্ভর করে না।
হিন্দুর দৃষ্টিতে মানুষ ভ্রম হইতে সত্যে গমন করে না, কিন্তু সত্য হইতে সত্যে-নিম্নতর সত্য হইতে উচ্চতর সত্যে উপনীত হইতেছে।
আমার মনে হয়, আমাদের ধর্ম যে অন্যান্য ধর্ম হইতে সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী, তাহার একটি প্রধান যুক্তি এই যে, আমাদের ধর্ম কখনই অপর ধর্মবিজয়ে প্রবৃত্ত হয় নাই; উহা কখনই রক্তপাত করে নাই, উহা সর্বদাই আশীর্বাণী ও শান্তির বাণী উচ্চারণ করিয়াছে; সকলকে উহা প্রেম ও সহানুভূতির কথাই বলিয়াছে।
ছুঁৎমার্গের সহিত আমাদের কিছুমাত্র সংস্রব নাই। উহা হিন্দুধর্ম নহে, উহা আমাদের কোন শাস্ত্রে নাই। উহা প্রাচীন আচারের অননুমোদিত একটি কুসংস্কার-আর চিরদিনই উহা জাতীয় অভ্যুদয়ে বাধা সৃষ্টি করিয়াছে।
আমাদের এখন আবশ্যক-শক্তিসঞ্চার। আমরা দুর্বল হইয়া পড়িয়াছি। সেইজন্যই আমাদের মধ্যে এই সকল গুপ্তবিদ্যা, রহস্যবিদ্যা, ভূতুড়েকাণ্ড সব আসিয়াছে। ওইগুলির মধ্যে কিছু মহৎ তত্ত্ব থাকিতে পারে, কিন্তু ওইগুলি আমাদিগকে প্রায় নষ্ট করিয়া ফেলিয়াছে। তোমাদের স্নায়ু সতেজ কর। আমাদের আবশ্যক--লৌহের মতো পেশী ও বজ্রদৃঢ় স্নায়ু।
এখন বৃন্দাবনের বাঁশীবাজানো কৃষ্ণকেই কেবল দেখালে চলবে না, তাতে জীবের উদ্ধার হবে না। এখন চাই গীতারূপ সিংহনাদকারী শ্রীকৃষ্ণের পূজা; ধনুর্ধারী রাম, মহাবীর, মা-কালী এঁদের পূজা। তবে তো লোকে মহা উদ্যমে কর্মে লেগে শক্তিমান হয়ে উঠবে। আমি বেশ করে বুঝে দেখেছি, এ দেশে এখন যারা ধর্ম ধর্ম করে, তাদের অনেকেই full of morbidity--cracked brains অথবা fanatic (মজ্জাগতদুর্বলতা-সম্পন্ন বিকৃতমস্তিষ্ক অথবা বিচারশূন্য ধর্মোন্মাদ)--মহা রজোগুণের উদ্দীপনা ভিন্ন এখন তোদের না আছে ইহকাল, না আছে পরকাল। দেশ ঘোর তমোতে ছেয়ে ফেলেছে। ফলও তাই হচ্ছে--ইহজীবনে দাসত্ব, পরলোকে নরক।

েশাবলী
্বামী_বিবেকানন্দ



🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏
www.facebook.com/rkmdhaka

ধর্ম   ধর্ম হচ্ছে, মানুষের ভেতর যে ব্রহ্মহ্মত্ব প্রথম থেকেই বর্তমান, তারই প্রকাশ।   প্রত্যক্ষ করাই যথার্থ ধর্ম, ধর্মের উ...
13/03/2025

ধর্ম
ধর্ম হচ্ছে, মানুষের ভেতর যে ব্রহ্মহ্মত্ব প্রথম থেকেই বর্তমান, তারই প্রকাশ।
প্রত্যক্ষ করাই যথার্থ ধর্ম, ধর্মের উহাই সার। আর অবশিষ্ট যাহা কিছু, যথা-ধর্মবক্তৃতা শ্রবণ অথবা ধর্মপুস্তক পাঠ অথবা বিচার কেবল ওই পথের জন্য প্রস্তুত হওয়া মাত্র। উহা প্রকৃত ধর্ম নহে।
ধর্ম বাক্যাড়ম্বর নহে, অথবা মতবাদবিশেষ নহে, অথবা সাম্প্রদায়িকতা নহে। সম্প্রদায়ে বা সমিতির মধ্যে ধর্ম আবদ্ধ থাকিতে পারে না। ধর্ম আত্মার সহিত পরমাত্মার সম্বন্ধ লইয়া।
প্রত্যেক ধর্মেরই তিনটি করিয়া ভাগ আছে, যথা-দার্শনিক, পৌরাণিক ও আনুষ্ঠানিক। অবশ্য দার্শনিক ভাগই প্রত্যেক ধর্মের সার। পৌরাণিক ভাগ ওই দার্শনিক ভাগেরই বিবৃতিমাত্র; উহাতে মহাপুরুষগণের অল্পবিস্তর কাল্পনিক জীবনী ও অলৌকিক বিষয়সংক্রান্ত উপাখ্যান ও গল্পসমূহ দ্বারা ওই দর্শনকেই উত্তমরূপে বিবৃত করিবার চেষ্টা করা হইয়াছে। আর আনুষ্ঠানিক ভাগ ওই দর্শনেরই আরও স্থূলতর রূপ-যাহাতে সকলেই উহা ধারণা করিতে পারে।
মন্দির ও গীর্জা, শাস্ত্র ও অনুষ্ঠান-এগুলি কেবল ধর্মের শিশু শিক্ষামাত্র, যাহাতে প্রবর্তক-প্রাথমিক সাধক শক্ত সবল হইয়া ধর্মের উচ্চতর সোপান অবলম্বন করিতে পারে।
তীর্থে বা মন্দিরে গেলে, তিলক ধারণ করিলে অথবা বস্ত্রবিশেষ পরিলে ধর্ম হয় না। তুমি গায়ে চিত্রবিচিত্র করিয়া চিতাবাঘটি সাজিয়া বসিয়া থাকিতে পার, কিন্তু যতদিন পর্যন্ত না তোমার হৃদয় খুলিতেছে, যতদিন পর্যন্ত না ভগবানকে উপলব্ধি করিতেছ, ততদিন সব বৃথা। হৃদয় যদি রাঙিয়া যায়, তবে আর বাহিরের রঙের আবশ্যক নাই। ধর্ম অনুভব করিলে তবেই কাজ হইবে।
ধর্ম অনুরাগে-বাহ্য অনুষ্ঠানে নহে। হৃদয়ের পবিত্র ও অকপট প্রেমেই ধর্ম। যদি দেহ মন শুদ্ধ না হয়, তবে মন্দিরে গিয়া শিবপূজা করা বৃথা। যাহাদের দেহমন পবিত্র, শিব তাহাদের প্রার্থনা শুনেন। আর যাহারা অশুদ্ধস্বভাব হইয়াও অপরকে ধর্ম শিক্ষা দিতে যায়, তাহারা অসঙ্গতিপ্রাপ্ত হয়। বাহ্যপূজা মানসপূজার বহিরঙ্গমাত্র-মানসপূজা ও চিত্তশুদ্ধিই আসল জিনিস। এইগুলি না থাকিলে বাহ্যপূজায় কোন ফললাভ হয় না।
ভগবানের নামে এত গণ্ডগোল, যুদ্ধ ও বাদানুবাদ কেন? ভগবানের নামে এত রক্তপাত হইয়াছে, অন্য কোন বিষয়ের জন্য এত রক্তপাত হয় নাই; কারণ সাধারণ মানুষ ধর্মের মূল উৎসে যায় নাই। সকলেই পূর্বপুরুষগণের কতকগুলি আচার অনুমোদন করিয়াই সন্তুষ্ট ছিল। তাহারা চাহিত অপরেও তাহাই করুক। আত্মানুভূতি না করিয়া অথবা আত্মা বা ঈশ্বর দর্শন না করিয়া 'ঈশ্বর আছেন' বলিবার কি অধিকার মানুষের আছে? যদি ঈশ্বর থাকেন, তাঁহাকে দর্শন করিতে হইবে; যদি আত্মা বলিয়া কিছু থাকে, তাহা উপলব্ধি করিতে হইবে।
প্রকৃত ধার্মিক লোক সর্বত্রই উদার হয়ে থাকেন। তাঁর ভেতরে যে প্রেম আছে, তাইতে তাঁকে বাধ্য হয়ে উদার হতে হয়। কেবল যাদের কাছে ধর্ম একটা ব্যবসামাত্র, তারাই ধর্মের ভেতর সংসারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিবাদ ও স্বার্থপরতা এনে ব্যবসার খাতিরে ঐরূপ সঙ্কীর্ণ ও অনিষ্টকারী হতে বাধ্য হয়।

েশাবলী
্বামী_বিবেকানন্দ



🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏
www.facebook.com/rkmdhaka

ঈশ্বর   এই জগতে একজন ঈশ্বর আছেন। ইহা সত্য নয় যে, এই জগৎ স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছে এবং তোমার বা আমার সাহায্যের অপেক্ষায় রহিয়া...
11/03/2025

ঈশ্বর
এই জগতে একজন ঈশ্বর আছেন। ইহা সত্য নয় যে, এই জগৎ স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছে এবং তোমার বা আমার সাহায্যের অপেক্ষায় রহিয়াছে। ঈশ্বর জগতে সর্বদাই বর্তমান। তিনি অবিনাশী, নিয়ত-ক্রিয়াশীল; তাঁহার সতর্ক দৃষ্টি সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। যখন সমগ্র জগৎ নিদ্রা যায়, তখনও তিনি জাগিয়া থাকেন। তিনি অবিরত কাজ করিতেছেন। জগতে যাহা কিছু পরিবর্তন ও বিকাশ দেখা যায়, সবই তাঁহার কাজ।
শত শত যুক্তি দ্বারা ধর্ম ও ঈশ্বরকে প্রমাণ করা যায় না। যুক্তিবলে ধর্ম ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্ভব বলিয়া প্রমাণিত হইতে পারে, কিন্তু ওইখানেই শেষ। সত্যকে সাক্ষাৎ উপলব্ধি করিতে হইবে, আর ধর্মের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাইতে গেলে অনুভূতি আবশ্যক। ঈশ্বর আছেন, এইটি নিশ্চয় করিয়া বুঝিতে হইলে ঈশ্বরকে অনুভব করিতে হইবে। সাক্ষাৎ উপলব্ধি ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে আমাদের নিকট ধর্মের সত্যতা প্রমাণিত হইতে পারে না।
অজ্ঞ ব্যক্তির ঈশ্বর সম্বন্ধে প্রাথমিক ধারণা এই যে, তিনি এই ব্রহ্মাণ্ডের বাহিরে কোথাও রহিয়াছেন। ঈশ্বর সম্বন্ধে দ্বিতীয় ধারণা এই যে, একটি শক্তি রহিয়াছে, সর্বত্রই তাঁহার প্রকাশ। ইনিই প্রকৃত সগুণ ঈশ্বর; চণ্ডীতে ইঁহার কথাই লিখিত আছে।
তৃতীয় সোপান এই যে, ঈশ্বর প্রকৃতির বাহিরেও নাই, ভিতরেও নাই, কিন্তু ঈশ্বর, প্রকৃতি, আত্মা, জগৎ-এইগুলি একপর্যায়-শব্দ। প্রকৃতপক্ষে দুইটি বস্তু নাই, কতকগুলি দার্শনিক শব্দই তোমাকে প্রতারিত করিয়াছে।
আমাদের শাস্ত্রে ঈশ্বরের দ্বিবিধ স্বরূপের বিষয় উল্লিখিত হইয়াছে-সগুণ ও নির্গুণ। সগুণ ঈশ্বর অর্থে সর্বব্যাপী, জগতের সৃষ্টি স্থিতি ও প্রলয়ের কর্তা-জগতের শাশ্বত জনক-জননী। তাঁহার সহিত আমাদের ভেদ নিত্য। মুক্তির অর্থ তাঁহার সামীপ্য ও সালোক্যপ্রাপ্তি। নির্গুণ ব্রহ্মের বর্ণনায় সগুণ ঈশ্বরের প্রতি সচরাচর প্রযুক্ত সর্বপ্রকার বিশেষণ অনাবশ্যক ও অযৌক্তিক বলিয়া পরিত্যক্ত হইয়াছে।
জীবসমষ্টিকে নিয়েই ঈশ্বর; মানবদেহের প্রত্যেক কোষ (cell)-এর একটা স্বতন্ত্র অস্তিত্ব থাকিলেও দেহ যেমন একটি অখণ্ড বস্তু, ঠিক তেমনি ঈশ্বরও একজন ব্যক্তি। সমষ্টি ঈশ্বর এবং ব্যষ্টি বা অংশই জীব বা আত্মা। ঈশ্বরের অস্তিত্ব জীবের অস্তিত্বের ওপর নির্ভর করছে, দেহ যেমন কোষের ওপর নির্ভর করে; বিপরীত সত্য। জীব ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব পরস্পর-সাপেক্ষ; একজন যতক্ষণ আছেন, ততক্ষণ অন্যকেও থাকতে হবে।
আমি এত তপস্যা করে এই সার বুঝেছি যে, জীবে জীবে তিনি অধিষ্ঠান হয়ে আছেন; তা ছাড়া ঈশ্বর-ফিশ্বর কিছুই আর নেই।
"জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।"
প্রত্যেকের মধ্যেই সেই ঈশ্বর, পরমাত্মা আছেন। অন্য সব কিছুই স্বপ্ন, শুধু মায়া।
প্রত্যেক জীবাত্মাই এক একটা নক্ষত্রস্বরূপ, আর সেই নক্ষত্ররাজি ঈশ্বররূপ সেই অনন্ত নির্মল নীল আকাশে বিন্যস্ত রয়েছে।
নিখিল আত্মার সমষ্টিরূপে যে একমাত্র ভগবান বিদ্যমান আছেন এবং যে একমাত্র ভগবানের অস্তিত্বে আমি বিশ্বাসী, সেই ভগবানের পূজার জন্য যেন আমি বার বার জন্মগ্রহণ করি এবং সহস্র যন্ত্রণা ভোগ করি, আর আমার সর্বাধিক উপাস্য দেবতা হবেন আমার পাপী নারায়ণ, আমার তাপী নারায়ণ, আমার সর্বজাতির সর্বজীবের দরিদ্র নারায়ণ।

েশাবলী
্বামী_বিবেকানন্দ



🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏
www.facebook.com/rkmdhaka

Address

27 Ramakrishna Mission Road
Dhaka
1203

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ramakrishna Math & Ramakrishna Mission Dhaka. রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Ramakrishna Math & Ramakrishna Mission Dhaka. রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন:

Share