31/03/2025
শিক্ষা
মানুষের ভিতর যে পূর্ণত্ব প্রথম হইতেই বর্তমান, তাহারই প্রকাশ-সাধনকে বলে শিক্ষা।
বিদ্যাশিক্ষা কাকে বলি? বই পড়া? না। নানাবিধ জ্ঞানার্জন? তাও নয়। যে শিক্ষা দ্বারা এই ইচ্ছাশক্তির বেগ ও স্ফূর্তি নিজের আয়ত্ত ও সফলকাম হয়, তাহাই শিক্ষা।
আমার বিশ্বাস-গুরুর সাক্ষাৎ সংস্পর্শে গুরুগৃহবাসেই প্রকৃত শিক্ষা হইতে থাকে। গুরুর সাক্ষাৎ সংস্পর্শে না আসিলে কোনরূপ শিক্ষাই হইতে পারে না।
আমাদের বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কথা ধরুন। পঞ্চাশ বৎসর হইল ওইগুলি প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে, কিন্তু ফল কি দাঁড়াইয়াছে? ওইগুলি একজনও মৌলিকভাবসম্পন্ন মানুষ তৈরি করিতে পারে নাই। ওইগুলি শুধু পরীক্ষাকেন্দ্ররূপে দণ্ডায়মান। সাধারণের কল্যাণের জন্য আত্মত্যাগের ভাব আমাদের ভিতর এখনও কিছুমাত্র বিকশিত হয় নাই।
একজন জ্বলন্ত character-এর (চরিত্রসম্পন্ন ব্যক্তির) কাছে ছেলেবেলা হইতে থাকা চাই, জীবন্ত দৃষ্টান্ত দেখা চাই। কেবল 'মিথ্যা কথা বলা বড় পাপ' পড়িলে কিছুই হইবে না। চাই পাশ্চাত্য-বিজ্ঞানের সঙ্গে বেদান্ত, আর মূলমন্ত্র ব্রহ্মচর্য, শ্রদ্ধা আর আত্মপ্রত্যয়।
আর কি জান, ছোট ছেলেদের গাধা পিটাইয়া ঘোড়া করা গোছের শিক্ষা দেওয়াটা তুলিয়া দিতে হইবে একেবারে। কেহই কাহাকেও শিক্ষা দিতে পারে না। শিক্ষক শিখাইতেছি মনে করিয়াই সব নষ্ট করে। বেদান্ত বলে এই মানুষের ভিতরেই সব আছে। একটি ছেলের ভিতরেও সব আছে। কেবল সেইগুলি জাগাইয়া দিতে হইবে-এইমাত্র শিক্ষকের কাজ। ছেলেগুলি যাহাতে আপন আপন হাত পা নাক কান মুখ ও চক্ষুর ব্যবহার করিয়া নিজেদের বুদ্ধি খাটাইতে পারে, এইটুকু করিয়া দিতে হইবে। তাহা হইলেই আখেরে সমস্তই সহজ হইয়া পড়িবে।
এখন চাই স্বাধীনভাবে স্বদেশী বিদ্যার সঙ্গে ইংরাজী আর বিজ্ঞান পড়ান, চাই technical education (কারিগরি বিদ্যা), আর যাহাতে industry (শিল্প) বাড়ে, লোকে চাকরি না করিয়া যাহাতে কিছু উপার্জন করিতে পারে।
অগ্নি যেমন একখণ্ড চকমকিতে নিহিত থাকে, জ্ঞান তেমনি মনের মধ্যেই রহিয়াছে, উদ্দীপক কারণটি যেন ঘর্ষণ, জ্ঞানাগ্নিকে প্রকাশ করিয়া দেয়।
এই যে ক্রোশব্যাপী বৃহৎ বটবৃক্ষ, তাহা ওই সর্ষপবীজের অষ্টমাংশের তুল্য ক্ষুদ্র বীজে ছিল-ওই মহাশক্তিরাজি উহার ভিতরে নিহিত রহিয়াছে। আমরা জানি, একটি জীবাণুকোষের ভিতর সকল শক্তি, প্রখর বুদ্ধি কুণ্ডলীকৃত হইয়া অবস্থান করে; তবে অনন্ত শক্তি কেন না তাহাতে থাকিতে পারিবে? আমরা জানি, তাহা আছে। ...আমাদের ভিতর শক্তি পূর্ব হইতেই অন্তর্নিহিত ছিল অব্যক্তভাবে, কিন্তু উহা ছিল নিশ্চয়ই।
শিশু নিজে নিজেই শিখিয়া থাকে। তবে তাহাকে তাহার নিজের ভাবে উন্নতি করিতে আপনারা সাহায্য করিতে পারেন।
আমরা যে বলি মানুষ 'জানে', ঠিক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলিতে গেলে বলিতে হইবে-মানুষ 'আবিষ্কার করে' (discover) বা আবরণ উন্মোচন করে (unveil)। মানুষ 'যাহা শিক্ষা করে', প্রকৃতপক্ষে সে উহা 'আবিষ্কার করে'। শব্দটির অর্থ-অনন্ত জ্ঞানের খনিস্বরূপ নিজ আত্মা হইতে আবরণ সরাইয়া লওয়া। আমরা বলি, নিউটন মাধ্যাকর্ষণ আবিষ্কার করিয়াছিলেন। উহা কি এক কোণে বসিয়া তাঁহার জন্য অপেক্ষা করিতেছিল? না, উহা তাঁহার নিজ মনেই অবস্থিত ছিল। সময় আসিল, অমনি তিনি উহা দেখিতে পাইলেন।
জ্ঞানলাভের একমাত্র উপায় একাগ্রতা। রসায়ণতত্ত্বান্বেষী নিজের পরীক্ষাগারে গিয়া, নিজের মনের সমুদয় শক্তি কেন্দ্রীভূত করিয়া তিনি যে-সকল বস্তু বিশ্লেষণ করিতেছেন, তাহাদের উপর প্রয়োগ করেন এবং এইরূপে তাহাদের রহস্য অবগত হন।
নিকৃষ্ট মানুষ হইতে সর্বোচ্চ যোগী পর্যন্ত সকলকেই জ্ঞানলাভের জন্য এই একই উপায় অবলম্বন করিতে হয়। যদি শিক্ষা বলিতে কতকগুলি বিষয় জানা মাত্র বুঝায় তবে লাইব্রেরিগুলিই তো জগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, অভিধানসমূহই তো ঋষি। সুতরাং আদর্শ হওয়া উচিত যে, আমাদের আধ্যাত্মিক ও লৌকিক সর্বপ্রকার শিক্ষা আমাদের নিজেদের হাতে লইতে হইবে এবং যতদূর সম্ভব, জাতীয়ভাবে ওই শিক্ষা প্রদান করিতে হইবে।
তোমরা এক্ষণে যে শিক্ষালাভ করিতেছ, তাহার কতকগুলি গুণ আছে বটে, কিন্তু উহার আবার কতকগুলি বিশেষ দোষও আছে, আর এই দোষ এত বেশি যে, গুণভাগ উহাতে ডুবিয়া যায়। প্রথমত ওই শিক্ষায় মানুষ প্রস্তুত হয় না-ওই শিক্ষা সম্পূর্ণ নাস্তিকভাবপূর্ণ। এইরূপ শিক্ষায় অথবা অন্য যে কোন শিক্ষায় এইরূপ সব ভাঙিয়া চুরিয়া যায়, তাহা মৃত্যু অপেক্ষাও ভয়ানক। বালক স্কুলে গেলে সে প্রথম শিখিল-তাহার বাপ একটা মূর্খ, দ্বিতীয়ত তাহার পিতামহ একটা পাগল, তৃতীয়ত প্রাচীন আচার্যগণ সব ভণ্ড, আর চতুর্থত শাস্ত্র সব মিথ্যা। ষোল বৎসর বয়স হইবার পূর্বেই সে একটা প্রাণহীন, মেরুদণ্ডহীন 'না'-এর সমষ্টি হইয়া দাঁড়ায়। আর ইহার ফল এই দাঁড়াইয়াছে যে, এইরূপ পঞ্চাশ বৎসরের শিক্ষায় ভারতের তিন প্রেসিডেন্সির ভিতরে একটা লোকও জন্মাইল না। মৌলিকভাবপূর্ণ যে-কেহ এখানে জন্মাইয়াছে, সে এ দেশে নয়, অন্যত্র শিক্ষালাভ করিয়াছে অথবা তাহারা আপনাদিগকে কুসংস্কার হইতে মুক্ত করিবার জন্য প্রাচীন শিক্ষাপ্রণালী অবলম্বন করিয়াছে।
মাথায় কতকগুলি ভাব ঢুকাইয়া সারাজীবন হজম হইল না-অসম্বদ্ধভাবে মাথায় ঘুরিতে লাগিল-ইহাকে শিক্ষা বলে না।
কয়েকটা পাস দিলে বা ভাল বক্তৃতা করতে পারলেই তোদের কাছে শিক্ষিত হলো! যে-বিদ্যার উন্মেষে ইতর-সাধারণকে জীবনসংগ্রামে সমর্থ করতে পারা যায় না, যাতে মানুষের চরিত্রবল, পরার্থ তৎপরতা, সিংহসাহসিকতা এনে দেয় না, সে কি আবার শিক্ষা? যে-শিক্ষায় জীবনে নিজের পায়ের উপর দাঁড়াতে পারা যায়, সেই হচ্ছে শিক্ষা। আজকালকার এই-সব স্কুল-কলেজে পড়ে তোরা কেমন একপ্রকারের একটা dyspeptic (অজীর্ণরোগাক্রান্ত) জাত তৈরি হচ্ছিস। কেবল machine (কল)-এর মতো খাটছিস, আর 'জায়স্ব শ্রিয়স্ব' এই বাক্যের সাক্ষিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছিস। এই যে চাষাভুষা, মুচি-মুদ্দাফরাশ-এদের কর্মতৎপরতা ও আত্মনিষ্ঠা তোদের অনেকের চেয়ে ঢের বেশি। এরা নীরবে চিরকাল কাজ করে যাচ্ছে, দেশের ধনধান্য উৎপন্ন করছে, মুখে কথাটি নেই। এরা শীঘ্রই তোদের ওপরে উঠে যাবে।...
বর্তমান শিক্ষায় তোদের বাহ্যিক হালচাল বদলে দিচ্ছে, অথচ নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির অভাবে তোদের অর্থাগমের উপায় হচ্ছে না।
তোরা ভাবছিস-আমরা শিক্ষিত। কি ছাই মাথা-মুণ্ডু শিখেছিস? কতকগুলি পরের কথা ভাষান্তরে মুখস্থ করে মাথার ভেতর পুরে পাস করে ভাবছিস-আমরা শিক্ষিত। ছ্যাঃ! ছ্যাঃ! এর নাম আবার শিক্ষা!! তোদের শিক্ষার উদ্দেশ্য কি? হয় কেরানিগিরি, না হয় একটা দুষ্ট উকিল হওয়া, না হয় বড়জোর কেরানিগিরিরই রূপান্তর একটা ডেপুটিগিরি চাকরি-এই তো? এতে তোদেরই বা কি হলো, আর দেশেরই বা কি হলো? একবার চোখ খুলে দেখ, স্বর্ণপ্রসূ ভারতভূমিতে অন্নের জন্য কি হাহাকারটা উঠেছে! তোদের ওই শিক্ষায় সে অভাব পূর্ণ হবে কি? কখনও নয়। পাশ্চাত্য-বিজ্ঞানসহায়ে মাটি খুঁড়তে লেগে যা, অন্নের সংস্থান কর-চাকরি গুখুরি করে নয়, নিজের চেষ্টায় পাশ্চাত্য-বিজ্ঞানসহায়ে নিত্য নতুন পন্থা আবিষ্কার করে। ওই অন্নবস্ত্রের সংস্থান করবার জন্যই আমি লোকগুলোকে রজোগুণতৎপর হতে উপদেশ দিই।
শিক্ষার বিস্তার, জ্ঞানের উন্মেষ-এ সব না হলে দেশের উন্নতি কি করে হবে?... সাধারণের ভেতর আর মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার না হলে কিছু হবার জো নেই।... পুরাণ, ইতিহাস, গৃহকার্য, শিল্প, ঘরকন্নার নিয়ম ও আদর্শ চরিত্র গঠনের সহায়ক নীতিগুলি বর্তমান বিজ্ঞানের সহায়তায় শিক্ষা দিতে হবে। ছাত্রীদের ধর্মপরায়ণ ও নীতিপরায়ণ করতে হবে।...
যাদের মা শিক্ষিতা ও নীতিপরায়ণা হন, তাদের ঘরেই বড়লোক জন্মায়। মেয়েদের তোরা এখন যেন কতকগুলি manufacturing machines (উৎপাদন-যন্ত্র) করে তুলেছিস। রাম রাম। এই কি তোদের শিক্ষার ফল হলো? মেয়েদের আগে তুলতে হবে, mass-কে (জনসাধারণকে) জাগাতে হবে, তবে তো দেশের কল্যাণ-ভারতের কল্যাণ।
যে রকম শিক্ষা চলিতেছে, সে রকম নয়। সত্যিকার কিছু শিক্ষা চাই। খালি বই পড়া শিক্ষা হইলে চলিবে না। যাহাতে চরিত্রগঠন হয়, মনের শক্তি বাড়ে, বুদ্ধির বিকাশ হয়, নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াইতে পারে-এই রকম শিক্ষা চাই। ওই
রকম শিক্ষা পাইলে মেয়েদের সমস্যা মেয়েরা আপনারাই সমাধান করিবে।...
বীরত্বের ভাবটাও দরকার। এ সময়ে তাহাদের মধ্যেও আত্মরক্ষা শিক্ষা করা দরকার হইয়া পড়িয়াছে। দেখ দেখি, ঝাঁসির রানী কেমন ছিলেন!
ধর্ম, শিল্প, বিজ্ঞান, ঘরকন্না, রন্ধন, সেলাই, শরীর-পালন-এ-সব বিষয়ের স্থূল মর্মগুলিই মেয়েদের শেখানো উচিত।
কেবল শিক্ষা, শিক্ষা, শিক্ষা! ইউরোপের বহু নগর পর্যটন করিয়া তাহাদের দরিদ্রদেরও সুখস্বাচ্ছন্দ্য ও বিদ্যা দেখিয়া আমাদের গরিবদের কথা মনে পড়ায় অশ্রু বিসর্জন করিতাম। কেন এই পার্থক্য হইল?-শিক্ষা, জবাব পাইলাম।
শিক্ষাবলে আত্মপ্রত্যয়, আত্মপ্রত্যয়বলে অন্তর্নিহিত ব্রহ্ম জাগিয়া উঠিতেছেন; আর আমাদের ক্রমেই তিনি সঙ্কুচিত হইতেছেন।
আমাদের বালকদের যে বিদ্যাশিক্ষা হইতেছে, তাও একান্ত negative (নেতিভাবপূর্ণ)-স্কুলবালক কিছুই শেখে না, কেবল সব ভেঙে চুরে যায়-ফল 'শ্রদ্ধাহীনত্ব'।
ধর্মপ্রচারের সঙ্গে সঙ্গেই লৌকিক বিদ্যা ও অন্যান্য বিদ্যা যাহা কিছু আবশ্যক তাহা আপনিই আসিবে। কিন্তু যদি ধর্মকে বাদ দিয়া লৌকিক জ্ঞানবিস্তারের চেষ্টা কর, তবে তোমাদিগকে স্পষ্টই বলিতেছি, ভারতে তোমাদের এই চেষ্টা বৃথা হইবে-লোকের হৃদয়ে উহা প্রভাব বিস্তার করিবে না।
সত্যিকার জাতি, যাহারা কুটিরে বাস করে, তাহারা তাহাদের ব্যক্তিত্ব ও মনুষ্যত্ব ভুলিয়া গিয়াছে। হিন্দু, মুসলমান, খ্রীস্টান-প্রত্যেকের পায়ের তলায় পিষ্ট হইতে হইতে তাহাদের মনে এখন এই ধারণা জন্মিয়াছে যে, ধনীর পদতলে নিষ্পেষিত হইবার জন্যই তাহাদের জন্ম। তাহাদের লুপ্ত ব্যক্তিত্ববোধ আবার ফিরাইয়া দিতে হইবে। তাহাদিগকে শিক্ষিত করিতে হইবে।
যদি আমরা গ্রামে গ্রামে অবৈতনিক বিদ্যালয় খুলিতে সমর্থও হই, তবু দরিদ্র ঘরের ছেলেরা সে-সব স্কুলে পড়িতে আসিবে না; তাহারা বরং ওই সময় জীবিকার্জনের জন্য হাল-চাষ করিতে বাহির হইয়া পড়িবে। আমাদের না আছে প্রচুর অর্থ, না আছে ইহাদিগকে শিক্ষাগ্রহণে বাধ্য করিবার ক্ষমতা। সুতরাং সমস্যাটি নৈরাশ্যজনক বলিয়াই মনে হয়। কিন্তু আমি ইহারই মধ্যে একটি পথ বাহির করিয়াছি। তাহা এই-যদি পর্বত মহম্মদের নিকট না-ই আসে, তবে মহম্মদকেই পর্বতের নিকট যাইতে হইবে। দরিদ্রলোকেরা যদি শিক্ষার নিকট
পৌঁছিতে না পারে (অর্থাৎ নিজেরা শিক্ষালাভে তৎপর না হয়) তবে শিক্ষাকেই চাষীর লাঙ্গলের কাছে, মজুরের কারখানায় এবং অন্যত্র সব স্থানে যাইতে হইবে।
যদি প্রকৃতিতে বৈষম্য থাকে তথাপি সকলের পক্ষে সমান সুবিধা থাকা উচিত। কিন্তু যদি কাহাকেও অধিক, কাহাকেও কম সুবিধা দিতেই হয়, তবে বলবান অপেক্ষা দুর্বলকে অধিক সুবিধা দিতে হইবে। অর্থাৎ চণ্ডালের বিদ্যাশিক্ষা যত আবশ্যক, ব্রাহ্মণের তত নহে। যদি ব্রাহ্মণের ছেলের একজন শিক্ষকের আবশ্যক, চণ্ডালের ছেলের দশজনের আবশ্যক। কারণ যাহাকে প্রকৃতি স্বাভাবিকভাবে প্রখর করেন নাই, তাহাকে অধিক সাহায্য করিতে হইবে। তেলা মাথায় তেল দেওয়া পাগলের কর্ম।
েশাবলী
্বামী_বিবেকানন্দ
🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏
www.facebook.com/rkmdhaka