26/02/2026
গোপথ ব্রাহ্মণ
বৈদিক সাহিত্যের বিশাল ব্যাখ্যাধর্মী ধারায় গোপথ ব্রাহ্মণ একটি বিশিষ্ট ও গৌরবময় স্থান অধিকার করে আছে । এটি অথর্ববেদ-এর পৈপ্পলাদ শাখাভুক্ত ব্রাহ্মণ গ্রন্থ । ব্রাহ্মণ সাহিত্যের স্বভাব হলো কর্মের অন্তর্নিহিত কারণ নির্দেশ করা, বিধানের তাৎপর্য তুলে ধরা , মন্ত্রার্থকে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা এবং আচারের যুক্তিসংগত প্রতিষ্ঠা করা । গোপথ ব্রাহ্মণ এই প্রাচীন ব্যাখ্যাপরম্পরাকে অনুসরণ করে যাজ্ঞিক প্রক্রিয়ার গভীর তাৎপর্য, ধর্মব্যবস্থার ভিত্তি এবং মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ সুস্পষ্টভাবে নিরূপণ করেছে ।
এই গ্রন্থে ওঁকারতত্ত্বের বিশদ আলোচনা , ব্রহ্মচার্যধর্মের মহিমা , আচার্যের কর্তব্যনিষ্ঠা, রাষ্ট্ররক্ষার নীতি, পিতৃসেবার আদর্শ এবং সমাজসংগঠনের সূক্ষ্ম দিকগুলো একটি সমন্বিত দর্শনের আলোকে উপস্থাপিত হয়েছে । অতএব গোপথ ব্রাহ্মণ কেবল আচারবিধির নির্দেশিকা নয় এটি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের স্থায়ী কল্যাণসাধনের এক প্রজ্ঞাময় শাস্ত্রীয় ভিত্তিপ্রস্তর ।
📖 গঠন ও আকার
গোপথ ব্রাহ্মণকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে -
পূর্বভাগ (পূর্ব গোপথ)
উত্তরভাগ (উত্তর গোপথ)
সমগ্র গ্রন্থে মোট পাঁচটি প্রপাঠক বা অধ্যায় রয়েছে । পূর্বভাগে মোট ১৩৫টি কাণ্ডিক এবং উত্তরভাগে ১২৩টি কাণ্ডিক আছে । ভাষা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও স্থানে স্থানে প্রাচীন ও জটিল রূপ পরিলক্ষিত হয় ।
বেদের গুপ্ত তত্ত্ব উন্মোচনে ব্রাহ্মণ গ্রন্থসমূহের ভূমিকা অতুলনীয় । কারণ হেতু, ন্যায়, ন্যায্যতা, প্রশংসা, বিধান এবং ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের মাধ্যমে এই গ্রন্থসমূহ মন্ত্রার্থকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে । ফলে আধ্যাত্মিক , আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক স্তরের গভীর তাৎপর্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে । পৌমানি প্রসঙ্গে বহু অধ্যায়ে পাঠকবৃন্দ ব্রাহ্মণ গ্রন্থের মাহাত্ম্যের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন । এখানে গোপথ ব্রাহ্মণ থেকে কিছু আলোকরশ্মি নিয়ে বেদমর্মজ্ঞদের সুখ-উপভোগার্থ উপস্থাপন করা হচ্ছে ।
গোপথ ব্রাহ্মণের পরিচয়
গোপথ ব্রাহ্মণ অথর্ববেদের পৈপ্পলাদ শাখার অন্তর্গত । অথর্ববেদের নয়টি শাখার মধ্যে সৌভাগ্যক্রমে বর্তমানে মাত্র দুটি শাখা শৌনক ও পৈপ্পলাদ উপলব্ধ । অবশিষ্ট সাতটি শাখা অবহেলা ও বিদেশি আক্রমণের ফলে বিলুপ্ত হয়েছে । এর ফলে বিপুল জ্ঞানভাণ্ডার আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে । বর্তমানে যে অংশটুকু সংরক্ষিত আছে, তাও অল্পসংখ্যক বেদবিশারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ।
ঋষিদের নির্দেশ ছিল জ্ঞানের অন্বেষকদের চার বেদ ও ছয় বেদা ঙ্গসহ সম্যক অধ্যয়ন করা আবশ্যক । শাস্ত্রে উল্লেখ আছে -
“যত্র রাষ্ট্রে জনপদে অথর্বশাস্ত্রপারগঃ।
নিবসন্তি তত্র রাষ্ট্রং বর্ধতে নৃপবম্॥” (অথর্বপরিশিষ্ট ৪.৬.১)
অর্থাৎ , যে রাষ্ট্রে অথর্ববেদে পারদর্শী ব্যক্তিরা বসবাস করেন, সে রাষ্ট্র উন্নতি লাভ করে ও বিপদমুক্ত থাকে ।
অথর্ববেদে নানাবিধ জ্ঞান-বিজ্ঞান সন্নিবেশিত রয়েছে, যার বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা গোপথ ব্রাহ্মণে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে ।
গোপথ নামের ব্যাখ্যা
ঋষি গোপথ কর্তৃক রচিত হওয়ায় এ ব্রাহ্মণকে গোপথ ব্রাহ্মণ বলা হয় । বৈদিক সাহিত্যে 'গো' শব্দের বহু অর্থ রয়েছে - গবেষণা, পৃথিবী, ভূমি, রশ্মি, ইন্দ্রিয়, গাভী, দুধ, সুখ ইত্যাদি । তাদের পথ বা গতিকে বলা হয় গোপথ । তাই গোপথ ব্রাহ্মণ শুধু ভৌতিক রাষ্ট্র-সুখের পথই নয়, বরং অমৃতত্বের পথও নির্দেশ করে । গ্রন্থের সূচনাতেই ওঁকার-এর মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে । এখানে ওঁ-কে চার মাত্রা বিশিষ্ট রূপে ব্যাখ্যা করে চার আত্মার সঙ্গে তার সম্পর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে । এমনকি ওঁ থেকেই সৃষ্টির উৎপত্তি হয়েছে বলে উল্লেখ আছে যা গভীর গবেষণার বিষয় । আধুনিক বিজ্ঞানও ক্রমে এসব সত্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ।
চার্য ও কর্তব্য
দ্বিতীয় অধ্যায়ে (চার্য) আচার্যের মহিমা , তার নিয়ম ও কর্তব্য বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে । আচার্য তপোবল, সংযম, অধ্যবসায় ও কর্তব্যনিষ্ঠার দ্বারা তিন লোকের কল্যাণ সাধন করেন । রাজাও আচার্যের নির্দেশে রাষ্ট্র পরিচালনা ও রক্ষা করে । গোপথ ব্রাহ্মণের চার্য-সংক্রান্ত শিক্ষা ছাত্রজীবন ও সমাজকে সুসংস্কৃত, শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং ভক্তিপূর্ণ করে গড়ে তুলতে পারে ।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টান্ত
এখানে বহু বৈজ্ঞানিক সত্যও প্রকাশিত হয়েছে । যেমন গোপথ ব্রাহ্মণ (উত্তরভাগ ৪।১০)-এ লেখা আছে:
'পৃথিবী ঘোরে, সূর্য কখনো অস্ত যায় না ; পৃথিবী ঘুরতে থাকায় সূর্য আড়াল হয়' । এই সত্য আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কারের বহু হাজার বছর আগে ঋষিরা উপলব্ধি করেছিলেন । এতে আমাদের গৌরব বৃদ্ধি পায় ।
সামাজিক শিক্ষা
গোপথ ব্রাহ্মণ বিভিন্ন স্থানে যোগ্য ঋত্বিক যজমান , পরিবার ও সমাজের কর্তব্য শিক্ষা দিয়েছে । যেমন বলা হয়েছে -
' যদি ঋত্বিকগণ শক্তিশালী , সংযত ও যোগ্য না হন, তবে যজমানও অকেজো হয়ে যায়, যেমন ভাঙা ঘড়ায় পানি ভরে কোনো ফল হয় না । '
আবার পিতৃসেবা প্রসঙ্গে গোপথকার লিখেছেন -
আমরা শৈশবে পিতৃ-মাতার ওপর নির্ভর করে বড় হয়েছি ; এখন আমরা যখন যুবক হয়েছি , তখন আমাদের কর্তব্য পিতৃ-মাতাকে ভরণ-পোষণ করা ।ও। (গো.পূ.৪।৬)
এভাবে গোপথ ব্রাহ্মণের প্রতিটি বাণী মানবজীবন ও সমাজ গঠনে কার্যকর । প্রয়োজন কেবল ঋষিদের এই জ্ঞান-বিজ্ঞানকে আত্মস্থ ও অনুসরণ করা । বৈদিক সাহিত্যের জ্ঞান গ্রহণ ও পালন করলে আমরা সকলেই জাতির বাহক ও সংরক্ষক হয়ে উঠতে পারব ।
মানবকে প্রকৃত অর্থে মানব রূপে গড়ে তোলার কৃতিত্ব সেই উৎকৃষ্ট জীবন-মূল্যগুলিরই, যার দ্বারা সে নিজের সাত্ত্বিক জীবন যাপন করে থাকে । প্রকৃতপক্ষে কোনো জাতির মর্যাদা নিরূপণ হয় সেখানকার জনগণের আচার-আচরণমূলক মূল্যবোধের ভিত্তিতে । প্রত্যেক জাতির একটি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি থাকে , যার সৃষ্টি হয় সেই মূল্যবোধের ভিত্তিতে, যা তাদের মহাপুরুষেরা নিজেদের জীবনে ধারণ করেছিলেন । বাস্তবিকই, সেই মূল্যবোধের মাধ্যমেই তাদের চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গৌরবময় হয়ে অক্ষরে অক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়েছে । কোনো দেশের ভৌতিক অগ্রগতিরও গুরুত্ব আছে, কিন্তু ভৌতিক অগ্রগতিকে সে দেশের দেহ বলা যেতে পারে, আর তাতে প্রাণসঞ্চার করে জীবনমূল্যই ।
সংস্কৃত সাহিত্য বিশ্বে সর্বাধিক সমৃদ্ধ সাহিত্য । এতে মানবজীবনের অভ্যুদয় ও নিঃশ্রেয়স সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়ের পূর্ণ বর্ণনা রয়েছে । এতে জীবনের প্রতিটি দিক, পুরুষার্থ চতুষ্টয় এবং রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, ভৌতিক ও আধ্যাত্মিক জগতের নানা ঘটনা ও তত্ত্বের বিস্তৃত বর্ণনা পাওয়া যায় । মানবমনের উন্নত কল্পনা, হৃদয়ের অনুভূতির গভীরতা, ব্যাপকতা এবং বার্তাবাহিতার দিক থেকে সংস্কৃত সাহিত্য অনুপম ও অতুলনীয় । মহৎ মহিমায় অলংকৃত সংস্কৃত সাহিত্য অধ্যয়ন, চিন্তন ও মনন গৌরবের বিষয়। ভারতীয় আধ্যাত্মিক জীবন ও সাংস্কৃতিক সমুন্নতির প্রকাশক বেদ যুগযুগ ধরে বিশ্বজুড়ে জ্ঞানপিপাসু মানবমনে তাদের সুরেলা ধ্বনি, আবেগময়তা, পরিশীলিত ভাষা এবং ছন্দের শ্রুতিমধুর তরঙ্গে রসোৎসার ঘটিয়ে আসছে ।
বেদ সাক্ষাত্কৃতধর্মা ঋষিদের নিরন্তর সাধনা ও তপস্যার দ্বারা প্রত্যক্ষকৃত নির্মল জ্ঞানরাশি বেদই। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ত্রিকালিক স্থূল-সূক্ষ্ম, নিকট-দূর সমস্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞানদানকারী বেদই হল চিরন্তন চক্ষু । বেদে সমগ্র জ্ঞানবিজ্ঞান, পরা ও অপরা । উভয় বিদ্যার আলোকধারা বহমান । বেদে সর্বত্র নৈতিক মূল্যের বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় । প্রথমে যদি "মূল্য" শব্দকে সংজ্ঞায়িত করি, তবে মূল্য হলো এক বিমূর্ত গুণ, যা কোনো বস্তুর মধ্যে নিহিত থাকে এবং তার গুরুত্বকে নির্দেশ করে । বৈদিক ধর্মের ধর্মীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত যে নীতি-নিয়ম ও বিধি-বিধান রয়েছে, তার বিস্তৃত বর্ণনা পাওয়া যায় ব্রাহ্মণ গ্রন্থে । এদের মধ্যে যেমন পার্থিব ক্রিয়াকলাপের বর্ণনা রয়েছে , তেমনি গভীর আধ্যাত্মিক চিন্তাও আছে । ব্রাহ্মণ গ্রন্থ অধ্যয়নের প্রতি বিদ্বানদের প্রবল আগ্রহ এর ব্যবহারিক গুরুত্বের প্রমাণ ।
বৈদিক সাহিত্যের ধারাবাহিকতায় অথর্ববেদের গোপথ ব্রাহ্মণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ । যেমন ব্রাহ্মণ গ্রন্থগুলির মূল লক্ষ্য হলো যজ্ঞসম্পন্ন করা এবং যাজ্ঞিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞানের রহস্য উন্মোচন করা, তেমনি এই গ্রন্থেরও প্রধান প্রতিপাদ্য যাজ্ঞিক প্রক্রিয়াই । গোপথ ব্রাহ্মণের পূর্বভাগের দ্বিতীয় প্রপাঠকের শুরুতেই ব্রহ্মচারীর গুরুত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে বিশেষ আলোচনা আছে । "ব্রহ্ম" শব্দ থেকে বেদ , তপস্যা এবং সত্যের বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করাই ছাত্রের দায়িত্ব । উপনয়ন-সংস্কারের মাধ্যমে গুরু-সান্নিধ্যে থেকে ভিক্ষারূপে সমিধ আহরণ, অগ্নি-সেবা ও শ্রমের দ্বারা ছাত্র নিজের মধ্যে উজ্জ্বল ও স্বনির্ভর জীবনের ভিত্তি স্থাপন করত ।
অথর্ববেদ (১১.৫.৯)-এ বলা হয়েছে যে আদর্শ ছাত্র বেদের জ্ঞান, পুরুষার্থ, লোকহিত, প্রজাপালক রাজা ও বিরাট পরমেশ্বরের গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে । এই মন্ত্র থেকে বোঝা যায় যে ব্রহ্মচারীর উপর জ্ঞানার্জন ও সর্বাঙ্গীণ উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে জাতিনির্মাণ ও লোকহিতের গুরুদায়িত্বও ন্যস্ত ছিল ।
ব্রহ্মচার্য সূক্ত বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শ্রীপাদ দামোদর সাতওলেকর বলেছেন - ব্রহ্মচারী সেই ব্যক্তি, যে "ব্রহ্ম" অর্থাৎ বড় হওয়ার জন্য "চারী" অর্থাৎ পুরুষার্থ সাধন করে । ব্রহ্ম শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, গুরুত্ব, মহত্ত্ব, জ্ঞান, অমৃত ইত্যাদি; আর চারী শব্দের অর্থ আচরণ করা, নিয়মমাফিক সঠিক ব্যবহার করা । এই দুই শব্দ থেকে প্রকাশ পায় উন্নতির জন্য চেষ্টা করা, সর্বদিক থেকে শ্রেষ্ঠ হওয়ার সাধনা করা, সত্য ও বিশুদ্ধ জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য যজ্ঞ করা, অমরত্বলাভের জন্য সর্বোচ্চ সাধনা করা এই হলো "ব্রহ্মচারী" শব্দের মূল ভাব ।
ব্রহ্মচারী সৃষ্টির সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করে, প্রতিটি বেদসূক্ত অধ্যয়ন করে এবং দেবতাদের গুণ নিজের মধ্যে ধারণের চেষ্টা করে। দেবতাদের মধ্যে যেহেতু পরমাত্মার নানা গুণ প্রকাশিত, তাই সে ঐ গুণগুলিকেই নিজের মধ্যে ক্রমে বৃদ্ধি করে । শতপথ ব্রাহ্মণ এ একই সত্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে-"যৎ দেবা আকুর্বন্ত তৎ করবাণি" অর্থাৎ, যেটা দেবতারা করেছেন, সেটাই আমি করব ।
অথর্ববেদের মতে- "ব্রহ্মচার্যেণ তপসা রাজা রাষ্ট্র বিরক্ষতি" অর্থাৎ ব্রহ্মচার্যের তপস্যার দ্বারাই রাজা রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে সক্ষম হয় । আবার সেখানে বলা হয়েছে- "ব্রহ্মচার্যেণ কন্যা যুবানং বিন্দতে পতিম্" অর্থাৎ ব্রহ্মচার্যের দ্বারাই কন্যা তরুণ স্বামীকে লাভ করে । গোপথ ব্রাহ্মণের দ্বিতীয় প্রপাঠকে প্রাতঃসবনে ইন্দ্রাদির জন্য, মধ্যাহ্নসবনে ইন্দ্রের জন্য এবং তৃতীয় সবনে ইন্দ্র ও ঋভুদের জন্য হব্য প্রদানের বিধান আছে । এ প্রসঙ্গে গোপথ ব্রাহ্মণ বলেছে- “বিচক্ষণবতীং বাচং ভাষন্তে … প্রাজাপত্যং সত্যং বদন্তি । এতৎ মনুষ্যেষু সত্যং যৎ চক্ষুঃ ।” অর্থাৎ, ব্রহ্মযাজকেরা জ্ঞানপূর্ণ ও পূজনীয় শব্দযুক্ত বাণী উচ্চারণ করেন প্রজাপতিও পূজনীয় শব্দে বাণী উচ্চারণ করেন ; তাঁরা সত্য বলেন ।
সমগ্র আলোচনার আলোকে বলা যায়, গোপথ ব্রাহ্মণ বৈদিক জ্ঞানের এক গভীর ও সমন্বিত ব্যাখ্যা । এখানে যজ্ঞের আচার, ব্রহ্মচার্যের সাধনা, রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার নীতি - সবকিছু এক সুসংহত দর্শনে যুক্ত হয়েছে । গ্রন্থটি স্পষ্ট করে যে, বৈদিক জীবন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয় তা জ্ঞান, সংযম, কর্তব্য ও সত্যনিষ্ঠার উপর প্রতিষ্ঠিত এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ।
অতঃ গোপথ ব্রাহ্মণ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যেখানে জ্ঞান ও আচার একত্রিত হয়, সেখানেই ব্যক্তি ও সমাজের প্রকৃত কল্যাণ সাধিত হয় ।
বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক ।