শ্রী ইমন চন্দ্র পণ্ডিত

শ্রী ইমন চন্দ্র পণ্ডিত মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র : 🕉️

ও৩ম্ এ্যম্বকং য়জামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।
উর্বারুকমিব বন্ধনান্মৃত্যোমুক্ষীয় মামৃতাৎ ||

🕉️ ( ঋগ্বেদ ৭/৫৯/১২ ) 🕉️

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো...🌿☀️প্রকৃতির সবুজ আর বাঙালির লাল-সাদা সাজে সেজে উঠুক নতুন বছর।দেশের সকল স্তরের মানুষকে জানাই ১লা ...
14/04/2026

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো...🌿☀️

প্রকৃতির সবুজ আর বাঙালির লাল-সাদা সাজে সেজে উঠুক নতুন বছর।
দেশের সকল স্তরের মানুষকে জানাই ১লা বৈশাখের অভিনন্দন।

নতুন বছরের প্রতিটি ভোর হোক সম্ভাবনাময়। শুভ নববর্ষ! 🌸

#শুভ_নববর্ষ #বাঙালির_উৎসব

প্রেম-ভালোবাসা/ রিলেশনশিপ অনুমোদিত❓সনাতন ধর্মে কী বিবাহের পূর্বে প্রেম-ভালোবাসা/ রিলেশনশিপ অনুমোদিত❓✅উত্তরঃ প্রশ্নটা একট...
09/04/2026

প্রেম-ভালোবাসা/ রিলেশনশিপ অনুমোদিত❓
সনাতন ধর্মে কী বিবাহের পূর্বে প্রেম-ভালোবাসা/ রিলেশনশিপ অনুমোদিত❓

✅উত্তরঃ প্রশ্নটা একটু বিচিত্র। উত্তর যদিও সবার জানা তবুও কিছু ক্লিয়ারেন্স থাকা ভালো।

রিলেশনশিপ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, সেটা আগে ক্লিয়ার করে নেওয়া ভালো। সনাতন ধর্মানুসারে ছেলে-মেয়ে ব্রহ্মচর্যাশ্রম ও বয়োপ্রাপ্ত হবার পরে নিজেদের পছন্দমত পতি-পত্নীকে বেছে নিয়ে পরিবারের
সম্মতিক্রমে বিয়ে করতে পারে।এই বিষয়ে প্রমাণ 👇

🍂 ও৩ম্ ব্রহ্মচর্য়েণ কন্যা য়ুবানং বিন্দতে পতিম্।
অনড্বান্ব্রহ্মচর্য়েনাশ্বো ঘাসং জিগীর্তি।"

[অথর্ব০ ১১/৫/১৮]

🍂ভাবার্থঃ কন্যা ব্রহ্মচর্য দ্বারা পূর্ণ বিদুষী আর যুবতী হয়ে পূর্ণ ব্রহ্মচারী বিদ্বান যুবা পুরুষের সাথে বিবাহ করবে আর যেরূপ দামড়া -ছিন্নমুষ্ক ষাঁড়, ঘোড়া আদি বলবান আর শীঘ্রগামী পশু ঘাস তৃণ ভক্ষণ করে ব্রহ্মচর্য নিয়ম দ্বারা সময়ে বলবান সন্তান উৎপন্ন করে, ঐরূপই মনুষ্য পূর্ণ ব্রহ্মচারী, বিদ্বান যুবা হয়ে নিজের সদৃশ্য কন্যার বিবাহ করে নিয়ম পূর্বক বলবান, সুশীল সন্তান উৎপন্ন করবে।।১৮।।

🍂কুমার ধর্মপূর্বক আচরণকৃত ব্রহ্মচর্যের দ্বারা পূর্ণ বিদ্যা প্রাপ্ত করে, স্বয়ং ধার্মিক হয়ে পূর্ণ যুবাবস্থা প্রাপ্ত হওয়ার পর, কন্যাকে পুরুষ আর পুরুষকে কন্যা পরীক্ষা করে, অত্যন্ত প্রেমের কারণে আকৃষ্ট হৃদয়যুক্ত হয়ে, নিজের ইচ্ছানুসারে বিবাহ করে, ধর্মের দ্বারা সন্তান উৎপন্ন করে আর সেবার দ্বারা মাতাপিতাকে সন্তুষ্ট করে আপ্ত বিদ্বানদের পথ নিরন্তর অনুসরণ করবে । যেভাবে সরল ধর্ম-মার্গের স্থাপনা করবে সেভাবে ভূমি, জল এবং অন্তরিক্ষের মার্গেরও নির্মাণ করবে । [যজুর্বেদ ভাবার্থ ১৫/৫৩]

🌿এই বেছে নেবার জন্য পরিচিত হবার স্বাধীনতাটুকু হিন্দুদের ধর্মমতে আছে। কিন্তু সেই বেছে নেবার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে শিক্ষাজীবন শেষে একটা মানসিক পরিপক্বতা অর্জনের পরই। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বল্লে সেটা ব্রহ্মচর্য্যের পর এই বিষয়ে প্রমাণ 👇

🍂য়ুবা সুবাসাঃ পরিবীত আগাৎ স উ শ্রেয়ান ভবতি জায়মানঃ । তং ধীরাসঃ কবয় উন্নয়ন্তি স্বাধ্যো ৩ মনসা দেবয়ন্তঃ।। [ঋগ্বেদ ৩/৮/৪]

🍂অনুবাদঃ যে পুরুষ সর্বতোভাবে যজ্ঞোপবীত ধারণ ও ব্রহ্মচর্য সেবন দ্বারা বিদ্বান্ এবং সু শিক্ষিত হইয়া , সুন্দর বস্ত্র পরিধান পূর্বক , ব্রহ্মচর্য্যযুক্ত পূর্ণ যৌবন প্রাপ্ত হইয়া বিদ্যাগ্রহণ করিয়া গৃহাশ্রমে প্রবেশ করেন , তিনিই দ্বিতীয় বিদ্যাজন্মে প্রসিদ্ধি লাভ করিয়া অতিশয় শোভাযুক্ত ও মঙ্গলকারী হন।উত্তম ধ্যানযুক্ত বিজ্ঞান দ্বারা বিদ্বানেরা সেই পুরুষকে উন্নতিশীল করিয়া প্রতিষ্ঠিত করেন । আর যারা ব্রাহ্মচর্য গ্রহণ না করিয়া বাল্যাবস্থায় বিবাহ করে তাহারা নষ্ট – ভ্ৰষ্ট হইয়া বিদ্বান্ ব্যাক্তিদের মধ্যে সম্মান - লাভ করেনা ॥

🍂 সুখ প্রাপ্তির ইচ্ছা পোষণকারী পুরুষ এবং স্ত্রীদের ধর্মের সাথে আচরিত ব্রহ্মচর্যের দ্বারা পূর্ণ বিদ্যা প্রাপ্ত করে যুবাবস্থা আসার পর নিজের সদৃশতার অনুসারেই বিবাহ করা উচিত অথবা ব্রহ্মচর্য অবস্থাতেই অবস্থান করে নিত্য স্ত্রী-পুরুষদের উত্তম শিক্ষা দেওয়া উচিত । সমান গুণ-কর্ম-স্বভাব ছাড়া গৃহাশ্রমকে ধারণ করে কেউ কোনসুখ অথবা উত্তম সন্তান প্রাপ্ত করতে পারেনা, এজন্য এই উপায়ে বিবাহ করা উচিত ।

[ঋগ্বেদ ভাবার্থ ১/১১২/১৯]

তবে একইসাথে সনাতন ধর্ম বিয়ের পূর্বে বা বিবাহ বহির্ভূত যেকোনো প্রকার শারীরিক সম্পর্ককে অনুমোদন করে না। সেই ব্যাভিচারিতা চরিত্রহীনতা কারো মধ্যে থাকলে সে ধর্মমতে মহাপাপী। সে তার নিজের প্রতি, পরিবার, বংশ, সম্প্রদায়ের প্রতি অমর্যাদাকর।

🌿বৈদিক ধর্মালম্বীদের জন্য সাতটি মহাপাপ বর্ণনা করেছে পবিত্র বেদ-
সপ্ত মর্যাদাঃ কবয়স্ততক্ষুস্তাসামেকামিদভ্যংহুরো গাত। [ঋগ্বেদ ১০/৫/৬]
"সপ্ত হল সেই মর্যাদাসমূহ যা ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করে দেয়। যে এই নিষেধগুলোর একটিও লঙ্ঘন করে তবে সে পাপী হয়।" ব্যাভিচার করা এই পাপের অন্যতম।

আর নিরুক্ত ৬।২৭ অনুসারে সপ্তমহা-অপরাধের ২য়টিই হল ব্যাভিচার।

ঋগ্বেদ [১০।৯৫।৪] এ — ব্যাভিচারকে দণ্ডনীয় বলা হয়েছে।

[মনুস্মৃতি ৫।৯০] এ — কামাচারী ও একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌনসংসর্গ করা ব্যক্তিকে মহাপাতকী বলা হয়েছে।

ব্যভিচারী নরনারী নিজেদের আয়ুনাশ করে [ঋগ্বেদ ১।৯২।১১]
আপস্তম্ভ ধর্মসূত্র ১.৭.২১.৭-৮ এ — অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনকারীকে জাতিচ্যুত করতে বলা হয়েছে।

🌿তবে এসব নোংরামি থেকে দূরে সরে অনেকেই ভবিষ্যত জীবনের জন্য সঙ্গী খুঁজে ভালোবাসেন। তবে সেটা একটা বোধবুদ্ধি হবার পর করা উচিৎ।

"সবাই করছে সুতরাং আমাকেও করতে হবে"- এই ভ্রমে পতিত হওয়া যাবে না। মহাদেব-সতী,কৃষ্ণ-রুক্মিণী, শিব-পার্বতী, রাম-সীতা, নল-দময়ন্তী, কচ-দেবযানী, অম্বা-কাশীরাজ, সংযুক্তা-পৃথ্বীরাজ প্রেমকাহিনীর সমৃদ্ধ শিক্ষণীয় সম্ভার রয়েছে সনাতনীদের ইতিহাসে। তারা কেউ বিবাহের পূর্বেই প্রেমে পড়েছিলেন, কেউ পরে, কেউ প্রেমে সফল, কেউ বিফল - কিন্তু সকলেই মর্যাদা রক্ষা করে পরস্পরকে ভালোবেসেছেন।
পূর্বে ভারতবর্ষে যেসব বাল্যবিবাহ হত তার কমবেশি সিস্টেম ছিল এমন যে পাত্র-পাত্রীর ছোটবেলায়ই পিতা-মাতা বিবাহ ঠিক করে রাখতেন এবং তাদের মোটামুটি বয়োপ্রাপ্তির পরই মেয়ে শ্বশুরবাড়ি যেত। এতে একটা ইমোশনাল ও সোসিয়াল এসিউরিটির ব্যাপার থাকতো৷ ইদানীংকার অকালপক্ব রিলেশনশিপের কথা দেখলে শুনলে এটার কথা মনে পড়ে কেন জানি। পার্থক্য হল ঐক্ষেত্রে মাতা-পিতা খুঁজতো আর এক্ষেত্রে অপ্রাপ্তমনস্ক কিশোর-কিশোরী নিজেরাই খোঁজার চেষ্টা করে। যার ফলাফল ভালো কিছু হয় না অবশ্যই।

সব মিলিয়ে সহজ ভাষায় বৈদিক শাস্ত্রে শিক্ষাজীবন শেষে প্রাপ্তমনস্ক যুবক-যুবতীর নিজ ধর্মপতি/ধর্মপত্নী বেছে নেবার স্বাধীনতা আছে। একইসাথে বিবাহ বহির্ভূত যেকোনো প্রকার শারীরিক সম্পর্ককেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সর্বোপরি পরমেশ্বর আদেশ দিয়েছেন।
অধঃ পশ্যস্ব মোপরি সন্তরাং পাদকৌ হর।

[ঋগ্বেদ ৮।৩৩।১৯] অর্থাৎ হে মানব তোমাদের দৃষ্টি হোক অবনত ও ভদ্র৷
বৈদিক শিক্ষা নিজে ধারণ করুন, সমাজকেও শিক্ষিত করে তুলুন,গড়ে তুলুন অবক্ষয়মুক্ত সমাজব্যাবস্থা।

ও৩ম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ

🪾মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭) : সংবিধানের "২৬ থেকে ৪৭ক"  অনুচ্ছেদ পর্যন্ত ১৮টি "মৌলিক অধিকার" এর কথা বলা হয়েছে। "বিসিএস...
08/04/2026

🪾মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭) :

সংবিধানের "২৬ থেকে ৪৭ক" অনুচ্ছেদ পর্যন্ত ১৮টি
"মৌলিক অধিকার" এর কথা বলা হয়েছে।

"বিসিএস লিখিত পরীক্ষা"

📃 প্রধান অনুচ্ছেদসমূহ একনজরে :

✅ অনুচ্ছেদ ২৬: মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল (মৌলিক অধিকারের শ্রেষ্ঠত্ব)।

✅ অনুচ্ছেদ ২৭: সকলেরই আইনের দৃষ্টিতে সমতা।

✅ অনুচ্ছেদ ২৮: ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ,
নারী-পুরুষ ভেদে বৈষম্য করা যাবে না।

✅ অনুচ্ছেদ ২৯: সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা।

✅ অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার
(অপ্রতিরোধ্য অধিকার)।

✅ অনুচ্ছেদ ৩২: জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার।

✅ অনুচ্ছেদ ৩৩: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষা কবচ।

✅ অনুচ্ছেদ ৩৪: জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধকরণ।

✅ অনুচ্ছেদ ৩৫: বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ।

✅ অনুচ্ছেদ ৩৬-৪০: চলাফেরা, সমাবেশ, সংগঠন,
চিন্তা ও বিবেক এবং পেশার স্বাধীনতা।

✅ অনুচ্ছেদ ৪১: সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা।

✅ অনুচ্ছেদ ৪২: সকলের সম্পত্তির অধিকার।

✅ অনুচ্ছেদ ৪৪: সকলের মৌলিক অধিকার 🌍
বলবৎকরণ (এর মাধ্যমেই হাইকোর্টে রিট করা হয়)।

👷🏻 ৫০ তম বিসিএস ক্যাডার লিখিত পরীক্ষা 📃

06/04/2026

"আজকের লাইভে আমরা আলোচনা করবো ফেসবুকের বহুল আলোচিত 'Meta Verified' বা পেইড ব্লু টিক নিয়ে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন এটি কীভাবে নিতে হয়, এর কাজ কী এবং পরবর্তীতে যদি কেউ সাবস্ক্রিপশন বন্ধ করতে চায় তবে তার উপায় কী?

আজকের লাইভে যা যা থাকছে:
✅ Meta Verified কী এবং এটি পাওয়ার শর্তাবলী।
✅ ব্লু টিক পাওয়ার পর আপনি কী কী বিশেষ সুবিধা পাবেন?
✅ সাবস্ক্রিপশন ফি এবং পেমেন্ট মেথড।
✅ কীভাবে খুব সহজে সাবস্ক্রিপশন Cancel বা Unsubscribe করবেন।
✅ আপনার প্রোফাইলের নিরাপত্তার জন্য এটি কতটা জরুরি?

লাইভটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন এবং আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে সরাসরি কমেন্টে জানান। 💬"

নাম:- তিন্নি দেঠিকানা :- বোয়ালখালী চট্টগ্রাম ভূমিকা:- মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরাম হলেন সনাতন সমাজের প্রাণ পুরুষ । শ্রীরাম...
25/03/2026

নাম:- তিন্নি দে
ঠিকানা :- বোয়ালখালী চট্টগ্রাম

ভূমিকা:- মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরাম হলেন সনাতন সমাজের প্রাণ পুরুষ । শ্রীরাম চন্দ্র ছিলেন আদর্শ সন্তান, আদর্শ ভ্রাতা আদর্শ স্বামী,আদর্শ রাজা।শ্রী রাম চন্দ্রের মধ্যে বিদ্যমান ছিলো ধর্মের দশটি লক্ষণের: 📍 ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয় নিগ্রহ, ধী, বিদ্যা, সত্যম্, অক্রোধ 📍
সমস্ত গুন। রামায়ণে রামের সদগুণ বিষয়ে।

ক্ষমা য়স্মিং স্তপস্ত্যাগঃ সত্যং ধর্ম কৃতজ্ঞতা।
অপ্যহিংসা চ ভূতানাং তমৃতে কা গতির্মম ॥

(বাল্মিকী রামায়ণ অযোধ্যা কার্ড ১২/৩৩)

দশরথ বললেন- হে কৈকেয়ী! যে রামের মধ্যে ক্ষমা, তপ, ত্যাগ, সত্য, ধর্ম ও কৃতজ্ঞতা এবং সর্বপ্রাণীদের জন্য দয়া বর্তমান সেই রাম ব্যতিতে আমার কী গতি হবে?

শ্রীরামের জন্ম:-বাল্মিকী রামায়ণের আদিপর্বের ১৮ নং স্বর্গের ৮-১১ নং শ্লোক অনুযায়ী তিনি দ্বাদশ মাসের(চৈত্র মাসের) শুক্লপক্ষের ৯ তারিখ জন্মগ্রহন করেন। শ্রীরাম ছিলেন ইক্ষাকুবংশীয়। বর্তমানে রামনবমী হিসাবে পালিত করা হয়।

শ্রীরামচন্দের গায়ের রং বা দৈহিক বর্ননা:-

[বাল্মীকি রামায়ণ অযোধ্যাকাণ্ড ৩৪।১]

ততঃ কমলপত্রাক্ষঃ শ্যামো নিরুপমো মহান্ ।
উবাচ রামস্তং সূতং পিতুরাখ্যাহি মামিতি ।।

অনুবাদ:- তখন, পদ্মপলাশনয়ন শ্যামল অতুলনীয়
রাম সারথি সুমন্ত্রকে বললেন-
‘পিতার কাছে আমার বার্তা জানান।’

বাল্মীকি রামায়ণ, সুন্দরকাণ্ড ৩৫।১৫] অনুসারে

বিপুলাংসো মহাবাহুঃ কম্বুগ্রীবঃ শুভাননঃ।
গূঢ়জক্রঃ সুতাম্রাক্ষো রামো নাম জনৈঃ শ্রুতঃ ।।

[বাল্মীকি রামায়ণ, সুন্দরকাণ্ড ৩৫।১৫]

অনুবাদঃ (হনুমান বললেন) ‘শ্রীরামচন্দ্র বৃষস্কন্ধ, দীর্ঘবাহু, শঙ্খগ্রীব এবং সুদর্শন মুখমণ্ডল সম্পন্ন পুরুষ। সুস্বাস্থ্যসম্পন্ন, (অর্থাৎ গলার অস্থিযুগল মাংসপেশীতে আবৃত), রক্তিমাভাযুক্ত নেত্রবান। তিনি 'রাম' এই নামে লোকপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব।

[বাল্মীকি রামায়ণ, সুন্দরকাণ্ড ৩৫।১৬]

দুন্দুভিস্বননির্ঘোষঃ স্নিগ্ধবর্ণঃ প্রতাপবান্।
সমশ্চ সুবিভক্তাঙ্গো বর্ণং শ্যামং সমাশ্রিতঃ ।।

অনুবাদঃ (হনুমান বললেন) "তাঁর (শ্রীরামের) কণ্ঠস্বর দুন্দুভির ন্যায়, তাঁর গাত্রবর্ণ উজ্জ্বল, তিনি বীর; সুঠাম আকৃতি এবং সুসমঞ্জস, অঙ্গসৌষ্ঠবসম্পন্ন ও শ্যামকান্তি।

অর্থাৎ এক কথা বলতে গেলে শ্রীরামচন্দ্র ছিলেন -

১। প্রশস্ত ও দৃঢ় কাঁধ, সুঠাম আকৃতি
২। সুদর্শন মুখমণ্ডল,
৩। দীর্ঘবাহু, শঙ্খের ন্যায় গ্রীবাযুক্ত
৪। রক্তিমাভ চোখ, কণ্ঠস্বর দুন্দুভির ন্যায়
৫। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যযুক্ত ছিলেন।

শ্রীরামচন্দ্রের স্বভাব :-মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরাম তিনি শুধু বেদঙ্গ ছিলেন না তিনি ছিলেন বিনয়ী র্নিলোভ,নিরঅহংকারী।

শ্রীরামচন্দ্রের অস্ত্রশিক্ষা ও তার গুরুর নাম:-
শ্রী "রামচন্দ্রের" গুরু ছিলেন দুইজন।
তাঁর ধনুকের নাম ছিলো 'কোদণ্ড'।

বশিষ্ঠ মুনি: বাল্যকালে "শ্রী রাম",
বশিষ্ঠ মুনির কাছে শাস্ত্র ও সাধারণ যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষা করেন।
মহর্ষি বিশ্বামিত্র: বিশ্বামিত্র তাকে 'বলা' ও 'অতিবলা' নামক দুটি বিশেষ বিদ্যা এবং অসংখ্য দিব্যাস্ত্রের
প্রয়োগ ও সংহার পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন।

রামচন্দ্র ও মাতা সীতার বিবাহ:-

মিথিলার রাজা জনকের রাজসভায় 'পিনাক' ধনুকটিতে গুণ লাগাতে গিয়ে সেটি ভেঙ্গে গেলে, "রামচন্দ্রের" তেজ ও শক্তি দেখে রাজা জনক তার মেয়ে "সীতার" সাথে "শ্রী রামের" বিবাহ সম্পন্ন করান। এরপর থেকেই "মাতা সীতা ও শ্রী রামের" মধ্যে অটুট প্রেমবন্ধন দেখতে পারি আমরা। বনবাস থেকে শুরু করে রাবণের লঙ্কা রাজ্য পর্যন্ত "মাতা সীতার" অসীম ভালোবাসা ও সততা তাঁকে পতিব্রতা স্ত্রী হিসেবে স্থান দিয়েছে সকল সনাতনীর মনে।

আর্দশ সন্তান রুপে শ্রীরাম:-পিতাআজ্ঞা পালনের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো শ্রীরাম।তিনি পিতা আজ্ঞা পালনের জন্য চৌদ্দ বছর বনবাসে যেতেও দ্বিধা-বোধ করেননি।পিতৃসত্য পালনের জন্য নিজের সকল সুখ শাস্তি বিসর্জন দেওয়া মতো অদম্য মনোভাবের অধিকারী ছিলেন একমাত্র তিনিই।

শ্রীরামচন্দ্রের ভ্রাতাপ্রেম বা বন্ধন:-শ্রীরাম চৌদ্দ বছর বনবাসে যাওয়া আগে ভরত কে দায়িত্ব দেন রাজ্য শাসনের।শ্রীরাম ভ্রাতা সুষ্ঠ ভাবে রাজ্য সামলানোর জন্য বনে যাওয়া আগে অযোগ্যনিবাসীদের বলে যাই।

বাল্মিকী রামায়ণ অযোধ্যাকার্ডে ৪৩/০৭

রাম বনবাস গমন করার আগে বললেন " হে “অযোধ্যা নিবাসীগণ।”আপনারা আমার সাথে যে রুপ ভাব আচরণ করে এবং আমাকে আপন করছেন ঠিক তেমনি ভ্রাতা ভরতকেও আপন করে রাজ্য সামলানের দায়িত্ব সাহায্য করিবেন।

শরনাগতকে অভয়প্রদান:- শ্রীরাম যেমন একজন উত্তম যোদ্ধা ছিলো ঠিক তেমনি দুবলকে তিনি তার নিকট আশ্রয়প্রদান করতেন যার উল্লেখ

বাল্মিকী রামায়ণ যুদ্ধকান্ড ১৮/৩৪ পাওয়া যার।

যখন বিভীষণ শ্রীরামের নিকট আসে। যখন বিভীষণ রামের শরণাগত হয় তখন সুগ্রীব তাকে হত্যা করতে চাইলেন।শ্রীরাম তখন বললেন - আমি শরণাগত সকল নারীকে অভয় প্রদান করে থাকি আমার কাছে আশ্রয় দি।এই কারণে বিভীষণ কে হত্যা না করে আমার কাছে নিয়ে আসো। বিভীষণ কেন স্বয়ং যদি রাবণ আসে তাহলে তাকে বধ না করে আমার কাছে নিয়ে আসো।

যুদ্ধ বিজয় ও মাতা সীতাকে উদ্ধার :-

শ্রীরাম মহর্ষি বিশ্বামিত্রের যজ্ঞ রক্ষার্থে প্রথম যুদ্ধ করেছিলেন। এরপর কিষ্কিন্ধায় 'বালিকে' পরাজিত করেছিলেন। এর পরবর্তী সময়ে রাবণের সাথে যুদ্ধ করেন 'মাতা সীতাকে' উদ্ধার করার জন্য। রাবণের সাথে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর পরবর্তী তিনি রাজ্যভার 'বিভীষণকে' দিয়ে এসেছিলেন। যুদ্ধে রাজ্য বিজয়ের পরেও তিনি রাজ্যের রাজার দায়িত্ব গ্রহণ না করে
উদার মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

রামরাজ‍্যর প্রতিষ্ঠা :

রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা ছিল শ্রীরামচন্দ্রের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বনবাস থেকে ফিরে এসে শ্রীরামচন্দ্র অযোধ্যার রাজা হন এবং রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই রামরাজ্য ছিল শান্তি, সমৃদ্ধি, এবং ন্যায়ের এক আদর্শ উদাহরণ। শ্রীরামচন্দ্রের শাসনে প্রজারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতো এবং দেশে ছিল ন্যায় ও ধর্মের জয়। রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রীরামচন্দ্র প্রমাণ করেন যে একজন আদর্শ শাসক কীভাবে
"দেশ ও জনগণের সেবা" করতে পারেন।

"আর্য্যাবর্ত কেবল একটি ভূখণ্ড ছিল না, এটি ছিল সনাতন ধর্মের মূল কেন্দ্র। এখান থেকেই বৈদিক জ্ঞান, সংস্কৃত ভাষা এবং উন্নত শাসনব্যবস্থা দক্ষিণ ভারত (দাক্ষিণাত্য) এবং পূর্ব ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল।

বাংলাদেশ অগ্নিবীর

বেদ হল সমস্ত সত্যবিদ্যার পুস্তক, বেদের পঠন-পাঠন, শ্রবণ-শ্রাবণ করা সব আর্যদের পরমধর্ম।-মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী 🧑🏻‍🏫🇧🇩🔥
19/03/2026

বেদ হল সমস্ত সত্যবিদ্যার পুস্তক, বেদের পঠন-পাঠন, শ্রবণ-শ্রাবণ করা সব আর্যদের পরমধর্ম।

-মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী 🧑🏻‍🏫🇧🇩🔥

গোপথ ব্রাহ্মণ বৈদিক সাহিত্যের বিশাল ব্যাখ্যাধর্মী ধারায় গোপথ ব্রাহ্মণ একটি বিশিষ্ট ও গৌরবময় স্থান অধিকার করে আছে । এটি...
26/02/2026

গোপথ ব্রাহ্মণ
বৈদিক সাহিত্যের বিশাল ব্যাখ্যাধর্মী ধারায় গোপথ ব্রাহ্মণ একটি বিশিষ্ট ও গৌরবময় স্থান অধিকার করে আছে । এটি অথর্ববেদ-এর পৈপ্পলাদ শাখাভুক্ত ব্রাহ্মণ গ্রন্থ । ব্রাহ্মণ সাহিত্যের স্বভাব হলো কর্মের অন্তর্নিহিত কারণ নির্দেশ করা, বিধানের তাৎপর্য তুলে ধরা , মন্ত্রার্থকে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা এবং আচারের যুক্তিসংগত প্রতিষ্ঠা করা । গোপথ ব্রাহ্মণ এই প্রাচীন ব্যাখ্যাপরম্পরাকে অনুসরণ করে যাজ্ঞিক প্রক্রিয়ার গভীর তাৎপর্য, ধর্মব্যবস্থার ভিত্তি এবং মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ সুস্পষ্টভাবে নিরূপণ করেছে ।

এই গ্রন্থে ওঁকারতত্ত্বের বিশদ আলোচনা , ব্রহ্মচার্যধর্মের মহিমা , আচার্যের কর্তব্যনিষ্ঠা, রাষ্ট্ররক্ষার নীতি, পিতৃসেবার আদর্শ এবং সমাজসংগঠনের সূক্ষ্ম দিকগুলো একটি সমন্বিত দর্শনের আলোকে উপস্থাপিত হয়েছে । অতএব গোপথ ব্রাহ্মণ কেবল আচারবিধির নির্দেশিকা নয় এটি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের স্থায়ী কল্যাণসাধনের এক প্রজ্ঞাময় শাস্ত্রীয় ভিত্তিপ্রস্তর ।

📖 গঠন ও আকার

গোপথ ব্রাহ্মণকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে -

পূর্বভাগ (পূর্ব গোপথ)
উত্তরভাগ (উত্তর গোপথ)

সমগ্র গ্রন্থে মোট পাঁচটি প্রপাঠক বা অধ্যায় রয়েছে । পূর্বভাগে মোট ১৩৫টি কাণ্ডিক এবং উত্তরভাগে ১২৩টি কাণ্ডিক আছে । ভাষা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও স্থানে স্থানে প্রাচীন ও জটিল রূপ পরিলক্ষিত হয় ।

বেদের গুপ্ত তত্ত্ব উন্মোচনে ব্রাহ্মণ গ্রন্থসমূহের ভূমিকা অতুলনীয় । কারণ হেতু, ন্যায়, ন্যায্যতা, প্রশংসা, বিধান এবং ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের মাধ্যমে এই গ্রন্থসমূহ মন্ত্রার্থকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে । ফলে আধ্যাত্মিক , আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক স্তরের গভীর তাৎপর্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে । পৌমানি প্রসঙ্গে বহু অধ্যায়ে পাঠকবৃন্দ ব্রাহ্মণ গ্রন্থের মাহাত্ম্যের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন । এখানে গোপথ ব্রাহ্মণ থেকে কিছু আলোকরশ্মি নিয়ে বেদমর্মজ্ঞদের সুখ-উপভোগার্থ উপস্থাপন করা হচ্ছে ।

গোপথ ব্রাহ্মণের পরিচয়

গোপথ ব্রাহ্মণ অথর্ববেদের পৈপ্পলাদ শাখার অন্তর্গত । অথর্ববেদের নয়টি শাখার মধ্যে সৌভাগ্যক্রমে বর্তমানে মাত্র দুটি শাখা শৌনক ও পৈপ্পলাদ উপলব্ধ । অবশিষ্ট সাতটি শাখা অবহেলা ও বিদেশি আক্রমণের ফলে বিলুপ্ত হয়েছে । এর ফলে বিপুল জ্ঞানভাণ্ডার আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে । বর্তমানে যে অংশটুকু সংরক্ষিত আছে, তাও অল্পসংখ্যক বেদবিশারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ।

ঋষিদের নির্দেশ ছিল জ্ঞানের অন্বেষকদের চার বেদ ও ছয় বেদা ঙ্গসহ সম্যক অধ্যয়ন করা আবশ্যক । শাস্ত্রে উল্লেখ আছে -
“যত্র রাষ্ট্রে জনপদে অথর্বশাস্ত্রপারগঃ।
নিবসন্তি তত্র রাষ্ট্রং বর্ধতে নৃপবম্॥” (অথর্বপরিশিষ্ট ৪.৬.১)
অর্থাৎ , যে রাষ্ট্রে অথর্ববেদে পারদর্শী ব্যক্তিরা বসবাস করেন, সে রাষ্ট্র উন্নতি লাভ করে ও বিপদমুক্ত থাকে ।

অথর্ববেদে নানাবিধ জ্ঞান-বিজ্ঞান সন্নিবেশিত রয়েছে, যার বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা গোপথ ব্রাহ্মণে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে ।

গোপথ নামের ব্যাখ্যা

ঋষি গোপথ কর্তৃক রচিত হওয়ায় এ ব্রাহ্মণকে গোপথ ব্রাহ্মণ বলা হয় । বৈদিক সাহিত্যে 'গো' শব্দের বহু অর্থ রয়েছে - গবেষণা, পৃথিবী, ভূমি, রশ্মি, ইন্দ্রিয়, গাভী, দুধ, সুখ ইত্যাদি । তাদের পথ বা গতিকে বলা হয় গোপথ । তাই গোপথ ব্রাহ্মণ শুধু ভৌতিক রাষ্ট্র-সুখের পথই নয়, বরং অমৃতত্বের পথও নির্দেশ করে । গ্রন্থের সূচনাতেই ওঁকার-এর মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে । এখানে ওঁ-কে চার মাত্রা বিশিষ্ট রূপে ব্যাখ্যা করে চার আত্মার সঙ্গে তার সম্পর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে । এমনকি ওঁ থেকেই সৃষ্টির উৎপত্তি হয়েছে বলে উল্লেখ আছে যা গভীর গবেষণার বিষয় । আধুনিক বিজ্ঞানও ক্রমে এসব সত্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ।

চার্য ও কর্তব্য

দ্বিতীয় অধ্যায়ে (চার্য) আচার্যের মহিমা , তার নিয়ম ও কর্তব্য বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে । আচার্য তপোবল, সংযম, অধ্যবসায় ও কর্তব্যনিষ্ঠার দ্বারা তিন লোকের কল্যাণ সাধন করেন । রাজাও আচার্যের নির্দেশে রাষ্ট্র পরিচালনা ও রক্ষা করে । গোপথ ব্রাহ্মণের চার্য-সংক্রান্ত শিক্ষা ছাত্রজীবন ও সমাজকে সুসংস্কৃত, শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং ভক্তিপূর্ণ করে গড়ে তুলতে পারে ।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টান্ত

এখানে বহু বৈজ্ঞানিক সত্যও প্রকাশিত হয়েছে । যেমন গোপথ ব্রাহ্মণ (উত্তরভাগ ৪।১০)-এ লেখা আছে:
'পৃথিবী ঘোরে, সূর্য কখনো অস্ত যায় না ; পৃথিবী ঘুরতে থাকায় সূর্য আড়াল হয়' । এই সত্য আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কারের বহু হাজার বছর আগে ঋষিরা উপলব্ধি করেছিলেন । এতে আমাদের গৌরব বৃদ্ধি পায় ।

সামাজিক শিক্ষা

গোপথ ব্রাহ্মণ বিভিন্ন স্থানে যোগ্য ঋত্বিক যজমান , পরিবার ও সমাজের কর্তব্য শিক্ষা দিয়েছে । যেমন বলা হয়েছে -

' যদি ঋত্বিকগণ শক্তিশালী , সংযত ও যোগ্য না হন, তবে যজমানও অকেজো হয়ে যায়, যেমন ভাঙা ঘড়ায় পানি ভরে কোনো ফল হয় না । '

আবার পিতৃসেবা প্রসঙ্গে গোপথকার লিখেছেন -
আমরা শৈশবে পিতৃ-মাতার ওপর নির্ভর করে বড় হয়েছি ; এখন আমরা যখন যুবক হয়েছি , তখন আমাদের কর্তব্য পিতৃ-মাতাকে ভরণ-পোষণ করা ।ও। (গো.পূ.৪।৬)

এভাবে গোপথ ব্রাহ্মণের প্রতিটি বাণী মানবজীবন ও সমাজ গঠনে কার্যকর । প্রয়োজন কেবল ঋষিদের এই জ্ঞান-বিজ্ঞানকে আত্মস্থ ও অনুসরণ করা । বৈদিক সাহিত্যের জ্ঞান গ্রহণ ও পালন করলে আমরা সকলেই জাতির বাহক ও সংরক্ষক হয়ে উঠতে পারব ।

মানবকে প্রকৃত অর্থে মানব রূপে গড়ে তোলার কৃতিত্ব সেই উৎকৃষ্ট জীবন-মূল্যগুলিরই, যার দ্বারা সে নিজের সাত্ত্বিক জীবন যাপন করে থাকে । প্রকৃতপক্ষে কোনো জাতির মর্যাদা নিরূপণ হয় সেখানকার জনগণের আচার-আচরণমূলক মূল্যবোধের ভিত্তিতে । প্রত্যেক জাতির একটি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি থাকে , যার সৃষ্টি হয় সেই মূল্যবোধের ভিত্তিতে, যা তাদের মহাপুরুষেরা নিজেদের জীবনে ধারণ করেছিলেন । বাস্তবিকই, সেই মূল্যবোধের মাধ্যমেই তাদের চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গৌরবময় হয়ে অক্ষরে অক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়েছে । কোনো দেশের ভৌতিক অগ্রগতিরও গুরুত্ব আছে, কিন্তু ভৌতিক অগ্রগতিকে সে দেশের দেহ বলা যেতে পারে, আর তাতে প্রাণসঞ্চার করে জীবনমূল্যই ।

সংস্কৃত সাহিত্য বিশ্বে সর্বাধিক সমৃদ্ধ সাহিত্য । এতে মানবজীবনের অভ্যুদয় ও নিঃশ্রেয়স সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়ের পূর্ণ বর্ণনা রয়েছে । এতে জীবনের প্রতিটি দিক, পুরুষার্থ চতুষ্টয় এবং রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, ভৌতিক ও আধ্যাত্মিক জগতের নানা ঘটনা ও তত্ত্বের বিস্তৃত বর্ণনা পাওয়া যায় । মানবমনের উন্নত কল্পনা, হৃদয়ের অনুভূতির গভীরতা, ব্যাপকতা এবং বার্তাবাহিতার দিক থেকে সংস্কৃত সাহিত্য অনুপম ও অতুলনীয় । মহৎ মহিমায় অলংকৃত সংস্কৃত সাহিত্য অধ্যয়ন, চিন্তন ও মনন গৌরবের বিষয়। ভারতীয় আধ্যাত্মিক জীবন ও সাংস্কৃতিক সমুন্নতির প্রকাশক বেদ যুগযুগ ধরে বিশ্বজুড়ে জ্ঞানপিপাসু মানবমনে তাদের সুরেলা ধ্বনি, আবেগময়তা, পরিশীলিত ভাষা এবং ছন্দের শ্রুতিমধুর তরঙ্গে রসোৎসার ঘটিয়ে আসছে ।

বেদ সাক্ষাত্কৃতধর্মা ঋষিদের নিরন্তর সাধনা ও তপস্যার দ্বারা প্রত্যক্ষকৃত নির্মল জ্ঞানরাশি বেদই। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ত্রিকালিক স্থূল-সূক্ষ্ম, নিকট-দূর সমস্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞানদানকারী বেদই হল চিরন্তন চক্ষু । বেদে সমগ্র জ্ঞানবিজ্ঞান, পরা ও অপরা । উভয় বিদ্যার আলোকধারা বহমান । বেদে সর্বত্র নৈতিক মূল্যের বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় । প্রথমে যদি "মূল্য" শব্দকে সংজ্ঞায়িত করি, তবে মূল্য হলো এক বিমূর্ত গুণ, যা কোনো বস্তুর মধ্যে নিহিত থাকে এবং তার গুরুত্বকে নির্দেশ করে । বৈদিক ধর্মের ধর্মীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত যে নীতি-নিয়ম ও বিধি-বিধান রয়েছে, তার বিস্তৃত বর্ণনা পাওয়া যায় ব্রাহ্মণ গ্রন্থে । এদের মধ্যে যেমন পার্থিব ক্রিয়াকলাপের বর্ণনা রয়েছে , তেমনি গভীর আধ্যাত্মিক চিন্তাও আছে । ব্রাহ্মণ গ্রন্থ অধ্যয়নের প্রতি বিদ্বানদের প্রবল আগ্রহ এর ব্যবহারিক গুরুত্বের প্রমাণ ।

বৈদিক সাহিত্যের ধারাবাহিকতায় অথর্ববেদের গোপথ ব্রাহ্মণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ । যেমন ব্রাহ্মণ গ্রন্থগুলির মূল লক্ষ্য হলো যজ্ঞসম্পন্ন করা এবং যাজ্ঞিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞানের রহস্য উন্মোচন করা, তেমনি এই গ্রন্থেরও প্রধান প্রতিপাদ্য যাজ্ঞিক প্রক্রিয়াই । গোপথ ব্রাহ্মণের পূর্বভাগের দ্বিতীয় প্রপাঠকের শুরুতেই ব্রহ্মচারীর গুরুত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে বিশেষ আলোচনা আছে । "ব্রহ্ম" শব্দ থেকে বেদ , তপস্যা এবং সত্যের বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করাই ছাত্রের দায়িত্ব । উপনয়ন-সংস্কারের মাধ্যমে গুরু-সান্নিধ্যে থেকে ভিক্ষারূপে সমিধ আহরণ, অগ্নি-সেবা ও শ্রমের দ্বারা ছাত্র নিজের মধ্যে উজ্জ্বল ও স্বনির্ভর জীবনের ভিত্তি স্থাপন করত ।

অথর্ববেদ (১১.৫.৯)-এ বলা হয়েছে যে আদর্শ ছাত্র বেদের জ্ঞান, পুরুষার্থ, লোকহিত, প্রজাপালক রাজা ও বিরাট পরমেশ্বরের গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে । এই মন্ত্র থেকে বোঝা যায় যে ব্রহ্মচারীর উপর জ্ঞানার্জন ও সর্বাঙ্গীণ উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে জাতিনির্মাণ ও লোকহিতের গুরুদায়িত্বও ন্যস্ত ছিল ।

ব্রহ্মচার্য সূক্ত বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শ্রীপাদ দামোদর সাতওলেকর বলেছেন - ব্রহ্মচারী সেই ব্যক্তি, যে "ব্রহ্ম" অর্থাৎ বড় হওয়ার জন্য "চারী" অর্থাৎ পুরুষার্থ সাধন করে । ব্রহ্ম শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, গুরুত্ব, মহত্ত্ব, জ্ঞান, অমৃত ইত্যাদি; আর চারী শব্দের অর্থ আচরণ করা, নিয়মমাফিক সঠিক ব্যবহার করা । এই দুই শব্দ থেকে প্রকাশ পায় উন্নতির জন্য চেষ্টা করা, সর্বদিক থেকে শ্রেষ্ঠ হওয়ার সাধনা করা, সত্য ও বিশুদ্ধ জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য যজ্ঞ করা, অমরত্বলাভের জন্য সর্বোচ্চ সাধনা করা এই হলো "ব্রহ্মচারী" শব্দের মূল ভাব ।

ব্রহ্মচারী সৃষ্টির সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করে, প্রতিটি বেদসূক্ত অধ্যয়ন করে এবং দেবতাদের গুণ নিজের মধ্যে ধারণের চেষ্টা করে। দেবতাদের মধ্যে যেহেতু পরমাত্মার নানা গুণ প্রকাশিত, তাই সে ঐ গুণগুলিকেই নিজের মধ্যে ক্রমে বৃদ্ধি করে । শতপথ ব্রাহ্মণ এ একই সত্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে-"যৎ দেবা আকুর্বন্ত তৎ করবাণি" অর্থাৎ, যেটা দেবতারা করেছেন, সেটাই আমি করব ।

অথর্ববেদের মতে- "ব্রহ্মচার্যেণ তপসা রাজা রাষ্ট্র বিরক্ষতি" অর্থাৎ ব্রহ্মচার্যের তপস্যার দ্বারাই রাজা রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে সক্ষম হয় । আবার সেখানে বলা হয়েছে- "ব্রহ্মচার্যেণ কন্যা যুবানং বিন্দতে পতিম্" অর্থাৎ ব্রহ্মচার্যের দ্বারাই কন্যা তরুণ স্বামীকে লাভ করে । গোপথ ব্রাহ্মণের দ্বিতীয় প্রপাঠকে প্রাতঃসবনে ইন্দ্রাদির জন্য, মধ্যাহ্নসবনে ইন্দ্রের জন্য এবং তৃতীয় সবনে ইন্দ্র ও ঋভুদের জন্য হব্য প্রদানের বিধান আছে । এ প্রসঙ্গে গোপথ ব্রাহ্মণ বলেছে- “বিচক্ষণবতীং বাচং ভাষন্তে … প্রাজাপত্যং সত্যং বদন্তি । এতৎ মনুষ্যেষু সত্যং যৎ চক্ষুঃ ।” অর্থাৎ, ব্রহ্মযাজকেরা জ্ঞানপূর্ণ ও পূজনীয় শব্দযুক্ত বাণী উচ্চারণ করেন প্রজাপতিও পূজনীয় শব্দে বাণী উচ্চারণ করেন ; তাঁরা সত্য বলেন ।

সমগ্র আলোচনার আলোকে বলা যায়, গোপথ ব্রাহ্মণ বৈদিক জ্ঞানের এক গভীর ও সমন্বিত ব্যাখ্যা । এখানে যজ্ঞের আচার, ব্রহ্মচার্যের সাধনা, রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার নীতি - সবকিছু এক সুসংহত দর্শনে যুক্ত হয়েছে । গ্রন্থটি স্পষ্ট করে যে, বৈদিক জীবন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয় তা জ্ঞান, সংযম, কর্তব্য ও সত্যনিষ্ঠার উপর প্রতিষ্ঠিত এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ।
অতঃ গোপথ ব্রাহ্মণ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যেখানে জ্ঞান ও আচার একত্রিত হয়, সেখানেই ব্যক্তি ও সমাজের প্রকৃত কল্যাণ সাধিত হয় ।

বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক ।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের ...
21/02/2026

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?

আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা রাজপথে নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন, সেই সকল ভাষা শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

ভাষা কেবল মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির পরিচয় ও সংস্কৃতির ধারক। আজকের এই বিশেষ দিনে আমাদের
অঙ্গীকার হোক নিজ ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা এবং
সর্বস্তরে সঠিক বাংলার চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া।

বিশ্বের সকল মাতৃভাষাভাষী মানুষের প্রতি রইলো
আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

বিদেশের মাটিতে কাজ করি বা দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে
আমাদের শেকড় থাকুক বাংলাতেই। 🟩🔴🟩

19/02/2026

🚩 ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ এর জন্মজয়ন্তী - এক অজেয় বীরগাথা 🚩

মায়ের দেওয়া সংস্কার আর নিজের অদম্য সাহসে যিনি গড়ে তুলেছিলেন 'স্বরাজ'। তিনি শুধু একজন রাজাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন
ন্যায়ের প্রতীক এবং রণকৌশলের জাদুকর।

"শত্রু সংখ্যায় কত বড় তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং
আপনার মনোবল কতটা দৃঢ় সেটাই আসল।"

🔱 ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ 🔱

17/02/2026

🕉️মন্ত্রঃ ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ।
তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি।
ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ।।

🕉️সরলার্থঃ সেই প্রাণস্বরূপ, দুঃখবিনাশক,
সুখস্বরূপ, শ্রেষ্ঠ, তেজস্বী, পাপনাশক
দেবস্বরূপ পরমাত্মাকে আমরা ধ্যান করি।
তিনি যেন আমাদের বুদ্ধিকে সৎ পথে
(শুভ কার্যে) পরিচালিত করেন।

🕉️👨‍💻 শ্রী ইমন চন্দ্র পণ্ডিত 👨‍💻🕉️
🕉️🔱সত্য প্রকাশের নির্ভীক সৈনিক 🔱🕉️

Address

Mirpur/1
Dhaka
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী ইমন চন্দ্র পণ্ডিত posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to শ্রী ইমন চন্দ্র পণ্ডিত:

Share