29/09/2013
সাহাবীদের মধ্যে একজনও আলেম ছিলেন না । তারা যা বলেছেন তা মানা যাবেনা! কারণ আলেম ব্যতিত অন্যদের ফতওয়া দেয়ার কোন অধিকার নেই!!
ভাই উত্তেজিত হইয়েন না । ভাল করে বুইঝা লন ।
বর্তমানে আল ইমাম আল উস্তাদ সাইয়্যিদ মওদূদী রাহিমাহুল্লাহ ও প্রখ্যাত দাঈ ডা. জাকির আবদুল করিম নায়েকের বিরুদ্ধে একটি শ্রেণী বিষেদাগার করছে । তাদের অভিযোগ :
"উনারা দুইজন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কম করেছেন । এবং মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার দলিল (সার্টিফিকেট) নেই । তারা আলেম নয় । অতএব তাদের ফতওয়া দেয়ার, তাফসীর লেখার বা দ্বীন সম্পর্কে আলোচনার অধিকার নেই ।"
যেহেতু সাহাবায়ে কেরামের শিক্ষাগত কোন সার্টিফিকেট ছিলনা তাই তাদের ফতওয়া দেয়ার অধিকার নেই । তাদের কথা মানা যাবেনা ।
পাঠক ভুল বুঝবেন না । আমি জাস্ট বুঝাতে চাইলাম যে ইসলামে সার্টিফিকেটের কোন মূল্য নেই । দাওরা হাদীস পাশ না করলে যে ফতওয়া দিতে পারবেনা সেটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ।
এবার আসি আসল কথায় । সাহাবীদের সার্টিফিকেট না থাকলেও তাঁরা মহাকালের মহানায়ক রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে যে জ্ঞান অর্জন করেছেন তার ছিটেফোঁটাও সমগ্র উম্মাতের হবেনা ।
ইমাম মওদূদী মৌলভী (HSC) পাশ করেছিলেন সে সার্টিফিকেট আছে । পরবর্তীতে বাবার মৃত্যুতে পরিবারের ভরণপোষনের জন্য পড়ালেখা ছেড়ে সাংবাদিকতায় যোগ দেন । কিন্তু বাবার ঠিক করে যাওয়া তত্কালিন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম আল্লামা নিয়াযীর কাছে ঠিকই বালাগাত, আরবী সাহিত্য, ইসলামের ইতিহাস ও কুরআন-সুন্নাহর উপর ব্যপক অধ্যয়ন করেন । এজন্য তাঁকে প্রতিদিন প্রায় দেড় মাইল হাঁটতে হতো । এগুলোর সার্টিফেকটও আছে । তবুও বিরোধীরা তাঁর ব্যপারে উল্টাপাল্টা কথা বলে ।
তিনি যদি আলেম নাই হতেন কেন তাঁকে ২২ বছর বয়সে দেওবন্দ মাদ্রাসার মূখপত্র "জমিয়ত" পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল?
আর জাকির নায়েকের ব্যপারেও বিরোধীরা চরম মিথ্যাচার করছে । তাঁর প্রতিষ্ঠিত Islamic Research Foundation (IRF) এর মাধ্যমে তিনি ব্যপক জ্ঞান অর্জন করছেন । IRF এ আছেন শায়খ সুদাইসী, আল্লামা সিরাজ ওয়াহহাব, মুহাম্মাদ আল জিবালী, হুসাইন ইয়ে, শেখ জাফর ঈদ্রিস, সালিম আল আমরীর মত বিশিষ্ট আলেম । কিন্তু তাঁর ব্যপারেও সেই একই ঢোল পিটানো হচ্ছে তিনি আলেম নন ।
সার্টিফিকেটের কোন মূল্য নেই যদি ভেতরে পুঁজি না থাকে । সাহাবায়ে কেরামের জীবনী থেকেও আমরা এই ব্যপারটি উপলব্দি করতে পারি ।
আলেম হওয়ার শর্ত কি সার্টিফিকেট??
শেয়ার করুন ।